Thursday, April 30, 2015

শুনতে পেলাম বাঙালি পর্বতারোহীদের একটা দল, যাদের সঙ্গে নেপালের ভূমিকম্পের পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলো, তারা নাকি সবাই নিরাপদেই আছে। কথাটা শুনেই যেটা আমার প্রথম মনে হলো: আচ্ছা, এই পর্বতারোহীরা নিজেদের কুশল বার্তা আত্মীয় পরিজনদের জানালো কিভাবে? ফেসবুকে "অমুক marked safe during Nepal earthquake" -- এই জাতীয় স্ট্যাটাস দিয়ে নয় তো? ইদানিং কালে এই স্ট্যাটাসের যা হিড়িক পড়ে গেছে তাতে এরকম ভাবাটা আমার মতে খুব একটা অসঙ্গত নয়। আজকেও দেখি এক বন্ধুর সম্বন্ধে ফেসবুকে এই প্রজ্ঞাপন (ইংরেজিতে notification)। আজকের সহজলভ্য ইন্টারনেটের যুগে এতোদিন পরে আমার এই বন্ধুটির নোটিফিকেশনটা দেখে প্রথমে একটু বিস্মিতই হলাম; ছেলেটা কোনো ভগ্নস্তূপের তলায় ধামা চাপা পড়ে গেছিলো নাকি? এতোদিনে হয়তো ধুলো টুলো ঝেড়ে ফেসবুকে নিজের মঙ্গল সংবাদ জানানোর সময় বার করতে পেরেছে বেচারা। তারপর দেখি কিনা আমার এই বন্ধুটি রয়েছে আমেরিকায়। এতোদিন ধরে কিন্তু কিন্তু করে শেষ পর্যন্ত বাকি বন্ধুদের দেখাদেখি এই বাবুও নিজের বেঁচে থাকার খবরটা না জানালে অন্যায় হয়ে যাবে ভেবে নিজের অস্তিত্বের প্রমাণ রেখেছে এই নোটিফিকেশনটি ফেসবুকে শেয়ার করে। আরে ভাই, যেদিন নেপালের ভূমিকম্প প্রশান্ত বা অতলান্তিক মহাসাগর পেরিয়ে আমেরিকায় জানান দেবে সেদিন জানবি পৃথিবীর বুকে মহাপ্রলয় ঘটে গেছে, হয়তো বা নেপাল দেশটাই পৃথিবীর মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে ততক্ষণে। যাই হোক, বহুদিন পর এই পরিপ্রেক্ষিতে তোর্ খবর নেওয়া হয়ে গেলো, তুই ভালো ভাবে বেঁচে বর্তে আছিস দেখে ভালো লাগলো। Take care!

(বিঃদ্রঃ আমার মতে ফেসবুকের এই প্রয়াস অবশ্যই প্রশংসনীয়, মুশকিলটা হচ্ছে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের অধিকাংশ কোনটা প্রয়োজনীয় আর কোনটা স্রেফ গিমিক সেটা তফাৎ করতে শেখেনি।)

Wednesday, April 29, 2015

"Vicious cycle" -- যার বাংলা করলে দাঁড়ায় "দুষ্ট চক্র" -- এই কথাটার মানে জানেন কি?
এর মানে হলো কয়েকটি নেতিবাচক ঘটনা যারা পরস্পরের উপর বৃত্তাকারে নির্ভরশীল।
উদাহরণ: (১) কেন দেশে কল-কারখানা নেই? কারণ: দেশে কাজ জানা শ্রমিকের অভাব। (২) কেন দেশে কাজ জানা শ্রমিকের অভাব আছে? কারণ: দেশে কারিগুরী বিদ্যা শেখানোর কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। (৩) কেন দেশে কারিগুরী বিদ্যা শেখানোর কোনো প্রতিষ্ঠান নেই? কারণ: দেশের অপর্যাপ্ত আয়। (৪) কেন দেশের আয় পর্যাপ্ত নয়? কারণ: দেশে কল-কারখানা নেই।

চোখ-কান খোলা রাখলে এই ধরনের "vicious cycle" আপনারা সর্বত্র দেখতে পাবেন। যেমন ধরুন: (১) কেন ছাত্রটি শিক্ষকের সাথে দেখা করছে না? কারণ: সে তার নির্ধারিত কাজটি শেষ করতে পারেনি। (২) ছাত্রটিকে নির্ধারিত কাজটি শেষ করতে গেলে কি করতে হবে? সর্বাগ্রে স্যারের সাথে দেখা করতে হবে।
এই সম্পর্কে আমার একটা সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা জানাই। আমার এক বন্ধু সংবাদ পত্রে কাজ করে, তার সাথে একটি কথোপকথন:
আমি: "ভাই, আমার লেখা তো অনেক জায়গায় পাঠালাম -- মনোনীত হওয়া তো দূরের কথা, কোনো জায়গা থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পর্যন্ত কেও জানালো না !"
বন্ধু: "দ্যাখ, লেখা ছাপানো অত সহজ নয়; তোর্ মতো লেখক শয়ে শয়ে আছে।"
আমি: "তাহলে লেখা ছাপাতে গেলে আমাকে কি করতে হবে?"
বন্ধু: "তোকে আগে ফেমাস হতে হবে; একবার যদি নাম কামাতে পারিস তাহলে লোকে তোর্ লেখা ডেকে ডেকে ছাপাবে।"
আমি: "ফেমাস হওয়ার জন্যে আমাকে কি করতে হবে?"
বন্ধু: "কেন, লেখা ছাপাতে হবে।"

Saturday, April 25, 2015

শ্রীরামকৃষ্ণ বলে গেছেন: "বাগানে আম খেতে এসেছো, আম খাও। বাগানে কটা গাছ, তাতে কটা ডাল, তাতে কটা আম -- অতো খবরে তোমার কাজ কি বাপু ?" (আমার স্মৃতি চিরকালই দুর্বল, শ্রীরামকৃষ্ণের বাণীখানি হুবহু এরকম না হলেও, কাছাকাছি হবে। )
তাই প্রথমেই বলে রাখি নিম্নলিখিত ঘটনাটি পড়ে আপনারা আনন্দ পাবেন -- এটুকুই আমার মনস্কামনা; দয়া করে ঘটনাটির সম্পর্কে বিশদে জানতে চেয়ে আমাকে বিব্রত করবেন না।

এক ব্যস্ত প্রফেসর নিজের পিএইচডি ছাত্রকে কথা দিয়েছেন ট্রেনে করে খড়্গপুর থেকে হাওড়া যাওয়ার সময় উনি ছাত্রটিকে রিসার্চ সম্বন্ধীয় কিছু আইডিয়া দেবেন। অবশেষে সেই যাত্রার দিন উপস্থিত। ছাত্র তো উত্তেজনায় ছটফট করছে, না জানি আজ প্রফেসরের থেকে কতো কি শেখা যাবে। প্রফেসর কিন্তু ট্রেনে উঠে জানলার ধারের সিটে বসে খানিকক্ষণের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়লেন। ওনার ঘুম ভাঙ্গলো একেবারে যখন ট্রেন হাওড়ায় ঢুকছে। ঘুম থেকে উঠে প্রফেসর ছাত্রটিকে বললেন: "নাহ্, আজ আর মাথায় কোনো আইডিয়া এলো না, বুঝলে !"

Thursday, April 16, 2015

প্রশ্ন: কার মুখে কোনো কথাই আটকায় না ?
উত্তর: জনৈক ঐতিহাসিক, যুগ যুগ ধরে ছাত্র ছাত্রীরা এনার মুখ থেকে যে কতো কথা বার করে নিয়েছে তার ইয়ত্তা নেই।

Tuesday, April 14, 2015

একটি PJ (Poor Joke):
মানুষের ক্ষেত্রে জন্মাবার পর তার নাম রাখা হয়, যেমন -- রাম, শ্যাম, যদু, মধু।
মুরগির ক্ষেত্রে মারা যাবার পর তার নাম রাখা হয়, যেমন -- চিকেন টিক্কা, চিকেন মশালা, চিকেন রেজালা, চিকেন সিক্সটি-ফাইভ।

Monday, April 13, 2015

দিব্যেন্দু: পর্ব ১২

(ঘোড়ার মুখের খবর)
কয়েকদিন আগে, এক রাত্রিবেলা, দিব্যেন্দুর সাথে ফোনে কথা বলছিলাম। ইতিমধ্যে দিব্যেন্দুর হোস্টেলের রুমে হন্তদন্ত হয়ে এক জুনিয়রের আগমন ঘটে। আমি শুনতে পাচ্ছি তাদের কথোপকথন:
-- পাঁচশ্-টা টাকা ধার দেবে? এইমাত্র পার্স টা হারিয়ে ফেলেছি।
দিব্যেন্দুর উত্তর: শোন্, এই দুশো-টা টাকা রাখ। এর মধ্যেই ভালো পার্স হয়ে যাবে, আবার দামি পার্স কিনে কি হবে !

Thursday, April 9, 2015

মাঝে মাঝেই আমরা কথা বলতে গিয়ে মাঝের কিছু শব্দ ভুলে যাই, তখন অন্য কোনো প্রতিশব্দ কিম্বা "ইয়ে", "ইসে", এ ধরনের কিছু কথা গোঁজামিল দিয়ে নিজেদের বক্তব্যটা ম্যানেজ করতে হয়। সেই রকম কিছু ছোটখাটো ঘটনা নিয়ে লিখেছিলাম কিছুদিন আগে। আমার লেখা নিয়ে মন্তব্য প্রকাশ করতে গিয়ে দুই বন্ধু আমাকে এ ধরনের আরো দুটি ঘটনা জানায়, সেগুলো এখানে (মোটামুটি) তাদের জবানীতেই লিখে রাখছি।

ঘটনা ১:
(প্রসঙ্গত, আমার এই বন্ধুটি একটি সংবাদ পত্রে কাজ করে।)
আমাদের একজন বস আছেন যিনি সব কিছুকেই "thing" বলেন। কোনো লেখা বা কোনো পাতা দেখতে হলে চেয়ারের পেছনে এসে দাঁড়িয়ে বলেন: "Show me your thing", তারপর ভালো করে দেখতে না পেলে বলেন: "Make it big ... left side, right side", মহিলা সহকর্মীদেরও বলেন। তিনি বড়ই ভদ্রলোক, তাই কেউ কিছু মনে করে না।

ঘটনা ২:
আমাদের কলেজের এক প্রফেসর ওনার ইংরেজির জন্যে খ্যাত ছিলেন। একদিন ক্লাস চলাকালীন কিছু ছাত্র নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলো। ক্লাস থেকে বের করে দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে উনি সেই ছাত্রদের মধ্যে একজন ছেলেকে দাঁড় করান -- এদিকে উনি কিছুতেই "Get out" কথাটা মনে করতে পারছেন না; প্রাথমিক সংশয় ভাবটা কাটিয়ে উনি সেই ছেলেটিকে বললেন: "Follow me", এবং ক্লাসের বাইরে হাঁটা লাগালেন। ছেলেটিও তাকে অনুসরণ করলো। দুজনেই যখন ক্লাসের বাইরে, তখন উনি ছেলেটির দিকে ঘুরে বললেন: "Now don't follow me"। ভ্যাবাচাকা খাওয়া ছেলেটিকে ক্লাসের বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে স্যার ক্লাসে ফিরে এলেন।

Wednesday, April 8, 2015

বাঙালির ছেলে ছোটবেলা থেকে সাহিত্যিক হওয়ার স্বপ্ন দেখে -- এর মধ্যে ব্যতিক্রমী কিছু নেই। আমিও সেই দলেই পড়ি। কিন্তু বিশ্বাস করুন, মাইরি বলছি, আমি আজ পর্যন্ত একটাও কবিতা লিখিনি। যে কোন কারণেই হোক কবিতা আমার ঠিক পোষায় না। কবিতা না আমার পড়তে ভালো লাগে, না শুনতে। খুব দরদ দিয়ে কবিতা আবৃত্তি করলে আমার সেটাকে ন্যাকামি বলেই মনে হয়। অর্থাৎ সংক্ষেপে "কবিতার রসে আমি বঞ্চিত"। গোদের ওপর বিষফোঁড়া হচ্ছে আজকালকার আধুনিক কবিতাগুলো যেখানে কবি অন্তে মিল রাখার প্রয়োজনটুকুও বোধ করেননি। এগুলোকে আমার কবিতা বলতেও কোথাও একটা বাঁধে, কবিতার সংজ্ঞা অনুযায়ী তার অন্তে মিল থাকাটা যেন আবশ্যক বলে আমার ধারণা।
এসত্ত্বেও আমার মতো "নিরস" ব্যক্তির যখন আজকে নিশানের লেখা কবিতাটা পড়ে ভালো লাগলো তখন বুঝলাম যে আপনাদের মতো সমঝদার পাঠকদের কাছে এই কবিতাটা শেয়ার না করলে সেটা অন্যায় হবে; লেখাটা আপনাদের ভালো লাগতে বাধ্য।


হয়তো ধরো তেমন কোনো সম্বন্ধ নেই
কেবল ছিলো রিকশা তাতে ত্রিপল ছিলো
বৃষ্টি ছিলো,
ঝাপসা ছিলো,
চতুর্দিকে।
আর দুখানা মানুষ ছিলো,
ভীষণ ভিজে মানুষ ছিলো,
একবুকে তার একটি মাথা,
আর এক হাতে কাঁধটি ছিলো,
দুঃখ ছিলো, গল্পছিলো,
ভীষণ কিছু খুব সাধারণ
ভীষণ চেনা গল্প ছিলো।
কষ্ট গড়ায় দুঃখজলে,
চোখ সয়ে যায় নুনের ধারায়
তক্ষুণি ঠিক!
তক্ষুণি ঠিক চমক দিলো,
দু মুখ জ্বলে ক্ষণিক সুখে,
দুহাত তালু গালের পাশে
হাতের ফাঁকে পানপাতা মুখ,
দুঃখ গড়ায় বৃষ্টিজলে,
সুখ ছুঁয়ে যায় গোপন হৃদয়,
মানুষ দুটি মোমের মতই
গলছে সুখে গলছে হাওয়ায়...