Thursday, December 31, 2015

অনেক প্রফেসর নিজের প্রাক্তন ছাত্র / ছাত্রীদের বর্তমান পদাধিকারের খবর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে লিখে রাখেন।
আজকেই দেখলাম এক কম্পিউটার সায়েন্সের প্রফেসর লিখে রেখেছেন তাঁর এক প্রাক্তন পিএইচডি ছাত্র বর্তমানে একজন ধর্মযাজক।

বিশ্বাস না হলে এই দেখুন:
http://www.ccs.neu.edu/home/pete/students.html

Monday, December 28, 2015

সবজি কিনতে গিয়ে দেখি বেঙ্গালুরুর পটল কোলকাতার চেয়ে বেশ ছোট।
বাড়িতে এসে কাটার পর আবিষ্কার করি ব্যাটাচ্ছেলে তো পটল নয় -- এ তো দেখি: কুঁদরি।
উরিব্বাস ! বেঙ্গালুরুর কুঁদরি তো দেখছি কোলকাতার চেয়ে বেশ বড়।

Thursday, December 24, 2015

ছবিদার দোকান (শেষাংশ)

ফেসবুকে আমার আগের লেখাটা পড়ে কিছু পাঠক ছবিদাকে ঘিরে তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা আমার সাথে শেয়ার করেছে। তার মধ্যে থেকে দুটি ঘটনা বক্তাদের জবানিতেই নিচে দেওয়া হলো।

(১)
"প্রদীপ্তদা একবার ছবিদার দোকানে ডেটল সাবান কিনতে গেছে। তিনটের কমবাইন্ড প্যাকের দাম লেখা ৪৫ টাকা আর একটার দাম কোথাও কিছু লেখা নেই। ছবিদা যথারীতি প্রদীপ্তদাকেও গল্প দিয়ে ছবি করে দিয়েছে -- একটার দাম বলেছে ২০ টাকা। সেই সময় আমি দোকানে ঢুকছি। খানিক লজিক দেখিয়ে ছবিদাকে রাজি করানো গেল না। উপায়ন্তর না দেখে আমি দু' খানা আর প্রদীপ্তদা এক খানা অর্থাৎ এক সাথে তিনটে সাবান কিনে নিয়েছিলাম। যদিও তাতেও ছবিদা হালকা বিরক্ত হচ্ছিল।"
(সুত্র: কৃষ্ণেন্দু)

(২)
"সদ্য শোনা আরেকটি প্রাসঙ্গিক ঘটনা। আমারই একজন বন্ধু একবার একটা শ্যাম্পু কেনে ছবিদার দোকান থেকে। কয়েকদিন পরে ব্যবহার করতে গিয়ে দেখে যে শ্যাম্পুটির এক্সপায়রি ডেট পেরিয়ে গেছে বহুদিন, মানে একেবারে অন্য বছরের। তখন সে ছবিদার দোকানে গিয়ে বলে যে মালটার এক্সপায়রি ডেট পেরিয়ে গিয়েছে অনেকদিন, টাকা ফেরৎ দাও। ছবিদা ঘ্যানঘ্যান করতে থাকে যে এতদিন পরে সে কেন নিয়ে এল। "এই একজন প্রফেসর এসেছিল, আমি তাকে বেচে দিতাম, তুমি দেরী করলে কেন?" "
(সুত্র: মৈনাক)

Monday, December 21, 2015

ছবিদার দোকান

আমাদের হোস্টেলের কাছে সবে ধন নীলমণি একটাই দোকান আছে -- ছবিদার দোকান। তবে হেন কোনো জিনিস নেই যা ছবিদার দোকানে পাওয়া যায় না -- বাচ্চা ছেলের টিফিন বক্স, কিশোর ছেলের ক্রিকেট ব্যাট, দামড়া ছেলের মুখে মাখার ক্রিম, জুতো ঘষার বুরুশ, ধূপদানি, ঝাঁটা, সাটল কক্, আটা, অমৃতাঞ্জন, মশারি টাঙানোর দড়ি -- এককথায় সব। মশারি টাঙানোর দড়ি শুনে অবাক হচ্ছেন? ভাবছেন সেটা আবার কি নতুন বস্তু? অবাক হওয়ার কিছু নেই, মশারি টাঙানোর দড়ি আর পাজামার দড়ি আসলে একই বস্তু। ইলাস্টিক পাজামার যুগে আগেকার ওই দড়ি ইদানিং আমাদের হোস্টেলে মশারি টাঙানোর কাজেই ব্যবহৃত হয়।
আপনি যে জিনিসটা কিনতে চাইছেন সেটা ছবিদার দোকানে পেলেও আপনার পছন্দের ব্র্যান্ডটা পাবেন কিনা তার কিন্তু কোনো গ্যারান্টি নেই। মানে ছবিদার দোকানে গিয়ে টুথপেস্টের খোঁজ করলে হয়তো কোলগেট পাবেন কিন্তু পেপসোডেন্ট পাবেন না, শ্যাম্পু কিনতে গেলে হয়তো অল ক্লিয়ার পাবেন কিন্তু হেড অ্যান্ড সোলডার্স পাবেন না। আপনার পছন্দের ব্র্যান্ডটি না পেলে সে ক্ষেত্রে ছবিদা নিজের পছন্দের ব্র্যান্ডটি আপনাকে গছিয়ে দেওয়ার জন্যে একটা পেটেন্ট করা ডায়লগ বলবে: "আজকাল বাজারে এই ব্র্যান্ডটাই চলছে।" উপায়ন্তর না থাকলে বাধ্য হয়ে আপনাকে সেটাই কিনতে হবে।
সেভাবে কোনো প্রতিযোগিতা না থাকার ফলে ছবিদার আরো অনেক ফ্যাকড়া আছে। যেমন আজ পর্যন্ত কেও ছবিদার কাছে এমআরপির থেকে আট আনাও ছাড় যোগাড় করতে পারেনি। উপরন্তু ছবিদার দোকান থেকে বেরোবার আগে অবশ্যই দেখে নেবেন আপনার ক্রীত বস্তুটির সাথে অন্য কোনো আইটেম ফ্রি আছে কিনা। কারণ নিজে থেকে না চাইলে ছবিদা কাওকে এই ফ্রি বস্তুটি দেয় না, ভবিষ্যতে অন্য কোনো খদ্দেরদেরকে (কিংবা হয়তো আপনাকেই) সেই ফ্রি বস্তুটি আলাদা করে বিক্রি করে দেবে।
ছবিদার অন্যান্য ব্যবসায়িক বুদ্ধিও ভালো -- খাতা কিনলে পেন, ব্যাট কিনলে বল, আয়না কিনলে চিরুনি -- এসব কেনার কথা ঠিক মনে করিয়ে দেয়। কিন্তু একবার ছবিদার এই স্বভাবের জন্যেই গন্ডগোল বেঁধেছিল:
এক প্রফেসর ছবিদার দোকানে কিছু একটা জিনিস কিনতে গেছে। ঠিক সেই সময় তাঁর এক ছাত্র (এবং আমাদের মেসের এক সিনিয়র) সেখানে উপস্থিত। স্যারকে একটি সৌজন্যতামূলক হাসি উপহার দিয়ে ছাত্রটি নিজের জিনিসগুলি নিয়ে দোকান থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে এমন সময় ছবিদা সেই ছাত্রটিকে উদ্দেশ্য করে পেছন থেকে বলে উঠলো: "কি বাবু, চানাচুর কিনলে আর সাথে সোডা লাগবে না?"

এর পরের ঘটনা সংক্ষিপ্ত। সেই ছাত্রটি পিছু ফিরে না তাকিয়েই সেই স্থান তৎক্ষণাত ত্যাগ করে। তারপর মেসে এসে ছবিদার কান্ডজ্ঞান সম্পর্কে যে সকল সাধু বাক্য উচ্চারণ করে তাতে যাকে বলে ছবিদার "চোদ্দ পুরুষ উদ্ধার" হয়ে গেল।

Saturday, December 12, 2015

মাটির উপর মেট্রো ট্রেন চলতে দেখে হঠাৎ খেয়াল করলাম: মেট্রো ট্রেনকে বাংলায় "পাতাল"-রেল বলাটা আর ঠিক হবে না।

Sunday, December 6, 2015

কত শত অসংলগ্ন চিন্তা ভাবনা মনের ভেতর ঘুরপাক খায়। কোনো ফিকিরে তাদের মধ্যে কয়েকটাকে ধরে এক সূত্রে গেঁথে নিতে পারলেই আমি তা ক্রমান্বয়ে লিখে ফেলি। এবারের চিন্তা সূত্রটি যুগিয়েছে মিশনের এক পুরনো বন্ধু যে আমার ফেসবুকের একটি লেখা দেখে মন্তব্য করেছে যে গরিব দুঃখী না হলে তবেই গরিব দুঃখী নিয়ে টিপ্পনি করা সোজা।
একদম খাঁটি কথা। অন্ন-চিন্তা থাকতে অন্য চিন্তা করা সত্যি সহজ ব্যাপার নয়। কাউকে উপহাস করার জন্যে নয়, শুধুমাত্র নিজের মত প্রকাশ করার জন্যই গরিব দুঃখীদের পূর্বের একটি লেখায় টেনে আনা। আমার কোনো লেখা পড়ে কেউ ব্যথিত হয়ে থাকলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী -- জানবেন সেটা আমার অনিচ্ছাকৃত অপরাধ। তা বলে ভবিষ্যতে আমার লেখা পড়ে খারাপ লাগলে আমাকে জানাবেন না -- এমনটা কিন্তু ভাববেন না; আমাকে আপনাদের সোজাসাপটা মতামত অবশ্যই জানাবেন তাতে আমার লাভ বই ক্ষতি নেই।

এই প্রসঙ্গে মিশনে আমার রুমমেট নিশানের কাছে শোনা একটা কথা মনে পড়ে গেল। এক সময় বাংলা সাহিত্যে আধিপত্য ছিল তিন বন্দোপাধ্যায়ের -- বিভূতিভূষণ, তারাশংকর আর মাণিক। (খেয়াল রাখবেন শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এঁনাদের উত্তরসূরী।) এঁদের মধ্যে মাণিক বন্দোপাধ্যায়ের লেখার বিষয় ছিল অন্যান্য সকল সাহিতিক্যের থেকে স্বতন্ত্র। অন্যান্য লেখকের গল্প পড়লে যেরকম একটা মনের মধ্যে আনন্দের রেশ থেকে যায় সেরকম অনুভূতি কিন্তু মাণিক বন্দোপাধ্যায়ের গল্প পড়লে হয় না। বরং মনের মধ্যে ক্ষোভ বা দুঃখ এসে ভিড় করে। উচ্চমাধ্যমিকে এই লেখকের "পাশফেল" গল্পটি পড়ে থাকলে সেটিকে স্মরণ করলেই বুঝতে পারবেন। এক সাংবাদিক একবার মাণিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ওনার গল্পের জন্যে নেতিবাচক বিষয় চয়ন করা নিয়ে প্রশ্ন করলে পরে তিনি উত্তর দেন যে তিনি পাঠকদের কাছে কৃতজ্ঞ তাঁর লেখা নেতিবাচক হওয়া সত্ত্বেও পাঠকরা তাঁর লেখা ভালবাসেন বলে। তবে তিনি এটাও জানান যে পাঠকরা তাঁর লেখা ভালবাসুক কি না বাসুক, তাঁর হাত থেকে ওই লেখাই বেরোবে।

আমি চেষ্টা করেও সব সময় সব দিক বজায় রেখে লিখতে পারি না। তাই এই মুহূর্তেই একটা স্বীকারোক্তি করে রাখি -- আমি পাঠকদেরকে আনন্দ দেওয়ার চেয়েও নিজে আনন্দ পাই বলেই লিখি।

Tuesday, December 1, 2015

লজ্জায় কথাটা এতদিন চেপে রেখেছিলাম, আর পারলাম না।
পিএইচডির শুরুতে ভেবেছিলাম ২০১৪-তে ডিগ্রী পাব, মাঝে ভাবতাম ২০১৫-তে ঠিক পেয়ে যাব, আপাতত ভাবি ২০১৬-তে পেলেই রক্ষে।
এরকম আকাশ-কুসুম ভাবনার খেসারত আমাকে কিছুদিন আগে দিতে হয়েছে।
জার্মানিতে যে কনফারেন্সটায় গেছিলাম তাতে IEEE-র স্টুডেন্ট মেম্বারদের জন্য ১১০ ডলার আর সাধারণ মেম্বারদের জন্য ১৯৮ ডলার ফি ছিল। IEEE-র স্টুডেন্ট মেম্বার হওয়ার সময় expected date of graduation বলে একটা field ভরতে হয়। যে সময় আমি IEEE-র স্টুডেন্ট মেম্বার হই সে সময় বোধহয় ভেবেছিলাম ২০১৫-তে ডিগ্রী পেয়ে যাব। পরে এই মিথ্যে আশার কথা বেমালুম ভুলে যাওয়ায় কনফারেন্স রেজিস্ট্রেশনের সময় আমার ক্রেডিট কার্ড থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১৯৮ ডলার কেটে নেওয়া হয় যা আমি আর ফেরৎ পাইনি। এই অগ্নিমূল্যের বাজারে ৮৮ ডলার মানে ৬০০০ টাকা গচ্চা গেল !