এবছর পুজোয় এই নাচটা পরিবেশন করেছে আমার স্ত্রী ময়ূরীকা আর তার দুই সহশিল্পী অস্মিতাদি আর সোহিনী। ভিডিওটার কোয়ালিটিটা তেমন ভালো নয় তবে চলে যায়। পরে কোনো আরো ভালো ভিডিও পেলে সেটা দেবোখন। নিচের লেখাটা আমার লেখা যেটা নৃত্য পরিবেশনের আগে পাঠ করা হয়।
আমাদের পরবর্তী আকর্ষণ হচ্ছে একটি নৃত্য পরিবেশন। আজকের সমাজে যে অরাজকতা বয়ে চলেছে, যে কলুষ জমে উঠেছে, যে নির্যাতন নারীদের নিত্যদিন সয়ে যেতে হচ্ছে তাই চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখানোর একটি প্রচেষ্টা করছি আমরা। চিরসত্য হলেও আমরা হয়তো ভুলে যাচ্ছি কবির সেই কথা:
"সাম্যের গান গাই-
আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই!
বিশ্বে যা-কিছু মহান্ সৃষ্টি চির-কল্যাণকর,
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।"
অর্থাৎ মনুষ্যজগতের এই সমাজগঠনে নারী ও পুরুষের অবদান সমান।
অথচ কিছু পুরুষ আছে যারা নারীর কমনীয়তাকে তাদের দুর্বলতা হিসেবে ভাবে। সর্বদা তাদের পায়ে শৃঙ্খলা পরিয়ে রাখতে চায়। শাড়ির আঁচল ধরে টেনে উপহাস করে।
এ কোথাকার ন্যায় যেখানে এক শ্রেণী অপর শ্রেণীকে প্রতিনিয়ত পদদলিত করে রাখে?
এ কোথাকার ন্যায় যেখানে এক শ্রেণী অপর শ্রেণীকে নিজের ভোগ্যবস্তু হিসেবে ভাবতে নূন্যতম দ্বিধা বোধ করে না?
এ কোথাকার ন্যায় যেখানে এক শ্রেণী অপর শ্রেণীকে শোষণ করে চলে জগ জগ ধরে?
আমাদের মনে রাখতে হবে:
"অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে,
তব ঘৃণা যেন তারে তৃণ সম দহে।"
তাই আজ সময় এসেছে রুখে দাঁড়াবার। সময় এসেছে প্রত্যেকের জন্মগত অধিকারকে ছিনিয়ে নেওয়ার। সময় এসেছে নারীকে তার স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত করার।

