Sunday, August 20, 2017

আগে কি ফাটতো, এখন কি ফাটছে?

আগেকার সাহিত্যে এই ধরণের কথা মাঝে মাঝেই খুঁজে পেতাম -- "বুক ফেটে কান্না" কিংবা "বুক ফাটা আর্তনাদ"। এর থেকে আন্দাজ করা যায় আগেকার দিনে মানুষের বুক প্রায়শই ফাটতো। কিন্তু আজকালকার কথোপকথনে ও হালফিলের লেখাতে বুক ফাটার প্রসঙ্গ একবারও দেখতে পাইনা।
দেশজুড়ে দুর্নীতি, অপর জেলায় বন্যা, টিউশনে শ্লীলতাহানি অথবা পাশের বাড়িতে চুরি -- কোনো কিছুতেই বোধ করি বাঙালির বুক আর আগের মতো সহজে ফাটে না। এসব এখন আমাদের কাছে জলভাত। বড়জোর ফেসবুকে "ওয়ান শেয়ার একুয়াল টু ওয়ান প্রেয়ার" এই মর্মে কিছু পোস্ট লাগানো অবধি আমাদের দৌড়।

বিপরীতভাবে আমাদের শরীরের উল্টোদিকের নিম্নাংশটি কিন্তু ইদানিং ভীষণ ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। যখন তখন যে সে ফাটিয়ে দিচ্ছে। অফিসের বড়বাবু হুকুম জারি করলেন প্রত্যেককে কাল থেকে সময়মত অফিসে ঢুকতে হবে -- অর্থাৎ আপনার এতদিনের দুলকি চালে অফিস আসার অভ্যাসে ছেদ পড়লো -- ব্যাস, অমনি ফেটে গেলো। বাড়িওয়ালা ঘরে এসে জানিয়ে গেলেন ফি মাসে পাঁচ তারিখের মধ্যে ভাড়া দিতে হবে -- তৎক্ষণাৎ ফট-ফট-ফটাস! (অবশ্যই এই শব্দটা আমার মস্তিস্কপ্রসূত, ব্যক্তিভেদে শব্দের তারতম্য খানিক হতেই পারে।) বাজার করতে গিয়ে দোকানির কাছে শুনলেন বন্যার জন্য সাপ্লাই কম তাই পেয়াঁজ আজ ৫০ টাকা কিলো -- অমনি শরীরের বিশেষ অংশটি ভেঙে খান-খান। (খেয়াল করবেন সরাসরি ভুক্তভুগিদের কথা বাদ দিলে আমরা বাকিরা কিন্তু বন্যার কথা শুনে অতোটা দুঃখ পাইনি যতটা সব্জির দাম বাড়ায় পেয়েছি।) মায় কাজের লোক পর্যন্ত কামাই করলে "ধরণী দ্বিধা হতে" দেরি হয় না।

তাই আমার মতে এখনকার ইয়ে ফাটার চেয়ে বোধ হয় বাঙালির আগেকার বুক ফাটার অভ্যেসটাই ভালো ছিলো।

Saturday, August 19, 2017

জীবনে খারাপ কিছু ঘটলেই আমরা ভাবি "এরকমটা কেন শুধু আমার সাথেই হয়?" অথচ ভালো কিছু ঘটলে সেটাকে আমাদের প্রাপ্য বলে মেনে নিতে অসুবিধে হয় না। নিঃসন্দেহে আমি নিজেও এ নিয়মের ব্যতিক্রম নই। তাই ইদানিং কালে না চাইতেই যে প্রাপ্তিযোগ আমার কপালে জুটেছে তা আজকে সর্বসমক্ষে জানিয়ে খানিক পাপস্খালন করে নিতে চাই।
প্রথমেই জানিয়ে রাখি। আমার হিতকারীর নাম ACT Fibernet। দু'বছর আগে আমি যখন এই কোম্পানির কাছে সাবস্ক্রিপশন নিই তখন আমি যা ফি দিতাম তাতে আমি মাসে ৬০জিবি আপলোড এবং ৬০জিবি ডাউনলোড করার সুযোগ পেতাম। কিছুদিন পরে অনুগ্রহ করে তারা ৬০জিবির বদলে ৭৫জিবি আপলোড ও ডাউনলোডের উর্দ্ধসীমা বলে নির্ধারণ করে, ক্রমে তা বেড়ে হয় ১০০ এবং আরো খানিকদিন পর এই সংখ্যাটা এক লাফে বেড়ে দাঁড়ায় ১৭৫। এই মাস থেকে আবার ২২৫জিবি আপলোড ও ২২৫জিবি ডাউনলোড করার সুযোগ পাচ্ছি আমি -- এই বর্ধিত সুবিধের জন্য কোনোদিন কোনো বাড়তি শুল্ক কিন্তু দিতে হয়নি আমায়।
আর একজন ব্যাচেলর ছেলে যে বিদেশ বিভুঁইয়ে একা থাকে তার পক্ষে ফাউ ইন্টারনেট যে কতখানি আনন্দ বয়ে নিয়ে আসে তা আশাকরি আপনারা সহজেই আন্দাজ করে নিতে পারবেন। তাই আরেকবার আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই ACT ফাইবারনেটকে।

Saturday, August 12, 2017

পিএইচডি ডিগ্রী এখনো আমাদের দেশে খানিক দুর্লভ বলে আশপাশের লোক সাধারণতঃ পিএইচডি ডিগ্রীধারীদের শ্রদ্ধার চোখে থাকে। উপরন্তু সেই পিএইচডি যদি হয়ে থাকে গণিত শাস্ত্রে তাহলে তো সোনায় সোহাগা। ঢিপ করে হয়তো একখান পেন্নামই ঠুকে দেবে লোকে।
Spoiler Alert: যদি আপনিও পিএইচডি ডিগ্রীধারীদের প্রতি অতি শ্রদ্ধাশীল হন এবং নিজের ধারণা বজায় রাখতে চান তাহলে এই লেখা আর ভুলেও পড়বেন না নয়তো পরে আফসোস করতে হতে পারে।

মিশনের আমার দুই ব্যাচমেট ভারত থেকে গণিত বিভাগে গ্র্যাজুয়েশন করে বিদেশে পিএইচডি করতে যায় -- একজন ইউরোপে অপরজন আমেরিকায়। দুজনেই নিজেকে হেপ ভাবে, একজন ভাবে আমিই সেরা তো অপরজন ভাবে "হাম কিসি সে কম নেহি"। তাই ঈষৎ (কিংবা হয়তো অনেকটাই) রেষারেষি ছিলো (আছে) এদের মধ্যে। গত সপ্তাহে জানতে পারি যে ছেলেটি ইউরোপে গিয়েছিলো সে একঘেয়েমি থেকে বাঁচার জন্যে ফেসবুকে একটি মেয়ের নামে জাল প্রোফাইল খোলে এবং আমেরিকা নিবাসী বন্ধুটির সাথে রসালাপ শুরু করে। ইঞ্জিনিয়ারিং পাঠরত ছাত্রদের মেয়েদের প্রতি দুর্বলতা প্রসিদ্ধ তবে গণিতের ছেলেরা বোধ করি আরো এক কাঠি উপরে। আমেরিকাবাসী বন্ধুটি কদিনের আলাপেই প্রেমে হাবুডুবু খায়, তাই অবশ্যম্ভাবী প্রপোসাল এসে পৌঁছায় মেয়েটির কাছে অর্থাৎ আমার অপর বন্ধুটির কাছে। আর যায় কোথা -- ইউরোপের ছাত্রটি নিজের স্বরূপ প্রকাশ করে রাজ্যের হ্যাঠা উপহার দেয় ব্যাচমেটকে। সেই থেকে তাদের মুখ দেখাদেখি বন্ধ। আপাততঃ তাদের যোগসূত্র হচ্ছে কমন ফ্রেন্ডরা।

এঘটনাটা বলার পেছনে অবশ্য আরেকটা কারণও আছে। Sarahah-র শিহরণ নিয়ে বক্তব্য আমার এখনো শেষ হয়নি। আমি মাত্র একদিন account-টা রেখেছিলাম আর সেই সময়ে খান কুড়ি কমেন্ট পাই। তার ভেতর কয়েকখান প্রেম নিবেদনও ছিলো যথা: "কুণাল, তুমি শুধু আমার"। এর চেয়েও ঢের বেশি সুড়সুড়ি দেওয়া কমেন্ট ছিলো যা প্রকাশ্যে বলা যায় না। এগুলো যে আমার ইউরোপনিবাসী বন্ধুটির মতো পুরুষ বন্ধুরাই পাঠিয়েছেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তাদের জন্যে উপদেশ -- আপনারা উত্তেজনার পরিমাণটা খানিক কম করতে পারলে হয়তো বেশি মুরগি ধরতে পারবেন।

পরস্পর পিঠ চাপড়াচাপড়ী করার মানসিকতা আমাদের ভেতর যতদিন আছে ততদিন Sarahah এবং অনুরূপ হুজুগ চলতেই থাকবে। তবে আমার মতে ফেসবুকে Sarahah-র আয়ু আর দিন সাতেক, তার বেশি নয় -- দেখা যাক আমার ভবিষ্যদ্বাণী মেলে কিনা।

Thursday, August 10, 2017

"Give a man a mask and he will show his true face."
অস্কার ওয়াইল্ড-এর লেখা উপরের উক্তিটির উপর ভিত্তি করেই হয়তো সম্প্রতি Sarahah নামক অ্যাপটির সূচনা হয়েছে। তবে অ্যাপটির দাবি অনুযায়ী constructive criticism অর্থাৎ গঠনমূলক সমালোচনার বিন্দুমাত্র উদাহরণ দেখতে পেলাম না কারো ফেসবুক দেওয়ালে -- খালি চাড্ডি প্রশংসা (যা অনেকটা স্তাবকতার পর্যায়ে পড়ে), মামুলি প্রেম নিবেদন (মূলতঃ মেয়েদের) আর কিছু সস্তা খিল্লি পড়াই সার হলো। উপরন্তু "সারাহায় শিহরণ" এই quote-টা যে কতোবার দেখতে হলো তার ইয়ত্তা নেই -- সবাই ভাবছে তার মাথাতেই এই নামটা বোধ হয় প্রথম এলো।

গঠনমূলক সমালোচনার উদ্দেশ্য যদি চরিত্র গঠন হয়ে থাকে তাহলে আমার মতে আত্মসমালোচনার চেয়ে বড় আর কিছু হয় না। যদিও Sarahah account খোলার পেছনে কারো চরিত্র গঠন করবো এ ধরণের লক্ষ্য ছিলো না বলেই আমার ধারণা তবুও এই অবকাশে নিজের জীবন থেকে নেওয়া কিছু উপলব্ধি এখানে লিখে রাখছি। এ সব কথা আইআইটিতে একাধিকবার নেসকাফেতে বসে  বন্ধুমহলে বলে থাকলেও আগে লিপিবদ্ধ করা হয়নি।

কোনো এক মনীষী বলে গেছেন: "অন্যের দুঃখে কাঁদা সহজ অন্যের আনন্দে হাসার চেয়ে।" এই উক্তিটি ছোটবেলায় মায়ের কাছে শুনেছিলাম। কিন্তু আমি ভাবতাম একথাটা সর্বাধিক মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও আমার জন্যে নয় কারণ বন্ধুদের সাফল্যে আমিও খুশি হতাম। এই ধারণাটা আমার পিএইচডিতে ভর্তি হবার পর আন্দাজ দু'বছর পর্যন্ত ছিলো। আমি পিএইচডির সময় যে ল্যাবে বসতাম সেখানে মোট চব্বিশজন রিসার্চ স্কলার বসতো। প্রায়শই কনফারেন্স বা জার্নালে পেপার হয়েছে বলে কেউ না কেউ বাকিদের কোনো হোটেলে নিয়ে গিয়ে ট্রিট দিতো। আমি পেটুক মানুষ তাই বেশ আনন্দেই দিন কাটছিলো। তবে বারবার কি আর বাকিদের থেকে পার্টি নিতে ভালো লাগে? তাই স্বাভাবিকভাবেই আমার মনে হতো -- সুযোগ আসুক তাহলে আমিও পার্টি দেবো। কিন্তু সুযোগ তো আর সহজে আসে না -- পেপার ছাপাতে কালঘাম ছুটে যায়। সেই সময় সিনেমা, টিভি সিরিজ, কম্পিউটার গেম কোনো কিছুই উপভোগ করতে পারতাম না। বন্ধুদের ট্রিট পর্যন্ত বিস্বাদ লাগতো। মনীষী বাক্যের যথার্থতা হাড়ে হাড়ে টের পেতাম। অবশেষে দু'মাস অন্তরে দুটো জার্নাল পেপার অ্যাকসেপ্ট হওয়ায় ফলে আবার মানসিক শান্তি ফিরে আসে।
মোরাল অফ দ্য স্টোরি: "অন্যের সাফল্যে খুশি হতে গেলে নিজেকেও সফল হতে হয়।"

কোন কথা থেকে কোন কথায় চলে এলাম। Sarahah প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কি একটু বাড়াবাড়ি হয়ে গেলো?


পুনশ্চ: Sarahah-র দৌলতে যে কোনো চিন্তাশীল মন্তব্য আমার ভাগ্যে জোটেনি তা বললে অবশ্য ভুল হবে -- আমার লেখার মান ইদানিং পড়ে গেছে এ কথা দু' তিনজন অন্ততঃ জানিয়েছে। কাজের চাপে আজকাল আর আগের মতন লেখার সময় পাই না -- তবে এই লেখাটা কেমন হয়েছে সেটা যদি তারা আমার ইনবক্সে লিখে জানান তো খুব ভালো হয়। Interactive কমেন্ট পেলে আমার হয়তো উন্নতি সাধনে সুবিধে হবে।