Saturday, May 31, 2014

Sphota-র তৃতীয় এডিশনে (২০১১-২০১২) আমার নিম্নলিখিত গল্পটি প্রকাশ পায়। এই গল্পটা ব্লগের অন্যান্য গল্প / ঘটনার সাথে মানানসই না হলেও হারিয়ে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচাবার জন্যে এখানে তুলে রাখলাম। জীবন তো শুধুমাত্র হাসি ঠাট্টা নিয়ে নয়, তাই আপনাদের কারুর কারুর হয়তো এই গল্পটাও ভালো লাগবে।

"রুজি"

অমলকান্তি চাকরিটা পেয়ে গেছে। তার ড্রিম জব। তবে ইদানীং স্বপ্নের ঘোর যেন আস্তে আস্তে কেটে যাচ্ছে। শুরুতে অবশ্য এরকমটা ছিল না। তখন তার কানে লেগে থাকত প্লেসমেন্টের আগে পি.পি.টি. তে শোনা কথাগুলো। “তোমরাই হতে পারো বর্তমান জীবনের মূল জীবনীশক্তি। ভবিষ্যতের ফল ফলবে তোমাদেরই স্পর্শে। তোমরা ছড়িয়ে পড়বে দিগ্বিদিকে। সকলকে আলো দেবে, কোনও পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই। শেষ করবে জগতের অন্ধকার।” সত্যি বাড় খাওয়াতে পারে কয়েকজন! অমলকান্তি জয়েন করেছিল “মিঠে রোদ” হিসেবে। জুনিয়র-মোস্ট পজিশন। কিন্তু তখন কাজে আনন্দ পেত। লোকজন তার দেখা পাওয়ার জন্যে সারাদিন অপেক্ষা করতো। তাকে দেখতে পেলেই তাদের মুখে হাসি ফুটতো। তাকে আদর করে ডাকত “রোদ্দুর” বলে।

কিন্তু এখন অমলকান্তি প্রমোশন পেয়ে “চড়া রোদ”-এ উন্নীত হয়েছে। আর তাকে সারা বছর বিভিন্ন জায়গায় ছোটাছুটি করতে হয়না। গ্রীষ্মকালেই যা একটু ইন্সপেকশন ডিউটি পড়ে। বাকি সময়টা মেন-অফিসে নিজের জন্যে তেজ, উত্তাপ, আলো সংগ্রহ করেই কাটাতে হয়। এসব করতেই হবে, নাহলে যে অফিসের কলিগদের কাছে পিছিয়ে পড়তে হবে। অমলকান্তি বুঝতে পারে তার দায়িত্ব যেমন বেড়েছে, দূরত্ব বেড়েছে ততোধিক। লোকজনের ভালবাসায় ভাটা পড়েছে। আর তাকে দেখে কেউ হাসে না, বরং তাড়াতাড়ি মুখ লুকোয়। তার সংস্পর্শ সবাই এড়িয়ে চলতে চায়।

এরকমটা অমলকান্তি চায়নি। তা সত্ত্বেও তার এই প্রতিষ্ঠা, এই প্রতিপত্তির সাথে সে এতটাই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে আজ যে এখন আর ফিরে তাকাবার সুযোগ তার কাছে নেই। সুযোগ থাকলেও ইচ্ছে আর নেই। সামনে আবার আরেকটা বড় প্রমোশনের হাতছানি, এটা ক্লিয়ার করতে পারলে সে হয়ে যাবে “কাঠফাটা রোদ”, অর্থাৎ ম্যানেজার সূর্য-বাবুর খুব কাছের জন। তখন তার প্রতাপ দেখে কে! কত কি করার পরিকল্পনা আছে তখন অমলকান্তির!

********

সকাল থেকে খুব মিঠে গলায় গান ধরেছে রামেশ্বর ওরফে রামু। গানের কথা গ্রাম্য। আমাদের অপরিচিত। কিন্তু একটা করুণ সুর আছে যা সহজেই মানুষের মনকে নাড়া দেয়। নাকি নাড়া দেয় না? রামুর সামনে রাখা শূন্য বাটিটা তো তাই বলছে। রামু কিন্তু জানে তার গান হাটে উপস্থিত সকলেরই ভালো লাগে। অন্তত এক সময় তো লাগতো। এরা প্রত্যেকেই তখন তার সাথে গলা মেলাতো, তাকে ঘিরে নাচতো, কেউ কেউ ঢোল কাঁসর নিয়ে সঙ্গত দিত। মাত্র কয়েক বছর আগেকার কথা। তখন এদের সকলের জমি ছিল, পেশায় চাষি ছিল সবাই। 

হঠাৎ কিছু জোতদার এসে দখল করলো তাদের জমি। সরকার আবার তাদেরই সাথে। তাই সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে বেহাত হয়ে গেল জমি। অন্ধকার নেমে এলো সকলের চোখে। তাদের একমাত্র আশার আলো দেখায় গাঁয়ের ছেলে অমল। সে শিক্ষিত, চটপটে, কথাবার্তাতেও পটু। কাদের সঙ্গে জানি চেনাশোনাও আছে। তারা নাকি প্রচুর প্রভাবশালী, টাকার জোর আছে - তাহলেও লোক ভালো। অমল বলতো, “কিছু ভেবো না খুড়ো, একবার আমাদের হাতে ক্ষমতা আসতে দাও, তারপর দেখো।” তখন অমলকে কত বাবা-বাছা বলে ডাকতো রামু। কতো ভালোবাসতো। আগের ইলেকশনে বিপুল ভোটে জয়ী করলো তাকে। তার কিছু দিন পর সপরিবারে শহরে চলে গেল অমল। ওখানে থাকলেই নাকি সে গ্রামের জন্যে বেশি সাহায্য করতে পারবে। তারপর থেকে বলতে গেলে আর তার দেখাই পাওয়া যায় না। সে নাকি ভীষণ ব্যস্ত। এত ব্যস্ত যে নিজের বাস্তু ভিটেটাকেই দেখবার সময় পায়না?

সূর্যের সাথে রামুর গলাও চড়তে শুরু করেছে। লোকগুলো কি সব বোবা-কালা হয়ে গেছে? অন্যদিন কিছু টাকা তার এরমধ্যেই রোজগার হয়ে যায়। “দিন আনি দিন খাই” - এ ভাবেই কোনোরকমে সংসার চলে যায়। আজ যে ভাঁড়ে মা ভবানী। রামুর মনে কতই আশা ছিল যে আবার জমি ফিরে পাবে, চাষ করবে। কিন্তু হারামজাদা অমলের যে পাত্তাই নেই! এদিকে শোনা যায় তার কাজে সন্তুষ্ট হয়ে দল নাকি তাকে আগামী-বার আরও বড় পদের জন্য ভোটে দাঁড় করাচ্ছে। জিততে পারলে অমল নাকি হয়ে যাবে তাদের দলপতির ডান হাত। তখন তার প্রতাপ দেখে কে! আচ্ছা, তখন অমল তার গাঁয়ের দিকে ফিরে তাকাবে তো?

কিন্তু সে তো কালকের কথা, তাই শুকিয়ে কাঠ হওয়া সত্ত্বেও গলা ফাটিয়ে গান গাইতে থাকে  রামু - তার গান আজকে লোকের কানে পৌঁছে দিতেই হবে।

Friday, May 30, 2014

আমাদের হোস্টেলে Hall Day উপলক্ষে বাৎসরিক একটি ম্যাগাজিন বের করা হয় -- Sphota। তারই দ্বিতীয় এডিশনে (২০১০-২০১১) আমার নিম্নলিখিত গল্পটি প্রকাশ পায়। সামান্য পরিমার্জিত করে এখানে দিয়ে দিলাম, আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।

"গুণধর"

রজনীকান্ত পড়েছে বিশাল বিপদে। পরীক্ষা শুরু হয়েছে এক ঘণ্টা হতে চললো, কিন্তু এখনও সে খাতায় একটা দাগ পর্যন্ত কাটতে পারলো না। অঙ্কে সে বরাবরই কাঁচা, তার উপর অ্যানুয়াল পরীক্ষার কোশ্চেনটাও হয়েছে হাফ-ইয়ারলির চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। অবশ্য হাফ-ইয়ারলির স্ট্যান্ডার্ডের হলেও রজনীকান্ত তাতে পাশ করতে পারতো না – কারণ, হাফ-ইয়ারলিতে অঙ্কে তার নম্বর ছিল মোটে ১২। অ্যানুয়ালে একটা ফাটাফাটি কিছু করে উঠতে না পারলে যে এ বছর তার আর পরের ক্লাসে প্রমোশন হবে না, তা রজনীকান্ত ভালো করেই জানে। তাই পরীক্ষার প্রস্তুতিও সে বরাবরের চেয়ে অনেক বেশি করেই করেছিলো। কিন্তু অঙ্ক যে তার মাথায় ঢোকে না মোটেই, অগত্যা… কথায় আছে – “আশায় বাঁচে চাষা”। তাই, তেত্রিশ কোটি দেবদেবীকে স্মরণ করে রজনীকান্ত পরীক্ষা হলে ঢুকেছিলো, যদি দেবকৃপায় তার একটা হিল্লে হয়ে যায়। কিন্তু তাঁরা যে এভাবে ভক্তকে ফেলে পিঠটান দেবেন তা কে জানতো?

অনেকের মনে হতে পারে যে রজনীকান্ত বুঝি মন দিয়ে পড়াশোনা করে না, একই ক্লাসে বার কয়েক গাড্ডু খায় – কিন্তু এমনটা মোটেই নয়। ক্লাস সিক্স থেকে সেভেনে সে ফার্স্ট হয়ে উঠেছে। তাই যখন সে হাফ-ইয়ারলি পরীক্ষায় অঙ্কে ১২ এবং অন্যান্য সাবজেক্টে  তথৈবচ নম্বর পেল, তা দেখে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, রজনীকান্তের বাবা-মা, সহপাঠীরা, সকলেই বেশ অবাক হয়। অনেকে ভাবে ফার্স্ট হয়ে রজনীকান্ত পড়াশোনাকে হেলাফেলা করছে। আসল কারণটা যে ঠিক কি, তা কেউ বুঝতে পারেনা। রজনীকান্ত নিজের সাফল্যের রহস্য ভালো করেই জানে, তাই সে কিছুটা শক্ড হলেও সারপ্রাইজ্ড নয় মোটেই। ক্লাস সিক্সে ওর পরীক্ষা এতো ভালো হবে যে একেবারে প্রথম হয়ে যাবে, তা যদি আগে থেকে জানতে পারতো, তাহলে অত ভালো পরীক্ষা সে কখনোই দিত না। প্রয়োজন মতো ইচ্ছে করে কিছু উত্তর বা বানান ভুল করে আসতো। শেষ পর্যন্ত ফার্স্ট হওয়াটাই রজনীকান্তের কাল হল।

রজনীকান্ত ক্লাস থ্রি ফোর থেকে বরাবরই ভালো রেজাল্ট করে আসছে। কিন্তু ক্লাসের টপার সে গতবছর পরীক্ষার আগে কখনোই ছিল না। রজনীকান্ত এককালে পড়াশোনা করতো বেশ মন দিয়েই, কিন্তু শত চেষ্টাতেও পড়া কখনোই তার ঠিকমতো তৈরি হতো না। তাই ক্লাস থ্রির অ্যানুয়াল পরীক্ষায় খানিকটা মরিয়া হয়েই রজনীকান্ত তার সামনে বসে থাকা অর্ণবের খাতা থেকে টোকা শুরু করে। না, টুকলি করতে রজনীকান্তের বিশেষ একটা অসুবিধা পোয়াতে হয়নি। বরং ব্যাপারটা তার বেশ সহজ বলেই মনে হয়। অর্ণব কোনো উত্তরে আটকে গেলে, অর্ণবকে ছাড়িয়ে রজনীকান্তের দৃষ্টি চলে যায় অর্ণবের সামনে বসে থাকা সুস্মিতের খাতার দিকে। সুস্মিতের সামনে বসা রমেশের খাতার সূক্ষ্ম হাতের লেখা পড়তেও বিশেষ বেগ পেতে হয়না রজনীকান্তের। আগামী পরীক্ষাগুলিতে রজনীকান্ত সহজাত প্রতিভায় অনায়াসেই দক্ষতা লাভ করে। ক্রমশ সে নিজের কর্মক্ষমতার আরও উন্নতি ঘটায়। এখন আর তাকে খাতায় লেখা অক্ষরগুলো পড়তে হয়না – সহপাঠীদের পেন ধরা, হাত চালানো দেখেই কে কি লিখছে, রজনীকান্ত নির্ভুল আন্দাজ করে নিতে পারে। অবশ্য আন্দাজ যদি নির্ভুল হয়, তবে তাকে কি আর আন্দাজ বলা যেতে পারে?

রজনীকান্তের স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রত্যেক বছর রোল নাম্বার নির্ধারণ করা হয় তাদের বর্তমান পরীক্ষায় অর্জিত স্থানের ওপর ভিত্তি করে। আর, পরীক্ষার সময় তাদের বসানোও হয় এই রোল নাম্বার অনুযায়ী। তাই আজ রজনীকান্তের এই দশা। প্রত্যেক বছর সে পেছনের সারি থেকে ধাপে ধাপে সামনে এগিয়ে এসেছে। আর গত বছর প্রথম হওয়ার ফলে এবছর প্রথম বেঞ্চটা তার জন্যেই নির্ধারিত। এ মুহূর্তে রজনীকান্তের সামনে যিনি বসে আছেন, তিনি তাদের ক্লাস টিচার মৃত্যুঞ্জয়বাবু – ভারী গম্ভীর লোক, কোনরকম বেয়াদবি সহ্য করেন না। ডায়াসের উপর নিজের চেয়ারে বসে তিনি সকলের ওপর কড়া নজর রেখে চলেছেন। হাফ-ইয়ারলির রেজাল্ট তো সবাই জানেই! অ্যানুয়ালের রেজাল্টও যদি অনুরূপ হয়, তাহলে রজনীকান্তের ক্লাস সেভেনে থেকে যাওয়া ঠেকায় কে? ফার্স্ট বয় থেকে একেবারে ফেল বয়! ছিঃ ছিঃ, লজ্জার একশেষ। অবশ্য তারই মধ্যে সান্ত্বনার কথা একটাই যে, নিয়মানুযায়ী সেক্ষেত্রে রজনীকান্তের স্থান হবে একেবারে লাস্ট বেঞ্চে। মানে, একবারের বেশি দু’বার তাকে আর ফেল করতে হবে না। এইসব ছাইপাঁশ ভাবতে ভাবতে আরও আধঘণ্টা কেটে গেছে। তবুও একবারই বা ফেল করতে কে চায়? একটা শেষ চেষ্টা করলে হয়না?

রজনীকান্ত নিজের ঘাড়টা পিছনদিকে ঘুরিয়েছে কি ঘুরোয়নি, মৃত্যুঞ্জয়বাবু হেঁকে উঠলেন – "রজনীকান্ত, খাতা নিয়ে উঠে এসো।" যাঃ, আজ আর তবে নিস্তার নেই, নির্ঘাৎ ফেল। রজনীকান্ত খাতা পেন নিয়ে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়। মৃত্যুঞ্জয়বাবু নিজের চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে চেয়ারের দিকে আঙুল দেখিয়ে বললেন – "এখানে এসে বসো।" স্যারের হুকুম অমান্য করেই বা কি করে রজনীকান্ত, তার ঘাড়ে তো আর দু’টো মাথা নেই। আস্তে আস্তে স্যারের টেবিলে খাতা রেখে, চেয়ারে এসে বসে। রজনীকান্ত লক্ষ্য করে, সহপাঠীরা মিটিমিটি হাসছে। ফার্স্ট বয়কে হেনস্থা হতে দেখতে কার না ভালো লাগে? রজনীকান্তের দু’কান লাল হয়ে ওঠে। অবশ্য বসে থেকে লাভই বা কি? শেষ পর্যন্ত তো সাদা খাতাই জমা দিতে হবে, মনে মনে ভাবে রজনীকান্ত। কিন্তু একি? এখান থেকে তো সকলের খাতাই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। মানে, কে কি লিখছে, চেষ্টা করলেই বোঝা যায়। সাধারণতঃ যা দেখতে রজনীকান্ত অভ্যস্ত, উল্টোদিক থেকে তা একটু কষ্টকর; কিন্তু কথাতেই তো আছে – “কষ্ট না করলে কেষ্ট মেলেনা।” নিজেকে মানিয়ে নিতে মিনিট খানেক সময় লাগে রজনীকান্তের। তারপরই তার হাত চলতে থাকে দ্রুতগতিতে।

Thursday, May 29, 2014


আবার হিন্দী ভাষায় কথা বলার প্রসঙ্গে ফিরে যাই।
একবার এক অবাঙালি বন্ধুর সাথে কথোপকথনের সময় কি কারণে -- "কারো পৌষমাস তো কারো সর্বনাশ" -- এই প্রবাদ বাক্যটি বলার প্রয়োজনীয়তা বোধ করি। অবাঙালি বন্ধু তো আর "পৌষমাস" বললে বুঝবে না, তাই -- "কিসি কা সর্বনাশ তো কিসি কা ক্রিসমাস" -- এই বলে ব্যাপারটা ম্যানেজ করে দিই।

Wednesday, May 28, 2014

নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার জন্য আমরা প্রায়শই কথার মাঝে প্রবাদ বাক্যের ব্যবহার করে থাকি। আমাদের গুরুজনেরাও করতেন -- তাই তো আজ এই বাক্যগুলি "প্রবাদ" হয়ে উঠেছে। তবে কিনা শুধু বক্তব্য নয়, আলাদা আলাদা মনের ভাব প্রকাশের জন্যেও এরা প্রাসঙ্গিক। যেমন ধরুন "দাঁত থাকতে কেউ দাঁতের মর্যাদা বোঝে না" আর "ভালোবাসা না হারালে কেউ ভালবাসার গভীরতা বোঝে না" -- এই দুটি প্রবাদ বাক্যের বক্তব্য এক হলেও ক্ষেত্র বিশেষে এরা প্রযোজ্য।

পার্থদার কাছে আমি অনেক নতুন প্রবাদ বাক্য শিখেছি, তার কিছু এখানে লিখে রাখলাম। এগুলি হয়তো বা প্রচলিত, কিন্তু আমার আগে জানা ছিল না। আপনারা যারা এগুলির সমার্থক অন্য কোনো প্রবাদ জানেন, তারাও নিশ্চয়ই এদের অনন্যতা স্বীকার করবেন। আশা করি আপনারা এই প্রবাদ বাক্যগুলি পড়েই এদের মানে বুঝতে পারবেন এবং ভবিষ্যতে ব্যবহারিক প্রয়োগ করবেন।
(১) "একদিনের বৈরাগী ভাতেরে কয় অন্ন।"
(২) "মোটে মা-য়ে রাঁধে না, তপ্ত না পান্তা।"
(৩) "পড়লো কথা সবার মাঝে, যার কথা তার প্রাণে বাজে।"

******************************************
আমাদের ল্যাবের শুভঙ্করদা একবার একটা বেশ মজার (গুরুচন্ডাল দোষযুক্ত) প্রবাদ বলেছিল -- "অভাগা যেদিকে চায়, oceans become dry"। 

Tuesday, May 27, 2014

গতকাল পার্থদার Synopsis সেমিনার ভালো ভাবেই হয়ে গেছে, তাই এখন তার মনে বেশ ফূর্তি। এই আনন্দের রেশ থাকতে থাকতেই সাহস করে এই কথাগুলো লিখে দিই:
পার্থদার হিন্দী অতুলনীয়। বিশ্বাস না হলে এই উদাহরণগুলোই ধরুন।
(১) সে ঘুমোচ্ছে -- বো ঘুম রাহা হ্যায়।
(২) ছুঁড়ে মারবো -- ছোড় কর মারুঙ্গা।
(৩) ঘেমে আছি -- ঘামা ঘামা হু।
(৪) একদিন ছাগলের হিন্দী 'বকরী' এটা মনে না আসায় এক অবাঙালি বন্ধুকে বলেছিল -- "আরে ছাগল নেহী সমঝতা, যো পাতা হ্যায় বো খাতা হ্যায়।"

ফেসবুকে পাবলিক ডিমান্ডের জন্য এই ঘটনাটি যোগ করছি। হিন্দী না জানার ফল যে কতো দুঃখজনক হতে পারে - এ ঘটনাটি তারই পরিচায়ক।
পার্থদা সরস্বতী পুজোর দিন একটি অবাঙালি মেয়েকে সন্ধ্যারতির সময় আসবে কি না জিজ্ঞেস করতে গেছে। পার্থদার হিন্দীর দৌড় যে কদ্দূর সেটা পার্থদা নিজেও জানে, তাই
সহজ করে মেয়েটিকে বললো -- "তুম রাত কো আনা।" মেয়েটি পার্থদার কথার কি ইঙ্গিত বুঝলো কে জানে -- তবে আমরা জানি যে এভাবে সূচনাতেই তাদের সম্পর্কের ইতি ঘটেছিল।

(যদি আমার তেমন কিছু ঘটে যায় তাহলে জানবেন এর জন্যে দায়ী - পার্থদা ও আমার দুঃসাহসিকতা।)

Monday, May 26, 2014

পুজোর ছুটি তখন সবে পড়েছে। একদিন বিকেলে বাড়ির সামনের মাঠে খেলা শেষ হওয়ার পর...
পরাক্রম: "কিরে এবার পুজোয় কোথায় যাবি ?"
আমি: "মামা বাড়ি, বাঁকুড়ায়।"
পরাক্রম: "তোর কি ভাই সবেতেই 'কু'? ভালো নাম - 'কুণাল', ডাক নাম - 'পুকুন', কোথায় বেড়াতে যাবি - 'বাঁকুড়া'।"
আমি আর কি বলবো, চুপ করে আছি। আমাদের পাশে আরেক বন্ধু উজ্জ্বল বসে ছিল।
উজ্জ্বল: "ঠিকই বলেছিস। তবে তৃতীয়টার ক্ষেত্রে বোধহয় 'কু' থাকাটাই মঙ্গলজনক, না থাকলেই মুশকিল।"

Sunday, May 25, 2014

কলেজের ফাইনাল ইয়ারের এক ছাত্র গেছে ডাক্তার দেখাতে। পরীক্ষা করে ডাক্তার তাকে একটাই নির্দেশ দেন -- বেশী করে জল খেতে হবে। ছাত্রটি জানায় যে সে এই নির্দেশ পালন করতে অপারগ। কারণ জিজ্ঞেস করলে পরে সে জানায় যে হোস্টেলে তার রুমমেট একটি জুনিয়র ছাত্র আর রুমে জল ভরে আনার দ্বায়িত্ব সর্বদাই জুনিয়রের, কিন্তু তার রুমমেটটি সব সময় রুমে জল ভরে আনে না -- এমনই নির্দেশ অমান্যকারী বদমায়েশ জুনিয়র পড়েছে তার ভাগ্যে।

Saturday, May 24, 2014

সহপাঠীদের অনুরোধে এই কথাগুলো লিখছি।
ঘটনাগুলিতে চরিত্র ২টি: আমাদের ডিপার্টমেন্টের এক পোড় খাওয়া পি.এইচ.ডি স্কলার - নাম বলা বারণ তাই আজ সে 'দীপক' (নামটাও সহপাঠীদেরই পছন্দ করা) আর তার পি.এইচ.ডি গাইড - ওনার 'গাইড' নামটাই থাক।
বহুদিন আগে গাইডের কাছে দেওয়া একটি পেপারের কারেকশন সংগ্রহ করতে গিয়ে দীপকদা দেখে যে পুরো পেপারটায় শুধু একটা প্যারাগ্রাফ গোল করেছেন গাইড।
দীপকদা: "এই প্যারাগ্রাফটা কি পেপার থেকে বাদ দিয়ে দেব?"
গাইড: "না, ওই প্যারাগ্রাফটাই শুধু ভালো করে লেখা হয়েছে। ওইটাকে রেখে বাকি পেপারটা আবার লিখে নিয়ে এসো।"

ভবিষ্যতে দীপকদা প্রচুর পেপার পাবলিশ করেছে - তবে সবই কনফারেন্সে, তখনো অবধি একটাও পেপার জার্নালে ছিল না।
গাইড: "তুমি যদি ১০০টা পেপার কনফারেন্সে পাবলিশ করো তাও আমি তোমায় ছাড়বো না।"
দীপকদা: "তাহলে আমি ১০১টা পেপার কনফারেন্সে পাবলিশ করবো।"

Friday, May 23, 2014

বাস: পর্ব ৩

"সোজা উল্টো, সোজা উল্টো" - চেঁচিয়ে চলেছে কন্ডাকটর। বাসও ছুটে চলেছে বাইপাস ধরে সোজা উল্টোডাঙা।
স্টপেজ এলেই ড্রাইভার জোরে ব্রেক কসছে, যাত্রীরা বেসামাল হয়ে গড়িয়ে পড়ছে, আর কন্ডাকটর বাসে আরো লোক উঠিয়ে যাচ্ছে।
কিছুক্ষণ পর এক যাত্রী বিরক্ত হয়ে ড্রাইভাররের উদ্দেশ্যে চেঁচিয়ে উঠলেন - "এটা কি হচ্ছে। প্রত্যেকটা স্টপেজে জোরে ব্রেক কসে বাস দাঁড় করাচ্ছ আর লোক উঠিয়েই যাচ্ছ, এদিকে যাত্রীরা যে ভালো করে দাঁড়াতেই পারছে না।"
পাশ থেকে আরেক যাত্রী শান্ত গলায় বললেন - "আরে, আপনি এর পিছনের বিজ্ঞানটাকে ধরতে পারছেন না। ধরুন আপনি বাড়িতে মুড়ির টিনে মুড়ি ঢালছেন। কিছুক্ষণ পর দেখলেন আর ঢালার মতো জায়গা নেই। তখন কি করেন? টিনটাকে একটু নড়িয়ে দেন, ব্যস তাহলেই দেখবেন ওই টিনে আরো মুড়ি ঢালতে পারছেন। এখানেও তো সেই এক কেস।"

Thursday, May 22, 2014


দিব্যেন্দু: পর্ব ৭

এটা হচ্ছে যাকে বলে একেবারে ঘোড়ার মুখের খবর:

হোস্টেলে উদ্দাম দোল খেলার পর দিব্যেন্দু ঘরে ঢুকলো, স্নান করবে। মুখে রং মাখা, নিচের দিক পরিষ্কার। কিন্তু ফুল-প্যান্ট খোলা মাত্র চমক, নিচের হাফ-প্যান্ট যে রঙ্গীন। কে বা কারা করলো এসব!!

Wednesday, May 21, 2014

দিব্যেন্দু: পর্ব ৬

এটা আমার দিব্যেন্দুর মুখে শোনা একটি জোক, আপনারা হয়তো আগেই শুনে থাকবেন - তবুও শেয়ার করলাম।

স্বামী: আজ তোমাকে কলের মিস্ত্রীর মতো ভালোবাসবো।
স্ত্রী: মানে?
স্বামী: মানে -- সারাদিন তুমি আমার জন্যে পথ চেয়ে বসে আসবে, কিন্তু আমি আজ বাড়িতে আসবো না।

Tuesday, May 20, 2014

দিব্যেন্দু: পর্ব ৫

দিব্যেন্দু তখন সিকিমের একটি কলেজের প্রফেসর। কিছু বন্ধু দিব্যেন্দুর বাড়ি বেড়াতে গেছে। দিব্যেন্দুর ঘরের জানলা দিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। সেদিন মেঘ করেছে, পাহারচূড়া ভালো করে দেখা যাচ্ছে না। দিব্যেন্দু সেই "নৈসর্গিক" দৃশ্য দেখে একটি অপূর্ব তুলনা টেনে বললো - "উফ, মেঘে ঢাকা কাঞ্চনজঙ্ঘা -- যেন চুড়িদার পরা কার্মেন ইলেক্ট্রা।"

Monday, May 19, 2014

দিব্যেন্দু: পর্ব ৪

ঘটনাস্থল: একটি বার ও রেস্টুরেন্ট।
বিশ্বকাপ ফুটবল আর IPL নিয়ে আলোচনা তখন তুঙ্গে, পেটে জল পড়ায় সবার গলার আওয়াজও স্বাভাবিকের থেকে অনেক বেশি। এর মাঝে দেখা যায় দিব্যেন্দু আর শুভ্র নিজেদের মধ্যে গুজ গুজ ফিস ফিস করে কি আলোচনা করছে। এমন সময় তন্ময়দা হঠাৎ খুব জোরে হেসে উঠে বললো: "জানিস দিব্যেন্দু কি শিক্ষা দিচ্ছে শুভ্রকে? বলছে, "তুই যাকে ভালবাসিস তাকে নয়, যে মেয়ে তোকে ভালবাসে -- তার সাথে প্রেম কর।" "

Sunday, May 18, 2014

দিব্যেন্দু: পর্ব ৩

দিব্যেন্দু মেসে বেশ আমেজ করে সিগারেট খাচ্ছে।
এমন সময়, পার্থদা: "জানিস না, সিগারেটের ধোঁয়ায় আমার অসুবিধে হয়। ... সিগারেট খাওয়াটা তো একেবারে ছেড়ে দিতে পারিস।"
অমিতদা: "আমি নিজের গোঁফ বাজি রাখছি, ও যদি সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দেয় তাহলে আমি গোঁফ কেটে দেব।"
দিব্যেন্দু: "আমি কথা দিচ্ছি, তুমি যদি গোঁফের জায়গায় ভালো কিছু কাটার বাজি রাখো তাহলে আমি এক্ষুণি সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দেব।"

Saturday, May 17, 2014

দিব্যেন্দু: পর্ব ২

আমার এক ঘনিষ্ট বন্ধুর কার্যকলাপ "দিব্যেন্দু" নামের আড়ালে চালাবার চেষ্টা করছি দেখে এক পাঠক স্বাভাবিক ভাবেই উদ্বিগ্ন হয়ে প্রশ্ন করে যে দিব্যেন্দু এই পোস্ট দেখলে পরে আমাদের সম্পর্কে কি সত্যিই চিড় ধরবে না। এর উত্তরে আমি জানাই যে দিব্যেন্দুর "স্পোর্টসম্যান স্পিরিটের" উপর আমার ভরসা আছে - সে নিশ্চই ব্যাপারটা গায়ে মাখবে না। আমার উত্তরটা পড়ে আমার আরেক বন্ধু দেবমাল্য জানায় যে সে আমার ধারণার সাথে সম্পূর্ণ একমত, তার কারণ:
(১) দিব্যেন্দু নিঃসন্দেহে বড় মাপের স্পোর্টসম্যান।
কম্প্যুটারের কৃত্রিম দুনিয়ায় হোক কি বাস্তবের খেলার মাঠে - দিব্যেন্দু সব সময় এক কথায় খেলতে রাজি। আমরা তার অনেক বিরল কীর্তির সাক্ষী। উদাহরণস্বরূপ একবার আমাদের হোস্টেলের সাথে আরেকটি হোস্টেলের ফুটবল খেলার সময় দিব্যেন্দু খেলার মাঝখানে সাবস্টিটিউট হিসেবে নামে এবং পায়ে বল না লাগিয়েই সম্পূর্ণ একক কৃতিত্বেই উল্টে পড়ে পা ভেঙে ফেলে। আই.আই.টি.-র ইতিহাসে বোধহয় প্রথমবার সাবস্টিটিউটের সাবস্টিটিউট পাঁচ মিনিটের মধ্যে নামাতে হয়।
প্রসঙ্গত আমাদের হোস্টেলের একটি ক্রিকেট খেলার সময় দিব্যেন্দু নিজেই উৎসাহ নিয়ে একটি ভিডিও ক্যামেরা জোগাড় করে ম্যাচের সাথে নিজের লাইভ কমেন্ট্রি রেকর্ডিং করে। ম্যাচ শেষে দেখা যায় দিব্যেন্দু "রেকর্ড" বোতামটাই টিপতে ভুলে গেছে।
(২) দিব্যেন্দু স্পিরিটেও কারুর চেয়ে কম যায় না। (এ ক্ষেত্রেও "বড় মাপের" বিশেষণটা অবশ্যই প্রযোজ্য।)
সে সব ঘটনা না হয় পরে বলবো 'খন।

Friday, May 16, 2014

আমার নরেন্দ্রপুরের এক রুমমেট - নিশান - আমাকে নিয়ে একটি ঘটনা লিখেছিল। সেটি সামান্য পরিমার্জিত করে পোস্ট করলাম।

"এবার আমি একটা ঘটনা বলি, নরেন্দ্রপুরে পড়ি, নরনারায়ন সেবার দিন কুণাল, আমি আর জ্যোতি (অনির্বাণ), গেলাম লাইটহাউসে সিনেমা দেখতে। পকেটে তখন হেবি টান, কুল্লে ৪০০ টাকা হাতখরচা পাই। এর মাঝে লাইটহাউসে কুণাল বায়না ধরলো পপকর্ণ কিনতেই হবে। হলের ভেতর এমনিতেই সবকিছুর দাম বেশী। কুট্টি সাইজের একটা পপকর্ণ কেনা হোলো। যার দাম ৫ টাকা। তা কিনেইছে যখন, আমি আর জ্যোতিও দু এক দানা মুখে দিলাম।
সিনেমা শেষ করে ফেরার সময় আমরা বুঝলাম ফিরে খাওয়া যাবে না আর। তাই মহামায়াতলায় নেমে অ্যাণ্টনদার দোকানে যাওয়া হোলো (যেখানে আমরা ১০% ছাড় পেতাম।) যাই হোক, দোকানে বসে হিসেব হচ্ছে চুলচেরা। কুণাল বলে কি "পপকর্ণের দাম তো পাঁচটাকা, তা আমিই যখন চেয়েছিলাম কিনতে, আমিই বেশীটা দিচ্ছি" অ্যাদ্দূর শুনে আমার আর জ্যোতির মুখে হাসি ফুটতে যাচ্ছিলো, তারপরই শুনলাম "আমি নাহয় দু টাকা দিচ্ছি, তোরা দুজন দেড়টাকা করে দিয়ে দিস" শুনে আমাদের হাসি আমরা আবার কপ করে গিলে ফেললাম।"

Thursday, May 15, 2014

রাজনীতি সম্বন্ধীয় আরেকটি ঘটনা বলি।
সম্প্রতি একটি ছেলে (ধরা যাক তার নাম আসিফ) আমাদের হোস্টেলে ভর্তি হয়েছে। তার বাবা এক মস্ত নেতা (ধরা যাক ওনার নাম জাহাঙ্গির বাবু) এবং উনি 'অমুক' জায়গা থেকে এবারের লোকসভা পদপ্রার্থী।
আসিফ আর ঋদ্ধিক হোস্টেলের মেসে পাশাপাশি খেতে বসেছে। আশেপাশে আরো কিছু ছেলে বসে ছিল। তাদের একজন লোকসভা ভোটের প্রসঙ্গটি তোলে এবং বিভিন্ন কথাবার্তার পর অমুক জায়গার ফলাফল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। একজন বলে ওখানকার প্রার্থী জাহাঙ্গির বাবুর এইবারে জেতার সম্ভবনা প্রবল। ঋদ্ধিক তাকে জানায় যে জাহাঙ্গির বাবু পাশে বসা থাকা ছেলেটির অর্থাৎ আসিফের বাবা। সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত এই তথ্যটি জানতে পেরে পূর্বের ছেলেটি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে - "বাবা মানে, নিজের বাবা?"

Wednesday, May 14, 2014

ভোট শেষ তাই কেউ বলতে পারবে না কোনো দলের হয়ে প্রচার করছি, আবার ভোটের ফলাফল-ও বেরোয়নি তাই কেউ বলতে পারবে না ক্ষোভ উদগিরণ করছি -- এই সুযোগে একটা 'রাজনৈতিক' ঘটনা বলে ফেলি।

বর্তমান শাসকগোষ্ঠির যুব কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার কার্য চালাচ্ছে। আমার এক বন্ধুর বাড়িতে গেলে পর, কাকুর সাথে তারা দরজায় দাঁড়িয়েই কাকুকে বহুক্ষণ ধরে বহু কিছু বোঝায়। তাদের বক্তব্য শেষ হলে কাকু বলেন - "আজ পর্যন্ত তোমাদের দলকে ভোট দেইনি, এবারও দেব না। যাই হোক, তোমরা অনেক সময় ব্যয় করে অনেক কিছু বোঝাবার চেষ্টা করেছ - তা, তোমাদের বক্তব্য না হয় তোমাদের কাকিমাকে শোনাব। দেখি, উনি যদি মত পাল্টান।" এই কথা শুনে উঠতি নেতারা তো কেউ বা খুব হতাশ, কেউ বা ফিউরিয়াস। তাদের কোন একজন - "এ কথা কেন বলছেন কাকু!" কাকু - "শেষ বয়সে এসে অভ্যেস খারাপ করে কি লাভ বলো?" এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজে না পেয়ে জোয়ান কর্মীরা পত্রপাঠ বিদায় নেয়।

Tuesday, May 13, 2014

ছোটবেলাকার কথা:
বাবা - "চল, আজ তোকে কাপড় কাচার হাতে-খড়িটা করিয়ে দিই।"
আমি - "সেটাকে হাতে-খড়ি না বলে হাতে-সাবান বলাটাই বোধহয় ঠিক হবে।"

Monday, May 12, 2014

বাস: পর্ব ২

এদিনও বাসে ভীষণ ভীঁড়। এক ব্যক্তি: "দাদা, এবারে একটু স্বাবলম্বী হোন।" এই শুনে পাশে দাঁড়ানো ব্যক্তি হকচকিয়ে গেলেন। প্রথম ব্যক্তি: "অনেকক্ষণ তো আমার পায়ের উপর দাঁড়িয়ে আছেন, এবারে একটু নিজের পায়ের উপর দাঁড়ান।"

Sunday, May 11, 2014

বাস: পর্ব ১

বাসে ভীষণ ভীঁড়। নির্দিষ্ট স্টপেজ এলে পরে এক বসে থাকা যাত্রী সিট ছেড়ে উঠে যান। ওনার সিটের সামনে এক ভদ্রমহিলা তার ছেলেকে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সামনের যাত্রীটি উঠে গেলে পরে পাশ থেকে এক ভদ্রলোক টুক করে সেই সিটটিতে বসে পড়েন। ভদ্রমহিলা রেগে গিয়ে বলেন: "কি মশাই, ভদ্রতা শেখেননি? সামনে এক মহিলা দাঁড়িয়ে আছে -- আমার কথা যদিও বা ছেড়ে দেন, অন্তত এই বাচ্চাটিকে বসতে দেওয়া উচিৎ নয় কি?" কিছু যাত্রী মহিলার সমর্থনে হই হই করে ওঠে। (ভদ্র)লোকটির জবাব: "এখন থেকে ছেলেকে দাঁড়িয়ে থাকা অভ্যেস করান নইলে তো বড় হয়ে আমার মতো হয়ে যাবে।" গোটা বাস চুপ।

Saturday, May 10, 2014

B.Tech.-এর শেষ বর্ষ। তখন ISI, Kolkata-য় ACMU ডিপার্টমেন্টে এক প্রফেসরের কাছে যেতাম ফাইনাল ইয়ার প্রজেক্টের কাজে। আমার এক সাথী ছিল আমারই কলেজের সহপাঠী - প্রিয়াঙ্ক। একবার ISI থেকে বেরিয়ে ক্ষিধে পেয়েছে; ISI-এর সামনে কোনো রেস্টুরেন্ট না থাকায় খানিকটা হেঁটে দুজনে একটা হোটেলে ঢুকলাম। চাউমিন অর্ডার দিয়েছিলাম দুজনেই। খাওয়ার পর, দাম মিটিয়ে প্রিয়াঙ্ক আমার আগেই টেবিল থেকে উঠে গেল। আমি দেখি যে ও একটা টাকা ফেলে গেছে -- আমি সেটা তুলে নিলাম। হোটেল থেকে বেরিয়ে প্রিয়াঙ্ক হাসি মুখে বললো -- "আজকে জীবনে প্রথম টিপস দিলাম।" আমি তো অবাক -- "কই, দেখলাম না তো?" প্রিয়াঙ্ক -- "না, তেমন কিছু নয়; আমি টেবিলে এক টাকা রেখে এসেছি বেয়ারাটার জন্য।" 
আমি কিছু না বলে টাকাটা পকেটে পুরে নিলাম।

বি: দ্র: -- আমি কিন্তু আগেই টিপস দিয়েছি। নরেন্দ্রপুর থেকে আমরা এগারোজন ছাত্র মিলে গড়িয়ার একটা হোটেলে একবার খেয়েছিলাম। টিপস দিয়েছিলাম সাকুল্যে ছয় টাকা।

Friday, May 9, 2014

নেসকাফের দোকানে বসে কথাপ্রসঙ্গে হঠাৎ পুরনো কিছু বিজ্ঞাপনের কথা উঠে এলো। তারই কিছু নিচে দেওয়া হলো।

(১)

একটা ছেলে করিডর দিয়ে দৌড়ে যাচ্ছে। ছেলেটির উর্ধাঙ্গে পরণে শুধু একটি স্য়ান্ডো গেঞ্জি। ব্য়াকগ্রাউণ্ডে একটা মেয়েকে দেখা যাচ্ছে। 
দৌড়তে দৌড়তে ছেলেটা পড়বি তো পড় একেবারে সুপারইনটেন্ডেন্ট ম্য়াডামের সামনে। সঙ্গে ওনার (পুরুষ) সেক্রেটারি।
ম্য়াডাম (রাগত কন্ঠে): "একি! মেয়েদের হস্টেলে খালি গায়ে?"
ছেলেটি (দৃঢ় কন্ঠে): "কেন, গায়ে ফ্য়ান্টমের গেঞ্জি আছে তো।"
ম্য়াডাম (চোখ বড় বড় করে, হর্ষ কন্ঠে): "ও মা, ফ্য়ান্টম!"
সেক্রেটারি (ঈর্ষাকাতর কন্ঠে): "আমারটাও তো ফ্য়ান্টম।"
ম্য়াডাম (ঘাড় হেলিয়ে, লজ্জিত কন্ঠে): "আগে বললেই হতো।"

(২)

আরেকটি গেঞ্জির বিজ্ঞাপন।

"নবাব কিনলে আরাম ফ্রি।"
"শুনছি বলছে, দিচ্ছে কি?"
"নবাব কিনলে আরাম ফ্রি।"
"এবার আরাম পাব ফ্রি।"
"আমিও ফ্রি।"
"তুমিও ফ্রি?"
"নবাব কিনলে আরাম ফ্রি।" (সমস্বরে)

FYI: এই বিজ্ঞাপনেই এখনকার টলিউডের অন্য়তম 'সেরা' অভিনেতা জিৎ-কে প্রথম দেখা গেছিল।

(৩)

"চুল ওঠার সমস্য়ায় ভুগছেন?"
"ব্য়াবহার করুন ডক্টর সরকারের আর্নিকা প্লাস ট্রায়োফার ট্রিপল একশন হেআর ভাইটালাইজার।"


(৪)

আমার দেখা ছোটবেলাকার সবচেয়ে হাস্য়কর বিজ্ঞাপন।

"অর্সে কষ্ট পাচ্ছেন?"
"হ্য়া" -- একটা দীর্ঘ চিত্কার করে ওঠেন এক মহিলা।
এরপর কমোডের ভেতর থেকে উঠে আসে অর্সের মহৌষধ "এসিবেল"।

------

আপনাদের পুরনো প্রায় ভুলে যাওয়া কোনো বিজ্ঞাপনের কথা মনে পড়ছে কি?

Thursday, May 8, 2014

আমার এক কাকা অনেকদিন ধরেই হাঁটুর ব্যথায় ভুগছেন। ডাক্তারখানায় গেছেন -- চেক্আপের পর:

ডাক্তার: "সমস্ত পরীক্ষাই তো করে দেখলাম, আপনার হাঁটু ট্রান্সপ্লান্ট করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।"
কাকা: "হুম! আচ্ছা, আমি শুনেছিলাম হাঁটু ট্রান্সপ্লান্ট কোনো পার্মানেন্ট সলিউশন নয়, কৃত্রিম হাঁটুর নাকি একটা আয়ু আছে?"
ডাক্তার: "সে নিয়ে চিন্তা করবেন না। এইসব জিনিস ২০ বছর পর্যন্ত ভালো থাকে, আপনাকে হাঁটু ব্যথা নিয়ে জীবনে আর কোনো কষ্ট পেতে হবে না।"
আমার কাকা এই শুনে ইতস্তত করছেন দেখে ডাক্তার জিজ্ঞাসা করলেন: "আপনার কি কোনো অসুবিধা আছে? মানে খরচপত্র নিয়ে কিছু?"
কাকা: "না, সমস্যাটা হলো গিয়ে -- আমার বাবা ৯৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন -- তাই ভাবছি ..."
ডাক্তার (করুণ স্বরে): "দীর্ঘ জীবন একটা অভিশাপ, বুঝলেন।"
কাকা (হেসে): "সে সমস্যার সমাধানের জন্যেও তো আপনারা, ডাক্তাররা, আছেন।"

Wednesday, May 7, 2014

শিবুদা: "কারুর কাছে iPhone 5-এর চার্জার আছে?"
অরিত্রদা (আমার মতোই এক পি.এইচ.ডি. স্টুডেন্ট): "বিশ্বাস করুন, এই মাইনেতে অতটা সম্ভব নয়।"

Tuesday, May 6, 2014

"স্যার, আসবো? (স্যারের নাম-টা উহ্যই থাক, এখনও তো ডিগ্রী পাইনি।)
-- আমি এই সেমিস্টারে আপনার টি.এ., ..., আপনি আজকে যেটা ক্লাসে পড়িয়েছেন সেটা বুঝতে পারিনি। আপনি যে বই থেকে পড়াচ্ছেন সেটা একবার দেবেন?"

এই ঘটনাটা পরে জয়-দাকে বলেছিলাম।
জয়-দা: "ইস্ , এভাবে বলতে নেই, স্যারের তোর কথা শুনে মনে হতে পারে যে উনি ভালো পড়াননি। তোর বলা উচিত ছিল -- স্যার, ক্লাসে ভালো কনসেন্ট্রেট করতে পারিনি, যদি বইটা একবার দেন -- মানে স্যারের যেন মনে হয় দোষটা তোর নিজের।"

Monday, May 5, 2014

০৫.০৫.২০১১
আজ থেকে ঠিক তিন বছর আগের এই দিনটিতে পাগলের "হ্যাপি বার্থডে, কার্ল মার্কস খুড়ো" -- এই পোস্টটার নীচে "ওনাকে বার্থডে বাম্পস কিন্তু বিরোধীরাই দিচ্ছে" -- এই কথাটা লেখায় সৌম্যদীপ (যার ডাকনাম পাগল) ও তার কিছু লাল বন্ধুর কি রাগ, কত সব কটাক্ষ, কত সব মন্তব্য করেছিল তারা।
যাই হোক, কারুর প্রতি অসম্মান করা আমার উদ্দেশ্য ছিল না, তবুও অজান্তে কাউকে দুঃখ দিয়ে থাকলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।

আজকের পরিস্থিতিও অনেকটা সেই আগের দিনের মতো। তাই আজকে আমি বলছি:
 "হ্যাপি বার্থডে, কার্ল মার্কস খুড়ো"।

Sunday, May 4, 2014

PPC Sir আমাদের কলেজের ডিরেক্টর -- তাই খুব ব্যস্ত থাকেন।
এই পরিপ্রেক্ষিতে, আমার ডিপার্টমেন্টের এক সিনিয়রের মন্তব্য:

ধীমানদা: "PPC Sir ডিপার্টমেন্টে কম থাকেন -- এটা বোধহয় ওনার সম্পর্কে বেশি বলা হয়ে গেল।" 

Saturday, May 3, 2014

দিব্যেন্দু: পর্ব ১

আমার এক ঘনিষ্ট বন্ধু আছে, ধরা যাক তার নাম দিব্যেন্দু। (এই নামে এখন অন্তত ফেসবুকে আমার কোনো বন্ধু নেই, ভবিষ্যতে হলে তারই সৌভাগ্য।) দিব্যেন্দুর কথাবার্তা, চাল-চলন, দৃষ্টিভঙ্গি সবই অন্য সকলের চেয়ে স্বতন্ত্র -- তাই ইতিমধ্যেই বন্ধুমহলে সে 'কাল্ট স্টেটাস' অর্জন করেছে। আপনারা অনেকেই হয়তো তার কার্যকলাপ সম্বন্ধে অবহিত, যারা জানেন না তাদের জন্য নিচের ঘটনাটা উদাহরণস্বরূপ দেওয়া হলো।

সেইদিন আমাদের আরেক বন্ধুর জন্মদিন। দিব্যেন্দু যথারীতি সেই বন্ধুটিকে লাথি মেরে বার্থডে বাম্পস দিয়েছে। তবে শুধু নিজে দিয়েই দিব্যেন্দু ক্ষান্ত হয়নি, বাকিদেরকেও দিতে বলেছে। ল্যাবের এক সিনিয়র কিন্তু দিব্যেন্দুর মনোবাঞ্চা পূর্ণ করতে অস্বীকার করে, বলে - "আমি আমার চেয়ে ছোটদের মারি না।"
দিব্যেন্দুর তৎক্ষণাত জবাব - "তুমি তোমার চেয়ে বয়সে বড় মেয়েকেই বিয়ে করবে তো?"

Friday, May 2, 2014

বহুদিন আগের কথোপকথন:

জয়-দা: "আজকে আমাদের হল ট্রিপল এমে (MMM-এ) ডালটা দারুণ করেছিলো। তবে ডালের উপরে যে শাক-পাতাটা দিয়ে ছিলো, সেটা না দিলেই পারতো -- ওটা মোটেই খেতে ভালো নয়।"
আমি: "ডালের উপর কোন শাক-পাতা দেওয়া হয়নি, আসলে ডালটা ঢাকাও দেওয়া হয়নি।"

Thursday, May 1, 2014

"বৈশাখ একলা কেন?" -- লেখক তারাপদ রায়কে জিগ্গেস করেছিলো একটি বাচ্চা মেয়ে। প্রথমে অপ্রস্তুতে পড়লেও, লেখক একটু পরে বুঝতে পারলেন যে বাচ্চা মেয়েটি আসলে জানেনা ১লা-র উচ্চারণ "পয়লা", "একলা" নয়।

আশা করি এই বছর সকলের জন্যে পয়া হোক, সকলের একাকীতব ঘুচে যাক।

শুভ নববর্ষ ১৪২১