Saturday, April 23, 2016

আমার ব্লগে আমি যেদিন প্রথম বাংলা পোস্টটা করেছিলাম সেদিনের তারিখ ছিল ২৬-এপ্রিল-২০১৪। তারপর প্রায় দু'বছর কেটে গেছে। আজকের পোস্টটা আমার ব্লগের ২০০তম পোস্ট।

নারী: "তুমি না কিচ্ছু রং চিনতে পারো না।"
পুরুষ: "যাঃ, কি যে বলো !"
নারী: "আচ্ছা, তাহলে বলো তো এই রংটা কি ?"
পুরুষ: "এ তো খুব সোজা -- গোলাপী।"
নারী: "না, হলো না। এটা হলো ক্রিমসন। আচ্ছা, তাহলে বলো ওই যে রংটা দেখছো -- সেটা কি ?"
পুরুষ: "এখান থেকে তো বাদামী বলেই মনে হচ্ছে।"
নারী: "এটাও হলো না, বুদ্ধুরাম, ওই রংটাকে বলে রাসেট। আচ্ছা, এবারেরটা কিন্তু লাস্ট ট্রাই। বলো তো পাশেই এই যে রংটা দেখতে পারছো -- এটা কি ?"
পুরুষ: "বেগুনী, মানে ভায়োলেট আর কি।"
নারী: "ধুস, এই সহজটাও পারলে না। এই রংটার নাম পার্পেল। এখন বুঝতে পারছো তো, তোমার রং সম্বন্ধে কোনো আইডিয়া নেই।"
পুরুষ: "না, আমার রং চিনতে না পারার পেছনে অন্য একটা কারণও থাকতে পারে।"
নারী: "সেটা কি ?"
পুরুষ: "গোলাপ, বাদাম, বেগুন -- এগুলো কোনোটাই আমরা এক দোকান-বাজার থেকে কিনিনি।"

Wednesday, April 20, 2016

লেখক: পর্ব ৯

মানুষের প্রিয়তম বস্তুগুলির মধ্যে অন্যতম হলো -- মাথার চুল। আয়নার সামনে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা চুলের পরিচর্যা করতে আমি অনেক মানুষকে দেখেছি। এই সব মানুষদের কাছে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হলো টাক পড়া। এসম্বন্ধে আরেকটু বিশদে জানতে হলে (বহুদিন আগে লেখা) আমার "ইন্দ্রলুপ্তি" শীর্ষক লেখাটায় একবার চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন।
তবে চুলের যত্নয়াত্তি সম্বন্ধে আমি এবং আমার দাদা কিন্তু সর্বসাধারণের তুলনায় অনেকটাই উদাসীন। এর কারণ আমাদের বাবা। ছোটবেলা থেকে অনেক বড়বেলা অবধি বাবা আমাদের চুল বড় হয়েছে দেখলেই তত্ক্ষণাৎ আমাদেরকে নিয়ে ইটালিয়ান সেলুনে গিয়ে নাপিতকে কঠোর নির্দেশ দিতেন: "চুল একদম ছোট হবে। দেখলেই যেন মনে হয় সাতদিন আগে ন্যাড়া হয়েছে।" চুল কাটা শেষে বাবা আমাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দেখে নিতেন চুলের দৈর্ঘ্য তাঁর মনোমত হয়েছে কিনা, চুল যথেষ্ট ছোট হয়নি বলে মনে হলে নাপিতকে আবার হাত লাগাতে হতো। (আপনাদের মধ্যে কেউ কেউ কি ভাবছেন "ইটালিয়ান সেলুন" বুঝি আহামরি কিছু? আরে ধুস, ইটালিয়ান সেলুন মানে সেই সমস্ত সেলুন যেখানে ইটের উপর বেঞ্চ পেতে খদ্দেরকে বসতে হয়।) এরকম চুলের ছাঁট নিয়ে যখন আমরা গরমের কিম্বা পুজোর ছুটির শেষে স্কুলে যেতাম তখন যে কতবার আমাদের বন্ধুরা আর টিচাররা আমাদের সম্প্রতি পৈতে হয়েছে ভেবে ভুল করেছে তার ইয়ত্তা নেই। যখন আমাদের সত্যি সত্যি পৈতে হয়েছিল তখন আমি সবে ক্লাস সেভেনে উঠেছি আর দাদা ক্লাস টেনে। আমার আর দাদার এক সাথে পৈতে দেওয়ার পেছনে কারণটা খুব সাধারণ -- কস্ট কাটিং (cost cutting)।
পাঠকদের মধ্যে অনেকের হয়তো ধারণা কস্ট কাটিং জিনিসটা বোধহয় হালফিলের আবিষ্কার। মোটেই তা নয় -- কস্ট কাটিং যুগ যুগ ধরে হয়ে আসছে। আমার আন্দাজ অনুযায়ী এই বস্তুটির প্রণেতা ত্রেতা যুগের রাজা দশরথ। বিশ্বাস না হলে রামায়ণ খুলে দেখুন, উনি নিজের চার ছেলের বিয়ে একসাথে দিয়েছিলেন। রাজা-রাজড়ার ব্যাপার -- বিয়ে মানেই এলাহী খরচা -- তাই চারবারের খরচাটা উনি একবারেই সেরে ফেলেছিলেন। এর চেয়েও পুরনো কোনো কস্ট কাটিংয়ের ঘটনা আপনাদের জানা আছে নাকি?

Saturday, April 16, 2016

আগের দিন একটা ডকুমেন্টারীতে দেখলাম যে ওষুধ কোম্পানিরা কোনো নতুন ওষুধ বাজারে ছাড়ার আগে সেটা কিছু রুগীর উপর পরীক্ষা করে দেখে নেয়। অবশ্যই যে সমস্ত রুগীরা স্বেচ্ছায় এই নতুন ওষুধটি নিজেদের উপর যাচাই করতে রাজি হয় শুধুমাত্র তাদের উপরেই নতুন চিকিত্সা পদ্ধতিটি প্রয়োগ করা হয়। কখনো কখনো এধরণের পরীক্ষায় সম্মতি জানালে ওষুধ কোম্পানির তরফ থেকে কিছু টাকা রুগীদের দেওয়া হয়। বিস্ময়কর ব্যাপারটি হলো এই সমস্ত রুগীদের মধ্যে অর্ধেককে আসল ওষুধটি দেওয়া হয়, বাকিদের একইরকম দেখতে চিনির ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল দেওয়া হয় যার কোনো গুণগত মান নেই -- এই নকল ওষুধটিকে placebo বলা হয়ে থাকে। প্রত্যেক রুগীই ভাবেন তিনি বুঝি আসল ওষুধটাই খাচ্ছেন, এদিকে ডাক্তাররা লক্ষ্য রাখেন যাঁরা আসল ওষুধটি খাচ্ছেন তারা বাকিদের থেকে কতোটা ভালো বা মন্দ আছেন। ডাক্তাররা ওষুধের কার্যকারিতা সম্বন্ধে নিশ্চিত হলে তবেই ওষুধটি বাজারে ছাড়া হয়।
অ্যাদ্দূর অবধি যা পড়লেন সে সমস্ত খবর হয়তো পাঠকদের আগে থেকেই জানা আছে। ভেবে দেখার বিষয় হলো কি ধরণের রুগীরা এধরণের পরীক্ষা নিজেদের উপর করতে রাজি হয়। কেউ কেউ হয়তো অর্থোপার্জনের জন্য সম্মতি জানায় তবে আমার ধারণা সাধারনতঃ যে সব রুগীদের ক্ষেত্রে অন্যান্য সকল গতানুগতিক চিকিত্সা ফলপ্রসু হয়নি তাঁরাই শেষ চেষ্টা ভেবে নতুন ওষুধটি ব্যবহার করতে রাজি হন। তাদের মধ্যে অর্ধেককে প্লাসেবো অর্থাৎ নকল ওষুধ দেওয়াটা একধরণের প্রতারণা নয় কি?
তবে কিনা ওষুধটির কর্মক্ষমতা যাচাই করার এটাই হয়তো শ্রেষ্ঠ উপায়। মানবকুলের রক্ষার্থে কিছু মানবকে বলিদান তো দিতেই হবে। বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্রতর স্বার্থ ত্যাগ করতেই হবে -- এটাই আমার মতে কম্যুনিজমের ভিত।

Monday, April 11, 2016

সৌম্যর বাড়িতে সরস্বতীপুজো করার দায়ভার তো নিয়ে নিয়েছি কিন্তু এদিকে পুজোর আয়োজন সম্বন্ধে আমার বিদ্যে তো লবডঙ্কা। তবে দেবীর কৃপায় এবং গুগল-এর সহায়তায় ইন্টারনেটের একটি লিংক থেকে সরস্বতী পুজোর যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারলাম। এই তথ্যাবলীটির যিনি রচয়িতা তিনি আমেরিকায় থাকেন, সেখানকার বাঙালি সমাজ যাতে সরস্বতী পুজোর রীতিনীতি ভুলে না যায় তাই তাকে রক্ষা করার জন্যে তাঁর এই সাধু প্রয়াস। কিন্তু মুশকিল হলো যে সব পুজোর দ্রব্যাদি আমেরিকায় পাওয়া যায় না সে সকল সামগ্রী উনি নিজ বিবেচনায় তাঁর উপকরণের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন। পুজোর দিন সকালে আমরা পুজোর উদ্যোক্তারা সেটা উপলব্ধি করলাম কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে। সব পুজোতেই কিছু না কিছু গাফিলতি থেকেই যায় তাই পুজোর শেষে ভগবানের কাছে ক্ষমা চাওয়ার একটা মন্ত্র বলে নেওয়াটা রীতি। ভাগ্য ভালো সেই মন্ত্রটা ইন্টারনেট থেকে জোগাড় করে রেখেছিলাম -- এই মন্ত্রটা বলে খানিক মানসিক শান্তি পাওয়া গেল।

Sunday, April 10, 2016

মা: "হ্যাঁ রে, জয়দীপের মায়ের কাছে শুনলাম আজকে তোদের হাফ-ইয়ার্লির অঙ্ক খাতা বেরিয়েছে -- কই তুই বলিসনি তো কতো পেয়েছিস?"
ছেলে চুপ। যে নম্বরটা আবিষ্কারের জন্য ভারতবর্ষ গর্বিত সে নম্বরটা বলতে কিন্তু ভারতীয়দের ভীষণ লজ্জা করে -- শূন্য।

Thursday, April 7, 2016

সেদিন দেখি এক মহিলা হেলমেট পরে রাস্তা পার হচ্ছেন। বেঙ্গালুরুর রাস্তাঘাট যা বিপজ্জনক -- ফুটপাথ তো সর্বত্র টু-হুইলার চালকদের কাছে শর্টকাট -- তাতে সত্যি সাবধানের মার নেই।

Sunday, April 3, 2016

Techsym নামক একটি সম্মেলন আইআইটি খড়্গপুরের স্টুডেন্টরা নিয়মিত ভাবে প্রতি বছর আয়োজন করে আসছে। ২০১১ সালে তালেগোলে আমি এই সম্মেলনের একজন উদ্যোক্তার পদ লাভ করেছিলাম। আমার প্রধান দায়িত্ব ছিল গত প্রত্যেক বছরের মতো সে বছরেও স্থানীয় স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে একটি কুইজ এবং একটি সায়েন্স এক্সিবিশন সংগঠন করা। আমার মতো করিত্কর্মা ছেলেকে একাজের দায়ভার দেওয়ার ফল হলো যে সেবছর থেকে এই দুটি অনুষ্ঠান সম্মেলনের কর্মসুচি থেকে চিরতরে কাটা পড়লো। আমাকে "ট্রেন্ড-কিলার" বলা উচিৎ না "ট্রেন্ড-সেটার" সে বিচার সমালোচকদের উপর ছেড়ে দিয়ে আপাতত আমরা আমার এই সম্মেলনের দ্বিতীয় কার্যভারের গল্পে চলে আসি।
এই দায়িত্বটি তুলনামূলক ভাবে বেশ সোজা -- গাড়ি করে খড়্গপুর থেকে কলকাতা এয়ারপোর্ট যাওয়া আর সেখান থেকে এক নিমন্ত্রিত অতিথিকে সেই গাড়ি করে খড়্গপুর গেস্ট হাউসে নিয়ে আসা। আমাদের সম্মেলনের ক্যাশিয়র প্রদীপ্ত জানালো যে এই জার্নির সময় গেস্টের এন্টারটেইনমেন্টের বাবদ যদি কিছু জলখাবারের ব্যবস্থা করতে হয় তাহলে সে সমস্ত খরচা বিল দেখালে সম্মেলনের ফান্ড থেকে আমাকে ফেরৎ দিয়ে দেওয়া হবে। উপরন্তু এয়ারপোর্টে যাওয়ার সময় পুরো রাস্তা একা একা যাওয়াটা অনেকেরই বিরক্তিকর লাগে বলে ঠিক হলো আমার সাথে আমার রুমমেট সৌম্যও যাবে। দুই উর্বর মস্তিস্ক আর বৃহৎ উদর এক হলে যা হয় তাই হলো। আমরা দুজন কম্পিউটার সায়েন্স ডিপার্টমেন্টের সামনের কফি হাউস থেকেই আমাদের পেটপুজো শুরু করে দিলাম, অবশ্যই বিলগুলো জোগাড় করে নিতে ভুলিনি। এয়ারপোর্টে পৌঁছে প্রথমেই আমরা হানা দিলাম সেখানকার CCD-তে। সে সময় CCD ছিল আমাদের কাছে দুর্লভ বস্তু, তখন যা স্কলারশিপ পেতাম তাতে CCD-তে ঢোকার কথা আমরা ভাবতেই পারতাম না -- নেহাৎ রিফান্ড পেয়ে যাব তাই সেদিন সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে ঢোকা। এদিকে আমাদের সেই নিমন্ত্রিত অতিথি এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে আমাদেরকে নির্দিষ্ট জায়গায় দেখতে না পেয়ে আমাকে ফোন করলেন। আমি তো CCD-তে বসে ফোন ধরে বিস্মিত ভঙ্গিতে তাকেই জিজ্ঞেস করলাম কোথায় তিনি, আমরা তো এদিকে তাকে খুঁজে খুঁজে হয়রান হয়ে গেছি।
এই অতিথির নাম উহ্যই থাক -- শুধু শুধু এক ভদ্রলোককে এই গল্পের মাঝে টেনে এনে লাভ নেই। তবুও গল্পের খাতিরে আমরা তাকে মাইক্রোবাবু বলবো। (উনি মাইক্রোসফ্ট-এ চাকরি করেন তো, তাই।) মাইক্রোবাবুর সাথে আমি আর সৌম্য নানা কথা বলতে বলতে ফিরছি, এদিকে আমাদের দুজনেরই মাথায় ঘুরছে মাইক্রোবাবুকে রাজি করিয়ে যদি মাঝখানে কোলাঘাটে গাড়ি থামিয়ে "শের-ই-পাঞ্জাব" নামক হোটেলটায় ডিনারটা সেরে ফেলা যায় তাহলে মন্দ হয় না। তাই আমি আর সৌম্য পালা করে মাইক্রোবাবুকে খানিকক্ষণ পরপর ওনার ক্ষিদে পেয়েছে কিনা সেটা ওনাকে জিজ্ঞেস করে যাচাই করে নিচ্ছিলাম। উনি যতো "না" বলেন আমরা ততো জোর দিয়ে বলি উনি যেন কোনো মতেই লজ্জা করে ক্ষিদে পাওয়ার (সু)-সংবাদটা আমাদের কাছে লুকিয়ে না রাখেন। কিন্তু আমাদের মনোস্কামনা পূর্ণ না করে গাড়ি একেবারে আইআইটির গেস্ট হাউসে এসেই থামলো। গেস্ট হাউসে পৌঁছে জানতে পারলাম আমাদের ফিরতে দেরি হতে পারে ভেবে মাইক্রোবাবুর সাথে আমার আর সৌম্যার ডিনারের ব্যবস্থাও গেস্ট হাউসে সেদিন করা হয়েছে। মাইক্রোবাবুর বরাত সত্যিই ভালো বলতে হবে, না হলে সেদিন রাত্রে ওনাকে আমার আর সৌম্যার এতো অভিশাপ কুড়োতে হতো ...

তবে গল্প এখানেই শেষ নয়। পরদিন ক্যাশিয়র প্রদীপ্তকে আমাদের খাবারের বিলগুলো জমা দেওয়াতে সে দেখে বললো: "গেস্টের এন্টারটেইনমেন্ট বাবদ সমস্ত খরচা রিফান্ড করার কথা ছিল কিন্তু তোদের সমস্ত বিলেই প্রত্যেকটা আইটেম দুটো করে দেখছি কেন? গেস্ট প্লাস তোরা দুজন অর্থাৎ তিনটে করে আইটেম থাকা উচিৎ তো !" যাই হোক, বন্ধু বলে ক্ষমা ঘেন্না করে রিফান্ডটা শেষমেশ করে দিয়েছিল প্রদীপ্ত।

সামনেই ২০১৬ সালের Techsym অনুষ্ঠিত হতে চলেছে -- আমার এই লেখা এবছরের কোনো উদ্যোক্তা পড়ে ফেললেই চিত্তির।

Saturday, April 2, 2016

আমাদের বাড়ির কাছে "পদ্মশ্রী" নামক একটা ফালতু সিনেমা হল আছে। সিনেমা হলটার দুর্নাম আগে শুনেছিলাম বটে তবে হলটা কতোটা বাজে সে সম্বন্ধে সঠিক ধারণা না থাকায় আমি আর দাদা একবার ভুল করে "Krish" সিনেমাটা দেখতে ওই হলে ঢুকে পড়ি।
প্রথমত, এই সিনেমা হলের টিকিটে কোনো সিট নম্বর থাকে না। টিকিট কেটে একবার ঢুকে পড়লে যে কেউ যে কোনো ফাঁকা সিটে বসে পড়তে পারে। আমি আর দাদা সিনেমা শুরু হওয়ার অল্প কিছুক্ষণ আগে টিকিট কেটে হলে ঢুকি। ভেবেছিলাম সমস্ত সারির মাঝখানের সিটগুলো নিশ্চয়ই এতোক্ষণে বেদখল হয়ে গেছে, কিন্তু ঢুকে দেখি যে দর্শকরা ধারের সিটগুলো ভর্তি করে ফেলেছে -- মাঝখানের সিট মোটামুটি ফাঁকা। নিজেদের সৌভাগ্যবান ভেবে আমরা তাড়াতাড়ি গিয়ে মাঝখানের দুটো সিটে বসে পড়ি এবং সামান্য সময়ের মধ্যে এই হলের দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্যটি আবিষ্কার করি -- এই হলের সমস্ত ফ্যান দুইদিকের দেয়ালে লাগানো, তাই ধারের সিটে বসা দর্শকরাই শুধু হাওয়া খেতে পারে। এদিকে মাঝখানের সিটে বসে আমরা কুল কুল করে ঘামছি।
যাই হোক, সিনেমা তো শুরু হল। শারীরিক কষ্ট ভুলে সিনেমাতে ডুব দিলাম। শুরুতেই চমক: (সিনিয়র) হৃতিক রোশন একটি দুর্ঘটনায় মারা পড়লো। পাশ থেকে কে একজন সংবেদনশীল মহিলা দর্শক বলে উঠলো: "এ মা ! হৃতিক মারা গেলো।" হলে বসে সিনেমা দেখার সময় টুকটাক এমন মন্তব্য কানে আসবেই -- তাতে বিরক্ত হওয়ার কিছু নেই, বরং মাঝেমাঝে কিছু চটুল মন্তব্য পরিবেশটাকে আরো জমিয়ে তোলে। তবে এই ক্ষেত্রে ব্যাপারটা বেয়াড়া দিকে মোড় নিলো সামনের সারি থেকে এক পুরুষ দর্শকের ভেসে আসা মন্তব্যে: "আপনি চিন্তা করবেন না ম্যাডাম -- হৃতিক মরেনি, ওকে ভিলেনরা বন্দী করে রেখেছে। ছেলে হৃতিক ক্রিশ হয়ে বাবাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসবে।" এ কি জ্বালাতন ! সিনেমার গল্প কেও আগে থেকে বলে দিলে আমার মোটেও ভালো লাগে না। সিনেমা শেষ হওয়ার পর হলে যখন আলো জ্বলে উঠলো তখন লক্ষ্য করলাম সামনের সারির সেই জ্ঞানী দর্শকটি পদ্মশ্রী হলের টিকিট চেকার।