Thursday, December 31, 2015

অনেক প্রফেসর নিজের প্রাক্তন ছাত্র / ছাত্রীদের বর্তমান পদাধিকারের খবর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে লিখে রাখেন।
আজকেই দেখলাম এক কম্পিউটার সায়েন্সের প্রফেসর লিখে রেখেছেন তাঁর এক প্রাক্তন পিএইচডি ছাত্র বর্তমানে একজন ধর্মযাজক।

বিশ্বাস না হলে এই দেখুন:
http://www.ccs.neu.edu/home/pete/students.html

Monday, December 28, 2015

সবজি কিনতে গিয়ে দেখি বেঙ্গালুরুর পটল কোলকাতার চেয়ে বেশ ছোট।
বাড়িতে এসে কাটার পর আবিষ্কার করি ব্যাটাচ্ছেলে তো পটল নয় -- এ তো দেখি: কুঁদরি।
উরিব্বাস ! বেঙ্গালুরুর কুঁদরি তো দেখছি কোলকাতার চেয়ে বেশ বড়।

Thursday, December 24, 2015

ছবিদার দোকান (শেষাংশ)

ফেসবুকে আমার আগের লেখাটা পড়ে কিছু পাঠক ছবিদাকে ঘিরে তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা আমার সাথে শেয়ার করেছে। তার মধ্যে থেকে দুটি ঘটনা বক্তাদের জবানিতেই নিচে দেওয়া হলো।

(১)
"প্রদীপ্তদা একবার ছবিদার দোকানে ডেটল সাবান কিনতে গেছে। তিনটের কমবাইন্ড প্যাকের দাম লেখা ৪৫ টাকা আর একটার দাম কোথাও কিছু লেখা নেই। ছবিদা যথারীতি প্রদীপ্তদাকেও গল্প দিয়ে ছবি করে দিয়েছে -- একটার দাম বলেছে ২০ টাকা। সেই সময় আমি দোকানে ঢুকছি। খানিক লজিক দেখিয়ে ছবিদাকে রাজি করানো গেল না। উপায়ন্তর না দেখে আমি দু' খানা আর প্রদীপ্তদা এক খানা অর্থাৎ এক সাথে তিনটে সাবান কিনে নিয়েছিলাম। যদিও তাতেও ছবিদা হালকা বিরক্ত হচ্ছিল।"
(সুত্র: কৃষ্ণেন্দু)

(২)
"সদ্য শোনা আরেকটি প্রাসঙ্গিক ঘটনা। আমারই একজন বন্ধু একবার একটা শ্যাম্পু কেনে ছবিদার দোকান থেকে। কয়েকদিন পরে ব্যবহার করতে গিয়ে দেখে যে শ্যাম্পুটির এক্সপায়রি ডেট পেরিয়ে গেছে বহুদিন, মানে একেবারে অন্য বছরের। তখন সে ছবিদার দোকানে গিয়ে বলে যে মালটার এক্সপায়রি ডেট পেরিয়ে গিয়েছে অনেকদিন, টাকা ফেরৎ দাও। ছবিদা ঘ্যানঘ্যান করতে থাকে যে এতদিন পরে সে কেন নিয়ে এল। "এই একজন প্রফেসর এসেছিল, আমি তাকে বেচে দিতাম, তুমি দেরী করলে কেন?" "
(সুত্র: মৈনাক)

Monday, December 21, 2015

ছবিদার দোকান

আমাদের হোস্টেলের কাছে সবে ধন নীলমণি একটাই দোকান আছে -- ছবিদার দোকান। তবে হেন কোনো জিনিস নেই যা ছবিদার দোকানে পাওয়া যায় না -- বাচ্চা ছেলের টিফিন বক্স, কিশোর ছেলের ক্রিকেট ব্যাট, দামড়া ছেলের মুখে মাখার ক্রিম, জুতো ঘষার বুরুশ, ধূপদানি, ঝাঁটা, সাটল কক্, আটা, অমৃতাঞ্জন, মশারি টাঙানোর দড়ি -- এককথায় সব। মশারি টাঙানোর দড়ি শুনে অবাক হচ্ছেন? ভাবছেন সেটা আবার কি নতুন বস্তু? অবাক হওয়ার কিছু নেই, মশারি টাঙানোর দড়ি আর পাজামার দড়ি আসলে একই বস্তু। ইলাস্টিক পাজামার যুগে আগেকার ওই দড়ি ইদানিং আমাদের হোস্টেলে মশারি টাঙানোর কাজেই ব্যবহৃত হয়।
আপনি যে জিনিসটা কিনতে চাইছেন সেটা ছবিদার দোকানে পেলেও আপনার পছন্দের ব্র্যান্ডটা পাবেন কিনা তার কিন্তু কোনো গ্যারান্টি নেই। মানে ছবিদার দোকানে গিয়ে টুথপেস্টের খোঁজ করলে হয়তো কোলগেট পাবেন কিন্তু পেপসোডেন্ট পাবেন না, শ্যাম্পু কিনতে গেলে হয়তো অল ক্লিয়ার পাবেন কিন্তু হেড অ্যান্ড সোলডার্স পাবেন না। আপনার পছন্দের ব্র্যান্ডটি না পেলে সে ক্ষেত্রে ছবিদা নিজের পছন্দের ব্র্যান্ডটি আপনাকে গছিয়ে দেওয়ার জন্যে একটা পেটেন্ট করা ডায়লগ বলবে: "আজকাল বাজারে এই ব্র্যান্ডটাই চলছে।" উপায়ন্তর না থাকলে বাধ্য হয়ে আপনাকে সেটাই কিনতে হবে।
সেভাবে কোনো প্রতিযোগিতা না থাকার ফলে ছবিদার আরো অনেক ফ্যাকড়া আছে। যেমন আজ পর্যন্ত কেও ছবিদার কাছে এমআরপির থেকে আট আনাও ছাড় যোগাড় করতে পারেনি। উপরন্তু ছবিদার দোকান থেকে বেরোবার আগে অবশ্যই দেখে নেবেন আপনার ক্রীত বস্তুটির সাথে অন্য কোনো আইটেম ফ্রি আছে কিনা। কারণ নিজে থেকে না চাইলে ছবিদা কাওকে এই ফ্রি বস্তুটি দেয় না, ভবিষ্যতে অন্য কোনো খদ্দেরদেরকে (কিংবা হয়তো আপনাকেই) সেই ফ্রি বস্তুটি আলাদা করে বিক্রি করে দেবে।
ছবিদার অন্যান্য ব্যবসায়িক বুদ্ধিও ভালো -- খাতা কিনলে পেন, ব্যাট কিনলে বল, আয়না কিনলে চিরুনি -- এসব কেনার কথা ঠিক মনে করিয়ে দেয়। কিন্তু একবার ছবিদার এই স্বভাবের জন্যেই গন্ডগোল বেঁধেছিল:
এক প্রফেসর ছবিদার দোকানে কিছু একটা জিনিস কিনতে গেছে। ঠিক সেই সময় তাঁর এক ছাত্র (এবং আমাদের মেসের এক সিনিয়র) সেখানে উপস্থিত। স্যারকে একটি সৌজন্যতামূলক হাসি উপহার দিয়ে ছাত্রটি নিজের জিনিসগুলি নিয়ে দোকান থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে এমন সময় ছবিদা সেই ছাত্রটিকে উদ্দেশ্য করে পেছন থেকে বলে উঠলো: "কি বাবু, চানাচুর কিনলে আর সাথে সোডা লাগবে না?"

এর পরের ঘটনা সংক্ষিপ্ত। সেই ছাত্রটি পিছু ফিরে না তাকিয়েই সেই স্থান তৎক্ষণাত ত্যাগ করে। তারপর মেসে এসে ছবিদার কান্ডজ্ঞান সম্পর্কে যে সকল সাধু বাক্য উচ্চারণ করে তাতে যাকে বলে ছবিদার "চোদ্দ পুরুষ উদ্ধার" হয়ে গেল।

Saturday, December 12, 2015

মাটির উপর মেট্রো ট্রেন চলতে দেখে হঠাৎ খেয়াল করলাম: মেট্রো ট্রেনকে বাংলায় "পাতাল"-রেল বলাটা আর ঠিক হবে না।

Sunday, December 6, 2015

কত শত অসংলগ্ন চিন্তা ভাবনা মনের ভেতর ঘুরপাক খায়। কোনো ফিকিরে তাদের মধ্যে কয়েকটাকে ধরে এক সূত্রে গেঁথে নিতে পারলেই আমি তা ক্রমান্বয়ে লিখে ফেলি। এবারের চিন্তা সূত্রটি যুগিয়েছে মিশনের এক পুরনো বন্ধু যে আমার ফেসবুকের একটি লেখা দেখে মন্তব্য করেছে যে গরিব দুঃখী না হলে তবেই গরিব দুঃখী নিয়ে টিপ্পনি করা সোজা।
একদম খাঁটি কথা। অন্ন-চিন্তা থাকতে অন্য চিন্তা করা সত্যি সহজ ব্যাপার নয়। কাউকে উপহাস করার জন্যে নয়, শুধুমাত্র নিজের মত প্রকাশ করার জন্যই গরিব দুঃখীদের পূর্বের একটি লেখায় টেনে আনা। আমার কোনো লেখা পড়ে কেউ ব্যথিত হয়ে থাকলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী -- জানবেন সেটা আমার অনিচ্ছাকৃত অপরাধ। তা বলে ভবিষ্যতে আমার লেখা পড়ে খারাপ লাগলে আমাকে জানাবেন না -- এমনটা কিন্তু ভাববেন না; আমাকে আপনাদের সোজাসাপটা মতামত অবশ্যই জানাবেন তাতে আমার লাভ বই ক্ষতি নেই।

এই প্রসঙ্গে মিশনে আমার রুমমেট নিশানের কাছে শোনা একটা কথা মনে পড়ে গেল। এক সময় বাংলা সাহিত্যে আধিপত্য ছিল তিন বন্দোপাধ্যায়ের -- বিভূতিভূষণ, তারাশংকর আর মাণিক। (খেয়াল রাখবেন শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এঁনাদের উত্তরসূরী।) এঁদের মধ্যে মাণিক বন্দোপাধ্যায়ের লেখার বিষয় ছিল অন্যান্য সকল সাহিতিক্যের থেকে স্বতন্ত্র। অন্যান্য লেখকের গল্প পড়লে যেরকম একটা মনের মধ্যে আনন্দের রেশ থেকে যায় সেরকম অনুভূতি কিন্তু মাণিক বন্দোপাধ্যায়ের গল্প পড়লে হয় না। বরং মনের মধ্যে ক্ষোভ বা দুঃখ এসে ভিড় করে। উচ্চমাধ্যমিকে এই লেখকের "পাশফেল" গল্পটি পড়ে থাকলে সেটিকে স্মরণ করলেই বুঝতে পারবেন। এক সাংবাদিক একবার মাণিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ওনার গল্পের জন্যে নেতিবাচক বিষয় চয়ন করা নিয়ে প্রশ্ন করলে পরে তিনি উত্তর দেন যে তিনি পাঠকদের কাছে কৃতজ্ঞ তাঁর লেখা নেতিবাচক হওয়া সত্ত্বেও পাঠকরা তাঁর লেখা ভালবাসেন বলে। তবে তিনি এটাও জানান যে পাঠকরা তাঁর লেখা ভালবাসুক কি না বাসুক, তাঁর হাত থেকে ওই লেখাই বেরোবে।

আমি চেষ্টা করেও সব সময় সব দিক বজায় রেখে লিখতে পারি না। তাই এই মুহূর্তেই একটা স্বীকারোক্তি করে রাখি -- আমি পাঠকদেরকে আনন্দ দেওয়ার চেয়েও নিজে আনন্দ পাই বলেই লিখি।

Tuesday, December 1, 2015

লজ্জায় কথাটা এতদিন চেপে রেখেছিলাম, আর পারলাম না।
পিএইচডির শুরুতে ভেবেছিলাম ২০১৪-তে ডিগ্রী পাব, মাঝে ভাবতাম ২০১৫-তে ঠিক পেয়ে যাব, আপাতত ভাবি ২০১৬-তে পেলেই রক্ষে।
এরকম আকাশ-কুসুম ভাবনার খেসারত আমাকে কিছুদিন আগে দিতে হয়েছে।
জার্মানিতে যে কনফারেন্সটায় গেছিলাম তাতে IEEE-র স্টুডেন্ট মেম্বারদের জন্য ১১০ ডলার আর সাধারণ মেম্বারদের জন্য ১৯৮ ডলার ফি ছিল। IEEE-র স্টুডেন্ট মেম্বার হওয়ার সময় expected date of graduation বলে একটা field ভরতে হয়। যে সময় আমি IEEE-র স্টুডেন্ট মেম্বার হই সে সময় বোধহয় ভেবেছিলাম ২০১৫-তে ডিগ্রী পেয়ে যাব। পরে এই মিথ্যে আশার কথা বেমালুম ভুলে যাওয়ায় কনফারেন্স রেজিস্ট্রেশনের সময় আমার ক্রেডিট কার্ড থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১৯৮ ডলার কেটে নেওয়া হয় যা আমি আর ফেরৎ পাইনি। এই অগ্নিমূল্যের বাজারে ৮৮ ডলার মানে ৬০০০ টাকা গচ্চা গেল !

Monday, November 30, 2015

-- ধর, তুই একদিনের জন্য যে কোনো মানুষ হতে পারবি। তাহলে তুই কে হতে চাইবি?
-- দাঁড়া, একটু ভেবে দেখি।
-- উফ,আর কতো ভাববি? বল এবার তুই কে হবি?
-- আমি একজন গরিব দুঃখী মানুষ হব।
-- অ্যা, এ আবার কেমন ইচ্ছে? আমাকে কেও এই প্রশ্নটা জিজ্ঞেস করলে আমি বলতাম যে আমি একদিনের জন্য কোনো বড় অভিনেতা হতে চাই।
-- কেন?
-- কেন আবার ! বড় বড় অভিনেতাদের কতো টাকা থাকে। একদিনের জন্য যেখানে খুশি বেড়াতে যেতাম, যা খুশি কিনতাম, দামী গাড়ি চড়তাম। আশেপাশে ফ্যানরা অটোগ্রাফের জন্য ঘোরাঘুরি করতো। ভাবতেই কেমন শিহরণ হচ্ছে।
-- আর ওই দিনটা শেষ হয়ে গেলে তারপর কি করতিস?
-- আবার সেই পুরনো রুটিন তবে বারবার ওই একটা দিনের কথা ভাবতাম।
-- তার মানে বারবার ওই দিনটার কথা হাপিত্যেশ করতিস। জীবনের বাকি দিনগুলো ওই দিনটার তুলনায় ম্যাড়মেড়ে বলে মনে হবে বলে বেসিক্যালি জীবনের আর কোনদিনটাই উপভোগ করতে পারবি না।
-- হুমম, এভাবে তো ভেবে দেখিনি।
-- তার জায়গায় একদিন গরিব দুঃখী মানুষ হয়ে কাটালে ওই একটা দিনের কষ্ট তোকে জীবনের বাকি দিনগুলোকে প্রাণ খুলে এনজয় করতে সাহায্য করতো।

Sunday, November 29, 2015

লেখক: পর্ব ৮

আগেই লিখেছি বাবার বদলির চাকরি হওয়ার দরুণ ছেলেবেলায় ICSE, CBSE এবং West Bengal এই তিনটে বোর্ডেই পড়ার অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে। বরাবর ইংলিশ আমার ফার্স্ট ল্যাঙগোয়েজ ছিল আর বাংলা সেকেন্ড ল্যাঙগোয়েজ। মাঝখানে শুধু হাসিমারায় এয়ার ফোর্স স্কুলে পড়ার সময় হিন্দি আমার সেকেন্ড ল্যাঙগোয়েজ ছিল কারণ সেই স্কুলে বাংলা পড়ানো হতো না। তবুও আমি বাংলায় গল্প লিখতে যতটা স্বচ্ছন্দ বোধ করি ইংলিশে ততটা নয়। সম্প্রতি সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের "ইতি পলাশ" বইটা পড়ে জানলাম কোনো ভাষা আয়ত্ত করতে গেলে সেই ভাষায় শুধু লিখলে পড়লে হবে না, সেই ভাষায় স্বপ্ন দেখাটাও অভ্যেস করতে হবে। চিরকাল বাংলায় স্বপ্ন দেখে আসার ফলেই হয়তো ইংরেজি ভাষার সঙ্গে সেভাবে আত্মীয়তা গড়ে উঠলো না। তবে ইংরেজি ভাষায় গল্প লিখতে না পারা নিয়ে আমার ক্ষোভ নেই বিশেষ করে এই গল্পটার ক্ষেত্রে কেননা আমার ধারণা একমাত্র বাঙালিরাই এই গল্পের প্রকৃত স্বাদ গ্রহণ করতে সক্ষম।

নতুন অফিসে ঢুকে আমি ঠিক করেছিলাম যে সেখানকার ক্যান্টিনের সমস্ত খাবার আমি চেখে দেখব। এই ভেবে শুরুতে আমি প্রত্যেকদিন আলাদা আলাদা ব্রেকফাস্ট আর লাঞ্চ নিতাম। আমার এই অভ্যাসের কথা শুনে একদিন এক সহকর্মী সেদিন লাঞ্চে আমাকে কর্ণাটকের বিশেষ খাবার "রাগি মুদ্দে" চেখে দেখার পরামর্শ দিল। রাগি মুদ্দে খাদ্যটি কালো রঙের, গড়নটি গোলগাল অনেকটা ক্রিকেট বলের মতো। আমি প্রথমে ভেবেছিলাম বোধহয় আপেলের মতো কামড়ে খেতে হয়। আমাকে সেই সহকর্মী জানায় কন্নড়রা রুটির বদলে রাগি মুদ্দে খায় সম্বরে ভিজিয়ে। একটুখানি রাগি মুদ্দে ছিঁড়ে সম্বর ডালে ডুবিয়ে মুখে দিয়েছি। দেখি খাবারটা কেমন চ্যাটচ্যাটে যেন কাদা খাচ্ছি। চিবিয়ে চলেছি তো চলেছিই। স্বাদটাও বিস্বাদ। খানিক বাদে সেই সহকর্মী আবার জানায় যে রাগি মুদ্দে মুখে দিয়ে গিলে নেওয়াটাই নাকি দস্তুর, খাবারটাকে চিবোতে নেই। উপদেশ কার্যে পরিণত করতে গিয়ে দেখি বেশ ভয় করছে, রাগি মুদ্দে গিলতে গেলে মনে হচ্ছে খাদ্যনালীটা এই বুঝি আটকে যাবে। অতএব সেদিন লাঞ্চে কার্যত উপোস করেই থাকতে হবে বুঝতে পারলাম।
এক্ষণে আমাদের অফিসের ক্যান্টিনের একটা বৈশিষ্ট বলে রাখি। এখানে প্রত্যেকদিন আগেরদিন কর্মীরা কতোখানি খাবার নষ্ট করেছে আর তা দিয়ে কতোজন মানুষের উদরপূর্তি করা সম্ভব তার একটা হিসেব লেখা থাকে। যেমন ধরুন: "গতকাল আমরা ২৫ কিলো খাবার নষ্ট করেছি যা ১০০জন মানুষের ক্ষুধা নিবৃত্তি করতে পারতো।" এই লেখার উদ্দেশ্য যাতে লোকে খাবার নষ্ট না করে। নিঃসন্দেহে এটি একটি সাধু পরিকল্পনা।
কিন্তু সেদিন রাগি মুদ্দের জন্য আমাকে উপবাস করে থাকতে হবে বলে আমার মনমেজাজ বিগড়ে গেছে। আমি সেই সহকর্মীকে জানাই যে পরেরদিন অফিসের ক্যান্টিনে এরকম একটা লেখা লিখে রাখা উচিৎ: "গতকাল আমরা ২৫ কিলো খাবার নষ্ট করেছি যা ৯০জন মানুষের আর ১০জন কন্নড়ের ক্ষুধা নিবৃত্তি করতে পারতো।" কারণ সেদিনের নষ্ট হওয়া সমস্ত রাগি মুদ্দে যে কোনো মানুষের খিদে মেটাতে পারবে না, রাগি মুদ্দের সদ্ব্যবহার কন্নড়দের দ্বারাই সম্ভব, বাঙালিদের দ্বারা তো কোনো মতেই নয়।

পরিশেষে: আমার এই "রেসিস্ট" মন্তব্যের শাস্তিস্বরূপ সেদিন বিকেলে চায়ের সময় আমাদের গ্রুপের প্রত্যেকের জন্য বিস্কুটের যোগান আমাকে দিতে হয়েছিল। আমি নিজেই একটা পুরো প্যাকেট সাবড়ে দিয়েছিলাম, দুপুরে ভালো করে খাওয়া হয়নি কিনা।

Monday, November 23, 2015

"মাতাল" হচ্ছে সে যে মদ খায়।
আর "পেঁচো মাতাল" হচ্ছে সে যে একা একা মদ খায়।
এই পেঁচো মাতালের তকমাটা সচরাচর কেও পেতে চায় না, কারণ সংজ্ঞা অনুযায়ী পেঁচো মাতাল সাধারণ মাতালের চেয়েও এক কাঠি বাড়া।
দুই বন্ধু এখন দুই দেশে থাকে, টাইম জোনও আলাদা। কিন্তু সময় করে তারা সপ্তাহান্তে কম্পিউটারের সামনে বসে স্কাইপ খুলে একে অপরের সামনে বসে মদ খায়।
টেকনোলজির সহায়তায় টেকনিকালি তারা কেও "পেঁচো মাতাল" নয়।

Sunday, November 8, 2015

আমার দাদুকে নিয়ে কিছু ঘটনা আগে লিখেছি। যেমন ধরুন সেই ইন্টারভিউ নিয়ে ঘটনাটা। মনে না পড়লে নিচের লিংকটা দেখতে পারেন।
http://kunalbanerjee.blogspot.in/2015/02/blog-post.html

তবে সে সব ঘটনাই ভারতবর্ষের স্বাধীনতার পরের ইতিহাস। এবার দাদুকে নিয়ে প্রাক-স্বাধীনতা যুগের একটা ঘটনা বলি।

তখন দাদু কলেজে পড়ে। এমন সময় গান্ধীজী "ভারত ছাড়ো" আন্দোলনের ডাক দিলেন। গোটা দেশে স্বাধীনতার জোয়ার। সমস্ত যোয়ান ছেলের রক্ত টগবগ করে ফুটছে। তখন দাদু আর তার এক বন্ধু ঠিক করলেন তাঁরাও নিজেদের সাধ্য মতো স্বদেশী আন্দোলনে যোগ দেবেন। সে সময় মাঝে মাঝেই আন্দোলনকারীরা সরকারী অফিসের সামনে অবরোধ করতেন। দাদু আর তাঁর বন্ধু সেই অবরোধে যোগদান করবেন মনস্থির করে সরকারী অফিসের সামনে গিয়ে উপস্থিত হন। গিয়ে দেখেন ঘোড়ায় চেপে এক গোরা সাহেব আন্দোলনকারীদের বেধড়ক মারছেন। আন্দোলনকারীরা সবাই গান্ধীজীর অনুগামী তাই তারা সবাই মুখ বুজে সেই মার সহ্য করছেন। কিন্তু এই দেখে তো আমার দাদুর আর তাঁর বন্ধুর শুকিয়ে গেল। (গলা শুকিয়ে গেল।) তাঁরা চুপচাপ সেখান থেকে কেটে পড়লেন।
পরদিন দুই বন্ধু কলেজে ঢুকে দেখেন সামনেই এক গোরা প্রফেসরের বাচ্ছা ছেলে নিজের মনে খেলা করছে। সে সময় কলেজের বেশির ভাগ অধ্যাপকই সাহেব ছিলেন। তাদের কোয়ার্টার কলেজের লাগোয়া ছিল বলে তাঁদের ছেলেমেয়েরা কলেজের আশপাশেই খেলাধুলো করতো। সেই বাচ্ছাটিকে দেখে দাদুর বন্ধু আদর করে তাকে কাছে ডাকলেন। বাচ্ছা ছেলেটি সরল মনে বন্ধুর কাছে গেল, বোধহয় লজেন্স-টজেন্স পাওয়ার আশায়। দাদুর বন্ধুটি তখন আদর করার ছলে খুব জোরে সেই বাচ্ছাটির গাল টিপে দিলেন। বাচ্ছাটি ভ্যাঁ করে কেঁদে উঠতেই দাদুর বন্ধু "বন্দে মাতরম" চেঁচিয়ে উঠে সেখান থেকে ছুটে পালালেন।
কথায় আছে "বাঘে ছুলে আঠারো ঘা, পুলিশে ছুলে ছত্রিস।" সে সময় বোধ করি পুলিশে ছুলে চুয়ান্ন কি বাহাত্তর ঘা পড়তো। তাই প্রথমে ভ্যাবাচাকা খেয়ে গেলেও আমার দাদু কাল বিলম্ব না করে বন্ধুর পিছু পিছু চোঁ চাঁ দৌড় লাগালেন।

Monday, November 2, 2015

লেখক: পর্ব ৭

হাতে গরম পাতে গরম ঘটনা। অর্থাৎ ঘটনাটা আজকেই ঘটেছে। বাবা মা বেঙ্গালুরু আসবে বলে ইন্ডেন গ্যাসের অফিসে গেছি। গিয়ে দেখি দোকানের কিছু কর্মচারী আসে পাশে ঘোরাঘুরি করলেও অফিস বন্ধ। কর্মচারীদের একজনকে জিজ্ঞেস করলাম অফিস কখন খুলবে। সে জানালো বড়বাবুর আসার সময় হয়ে গেছে, এক্ষুনি চলে আসবেন আর উনি আসলেই অফিস খোলা হবে। ঘড়িতে দেখি তখন এগারোটা কুড়ি বাজছে, অফিস খোলার সময় দেওয়ালে লেখা আছে এগারোটা। কি আর করি, অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। অ্যাদ্দূর যখন এসেছি তখন গ্যাস কানেকশনটা খড়্গপুর থেকে বেঙ্গালুরুতে ট্রান্সফার করে তবেই যাব।

খড়্গপুরে গ্যাস কানেকশন নেওয়ার পেছনে কিছু কারণ আছে। আইআইটি খড়্গপুরে ঢুকে প্রথমে আমার বাস ছিল VSRC নামক এক হোস্টেলে। এই হোস্টেলটি কর্মকর্তারা বানিয়েছিলেন বিবাহিত স্টুডেন্টদের জন্যে। পরে ছাত্রসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এই হোস্টেলটি ব্যাচেলর স্টুডেন্টদের বাসভূমি হয়ে ওঠে। আইআইটির অন্যান্য হোস্টেলগুলির মতো এই হোস্টেলটির সর্বজনীন ক্যান্টিনের পরিকাঠামো না থাকায় এই হোস্টেলের কিছু কিছু ছাত্রেরা দল বানিয়ে আলাদা আলাদা মেস করে খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করেছিল। আমি ঢুকেছিলাম অমিতদার মেসে। এই মেসে থাকাকালীন জনগণের সুবিধার্থে গ্যাস কানেকশান নিয়েছিলাম নানা লোকের প্ররোচনায়। পরে আইআইটিতে অন্য হোস্টেলে বদলি হয়ে যাবার পরও আড়াই বছর ধরে আমার নামের গ্যাস কানেকশনেই অমিতদার মেসে রান্না হত। সেই নিয়ে অবশ্য আমার কোনো দুঃখ নেই, পুরনো মেসে কোনো উপলক্ষে ভালো খাওয়াদাওয়া থাকলেই আমার নেমন্তন্ন একরকম পাকা ছিল। আর আইআইটিতে পড়াকালীন উপলক্ষের অভাবও তেমন ছিল না। কনফারেন্স বা জার্নালে পেপার অ্যাকসেপ্ট হলে সেলিব্রেশন তো আছেই সাথে আরো কতোরকমের হুজুগ। একবার মনে আছে মেসের এক ছাত্র খুব নামকরা এক কনফারেন্সে পেপার পাঠিয়েছে, পেপার অ্যাকসেপ্ট হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এমন সময় সেই ছাত্রকে সবাই মালে ধরা হলো বাকিদের খাওয়ানোর জন্য -- কারণ? ওই ছাত্রের মতো ওরকম কঠিন কনফারেন্সে পেপার পাঠানোর সাহস আর ক'জনই বা দেখিয়েছে? ছাত্রটির বুকের পাটা আছে একথা তো সকলেই একবাক্যে স্বীকার করবে। ছাত্র তো যে সে সাধারণ ছেলে নয়, পুরো বাঘ বাচ্চা ! এরকম কতো কিছু বলে বাড় খাইয়ে শেষ পর্যন্ত ট্রিট আদায় করেছিলাম।

যাই হোক মূল ঘটনায় ফেরা যাক। আশায় আশায় দাঁড়িয়ে আছি, বড়বাবু বুঝি এই এলেন। অবশেষে সাড়ে বারোটার সময় বড়বাবু এলেন। অফিস খোলা হলো। আমি কেন এসেছি জিজ্ঞেস করায় ওনাকে জানালাম আমার গ্যাস কানেকশন ট্রান্সফারের ব্যাপারটা।
-- আগের ডিলারের কাছ থেকে ট্রান্সফারের কাগজ নিয়ে এসেছেন?
-- হ্যাঁ, স্যার।
-- অ্যাড্রেস প্রুফ এনেছেন?
-- হ্যাঁ, স্যার।
-- আইডি প্রুফ এনেছেন?
-- হ্যাঁ, স্যার।
-- একটা পাসপোর্ট সাইজ ছবি?
-- হ্যাঁ, স্যার। এই যে।
বড়বাবু কিছুক্ষণ আমার কাগজপত্র মন দিয়ে দেখলেন। কাগজে কোনো খুঁত খুঁজে না পেয়ে বললেন
-- আপনি তো দেখছি সমস্ত প্রিপারেশন নিয়েই এসেছেন।
এই শুনে তো আমি খুব খুশি। আন্দাজ করে সমস্ত কাগজ একবারে ঠিকঠাক নিয়ে এসেছি। পারলে নিজের পিঠ নিজেই চাপড়ে দিই। এক ঘন্টার উপর দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে -- সে সব যাকগে, সরকারী অফিসে এসে কোনো অসুবিধে ছাড়াই নির্বিঘ্নে কাজ হয়ে গেছে -- একথা কে কবে শুনেছে?
এরপর বড়বাবু আমার দিকে একটা কাগজ বাড়িয়ে দিয়ে বললেন:
-- এই নিন, এই কাগজে আমাদের মেন অফিসের ঠিকানা লেখা আছে। সেখানে গিয়ে আপনার কাগজপত্র দেখান, আপনার গ্যাস কানেকশন ট্রান্সফার হয়ে যাবে। হয়ে গেলে এখানে গ্যাসের বইটা নিয়ে চলে আসবেন, আমরা গ্যাস সিলিন্ডার আপনার ঘরে পাঠিয়ে দেব। এই অফিসটা তো শুধুমাত্র আউটলেটের জন্য, গ্যাস ট্রান্সফার ইত্যাদি সব আমাদের মেন অফিসেই হয়।
-- যাচ্চলে !!!

Saturday, October 31, 2015

আজ থেকে প্রায় চৌত্রিশ পঁয়ত্রিশ বছর কি আরও আগেকার ঘটনা, বাবা সবে চাকরিতে ঢুকেছে। একদিন রাস্তায় এক পুরনো বন্ধুর সাথে দেখা হয়ে যায়।
বন্ধু: "কি রে, তুই তো গত মাসে চাকরিতে ঢুকেছিস শুনলাম। তা, প্রথম মাসের মাইনে পেয়ে কি কিনলি?"
বাবা: "তেমন কিছু না, নিজের জন্যে অ্যাম্বাসেডর কিনেছি।"
বন্ধুর চক্ষু চড়কগাছ: "বলিস কি ! একেবারে অ্যাম্বাসেডর কিনে ফেললি?"
বাবা: "হ্যাঁ, অ্যাম্বাসেডর জোড়া বেশ ভালো।"
বন্ধু (সন্দিগ্ধ ভাবে): "অ্যাম্বাসেডর জোড়া?"
বাবা: "হ্যাঁ, বাটা একটা নতুন ব্র্যান্ড বার করেছে না ! জুতো জোড়া বেশ আরামের।"
বন্ধু (স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে): "ও, তাই বল !"
___________

আজ থেকে প্রায় দু' তিন বছর আগেকার কথা। আমি হন্তদন্ত হয়ে হোস্টেলের রুমে ঢুকছি।
পাশের রুমের বন্ধু: "কি রে, এত তাড়াহুড়ো করে কোথা থেকে ফেরা হচ্ছে?"
আমি: "হংকং থেকে।"
বন্ধুর চক্ষু চড়কগাছ: "উরিব্বাস, হংকং ! কিসে করে ফিরলি?"
আমি: "সাইকেল চালিয়ে।"
বন্ধু (সন্দিগ্ধ ভাবে): "সাইকেল চালিয়ে -- মানে?"
আমি: "আইআইটির প্রেমবাজার গেট দিয়ে বেরিয়ে তিন চার কিলোমিটার গেলে একটা "হংকং" নাম রেস্টুরেন্ট আছে না ! সেটায় গেছিলাম।"
বন্ধু (স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে): "ও, তাই বল।"

(প্রজন্ম বদলেছে মানসিকতা বদলায়নি।)

Friday, October 30, 2015

লেখক: পর্ব ৬

সম্প্রতি আমেরিকা থেকে আমাদের ল্যাবের বড়বাবু বেঙ্গালুরুতে এসেছিলেন। ইনি প্রবাসী ভারতীয় উপরন্তু ছোটবেলাটা কোলকাতায় কাটানোর ফলে বাংলাটাও ভালো বোঝেন। হাসি মস্করা করার অভ্যাসটাও আছে। এই বছর আবার ভারতে আমাদের ল্যাবের পাঁচ বছর পূর্তি হলো। সেই উপলক্ষে এক বিলাসবহুল হোটেলে একটা ছোট ফাংশন এবং খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা ছিল। ফাংশন বলতে বড় কিছু নয়, ফাংশনের পারফর্মার এবং দর্শক প্রত্যেকেই আমাদের ল্যাবের সদস্য অথবা তাদের পরিবারবর্গ। ইতিমধ্যে অফিসের ক্যান্টিনে মাঝে মাঝে আমার ব্লগের কিছু হাসির গল্প বলে থাকায় লোকজনের ধারণা হয়েছিল আমি বোধহয় একজন ভালো কমেডিয়ান তাই সবাই মিলে অনুরোধ করলো ফাংশনে কিছু জোকস বলার জন্য। আমি তো জীবনে কখনো মঞ্চে উঠে স্ট্যান্ড আপ কমেডি জাতীয় কিছু করিনি তবুও উপরোধে ঢেঁকি গিলতে হলো। ব্লগের কিছু টুকরো টুকরো গল্প জোড়াতালি দিয়ে ম্যানেজ করতে প্রস্তুত হলাম। তারই সামান্য নিদর্শন নিচে দেওয়া হলো।

আইআইটি খড়্গপুরের সঙ্গে আমার সম্পর্ক গত ছ'বছরের হলেও খড়্গপুরের সঙ্গে আমার সম্পর্ক কিন্তু প্রায় জন্ম থেকেই। যতবার মামাবাড়ি বাঁকুড়ায় যেতাম ততবার এই খড়্গপুরের উপর দিয়েই যেতে হতো। ছোটবেলায় এই স্টেশনটার নাম কেন "খড়্গপুর জং" সেই নিয়ে ভীষণ কৌতুহল ছিল -- "জং" মানে তো হিন্দীতে "যুদ্ধ", এমন অদ্ভুত নাম স্টেশনটার কে দিল? পরে জানতে পেরেছি "জং" হচ্ছে "জংশন"-এর ক্ষুদ্র রূপ। তারও পরে আইআইটি খড়্গপুরে ঢুকে উপলব্ধি করেছি যিনি এই স্টেশনটির নামকরণ করেছেন তিনি সত্যিই বিচক্ষণ ব্যক্তি। একজন ছাত্রকে আইআইটি খড়্গপুরে ঢুকে প্রথমেই যে যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হয় তা হচ্ছে হোস্টেলের খাবার খেয়ে বেঁচে থাকার লড়াই। এখানকার খাবারের কোয়ালিটি অসাধারণ ভাবে বর্ণনা করেছে ফেসবুকের একটা পোস্ট। এই পোস্টটিতে উপরে একটি ছবি আছে, নিচে আরেকটি। উপরের ছবিতে দেখা যাচ্ছে 300 (থ্রি হান্ড্রেড) সিনেমার নায়ক লিওনাইডাস চিৎকার করে বলছেন: "Tonight we dine in hell !" এই শুনে নিচের ছবিতে এক আইআইটি খড়্গপুরের ছাত্রের মন্তব্য: "ও আচ্ছা, আজ রাতে আমাদের হোস্টেলে খেতে আসছেন বুঝি?"

বলাই বাহুল্য, আমার জোকগুলি শুনে দু-একজন দর্শক সৌজন্যতামূলক হাসি উপহার দিয়েছেন মাত্র। তবে এই প্রসঙ্গে একটা তথ্য জানিয়ে রাখি যেটা আমি অনুষ্ঠান শেষে এক দর্শকের কাছ থেকে জানতে পারি: কোনো এক আইআইটি খড়্গপুরের প্রাক্তনী তিহার জেল থেকে ঘুরে এসে জানায় যে তিহার জেলের খাবারও আমাদের হোস্টেলের চেয়ে ভাল। (এই প্রাক্তনীটির পরিচয় সেই দর্শক আমাকে না জানালেও সেটা যে অরবিন্দ কেজরিওয়াল নন এটুকু তিনি জানিয়েছেন।)

Tuesday, October 27, 2015

রাস্তায় গুঁতোগুঁতি ঠেলাঠেলি কিচ্ছু নেই। স্বেচ্ছাসেবকদের লাঠি হাতে তদারকি, দাদাগিরি নেই। যানবাহন সমস্ত স্বাভাবিক গতিতে চলছে। এমনকি শব্দদূষণ বায়ুদুষণ পর্যন্ত অন্যান্য দিনের মতো। নাঃ, এবারে দুর্গাপুজোটা সেভাবে এনজয় করতে পারলাম না। তবু এবছরে বেঙ্গালুরুতে এক সিনিয়র, কিছু ব্যাচমেট, আকস্মিক ভাবে দেখা হয়ে যাওয়া এক (সস্ত্রীক) পুরনো বন্ধু ও তাদের কিছু বন্ধুদের সাথে সময় কাটিয়ে বেশ ভালো লাগলো। পুরনো রুমমেটের গাড়িতে পঞ্চাশ মাইল ঘুরে সাতটা ঠাকুর দেখা হলো। প্যান্ডেলে ঠাকুর দেখার চেয়ে বাঙালিদের খাবারের স্টলের সামনে বেশি ভিঁড় করতে দেখে খানিক নস্টালজিক হয়ে পড়লুম। কোলকাতার তুলনায় গলাকাটা দাম হলেও নস্টালজিয়া কাটানোর জন্যে আমিও খাবারের দোকানে লাইন দিলাম। উলসুর লেকের ধারে দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলে দেখি আবার কোলকাতা বুক সেলার্স গিল্ডের তরফ থেকে একটা বাংলা বইয়ের স্টল দিয়েছে। আমি তো আর নিজেকে আটকে রাখতে না পেরে কয়েকখান বইও কিনে ফেললুম। আপাতত দিনগুলো বাংলা বই পড়ে দারুণ কাটছে।

এবার একটা ইন্টারেস্টিং তথ্য জানাই -- সম্প্রতি "নির্বাচিত ত্রৈলোক্যনাথ" বইটি পড়ে জেনেছি। "যমালয়ে জীবন্ত মানুষ" সিনেমাটা নিশ্চয়ই সবাই দেখেছেন। এই সিনামাটির কাহিনীকার "প্রফুল্ল চক্রবর্তী" -- যিনি এই সিনেমাটির নির্দেশকও। তবে ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়ের "নয়নচাঁদের ব্যবসা" গল্পটির সাথে এই সিনেমার গল্পের অদ্ভুত মিল আছে। এখানেও এক জীবন্ত বাঙালিকে যমদূতেরা যমালয়ে নিয়ে আসে, মালিকের নির্দেশে এক প্রকান্ড ষাঁড় যমরাজ ও চিত্রগুপ্তকে যমপুরী থেকে বিষ্ণুলোকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায় এবং আরো কিছু অতিশয় মিল আছে যা কাকতালীয় বলে মেনে নেওয়া কঠিন। কখনো এই গল্পটি হাতের কাছে পেলে অবশ্যই পড়ে দেখবেন।

Thursday, October 15, 2015

মিশন: পর্ব ৫

এবারের গল্প "ভন্ড"-দা কে ঘিরে। এহেন নামকরণের ইতিহাস আমার জানা নেই তবে ভন্ডদা যে সর্বত্র "ভন্ড" নামেই পরিচিত ছিল এটা বেশ মনে আছে। এই কারণে ভন্ডদার আসল নামটা যে কি সেটা আজ আর শত চেষ্টা করেও মনে করতে পারছি না।
আমি যে বছর মিশনে ক্লাস ইলেভেনে ভর্তি হই, সে বছর ভন্ডদাও মিশনে কলেজের ফার্স্ট ইয়ারে ঢোকে। আমাদের দুজনেরই গৌরাঙ্গ ভবনে থাকার ব্যবস্থা হয়। যারা জানেন না তাদের বলে রাখি মিশনে hall কে ভবন বলাটাই রীতি।
কিছুদিনের মধ্যেই ভন্ডদা আমাদের ভবনের সুপারিনটেনডেন্ট মহারাজকে ম্যানেজ করে পাকাপাকি ভাবে ভবনের খাদ্য পরিবেশনকারী হয়ে ওঠে। এক্ষণে এই "খাবার পরিবেশনকারী" ব্যাপারটা একটু খোলসা করে বলা উচিৎ। আমাদের ভবনে প্রত্যেক সপ্তাহে দুটো করে রুমের অর্থাৎ মোট আটজন করে ছাত্রের উপর বাকি সমস্ত ছাত্রকে খাবার পরিবেশন করার দায়িত্ব পড়তো। কাজটা যদিও খানিক পরিশ্রমের তবুও আমরা সবাই এই দায়িত্ব পালন করার জন্যে উন্মুখ হয়ে থাকতাম কারণ পরিবেশন শেষে যেখানে অন্যান্য ছাত্ররা এক পিশ করে মাছ পেত সেখানে পরিবেশনকারীরা পেত দুপিশ মাছ তাছাড়া যেদিন ধরুন পায়েস হয়েছে সেদিন পরমান্নের অংশ জুটতো সাধারণের জন্যে বরাদ্দ অংশের চেয়ে সামান্য বেশি -- সেটাই ছিল আমাদের কাছে বিশাল বড় পাওনা।
তো, এই ভন্ডদা পাকাপাকি ভাবে খাদ্য পরিবেশনকারী হয়ে ওঠায় সে অনেকের কাছেই ঈর্ষার পাত্র হয়ে ওঠে। এর ফলে যেদিন ভন্ডদা সুপারিনটেনডেন্ট মহারাজের অনুগ্রহ থেকে পতিত হয় সেদিনটা আমাদের ভবনের অনেকের কাছেই ছিল সেলিব্রেশনের দিন। আর ঘটনাটা ঘটেও ছিল এক শুভ লগ্নে: ভগবান গৌরাঙ্গের পুণ্য জন্মতিথিতে।
সেদিন ভগবান গৌরাঙ্গের জন্মতিথি উপলক্ষে সকাল থেকেই আমাদের ভবনে বিশেষ তোড়জোড় চলছে। দিন শেষে ভবনের কমন রুমে একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বক্তৃতা, আলোচনা, গৌরাঙ্গের জীবনীপাঠ, ইত্যাদির শেষে ভবনের সুপারিনটেনডেন্ট মহারাজ ঘোষণা করলেন যে ভবনের কোনো ছাত্র যদি এই শুভ লগ্নে কোনো আবৃত্তি বা গান গাইতে চায় তাহলে সে নিঃসংকোচে মঞ্চে উঠে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে পারে। ভন্ডদা সর্বাগ্রে জানায় যে মহারাজ অনুমতি দিলে সে একটি লোকগীতি পরিবেশন করতে রাজী আছে। অতি উত্তম প্রস্তাব, মানা করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
ভন্ডদা মঞ্চে উঠে গলা পরিষ্কার করে একটি অতি পরিচিত লোকগীতি গাইতে শুরু করে: "দাদা তোর্ পায়ে পড়ি রে, মেলা থেকে বউ এনে দে।"

যদি কেও গানটি না জেনে থাকেন, তার জন্যে গানটি নিচে দেওয়া হোলো: (সুত্র: http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28781936)

দাদা পায়ে পড়ি রে
মেলা থেকে বউ এনে দে
নয়ত কলসি দড়ি দে রে
ডুবে মরি রে

তুই দাদা বউকে নিয়ে
সুখে করিস ঘর
আর আমি বউ চাইলে কেন
গালে মারিস চড়
দাদা চাস না কি বউকে নিয়ে
খেলা করি রে

তাড়াতাড়ি যা রে দাদা
মিনতি তোর কাছে
নয়ত সব বউ কিনে নেবে
পয়সা যাদের আছে

দাদা পায়ে পড়িরে

এই গানটা পুরোটা অবশ্য ভন্ডদা গেয়ে উঠতে পারেনি। গানটির প্রথম স্তবক শুনেই ব্রহ্মচর্যে ব্রতী মহারাজের মুখ রক্তিম হয়ে ওঠে। "ডেঁপো ছেলে"-কে তক্ষুনি নিচে নেমে আসতে তিনি হুকুম করেন এবং তীব্র ভর্ত্সনার সঙ্গে উপহার দেন একটি পেল্লাই কানমলা।
সে বছর ভগবান গৌরাঙ্গের জন্মতিথি অনুষ্ঠানের এখানেই সমাপ্তি, ভবনের অন্যান্য ছাত্রদের সেলিব্র্শনের শুরু।

(বিঃদ্রঃ কিছু কিছু অংশে গল্পের গরু হয়তো একেবারে মগডালে উঠে গেছে তবে সেটা নিছক পাঠকদের আনন্দ দেওয়ার উদ্দেশ্যে।)

Sunday, October 11, 2015

বাস: পর্ব ৫

বাসে এক ধরণের যাত্রী ওঠে যারা সিটে বসে মাঝে মাঝেই নিজেদের ব্যাগ ঘাঁটতে থাকে। আপনি ধরুন দাঁড়িয়ে আছেন। এমন সময় কাওকে ব্যাগ গোছাতে দেখলে স্বাভাবিকভাবেই ভাববেন ওই বুঝি একজন স্টপেজে নামার আগে নিজের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে একবার চোখ বুলিয়ে নিলো। আপনি পাশের দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদেরকে পাশ কাটিয়ে সেই বসে থাকা যাত্রীর সিটের সামনে গিয়ে হাজির হলেন। আসার পথে দু-একজনের হয়তো পা মাড়িয়ে দিলেন। সেরকম ভদ্রলোক হলে হয়তো একটা রোষপূর্ণ চাহনি দিয়ে ছেড়ে দেবে, নয়তো "দাদা, দেখে চলতে পারেন না" বা "চোখে ঠুলি হয়েছে"-- এই গোছের কিছু একটা মন্তব্য মুখ বুজে হজম করতে হবে। এই উদ্দেশ্য নিয়ে সরে এলেন যে ওই ব্যক্তি উঠলেই আপনি টুক করে তার জায়গায় বসে পড়বেন। প্রস্তুতি হিসেবে আপনি এমন ভাবে উপরের রেলিং আর সামনের সিটের গরাদটা ধরে দাঁড়ালেন যাতে আর কারুর পক্ষে আপনাকে ডিঙিয়ে ওই সিটে বসা সম্ভব না হয়। সামনের স্টপেজ এলো, আশপাশের কিছু বসে থাকা যাত্রী উঠে গেলেও আপনার সামনের যাত্রী কিন্তু উঠলেন না। আপনি ভাবলেন: "যাক গে, এই স্টপেজে নয় হয়তো পরের স্টপেজে নামবে।"  কিন্তু উনি পরের স্টপেজেও নামবেন না। আবার ওনাকে ব্যাগ গোছাতে দেখে ভাববেন: "ও, এবার বুঝি নামবে।" কিন্তু সে সব আপনার বৃথাই আশা। এদিকে আপনার পরে বাসে ওঠা যাত্রীকে  দেখবেন আপনি আগে যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন তার সামনের সিটে বসে থাকতে। দেখে আপনার কি আফশোষটাই না হবে: "ইস, যদি লোভ করে এদিকে না আসতাম।" কিন্তু এতোটা সময় এবং শ্রম যখন ইনভেস্ট করেই ফেলেছেন তখন দাঁত চেপে নিজের জায়গাতেই দাঁড়িয়ে থাকবেন। কষ্ট যখন করছেন তখন কেষ্ট লাভ আপনার হবেই এই ভেবে। কিন্তু ওই যাত্রীকে আরো বার কয়েক নিজের ব্যাগ নাড়াচাড়া করতে দেখে শেষ পর্যন্ত উপলব্ধি করবেন: "ও হরি, এ তো দেখছি থেকে থেকেই শুধু মিস কল দেয়।" অগত্যা আপনি পাশে সরে এসে আরেকটি সিটের দখল নিতে তৎপর হয়ে উঠবেন। এই সময় সেই বসে থাকা ব্যক্তি হঠাৎ নিজের গন্তব্য এসে গেছে দেখতে পেয়ে হন্তদন্ত হয়ে বাস থেকে নেমে পড়বেন। আর আপনার সাধের সিটে কোনো এক অজ্ঞাতকুলশীল যাত্রী নিজের সম্পত্তি ভেবে বসে পড়বে। আপনার এতক্ষণের প্ল্যান বানচাল হয়ে যাওয়ার দুঃখ নিয়ে আপনাকে বাকি রাস্তাটা হয়তো বাসে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই যেতে হবে।

এই সব বাসে অকারণে ব্যাগ গোছানো পাবলিকরা আমার দুঃচক্ষের বিষ -- গত সপ্তাহের অভিজ্ঞতার পর অনুভব করলাম।

Saturday, October 3, 2015

ইন্টেলে আইআইটি খড়্গপুরের আমার দুই সিনিয়র আছে -- একজনের ডাকনাম ডিডি অপরজনের পিডি। দুজনে আবার ইন্টেলের একই বিল্ডিং-এ একই ফ্লোরে কাজ করে। যারা জানেন না তাদের জন্যে বলে রাখি বেঙ্গালুরুতে ইন্টেলের মোট পাঁচটি বহুতল অফিস আছে, কাজেই আমার এই দুই সিনিয়রের সহাবস্থান খানিকটা অকস্মাৎ তো বটেই। খুঁজলে পরে তাদের মধ্যে নিশ্চয়ই আরো বেশি মিল পাওয়া যাবে তবে এই লেখা তাদের মিল নিয়ে নয় বরং গরমিল নিয়ে। এবং গরমিলের এই বিষয়টি হলো "কুকুর"।
তাহলে এবার খোলসা করে বলি। আইআইটি খড়্গপুরে আমার আর ডিডিদার ওভারল্যাপ ছিল এক সেমিস্টারের। আমরা একই ল্যাবে বসতাম। একদিন রাতে ল্যাবে শুধু আমি আর ডিডিদা রয়েছি। এমন সময় ডিডিদা আমার কিউবিকেলে এসে বলে গেল আমি যেন ল্যাব থেকে বেরোনোর সময় ডিডিদাকে ডেকে নিয়ে যাই। নির্দেশমতো আমি কাজ শেষে ডিডিদার কিউবিকেলে গিয়ে তাকে ডাকি, তারপর আমরা একসাথে সাইকেল চালিয়ে নিজেদের হোস্টেলে ফিরে আসি। আপাতদৃষ্টিতে পুরো ঘটনাটার মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু নজরে পড়ে না। তবে আমি পরে লক্ষ্য করি যেদিন রাতে শুধু আমি আর ডিডিদা শেষ পর্যন্ত ল্যাবে থাকি সেই দিনগুলোতে ডিডিদা আমাকে প্রত্যেকবার হোস্টেলে ফেরার সময় তাকে ডেকে নিয়ে যেতে বলে। এই ঘটনার বেশ কয়েকবার পুনরাবৃত্তি হওয়ার পর আমি ল্যাবের বাকিদেরকে ব্যাপারটা জানাই এবং জানতে পারি ডিডিদার নাকি মারাত্মক কুকুরের ভয়। আমাদের ল্যাব থেকে হোস্টেলে ফেরার পথে আবার কিছু কুকুর নাকি সজাগ থাকে যারা যখনই কেও একা সাইকেলে করে সেই রাস্তা দিয়ে যায় তখনই তাকে তাড়া করে। কখনও কেউ সেই রাস্তায় কুকুরের কামড় খেয়েছে বলে শোনা না গেলেও এক পাল কুকুর যদি ধাওয়া করে তাহলে বিষয়টা ভীতিপ্রদ বইকি।
তো এরকমই একবার নাকি সেই কুকুরের দল পিডিদাকে একা সাইকেলে করে ফিরতে দেখে তার পিছু নিয়েছিল। জনশ্রুতি আছে পিডিদা নাকি তখন সাইকেল থেকে নেমে, সাইকেলটাকে মাথার উপর তুলে নিজেই সেই কুকুরের পালকে বহুদূর তাড়া করে নিয়ে গেছিল। কি, পিডিদার এহেন আচরণ বিশ্বাস হচ্ছে না? আমার কিন্তু খুব বিশ্বাস হয়। পিডিদা একবার নিজের শক্তির পরিচয় দিতে গিয়ে দেওয়ালে ঘুসি মেরে নিজের হাত ভেঙ্গে ফেলেছিল -- একথা আমি বহু লোকের মুখে শুনেছি। পিডিদার আরো কতো কান্ডকারখানা আছে, সেসব বিস্তারিত ভাবে পরে বলা যাবে'খন। এক কথায় পিডিদা আইআইটি খড়্গপুরের "লেজেন্ড"।
যাই হোক, পড়লেন তো আমার দুই সিনিয়রের কথা, সোমবার অফিসে গিয়ে এরা না আমায় আবার তাড়া করে বেড়ায়। দুগ্গা দুগ্গা !

Sunday, September 20, 2015

অল্প অল্প ক্ষিদে পেয়েছে। এদিক ওদিক তাকাতে তাকাতে রাস্তা দিয়ে হাঁটছি -- যদি কোনো ছোটখাটো খাবারের দোকান চোখে পড়ে যায়।
হঠাৎ দেখি এক ভুট্টাওয়ালা একটি ছোট ছেলেকে মারতে উদ্যত। এদেরকে আমি প্রতিদিনই ঠেলাগাড়িতে করে ভুট্টা বিক্রি করতে দেখি। বাচ্ছা ছেলেটি ভুট্টাওয়ালার শাগরেদ, ভুট্টাগুলো প্রয়োজনমতো পুড়ে গেলে পর উপরে লেবু আরে সবুজ রঙের চাটনি মাখিয়ে খরিদ্দারদেরকে দেয়; কেউ ভুট্টা সেদ্ধ চাইলে নুন ছড়িয়ে পরিবেশন করে। (এই ভুট্টা সেদ্ধ জিনিষটিও খেতে বেশ, বেঙ্গালুরুতে বিক্রি হলেও পশ্চিমবঙ্গে কেন বিক্রি হয় না কে জানে? বাংলার ভুট্টাওয়ালাদের অবিলম্বে এই সুস্বাদু খাবারটি প্রবর্তন করা উচিৎ।) বাচ্ছাটি অল্পস্বল্প ইংরেজিও জানে -- টেন, হানড্রেড -- এই শব্দগুলি তাকে উচ্চারণ করতে শুনেছি, ভুট্টাওয়ালার সঙ্গে ক্রেতাদের কথাবার্তার সময়েও সে সাহায্য করে থাকে।
আমি তাড়াতাড়ি গিয়ে একটা ভুট্টার অর্ডার দিই। আমাকে দেখে ভুট্টাওয়ালাটি নিজেকে সংযত করে। পেট পুজোর সাথে খানিক পুণ্যার্জনও হয়ে গেল।

Monday, August 31, 2015

-- তোমার বিয়ে তো প্রায় এসেই গেল।
-- হ্যাঁ, এই তো সামনের মাসেই।
-- তা, হনিমুনে কোথায় যাওয়া হচ্ছে?
-- বালি।
-- উরিব্বাস, সে তো দারুণ জায়গা। কাছেই নাকি জাকার্তা, সেখানেও যাওয়ার প্ল্যান আছে নাকি?
-- না, আমি যেখানে যাচ্ছি তার কাছেই বেলুড়। ভাবছি বেলুড় মঠ থেকে একবার ঘুরে আসবো, অনেকদিন যাওয়া হয়নি।

Sunday, August 30, 2015

বেঙ্গালুরুতে থাকার একটি অসুবিধে আছে। এখানে চারদিক এতো পরিষ্কার যে সুবিধে মতো বিবেকের দংশন ছাড়া কোথাও ছোট বাথরুম করে নেব -- সে উপায়টি নেই।

Wednesday, August 26, 2015

-- ভাই, আমার লেখা তো কোথাও মনোনীত হচ্ছে না, কি করি?
-- তুই তো হাস্য-কৌতুকের গল্প লিখিস, তাই না?
-- হ্যাঁ।
-- ও সব লঘু মানের গল্প আজকাল আর চলে না, বুঝলি?
-- তাহলে কেমন গল্প চাই?
-- ওই অনেকটা খাঁটি সর্ষের তেলের মতো।
-- মানে?
-- মানে "বাঙালির চোখে জল" আনবে -- এমন গল্প।

Monday, August 24, 2015

আমি যখন স্কুলে পড়তাম তখন সাঁতরাগাছি একটা ছোটখাটো মফস্বল ছিল। কলকাতার যাত্রীরা হাওড়ায় যেত, আগেই সাঁতরাগাছিতে নেমে পড়তো না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এখনকার মতো এতো জনসমাগম, যানবাহন, দোকান-পাট ছিল না। আমরা পড়তামও সবাই পাড়ার স্কুলে, বাচ্ছা ছেলেমেয়েদেরকে কলকাতার স্কুলে পাঠানোর হিড়িকটাও তখন ছিল না। তবে মফস্বলের স্কুলে পড়লে কি হবে, দস্যিপনায় আমরা কলকাতার তাবড় তাবড় স্কুলকেও টেক্কা দিতে পারতাম। তার উপর আমাদের ক্লাসটা ছিল একেবারে বিষ ছেলেপুলেতে ভর্তি।
একদিন টিফিন পিরিয়ডে আমাদের ক্লাসে বিপুল হৈচৈ শুনে হেডস্যার ক্লাসে ঢুকে পড়েন। ওনাকে দেখেই অবশ্য আমরা সবাই চুপ করে যাই। হেডস্যার আমাদের স্কুলে শান্তি ও নিয়মানুবর্তিতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কিছুক্ষণ লেক্চার দেন। এরপর কোনো কারণে তাঁর নজর গিয়ে পড়ে আমাদের ক্লাসের দেওয়ালের উপর। নিউটনের সূত্র, তার ডানদিকে জ্যামিতিক প্রুফ, তার ঠিক উপরেই পেনসিলে আঁকা একটি রসালো ছবি আর তার ঠিক বাঁদিকেই কিছু বাছাই করা কাঁচা খিস্তি। সর্বত্র ক্লাসের দেওযালে এহেন শিল্পকলা দেখে তো হেডস্যারের চক্ষু চড়কগাছ। তিনি চেঁচিয়ে উঠলেন: "স্কুলে এসে তোমরা এসব কি শিখছো? আমরা কি তোমাদের সঠিক শিক্ষা দিতে ব্যর্থ হচ্ছি?" আমাদের শাস্তি বিধান হলো সমস্ত লেখা, সমস্ত ছবি ক্লাসের দেওয়াল থেকে ঘষে তুলে ফেললে তবে আমাদের সেদিন ছুটি হবে। আমরা আমাদের কাঠের স্কেল দিয়ে দেওয়াল ঘষতে শুরু করে দিলাম। কিছু ছেলে কোথা থেকে ঝাঁটা আর বালতি জোগাড় করে ফেললো। ঘষতে ঘষতে দেওয়ালের চুনকাম উঠে গেল, পলেস্তারা খসে পড়লো, মায় ইঁট পর্যন্ত উঁকি দিতে লাগলো। লাল-সাদা গুঁড়ো চুলে জামায় মেখে আমাদের ক্লাসের সবাই সেদিন  বাড়ি ফিরেছিলাম।

(শৌভিকদার স্মৃতি থেকে -- তবে সামান্য পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত)

Sunday, August 23, 2015

কল্পজগতে আমরা সবাই বাস করে থাকি। তারই একটা ছোট্ট নমুনা নিচে দেওয়া হলো।
মিশনে আমার রুমমেট অনির্বাণ লাহিড়ী একদিন দেখি নিজের মনে গান গাইছে। গানটা শেষ করার পর সে আমাকে জিজ্ঞেস করলো: "আচ্ছা, বল তো, এতক্ষণ যে গানটা শুনলি -- সেটা কার গলা?"
আমি: "তোর।"

Saturday, August 22, 2015

দিব্যেন্দু: পর্ব ১৩ -- বাণী

শুরুতেই বলে রাখি: শোনা কথা, সত্যাসত্যের দায় আমার নেই।

দিব্যেন্দু ইষৎ পানাসক্ত। সে মাল খাবে চার আনার কিন্তু বাওয়াল দেবে পুরো ষোলো আনা। একদিন ইচ্ছে করে মালের বোতলে শুধু sprite ঢেলে তাকে ডেকে খাওয়ানো হয়েছে। এই খেয়েও সে অন্যদিনের মতোই বাওয়ালি করছে দেখে কিছুক্ষণ পর সত্যি কথাটা তাকে জানানো হয়। সত্যি কথাটা শুনে দিব্যেন্দু কিন্তু বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে বলে ওঠে: "ওরে পাগল! নেশা কি মদে? নেশা তো মনে।"

Thursday, August 20, 2015

হঠাৎ দেখি দুটি ছোট ছেলে বেঙ্গালুরুর রাস্তায় নিজেদের মধ্যে জোরে জোরে চিৎকার করে কি কথা বলছে। এ প্রদেশের ভাষা তো আমি জানি না, তবে তাদের কথার তীব্রতা শুনে মনে হলো একে অপরকে গালিগালাজ করছে। মজার ব্যাপার হলো বাচ্ছা ছেলে দুটিকে একইরকম দেখতে, সম্ভবত দুই ভাই হবে। ওদেরকে দেখে বহুদিন আগে কলকাতায় দেখা এরকমই দুই ভাইয়ের ঝগড়া করার এক দৃশ্য মনে পড়ে গেল। পরিপক্ক বয়স না হওয়ায় সহোদরকে (চলতি ভাষায়) "বরাহ-নন্দন" বললে যে নিজেকেও তিরস্কার করা হয় -- সে বোধ তখনও তাদের হয়নি।

Wednesday, August 19, 2015

বেঙ্গালুরুর বাসে সাধারণতঃ দুটো দরজা থাকে, একটা সামনে আর একটা মাঝখানে। মাঝখানের দরজা দিয়ে উঠলে সামনেই তিনটে প্রতিবন্ধীদের সিট।
আজ বাসের সিটে বসে দেখি একজন খোঁড়া ব্যক্তি সামনের দরজা দিয়ে বাসে উঠেছেন। বাসের মাঝখান অবধি যেতে তাঁর অসুবিধে হবে বুঝতে পেরে একটি মেয়ে তাঁকে তাড়াতাড়ি সিট ছেড়ে দিল। আমি ব্যাপারটা দেখে খানিকটা অপ্রতিভ বোধ করলাম। তবে পরের স্টপেজেই সেই মেয়েটিকে নেমে যেতে দেখে আশ্বস্ত হলাম (পড়ুন: আমার পৌরুষ আশ্বস্ত হলো)।

Sunday, August 16, 2015

আইআইটি খড়্গপুরের বর্তমান ডিরেক্টর PPC স্যার গতবছর ফার্স্ট ইয়ারের ছাত্রদের প্রোগ্রামিং-এর ক্লাস নিচ্ছিলেন। ক্লাস চলাকালীন এক ছাত্রকে খানিক অমনোযোগী মনে হওয়ায় স্যার ছাত্রটিকে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞেস করেন যে সে ক্লাসে যা পড়ানো হচ্ছে তা বুঝতে পারছে কিনা। স্যারের প্রশ্নের উত্তরে ছাত্রটি মুখে কিছু না বলে ডাঁয়ে-বাঁয়ে ঘাড় নাড়াতে থাকে। ছাত্রটির প্রতিক্রিয়া দেখে PPC স্যার তাকে জিজ্ঞেস করেন যে সে নর্থ ইন্ডিয়ান না সাউথ ইন্ডিয়ান।  ছাত্রটি নিজেকে সাউথ ইন্ডিয়ান বলায় PPC স্যার নিশ্চিন্ত হয়ে বলেন: "যাক, তুমি সাউথ ইন্ডিয়ান যখন তখন তোমার ডাঁয়ে-বাঁয়ে ঘাড় নাড়ানোর মানে 'হ্যাঁ', নর্থ ইন্ডিয়ান হলে এভাবে ঘাড় নাড়ানোর মানে বুঝতাম 'না'।"

স্যারের এই "সামাজিক শিক্ষা" বেঙ্গালুরুর দোকান, হোটেল, বাস, সর্বত্র আমার কাজে লাগছে।

এই সংক্রান্ত আরেকটি ছোট ঘটনা।
ক্লাস শেষে দুই ফার্স্ট ইয়ারের ছাত্রের কথোপকথন:
-- আপনা স্যার ডিরেক্টর সাব জায়সা দিখতা হ্যায়, নেহি?
-- হাঁ ইয়ার, ম্যায় ভী সোচু ইসকে জায়সা চেহরা কিধার দেখা হু!

Thursday, August 13, 2015

বেঙ্গালুরুর জ্যাম কতোটা ভয়ানক সেটা যাঁরা একবার দেখেছেন তাঁরা নিশ্চয়ই মনে রেখেছেন, যাঁরা দেখেননি তাঁদের জন্যে বেঙ্গালুরুর জ্যামের বীভৎসতা প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে আমার সদ্যলব্ধ একটা অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিই।

একটা ফ্লাইওভারের মাথায় উঠে আমার বাস জ্যামে আটকা পড়ে গেছে। সামনে প্রচুর বাস-গাড়ি-অটোর সারি। বাস ড্রাইভার দেখি এই সময় কোথা থেকে একটা খবরের কাগজ বার করে ফেলে খুব মন দিয়ে সেটা পড়তে শুরু করে দিয়েছে। মাঝে মাঝে কাগজ থেকে মাথা তুলে সামনের ট্রাফিক এগিয়েছে কিনা দেখে নিচ্ছে, এগিয়ে থাকলে ব্রেক থেকে পা-টা সামান্য তুলে নিচ্ছে -- তাতেই বাস দিব্যি গড়িয়ে নিচের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, ড্রাইভারকে পারতপক্ষে স্টিয়ারিং নাড়াতেই হচ্ছে না। এই ভাবে ফ্লাইওভার থেকে নামার আগেই দেখলাম ড্রাইভার খবরের কাগজের পাতা উল্টে প্রায় আদ্ধেক শেষ করে ফেললো।

Sunday, August 9, 2015

আমার সেই অঙ্কের স্যার সুকুমার রায়ের কথা মনে আছে? তাকে নিয়ে আরেকটা মজার ঘটনা বলি।
একদিন উনি টিউশনে ছাত্র ছাত্রীদের প্রশ্ন করলেন: "আচ্ছা, যুগের চেয়ে অনেক এগিয়ে -- এরকম একটা আবিষ্কারের নাম বলতো?"
মাথা-টাথা চুলকেও আমরা কেউ সদুত্তর দিতে না পারায় উনি জানালেন যে "সেফটি পিন" নাকি যে সময়ে আবিষ্কার হয়েছিল, সে যুগে ওরকম সূক্ষ্ম লিভারের (Lever-এর) কাজ ভাবাই যেত না -- তাই সেফটি পিনকে যুগের চেয়ে অনেক এগিয়ে একটা আবিষ্কার বলা যেতে পারে।
এরপর স্যার জিজ্ঞেস করলেন: "আচ্ছা, যুগের চেয়ে অনেক পিছিয়ে -- এরকম একটা আবিষ্কারের নাম বলতো?"
এই প্রশ্ন শুনে তো আমরা হতবাক; "যুগের চেয়ে পিছিয়ে আবিষ্কার" -- এরকমটা  আবার হয় নাকি? এবারেও আমরা উত্তর দিতে না পারায় স্যার জানালেন যে "হাওয়াই চটি" হচ্ছে যুগের চেয়ে পিছিয়ে আবিষ্কারের একটা উদাহরণ। কারণটা কি? এর কারণ হলো হাওয়াই চটি পরে থাকা অবস্থায় পা পিছলে যাওয়ার অভিজ্ঞতা আমাদের সকলের আছে এবং ভেবে দেখলে উপলব্ধি করবেন যে প্রায় সমস্ত ক্ষেত্রে হাওয়াই চটি না পরে খালি পায়ে থাকলে হয়তো আমরা পিছলে যেতাম না। তবুও কেন যে লোকে এতো হাওয়াই চটি কেনে এই ভেবে সুকুমার স্যার সত্যি অবাক হন।

Saturday, August 8, 2015

লেখক: পর্ব ৫

কিপটে আমি কোনদিনই ছিলাম না, তবে খরচ-খরচার ব্যাপারে খানিকটা সাবধানী বলা যেতে পারে। কোনো কিছুর অপচয় আমি সহ্য করতে পারি না, বিশেষ করে পয়সা আর খাবারের। যারা আমাকে চেনেন তারা সেটা ভালো ভাবেই জানেন। যারা জানেন না, তাদের জন্যে একটা ছোট ঘটনা বলি। মিশনে আমার রুমমেট নিশান আমার চাউমিন খাওয়া দেখে বলেছিল: "তোর তো দেখছি খাবারের ব্যাপারে একাবারে 'বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচাগ্র মেদিনী'।"

পরে পয়সার ব্যাপারেও একইরকম উপলব্ধি হয়েছিল নিশানের। সেরকম একটা ঘটনা নিশানের জবানিতেই দিচ্ছি (সামান্য পরিমার্জিত করে)। এই ঘটনাটা হয়তো আপনারা আগেই পড়েছেন, এখানে লেখাটিকে "লেখক পর্ব"-এর অন্তর্গত করা হলো।

"এবার আমি একটা ঘটনা বলি, নরেন্দ্রপুরে পড়ি, নরনারায়ন সেবার দিন কুণাল, আমি আর জ্যোতি (অনির্বাণ), গেলাম লাইটহাউসে সিনেমা দেখতে। পকেটে তখন হেবি টান, কুল্লে ৪০০ টাকা হাতখরচা পাই। এর মাঝে লাইটহাউসে কুণাল বায়না ধরলো পপকর্ণ কিনতেই হবে। হলের ভেতর এমনিতেই সবকিছুর দাম বেশী। কুট্টি সাইজের একটা পপকর্ণ কেনা হোলো। যার দাম ৫ টাকা। তা কিনেইছে যখন, আমি আর জ্যোতিও দু এক দানা মুখে দিলাম।
সিনেমা শেষ করে ফেরার সময় আমরা বুঝলাম ফিরে খাওয়া যাবে না আর। তাই মহামায়াতলায় নেমে অ্যাণ্টনদার দোকানে যাওয়া হলো (যেখানে আমরা ১০% ছাড় পেতাম।) যাই হোক, দোকানে বসে হিসেব হচ্ছে চুলচেরা। কুণাল বলে কি "পপকর্ণের দাম তো পাঁচটাকা, তা আমিই যখন চেয়েছিলাম কিনতে, আমিই বেশীটা দিচ্ছি" -- অ্যাদ্দূর শুনে আমার আর জ্যোতির মুখে হাসি ফুটতে যাচ্ছিলো, তারপরই শুনলাম -- "আমি নাহয় দু টাকা দিচ্ছি, তোরা দুজন দেড়টাকা করে দিয়ে দিস" শুনে আমাদের হাসি আমরা আবার কপ করে গিলে ফেললাম।"

Tuesday, August 4, 2015

স্কুল শেষে বাড়ি ফেরার মতো আনন্দ বহুদিন অনুভব করিনি। চাকরিতে ঢুকে সেই পুরনো আনন্দটা ফিরে পেলাম।

Thursday, July 23, 2015

বুকের বোতাম খোলা -- কেত্।
পেটের বোতাম খোলা -- সংকেত: ভুঁড়ি বেড়ে যাচ্ছে।

Sunday, July 19, 2015

কলেজে মেকানিক্সের মৌখিক পরীক্ষা চলছে। দুজন ছাত্র কোনো প্রশ্নেরই সঠিক উত্তর দিতে পারছে না। এদিকে স্যারেরও তাদেরকে ফেল করিয়ে দেওয়ার ইচ্ছে নেই। অবশেষে তিনি একটা ভাল্ভের (valve-এর) ছবি দেখিয়ে ছাত্র দুটিকে জিজ্ঞেস করলেন বস্তুটি কি। এতক্ষণে এক ছাত্র "ভাল্ভ" -- এই সঠিক উত্তরটি দিতে পারে। স্যার আশান্বিত হয়ে তাকে দ্বিতীয় প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেন যে ভাল্ভটি কোন দিকে খোলে। ছাত্রটি খানিক ভেবে উত্তর দেয়: "উপরের দিকে।" স্যার হতাশ হয়ে অন্য ছাত্রটিকে একই প্রশ্ন করেন। স্যারের হতাশ চেহারা দেখে দ্বিতীয় ছাত্রটি চটজলদি উত্তর দেয়: "নিচের দিকে।" দুজনকেই ভুল উত্তর দিতে শুনে স্যার রীতিমতো ভেঙ্গে পড়েন। এক্ষণে প্রথম ছাত্রটি সাহস করে আরেকবার সঠিক উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করে বলে: "স্যার, আমার মনে হয় ওটা উপর নীচ দুদিকেই খোলে।" স্যার এবার রেগে চেঁচিয়ে উঠে বলেন: "হ্যাঁ, ওটা তো ভাল্ভ নয় -- ওটা লুঙ্গি -- উপর নীচ দুদিকেই খোলা যায়।"

Sunday, July 5, 2015

একটা সমাপতনের উদাহরণ দিই।
বাবার বদলির চাকরি হওয়ার কারণে স্কুলে পড়াকালীন আমি CBSE, ICSE এবং West Bengal -- এই তিনটি বোর্ডেই পড়াশুনা করেছি। ICSE-তে ক্লাস টেন-এ শরৎচন্দ্রের "মহেশ" গল্পটি পড়েছি, আবার সেই গল্পটাই West Bengal বোর্ডে ক্লাস টুয়েলভে পড়তে হয়েছে। এর চেয়েও অবাক হয়েছি ও. হেনরির লেখা "The Gift of the Magi" গল্পটা CBSE-তে ক্লাস সিক্সে, ICSE-তে ক্লাস টেনে এবং West Bengal বোর্ডে ক্লাস টুয়েলভে পড়তে হওয়ায়।

Saturday, July 4, 2015

প্রশ্ন: বলুন তো, একজন সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার কোথায় গিয়ে কোড লিখলে সেই কোডে কোনো ভুল থাকবে না?
উত্তর: বাগনান। বুঝলেন না? Bug none! 

Thursday, July 2, 2015

লেখক: পর্ব ৪

স্বামী বিবেকানন্দ বলে গেছেন: "জগতে যখন এসেছিস, তখন একটা দাগ রেখে যা ...।"
আমি রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র, কাজেই স্বামীজীর বাণীই আমার পাথেয়। তাই দাগ আমি রেখেছি, তাও আবার খোদ রামকৃষ্ণ মিশনের বুকেই।
তখন আমার তিন বছর বয়স। বাঁকুড়া রামকৃষ্ণ মিশনে ঢুকে বাঁদিকে সে সময় একটা পুকুর পড়তো। পুকুরে মাছ ঘুরে বেড়াচ্ছে দেখে হঠাৎ শৈশবের খেয়ালে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে পুকুরে নেমে পড়ি। পুকুরে নামি বলতে ঘাটের শেষ ধাপে নেমে দাঁড়িয়ে পড়ি। শেষ ধাপটা অবশ্য জলের স্তরের সামান্য নীচে ছিলো। তিন বছরের শিশুর কাছে সেটাই হাঁটু জল। এদিকে আমাকে পুকুরে নামতে দেখে দাদা ছুটে গিয়ে দাদুকে ডেকে নিয়ে আসে। দাদু এসে আমাকে জল থেকে তোলে। কোনো বিপদ ঘটার আগেই আমি রক্ষা পাই। কিন্তু সেই থেকে নিরাপত্তার জন্যে বাঁকুড়া রামকৃষ্ণ মিশনের পুকুরের সামনে রেলিং বসানো হয়েছে। তাতে নোটিশ ঝোলানো হয়েছে: "বিনা অনুমতিতে প্রবেশ নিষেধ।"
সেই পুকুর, রেলিং, নোটিশ বোর্ড -- সব আজও আছে, আমার এই সহজাত বিবেকানন্দানুরাগের ঘটনাটি বিশ্বাস না হলে বাঁকুড়া রামকৃষ্ণ মিশনে গিয়ে স্বচক্ষে দেখে আসুন।

Tuesday, June 30, 2015

প্রতিভা আর ফুস্কুড়ি নাকি চেপে রাখা যায় না -- এক গুরুজনের মুখে শুনেছি। বাল্যকালেই প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন এমন মনীষীর উদাহরণ অনেক আছে। বিশিষ্ট বৈজ্ঞানিকদের ছোটবেলাকার কৌতুহলজনিত বেশ কিছু কৌতুককর ঘটনা বড়দের কাছে গল্প হিসেবে শুনেছি বা বইয়ে পড়েছি। যেমন টমাস এডিসন ছোটবেলায় নিজের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী এই সিদ্ধান্তে পৌঁছে ছিলেন যে পাখিরা পোকা খায় বলেই পাখিরা উড়তে পারে। এরপর নিজের পর্যবেক্ষণ হাতে নাতে প্রমাণ করবেন বলে নিজের এক শিক্ষিকাকে জলে পোকা গুলে খাওয়াবার প্রচেষ্টা করেছিলেন। (খেয়াল করবেন এক্সপেরিমেন্টটা নিজের উপর না করে অপরের উপর করার মধ্যেও কিন্তু যথেষ্ট বুদ্ধির ছাপ আছে যা হলিউড এবং বলিউডের প্রচুর কল্পবিজ্ঞানভিত্তিক সিনেমার হিরোদের ভেতর দেখা যায় না।) এরপর একবার তিনি রাজহাঁসের একটি ডিমের উপর বসে সেটিকে বহুক্ষণ তা দিয়েছিলেন, ডিম থেকে কি ভাবে বাচ্চা বের হয় তার চাক্ষুস জ্ঞান লাভ করার উদ্দেশ্যে।
মজার ব্যাপার হলো আমাদের ডিপার্টমেন্টের এক তরুণ গবেষকও ছোটবেলায় একবার ডিমের উপর বসে এই একই এক্সপেরিমেন্ট করেছিল, তফাৎ শুধু ডিমটা রাজহাঁসের না হয়ে মুরগির ছিলো। আর একটা ছোট পার্থক্য বোধহয় আছে এডিসন আর এই ছেলেটির এক্সপেরিমেন্টের মধ্যে, এক্সপেরিমেন্ট শেষ করার পর ছেলেটির মা তাকে প্যান্ট "হলুদ" করার জন্যে ভীষণ বকেছিল; এই সম্বন্ধে এডিসনের মায়ের প্রতিক্রিয়া অবশ্য আমাদের জানা নেই। তবে বলাই বাহুল্য, এই বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ছেলেটি এডিসনের থেকে জেনে তারপর করেনি, সে সহজাত ভাবেই এই গবেষণায় ব্রতী হয়েছিলো। তাই আমাদের বিশাল আশা এই ছেলেও একদিন এডিসনের মতো বিখ্যাত হবে।

আমাদের ডিপার্টমেন্টের তরুণ গবেষকদের কথা যখন উঠলো তখন আরেক প্রতিভাধর ছাত্রের একটা ছোট ঘটনা বলি। নেপালের প্রথম ভূমিকম্পের সময় সে হোস্টেলে নিজের রুমে ছিলো। স্বাভাবিকভাবেই ভূমিকম্পের সময় তার প্রথমেই মনে হলো যে তার বোধহয় ভীষণ শরীর খারাপ হয়েছে আর তাই তার মাথা ঘুরছে। তাই আর অগ্রপশ্চাৎ বিবেচনা না করে টুক করে সে একটা প্যান ফর্টির ট্যাবলেট গিলে নিল। পরে ভূমিকম্প হয়েছে শুনে সে কিছুটা আনন্দ আর কিছুটা দুঃখ পায়। অন্যান্য ওষুধ থাকতে হঠাৎ প্যান ফর্টি খাওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলে পর সে জানায় তার সমস্ত রোগই নাকি প্যান ফর্টি খেলে সেরে যায়, অর্থাৎ প্রোফেসর শঙ্কুর ভাষায় প্যান ফর্টি হলো তার "মিরাকিউরল"।

Monday, June 29, 2015

নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে অজ্ঞতার জন্যে আমাদের প্রত্যেকের ভেতর আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহারপ্রণালী নিয়ে কম বেশি ভীতি থাকে। আমি নিজেই যেমন গাড়ির সামনে বসে প্রথমবার সিট্ বেল্ট এমন ভাবে বেঁধেছিলাম যা অভিনব ছিলো, সাথে হাস্যকরও। এই প্রসঙ্গে আরো দুটো ছোট ঘটনা বলি।

তখন সবে ল্যান্ড লাইন লোকজনের বাড়িতে ঢুকতে শুরু করেছে। এরকম সময় একবার লোডশেডিং চলাকালীন ফোনের রিং হওয়ায় আমার এক পিসী সেটিকে রীতিমত ভৌতিক ঘটনা বলে ঠাওরায়, আসলে তখন পিসীর ধারণা ছিলো অন্যান্য অনেক যন্ত্রপাতির মতো ফোনও ইলেকট্রিকে চলে।

দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটিয়ে ছিলো আইআইটির ইলেকট্রিক্যাল ডিপার্টমেন্টের এক কর্মচারী। বহুদিন আগের ঘটনা, এক ছাত্র ইলেকট্রিক্যাল ডিপার্টমেন্টের অফিসে গেছে এক পাতা প্রিন্ট নেবে বলে। তখন অফিসে শুধু এই কর্মচারীটিই ছিলো। সে ছাত্রটিকে প্রিন্ট দেওয়া যাবে না বলে জানায়। ছাত্রটি বলে সে আইআইটির ইলেকট্রিক্যাল ডিপার্টমেন্টের স্টুডেন্ট হওয়ার দরুণ অফিস থেকে প্রিন্ট নেওয়ার অধিকার তার আছে। ছাত্রটির উত্তর শুনে কর্মচারীটি ঘাবড়ে গিয়ে সত্যি কথাটা ফাঁস করে দেয়: অফিসের (একমাত্র) প্রিন্টারটিতে কেউ একজন ২৬৬ পাতা প্রিন্ট দিয়ে চলে গেছে, এদিকে অফিসে অত পাতা নেই। ছাত্রটি জানায় যে এটা কোনো সমস্যাই নয় ওই pending job-টাকে cancel করে দিলেই চলবে। ছাত্রটির কথায় কর্মচারীটির বিশ্বাস হয়না, সে জানায় যে এভাবে job cancel করলে প্রিন্টারের বিশেষ ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা থাকে। তাই সে নিজেই বুদ্ধি করে একটা পাতা জোগাড় করে সেই একটা পৃষ্ঠাতেই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ২৬৬ পাতা প্রিন্ট নেয়।

----------------

এই সংক্রান্ত আরেকটা ঘটনা মনে পড়ে গেলো। বিটেকের প্রথম বর্ষে আমার এক বন্ধু আরেক বন্ধুকে (ইয়ার্কি করে) শিখিয়েছিলো যে সিডি যেদিক করে ঢুকিয়ে ভিডিও গেম ইনস্টল করতে হয় তার উল্টো দিক করে সিডিটা ঢুকিয়ে গেমটা খেলতে হয়। দ্বিতীয় বন্ধুটি কিন্তু অজ্ঞানতা বশতঃ ভেবেছিলো এরকমটাই বুঝি নিয়ম, মানে ক্যাসেটের যেমন দুদিকেই গান থাকে খানিকটা সেরকম। 

Sunday, June 28, 2015

মেয়েটির বিয়ে হয়েছে বেশ কিছু দিন। বিয়ের পর থেকে প্রায় যোগাযোগ নেই এরকম এক ছোটবেলার বান্ধবী ফোন করেছে। এতদিন পরেও ফোনে কথা বলতে বলতে বাল্যকালের সখ্যতা আবার জমে উঠেছে। বান্ধবীটি এক এক করে মেয়েটির বাবা, মা, স্বামী, শ্বশুর প্রত্যেকের কুশল সংবাদ জিজ্ঞাসা করার পর শাশুড়ী ভালো আছেন কিনা জিজ্ঞাসা করলে পর মেয়েটি উত্তর দেয়: "হ্যাঁ, ভালো আছেন। তবে কিনা -- সব ভালো যার শেষ ভালো -- বুঝলি?"

Monday, June 22, 2015

নবদম্পতিটির যে পতি তার বর্তমানে দম ফেলার ফুরসৎ নেই। ইদানিং সে অফিসে হাজিরা দেয় বারোটা থেকে দুটো আর তিনটে থেকে পাঁচটা। আপাতত দিনে এই চার ঘন্টা বিশ্রামই তার জন্যে বরাদ্দ।

Friday, June 19, 2015

এক গ্রামে একটা মেয়ের উপর ভূতের ভর হয়েছে। মেয়েটি হাতের সামনে যা পাচ্ছে তাই ছুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলে দিচ্ছে। অবস্থা সামাল দিতে পাশের গ্রাম থেকে এক ওঝাকে ডেকে আনা হলো। অনেক চেষ্টাচরিত্র করেও সেই ওঝা মেয়েটাকে সুস্থ করে তুলতে পারলো না। অবশেষে হাল ছেড়ে দিয়ে সে বললো যে মেয়েটার উপর আসলে ভূতের নয় পেত্নীর ভর হয়েছে তাই এই সমস্যার সমাধান কোনো মহিলা ওঝার পক্ষেই সম্ভব। চারদিকে মহিলার ওঝার খোঁজ শুরু হয়ে গেলো কিন্তু বহু খোঁজাখুঁজি করেও কোথাও মহিলা ওঝা পাওয়া গেলো না। পাওয়া যাবে কি করে? পুরো সমাজটাই তো পুরুষ-তান্ত্রিক।

অনেকদিন আগে রাজীব ব্যানার্জ্জী নামক মীরাক্কেলের এক প্রতিযোগীর মুখে এই জোকটা শুনেছিলাম। সত্যি, আজও নারী পুরুষের প্রভেদ সর্বত্র প্রতীয়মান। কিন্তু নারী পুরুষের মধ্যে এই পার্থক্যকারী রেখাটি কোথায় সবচেয়ে বিরল বলুন তো? আমার তো মনে হয় ক্লাস ফোর-ফাইভ-সিক্সের ইতিহাস বইয়ের পাতায়। শুনে অবাক হচ্ছেন, তাহলে আরেকটু খোলসা করে বলি।

যে কোনো ক্লাস ফোর-ফাইভ-সিক্সের বাচ্চার ইতিহাস বইয়ের পাতা উল্টে দেখুন -- দেখবেন নারী পুরুষ নির্বিচারে প্রত্যেক ব্যক্তির ছবিতে এক মুখ দাড়ি। সে (প্রায়) মাকুন্দ চেঙ্গিস খানই হোক, পরাক্রমী রানি লক্ষ্মীবাঈ বা সুন্দরী মমতাজ, সবারই গালে শোভা পাচ্ছে একরাশ দাড়ি-গোঁফ। কেউ কেউ অবশ্য মানানসই হবে বিচার করে গৌতম বুদ্ধের মুখে ফ্রেঞ্চকাট বসিয়ে দেয়, সাথে হয়তো ডান গালে একটা বড় আঁচিল। মোদ্দা কথা, (আমার ধারণা) নীচু ক্লাসে ইতিহাসের পড়া শোনার চেয়ে শ্মশ্রু-গুম্ফ অঙ্কন শিল্পেই ছাত্র ছাত্রীদের মনোযোগ থাকে বেশি। এ বোধ হয় একধরণের বয়সোচিত মহামারী এবং শিশু বলেই এদের ভেতর কোনো বৈষম্য নেই।

Thursday, June 18, 2015

হিন্দু সমাজের অবক্ষয়ের পেছনে ব্রাহ্মণদের অবদান কতখানি সেই নিয়ে দুপুরে মেস সরগরম।  ব্রাহ্মণসন্তান হিসেবে আমারও কিছু বক্তব্য রাখা উচিৎ মনে করে আমি সকলের দৃষ্টি ব্রাহ্মণদের এমন একটি কৃতিত্বের প্রতি আকর্ষণ করলাম যা অন্যান্য কোনো ধর্মযাজক করে উঠতে পারেনি।
প্রত্যেক ধর্মের ভিত্তিই হচ্ছে মানুষের পাপ পুণ্যের হিসেব করা এবং সেই অনুযায়ী পুরস্কার বা শাস্তি প্রদান। তাই স্বভাবতই এই পাপ পুণ্যের যদি একটি মাপকাঠি নির্ধারণ করা যায় যাতে সহজে লঘু গুরু প্রভেদ করা সম্ভব, তাহলে সত্যিই একটি বড় জনহিতকর কার্য হয়। আপাতদৃষ্টিতে এই কার্য অসাধ্য বলে মনে হলেও আমাদের অগ্রজ ব্রাহ্মণেরা ঠিক এই কাজটাই করে দেখিয়েছেন এবং এই মাপকাঠির একক এমন একটি বস্তু যাতে কম বেশি ধার্য করা অতি সহজসাধ্য: "মূল্য"।
বাড়িতে অনুষ্ঠান নিয়মনিষ্ঠ ভাবে করতে পারছেন না? কোনো ব্যাপার না, অমুক মূল্য দিলেই চলবে। সমস্ত আচার মেনে পূর্বপুরুষের শ্রাদ্ধ্যশান্তি করার সঙ্গতি নেই? ঠিক আছে, তমুক মূল্য দিলেই সুলভে উদ্ধারের পথ বাৎলে দেওয়া যাবে'খন। কি বললেন, একেবারে পুরো টাকা জোগাড় করতে পারছেন না? ও.কে. বস, আজকালকার ইএমআই-এর যুগে এটা কোনো সমস্যাই নয় -- কিছু সহজ কিস্তিতে শোধ করে দিন পিতৃ ঋণ। দস্তুরমতো অনুষ্ঠান আয়োজন করার মতো সময় বা ইচ্ছের অভাব? কুছ পরোয়া নেহি, আপনাদের মতো busy মানুষদের কথা মাথায় রেখেই সঠিক মূল্যের প্যাকেজ রয়েছে এর সমাধান হিসেবে।
এরপর এই মূল্যের অঙ্কটা দেখে একটা বাচ্চাও পাপ পুণ্যের খতিয়ান করে দিতে পারবে।

Wednesday, June 10, 2015

ম্যাগি ব্যান হয়ে যাওয়ায় এক মর্মাহত ব্যক্তির মন্তব্য: "যাঃ, রান্না জানি কিনা জিজ্ঞেস করলে একটাই রান্নার নাম বলতে পারতাম -- সেটাও ভগবানের সইল না।"

যদিও এই মন্তব্য আমার নয় তবুও পাঠকগণ নিজেদের সুবিধার্থে বক্তার জায়গায় আমার চেহারাটা কল্পনা করে নিতেই পারেন।

Monday, May 25, 2015

আজকালকার যুগে যেখানে বিনা প্রয়োজনে কেউ দু-চারটে ভালো কথা পর্যন্ত বলে না, সেখানে উচ্চমাধ্যমিকের মতো বোর্ডের পরীক্ষায় এমনি এমনি ৫ নম্বর দিয়ে দেবে এ কথা কি বিশ্বাস করা যায় ? কিন্তু সত্যি সেরকমটাই হয়েছে। উচ্চমাধ্যমিকে ৭৪৫ নম্বর পাওয়া এক ছাত্র যাতে স্টার পেতে পারে তাই পশিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক পর্ষদ তাকে অতিরিক্ত ৫ নম্বর দান করেছে। না, এই ছাত্র কোনো হোমড়াচোমড়ার ছেলে নয়; উচ্চমাধ্যমিকে ৭৪৫ থেকে ৭৪৯-এর মধ্যে যদি কোনো ছাত্র বা ছাত্রী নম্বর পেয়ে থাকে তাহলে তাকে স্টার পাওয়ার জন্যে বাড়তি নম্বরটুকু দিয়ে দেওয়াই এক সময় রীতি ছিল। বিশ্বাস না হলে নিচের রিপোর্ট কার্ডটি দেখুন, বিভিন্ন বিষয়ের নম্বরগুলি পৃথক ভাবে যোগ করলে যোগফল দাঁড়াবে ৭৪৫ কিন্তু পরিশেষে তাকে ৫ নম্বর award করা হয়েছে যার ফলে তার মোট নম্বর দাঁড়িয়েছে ৭৫০। আমার সোর্সের পরিচিতি গোপন করার জন্যে তার নামটি রিপোর্ট কার্ড থেকে ফটোশপ করে বাদ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কথা দিচ্ছি নম্বরগুলি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।



Sunday, May 24, 2015

ভূতের ভোট -- শুভ্রাংশু মণ্ডল

হঠাৎ সেদিন ভূত সমাজে রাতদুপুরে সোরগোল,
তেঁতুলগাছের শাঁকচুন্নী করেছে নাকি গন্ডগোল ?
ওপাড়ার ওই বটগাছের মামদো ভূতের ছানা,
মোড়ের মাথায় ছিল তার নিত্য আনাগোনা ।
সে নাকি এনেছে খবর উড়িয়ে সব রটনা,
শাঁকচুন্নী ভোট দিয়েছে এই হলো ঘটনা।
বেলগাছেতে বেম্মদত্তি বেজায় গেল চটে,
উঠলো বলে: "সভা বসাও বিচার হোক তবে !"
মাঠের মধ্যে বসলো সভা, এলো ভূতের দল,
"শাঁকচুন্নী, তুই এমন পাপ করলি কেন বল ?"
ওপাস থেকে উঠলো বলে গলাকাটার ভাই:
"এসবে তো শাঁকচুন্নীর কোনো দোষ নাই ।
এসব নাকি আকছার হয়, নয়কো অনাসৃষ্টি,
নিয়ম মেনে ভোট পড়ে যায় দেখে ভোটার লিস্টি ।
এপাড়ার মদন, খগেন, ওপাড়ার ফাটা, কলকে,
সবার নামেই ভোট পড়েছে স্কুলের বুথে কালকে ।
এসব ওই মানুষগুলোর নোংরা কারসাজি,
ভোটের জন্য ভূতগুলোকেও বাঁকাতে তারা রাজি ।"
সব শুনে বেম্মদত্তির চক্ষু চড়কগাছ,
উঠলো বলে: "মামদো ছানার বিচার হবে আজ ।
এসব হলে এর মধ্যে শাঁকচুন্নীর কি দোষ ?"
মামদো ছানার উপর পড়লো বেম্মদত্তির রোষ ।
চাপের মুখে করলো স্বীকার মামদো ভূতের ছানা,
আসলে ওই শাঁকচুন্নী তাকে পাত্তা দিত না ।
এসব নাকি মোড়ের মাথার চ্যাংড়াগুলোর বুদ্ধি;
বিচার সভা রায় দিল মামদো ছানার শুদ্ধি ।
পঁচা ডোবায় ডোবাও তাকে, কান মুলে দাও বেশ,
এবারের মতো বিচার সভা এখানেই শেষ।

Wednesday, May 20, 2015

বাংলার "গোঁ" = ইংলিশে "Ego" ?

Tuesday, May 19, 2015

অনেক কথা আমরা অন্যের কাছে গোপন করি পাছে সে কথা প্রকাশ করলে লোকে আমাকে নিয়ে উপহাস করবে, এই ভেবে। কিন্তু সে সব কথা বলার পর অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় গোপনীয়তার কোনো প্রয়োজনীয়তাই ছিল না কারণ শ্রোতারা নিজেরাও ভুক্তভোগী। এরকমই এক ঘটনা ঘটেছিল আমার জীবনে।
আমি কখনও কখনও স্বপ্ন দেখতাম যে আমি ওপর থেকে নিচে পড়ে যাচ্ছি আর ঠিক তারপরই কেঁপে উঠে আমার ঘুমটা ভেঙ্গে যেতো। এই কথা একবার বন্ধুদের মধ্যে বলার পর দেখি সবাই অবাক কারণ সবাই এই একই রকম স্বপ্ন দেখেছে; এই প্রসঙ্গটা উত্থাপন করায় সকলে পরস্পরের একই অভিজ্ঞতার বর্ণনা শুনে সকলেই নিশ্চিন্ত হই।
ছোটবেলার এই ঘটনাটা কিছুদিন আগে আরেক বন্ধুকে বলায় সে স্বপ্নে এই ধরণের অনুভূতির একটা সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দিল। মানুষ সভ্য হওয়ার আগে বহুদিন arboreal life অর্থাৎ বৃক্ষবাসীর জীবন যাপন করায় গাছ থেকে পড়ে যাওয়ার ভীতিটা মানুষের মজ্জাগত হয়ে গেছে, তাই অবচেতন মনে আজও মানুষ এই শূন্যে পড়ে যাওয়ার স্বপ্নটা দেখে।
পরে ইন্টারনেটে ঘেঁটে দেখি এ ধরণের পড়ে যাওয়ার স্বপ্ন প্রায় সর্বজনীন তবে arboreal life-এর ব্যাখ্যাটা কোথাও পাইনি, কিন্তু এই ব্যাখ্যাটা একেবারে ফেলে দেওয়া যায়না বলে মনে হওয়ায় মনের কথাটা আপনাদের সাথে ভাগ করে নিলাম।

Sunday, May 17, 2015

এবার রাজনীতির সূত্র ধরে স্রেফ নীতি সম্পর্কিত একটা পৌরাণিক গল্প বলি।

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের আগে হস্তিনাপুরের মন্ত্রী বিদুর voluntary retirement অর্থাৎ স্বেচ্ছা অবসর গ্রহণ করেন। তিনি কৌরবদের সেনাপতি ভীষ্মকেও পান্ডবদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার থেকে বিরত থাকার জন্যে মন্ত্রণা দেন। ভীষ্ম উত্তরে বলেন যে তিনি ভালো করেই জানেন যে যুধিষ্ঠির দুর্যোধনের চেয়ে সুযোগ্য রাজা এবং যুধিষ্ঠিরের দাবিও ন্যায্য কিন্তু ভীষ্ম প্রতিজ্ঞা করেছেন "হস্তিনাপুরের রাজসিংহাসনকে রক্ষা করবো", তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও দুর্যোধন যেহেতু এই মুহূর্তে হস্তিনাপুরের রাজা সেহেতু বিদুরের অনুরোধ রক্ষা করতে তিনি অপারগ। এর প্রত্যুত্তরে বিদুর বলেন: "নীতিরও একটা আয়ু আছে"।

Friday, May 15, 2015

সাম্যবাদের সূত্র ধরে রাজনীতি সম্পর্কিত একটা ছোট ঘটনা বলি।

আমার এক (সর্বজ্ঞ) বন্ধু: "রাজনীতি" মানে জানিস ?
আমি: যদ্দূর মনে হয় -- রাজার নীতি।
বন্ধু: না, হলো না।
আমি: তবে কি -- রাজ্য চালানোর নীতি ?
বন্ধু: ইদানিং এই অর্থেই "রাজনীতি" শব্দটা ব্যবহার হয় ঠিকই, কিন্তু আসল মানে এটা নয়।
(খানিক মাথা চুলকিয়ে) আমি: নাহ, আর তো কিছু মাথায় আসছে না, তুইই বলে দে মানেটা।
বন্ধু: "রাজনীতি" মানে হলো -- নীতিদের রাজা।

Wednesday, May 13, 2015

সাম্যবাদ (Communism) কি ?
"আমার" উত্তর: সাম্যবাদ হলো যৌথ পরিবার (joint family)-র মতো যার ভিত্তি হচ্ছে "প্রত্যেক সদস্য দেবে সাধ্য মতো কিন্তু নেবে প্রয়োজন মতো"।

(যে কারণে যৌথ পরিবার এখন দুর্লভ, ঠিক সেই কারণেই সাম্যবাদের দৃষ্টান্তও আজ বিরল।)

Sunday, May 10, 2015

আজ বিশ্ব মাতৃদিবস, সেই উপলক্ষে নিচের লেখাটি দেওয়া হোলো।
-----------------------------------

"সেসব দিনের কথা" -- মৈনাক ঠাকুর

আজকে বলি সেসব দিনের কথা,
কবিতায় তখন মিলতো নাকো ছন্দ।
আজকে বলি সেসব দিনের কথা,
বাবার যখন কারখানাটা বন্ধ।।

তখনো আমার স্বপ্ন ছিল রঙিন,
দু'হাত দিয়ে চাঁদ ধরতাম রাতে।
ইস্কুলেতে খেতাম নাকো টিফিন,
বছর পাঁচেক আলু সেদ্ধ ভাতে।।

মা বলতো: "শোন রে ওরে খোকন,
সূয্যি ডোবে, আবার সূয্যি ওঠে"।
আমি বলতাম: "মিছেই করছো গোপন,
খাবার ঘরে কিচ্ছুটি নেই মোটে"।।

পুজোর জামা? বলছি তবে শোনো,
মায়ের কাছে ভীষণ বায়না সেবার:
"একটা ধুতি নিজেই তুমি বোনো,
নতুন ধুতি পরবো আমি এবার"।।

মায়ের তখন নতুন সেলাই মেশিন,
আওয়াজ আমার এখনো কানে বাজে।
পুজোর আগে শব্দ আরো বেশি,
নিজহাতে মোরে সাজালো নতুন সাজে।।

সেসব কথা বড্ড মনে পড়ে,
তিনজনাতে লড়াই করে বাঁচা।
দেয়ালে তোদের পিঠ ঠেকেছে ওরে,
হেলান দিতে শিখতে হবে বাছা।।

Friday, May 8, 2015

নিচের লেখাটি মৈনাকের। আমি স্রেফ ওর ইংরেজি হরফগুলিকে বাংলায় লিখেছি, আর কিছু যতিচিহ্ন পরিবর্তন করেছি।
---------------------------------------------

নিজেকে কখনোই জাত গল্পকথক হিসেবে দাবি করি নাই, বাচালপনাও কখনো করিয়াছি বলিয়া মনে পড়ে না। তবুও বৃষ্টি হইলে গল্প করিতে ইচ্ছা হয় -- মজার, অদ্ভুতুড়ে কিম্বা রহস্য গল্প। আমি একলা মানুষ, গল্প করিবার লোক নাই, তাই আপনাদের বারবার বিরক্ত করিয়া থাকি। সবার জীবনেই কিছু না কিছু অভিজ্ঞতা রহিয়াছে যাহা অন্যের সহিত ভাগ করিয়া লইলে সাময়িক আনন্দপ্রাপ্তি ঘটে, যাহারা একগাদা সময় লইয়া বসিয়া আছেন কিছুই করিবার নাই তাহাদের জন্যে আজকের গল্পটি। অভিজ্ঞতা অনেক ভাবে অর্জন করা যায়, মূলতঃ পাঁচটি ইন্দ্রিয়ের দ্বারা, এইটি আমার শ্রবনেন্দ্রিয়ের দ্বারা প্রাপ্ত, কাজেই একে ঠিক "সত্য ঘটনা অবলম্বনে" শ্রেণীতে  ফেলা যায় না।
গণিত লইয়া পড়াশুনা করার কারণে বেশ কিছু গণিতজ্ঞের সাহচর্য লাভের সৌভাগ্য (বা দুর্ভাগ্য) আমার হইয়াছে। এই গল্পের নায়কও এক উঠতি সম্ভাবনাময় গণিতজ্ঞ, ঠিক কিভাবে তাহার অল্পের জন্যে Fields (ফিল্ডস) পুরস্কারটি হাতছাড়া হইয়াছিল আজ তারই বিবরণ করিব। এইখানে বলিয়া রাখি, "ফিল্ডস মেডেল"-কে বলা হয় গণিতের নোবেল পুরস্কার। গণিত বিশারদরা অনেক সময় তাচ্ছিল্যের সুরে বলিয়া থাকেন যে "কি আর করবো ভায়া, যে বিষয়ে গবেষণা করি তাতে তো আর আমাদের নোবেল দেওয়া হয় না", যেন নোবেল দেওয়া হইলেই তিনি পাইতেন, শুধু দেওয়া হয়না বলিয়াই আজ পর্যন্ত তাহার কোনো পুরস্কার কপালে জোটে নাই। যাহা হউক, তবুও সত্য অস্বীকার করা যায় না, গণিত বিভাগে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার রীতি নাই, এই জন্যে গণিতজ্ঞেরা নিজদিগকে বেশ খানিক পৃথক জ্ঞান করিয়া থাকেন।

আমার এই মিত্র গণিতজ্ঞটি তখন ভারতের এক অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পাঠ্যরত। সময়টা এই শতকের প্রথম দিক, তখনো ইন্টারনেট এতো বারোয়ারী হয় নাই, লাইব্রেরিতেই ছাত্রেরা বই-খাতা-কলম সহযোগে পড়াশুনা করিত। আমরা অনেকেই জানি যে স্নাতকোত্তর বিজ্ঞান বিভাগে প্রায় সব প্রতিষ্ঠানেই "ফাইনাল ইয়ার প্রোজেক্ট" বলিয়া একটি বস্তু আছে। যাহারা B.Tech করিয়াছেন তাহারা সহজেই ব্যাপারটি ধরিতে পারিবেন। যাহারা করেন নাই, তাহাদের জন্যে বলিয়া রাখি, ইহাকে খানিকটা উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তিপ্রাপ্তির সহিত তুলনা করা যায়, সুসন্তান ও কুসন্তান সবাই সম্পত্তির অধিকারী, সকলকে সন্তুষ্ট করিয়া কোর্স শেষ করাই সম্ভবত এই বিষয়টিকে পাঠ্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করার একমাত্র কারণ বলিয়া ঠাহর হয়। বেকায়দার কোনো অধ্যাপকের খপ্পরে না পড়িলে, কখনো কেহ এই প্রোজেক্ট যত্ন সহকারে সৎভাবে করিয়াছে বলিয়া শোনা যায় না। তবুও এটি আছে। এই প্রোজেক্ট শেষে ছাত্রটিকে সর্বসমক্ষে একটি presentation দিতে হয়।.সাধারণতঃ সকলে এই বিষয়ে বেশ ভালো নম্বর পাইয়া থাকে। এই প্রোজেক্ট কোনো এক অধ্যাপকের তত্ত্বাবধানে এক সেমিস্টার (কখনো বা এক বৎসর) যাবৎ করিতে হয়, অধিকাংশ সময়ে অধ্যাপকটি পরীক্ষার দিন ছাত্রটিকে প্রথমবার দেখিতে পান, এবং তার presentation-এ নিজের নাম দেখিয়া কিঞ্চিৎ বিস্মিত হন। এমনি এক প্রোজেক্ট লইয়াছিল আমার গণিতজ্ঞ বন্ধুটি, তাহাদিগের গণিত বিভাগের Pure Mathematics-এর এক অধ্যাপকের নিকট। এই অধ্যাপকটি খুব নামজাদা কেহ নহে, তবে তার হাতে নম্বর পাওয়া বেশ সহজ বলিয়া ছাত্রদের তাহার দিকে ঝোঁক কিঞ্চিৎ বেশি ছিল। সেমিস্টার শুরুর সময় এই অধ্যাপক আমার বন্ধুটিকে অজ্ঞাত কোনো বই থেকে একটি প্রবলেম দিয়া বলেন যে এই প্রবলেমটি উদ্ধার করিতে পারিলেই তাহার ফাইনাল ইয়ার প্রোজেক্ট খতম। আমার বন্ধুটির জানা ছিল না যে ওই প্রবলেমটি আসলে বিশ্বের ২০টি অসমাধিত (unsolved) প্রবলেমের মধ্যে একটি, যেটি সমাধান করিতে পারিলে তাহার ফিল্ডস মেডেল আটকায় কার বাপের সাধ্যি। আমার ব্যক্তিগত ধারণা অধ্যাপকটিও এ সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। তবু ভালো ব্যাপার এই যে বন্ধুটি এ ব্যাপারে অজ্ঞাত থাকাতে সে কয়েকটি বই লইয়া লাইব্রেরিতে বসিয়া কয়েকবার প্রবলেমটি সমাধান করার চেষ্টাও করিয়াছিল। সত্যিকারের অসমাধিত প্রবলেম দিয়াছে জানিলে হয়তো সে তত্ক্ষণাৎ মূর্ছা যাইতো। এই অসমাধিত প্রবলেমগুলি আবার আকারে প্রকারে গ্রাম্য তরুণীর ন্যায় সরল হয়, দেখিলেই মনে হয় নির্জনে একটু আলাপ করিলেই সমস্তটা বুঝিতে পারিব কিন্তু আদতে বিশ্বের দুঁদে গণিত বিশেষজ্ঞরা শতাব্দী যাবৎ চেষ্টা করিয়াও তা সমাধান করিতে পারে নাই। যাহা হউক, আমার বন্ধুটি কয়েকবার চেষ্টা করিয়া বিফল হইয়া শেষে ক্ষান্ত হয় এবং সেমিস্টার শেষে কিছু একটা প্রোগ্রাম লিখিয়া প্রবলেমটি যে কয়েকটি ক্ষেত্রে সিদ্ধ হইতেছে তাহা দেখাইয়া কয়েক পাতা presentation তৈরী করিয়া অধ্যাপকদের বাহবা লাভ করে। বেশ একটি সম্মানীয় নম্বর লইয়া স্নাতকোত্তর ডিগ্রীও সম্পন্ন করে। কথায় বলে যে "ignorance is bliss"। কেহই জানিতে পারে না যে প্রবলেমটির আসল মাহাত্ম্য বা গভীরত্ব কতখানি। নিয়মমাফিক আমার বন্ধুটির নাম তাহাদের গণিত বিভাগের ওয়েবসাইটে স্নাতকোত্তীর্ণ ছাত্রদের তালিকাভুক্ত করা হয় এবং তার নামের পাশে "প্রোজেক্ট" হিসেবে সেই প্রবলেমটিও থাকে, তদুপরি "successfully completed"-ও লেখা হয়।
এর প্রায় বছরখানেক বাদে, রাশিয়ার এক অধ্যাপকের কাছ থেকে আমার বন্ধুটি একটি ইমেল পান। তাতে লেখা থাকে যে উনি "Clay Mathematical Institute"-এর একজন কর্ণধার এবং সে জানতে পারে যে ওই অসমাধিত প্রবলেমটি সমাধান করার জন্যে বেশ কয়েক মিলিয়ন ডলার পুরস্কার আছে, তাই ওই অধ্যাপক প্রবলেমটি সে কিভাবে সমাধান করিয়াছে সে বিষয়ে আলোচনা করিতে ইচ্ছুক। অধ্যাপকটির আবার ধারণা হইয়াছে যে আমার মিত্রটি নিতান্তই উদার যে প্রবলেমটি সমাধান করিয়াও তার প্রাপ্য পুরস্কার দাবি করে নাই। এই ইমেলটি পাওয়ার পর আমার মিত্রের টনক নড়ে। সে বেশ ভালো করিয়া খোঁজ খবর লইয়া জানিতে পারে যে তার প্রোজেক্টটি আসলে ছিল একটি অসমাধিত প্রবলেম যেটি সে "successfully complete" করিয়াছে। কিন্তু এখন সে ওই রাশিয়ার অধ্যাপককে কি করিয়া বুঝাইবে যে সমাধান সে কেমনে করিয়াছে। এ তো একপ্রকার জাতীয় লজ্জা। ওই অধ্যাপকের ভারতীয় ছাত্র সম্পর্কে কি ধারণা হইবে তাহা ভাবিয়া সে প্রহর গুনিতে থাকে। সে কিভাবে এই সমস্যা  থেকে বাহির হইয়াছিল তাহা আলোচনা করা এই গল্পের উদ্দেশ্য নহে। আমার বন্ধুর মতন নিরীহ এক গণিত বিশেষজ্ঞ যে এই প্রকার সমস্যার সম্মুখীন হইতে পারে তাহাই আশ্চর্যের। আসলে যে কোনো প্রবলেমই আমাদের দেওয়া হোক না কেন, তাহাকে হালকাভাবে নেওয়াই আমাদের অভ্যাস, আমরা পরে পস্তাতে প্রস্তুত, কিন্তু সাময়িক ভাবে উতরে যাওয়াটাই আমাদের প্রধান ও প্রাথমিক উদ্দেশ্য।
"You can fool all the people some of the time, and some of the people all the time, but you cannot fool all the people all the time." -- Abraham Lincoln

Thursday, May 7, 2015

র‌্যাগিং: পর্ব ৩

র‌্যাগিং নিঃসন্দেহে একটি স্পর্শকাতর বিষয় যাকে নিয়ে রম্যরচনা লেখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। র‌্যাগিং হচ্ছে জুনিয়রদের সর্বনাশ এবং সিনিয়রদের পৌষমাস উপভোগ করার একটি মাধ্যম। তবুও সাহস করে এই বিষয়ে প্রায় এক বছর পর আরেক কিস্তি লিখতে বসেছি। আশা করি, আগেকার মতো এবারও আমার লেখা আপনারা হালকা মেজাজেই নেবেন; পাঠককে শুধুমাত্র আনন্দ দেওয়াই এ লেখার উদ্দেশ্য, কোনো ভাবেই র‌্যাগিংকে প্রশ্রয় দেওয়া নয়।

এবারের মূল বিষয় হচ্ছে আনুষ্ঠানিক ভাবে সিনিয়রদের দ্বারা জুনিয়রদের র‌্যাগিং থেকে মুক্তি প্রদান। অন্যান্য অনেক কলেজের মতো আমাদের কলেজেও যেমনি নিয়ম ছিলো "Freshers' Welcome" অনুষ্ঠানটির পর আর কোনো সিনিয়র কোনো জুনিয়রকে র‌্যাগিং করবে না। এর পরেও যদি কোনো সিনিয়রকে কোনো জুনিয়রের উপর অন্যায় নির্যাতন করতে দেখা যেতো তাহলে কলেজের স্টুডেন্ট ইউনিয়নের তরফ থেকেই সেই সিনিয়রের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হতো। সব কলেজে অবশ্য এরকম কোনো নির্দিষ্ট দিন থেকে র‌্যাগিং বন্ধ করার প্রথা থাকে না। একটি কলেজে যেমনি নিয়ম আছে কোনো সিনিয়র কোনো জুনিয়রকে র‌্যাগিং করলে পর, তাকে জুনিয়রটির খাতায় কিছু নম্বর দিয়ে সই করে দিতে হবে। এই ভাবে কোনো জুনিয়রের যদি একশো নম্বর আয় হয়ে যায় তাহলে তার তত্ক্ষণাৎ র‌্যাগিং-এর হাত থেকে মুক্তি। শুনেছি এই কলেজে নাকি কিছু কিছু জুনিয়ররা তাড়াতাড়ি র‌্যাগিং থেকে খালাস পাওয়ার জন্যে সিনিয়রদের কাছে গিয়ে নিজেরাই বলে: "Rag me"।

আবার মূল বিষয়ে ফিরে আসা যাক, অর্থাৎ সেই সব কলেজের কথায় আসা যাক যেখানকার ঐতিহ্য হচ্ছে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে র‌্যাগিং-এর অবসান ঘটানো। উত্তর বঙ্গের একটি বেসরকারী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে যেমনি প্রথম বর্ষের শেষে ছাত্ররা একটা সারিতে মিছিল করে গিয়ে শহরের একটি বিশেষ পানা পুকুরে ডুব দিয়ে উঠে নিজেদের পাপস্খালন করে। অন্যদিকে হাওড়ার একটি সরকারী কলেজে এই সমাপ্তি অনুষ্ঠানটি হচ্ছে একটি জুনিয়র বনাম সিনিয়র ফুটবল ম্যাচ। আপাতদৃষ্টিতে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা সম্প্রীতিপূর্ণ মনে হলেও এই খেলার একমাত্র ব্যতিক্রমী নিয়মটি হলো খেলা চলাকালীন যদি কোনো জুনিয়রের পা সিনিয়রের গায়ে লেগে যায় তাহলে তাকে অবিলম্বে মাঠের মধ্যে সিনিয়রটির পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতে হবে।

Wednesday, May 6, 2015

আচ্ছা, বলুন তো, কোন প্রাণীকে শৈশবে দেখলে ভয়, যৌবনে দেখলে রাগ আর পুজোর সময় দেখলে মায়া হয় ?
পারলেন না তো ? উত্তরটা হলো "পুলিশ"।
বহুদিন আগে কোনো এক সংবাদ পত্রে পড়া এই প্রশ্নোত্তরটা হঠাৎ করে মনে পড়ে গেলো তারাপদ রায়ের "পুলিশ" নিয়ে একটি রম্যরচনা পড়ে।
রচনাটির শুরুতেই বলা আছে: "মাছের মধ্যে ইলিশ, আর মানুষের মধ্যে পুলিশ।" স্বাভাবিক ভাবেই এরপর মৎস সমাজে ইলিশ আর মনুষ্য সমাজে পুলিশের কি মিল তা জানতে আমি আগ্রহী হয়ে পড়ি কিন্তু তা নিয়ে বিন্দুমাত্র আলোকপাত না করে লেখক ইলিশের প্রাচীনত্ব ও পুলিশের আধুনিকত্ব নিয়ে বিচার করতে বসে পড়েন। ইলিশ যেখানে বহু সহস্রাব্দী ধরে বাঙালির পাতে বিরাজ করছে সেখানে পুলিশ মাত্র আড়াইশো বছর আগে ইংরেজদের মারফৎ আমদানি করা জিনিস। এই জিনিসটির কাজ হলো দেশের আইন রক্ষা করা।
এই সম্পর্কে কিছু দিন আগে আনন্দবাজার পত্রিকার এক সম্পাদকীয়তে পড়েছিলাম: "মনে রাখিতে হইবে, কোনও সভ্য দেশেই কিন্তু নিছক সংখ্যার জোরে পুলিশের পক্ষে আইনের শাসন বজায় রাখা সম্ভব নয়। জনসংখ্যার অনুপাতে পুলিশের সংখ্যা সর্বত্র সামান্য। পুলিশের জোর জনমানসে তাহার ভাবমূর্তিতে। সম্ভ্রমই পুলিশের জোর, প্রশাসনের চাবিকাঠি।" বোধ করি আর সমস্ত সামগ্রীর ন্যায় পুলিশের দামও সময়ের সাথে হ্রাস হয়েছে। এখন যেখানে কথায় কথায় পুলিশকে চড়িয়ে দেওয়া বা হেনস্থা করা প্রায় নিত্যনৈমিত্তিক কার্যে রূপান্তরিত হয়েছে সেখানে আগেকার দিনে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের সম্ভ্রম কিরকম ছিলো, সেটা নিম্নলিখিত গল্পটিতে প্রকাশ পায়। (মূল কাহিনীটা আজ আর আমার মনে নেই; যদ্দূর সম্ভব শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের বা দুলেন্দ্র ভৌমিকের লেখা কোনো উপন্যাস, শারদীয়া আনন্দমেলায়  বেরিয়েছিল।)
স্বাধীনতার পূর্বের ঘটনা। এক বিপ্লবী গাছতলায় দাঁড়িয়ে ইংরেজদের বিরুদ্ধে রগরগে ভাষণ দিচ্ছে। তাকে ঘিরে প্রচুর মানুষের জমায়েত। শ্রোতাদের রক্ত টগবগ করে ফুটছে। এমন সময় সেখানে এক বয়স্ক লিকলিকে চেহারার কনস্টেবলের দু'হাতে বাজারের থলি হাতে আবির্ভাব ঘটে। ব্যস, নিমেষের ভেতর সমস্ত শ্রোতা হাওয়া। ফাঁকা গাছতলায় বসে সেই বিপ্লবী একটা বিড়ি ধরিয়ে স্বগতোক্তি করে: "ধুস, এ পোড়া দেশে বিপ্লব-টিপ্লব কিস্সু হবে না।"

আচ্ছা, আপনারা খেয়াল করে দেখেছেন কি পুলিশে চাকুরীরত পুরুষদের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তাদের সকলের একখানা মোটা গোঁফ আছে ?
মাসখানেক আগে এক বিয়ে বাড়িতে গিয়ে আমার এক বন্ধুর জামাইবাবুর সাথে পরিচয়  হয়। তিনি কলকাতা পুলিশের সার্জেন্ট অথচ তার গোঁফ নেই। তাঁকে দেখে আমার সন্দেহ হলো আমার এতোদিনের বিশ্বাস কি তবে ভুল ? পরে জানতে পারি উনিও নাকি এমনিতে গোঁফ রাখেন, কিন্তু বাড়িতে বিয়ে জাতীয় সামাজিক অনুষ্ঠানের আগে গোঁফটা কামিয়ে নেন। ওনার এই স্বভাবটি শুনে অবাক হচ্ছেন ? আমিও হয়েছিলাম, পরে অবশ্য ওনার এই স্বভাবের একটা কারণ খুঁজে পেয়েছি সেই লেখক যার গল্পের সূত্র ধরে এতো কথার সূচনা, অর্থাৎ তারাপদ রায়ের গল্পে।

দরজায় কড়া নাঁড়া শুনে এক বাবা তার মেয়েকে কে এসেছে দেখতে বাইরে পাঠায়। মেয়েটি ফিরে এসে বাবাকে বলে: "বাইরে এক ভদ্রলোক আর একজন পুলিশ দাঁড়িয়ে আছেন।"


পুনশ্চ: আপনাদের কারুর জানা আছে কি ছোটবেলায় ছোঁয়া ছুঁয়ি কিম্বা কুমির-ডাঙা খেলার সময় খেলার নিয়ম থেকে সাময়িক বিরতি পাবার জন্যে যে শব্দটা বলতে হতো -- "আপ্পুলিশ" -- সেটার উৎপত্তি কি "পুলিশ" শব্দটার থেকে ?

Thursday, April 30, 2015

শুনতে পেলাম বাঙালি পর্বতারোহীদের একটা দল, যাদের সঙ্গে নেপালের ভূমিকম্পের পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলো, তারা নাকি সবাই নিরাপদেই আছে। কথাটা শুনেই যেটা আমার প্রথম মনে হলো: আচ্ছা, এই পর্বতারোহীরা নিজেদের কুশল বার্তা আত্মীয় পরিজনদের জানালো কিভাবে? ফেসবুকে "অমুক marked safe during Nepal earthquake" -- এই জাতীয় স্ট্যাটাস দিয়ে নয় তো? ইদানিং কালে এই স্ট্যাটাসের যা হিড়িক পড়ে গেছে তাতে এরকম ভাবাটা আমার মতে খুব একটা অসঙ্গত নয়। আজকেও দেখি এক বন্ধুর সম্বন্ধে ফেসবুকে এই প্রজ্ঞাপন (ইংরেজিতে notification)। আজকের সহজলভ্য ইন্টারনেটের যুগে এতোদিন পরে আমার এই বন্ধুটির নোটিফিকেশনটা দেখে প্রথমে একটু বিস্মিতই হলাম; ছেলেটা কোনো ভগ্নস্তূপের তলায় ধামা চাপা পড়ে গেছিলো নাকি? এতোদিনে হয়তো ধুলো টুলো ঝেড়ে ফেসবুকে নিজের মঙ্গল সংবাদ জানানোর সময় বার করতে পেরেছে বেচারা। তারপর দেখি কিনা আমার এই বন্ধুটি রয়েছে আমেরিকায়। এতোদিন ধরে কিন্তু কিন্তু করে শেষ পর্যন্ত বাকি বন্ধুদের দেখাদেখি এই বাবুও নিজের বেঁচে থাকার খবরটা না জানালে অন্যায় হয়ে যাবে ভেবে নিজের অস্তিত্বের প্রমাণ রেখেছে এই নোটিফিকেশনটি ফেসবুকে শেয়ার করে। আরে ভাই, যেদিন নেপালের ভূমিকম্প প্রশান্ত বা অতলান্তিক মহাসাগর পেরিয়ে আমেরিকায় জানান দেবে সেদিন জানবি পৃথিবীর বুকে মহাপ্রলয় ঘটে গেছে, হয়তো বা নেপাল দেশটাই পৃথিবীর মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে ততক্ষণে। যাই হোক, বহুদিন পর এই পরিপ্রেক্ষিতে তোর্ খবর নেওয়া হয়ে গেলো, তুই ভালো ভাবে বেঁচে বর্তে আছিস দেখে ভালো লাগলো। Take care!

(বিঃদ্রঃ আমার মতে ফেসবুকের এই প্রয়াস অবশ্যই প্রশংসনীয়, মুশকিলটা হচ্ছে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের অধিকাংশ কোনটা প্রয়োজনীয় আর কোনটা স্রেফ গিমিক সেটা তফাৎ করতে শেখেনি।)

Wednesday, April 29, 2015

"Vicious cycle" -- যার বাংলা করলে দাঁড়ায় "দুষ্ট চক্র" -- এই কথাটার মানে জানেন কি?
এর মানে হলো কয়েকটি নেতিবাচক ঘটনা যারা পরস্পরের উপর বৃত্তাকারে নির্ভরশীল।
উদাহরণ: (১) কেন দেশে কল-কারখানা নেই? কারণ: দেশে কাজ জানা শ্রমিকের অভাব। (২) কেন দেশে কাজ জানা শ্রমিকের অভাব আছে? কারণ: দেশে কারিগুরী বিদ্যা শেখানোর কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। (৩) কেন দেশে কারিগুরী বিদ্যা শেখানোর কোনো প্রতিষ্ঠান নেই? কারণ: দেশের অপর্যাপ্ত আয়। (৪) কেন দেশের আয় পর্যাপ্ত নয়? কারণ: দেশে কল-কারখানা নেই।

চোখ-কান খোলা রাখলে এই ধরনের "vicious cycle" আপনারা সর্বত্র দেখতে পাবেন। যেমন ধরুন: (১) কেন ছাত্রটি শিক্ষকের সাথে দেখা করছে না? কারণ: সে তার নির্ধারিত কাজটি শেষ করতে পারেনি। (২) ছাত্রটিকে নির্ধারিত কাজটি শেষ করতে গেলে কি করতে হবে? সর্বাগ্রে স্যারের সাথে দেখা করতে হবে।
এই সম্পর্কে আমার একটা সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা জানাই। আমার এক বন্ধু সংবাদ পত্রে কাজ করে, তার সাথে একটি কথোপকথন:
আমি: "ভাই, আমার লেখা তো অনেক জায়গায় পাঠালাম -- মনোনীত হওয়া তো দূরের কথা, কোনো জায়গা থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পর্যন্ত কেও জানালো না !"
বন্ধু: "দ্যাখ, লেখা ছাপানো অত সহজ নয়; তোর্ মতো লেখক শয়ে শয়ে আছে।"
আমি: "তাহলে লেখা ছাপাতে গেলে আমাকে কি করতে হবে?"
বন্ধু: "তোকে আগে ফেমাস হতে হবে; একবার যদি নাম কামাতে পারিস তাহলে লোকে তোর্ লেখা ডেকে ডেকে ছাপাবে।"
আমি: "ফেমাস হওয়ার জন্যে আমাকে কি করতে হবে?"
বন্ধু: "কেন, লেখা ছাপাতে হবে।"

Saturday, April 25, 2015

শ্রীরামকৃষ্ণ বলে গেছেন: "বাগানে আম খেতে এসেছো, আম খাও। বাগানে কটা গাছ, তাতে কটা ডাল, তাতে কটা আম -- অতো খবরে তোমার কাজ কি বাপু ?" (আমার স্মৃতি চিরকালই দুর্বল, শ্রীরামকৃষ্ণের বাণীখানি হুবহু এরকম না হলেও, কাছাকাছি হবে। )
তাই প্রথমেই বলে রাখি নিম্নলিখিত ঘটনাটি পড়ে আপনারা আনন্দ পাবেন -- এটুকুই আমার মনস্কামনা; দয়া করে ঘটনাটির সম্পর্কে বিশদে জানতে চেয়ে আমাকে বিব্রত করবেন না।

এক ব্যস্ত প্রফেসর নিজের পিএইচডি ছাত্রকে কথা দিয়েছেন ট্রেনে করে খড়্গপুর থেকে হাওড়া যাওয়ার সময় উনি ছাত্রটিকে রিসার্চ সম্বন্ধীয় কিছু আইডিয়া দেবেন। অবশেষে সেই যাত্রার দিন উপস্থিত। ছাত্র তো উত্তেজনায় ছটফট করছে, না জানি আজ প্রফেসরের থেকে কতো কি শেখা যাবে। প্রফেসর কিন্তু ট্রেনে উঠে জানলার ধারের সিটে বসে খানিকক্ষণের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়লেন। ওনার ঘুম ভাঙ্গলো একেবারে যখন ট্রেন হাওড়ায় ঢুকছে। ঘুম থেকে উঠে প্রফেসর ছাত্রটিকে বললেন: "নাহ্, আজ আর মাথায় কোনো আইডিয়া এলো না, বুঝলে !"

Thursday, April 16, 2015

প্রশ্ন: কার মুখে কোনো কথাই আটকায় না ?
উত্তর: জনৈক ঐতিহাসিক, যুগ যুগ ধরে ছাত্র ছাত্রীরা এনার মুখ থেকে যে কতো কথা বার করে নিয়েছে তার ইয়ত্তা নেই।

Tuesday, April 14, 2015

একটি PJ (Poor Joke):
মানুষের ক্ষেত্রে জন্মাবার পর তার নাম রাখা হয়, যেমন -- রাম, শ্যাম, যদু, মধু।
মুরগির ক্ষেত্রে মারা যাবার পর তার নাম রাখা হয়, যেমন -- চিকেন টিক্কা, চিকেন মশালা, চিকেন রেজালা, চিকেন সিক্সটি-ফাইভ।

Monday, April 13, 2015

দিব্যেন্দু: পর্ব ১২

(ঘোড়ার মুখের খবর)
কয়েকদিন আগে, এক রাত্রিবেলা, দিব্যেন্দুর সাথে ফোনে কথা বলছিলাম। ইতিমধ্যে দিব্যেন্দুর হোস্টেলের রুমে হন্তদন্ত হয়ে এক জুনিয়রের আগমন ঘটে। আমি শুনতে পাচ্ছি তাদের কথোপকথন:
-- পাঁচশ্-টা টাকা ধার দেবে? এইমাত্র পার্স টা হারিয়ে ফেলেছি।
দিব্যেন্দুর উত্তর: শোন্, এই দুশো-টা টাকা রাখ। এর মধ্যেই ভালো পার্স হয়ে যাবে, আবার দামি পার্স কিনে কি হবে !

Thursday, April 9, 2015

মাঝে মাঝেই আমরা কথা বলতে গিয়ে মাঝের কিছু শব্দ ভুলে যাই, তখন অন্য কোনো প্রতিশব্দ কিম্বা "ইয়ে", "ইসে", এ ধরনের কিছু কথা গোঁজামিল দিয়ে নিজেদের বক্তব্যটা ম্যানেজ করতে হয়। সেই রকম কিছু ছোটখাটো ঘটনা নিয়ে লিখেছিলাম কিছুদিন আগে। আমার লেখা নিয়ে মন্তব্য প্রকাশ করতে গিয়ে দুই বন্ধু আমাকে এ ধরনের আরো দুটি ঘটনা জানায়, সেগুলো এখানে (মোটামুটি) তাদের জবানীতেই লিখে রাখছি।

ঘটনা ১:
(প্রসঙ্গত, আমার এই বন্ধুটি একটি সংবাদ পত্রে কাজ করে।)
আমাদের একজন বস আছেন যিনি সব কিছুকেই "thing" বলেন। কোনো লেখা বা কোনো পাতা দেখতে হলে চেয়ারের পেছনে এসে দাঁড়িয়ে বলেন: "Show me your thing", তারপর ভালো করে দেখতে না পেলে বলেন: "Make it big ... left side, right side", মহিলা সহকর্মীদেরও বলেন। তিনি বড়ই ভদ্রলোক, তাই কেউ কিছু মনে করে না।

ঘটনা ২:
আমাদের কলেজের এক প্রফেসর ওনার ইংরেজির জন্যে খ্যাত ছিলেন। একদিন ক্লাস চলাকালীন কিছু ছাত্র নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলো। ক্লাস থেকে বের করে দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে উনি সেই ছাত্রদের মধ্যে একজন ছেলেকে দাঁড় করান -- এদিকে উনি কিছুতেই "Get out" কথাটা মনে করতে পারছেন না; প্রাথমিক সংশয় ভাবটা কাটিয়ে উনি সেই ছেলেটিকে বললেন: "Follow me", এবং ক্লাসের বাইরে হাঁটা লাগালেন। ছেলেটিও তাকে অনুসরণ করলো। দুজনেই যখন ক্লাসের বাইরে, তখন উনি ছেলেটির দিকে ঘুরে বললেন: "Now don't follow me"। ভ্যাবাচাকা খাওয়া ছেলেটিকে ক্লাসের বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে স্যার ক্লাসে ফিরে এলেন।

Wednesday, April 8, 2015

বাঙালির ছেলে ছোটবেলা থেকে সাহিত্যিক হওয়ার স্বপ্ন দেখে -- এর মধ্যে ব্যতিক্রমী কিছু নেই। আমিও সেই দলেই পড়ি। কিন্তু বিশ্বাস করুন, মাইরি বলছি, আমি আজ পর্যন্ত একটাও কবিতা লিখিনি। যে কোন কারণেই হোক কবিতা আমার ঠিক পোষায় না। কবিতা না আমার পড়তে ভালো লাগে, না শুনতে। খুব দরদ দিয়ে কবিতা আবৃত্তি করলে আমার সেটাকে ন্যাকামি বলেই মনে হয়। অর্থাৎ সংক্ষেপে "কবিতার রসে আমি বঞ্চিত"। গোদের ওপর বিষফোঁড়া হচ্ছে আজকালকার আধুনিক কবিতাগুলো যেখানে কবি অন্তে মিল রাখার প্রয়োজনটুকুও বোধ করেননি। এগুলোকে আমার কবিতা বলতেও কোথাও একটা বাঁধে, কবিতার সংজ্ঞা অনুযায়ী তার অন্তে মিল থাকাটা যেন আবশ্যক বলে আমার ধারণা।
এসত্ত্বেও আমার মতো "নিরস" ব্যক্তির যখন আজকে নিশানের লেখা কবিতাটা পড়ে ভালো লাগলো তখন বুঝলাম যে আপনাদের মতো সমঝদার পাঠকদের কাছে এই কবিতাটা শেয়ার না করলে সেটা অন্যায় হবে; লেখাটা আপনাদের ভালো লাগতে বাধ্য।


হয়তো ধরো তেমন কোনো সম্বন্ধ নেই
কেবল ছিলো রিকশা তাতে ত্রিপল ছিলো
বৃষ্টি ছিলো,
ঝাপসা ছিলো,
চতুর্দিকে।
আর দুখানা মানুষ ছিলো,
ভীষণ ভিজে মানুষ ছিলো,
একবুকে তার একটি মাথা,
আর এক হাতে কাঁধটি ছিলো,
দুঃখ ছিলো, গল্পছিলো,
ভীষণ কিছু খুব সাধারণ
ভীষণ চেনা গল্প ছিলো।
কষ্ট গড়ায় দুঃখজলে,
চোখ সয়ে যায় নুনের ধারায়
তক্ষুণি ঠিক!
তক্ষুণি ঠিক চমক দিলো,
দু মুখ জ্বলে ক্ষণিক সুখে,
দুহাত তালু গালের পাশে
হাতের ফাঁকে পানপাতা মুখ,
দুঃখ গড়ায় বৃষ্টিজলে,
সুখ ছুঁয়ে যায় গোপন হৃদয়,
মানুষ দুটি মোমের মতই
গলছে সুখে গলছে হাওয়ায়...

Tuesday, March 31, 2015

দিব্যেন্দু: পর্ব ১১

পঙ্কজ: ইদানিং ভুঁড়িটা বেশ বেড়ে গেছে। নিজেকে আয়নায় দেখে বিশাল মোটা লাগছে।
দিব্যেন্দু: তুই এখনো তেমন মোটা হোসনি, "বিশাল মোটা" ছিলেন আমাদের এক স্যার।
পঙ্কজ: তাই নাকি? তোদের স্যার কেমন মোটা ছিলেন শুনি!"
দিব্যেন্দু: আমাদের স্যার এতো মোটা ছিলেন যে ট্যাক্সির পেছনের সিটে বসলে ওনার বাঁ-হাত আর ডান-হাত, দুই হাতের কনুই দুই দিকের জানলায় রাখতেন।

Monday, March 30, 2015

-- "তুই কি জানিস সত্যি সত্যি অদৃশ্য মানব আছে।"
-- "যাঃ, কি যে বলিস।"
-- "কেন? তোর্ বিশ্বাস হচ্ছে না?"
-- "কি করে হবে? অদৃশ্য মানব যদি সত্যি সত্যি থাকতো তাহলে তাকে আজ পর্যন্ত কেউ দেখেনি -- এমনটা কখনো হতে পারতো কি?"
-- "হুঁ হুঁ বাবা, সে যে সত্যিকারের অদৃশ্য মানব -- তাই তো তাকে কেউ আজ পর্যন্ত দেখতে পায়নি।"

Saturday, March 21, 2015

হঠাৎ কানে ভেসে এলো এক চাকুরীরতা মহিলার স্বামীর আক্ষেপ।
কলিগ: "দাদা, বহুদিনের ইচ্ছে -- একবার বৌদির হাতের রান্না খাবো।"
(কলিগের) দাদা: "হ্যাঁ, এটা আমারও বহুদিনের ইচ্ছে।"

Wednesday, March 18, 2015

স্কুলে ক্লাস সিক্স থেকে সংস্কৃত পড়ানো শুরু হয় থার্ড ল্যাঙ্গোয়েজ হিসেবে। সংস্কৃতের ক্লাস নেন এক পন্ডিত ব্রাহ্মণ। সংস্কৃতে যেমন তাঁর অগাধ জ্ঞান, যাবতীয় কাজকর্মও তেমন করেন শাস্ত্রীয় আচরণবিধি অনুসারে। এদিকে ক্লাস সিক্সের ছাত্র পঙ্কজের মাথায় কিন্তু সংস্কৃত ঢোকে না এক রত্তি। স্কুলে হাফ-ইয়ার্লির সংস্কৃত পরীক্ষায় গরুর উপর রচনা লিখতে দিয়েছে। কি করবে প্রথমে ভেবে না পেয়ে, শেষ পর্যন্ত পঙ্কজ বুদ্ধি করে পরীক্ষার খাতায় একটা গরুর ছবি এঁকে চলে এলো -- কেন বলুন তো?
কারণ পন্ডিতমশায় আদতে ধর্মীয় ব্রাহ্মণ তো, তাই আর যাই করুন গরু কাটতে পারবেন না।

Tuesday, March 17, 2015

কিছুদিন আগে এক বন্ধুকে ফেসবুকে একটা জোক শেয়ার করতে দেখেছিলাম:
এক ভদ্রলোক রেস্টুরেন্টে খেতে গেছেন। এদিকে কিছুতেই "মেনু কার্ড" -- এই কথাটা ওনার মাথায় আসছে না। তাই কিছুক্ষণ পর ওয়েটারের কাছে রেস্টুরেন্টের "সিলেবাস"-টি চেয়ে বসলেন সেই খদ্দের ভদ্রলোকটি।

এই রকম ঘটনা -- মানে যখন কিছু কিছু শব্দ পেটে আসছে কিন্তু মুখে আসছে না -- এই ধরনের অভিজ্ঞতা বোধ করি আমাদের প্রত্যেকের সাথেই কখনো না কখনো ঘটেছে। তবে সব সময় আমাদের ব্যবহৃত প্রতিশব্দগুলি যে ঠিক লাগানসই হয়না উপরন্তু কখনো সখনো বেশ অস্বস্তিদায়কও হয়ে ওঠে, সেটাও নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন। উদাহরণস্বরূপ অনেকদিন আগে লেখা আমার একটি ঘটনার পুনরাবৃত্তি করছি এখানে।

 "God has blessed us with a beautiful baby. To celebrate the occassion, sweets are kept at my desk. Please join."
এই ইমেলটি পড়ে অফিসের এক কলিগ সদ্য হওয়া বাবাকে অভিবাদন জানাতে গেছে। এদিকে "Congratulations" শব্দটা সেই মুহুর্তে কিছুতেই মনে পড়ছে না। তাই উনি করমর্দন করে বললেন "Well done"।


এই প্রসঙ্গে আমার সিনিয়র পার্থদার একটা ঘটনা বলি। পার্থদার সাথে আপনাদের পরিচয় আগেও করিয়েছি -- সেই যার হিন্দী ভাষার উপর দখল মারাত্মক; "সে ঘুমোচ্ছে"-এর হিন্দী অনুবাদ করেছিলো "বো ঘুম রাহা হ্যায়", আবার "ছাগল"-এর হিন্দী "বকরী" এটা ভুলে যাওয়ায় এক অবাঙালি ছেলেকে বলেছিলো "ছাগল নেহি সমঝতা -- যো পাতা হ্যায় বো খাতা হ্যায়।" আরো কিছু পার্থদার এধরনের সংলাপ আমার পুরনো লেখায় পাবেন। তবে সে সময় যেটা বলা হয়নি সেটা হলো পার্থদা আবার মাঝে মাঝেই অনেক শব্দ ভুলে যায়, তখন অন্যান্য লোকেরা যেমনি "ইয়ে" বা "ইসে" বলে তার জায়গায় পার্থদা "এ" বলে থাকে। যেমন "This is the conclusion of my presentation" বলতে গিয়ে স্যারেদের সামনে বলে ফেলেছিলো "This is the এ of my এ"। এজাতীয় ভুলে পার্থদাকে পারতপক্ষে কখনো কোনো অসুবিধেয় পড়তে হয়নি, শুধু একবার বিপদে পড়ার উপক্রম হয়েছিলো। সেবার একজন অবাঙালি মেয়ের সাথে কথোপকথনের সময় পার্থদা মুখ ফসকে বলে ফেলেছিলো: "তুম্হারে পাস এ যো হ্যায় না, এ মুঝে চাহিয়ে।" সাংঘাতিক কথা! এর জল অনেক দূর গড়াতে পারতো -- নেহাৎ মেয়েটা পার্থদার মুদ্রাদোষ সম্বন্ধে অবহিত ছিলো এবং "এ" বলতে পার্থদা ঠিক কি বলতে চেয়েছিলো সেটা বুঝতে পেরেছিলো তাই বাঁচোয়া। না, পাঠকদের কাছে "এ"-র সঠিক মানেটা সম্বন্ধে আর রহস্য সৃষ্টি করবো না, পাঠকদের কল্পনা শক্তিকে প্রশ্রয় দেওয়াটা এই ক্ষেত্রে উচিৎ হবে না। পার্থদার মেয়েটির কাছে চাহিদা সামান্যই ছিলো -- ক্লাস নোটসের খাতাটা।

Saturday, March 14, 2015

(বি:দ্র: কাউকে অসম্মান করা নয়, নিছক আনন্দ দেওয়াই এই লেখার উদ্দেশ্য।)

এক কর্মচারী চুপচাপ বসে আছে।
তার এক বন্ধু এসে তাকে জিজ্ঞেস করে: "কি রে, মুখ ব্যাজার করে বসে আছিস কেন?"
কর্মচারী: "আর বলিস না, ম্যানেজার বাবুর জন্যে খুব চিন্তা হচ্ছে। চারদিকে যা সোয়াইন ফ্লু হচ্ছে -- ওনারও না কোনদিন হয়ে যায়।"
কর্মচারীটির বন্ধু: "ম্যানেজার বাবুর সোয়াইন ফ্লু হবে কি না হবে -- সেই নিয়ে এখন থেকে এতো দুশ্চিন্তা করার কি কোন কারণ আছে?"
কর্মচারী: "হ্যাঁ, আছে। উনি পাক্কা শুয়োরের বাচ্চা কিনা -- তাই তো এতো দুশ্চিন্তা!"

Tuesday, March 10, 2015

"কালি, কলম, মন -- লেখে তিনজন।" ছাত্র হয়ে কালি-কলম কম পড়াটা একটু অস্বাভাবিক, ফলে বুঝতেই পারছেন মনের কারণেই অনেকদিন কিছু লেখা হয়নি। নানারকম কর্মব্যস্ততার মধ্যে ঠিক সময় করে উঠতে পারিনি। অনেকদিন পর আজকে কি লিখবো কি লিখবো ভাবছি, হঠাৎ মনে পড়লো ক্লাস টু-তে আমার প্রথম ধূমপানের ঘটনাটা আপনাদেরকে বলা হলেও, ক্লাস সিক্সে আমার প্রথম মদ খাওয়ার ঘটনাটা এখনো জানানো হয়নি। "ছিঃ ছিঃ, এভাবে পাবলিকে নিজের বেলেল্লাপনা প্রচার করার একটা সীমা থাকা উচিৎ" -- এতদূর অবধি আমার লেখা পড়ে যদি আপনাদের কারুর এরকমটা মনে হয়ে থাকে তাহলে তাঁকে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাই যেন উনি পুরো লেখাটা পড়ে তারপর আমার চরিত্রের বিচার করেন।

ঘটনাটা ঘটেছিলো হাসিমারায়। হাসিমারা জলপাইগুড়ি জেলার মধ্যে অবস্থিত একটি ছোট্ট টাউন, গন্ড গ্রামের তুলনায় সামান্য উন্নত। স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ায় কাজ করার সুবাদে আমার বাবাকে এখানে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার হিসেবে বদলি হয়ে আসতে হয়। বাবার বদলির চাকরির সুবাদে CBSE, ICSE এবং West Bengal -- স্কুলজীবনে এই তিনটি বোর্ডেই পড়ার অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে। আমি হাসিমারায় এসে Air Force School (CBSE বোর্ড)-এ ভর্তি হই। ছোটবেলা থেকে কোলকাতায় মানুষ হয়েছি, কাজেই চারদিকের চা বাগান, পাহাড়ি লোকজন, সবুজ পরিবেশ -- প্রথম প্রথম দেখতে ভালো লাগলেও, কাঁহাতক আর সহ্য করা যায় বলুন তো? ফলে অচিরাৎ "হাসিমারা" নামের সার্থকতা উপলব্ধি করতে পারলাম। হাসিমারায় থাকাকালীন হঠাৎ স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার কিছু সিনিয়র অফিসার বাবাকে জানালেন যে তাঁরা কি একটা মিটিং করতে হাসিমারায় আসবেন। কি এমন মিটিং যে হাসিমারা ছাড়া করা যাবে না -- সে আমি বলতে পারবো না; আমার ব্যক্তিগত ধারণা ওসব মিটিং-ফিটিং স্রেফ বাহানা, আসলে ফাঁকতালে জলপাইগুড়ি ঘুরে যাওয়াটাই উদ্দেশ্য। যাই হোক, বাবুরা তো এলেন, এদিকে হাসিমারায় কোনো ভালো হোটেল নেই, তাই ওনাদের থাকার ব্যবস্থা হয় চা বাগানের এক মালিকের বাড়িতে। মালিক নিজে সে বাড়িতে কখনো-সখনো ছুটি কাটাতে আসেন, সাধারণত বাড়িটা ফাঁকাই পড়ে থাকে। সেই সময় বাবুদের দেখভাল করার পুরো দায়িত্ব ছিলো সেখানকার এক খানসামার উপর। বাবুরা ফিরে গেলে, বাবা সেই খানসামাকে কিছু বকশিশ দেওয়ার জন্য আমাকে নিয়ে সেই বাড়িতে যান। খানসামাটি আমাকে জিজ্ঞেস করে আমি কি খাবো, আমি জানাই যে maazaa বা Slice জাতীয় কোল্ড ড্রিঙ্কস আমার পছন্দ। বাবাকে জিজ্ঞেস করলে পর বাবা জানায় "কালো কিছু" থাকলে সেটা দিতে। কিছুক্ষণের মধ্যে আমাকে maaza আর বাবাকে একটি কালো পানীয় দিয়ে যায় সেই লোকটি; দেওয়ার সময় সে আবার বাবাকে চোখ টিপে ইসারাকরে। ইঙ্গিতটা প্রথমে বুঝতে না পারলেও, বাবা সেই কালো পানীয়তে চুমুক দিয়ে বুঝতে পারে যে সেই কালো পানীয়টি ওনার ধারণা মতো কোক বা পেপসি নয়। ছোট ছেলের সামনে "মদ" কথাটা উচ্চারণ করতে লজ্জা পাচ্ছে বলে সাংকেতিক ভাষায় "কালো কিছু" বলে বাবা নিজের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে বলে ধরে নিয়েছে খানসামাটি। এক চুমুক খেয়ে বাবা হাতের গ্লাসটি নিচে নামিয়ে রাখতে না রাখতেই আমি সেই বিস্বাদ পানীয়কে নতুন ধরনের কোল্ড ড্রিঙ্ক ভেবে ততক্ষণে এক চুমুক খেয়ে ফেলেছি।

Sunday, February 22, 2015

এই জোকটা হয়তো আপনারা আগেই শুনেছেন, তবে আমি সম্প্রতি জানতে পেরেছি -- তাই শেয়ার করলাম।

ট্রেন গন্তব্য স্টেশনে পৌঁছতে পাক্কা ২৪ ঘন্টা লেট করেছে। তবুও যাত্রীরা এতোটুকু হুজ্জোতি করলো না -- যেন এমনটাই প্রত্যাশিত ছিল।
কেন বলুন তো?
কারণ ট্রেনটার নামই তো "কাল-কা মেল"।

Saturday, February 21, 2015

আজকে বিশ্ব মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা জানাই সবাইকে।

নানারকম চিন্তার মধ্যে নিজে লেখার টাইম পাচ্ছি না, তাই পাঠকদের চাঙ্গা রাখতে নিশানের ঝুলি থেকে আরেকটা গল্প ঝেপে দিলাম। এই লেখাটায় নিশানের "signature ভাষার" ব্যবহার কম থাকায় ওর লেখাটা অবিকল রইলো।


মেরি কম

মেরি কম নাম কেন দিলাম জানি না, গপপোটা মেরিবিস্কুট কম পড়ারও নয়, আবার অ্যাথলেট কে নিয়েও নয়। যদিও গপপোটা মেরিবিস্কুট নিয়ে। খুব কম কিছু, মূলতঃ দুখানা মেরি বিস্কুট নিয়ে। নরেন্দ্রপুর কলেজে পড়ি তখন, সম্ভবতঃ এগারো ক্লাসের শেষ দিক। আমি থাকতাম গৌরাঙ্গ ভবনে। আমরা অনেকে থাকতাম গৌরাঙ্গ ভবনে। ২৫০ জন। সে যাই হোক, এ গপ্পের নায়ক ক্যাওড়া কুমার, ঘোষাল আর অমর্ত্য।

আমাদের কারেণ্ট চলে গেলে, জেনারেটর চলতো রাত্তির এগারোটা অব্দি। বারান্দার আলো জ্বলতো, ঘরের আলো জ্বলতো না। সেই বারান্দার আলোয় আমাদের মুত্তু খালিগায়ে, বারান্দা বিদ্যাসাগর হয়ে, ভয়ানক ভয়ানক ইণ্টিগ্রেশন করছিলো।

পাশের ঘরে, মোমবাতির আলোয় ঘোষাল, যার গায়ে প্রচুর লোম, এবং বগলেও (প্রসঙ্গত আমার ঘোষাল নামে আরেক বন্ধু আছে, তার গায়েও প্রচুর লোম, বোধহয় ঘোষালদের গায়ে প্রচুর লোম হয়), সে মোমবাতি জ্বালিয়ে মনোযোগ সহকারে দুখানা ব্রিটানিয়া মেরি বিস্কুট পোড়াচ্ছিলো।

পাশে দাঁড়িয়ে অমর্ত্য চিরাচরিত ভঙ্গিতে বুড়ো আঙুল চুষতে চুষতে গোটা ঘটনাটা দেখছিলো।

পোড়ানো শেষ, অতএব অমর্ত্য একখানা কার্বন কালো বিস্কুট নিয়ে হাঁটা দিলো কামড়ির ঘরের দিকে, সন্ধের প্রেয়ার শেষ হয়েছে বেশীক্ষণ হয়নি, আমরা তখনও ধুতি ছাড়ার সময় পাইনি।

কামড়ির ঘরে গিয়েই অমর্ত্য সেখানা তুলে ধরেছে কামড়ির সামনে, বলছে খেয়ে দেখ দারুণ জিনিস। কামড়ি জানে অমর্ত্য মোটে সুবিধার জিনিস না, এদিকে বিকেলবেলা অমর্তযর বাড়ির লোক এসেছিলো, পিঠে ফিঠে হতে পারে, অন্ধকারে হাতে ধরে আবার জিনিসটা গরম গরম ঠেকছে। মনে বিস্তর ডিলেমা, তাও সাহস সঞ্চয় করে এক কামড় দিয়েছে।

দিতেই চিত্তির, অমর্ত্য অবশ্য এক সেকেণ্ডও দাঁড়ায়নি।

এদিকে দ্বিতীয় বিস্কুট নিয়ে ঘোষাল গেছে মুত্তুর সামনে। সেই মুত্তু যে কিনা তখন বড় বড় ইণ্টিগ্রেশন করে আর আমরা ডিফারেন্সিয়েশন করতে জানি না, যে কিনা তখন ভবিষ্যতের, আজকের বর্তমানের ভারতবর্ষের স্বঘোষিত শ্রেষ্ঠ গণিতবিদ, এবং যে হাঁ করে ঘুমোনর সময় মুখে একবাটি নুন ঢেলে দিলেও দুবার ঠোঁট চেটে ফের ঘুমিয়ে পড়ে, তার সামনে। প্রসঙ্গত মুত্তুর গায়েও প্রচুর লোম, অর্কুটের ছবিতে ছিলো।

যাইহোক ঘোষাল মুত্তুর সামনে গিয়ে ক্রমাগত বিজ্ঞাপন দিয়ে চলেছে, "অ্যাই মুত্তু দেখ না খেয়ে, দেখ না, দেখ না, ব্রিটানিয়া নতুন মেরী বার করেছে দারুণ খেতে।"

মুত্তু বলছে "আরে যা না রে বাবা। বিরক্ত করিস না তো!!" ঘোষালও নাছোড়বান্দা। ঘোষাল বলছে "আরে দেখ না, আমিই খেয়ে দেখাচ্ছি, আঁ আঁ..." বলেই মুখ হাঁ করে বিস্কুট খানা ধরে, কামড় দেবে আর কি, তা, পেছনে ছিলো ক্যাওড়া কুমার।

তার দুদিন আগেই ঘোষাল খেলা থেকে ফিরে ঘেমো বাহুমূল ঘষে দিয়েছিলো ক্যাওড়ার মুখে, ক্যাওড়া তাকে গালিগালাজ করতে গিয়ে আমাদের ওয়ার্ডেন আগা খাঁ এর কাছ থেকে শুনেছে, যে আগা খাঁ র চশমা ছিলো হরলিকসের শিশির পেছনের কাচের মত, আর যে হারমোনিয়াম রিড দেখে দেখে বাজাতো, তায় দেখতো না ভালো, অতএব ভয়াবহ বাজনা, তবলায় তাল দিতে নাভিশ্বাস উঠতো আমার, আর গলা ছিলো বাজখাঁই, সেই আগা খাঁর কাছ খেকে ক্যাওড়া শুনেছে তার ভাষা "রিকশাওলাদের মত"  ইত্যাদি। অতএব সে প্রতিশোধস্পৃহায় তককে তককেই ছিলো।

অতএব বিন্দুমাত্র না থমকে, পেছন থেকে ঘোষালের মাথায় এক চাঁটি। এমন চাঁটি যার গুঁতোয় ঘোষাল খেলো দাঁতকপাটি, আর ঐ বিষ মেরী ওর মুখে।

থু থু করে ছিটিয়ে দিয়েই ঘোষাল ধাওয়া করলো ক্যাওড়াকে।

ধান ভানতে প্রচুর শিবের গীত করে ফেললাম, সে যাই হোক।

ঘোষাল আর অমর্ত্য আজ দুজনেই আমাদের মধ্যে নেই, মাঝে মধ্যে মনে হয়, হয়তো এভাবেও মনে রাখা যায়।

Monday, February 16, 2015

আইআইটি খড়্গপুরে এসে পিএইচডির যুদ্ধে নেমে বুঝতে পারলাম স্টেশনে "খড়্গপুর জং" লেখাটার সার্থকতা।

Sunday, February 15, 2015

"আচ্ছা, এই যে তুই লোকজনের নাম ভাঁড়িয়ে তাদের কীর্তি কাহিনী এভাবে ইন্টারনেটে সর্বসমক্ষে জানিয়ে দিস -- তোকে কেও রাস্তায় ধরে ক্যালায় না?"
এক বন্ধুর কাছে এই প্রশ্ন শুনে ভাবতে বসলাম, সত্যিই তো! দু-একটা সামান্য কটু মন্তব্য বাদ দিয়ে সেভাবে কোনো গালিগালাজ বা মারধোর আমাকে আজ পর্যন্ত খেতে হয়নি -- এতো দিনে এ ধরণের এক-আধটা অপ্রীতিকর পরিণাম কি আমার পাওনা হয়নি? আমার গল্পের নায়ক নায়িকারা আমাকে ক্ষমা ঘেন্না করে ছেড়ে দিয়েছেন, এরকমটা নয়তো? নাকি আমার কলমে সেই জ্বালাময়ী লেখনীর শক্তিটাই নেই? এই সব ভাবতে ভাবতে ছোটোবেলায় বাবার কাছে শোনা একটা গল্প মনে পড়ে গেলো। এই গল্পের মধ্যে হয়তো লুকিয়ে আছে আরেকটা সম্ভাব্য কারণ।

এক ধনী ব্যক্তি নিজের বাড়িতে একটা পার্টির আয়োজন করেছেন। সেই পার্টিতে অনেকে নিমন্ত্রিত। এই নিমন্ত্রিতদের মধ্যে একজন কার্টুনিস্টও আছেন। আয়োজকের অনুরোধে এই কার্টুনিস্ট প্রত্যেক নিমন্ত্রিতের একটি করে ছবি আঁকলেন। প্রত্যেকটি ছবিতেই যার ছবি আঁকা হয়েছে তার কোনো একটি চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য কার্টুনিস্টটি নিজের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী সেটাকে কৌতুকপ্রদভাবে পরিবেশন করেছেন। পার্টি শেষ হলে পরে দেখা গেলো প্রত্যেকে সেই ছবিগুলি দেখে কোনটি কার ছবি নির্ভুল ভাবে নির্ধারণ করতে পারলেও কেও নিজের ছবিটি খুঁজে পাচ্ছেন না।

Thursday, February 12, 2015

অমরাবতী এক্সপ্রেসে করে গোয়া থেকে হাওড়া ফিরছি। ট্রেনে দুই বিপরীত মেরুর ভদ্রলোকের মধ্যে এক আশ্চর্য রকমের মিল পেলাম। একজন ঘোর মার্কসবাদী অপরজন এক সন্ন্যাসী -- দুজনেরই হাতে আংটি! একজন ভগবানের অস্তিত্বে সম্পূর্ণ অবিশ্বাসী অপরজন ভগবানের হাতে সম্পূর্ণ সমর্পিত, অথচ আংটি ধারণ করে ভাগ্য পরিবর্তনের কি দুর্নিবার ইচ্ছা।

Monday, February 2, 2015

তখন আমার দাদুর পোস্টিং ছিলো বোলপুর, শান্তিনিকেতনে। আর একবার পদোন্নতি হলেই আমার দাদু হয়ে যাবেন বিডিও (ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার)। বিডিও হতে গেলে হিন্দী ভাষা জানা আবশ্যক, এদিকে হিন্দী ভাষা সম্বন্ধে আমার দাদুর জ্ঞান তথৈবচ। বন্ধুরা দাদুকে ভরসা যোগান এই বলে যে ইন্টারভিউয়ার যেই হন, শান্তিনিকেতন থেকে এসেছেন শুনলে অতি অবশ্যই শান্তিনিকেতন কিম্বা রবীন্দ্রনাথ সম্বন্ধে দু'চার কথা জিজ্ঞেস করবেন, তাই হিন্দী ভাষায় শান্তিনিকেতন এবং রবীন্দ্রনাথের উপর দুটি সুন্দর রচনা মুখস্থ করে গেলেই কেল্লা ফতে। যেই বলা সেই কাজ।

ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে দাদু দেখেন যে প্রশ্নকর্তা তাকে এই সেই কতো কিছু প্রশ্নই করছেন কিন্তু শান্তিনিকেতন অথবা রবীন্দ্রনাথ সম্বন্ধে কোনো উচ্চবাচ্যই করছেন না। দাদু আমতা আমতা করে নিজের সাধ্য মতো হিন্দীতে এক-একটি উত্তর দিচ্ছেন আর শেষে যোগ করছেন "ম্যায় বোলপুর, শান্তিনিকেতন সে আয়া।" এই কথার চার পাঁচবার পুনরাবৃত্তি করার পর প্রশ্নকর্তা বলেন: "হাঁ! আপ বোলপুর, শান্তিনিকেতন সে আয়ে হ্যায়। উসকে বারে মে অগলি বার বোলনা।" বলাই বাহুল্য, আমার দাদু সে বছর পরীক্ষায় পাশ করতে পারেননি। পরের বছর অবশ্য উনি কোতলপুরের বিডিও হিসেবে নিযুক্ত হন।

Sunday, February 1, 2015

যোধপুর পার্ক থেকে গোলপার্কের দিকে যেতে ফ্লাইওভারের উপর থেকে যদি বাঁদিকে তাকান তাহলে একটা বাড়ি দেখতে পাবেন, নাম -- বাবলু'জ। এই বাড়িটি বিয়ে, অন্নপ্রাশন ইত্যাদি অনুষ্ঠানে ভাড়া দেওয়া হয়। এই বাড়িটির গেটের উপর বড় বড় হরফে লেখা আছে:
"God gives and forgives,
 Man gets and forgets."

Friday, January 30, 2015

এই লেখাটি আমার নয়, আমার বন্ধু নিশানের (যার লেখার টুকটাক নিদর্শন আপনারা পূর্বেও পেয়েছেন)। এই লেখাটির ক্ষেত্রে দ্রষ্টব্য হলো নিশানের "উদার" ভাষার বিপুল ব্যবহার। তবে এই ভাষা আমার ক্ষুদ্র পাঠক মহলের কাছে কতোটা গ্রহণীয় সে বিষয়ে আমার কিঞ্চিত সন্দেহ থাকায় আমি নিজ বিবেচনা অনুযায়ী সামান্য কাঁচি চালিয়েছি। কিন্তু পাঠককে সম্পূর্ণ রূপে এ রস থেকে বঞ্চিত করা উচিৎ হবে না ভেবে, প্রয়োজন বোধে লেখার কিছু অংশ অপরিবর্তিত রেখেছি। (আমি কোন অংশগুলির কথা বলছি তা আশা করি পাঠকরা নিজ গুণে বুঝতে পারবেন।) বোধ করি আমার সম্পাদনায় লেখার মান খুব একটা খর্ব হয়নি।
তরকারী
ইহাও জনশ্রুতি, সত্যাসত্যর দায় নেই!
"অমুক" আংশিক বোর্ডিং স্কুল, যারা হস্টেলে থাকে তাদের রেলা স্বভাবতঃই বাইরের ছেলেপিলের চেয়ে দু কাঠি বেশী। এই সমস্ত হস্টেলেই ওয়ার্ডেনদের আমাদের ছোটবেলায় বাঘ মনে হোতো, পরে বুঝেছি যেসব ছেলে ছোকরা কোথাও কোনকালে কোন কাজ পায় না, তারাই এসব জায়গায় চাকরি নেয়, এবং দুনিয়ার সর্বত্র লাথ খেয়ে তাঁদের রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটে ছাত্রদের উপর!
কিছু হস্টেলে আবার ডাইনিং স্টাফ এবং দারোয়ানদের মধ্যেও এ বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।
খাবার জায়গার ব্যবস্থাটি এইরকম: মাটিতে বাবু হয়ে সারি দিয়ে বসো, দু সারি মুখোমুখি করে, মাঝের জায়গা দিয়ে ভাত তরকারি ঠেলতে ঠেলতে কর্মচারীরা যাবে, দুদিকে খাবার বাড়তে বাড়তে।
এরকম এক ডাইনিং হলে এক কর্মচারী একবার উপস্থিত হোলো, সে এক জিনিস বিশেষ, হাড় হারামি বললে কম বলা হয়। রেলা তার চরম, মুখও চরম। কিছু কথা বলতে গেলেই তেড়ে আসে! ধরা যাক তার নাম নরেশ।
এখানে ছাত্ররা হোলো সবচেয়ে নিচু শ্রেণীর নাগরিক, তাদের কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করারও বিশেষ উপায় নেই, করবেই বা কার কাছে?
এরকম অবস্থা যখন সমাজে নেমে আসে তখন কি হয়? রঞ্জিত মল্লিক বা মিঠুন চক্কোত্তি এসে আইন স্বহস্তে তুলে নেন! আমরা বাঙালী, বাঙলা সিনেমা আমাদের গৌরব, এবং যেখানে কৌরব বংশের মত হাড় হারামিতে ভর্তি সেখানে এক দু পিস রঞ্জিত মল্লিক বেরোবে না তাও কি সম্ভব?
হস্টেলটির হাজার একটা দোষ থাকতে পারে কিন্তু খাবার যাই হোক না কেন, জিনিসটা গরম পাওয়া যেত।
এরকমই এক রাতের বেলা, খাবার দেওয়া হচ্ছে, ভাত পড়ে গেছে, তরকারী হয়েছে আলুপোস্ত, গামলায় তরকারি নিয়ে নরেশ এগিয়ে চলেছে মাঝ বরাবর। পরনে লুঙ্গি, ডোরাকাটা জামা, লুঙ্গী আবার হাফ গুটিয়ে হাঁটুর উপর তোলা।

ভীষণ গরম তরকারী, ধোঁয়া উঠছে রীতিমত!
ঠিক এরকম সময়েই হঠাৎ কারেণ্ট বন্ধ! ঘুটঘুটি অন্ধকার। এবং কোন শালা জেনারেটারও চালাচ্ছে না! কি সর্বনাশ।
হঠাৎ চিল চিৎকার! ত্রিভুবন প্রকম্পিত করা চিৎকার! ঠিক তখনই আলো উঠেছে জ্বলে! সবাই তাকিয়ে দেখে নরেশ তরকারী-টারী ফেলে দৌড়চ্ছে কিচেনের দিকে! যাবার পথে তরকারী সমৃদ্ধ পদচিহ্ন!
প্রথমে কেউ বোঝেনি কি হয়েছে! সবাই একটা হৈ হৈ রৈ রৈ এর মধ্যে দিশে হারিয়ে ফেলেছে! কিছুক্ষণ পরে বোঝা গেলো, কারেণ্ট টারেণ্ট যায়নি, কেউ একটা মেন সুইচ অফ করেছিলো, আর তখনই, ঠিক তখনই, কেউ একহাতা আগুনের মত গরম তরকারী হাতায় তুলে ছুঁড়ে মেরেছে নরেশের দু পায়ের মাঝখান টিপ করে!
আগেই বলেছি নরেশ লুঙ্গী পরে ছিলো!
অতএব অলমতি বিস্তরেণ।