শুনতে পেলাম বাঙালি পর্বতারোহীদের একটা দল, যাদের সঙ্গে নেপালের ভূমিকম্পের পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলো, তারা নাকি সবাই নিরাপদেই আছে। কথাটা শুনেই যেটা আমার প্রথম মনে হলো: আচ্ছা, এই পর্বতারোহীরা নিজেদের কুশল বার্তা আত্মীয় পরিজনদের জানালো কিভাবে? ফেসবুকে "অমুক marked safe during Nepal earthquake" -- এই জাতীয় স্ট্যাটাস দিয়ে নয় তো? ইদানিং কালে এই স্ট্যাটাসের যা হিড়িক পড়ে গেছে তাতে এরকম ভাবাটা আমার মতে খুব একটা অসঙ্গত নয়। আজকেও দেখি এক বন্ধুর সম্বন্ধে ফেসবুকে এই প্রজ্ঞাপন (ইংরেজিতে notification)। আজকের সহজলভ্য ইন্টারনেটের যুগে এতোদিন পরে আমার এই বন্ধুটির নোটিফিকেশনটা দেখে প্রথমে একটু বিস্মিতই হলাম; ছেলেটা কোনো ভগ্নস্তূপের তলায় ধামা চাপা পড়ে গেছিলো নাকি? এতোদিনে হয়তো ধুলো টুলো ঝেড়ে ফেসবুকে নিজের মঙ্গল সংবাদ জানানোর সময় বার করতে পেরেছে বেচারা। তারপর দেখি কিনা আমার এই বন্ধুটি রয়েছে আমেরিকায়। এতোদিন ধরে কিন্তু কিন্তু করে শেষ পর্যন্ত বাকি বন্ধুদের দেখাদেখি এই বাবুও নিজের বেঁচে থাকার খবরটা না জানালে অন্যায় হয়ে যাবে ভেবে নিজের অস্তিত্বের প্রমাণ রেখেছে এই নোটিফিকেশনটি ফেসবুকে শেয়ার করে। আরে ভাই, যেদিন নেপালের ভূমিকম্প প্রশান্ত বা অতলান্তিক মহাসাগর পেরিয়ে আমেরিকায় জানান দেবে সেদিন জানবি পৃথিবীর বুকে মহাপ্রলয় ঘটে গেছে, হয়তো বা নেপাল দেশটাই পৃথিবীর মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে ততক্ষণে। যাই হোক, বহুদিন পর এই পরিপ্রেক্ষিতে তোর্ খবর নেওয়া হয়ে গেলো, তুই ভালো ভাবে বেঁচে বর্তে আছিস দেখে ভালো লাগলো। Take care!
(বিঃদ্রঃ আমার মতে ফেসবুকের এই প্রয়াস অবশ্যই প্রশংসনীয়, মুশকিলটা হচ্ছে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের অধিকাংশ কোনটা প্রয়োজনীয় আর কোনটা স্রেফ গিমিক সেটা তফাৎ করতে শেখেনি।)
(বিঃদ্রঃ আমার মতে ফেসবুকের এই প্রয়াস অবশ্যই প্রশংসনীয়, মুশকিলটা হচ্ছে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের অধিকাংশ কোনটা প্রয়োজনীয় আর কোনটা স্রেফ গিমিক সেটা তফাৎ করতে শেখেনি।)