লেখক: পর্ব ৪
স্বামী বিবেকানন্দ বলে গেছেন: "জগতে যখন এসেছিস, তখন একটা দাগ রেখে যা ...।"
আমি রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র, কাজেই স্বামীজীর বাণীই আমার পাথেয়। তাই দাগ আমি রেখেছি, তাও আবার খোদ রামকৃষ্ণ মিশনের বুকেই।
তখন আমার তিন বছর বয়স। বাঁকুড়া রামকৃষ্ণ মিশনে ঢুকে বাঁদিকে সে সময় একটা পুকুর পড়তো। পুকুরে মাছ ঘুরে বেড়াচ্ছে দেখে হঠাৎ শৈশবের খেয়ালে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে পুকুরে নেমে পড়ি। পুকুরে নামি বলতে ঘাটের শেষ ধাপে নেমে দাঁড়িয়ে পড়ি। শেষ ধাপটা অবশ্য জলের স্তরের সামান্য নীচে ছিলো। তিন বছরের শিশুর কাছে সেটাই হাঁটু জল। এদিকে আমাকে পুকুরে নামতে দেখে দাদা ছুটে গিয়ে দাদুকে ডেকে নিয়ে আসে। দাদু এসে আমাকে জল থেকে তোলে। কোনো বিপদ ঘটার আগেই আমি রক্ষা পাই। কিন্তু সেই থেকে নিরাপত্তার জন্যে বাঁকুড়া রামকৃষ্ণ মিশনের পুকুরের সামনে রেলিং বসানো হয়েছে। তাতে নোটিশ ঝোলানো হয়েছে: "বিনা অনুমতিতে প্রবেশ নিষেধ।"
সেই পুকুর, রেলিং, নোটিশ বোর্ড -- সব আজও আছে, আমার এই সহজাত বিবেকানন্দানুরাগের ঘটনাটি বিশ্বাস না হলে বাঁকুড়া রামকৃষ্ণ মিশনে গিয়ে স্বচক্ষে দেখে আসুন।