Wednesday, March 28, 2018

"ভূতুড়ে মাছ শিকার"

রোববার পশ্চিমে সূর্য ডুবতেই গাবলু একছুটে হাজির হয়েছে তার ছোটদার ঘরে। ছোটদা গাবলুর ছোট দাদা নয়, ছোট দাদু -- গাবলুর ঠাকুর্দার অকৃতদার ছোট ভাই। সেই ছোটবেলা থেকে গাবলুর মুখে "ছোটদা" নামটা শুনতে শুনতে ওই ডাকনামটাই থেকে গেছে। অবশ্য গাবলুর ছোটবেলা এখনো পুরোপুরি ফুরিয়ে যায়নি। গাবলুর এখন দশ বছর বয়স চলছে তাই ছোটবেলার রেশ এখনো খানিক রয়েছে।

নিজেদের দোতলা বাড়ির সামনে বাগানের মধ্যে ছোটদার এই ছোট্ট একতলা বাড়িটা গাবলুর ভীষণ প্রিয়। তাই সুযোগ পেলেই দৌড়ে এখানে চলে আসে গাবলু। বারবার বাবা মার অনুরোধ সত্ত্বেও ছোটদা নিজের ঘর ছেড়ে তাদের দোতলার বাড়িতে উঠে আসতে কোনোদিন রাজি হননি। কারণ নাকি একলা থাকলে তাঁর গবেষণা করতে সুবিধে হয়। বহু লোকজনের ভিঁড়ে তার গবেষণার নাকি প্রভূত ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। 

গাবলু কিন্তু নিজের ছোটদার এই সিদ্ধান্তে খুব খুশি। নিজেদের বাড়িটাকে মাঝে মাঝে জেলখানা বলে মনে হয় গাবলুর। বাবা, মা, জেঠু, জেঠি, কাকু, কাকিমা সবাই যেন সবসময় গাবলুকে হুকুম করছে -- মন দিয়ে পড়াশোনা কর, তাড়াতাড়ি মাঠ থেকে খেলাধুলা শেষ করে ফিরে আসিস, ওসব দামি জিনিসে হাত দিস না -- আরো কতো কি। দিদিটাও ইদানীং খবরদারি করতে ছাড়ে না -- একটু বেশি সময় টিফিনে খেলাধুলো করেছে কিংবা স্কুলে দুষ্টুমি করেছে বলে ক্লাসের বাইরে স্যার দাঁড় করিয়ে রেখেছে -- সব কথাটাই মায়ের কানে তোলা চাই। একদম বিচ্ছিরি সবাই। এসব সময়ে গাবলুর একমাত্র রক্ষাকর্তা তার ছোটদা -- ছোটদার সামনে বাড়ির আর কারো ট্যাঁ ফো চলে না, জেঠু পর্যন্ত চুপ।

এক্ষণে ছোটদা সম্বন্ধে কিছু তথ্য দিয়ে রাখা যাক। ছোটদার ভালো নাম: নীলমণি মুখুজ্জে। তিনি একজন ভূত বিশেষজ্ঞ -- একথাটা শুনলে প্রথম প্রথম হজম করা খুব শক্ত। রাস্তাঘাটে কিঞ্চিৎ ছিটগ্রস্ত বলেও তাঁর দুর্নামও আছে। কিন্তু ইদানীং কালে দেশ বিদেশ থেকে কিছু লোক শুধুমাত্র নীলমণিবাবুর সাথে দেখা করার জন্যই গাবলুদের ছোট টাউনে আসায় ওনার সম্বন্ধে ধারণাটা সম্প্রতি কিছুটা পাল্টেছে। কোনো খবর চাপা থাকেনা এইসব ছোট টাউনে, তার ওপর আবার বিদেশিদের পদধূলি পড়েছে। কিছুদিন আগে ভূত নিয়ে রিসার্চের একটি জার্নালে ছোটদার একটি লেখা নাকি সাড়া ফেলে দিয়েছে -- তাই দূরদূরান্ত থেকে এইসব অতিথিদের আবির্ভাব ঘটেছে। স্থানীয় এক খবরের কাগজে খবরটা বেরিয়েও ছিলো। ইদানীং অবশ্য ব্যাপারটা একটু ঝিমিয়ে গেছে, আজকাল আর তেমন কেউ বাইরে থেকে দেখা করতে আসে না। তবে এলাকার কিছু কিছু বাসিন্দা মাঝে মাঝে হাজির হয় ছোটদার ঘরে -- ব্যাপারটা একটু তলিয়ে দেখতে। তবে সূর্যাস্তের পর কেউ একটা তেমন আসে না -- আসলে তেনাদের নিয়ে ব্যাপার-স্যাপার তো -- বেশি ঝুঁকি নিতে কেউ তেমন রাজি নয়।

সাধারণতঃ নীলমণিবাবুর বাড়িতে পাড়ার এইসব উৎসাহী লোকেদের একবারের বেশি দুবার পা পড়ে না। এর পিছনে মূলতঃ দুটি কারণ আছে -- এক: নীলমণি মুখুজ্জে মানুষটি পাড়ার এইসব "সার্কাস দেখতে এসেছি" মানসিকতার লোকজনদের বরদাস্ত করতে পারেন না তাই তাঁর আতিথেয়তার পরিমাণ কতখানি তা বোধ করি সহজেই অনুমেয়; দুই: লোকজন তাঁর ঘরে এসে শুধুমাত্র কিছু বিভিন্ন মাপের খালি কাঁচের বয়াম দেখে অত্যন্ত হতাশ হয়ে ফিরে যান। এই সমস্ত বয়াম কিন্তু আসলে মোটেই খালি নয়। তাদের ভেতরে আছে বিভিন্ন প্রাণীর আত্মা বা ভূত। গাবলু এই কাঁচের জারের সামনে দাঁড়ালে শুনতে পায় সেই সব প্রাণীর হাঁটাচলার আওয়াজ, তাদের ডাক। যদিও এই শব্দগুলো গাবলুর কাছে খুব একটা স্পষ্ট নয়। তবে ছোটদা তার এই সামান্য আওয়াজ শুনতে পারার ক্ষমতা দেখে আহ্লাদে আটখানা। এই ক্ষমতা নাকি সবার থাকে না। ক্রমে ক্রমে বয়স বাড়লে নাকি গাবলুর এই শ্রবণ ক্ষমতা নাকি আরো বিকাশ ঘটবে, এমনকি পরে সে নাকি দেখতেও পাবে এইসব আত্মাদের। এই ক্ষমতা নাকি খুব বিরল। বাড়ির আর কারো নেই। দিদি, যে গাবলু নিজের মনে আস্তে আস্তে গুনগুন করে উঠলেও পাশের ঘর থেকে শুনতে পায়, সেও কিচ্ছুটি টের পায়নি এই বয়ামগুলো দেখে।

এই কারণে গাবলুর নিজেকে মাঝে মাঝে স্পেশাল বলে মনে হলেও এই ক্ষমতা এতখানি দুর্লভ হওয়ায় ছোটদার মুখে কিন্তু মাঝে মাঝে আক্ষেপ শুনে থাকে গাবলু। সকলের কাছে ভূত বিষয়ক গবেষণার সত্যতা প্রমাণ করা সম্ভবপর নয় বলেই নাকি এই বিষয়ে গবেষণা খুব একটা প্রসিদ্ধি লাভ করছে না, উল্টে অধিকাংশ গবেষণাকারিকেই উপহাসের পাত্র হতে হয় সমাজের কাছে।

যাই হোক, সে সব কথা থাকে। আজ ছোটদার সাথে গাবলুর একটা অভিযানে যাওয়ার দিন। মাছ ধরতে। না, যে সে মাছ না। ভূতুড়ে মাছ। এটাও একটা গবেষণার ব্যাপারে। ছোটদার কাছে গাবলু শুনেছে যে তাঁর বয়ামে ভূতুড়ে বেড়াল আছে, ভূতুড়ে কুকুর আছে, এমনকি ভূতুড়ে স্যাপ পর্যন্ত। কিন্তু সবই স্থলচর প্রাণী। তাই এই ভূতুড়ে মাছ ধরার প্ল্যান। এই ভূতুড়ে মাছ ছোটদা রাখবে একটা শুকনো বয়ামে। দিয়ে দেখবে তাতে ভূতুড়ে মাছের উপর কি প্রতিক্রিয়া হয়। এতো ভূতুড়ে মাছ -- তার তো আর সত্যি সত্যি জলের প্রয়োজন নেই বেঁচে থাকার জন্য -- তাই নিয়ে এই গবেষণা। মানুষ ভূত নিয়েও কিছু গবেষণা করার নাকি ইচ্ছে আছে ছোটদার। কিন্তু তার জন্যে নাকি বহু হাঙ্গাম আছে -- বিশেষ পারমিশন নিতে হবে ভূত বিষয়ক গবেষণা করার কমিটির থেকে। ছোটদা দরখাস্ত করে রেখেছে, দেখা যাক কতদিনে অনুমতি মেলে। তাই আপাতত নিম্নতর প্রাণীদের উপর ছোটদার আপাতত যাবতীয় গবেষণা।

এই গোধূলির সময়টাই এরকম মিশনের জন্য দাদু নাতির কাছে আদর্শ সময়। রাত বাড়লেই নাকি ভূতুড়ে প্রাণীদের দেখা মেলে বেশি। কিন্তু গাবলুর তো আবার বেশি দেরি করবার জো নেই -- তাহলেই গোটা রাজ্যের উপদেশ, বকুনি, ইত্যাদি শুনতে হবে তাকে। কপাল মন্দ থাকলে কানমলাও জুটে যেতে পারে এক-আধখান। তাই বিকেল বেলাটাই ভালো। অবশ্য তাদের প্ল্যানের কথা বাড়িতে কাউকে বলেনি গাবলু। পাগল নাকি? আসল উদ্দেশ্য জানতে পারলে কি আর গাবলুকে ছাড়তো ওর বাবা মা?

চক্কোত্তিদের পুকুরপাড়ে এসে বসলো ছোটদা আর গাবলু। গাবলু অবাক হয়ে দেখলো ছোট্ট একটা কৌটো থেকে অদৃশ্য কি একটা বস্তু ছোটদা লাগিয়ে দিচ্ছে বঁড়শির ডগায়। বস্তুটাকে দেখতে না পেলেও নাকে একটা পঁচা-পঁচা গন্ধ টের পেলো গাবলু। জিজ্ঞেস করলে পর জানতে পারলো ওই কৌটোয় নাকি ভূতুড়ে কেন্নো জমিয়ে রেখেছিলো ছোটদা। জ্যান্ত কেন্নো দিলে তো জ্যান্ত মাছ টোপ খাবে -- তাই ভূতুড়ে কেন্নোর ব্যবস্থা ভূতুড়ে মাছ ধরার জন্য। সত্যি, ছোটদার কি বুদ্ধি! আরেকটু বড় হলেই নাকি গাবলু দেখতে পাবে এইসব ভূতুড়ে প্রানীদের -- গাবলুকে জানিয়েছে ছোটদা। উফ, তখন কি যে মজা হবে!

ছোটদা বঁড়শিতে কেন্নো লাগিয়ে টোপ ফেললেন পুকুরে। এরপর ফাতনার দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আপাতত আর কোনো কাজ নেই দাদু নাতির। কিন্তু কাঁহাতক এভাবে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকা যায় -- ফাতনা যে কিছুতেই নড়ে না। একসময় অপেক্ষার অবসান ঘটে, ফাতনাটা দুলতে থাকে। ছোটদা এক হ্যাঁচকা টান দেন, তারপর বঁড়শির দিকে তাকিয়ে বেজার মুখ করে বলেন: "নাঃ, ব্যাটা সেয়ানা আছে, টোপ খেয়ে পালিয়েছে।" আবার চার লাগিয়ে দাদু নাতি অপেক্ষা করতে থাকে ভূতুড়ে মাছের টোপ গেলার জন্য। আবার ফাতনা নড়ে ওঠে, আবার হ্যাঁচকা টান এবং আবার ছোটদার বিরক্তি ভরা কণ্ঠ জানান দেয় যে মাছ এবারেও চার খেয়ে পালিয়েছে। বার কয়েক এই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটায় গাবলু আর ধৈর্য ধরে রাখতে পারে না, ছোটদা সব কাজে ভালো শুধু এই মাছ ধরার ব্যাপারে দেখছি এক্কেবারে নিষ্কম্মা। আসলে এদিকে সন্ধে ঘনিয়ে এসেছে যে। আর বেশি দেরি করলে বাবা মা খুব রাগ করবেন গাবলুর উপর।

"ও কত্তা, বলি আপনি তো অনেকক্ষণ চেষ্টা করলেন -- এবার একটু এই অধমকে ছিপটা দিয়ে দেখুন না -- আমি হয়তো কিছু সাহায্য করতে পারি।"
কে কথাটা বললো? খুব কাছ থেকেই তো কথাটা ভেসে এলো কিন্তু গাবলু কাওকে দেখতে পাচ্ছে না যে!
ছোটদা উত্তর দিলেন: "ও হারু, তুই! তা কতোক্ষন এসেছিস? দ্যাখ দেখি বাবা যদি দু' একটা মাছ ধরে দিতে পারিস। ইয়ে, মাছ মানে জ্যান্ত মাছ না  ... ওই তোর মত যারা আর কি ... "
"চন্দ্রবিন্দু হয়ে গেছে তাই তো? তা কত্তা, কথাটা অতো লজ্জা করে বলবার কি আছে? এই গাঁয়ে সবাই জানে যে আপনার সমস্ত কাজ শুধু ওই চন্দ্রবিন্দুপ্রাপ্ত জিনিসগুলোর সাথেই। হেঃ হেঃ! তা আমি আরো আগেই আপনাকে সাহায্য করতাম কিন্তু ওই সূয্যিটা পুরোপুরি না ডুবলে কি করে আর সাহায্য করি বলুন -- আপনি তো সবই জানেন।"
"হ্যাঁ, হ্যাঁ, তা তো ঠিকই। নে বাবা, এবার তুই একটু হাত লাগা দিকি।"
"বলি, ও ছোটদা, তুমি কার সাথে কথা বলছো গো? তোমাকে ভূতুড়ে মাছ ধরে সাহায্য করবে বলছে -- কিন্তু কই আমি তো তাকে দেখতে পাচ্ছি না!" -- দাদুর গা টিপে জানতে চায় গাবলু।
ছোটদা: "অ্যা! তুই কি আমাদের দুজনের কথাই শুনতে পাচ্ছিস নাকি? নাকি শুধু আমার?"
"দুজনেরই, ছোটদা।"
এই শুনে তো ছোটদার আনন্দ আর ধরে না। গাবলুকে কোলে তুলে, গাল টিপে, চুমু খেয়ে ছোটদার সে কি আদর। গাবলু এতে আনন্দ পায়, সাথে লজ্জাও।
"হেঃ হেঃ, কত্তা, তাহলে অ্যাদ্দিনে এই গাঁয়ে আরেকজনকে পাওয়া গেলো যে আপনার মতো আমাদের সাথে সুখ দুঃখের কথা কইতে পারবে। হেঃ হেঃ! আসলে কত্তা, আপনারও তো দেখতে দেখতে সত্তর বছর পার হয়ে গেলো -- আপনিই বা আর কদ্দিন ... হেঃ হেঃ! যাক একজনকে তবু রেখে যেতে পারবেন।"
শেষের কথাটা বোধহয় ছোটদার খুব একটা ভালো লাগলো না। তিনি হারুকে তাড়া দিলেন চটপট ভূতুড়ে মাছ ধরে দেওয়ার জন্য। হারু কিন্তু এই মাছ ধরার বিষয়ে খুব পটু। কয়েক মিনিটের মধ্যেই তিন চারখান মাছ ফরমায়েশ মতো ধরে দিলো ছোটদার জন্য। পরে গাবলু জেনেছিলো হারু নাকি বেঁচে থাকতে জেলে ছিল তাই এই বিষয়ে তার এতো দক্ষতা। আর ওই কারণেই সন্ধের পর তাকে পুকুরের আশপাশেই ঘুরঘুর করতে সর্বদা নাকি দেখা যায় বলে জানিয়েছেন ছোটদা।

ভূতুড়ে মাছ ধরার অভিযান সফল করে দাদু নাতি একসাথে দাদুর ঘরে এসে ঢুকলো। ছোটদা আলোর সুইচ জ্বালতে যাবেন এমন সময় কে যেন ঘরের ভেতর থেকে গম্ভীর গলায় বলে উঠলো: "টিউবলাইটটা থাক, তুমি বরং নাইট বাল্বটা জ্বালাও।"
গাবলু দেখে ছোটদা সেই কথা মতো নাইট বাল্বটা শুধু জ্বাললেন। আলো যথেচ্ছ না হলেও ঘর মোটামুটি দেখা যাচ্ছে -- কিন্তু গাবলু ঘরের ভেতর কাউকেও ঠাওর করে উঠতে পারে না।
সেই গম্ভীর গলা আবার শোনা যায়: "তুমি তো জানু নীলু, আজকাল আমি আর আলো তেমন সহ্য করতে পারি না। এদিকে অন্ধকারে তোমাদের তো কিছু চোখে পড়ে না। তাই এই নাইট বাল্বটাই ভালো মধ্যস্থতাকারী। যাই হোক, তুমি আপাতত তোমার নাতিকে ঘরে যেতে বলো। ... তোমার নতুন জার্নালের জন্য লেখা ড্রাফ্টটা পড়ে দেখলাম। অজস্র্য ইংরেজি বানান ভুল। কমিটি স্পেলিংয়ে ডাবল এম, ডাবল টি, ডাবল ই -- ছোটবেলা থেকে এই বানানটা ভুল লিখে আসছো, আজও তাই। বলি আর কবে শিখবে?"
গাবলু দেখে ছোটদা ফাঁকা চেয়ারের সামনে ঝুঁকে কাকে যেন প্রণাম করলো। দিয়ে মুখ তুলে লজ্জামিশ্রিত সুরে বললো: "সরি, স্যার! তবে, ইয়ে, মানে আজকেই লক্ষ্য করলাম আমার এই নাতি, মানে গাবলু, আপনাদের মানে ইয়েদের কথা ঠিক শুনতে পাচ্ছে যদিও এখনো দেখতে পাচ্ছে না।"
গাবলুও ছোটদার দেখাদেখি সেই চেয়ারের সামনে ঝুঁকে একই ভঙ্গিতে কাকে জানি প্রণাম করে ফেললো।
এমন সময় সেই গম্ভীর স্বর যদ্দুর সম্ভব নরম হয়ে বললো: "ইস! তাহলে তো একটা ভারী অন্যায় করে ফেললাম। না জেনে নীলু তোমার নাতির সামনে তোমার প্রেস্টিজ খুইয়ে দিলাম।"
"আরে না, না, স্যার! এ আর এমন কি ব্যাপার।" -- ছোটদা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে।
"আচ্ছা, স্যার, আমি এখন আসি নইলে বেশি দেরি করলে মা আবার রাগ করবে।" -- এই বলে ছোটদার ঘর থেকে বেরিয়ে আসে গাবলু।

অন্যান্য দিনের চেয়ে আজ অনেক বেশি দেরি হয়ে গেছে ঠিকই কিন্তু সেই নিয়ে মা বকতে পারে এই ভেবে এখন কিন্তু একটুও ভয় করছে না গাবলুর। আজ তার অনেক নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে। তবে তার মধ্যে যেটা জেনে গাবলুর সব চেয়ে বেশি মজা লেগেছে তা হলো তার বাবা মা পর্যন্ত যার ভয়ে খাঁড়া সেই ছোটদাও একজনকে ভয় পায় -- তাঁর স্কুলের ইংরেজির শিক্ষক: সনাতন স্যারকে।