Monday, August 31, 2015

-- তোমার বিয়ে তো প্রায় এসেই গেল।
-- হ্যাঁ, এই তো সামনের মাসেই।
-- তা, হনিমুনে কোথায় যাওয়া হচ্ছে?
-- বালি।
-- উরিব্বাস, সে তো দারুণ জায়গা। কাছেই নাকি জাকার্তা, সেখানেও যাওয়ার প্ল্যান আছে নাকি?
-- না, আমি যেখানে যাচ্ছি তার কাছেই বেলুড়। ভাবছি বেলুড় মঠ থেকে একবার ঘুরে আসবো, অনেকদিন যাওয়া হয়নি।

Sunday, August 30, 2015

বেঙ্গালুরুতে থাকার একটি অসুবিধে আছে। এখানে চারদিক এতো পরিষ্কার যে সুবিধে মতো বিবেকের দংশন ছাড়া কোথাও ছোট বাথরুম করে নেব -- সে উপায়টি নেই।

Wednesday, August 26, 2015

-- ভাই, আমার লেখা তো কোথাও মনোনীত হচ্ছে না, কি করি?
-- তুই তো হাস্য-কৌতুকের গল্প লিখিস, তাই না?
-- হ্যাঁ।
-- ও সব লঘু মানের গল্প আজকাল আর চলে না, বুঝলি?
-- তাহলে কেমন গল্প চাই?
-- ওই অনেকটা খাঁটি সর্ষের তেলের মতো।
-- মানে?
-- মানে "বাঙালির চোখে জল" আনবে -- এমন গল্প।

Monday, August 24, 2015

আমি যখন স্কুলে পড়তাম তখন সাঁতরাগাছি একটা ছোটখাটো মফস্বল ছিল। কলকাতার যাত্রীরা হাওড়ায় যেত, আগেই সাঁতরাগাছিতে নেমে পড়তো না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এখনকার মতো এতো জনসমাগম, যানবাহন, দোকান-পাট ছিল না। আমরা পড়তামও সবাই পাড়ার স্কুলে, বাচ্ছা ছেলেমেয়েদেরকে কলকাতার স্কুলে পাঠানোর হিড়িকটাও তখন ছিল না। তবে মফস্বলের স্কুলে পড়লে কি হবে, দস্যিপনায় আমরা কলকাতার তাবড় তাবড় স্কুলকেও টেক্কা দিতে পারতাম। তার উপর আমাদের ক্লাসটা ছিল একেবারে বিষ ছেলেপুলেতে ভর্তি।
একদিন টিফিন পিরিয়ডে আমাদের ক্লাসে বিপুল হৈচৈ শুনে হেডস্যার ক্লাসে ঢুকে পড়েন। ওনাকে দেখেই অবশ্য আমরা সবাই চুপ করে যাই। হেডস্যার আমাদের স্কুলে শান্তি ও নিয়মানুবর্তিতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কিছুক্ষণ লেক্চার দেন। এরপর কোনো কারণে তাঁর নজর গিয়ে পড়ে আমাদের ক্লাসের দেওয়ালের উপর। নিউটনের সূত্র, তার ডানদিকে জ্যামিতিক প্রুফ, তার ঠিক উপরেই পেনসিলে আঁকা একটি রসালো ছবি আর তার ঠিক বাঁদিকেই কিছু বাছাই করা কাঁচা খিস্তি। সর্বত্র ক্লাসের দেওযালে এহেন শিল্পকলা দেখে তো হেডস্যারের চক্ষু চড়কগাছ। তিনি চেঁচিয়ে উঠলেন: "স্কুলে এসে তোমরা এসব কি শিখছো? আমরা কি তোমাদের সঠিক শিক্ষা দিতে ব্যর্থ হচ্ছি?" আমাদের শাস্তি বিধান হলো সমস্ত লেখা, সমস্ত ছবি ক্লাসের দেওয়াল থেকে ঘষে তুলে ফেললে তবে আমাদের সেদিন ছুটি হবে। আমরা আমাদের কাঠের স্কেল দিয়ে দেওয়াল ঘষতে শুরু করে দিলাম। কিছু ছেলে কোথা থেকে ঝাঁটা আর বালতি জোগাড় করে ফেললো। ঘষতে ঘষতে দেওয়ালের চুনকাম উঠে গেল, পলেস্তারা খসে পড়লো, মায় ইঁট পর্যন্ত উঁকি দিতে লাগলো। লাল-সাদা গুঁড়ো চুলে জামায় মেখে আমাদের ক্লাসের সবাই সেদিন  বাড়ি ফিরেছিলাম।

(শৌভিকদার স্মৃতি থেকে -- তবে সামান্য পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত)

Sunday, August 23, 2015

কল্পজগতে আমরা সবাই বাস করে থাকি। তারই একটা ছোট্ট নমুনা নিচে দেওয়া হলো।
মিশনে আমার রুমমেট অনির্বাণ লাহিড়ী একদিন দেখি নিজের মনে গান গাইছে। গানটা শেষ করার পর সে আমাকে জিজ্ঞেস করলো: "আচ্ছা, বল তো, এতক্ষণ যে গানটা শুনলি -- সেটা কার গলা?"
আমি: "তোর।"

Saturday, August 22, 2015

দিব্যেন্দু: পর্ব ১৩ -- বাণী

শুরুতেই বলে রাখি: শোনা কথা, সত্যাসত্যের দায় আমার নেই।

দিব্যেন্দু ইষৎ পানাসক্ত। সে মাল খাবে চার আনার কিন্তু বাওয়াল দেবে পুরো ষোলো আনা। একদিন ইচ্ছে করে মালের বোতলে শুধু sprite ঢেলে তাকে ডেকে খাওয়ানো হয়েছে। এই খেয়েও সে অন্যদিনের মতোই বাওয়ালি করছে দেখে কিছুক্ষণ পর সত্যি কথাটা তাকে জানানো হয়। সত্যি কথাটা শুনে দিব্যেন্দু কিন্তু বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে বলে ওঠে: "ওরে পাগল! নেশা কি মদে? নেশা তো মনে।"

Thursday, August 20, 2015

হঠাৎ দেখি দুটি ছোট ছেলে বেঙ্গালুরুর রাস্তায় নিজেদের মধ্যে জোরে জোরে চিৎকার করে কি কথা বলছে। এ প্রদেশের ভাষা তো আমি জানি না, তবে তাদের কথার তীব্রতা শুনে মনে হলো একে অপরকে গালিগালাজ করছে। মজার ব্যাপার হলো বাচ্ছা ছেলে দুটিকে একইরকম দেখতে, সম্ভবত দুই ভাই হবে। ওদেরকে দেখে বহুদিন আগে কলকাতায় দেখা এরকমই দুই ভাইয়ের ঝগড়া করার এক দৃশ্য মনে পড়ে গেল। পরিপক্ক বয়স না হওয়ায় সহোদরকে (চলতি ভাষায়) "বরাহ-নন্দন" বললে যে নিজেকেও তিরস্কার করা হয় -- সে বোধ তখনও তাদের হয়নি।

Wednesday, August 19, 2015

বেঙ্গালুরুর বাসে সাধারণতঃ দুটো দরজা থাকে, একটা সামনে আর একটা মাঝখানে। মাঝখানের দরজা দিয়ে উঠলে সামনেই তিনটে প্রতিবন্ধীদের সিট।
আজ বাসের সিটে বসে দেখি একজন খোঁড়া ব্যক্তি সামনের দরজা দিয়ে বাসে উঠেছেন। বাসের মাঝখান অবধি যেতে তাঁর অসুবিধে হবে বুঝতে পেরে একটি মেয়ে তাঁকে তাড়াতাড়ি সিট ছেড়ে দিল। আমি ব্যাপারটা দেখে খানিকটা অপ্রতিভ বোধ করলাম। তবে পরের স্টপেজেই সেই মেয়েটিকে নেমে যেতে দেখে আশ্বস্ত হলাম (পড়ুন: আমার পৌরুষ আশ্বস্ত হলো)।

Sunday, August 16, 2015

আইআইটি খড়্গপুরের বর্তমান ডিরেক্টর PPC স্যার গতবছর ফার্স্ট ইয়ারের ছাত্রদের প্রোগ্রামিং-এর ক্লাস নিচ্ছিলেন। ক্লাস চলাকালীন এক ছাত্রকে খানিক অমনোযোগী মনে হওয়ায় স্যার ছাত্রটিকে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞেস করেন যে সে ক্লাসে যা পড়ানো হচ্ছে তা বুঝতে পারছে কিনা। স্যারের প্রশ্নের উত্তরে ছাত্রটি মুখে কিছু না বলে ডাঁয়ে-বাঁয়ে ঘাড় নাড়াতে থাকে। ছাত্রটির প্রতিক্রিয়া দেখে PPC স্যার তাকে জিজ্ঞেস করেন যে সে নর্থ ইন্ডিয়ান না সাউথ ইন্ডিয়ান।  ছাত্রটি নিজেকে সাউথ ইন্ডিয়ান বলায় PPC স্যার নিশ্চিন্ত হয়ে বলেন: "যাক, তুমি সাউথ ইন্ডিয়ান যখন তখন তোমার ডাঁয়ে-বাঁয়ে ঘাড় নাড়ানোর মানে 'হ্যাঁ', নর্থ ইন্ডিয়ান হলে এভাবে ঘাড় নাড়ানোর মানে বুঝতাম 'না'।"

স্যারের এই "সামাজিক শিক্ষা" বেঙ্গালুরুর দোকান, হোটেল, বাস, সর্বত্র আমার কাজে লাগছে।

এই সংক্রান্ত আরেকটি ছোট ঘটনা।
ক্লাস শেষে দুই ফার্স্ট ইয়ারের ছাত্রের কথোপকথন:
-- আপনা স্যার ডিরেক্টর সাব জায়সা দিখতা হ্যায়, নেহি?
-- হাঁ ইয়ার, ম্যায় ভী সোচু ইসকে জায়সা চেহরা কিধার দেখা হু!

Thursday, August 13, 2015

বেঙ্গালুরুর জ্যাম কতোটা ভয়ানক সেটা যাঁরা একবার দেখেছেন তাঁরা নিশ্চয়ই মনে রেখেছেন, যাঁরা দেখেননি তাঁদের জন্যে বেঙ্গালুরুর জ্যামের বীভৎসতা প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে আমার সদ্যলব্ধ একটা অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিই।

একটা ফ্লাইওভারের মাথায় উঠে আমার বাস জ্যামে আটকা পড়ে গেছে। সামনে প্রচুর বাস-গাড়ি-অটোর সারি। বাস ড্রাইভার দেখি এই সময় কোথা থেকে একটা খবরের কাগজ বার করে ফেলে খুব মন দিয়ে সেটা পড়তে শুরু করে দিয়েছে। মাঝে মাঝে কাগজ থেকে মাথা তুলে সামনের ট্রাফিক এগিয়েছে কিনা দেখে নিচ্ছে, এগিয়ে থাকলে ব্রেক থেকে পা-টা সামান্য তুলে নিচ্ছে -- তাতেই বাস দিব্যি গড়িয়ে নিচের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, ড্রাইভারকে পারতপক্ষে স্টিয়ারিং নাড়াতেই হচ্ছে না। এই ভাবে ফ্লাইওভার থেকে নামার আগেই দেখলাম ড্রাইভার খবরের কাগজের পাতা উল্টে প্রায় আদ্ধেক শেষ করে ফেললো।

Sunday, August 9, 2015

আমার সেই অঙ্কের স্যার সুকুমার রায়ের কথা মনে আছে? তাকে নিয়ে আরেকটা মজার ঘটনা বলি।
একদিন উনি টিউশনে ছাত্র ছাত্রীদের প্রশ্ন করলেন: "আচ্ছা, যুগের চেয়ে অনেক এগিয়ে -- এরকম একটা আবিষ্কারের নাম বলতো?"
মাথা-টাথা চুলকেও আমরা কেউ সদুত্তর দিতে না পারায় উনি জানালেন যে "সেফটি পিন" নাকি যে সময়ে আবিষ্কার হয়েছিল, সে যুগে ওরকম সূক্ষ্ম লিভারের (Lever-এর) কাজ ভাবাই যেত না -- তাই সেফটি পিনকে যুগের চেয়ে অনেক এগিয়ে একটা আবিষ্কার বলা যেতে পারে।
এরপর স্যার জিজ্ঞেস করলেন: "আচ্ছা, যুগের চেয়ে অনেক পিছিয়ে -- এরকম একটা আবিষ্কারের নাম বলতো?"
এই প্রশ্ন শুনে তো আমরা হতবাক; "যুগের চেয়ে পিছিয়ে আবিষ্কার" -- এরকমটা  আবার হয় নাকি? এবারেও আমরা উত্তর দিতে না পারায় স্যার জানালেন যে "হাওয়াই চটি" হচ্ছে যুগের চেয়ে পিছিয়ে আবিষ্কারের একটা উদাহরণ। কারণটা কি? এর কারণ হলো হাওয়াই চটি পরে থাকা অবস্থায় পা পিছলে যাওয়ার অভিজ্ঞতা আমাদের সকলের আছে এবং ভেবে দেখলে উপলব্ধি করবেন যে প্রায় সমস্ত ক্ষেত্রে হাওয়াই চটি না পরে খালি পায়ে থাকলে হয়তো আমরা পিছলে যেতাম না। তবুও কেন যে লোকে এতো হাওয়াই চটি কেনে এই ভেবে সুকুমার স্যার সত্যি অবাক হন।

Saturday, August 8, 2015

লেখক: পর্ব ৫

কিপটে আমি কোনদিনই ছিলাম না, তবে খরচ-খরচার ব্যাপারে খানিকটা সাবধানী বলা যেতে পারে। কোনো কিছুর অপচয় আমি সহ্য করতে পারি না, বিশেষ করে পয়সা আর খাবারের। যারা আমাকে চেনেন তারা সেটা ভালো ভাবেই জানেন। যারা জানেন না, তাদের জন্যে একটা ছোট ঘটনা বলি। মিশনে আমার রুমমেট নিশান আমার চাউমিন খাওয়া দেখে বলেছিল: "তোর তো দেখছি খাবারের ব্যাপারে একাবারে 'বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচাগ্র মেদিনী'।"

পরে পয়সার ব্যাপারেও একইরকম উপলব্ধি হয়েছিল নিশানের। সেরকম একটা ঘটনা নিশানের জবানিতেই দিচ্ছি (সামান্য পরিমার্জিত করে)। এই ঘটনাটা হয়তো আপনারা আগেই পড়েছেন, এখানে লেখাটিকে "লেখক পর্ব"-এর অন্তর্গত করা হলো।

"এবার আমি একটা ঘটনা বলি, নরেন্দ্রপুরে পড়ি, নরনারায়ন সেবার দিন কুণাল, আমি আর জ্যোতি (অনির্বাণ), গেলাম লাইটহাউসে সিনেমা দেখতে। পকেটে তখন হেবি টান, কুল্লে ৪০০ টাকা হাতখরচা পাই। এর মাঝে লাইটহাউসে কুণাল বায়না ধরলো পপকর্ণ কিনতেই হবে। হলের ভেতর এমনিতেই সবকিছুর দাম বেশী। কুট্টি সাইজের একটা পপকর্ণ কেনা হোলো। যার দাম ৫ টাকা। তা কিনেইছে যখন, আমি আর জ্যোতিও দু এক দানা মুখে দিলাম।
সিনেমা শেষ করে ফেরার সময় আমরা বুঝলাম ফিরে খাওয়া যাবে না আর। তাই মহামায়াতলায় নেমে অ্যাণ্টনদার দোকানে যাওয়া হলো (যেখানে আমরা ১০% ছাড় পেতাম।) যাই হোক, দোকানে বসে হিসেব হচ্ছে চুলচেরা। কুণাল বলে কি "পপকর্ণের দাম তো পাঁচটাকা, তা আমিই যখন চেয়েছিলাম কিনতে, আমিই বেশীটা দিচ্ছি" -- অ্যাদ্দূর শুনে আমার আর জ্যোতির মুখে হাসি ফুটতে যাচ্ছিলো, তারপরই শুনলাম -- "আমি নাহয় দু টাকা দিচ্ছি, তোরা দুজন দেড়টাকা করে দিয়ে দিস" শুনে আমাদের হাসি আমরা আবার কপ করে গিলে ফেললাম।"

Tuesday, August 4, 2015

স্কুল শেষে বাড়ি ফেরার মতো আনন্দ বহুদিন অনুভব করিনি। চাকরিতে ঢুকে সেই পুরনো আনন্দটা ফিরে পেলাম।