Sunday, November 15, 2020

তখন আমরা কোলকাতায় নতুন এসেছি। কসবায় ভাড়া থাকতাম। যদ্দুর সম্ভব "Transition"-এ পড়তাম (কিংবা হয়তো ক্লাস ওয়ানে)। আমাদের স্কুলে আপার কেজি ক্লাসটাকে ট্রানসিশন বলার রীতি ছিল। সেই সময় বাংলা দূরদর্শনে "ছুটি ছুটি" অনুষ্ঠানটার সূচনা হয়। যাঁহাতক মনে পড়ছে "ছুটি ছুটি" একটা বৃহস্পতিবার দিন শুরু হয়েছিল। আর প্রথমদিন শেষের ১৫ মিনিট ছোটপর্দায় "সোনার কেল্লা" দেখেছিলাম। সেই প্রথম ফেলুদার সাথে আমার পরিচয়। সৌমিত্র চ্যাটার্জী-ফ্যাটার্জী জানতাম না কিন্তু প্রদোষ চন্দ্র মিত্তির ওরফে ফেলুদাকে ঠিক চিনতাম। পরে "জয় বাবা ফেলুনাথ", "হীরক রাজার দেশে" - সব ওই ছুটি ছুটির বদান্যতায় ১০ মিনিট কি ১৫ মিনিট করে পুরো সপ্তাহ ধরে এক একটা সিনেমা গিলতাম। ক্রমে ক্রমে সৌমিত্র চ্যাটার্জীকে চিনি। ওঁনার অভিনয় আমার ভীষণ প্রিয় - যদিও একথা বলাই বাহুল্য কারণ কোনো বাঙালিই এর ব্যতিক্রম নয়।

জানি মৃত্যু আমাদের সকলের অবশ্যম্ভাবী পরিণতি। এবং মানুষকে শোক-দুঃখ পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে হয়। তবুও কারো কারোর মৃত্যু স্পষ্টতঃ বাকিদের জীবনে রেখা ছেড়ে যায়। শুনেছিলাম অভিনেতা সন্তোষ দত্ত (যাকে আমরা জটায়ুর চরিত্রে দেখেছি) মারা যাবার পর সত্যজিৎ রায় নাকি ফেলুদার গল্প লেখা ছেড়ে দিয়েছিলেন। আজ ফেলুদা চলে গেলেন - এই ঘটনার প্রভাব বাঙালি দর্শকের জীবনে অবশ্যই থেকে যাবে।


চিত্র সূত্র: https://www.rediff.com/movies/special/the-soumitra-chatterjee-interview-you-must-read/20201115.htm