Tuesday, September 26, 2017

ব্যাঙ্গালুরুতে চাকরিতে জয়েন করার পর থেকে দূর্গা পুজোয় বাড়ি যাওয়া হয়নি। এই নিয়ে তিন বছর হলো। একেবারে হ্যাটট্রিক! এখানে ছুটিও দেয় মাত্র দুই দিন -- নবমী আর দশমী (যথাক্রমে আয়ুধ পূজা ও দশেরা উপলক্ষে)। এবারে তবু বাবা মা থাকাতে ভেবেছিলাম সপ্তমী অষ্টমী ছুটি নিয়ে কাছেপিঠে কোথাও ঘুরতে যাবো -- কিন্তু সে আশাতেও গুড়ে বালি। হঠাৎ একটা ডেডলাইন এসে যাওয়ায় আগামী দু'দিনও অফিস আসতে হবে। আমরা হুকুমের গোলাম, উপরওয়ালার হুকুমমাফিক না চলে উপায় নেই। তাই মেজাজটা ভীষণ খিঁচড়ে ছিলো।

এর মাঝে আমার আইআইটির রুমমেট মৈনাক দেখি ম্যাসেজ করেছে ফেসবুকে। জানতে চেয়েছে বেঙ্গালুরুতে দূর্গা পূজা হয় কিনা। কথাপ্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি মৈনাক এখন ফ্রান্সে পোস্ট-ডক করতে ব্যস্ত। ওর ম্যাসেজ পড়ে আরেকবার অনুভব করলাম নিজের পরিস্থিতি বিন্দুমাত্র না পাল্টালেও আরেকজন আমার চেয়ে অসুখী আছে দেখলে নিজের দুঃখ খানিক লাঘব হয়।

Monday, September 25, 2017

আইআইটিতে ভর্তি হওয়ার পর একটা কথা হাসি তামাশার আসরে প্রায়শই শুনতাম যে খড়্গপুর স্টেশনে নাকি সব সময় কিছু রাজমিস্ত্রী যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মোতায়েন থাকে। খড়্গপুর রেল স্টেশনের প্ল্যাটফর্মটি বিশ্বের দীর্ঘতম -- এই রেকর্ডটি যাতে অক্ষুণ্ণ থাকে তাই পৃথিবীর কোথাও যদি কোনো প্ল্যাটফর্ম খড়্গপুরের চেয়ে একচুল লম্বা হয়েছে বলে খবর আসে তাহলে এই রাজমিস্ত্রীরা ছুটে গিয়ে কয়েকখান ইঁট গেঁথে খড়্গপুরের তকমাটা বজায় রাখে।

কিন্তু আজ অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে খড়্গপুর তার শিরোপা ইতিমধ্যে হারিয়ে ফেলেছে। ভারতবর্ষের দীর্ঘতম প্ল্যাটফর্মগুলির মধ্যে খড়্গপুরের স্থান তৃতীয়। না অযথা বেশি ভয় পাবেন না। বিশ্বের দীর্ঘতম প্ল্যাটফর্মগুলির মধ্যে প্রথম তিনটিই ভারতের। এই মুহূর্তে বিশ্বের দীর্ঘতম প্ল্যাটফর্মটি হলো উত্তর প্রদেশের গোরখপুর এবং দ্বিতীয়টি হলো কেরালার কোল্লাম জংশন। এগুলির সঙ্গে খড়্গপুরের প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্যে তফাৎ ঠিক কতোখানি এবং প্রতিদিন বারোজন রাজমিস্ত্রীকে নিয়োগ করে যদি আড়াই মিটার করে খড়্গপুরের প্ল্যাটফর্ম বাড়ানো সম্ভব হয় এবং রাজমিস্ত্রী পিছু যদি প্রতিদিন দেড়শো টাকা করে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে খরচ করতে হয় তাহলে মোট কতো টাকা খরচা করে আমরা আবার আমাদের এতোদিনের গর্ব পুনোরোদ্ধার করতে পারবো -- এজাতীয় কে সি নাগ সুলভ হিসেবে যদি কারো রুচি থাকে তাহলে অবশ্যই নিচে দেওয়া লিংকটিতে ক্লিক করুন।

https://en.wikipedia.org/wiki/Railway_platform

Thursday, September 7, 2017

একা থাকার বেশ কিছু সুবিধে আছে যেমন আঙ্গুল ঢুকিয়ে সোজা বয়াম থেকে খাবার খাওয়া যায়, পিঠে গামছা বেঁধে নিজেকে সুপারম্যান ভাবা যায় এবং ইচ্ছে করলে বাথরুমের বাইরেও জোর গলায় বেসুরে গান গাওয়া যায়। লোকচক্ষুর আড়ালে লোক নিন্দের ভয় থাকে না। কিন্তু একা থাকার কষ্ট সব চেয়ে বেশি অনুভূত হয় শরীর খারাপ হলে। বাড়ির বাইরে যে থেকেছে তার কাছে এ কোনো অজানা তথ্য নয়।
সাধারণ সর্দি কাশি বাদ দিলে বেঙ্গালুরু আসার পর গত দু'বছরের বেশি সময়ে আমার কোনো শরীর খারাপ হয়নি। কিন্তু গত দু'দিন জ্বরে শয্যাশায়ী ছিলাম। কোনো ওষুধপত্র না খেয়ে আপনা থেকেই শরীর আজ খানিক ভালো আছে। বাবা মা-ও শিগ্রী বেঙ্গালুরু আসছে -- না, আমার শরীর খারাপের খবর শুনে নয়, এমনিতেই আসার কথা ছিলো। যাই হোক, তার মানে হলো আগামী কিছুদিন আমার যত্নের কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না।

Sunday, September 3, 2017

-- তুই তো আর এবছর রিইউনিয়ন অ্যাটেন্ড করতে পারলি না। এবারে কার সাথে দেখা হলো জানিস?
-- কার সাথে?
-- অর্পণদা কে খেয়াল আছে? আমাদের থেকে কয়েক বছরের সিনিয়র ছিলো।
-- হ্যাঁ, আছে।
-- ও গ্রাজুয়েশন করে যে বিদেশী কোম্পানিটাতে ঢুকেছিলো এখন সেটার একজন ভিপি হয়ে গেছে।
-- ওদের কথা ছাড়তো, ওদের সময় আমাদের মতো কম্পেটিশন ছিলো না। আগেকার দিন বলে সহজেই একটা ভালো চাকরি বাগিয়ে নিয়েছে তারপর ওপরওয়ালাদের সুনজরে ছিলো তাই ক্রমে ক্রমে উন্নতি করেছে -- এ আর বেশি কথা কি!
-- আচ্ছা, আর কার সাথে দেখা হলো জানিস -- অনুপমের সাথে। আমাদের থেকে অনেকটাই জুনিয়র ছিলো। পুরোনো নোটসের খাতা জোগাড়ের জন্য আমাদের কাছে মাঝে মাঝে ঘুরঘুর করতো -- তোর হয়তো খেয়াল থাকবে।
-- হ্যাঁ, হ্যাঁ, ওই সেই রোগা করে ছুঁচোলো নাকওয়ালা ছেলেটা, তাই না? কি খবর মালটার?
-- হ্যাঁ, সেই ছেলেটাই। ও তো এখন ব্যাঙ্গালোরে থাকে। নিজের একটা স্টার্ট আপ আছে। ভালোই চলছে। যদ্দূর সম্ভব ও অ্যাদ্দিনে কোটিপতি হয়ে গেছে।
-- সব কপাল ভাই! ওরা হলো ইন্টারনেটের যুগের ছেলে। আমাদের পাড়ায় প্রথম যখন সাইবার ক্যাফে খোলে তখন আমরা স্কুলের গন্ডি প্রায় পেরিয়ে গেছি। ওদের মতো সুযোগ সুবিধে যদি আমাদের থাকতো তাহলে তো কোনো কথাই ছিলো না -- আমরাও এতোদিনে কেষ্টুবিষ্টু হয়ে যেতাম কোনো কোম্পানির।
-- হুমম। তবে এবারে কার দেখা পেয়ে সবচেয়ে অবাক হলাম জানিস -- রাজীবের। ওই বোধহয় আমাদের একমাত্র ব্যাচমেট যার সাথে পাশ করার পর মাঝখানে কখনো একবারের জন্যেও দেখা-সাক্ষাৎ  হয়নি। স্রেফ ভ্যানিশ হয়ে গেছিলো। এবার রিইউনিয়নে দেখে তো পুরো চমকে উঠলাম -- মালটা পুরো পালটে গেছে। এখন নাকি আমেরিকাতে একটা ইউনিভার্সিটিতে প্রোফেসর। কথা-বার্তা চাল-চলন দেখলে তাক লেগে যাবে পুরো।
(কিছুক্ষনের নীরবতা)
-- এবার আমার আর কিছুই বলার নেই, বুঝলি। রাজীব ছেলেটা তো আমাদের সাথে একই বেঞ্চে বসতো, একই ক্লাস করতো, ইন ফ্যাক্ট আমরা একই টিউশনে পর্যন্ত পড়তাম। মোদ্দা কথা সে সময় আমাদের মধ্যে চুলচেরা ফারাক ছিলো। সিনিয়র জুনিয়রের সাফল্য উড়িয়ে দিতে পারি যতোটা সহজে, ব্যাচমেটের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ততোটাই কঠিন।

Saturday, September 2, 2017

প্রোগ্রামার (programmer) শব্দটার মানে আমরা সবাই জানি। যে কম্পিউটারে প্রোগ্রাম লেখে সেই প্রোগ্রামার। কিন্তু নিনজা প্রোগ্রামার (ninja programmer) -- এই শব্দটার সঙ্গে কি আপনি পরিচিত? নিনজা প্রোগ্রামার হলো তারা, যারা বিশেষ কোনো কম্পিউটার আর্কিটেকচার (অর্থাৎ কতোখানি ক্যাশ মেমারি, কতোখানি শেয়ার্ড মেমারি, ব্যান্ডউইড্থ কতো ইত্যাদি) মাথায় রেখে প্রোগ্রাম লেখে। এই সমস্ত প্রোগ্রাম গতানুগতিক প্রোগ্রামের চেয়ে অনেক দ্রুত সমাধান দিতে সক্ষম। হাই পারফরম্যান্স কম্পিউটিং (high performance computing) -- কম্পিউটার সায়েন্সের এই বিশেষ শাখায় যারা কাজ করেন তাদের জন্যে নিনজা প্রোগ্রামিং শেখাটা একপ্রকার বাধ্যতামূলক।
গত দুবছর ইন্টেলে চাকরি করে আমিও নিনজা প্রোগ্রামিং খানিক আয়ত্ত করেছি তবে এখনো বহু কিছু শেখা বাকি আছে। আমার গ্রুপের সিনিয়ররা কিন্তু যাকে বলে একেবারে পোড়খাওয়া দুঁদে নিনজা প্রোগ্রামার।
একদিন আমাদের ম্যানেজার গ্রুপের মেম্বারদের সাথে একজন এক্সেকিউটিভের পরিচয় করাচ্ছিলেন। পরিচয় পর্বটা ছিলো খানিক এরকম: এ হচ্ছে অমুক, আমাদের সবচেয়ে পুরনো নিনজা প্রোগ্রামার এবং এ হচ্ছে তমুক, আরেকজন দুর্দান্ত নিনজা প্রোগ্রামার।
শেষমেশ আমার কাছে পৌঁছে আমাদের ম্যানেজার খানিক কি ভাবলেন (বোধকরি আমাকে নিনজা প্রোগ্রামার বলাটা কতোখানি সমীচীন হবে এই ব্যাপারটা) তারপর আমাকে দেখিয়ে বললেন: আর এ হলো আমাদের নিনজা টার্টেল (turtle)। (আমার চেহারার প্রতিও কোনো কটাক্ষ ছিলো কি এই মন্তব্যে?)

তদুপরি জানিয়ে রাখি ইন্টেলের হাই পারফরম্যান্স কম্পিউটিং সম্বন্ধীয় একটা প্রবন্ধ বেরিয়েছে সম্প্রতি, তার লিংক এই লেখার শেষে দিলাম। খুঁটিয়ে পড়লে দেখতে পাবেন এই কাজটিতে Intel Math Kernel Library বলে একটি সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে। আমার লেখা একটি বিশেষ কোড সদ্য সংযোজিত হয়েছে এই লাইব্রেরিতে। সেই কোড অবশ্য এই কাজে ব্যবহৃত হয়েছে কিনা তা আমি জানি না।
https://www.hpcwire.com/2017/08/28/nersc-scales-deep-learning15-pflops/