Friday, October 11, 2024

 এবছর পুজোয় এই নাচটা পরিবেশন করেছে আমার স্ত্রী ময়ূরীকা আর তার দুই সহশিল্পী অস্মিতাদি আর সোহিনী। ভিডিওটার কোয়ালিটিটা তেমন ভালো নয় তবে চলে যায়। পরে কোনো আরো ভালো ভিডিও পেলে সেটা দেবোখন। নিচের লেখাটা আমার লেখা যেটা নৃত্য পরিবেশনের আগে পাঠ করা হয়।


আমাদের পরবর্তী আকর্ষণ হচ্ছে একটি নৃত্য পরিবেশন। আজকের সমাজে যে অরাজকতা বয়ে চলেছে, যে কলুষ জমে উঠেছে, যে নির্যাতন নারীদের নিত্যদিন সয়ে যেতে হচ্ছে তাই চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখানোর একটি প্রচেষ্টা করছি আমরা। চিরসত্য হলেও আমরা হয়তো ভুলে যাচ্ছি কবির সেই কথা:
"সাম্যের গান গাই-
 আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই!
 বিশ্বে যা-কিছু মহান্‌ সৃষ্টি চির-কল্যাণকর,
 অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।"
অর্থাৎ মনুষ্যজগতের এই সমাজগঠনে নারী ও পুরুষের অবদান সমান।
অথচ কিছু পুরুষ আছে যারা নারীর কমনীয়তাকে তাদের দুর্বলতা হিসেবে ভাবে। সর্বদা তাদের পায়ে শৃঙ্খলা পরিয়ে রাখতে চায়। শাড়ির আঁচল ধরে টেনে উপহাস করে।
এ কোথাকার ন্যায় যেখানে এক শ্রেণী অপর শ্রেণীকে প্রতিনিয়ত পদদলিত করে রাখে?
এ কোথাকার ন্যায় যেখানে এক শ্রেণী অপর শ্রেণীকে নিজের ভোগ্যবস্তু হিসেবে ভাবতে নূন্যতম দ্বিধা বোধ করে না?
এ কোথাকার ন্যায় যেখানে এক শ্রেণী অপর শ্রেণীকে শোষণ করে চলে জগ জগ ধরে?
আমাদের মনে রাখতে হবে:
"অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে,
 তব ঘৃণা যেন তারে তৃণ সম দহে।"
তাই আজ সময় এসেছে রুখে দাঁড়াবার। সময় এসেছে প্রত্যেকের জন্মগত অধিকারকে ছিনিয়ে নেওয়ার। সময় এসেছে নারীকে তার স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত করার।

Tuesday, September 26, 2023

 আমার স্ত্রী বাঙালি হলেও পুণেতে বড় হয়েছে তাই বাংলা বলতে গেলে মাঝে মাঝে অল্পস্বল্প ভুল হয়ে যায় বিশেষ করে প্রবাদ বাক্য বলতে গেলে। তার একটা ছোট্ট উদাহরণ নিচে দিচ্ছি।

স্ত্রী: তুমি চলো ডালে ডালে, আমি চলি পাতে পাতে।

আমি: ওটা "পাতায় পাতায়" হবে।

স্ত্রী: ওকে, বুঝেছি। তুমি চলো ডালায় ডালায়, আমি চলি পাতায় পাতায়।

Monday, November 8, 2021

 - হাসপাতালের নাম দিয়েছে কিনা "অপেক্ষা"। বলিহারি ছাই, নামের কি ছিরি! এখানে বুঝি সবকিছুর জন্যেই অপেক্ষা করতে হয় - বেডের জন্য, ডাক্তারের জন্য, ওষুধ-পথ্য সব। এমন নাম দিলে রুগী কি কখনো আসবে?

- আসতেই পারে। তার কারণ এই নামকরণের হয়তো অন্য মানে আছে।

- কি রকম?

- এখানে রুগী একবার ভর্তি হয়ে গেলে তারপর তাকে নিতে স্বয়ং যমরাজকে "অপেক্ষা" করতে হয়।


(এই হাসপাতালটা বেঙ্গালুরুতে কাইকোন্দ্রাহাল্লিতে অবস্থিত। বেলান্দুর থেকে সার্জাপুর যাওয়ার পথে ভেতরের একটা গলিতে দেখেছি কিছুদিন আগে।)



Saturday, March 13, 2021

 - আজকাল প্যাটিস নামটা আর চলে না - বড্ড সেকেলে হয়ে গেছে!

- জানি, ইদানিং তো ওটাকে পাফ বলে ডাকে লোকে।

- উঁহু, এখন ওই নামটাও বাতিল - সম্প্রতি ওই খাদ্যটির নামকরণ হয়েছে "পকেট"।

- বলো কি? এসব আঁতলামি কে যে করে?

- যা বলেছো! যত্তোসব পাগলামি!

Sunday, November 15, 2020

তখন আমরা কোলকাতায় নতুন এসেছি। কসবায় ভাড়া থাকতাম। যদ্দুর সম্ভব "Transition"-এ পড়তাম (কিংবা হয়তো ক্লাস ওয়ানে)। আমাদের স্কুলে আপার কেজি ক্লাসটাকে ট্রানসিশন বলার রীতি ছিল। সেই সময় বাংলা দূরদর্শনে "ছুটি ছুটি" অনুষ্ঠানটার সূচনা হয়। যাঁহাতক মনে পড়ছে "ছুটি ছুটি" একটা বৃহস্পতিবার দিন শুরু হয়েছিল। আর প্রথমদিন শেষের ১৫ মিনিট ছোটপর্দায় "সোনার কেল্লা" দেখেছিলাম। সেই প্রথম ফেলুদার সাথে আমার পরিচয়। সৌমিত্র চ্যাটার্জী-ফ্যাটার্জী জানতাম না কিন্তু প্রদোষ চন্দ্র মিত্তির ওরফে ফেলুদাকে ঠিক চিনতাম। পরে "জয় বাবা ফেলুনাথ", "হীরক রাজার দেশে" - সব ওই ছুটি ছুটির বদান্যতায় ১০ মিনিট কি ১৫ মিনিট করে পুরো সপ্তাহ ধরে এক একটা সিনেমা গিলতাম। ক্রমে ক্রমে সৌমিত্র চ্যাটার্জীকে চিনি। ওঁনার অভিনয় আমার ভীষণ প্রিয় - যদিও একথা বলাই বাহুল্য কারণ কোনো বাঙালিই এর ব্যতিক্রম নয়।

জানি মৃত্যু আমাদের সকলের অবশ্যম্ভাবী পরিণতি। এবং মানুষকে শোক-দুঃখ পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে হয়। তবুও কারো কারোর মৃত্যু স্পষ্টতঃ বাকিদের জীবনে রেখা ছেড়ে যায়। শুনেছিলাম অভিনেতা সন্তোষ দত্ত (যাকে আমরা জটায়ুর চরিত্রে দেখেছি) মারা যাবার পর সত্যজিৎ রায় নাকি ফেলুদার গল্প লেখা ছেড়ে দিয়েছিলেন। আজ ফেলুদা চলে গেলেন - এই ঘটনার প্রভাব বাঙালি দর্শকের জীবনে অবশ্যই থেকে যাবে।


চিত্র সূত্র: https://www.rediff.com/movies/special/the-soumitra-chatterjee-interview-you-must-read/20201115.htm


Saturday, October 31, 2020

 প্রোবাবিলিটি (probability) বিষয়টা আশাকরি আমরা সবাই কমবেশি বুঝি। এই বিষয় সম্বন্ধে পড়তে গেলে সকলেই প্রথম যে উদাহরণটা শিখি সেটা হলো একটা কয়েনকে টস করলে তার হেড বা টেল আসার সম্ভাবনা হাফ অর্থাৎ ১/২। এখানে দুটো জিনিস খেয়াল করতে হবে: (১) যে কোনো কয়েন হলেই কিন্তু চলবে না - কয়েনটাকে "fair" মানে পক্ষপাতশূন্য হতে হবে, আর (২) একটা ইভেন্টের প্রোবাবিলিটি নির্ধারণ করার জন্য তার সম্পর্কিত এক্সপেরিমেন্টটাকে আইডিয়ালি অসংখ্যবার করা উচিৎ।

আগের পোস্টটে বলেছিলাম না এবছর SORRBA নামক একটা বাঙালি অ্যাসোসিয়েশনের দুর্গাপুজোতে অংশগ্রহণ করেছি। তাদের একটা পুজোর সময় ম্যাগাজিন বেরোয় - "তোষানী"। তাতে আমার একটা লেখা বেরিয়েছে। নিচে লিংকটা দিলাম। তবে একটা সতর্কবার্তা দিয়ে রাখি - এই লিংকটা একবার টিপলে পিডিএফ ফাইলটা দেখতে পাওয়ার প্রোবাবিলিটি আমার মতে ১/৩ (অর্থাৎ দেখতে পাওয়ার চেয়ে না দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা দ্বিগুণ)। তবে আশা করা যায় ধৈর্য ধরে যদি তিনবার লিংকটায় ক্লিক করেন তবে আপনার কপালে শিঁকে ছিড়বে। অবশ্যই কোন browser কতটা fair তা আমার জানা নেই এবং আমি লিংকটাতে অসংখ্যবার ক্লিকও করিনি। তবে বন্ধুরা যদি পিডিএফটা খুলতে পারেন তাহলে কতো নম্বর ট্রাইতে খুলতে পেরেছেন সেটা যদি আমায় জানান তাহলে দলগত এক্সপেরিমেন্ট করে আমরা এই প্রোবাবিলিটিটার একটা ভালো অনুমান পেতে পারি।

http://sorrba.org/wp-content/uploads/2020/10/Toshani-2020.pdf


পুনশ্চ: কেউ কেউ হয়তো ভাবছেন "বাবাঃ, নিজের লেখা বেরিয়েছে সেটা কুণাল সোজাসুজি জানালেই পারতো! প্রোবাবিলিটি, কয়েন টস - হাজারটা হাবিজাবি কথা বলে ঘুরিয়ে নাক দেখানোর কি কোনো মানে আছে?"
তাদেরকে জানিয়ে রাখি - লেখাটা আসলে অত্যন্ত খাজা - তাই লেখাটা পড়ার সাথে সাথে একটা সাইন্টিফিক এক্সপেরিমেন্ট অন্তত করতে পারলাম, এরকমটা ভাবলে সময় ব্যয় করাটা পুরোপুরি ফালতু যায়নি এমনটা হয়তো মনে হলেও হতে পারে।

Monday, October 26, 2020

 শুভ বিজয়া! এবছর বোধকরি প্রত্যেকেরই ঘরে বসে পুজো কেটেছে। আমারও প্রায় তাই - এবছর মোটে একটা ঠাকুর দেখেছি। আগের থেকে অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে সোশ্যাল ডিস্টেন্স মেইনটেন করে মণ্ডপের বাইরে দাঁড়িয়ে দেবী দর্শন - এই বছর এটাই ছিল প্রথা। যাইহোক প্রবাসে বসে এই যে একটা ঠাকুর দেখতে পেলাম এই বাজারে সেটাই ঢের। এই পুজোর আয়োজন করেছিল বেঙ্গালুরুর SORRBA নামক বাঙালি অ্যাসোসিয়েশন। এবছর কড়াকড়ির মাঝে অন্যান্যবার যে মাঠে পুজো হয়ে থাকে সেখানে অনুষ্ঠান আয়োজন করার সুযোগ হয়নি তাই এক ভক্তের প্রাইভেট গ্রাউন্ডে খানিক ছোট করে মণ্ডপ বাঁধা হয়েছিল। গত দু'বছর ধরে আমরা এই গ্রুপের সদস্য তাই অল্পক্ষণের জন্য হলেও সশরীরে উপস্থিত থেকে আমরা এই পুজোর সরিক হওয়ার সুযোগ পাই। সুদূর ইলেক্ট্রনিক সিটি থেকেও দেখি ভক্তরা এসেছে দর্শনার্থে - অন্যান্যবার ওদিকে বেশ কিছু পুজো হয় কিন্তু এবারে নাকি হয়নি। বাকি সব উপাচার আমাদের ইন্টারনেটের আনুকূল্যে অনলাইন পুষ্পাঞ্জলি দিয়েই মেটাতে হয়েছে।

SORRBA সদস্যদের জন্য পুজোর খানিক আনন্দ রক্ষার্থে অনেক রকম ইভেন্ট অর্গানাইজ করেছিল - সপ্তমী আর নবমীতে গান নাচের অনলাইন আসর বসেছিল যেমনি। আমার বেটার হাফ তাতে একটা নৃত্য পরিবেশনা করেছিল কাজী নজরুল ইসলামের "এলো রে এলো ওই রণ রঙ্গিনী" গানটির সাথে - এই প্রসঙ্গে পরে লেখার ইচ্ছে রইলো। তাছাড়া ষষ্ঠীর পুজো থেকে বিসর্জন অবধি সব লাইভ ব্রডকাস্ট করা হয়েছে; মাঝখানে পুষ্পাঞ্জলি, সন্ধ্যা আরতি, ইত্যাদি - এসব তো আছেই। তবে সব অনুষ্ঠান কি আর অনলাইন দেখলে মন ভরে? অন্য সময় "আনন্দমেলা" নামক একটি অনুষ্ঠান হয় ভোজনরসিকদের জন্য যেখানে বিভিন্ন ঘরের সদস্যরা নানারকম খাবারদাবার নিয়ে পসরা সাজিয়ে বসেন। এবার দেখি তার জায়গায় লোকজন অনলাইন রেসিপি পরিবেশন করছেন। চেখে দেখার আনন্দ কি চোখে দেখে আছে? উপরন্তু খাবার দেখলেই খিদেটা বেড়ে যায় আর খাবার সুযোগ না থাকলে আমার আবার মনে মনে খুব রাগ হয়।

তবে এসব আয়োজন ছাড়াও আরেকটা অনুষ্ঠান ছিল SORRBA-র মেম্বারদের জন্য - কার্টুনের উপর কুইজ। অংশগ্রহণের জন্য নিয়ম ছিলো মনের বয়স কম হলেই চলবে। আমি তো আবার জন্ম থেকে এখনো অবধি কমিক্স কার্টুনের ভীষণ ভক্ত। তাই ঠিক করলাম কুইজে পার্টিসিপেট করবো। সময়মতো zoom-এ হাজির। দেখি উদ্যোক্তারা নিজেরাই স্কুলের ছাত্রছাত্রী। তারা আবার অনুরোধ করছে সকল অংশগ্রহণকারীদের এক এক করে ভিডিও অন করে নিজের পরিচয় দেওয়ার জন্য। অনুরোধমাফিক প্রত্যেকে নিজের পরিচয় দেওয়া শুরু করলো - দেখি কি বাকিরা সবাই বাচ্চা - বেশিরভাগ টিন এজেও পৌঁছয়নি। সবাই কোন ক্লাসে পড়ে এই সব বলছে নিজের সম্বন্ধে। যথাসময় আমার পালা এলো - আমি তখনো আমার ভিডিও চালু করিনি কিন্তু এদিকে জুম্-এ আমার প্রোফাইল পিকচারটা দেখা যাচ্ছে। আমি খানিক হতভম্বের মতো ভাবছি আমি কি বলে নিজের পরিচয় দিই। তখন শুনতে পেলাম একজন পরিচালিকা বলছে: "মিঃ কুণাল তো মনে হচ্ছে গার্জেন, বাচ্চার হয়ে উনি লগইন করেছেন।" আমি টুক করে Leave Meeting-এর বোতামটা টিপে দিলাম।