এক্ষুনি অ্যামাজন প্রাইমে "প্রফেসর শঙ্কু ও এল ডোরাডো" দেখে উঠলাম - খুব বাজে লাগলো, এই সিনেমা আমি কাউকে রেকমেন্ড করবো না।
ব্যাশ, এটুকু লিখেই আমার পোস্টটা শেষ করবো ভেবেছিলাম কিন্তু আজকেই আবার চন্দ্রিল ভট্টাচার্যের একটা ভিডিও দেখে ফেলেছি (আর তার সাথে মনে মনে খুব প্রশংসা করেছি চন্দ্রিলের) - তাতে উনি বলছেন সোশ্যাল মিডিয়া ভীষণ ক্ষতিকারক হতে পারে কারণ এখানে লোকেরা সাধারণতঃ যে কোনো শিল্পকে চার অক্ষরের একটা বিশেষণ দিতে বেশি পছন্দ করে কোনো বিশ্লেষণ না দিয়েই। বিশেষণ দিতে বিচারবুদ্ধি লাগে না কিন্তু বিশ্লেষণ দিতে লাগে।
তাই শুধুমাত্র নিজের চোখে নিজের সম্মান বজায় রাখার জন্য আমি নিচে সিনেমাটির কিছু ত্রুটি তুলে ধরছি, আমার মূল বক্তব্য শুরুতেই বলা হয়ে গেছে কাজেই ফালতু সময় থাকলে তবেই আমার বাকি লেখা পড়বেন।
১. গ্রাফিক্স: সিনেমার গ্রাফিক্স সম্বন্ধে আমি একটু বেশি আশা রেখেছিলাম কারণ আমি শুনেছিলাম এতদিন বাংলা সিনেমায় ভালো গ্রাফিক্স ডিজাইনার ছিল না বলেই নাকি প্রফেসর শঙ্কুকে নিয়ে সিনেমা করার সিদ্ধান্তটা সন্দীপ রায় মুলতুবি দিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু সিনেমার প্রথম শট যেখানে দেখানো হচ্ছে বাইরে বৃষ্টি পড়ছে আর জানলা দিয়ে একজন ক্যারেক্টারকে দেখা যাচ্ছে - তা দেখেই আমি আমার উচ্চাকাঙ্খার কথা উপলব্ধি করি। প্রথম শটটা যে তবু মন্দের ভালো ছিল এটা বুঝতে পারি পরে অ্যানাকোন্ডার শটটা দেখে। এই সিনেমার গ্রাফিক্স দেবের "চাঁদের পাহাড়" ও "অ্যামাজন অভিযান"-এর সমতুল্য। বুনিপকে দেখে থাকলে আশা করি ভালোই আন্দাজ করতে পারছেন নবতম সায়েন্স ফিকশন সিনেমার মান কতখানি।
২. টাইপকাস্টিং: (ক) সব অ্যাকটরকেই (ধৃতিমান চ্যাটার্জী বাদে) মনে হয়েছে টাইপকাস্টেড। সব সিনেই শুভাশিস মুখার্জী মাথা নিচু করে চোখ প্রায় কপালে তুলে কথা বলে গেলেন আর ডিরেক্টর উপরের অ্যাঙ্গেল থেকে ওনাকে শুট করে গেলেন। শুভাশিসের ডায়লগ ডেলিভারিও সেই ছোটবেলায় দেখা "বিবাহ অভিযান" সিরিয়াল থেকে যেন আজও পাল্টায়নি। "বিবাহ অভিযান" আমার অল টাইম ফেভারিট বাংলা সিরিয়াল, ছোটবেলায় চুপ করে বসে এর কোনো এপিসোড আমি দেখতে পারতাম না - হাসতে হাসতে লাফাতাম নাকি আমি (এমনটাই মায়ের কাছে শুনেছি)। কিন্তু সে যুগের অ্যাকটিং আজকে অচল। শুভাশিস মুখার্জী একবার এক ইন্টারভিউতে আফসোস করে বলেছিলেন যে ওনাকে "হার্বার্ট" এর মতো সিনেমার স্ক্রিপ্ট নাকি কেও আর কখনো দেয়নি। টলিউড আরেকবার ওনাকে অন্যরকম চরিত্রে সুযোগ দিয়ে দেখুন না? অভিনেতা আর দর্শক - দুজনেই একঘেয়েমি থেকে তাহলে কিছুটা রেহাই পাই।
(খ) অত্যন্ত বাজে কিছু বিদেশী অভিনেতাদের ভাড়া করা হয়েছে যাঁরা টাইপকাস্টেড বিদেশীর রোল প্লে করে কিছু ভাঁড়ামির আমদানি করেছেন সিনেমাতে। আমার এদের দেখতে দেখতে হঠাৎ মনে হলো, আচ্ছা, বলিউডকে তো আমরা দোষারোপ করি কালো মানুষের চরিত্রে অভিনয় করার জন্য ফর্সা অ্যাকটরদের কালো রং মাখিয়ে শুট করার জন্য - যেমন ধরুন, সুপার থার্টিতে ঋত্বিক রোশান, বালাতে ভূমি পেডনেকার কিংবা উড়তা পাঞ্জাবে আলিয়া ভট্ট - টলিউডে কি এর উল্টোটা আমরা করতে পারি না: কিছু বাঙালিকে ফেয়ার এন্ড লাভলী লাগিয়ে বিদেশীদের চরিত্রে ব্যবহার করতে। তাতে অন্তত বিদেশী চরিত্রদের অভিনয়টা সহ্য করা যাবে।
সিনেমার অন্যান্য কিছু বৈশিষ্ট্য যা সন্দীপ রায়ের গতানুগতিক হয়ে দাঁড়িয়েছে সেই নিয়ে আর কিছু বললাম না। সিনেমাটা দেখতে দেখতে এতটাই হেজে গিয়েছিলাম যে একটা গোটা কোড তার মাঝে লিখে ফেলেছি।
অ্যামাজন প্রাইমে কিছু একটা যদি দেখতেই হয় তবে সম্প্রতি আসা "আফসোস" সিরিয়ালটা দেখতে পারেন - আমার বেশ অন্যরকম লেগেছে।