Wednesday, July 30, 2014

এক নেতা ভোটে জয়ী হয়ে নিজের এলাকার অধিবাসীদের জলের সমস্যা দূর করার জন্যে একটি পুকুর খনন করার সিদ্ধান্ত নিলেন। সেই বাবদ সরকারের থেকে তিনি কিছু অর্থ সাহায্য চাইলেন। সরকার সেই টাকা অনুমোদনও করলো।
পরের বার আরেক নেতা সেই এলাকায় জয়ী হয়ে সরকারকে জানালেন যে পুকুরটি হয়ে উঠেছে মশা মাছি উৎপাদনের কারখানা, তাই অবিলম্বে সেই পুকুরকে বুজিয়ে ফেলার জন্যে সরকারের কিছু অর্থ ব্যয় করা উচিৎ। সরকার এবারও কিছু টাকা অনুমোদন করলো।
এর পরের বার সেই এলাকা থেকে তৃতীয় এক নেতা জয়ী হয়ে সরকারের কাছে পুনর্বার পুকুর খনন করার আর্জি জানান। সরকার এবারে একটু নড়েচড়ে বসলো, একই জায়গায় বারবার পুকুর খোঁড়া আর বোজানো ইয়ার্কির ব্যাপার নাকি। তাই সরকার এবারে তদন্তের জন্যে কিছু লোক পাঠালেন এটা জানার জন্যে যে এলাকার বেশির ভাগ লোক পুকুর চায় নাকি চায় না।
তদন্ত করতে এসে সরকারী অফিসাররা যা শুনলেন তাতে তো তাদের চক্ষু চড়কগাছ -- সেই এলাকায় কস্মিন কালেও কোনো পুকুর ছিল না। পরে বোঝা গেল যে নেতাদের প্ররোচনায় -- পুকুর খনন ও বোজানো -- সমস্ত কার্যই হয়েছে শুধুমাত্র সেই এলাকার ম্যাপের উপর।

Monday, July 28, 2014

জয়ন্তদা এক বিয়ে বাড়িতে শেষ পাতে পাঁচটা রসগোল্লা খেয়েছে। তাই দেখে সামনে বসে থাকা এক প্রৌঢ় ব্যক্তি বললেন: "তুমি মাত্র পাঁচটা রসগোল্লা খেলে, তোমাদের মতন বয়স হলে আমি দশটা খেতাম।" জয়ন্তদা: "এটা আমার আজকে রাত্রের দ্বিতীয় বিয়ের নেমন্তন্ন ছিল। আগেরটাতে আমি দশটা রসগোল্লাই খেয়েছি।"

Sunday, July 27, 2014

স্যার: "Programming জানো নিশ্চয়ই। কোনো program লিখতে দিলে C-তে লিখতে পারবে?"
ছাত্র: "পারলে পারবো।"
স্যার: "পারলে পারবো -- মানেটা কি? না পারলে চেষ্টাই করবে না?"
ছাত্র: "হ্যাঁ স্যার, পারলে পারবো।"
স্যার: "তুমি কি আমার সাথে মস্করা করছো?"
ছাত্র: "না, স্যার। আসলে আমি C ভালো জানি না, সেই তুলনায় Perl ভালো জানি। তাই বলছি, Perl-এ পারবো।"

Thursday, July 24, 2014

"হৃদয় এবং মস্তিষ্কের বিবাদে সর্বদা ক্ষতিগ্রস্ত হয় লিভার।" -- দেবদাস

Sunday, July 13, 2014

আমি আমার চরিত্রদের নাম অনেক ক্ষেত্রেই পাল্টে দিই তাদের গোপনীয়তা রক্ষা করার স্বার্থে। কিন্তু এক্ষেত্রে চরিত্রের ফার্স্ট নেম পাল্টানো গেলেও লাস্ট নেম পাল্টানো যাবে না -- কারণ ঘটনাটা তার লাস্ট নেম নিয়েই। আজকের চরিত্রের নাম -- মাধব হাতি। এই 'হাতি' পদবীটির জন্যেই সে বন্ধুমহলে ছোটবেলা থেকেই হাসির পাত্র। তাই বড় হওয়ার পরেও কেউ তার নাম জিজ্ঞেস করলে সে শুধু 'মাধব'-টুকুই বলে, নিজের পদবীকে পারতপক্ষে সে এড়িয়েই চলে। একদিন কলেজে এক স্যার তার নাম জিজ্ঞেস করলে পর সে অভ্যাশবশতঃ বলে: "মাধব"। স্যারের কোনো কারণে পুরো নামটাই জানার ইচ্ছে ছিলো, উনি বলেন: "মাধব কি? তোমার টাইটেল হাতি-ঘোড়া কিছু তো একটা আছে নাকি?"

Saturday, July 12, 2014

সৌরাশিসদা নিজের ডেস্কে বসে কাজ করছে। এমন সময় খুব অল্প মেয়াদের মধ্যেই তার চোখের সামনে তিনটি দৃশ্য সঙ্ঘটিত হয়।
১ম দৃশ্য: একটা বই ধপাস করে তার পাসে মেঝেতে এসে পড়লো। (পাঠকদের জানিয়ে রাখি বইটি ছিলো রবার্ট ল্যাফোরের লেখা, C++-এর উপর।)
২য় দৃশ্য: এক ছাত্র কাঁদো কাঁদো মুখে এসে বইটি তুলে নিয়ে চলে গেলো।  
৩য় দৃশ্য: স্যার হনহন করে পাশে পায়চারি করতে শুরু করলেন আর গজগজ করে নিজেকেই বলছেন: "কোথা থেকে এই সব ল্যাফোর না লোফারের বই জোগাড় করে এনে এখন আমাকে শেখাচ্ছে? হয় ও (ছাত্রটি) C++ জানে, নয় আমি C++ জানি -- আমাদের জ্ঞানের কোনো overlap নেই।"

*******************

এই জোকটা মূলতঃ কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্টদের জন্য।
আমাদের ডিপার্টমেন্টের সবচেয়ে প্রবীণ ছাত্র সৌরভদা একদিন কথায় কথায় বললো যে আমাদের মতো সৌরভদা কিন্তু B.Tech.-এর সময় C++ বা Java শেখেনি। এটা শুনে এক জুনিয়র জিজ্ঞাসা করে তার কারণ কি সৌরভদাদের সময় "Object-oriented programming" কনসেপ্টটাই আবিষ্কৃত হয়নি। সৌরভদা লজ্জা এবং রাগমিশ্রিত উত্তর দেয়: "না না, আমি তোদের থেকে অতোটাও বড় নই।" 

Friday, July 11, 2014

র‌্যাগিং: পর্ব ২

এই র‌্যাগিংটির একটি বিশেষ নাম আছে: "চন্দ্র-সূর্য-পৃথিবী"। এর জন্যে প্রয়োজন তিনটি জুনিয়র -- গ্রহ, উপগ্রহ এবং নক্ষত্রের ভূমিকায়। যে সূর্য তার কোনো চাপ নেই, তাকে শুধু চুপ করে মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। যে পৃথিবী সে সূর্যের চারদিকে ঘুরবে, আর যে চন্দ্র সে পৃথিবীর চারদিকে ঘুরতে ঘুরতে সূর্যের চারদিকে ঘুরবে। মানে যেটা আমরা সকলেই ছোটবেলা থেকেই ভূগোলে পড়ে এসেছি সেটারই একটা ছোট ডেমনস্ট্রেশন দিতে হবে সিনিয়রদের সামনে। তবে ঘোরার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে জুনিয়রদের নিজেদের মধ্যে যেন ধাক্কা না লাগে, কোনো মহাজাগতিক সংঘর্ষ হওয়া মানেই কপালে রয়েছে ভয়ঙ্কর "প্রলয়"।

এরকমই এক চন্দ্র-সূর্য-পৃথিবী অভিনয়ের মাঝে যে চন্দ্র সে হাঁপিয়ে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছে।
সিনিয়র: "কিরে, দাঁড়ালি কেন?"
চন্দ্র: "এখন চন্দ্রগ্রহণ চলছে।"
সিনিয়র: "না না, এখানে গ্রহণ-ট্রহণ হয় না। তুই ঘুরতে থাক।"
কিছুক্ষণ পর চন্দ্র আবার দাঁড়িয়ে পড়েছে।
সিনিয়র: "আবার কি হলো?" 
চন্দ্র: "পৃথিবী বছরের হিসেবে সূর্যের চারদিকে ঘুরছে। কিন্তু দিনের হিসেবে নিজের কক্ষে তো কই ঘুরছে না? তাই ওকে প্রদক্ষিণ করার সময় দিন-রাতটা ঠিক ঠাহর করতে পারছি না।"

Thursday, July 10, 2014

র‌্যাগিং সততই নিন্দনীয়। তবুও কিছু কিছু র‌্যাগিঙের অভিনবত্ব বা সেই সংক্রান্ত ঘটনা যে কখনো কখনো কৌতুকের সৃষ্টি করে একথাও অনস্বীকার্য। র‌্যাগিঙে অংশগ্রহণকারী জুনিয়রদের সেই মুহূর্তগুলি সেই মুহূর্তে দুর্বিষহ মনে হলেও বোধ করি ভবিষত্যে তারা নিজেরাও সেই ঘটনাগুলি নিয়ে ইয়ার্কি ঠাট্টা করে থাকেন। এই ধরণেরই কিছু ঘটনা র‌্যাগিঙের বিভিন্ন পর্বে সংকলিত হলো।

র‌্যাগিং: পর্ব ১

বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষের একটি ছেলেকে সিনিয়ররা নির্দেশ দিয়েছে মাঠে গিয়ে উপুড় হয়ে শুয়ে থাকতে, তার সাথে এটাও শিখিয়ে দিয়েছে কেউ যদি এভাবে শুয়ে থাকার কারণ জিজ্ঞেস করে তাহলে তাকে কি উত্তর দিতে হবে। মাঠের মধ্যে উপুড় হয়ে এই ছাত্রটিকে শুয়ে থাকতে দেখে এক গার্জেনের মনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। ছাত্রটির কাছে গিয়ে তিনি জিজ্ঞেস করেন: "বাবা, তুমি এভাবে শুয়ে আছো কেন? তোমার কি শরীর খারাপ লাগছে?" ছাত্রটি তৎক্ষনাৎ সিনিয়রদের শেখানো বুলিটি আউড়ে দেয়: "আমাকে বিরক্ত করবেন না। আমি এখন ধরণীর বুক থেকে দুগ্ধ পান করছি।" গার্জেনটি এই উত্তর শুনে কি বলবেন ভেবে না পেয়ে সেখান থেকে, যাকে বলে, মানে মানে কেটে পড়লেন।

Wednesday, July 9, 2014

আজকে আমার দেখা ফেসবুকে সেরা পোস্ট (সামান্য পরিবর্তিত):

"ব্রাজিলের সাথে যারা পূর্বতন শাসকগোষ্ঠিরও সমর্থক, তারা এই দিনটার জন্য ২০১১ সাল থেকেই মানসিক ভাবে প্রস্তুত।"

Saturday, July 5, 2014

বহুদিন আগে এই ঘটনাটা পড়েছিলাম, যদ্দূর সম্ভব আনন্দবাজার পত্রিকার পাতায়। লেখাটা হুবহু তো আর মনে নেই, তাই সারাংশটা নিজের ভাষায় লিখছি।

এক ভদ্রলোক যাদবপুরে বাস থেকে নেমে একটি রিক্সায় উঠে বললেন যে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন। রিক্সাওলা জানায় যে সে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কোথায় জানে না। এই শুনে ভদ্রলোক অবাক হয়ে বলেন: "সে কি, যাদবপুর ইউনিভার্সিটি কোথায় জানো না?" রিক্সাওলা এবার নিশ্চিন্ত হয়ে বলে: "হ্যাঁ বাবু, জানি বইকি। আপনি আগেরবার বিশ্ববিদ্যালয় না কি বললেন না? আমরা মুখ্যু মানুষ আমাদেরকে সোজা বাংলায় বলবেন তো!"

***************************
এর অনুরূপ একটি ঘটনা ঘটেছে কিছুদিন আগে আমার বন্ধু সপ্তর্ষির পরিচিতদের সাথে।

দুই ভদ্রমহিলা অনেকক্ষণ ধরে ট্যাক্সি খুঁজছেন। হঠাৎ একটা "No Refusal" ট্যাক্সি দেখতে পেয়ে ওনারা হাতে স্বর্গ পেলেন। নিশ্চিন্ত মনে একজন ভদ্রমহিলা ট্যাক্সির পেছনের দরজাটা খুলে বসতে গেলেন। ট্যাক্সি ড্রাইভার যথারীতি জিজ্ঞেস করলেন কোথায় যাবেন ওনারা। গন্তব্য শুনে ড্রাইভার বললেন যে উনি সেখানে যাবেন না। এই শুনে এক ভদ্রমহিলা অবাক হয়ে "No Refusal" প্রতীকটির দিকে ড্রাইভারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ড্রাইভার স্বাভাবিক গলায় উত্তর দেন যে উনি ভাড়ায় ট্যাক্সি চালান; গাড়ির মালিকের পছন্দ হয়েছে তাই হয়তো গাড়ির কোম্পানির নাম দিয়েছেন "No Refusal" -- এই নিয়ে ভদ্রমহিলার মাথাব্যথার কি কারণ থাকতে পারে সেটা ড্রাইভারটি বুঝতে পারছেন না।

Thursday, July 3, 2014

কিছুদিন আগে আমি আর জয়দা একটা রেস্টুরেন্টে দুপুরবেলায় খেতে গেছি। হেঁটে যাওয়ার ফলে দু'জনেই পুরো ঘেমে গেছিলাম। খাবারের প্লেট দিয়ে গেলে পর আলসেমি কাটিয়ে কারোরই আর উঠে গিয়ে বেসিনে হাত ধুতে ইচ্ছে করছিলো না। জয়দা তাই টেবিলের উপরেই জাগ থেকে জল নিয়ে হাতটা ধুয়ে ফেললো। আমি আসে পাশের লোকদের চাউনি দেখে বুঝলাম তারা জয়দার কান্ড দেখে ভাবছে জয়দা ভীষণ "uncultured"। আমি তাই জাগ থেকে হাতে জল নিয়ে হাতটা প্লেটের চারদিকে ঘুরিয়ে তারপর জলটা ফেললাম। লোকজন ভাবলো আমি নিশ্চয়ই ভীষণ ধার্মিক, খাবার আগে আচমন করে নিলাম। 


(ইদানিং বিশ্বকাপ নিয়ে মেতে থাকার দরুণ লেখাটা মুলতুবি রেখেছিলাম। আজ খেলা নেই বলে সুযোগ পেয়ে গেলাম।)