Monday, September 1, 2014

২১৮ (নিশান কর্তৃক)
------

কুণাল এত লিখছে দেখে আমার আরেকখানা ঘটনা মনে পড়ে গেলো, আমি কুণাল ও জ্যোতি গেছি ধর্মতলায় সিনেমা দেখতে, কি সিনেমা মনে নেই, দেখার পর হাঁটতে হাঁটতে, পার্ক সার্কাসের কাছাকাছি এসে ২১৮ বাস ধরা হোলো। ভুক্তভোগী মাত্রেই জানেন ২১৮ কি জিনিস, গরমকালে এখানে লোহা সেদ্ধ করা যায়, শীতকালে নিদেন পক্ষে আলু বা বেগুন। টিকিট কাটার দরকার কোনদিন বোধ করিনি। সামনের দরজা দিয়ে উঠে পেছোতে পেছোতে পেছনের দরজা দিয়ে নেমে যেতাম। আর সামনের কণ্ডাকটর জিজ্ঞেস করলে বলতাম পেছনে টিকিট হয়ে গেছে, পেছনের জন জিজ্ঞেস করলে সামনে, ভিড় এত প্রবল হোতো যে সেটা অপ্রমাণ করা রীতিমত দুঃসাধ্য ছিলো।

যাইহোক সেদিন কোন এক অজানা কারণে বাসে তখনো ভিড় তেমন নেই, এবং প্রাথমিক ভুল হিসেবে আমরা বসে পড়লাম লেডিস সিটে, স্বভাবতঃই মিনিট পাঁচেকের মধ্যে সে সিট থেকে উৎখাত হলাম, কিন্তু ভিড় এমন বেশী যে নড়াচড়ার জায়গা নেই। অতএব লেডিস সিটের সামনেই দাঁড়িয়ে বাইরের নরক গুলজার জানলার আধখানা দিয়ে উপভোগ করছিলাম।

যাইহোক প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য এক শ্রেণীর ছেলে থাকে যাদের স্বভাব মেয়ে দেখলেই লালা ঝরা, এবং সুযোগ পেলেই বাসে ট্রেনে মেয়েদের গিয়ে হাত দেওয়া, আর এক শ্রেণীর মহিলা থাকেন যাঁদের ধারণা সমস্ত ছেলের সমস্ত চেতনা কেন্দ্রীভূত তাঁকে এবং তাঁকেই ঘিরে। প্রকৃতির কোন এক অমোঘ চক্রান্তে এই দুই শ্রেণীর কখনোই মোলাকাত হয়না! যাই হোক, আমি তো দিব্যি দেখছি বাইরে। হঠাৎ শুনি কেউ একজন বললেন "এই যে শুনছেন?"
আমি এদিক ওদিক তাকিয়ে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কে বুঝলাম না।
এইবার হাঁটুতে খোঁচা "হ্যাঁ হ্যাঁ আপনাকেই বলছি!"
সামনের সিটের মহিলা আমার দিকে রোষকষায়িত নয়নে চেয়ে, ভয়ানক আতঙ্কের সাথে লক্ষ্য করলাম আমি কুণাল ও জ্যোতি কাউকেই দেখতে পাচ্ছি না!
ঢোক গিলে বললাম "আ..আমাকে বলছেন?"
"হ্যাঁ, হ্যাঁ আপনি! আপনি তখন থেকে আমার গায়ে নিশ্বাস ফেলছেন কেন?"
আমার তো ভয়ে হয়ে গেছে, ২১৮ তে মহিলা মহলের সভাপতি পুরুষের সংখ্যা প্রচুর, আর গণধোলাই কাকে বলে আমি ভালোই দেখেছি!
আশেপাশে গুণগুণ শুনছি...
আমি আরো বার চারেক ঢোক গিলে বললাম "মানে, আমি তো আপনার সামনেই দাঁড়িয়ে আছি, আর কোথায় নিশ্বাস ফেলবো বুঝতে পারছি না..."
আর দেখে কে! আরো আগুন, তিনি তেলে বেগুনে জ্বলে বললেন, "কই আর কেউ তো ফেলছে না!"
হঠাৎ করে ভয় কেটে গিয়ে আমার মাথাও গেলো জ্বলে!
আমি বললুম "দেখুন যে যার সামনে দাঁড়িয়ে আছে তার গায়েই নিশ্বাস ফেলছে, আপনার দরকার থাকে বলুন আমি বাকিদেরও বলছি আপনার গায়ে নিশ্বাস ফেলতে!"
আর দেখে কে, মহিলা এমন রেগে গেলেন যে ৩০ সেকেণ্ড কোন বাক্যস্ফুর্তি হোলো না, বাস তখন গড়িয়াহাটের ব্রিজে উঠছে, আমি এই সুযোগ বুঝে বললুম, "দিদি সরুন সরুন সরুন একটু!"
থতমত খেয়ে তিনি মাথা ৩০º ঘুরিয়ে ফেললেন জানলা থেকে, বললেন "ক...কেন?"
আমি বললাম " নানা মানে জানালা দিয়ে মাথাটা বের করে টুক করে নিঃশ্বাসটা বাইরে ফেলে দেবো।"
বলেই একগাল হাসি!

আর দেখে কে, আশেপাশের কয়েকজনও ফিক ফিক করে হাসছে, তিনি আমাকে চপেটাঘাত করার আগেই আমি ভয়ানক জোরে আরো ভিড়ের মধ্যে সেঁধিয়ে গেলাম, ২১৮য় আমায় ধরে কোন শালা?

No comments: