Sunday, July 9, 2017

অনেকদিন ধরে ভাবছি কোনো এক পুণ্য তিথিতে এই লেখাটা বাজারে ছাড়বো (অর্থাৎ ফেসবুকে পোস্ট করবো)। সম্প্রতি রথযাত্রা, ঈদ, উল্টোরথ পেরিয়ে গেলো কিন্তু আমি কাজের ফাঁকে সময় বার করে উঠতে পারলাম না। অগত্যা দিন-ক্ষণ-পাঁজি মুলতুবি রেখে আজ খানিক অবসর বার করে লেখাটা আপনাদের সামনে পেশ করছি।

লেখক: পর্ব ২০

বেঙ্গালুরুতে ISKCON-এর একটি বড় শাখা আছে। সেখানে গিয়ে মূল মন্দিরে প্রবেশ করে দেখি দেবতা দর্শনার্থে সামনে দু'টি লাইন -- একটি বড়, অপরটি ছোট। অগ্র-পশ্চাৎ বিবেচনা না করে অভ্যাস বশে ছোট লাইনটির পেছনে গিয়ে দাঁড়ালাম। ছোট লাইনটির প্রথম যে বিশেষত্বটি চোখে পড়লো সেটি হলো মেঝেতে চৌকো চৌকো ঘর আঁকা আছে এবং লোকজন সেই চৌকো ঘরগুলির উপর পা রেখে রেখে এগোচ্ছে। এক দু'ধাপ অগ্রসৱ হওয়ার পর দেখি আমার সামনের লোকটি তাঁর সম্মুখে ফাঁকা জায়গা থাকা সত্ত্বেও আর এগোচ্ছেন না। খানিকক্ষণ অবাক হয়ে তাঁকে এবং সামনে অন্যান্য ভক্তদের পর্যবেক্ষণ করে বুঝতে পারলাম এই লাইনটি ছোট হওয়ার পেছনে কি রহস্য লুকিয়ে আছে। এই লাইনে দাঁড়ানোর নিয়ম হচ্ছে প্রত্যেক ব্যক্তিকে নিচে লেখা স্তবকটি একবার করে গেয়ে তারপর এক ধাপ সামনে এগোতে হবে:
"হরে কৃষ্ণ, হরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
 হরে রাম, হরে রাম, রাম রাম হরে হরে।।"
মন্দিরের ভিতর মাইকে সর্বদা এই দু'টি লাইন গেয়ে শোনানো হচ্ছে এবং ভক্তবৃন্দ সেই তালে তালে গেয়ে চলেছেন। মনে মনে বা আস্তে আস্তে গান গাইলে কিন্তু চলবে না। দেয়ালে নির্দেশাবলীতে লেখা আছে গান অন্ততঃ এতখানি জোরে গাওয়া উচিৎ যাতে নিজের আওয়াজ নিজের কানে পৌঁছোয়। অতো লোকের মাঝে গাইতে হলে স্বাভাবিকভাবেই ডেসিবেলের মাত্রাটা খানিক না বাড়ালে এই নির্দেশ মান্য করা সম্ভব নয়। উপরন্তু ১০৮খানি ধাপ আছে এই লাইনে। এদিকে ফিরে আসারও আর সুযোগ নেই কেননা আমার পেছনে অন্যান্য ব্যক্তি ইতিমধ্যে লাইন দিয়েছেন। অগত্যা আমিও আওড়াতে শুরু করলাম:
"হরে কৃষ্ণ, হরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
 হরে রাম, হরে রাম, রাম রাম হরে হরে।।"

No comments: