Monday, September 12, 2016

লেখক: পর্ব ১৫

কাবেরীর জল নিয়ে বচসা এখন তুঙ্গে। ব্যাঙ্গালোরে বাস ট্যাক্সি পোড়াচ্ছে কিছু পাগল লোকজন। তবে আমাকে নিয়ে চিন্তা করার কোনো কারণ নেই। ঝামেলা হতে পারে শুনে আমার এক কলিগ গাড়িতে করে আমাকে বাড়িতে ড্রপ করে দিয়ে গেছে অনেক আগে। ইতিমধ্যে বাড়ি থেকে একাধিকবার ফোন করে খোঁজ নেওয়াও হয়ে গেছে।
খানিকক্ষণ আগে দেখি অচেনা নাম্বার থেকে কে আমাকে কল করছে। আমি ভাবলাম নিশ্চয়ই কোনো হিতাকাঙ্ক্ষী হবে, এখানকার পরিস্থিতি সম্বন্ধে খবর নেওয়ার জন্যে ফোন করছে। ফোন তুলে দেখি ফোন করেছে "রিলায়েন্স লাইফ ইন্স্যুরেন্স" কোম্পানি থেকে। না, মানতেই হলো অম্বানীরা এমনি এমনি বড়লোক হয়নি।

Friday, September 9, 2016

আজ গোটা কর্ণাটক জুড়ে বারো ঘন্টার ধর্মঘট পালন হচ্ছে। এই প্রসঙ্গ নিয়ে গতকাল অফিসে আমরা চার অবিবাহিত কলিগ আলোচনা করছিলাম। আমাদের চারজনের মধ্যে অনুরূপ ম্যারিটাল স্ট্যাটাস ছাড়াও আরেকটা মিল হচ্ছে যে আমরা প্রত্যেকেই "ওয়ার্ক ফ্রম হোম" সুবিধাটা থাকা সত্ত্বেও পারতপক্ষে অফিস কামাই করি না কারণ অফিসে এলে অন্তত ব্রেকফাস্ট আর লাঞ্চ নিয়ে মাথা ঘামাতে হয় না। ধর্মঘটের দিনে অফিস ক্যান্টিন বন্ধ থাকবে বলে পেটপুজোর ব্যাপারটা কিভাবে সমাধা হবে সেটাই আলোচনার মূল বিষয়। আমি জানাই যে বাড়িতে ম্যাগি, মুড়ি, চানাচুর, বিস্কুট আছে, তাই দিয়ে সকাল আর দুপুরটা ম্যানেজ করে দেব, রাত্রে তো একটা না একটা রেস্টুরেন্ট খোলা পেয়ে যাবই। আরো দুজন কলিগেরও দেখি আমারই মতো প্ল্যান। চতুর্থজনকে তার পরিকল্পনা সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলে পর সে জানায়: "মেরে পাস মা হ্যায়।" তার বাবা মা আসলে দু'দিন আগে ব্যাঙ্গালোরে এসেছে তার কাছে থাকতে। তাঁরা থাকার ফলে এই চতুর্থ কলিগটিকে আর দোকান-বাজার, রান্না, ইত্যাদি নিয়ে এখন ক'দিন ভাবতে হবে না।

Thursday, September 8, 2016

গতকাল রাত্রে একটা অদ্ভুত স্বপ্ন দেখলাম:
দেখি আমি কলকাতায় এক কোম্পানিতে চাকরি করছি। সেই কোম্পানি থেকে বিজ্ঞাপন দিয়েছে যে কোম্পানির জন্য একজন CTO চাই। এই বিজ্ঞাপন পড়ে এক পদপ্রার্থী আবেদন জানায় এবং তাঁকে কোম্পানির কর্তৃপক্ষ CTO হিসেবে নিয়োগও করে। নতুন CTO চাকরিতে যোগদান করার পরদিন আমি অফিস যাবো বলে বিল্ডিংয়ের নিচে নেমে দেখি সেই CTO ভদ্রলোক আমার বিল্ডিংয়ের সামনে একটি অটোতে বসে আছেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো উনি অটোর সামনে ড্রাইভারের সিটটিতে বসে আছেন। আমি ওঁনার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম যে উনি এখানে কি করছেন। উনি অবাক হয়ে উত্তর দিলেন যে উনি তো কোম্পানিতে জয়েন করে গেছেন এবং সেই কারণেই উনি আমার জন্যে অপেক্ষা করছেন। তখন আমার খেয়াল পড়লো যে উনি যে CTO-র পদে নিযুক্ত হয়েছেন সেটার full form হলো "Chief Transportation Officer"!

Monday, September 5, 2016

অফিসে এক কলিগ আছেন যিনি জুনিয়র ব্যাচেলর কলিগদের সবসময় বিয়ে থেকে বিরত থাকার উপদেশ দেন। উনি নিজে বিবাহিত। ভুক্তভোগী হওয়ার ফলেই হয়তো বাকিদের আগের থেকে সাবধান করে দেওয়াটা উনি নিজের কর্তব্য বলে বোধ করেন।
কয়েকদিন আগে অফিসে চায়ের টেবিলে অন্য এক কলিগ জিজ্ঞেস করলেন বিয়ে নিয়ে আমার আরেক কলিগের কি প্ল্যান। সে জানায় যে বাড়ির থেকে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছে তবে এখনও কোথাও সেভাবে কথা বার্তা এগোয়নি। এই শুনে প্রথমের সেই কলিগ জিজ্ঞেস করলেন ব্যাচেলর কলিগটিকে যে তার বিয়ে করার পেছনে মূল কারণ কি? আশেপাশের সবাই ততক্ষণে বুঝে গেছি যে এবার ওঁনার চিরপরিচিত হিতোপদেশের বান শুরু হলো বলে। কিন্তু সেই ব্যাচেলর ছেলেটি চট করে উত্তর দেয়: "খবরে নিশ্চয়ই পড়েছেন যে টরেন্ট এবার ভারতে ব্যান হয়ে যেতে পারে। শাস্তি হিসেবে তিন বছরের জেল পর্যন্ত হতে পারে। এমতাবস্থায় ব্যাচেলর ছেলেদের বাঁচার জন্যেও তো কিছু রসদ দরকার নাকি?"
এই উত্তর শুনে বিবাহবিদ্বেষী ভদ্রলোক খানিকক্ষণ হাঁ করে বক্তার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলেন তারপর "বেস্ট অফ লাক" বলে সেখান থেকে সরে পড়লেন।

Sunday, September 4, 2016

একটি মেয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে নালিশ করেছে খাবারে প্রচুর তেল মশলা আছে বলে। মজার ব্যাপার হলো মেয়েটি কোনো রেস্তোরাঁ বা বিয়ে বাড়ি জাতীয় অনুষ্ঠানে খাবার খেয়ে নালিশ করেনি, করেছে হাসপাতালের খাবার খেয়ে।