আজকালকার যুগে যেখানে বিনা প্রয়োজনে কেউ দু-চারটে ভালো কথা পর্যন্ত বলে না, সেখানে উচ্চমাধ্যমিকের মতো বোর্ডের পরীক্ষায় এমনি এমনি ৫ নম্বর দিয়ে দেবে এ কথা কি বিশ্বাস করা যায় ? কিন্তু সত্যি সেরকমটাই হয়েছে। উচ্চমাধ্যমিকে ৭৪৫ নম্বর পাওয়া এক ছাত্র যাতে স্টার পেতে পারে তাই পশিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক পর্ষদ তাকে অতিরিক্ত ৫ নম্বর দান করেছে। না, এই ছাত্র কোনো হোমড়াচোমড়ার ছেলে নয়; উচ্চমাধ্যমিকে ৭৪৫ থেকে ৭৪৯-এর মধ্যে যদি কোনো ছাত্র বা ছাত্রী নম্বর পেয়ে থাকে তাহলে তাকে স্টার পাওয়ার জন্যে বাড়তি নম্বরটুকু দিয়ে দেওয়াই এক সময় রীতি ছিল। বিশ্বাস না হলে নিচের রিপোর্ট কার্ডটি দেখুন, বিভিন্ন বিষয়ের নম্বরগুলি পৃথক ভাবে যোগ করলে যোগফল দাঁড়াবে ৭৪৫ কিন্তু পরিশেষে তাকে ৫ নম্বর award করা হয়েছে যার ফলে তার মোট নম্বর দাঁড়িয়েছে ৭৫০। আমার সোর্সের পরিচিতি গোপন করার জন্যে তার নামটি রিপোর্ট কার্ড থেকে ফটোশপ করে বাদ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কথা দিচ্ছি নম্বরগুলি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
Monday, May 25, 2015
Sunday, May 24, 2015
ভূতের ভোট -- শুভ্রাংশু মণ্ডল
হঠাৎ সেদিন ভূত সমাজে রাতদুপুরে সোরগোল,
তেঁতুলগাছের শাঁকচুন্নী করেছে নাকি গন্ডগোল ?
ওপাড়ার ওই বটগাছের মামদো ভূতের ছানা,
মোড়ের মাথায় ছিল তার নিত্য আনাগোনা ।
সে নাকি এনেছে খবর উড়িয়ে সব রটনা,
শাঁকচুন্নী ভোট দিয়েছে এই হলো ঘটনা।
বেলগাছেতে বেম্মদত্তি বেজায় গেল চটে,
উঠলো বলে: "সভা বসাও বিচার হোক তবে !"
মাঠের মধ্যে বসলো সভা, এলো ভূতের দল,
"শাঁকচুন্নী, তুই এমন পাপ করলি কেন বল ?"
ওপাস থেকে উঠলো বলে গলাকাটার ভাই:
"এসবে তো শাঁকচুন্নীর কোনো দোষ নাই ।
এসব নাকি আকছার হয়, নয়কো অনাসৃষ্টি,
নিয়ম মেনে ভোট পড়ে যায় দেখে ভোটার লিস্টি ।
এপাড়ার মদন, খগেন, ওপাড়ার ফাটা, কলকে,
সবার নামেই ভোট পড়েছে স্কুলের বুথে কালকে ।
এসব ওই মানুষগুলোর নোংরা কারসাজি,
ভোটের জন্য ভূতগুলোকেও বাঁকাতে তারা রাজি ।"
সব শুনে বেম্মদত্তির চক্ষু চড়কগাছ,
উঠলো বলে: "মামদো ছানার বিচার হবে আজ ।
এসব হলে এর মধ্যে শাঁকচুন্নীর কি দোষ ?"
মামদো ছানার উপর পড়লো বেম্মদত্তির রোষ ।
চাপের মুখে করলো স্বীকার মামদো ভূতের ছানা,
আসলে ওই শাঁকচুন্নী তাকে পাত্তা দিত না ।
এসব নাকি মোড়ের মাথার চ্যাংড়াগুলোর বুদ্ধি;
বিচার সভা রায় দিল মামদো ছানার শুদ্ধি ।
পঁচা ডোবায় ডোবাও তাকে, কান মুলে দাও বেশ,
এবারের মতো বিচার সভা এখানেই শেষ।
হঠাৎ সেদিন ভূত সমাজে রাতদুপুরে সোরগোল,
তেঁতুলগাছের শাঁকচুন্নী করেছে নাকি গন্ডগোল ?
ওপাড়ার ওই বটগাছের মামদো ভূতের ছানা,
মোড়ের মাথায় ছিল তার নিত্য আনাগোনা ।
সে নাকি এনেছে খবর উড়িয়ে সব রটনা,
শাঁকচুন্নী ভোট দিয়েছে এই হলো ঘটনা।
বেলগাছেতে বেম্মদত্তি বেজায় গেল চটে,
উঠলো বলে: "সভা বসাও বিচার হোক তবে !"
মাঠের মধ্যে বসলো সভা, এলো ভূতের দল,
"শাঁকচুন্নী, তুই এমন পাপ করলি কেন বল ?"
ওপাস থেকে উঠলো বলে গলাকাটার ভাই:
"এসবে তো শাঁকচুন্নীর কোনো দোষ নাই ।
এসব নাকি আকছার হয়, নয়কো অনাসৃষ্টি,
নিয়ম মেনে ভোট পড়ে যায় দেখে ভোটার লিস্টি ।
এপাড়ার মদন, খগেন, ওপাড়ার ফাটা, কলকে,
সবার নামেই ভোট পড়েছে স্কুলের বুথে কালকে ।
এসব ওই মানুষগুলোর নোংরা কারসাজি,
ভোটের জন্য ভূতগুলোকেও বাঁকাতে তারা রাজি ।"
সব শুনে বেম্মদত্তির চক্ষু চড়কগাছ,
উঠলো বলে: "মামদো ছানার বিচার হবে আজ ।
এসব হলে এর মধ্যে শাঁকচুন্নীর কি দোষ ?"
মামদো ছানার উপর পড়লো বেম্মদত্তির রোষ ।
চাপের মুখে করলো স্বীকার মামদো ভূতের ছানা,
আসলে ওই শাঁকচুন্নী তাকে পাত্তা দিত না ।
এসব নাকি মোড়ের মাথার চ্যাংড়াগুলোর বুদ্ধি;
বিচার সভা রায় দিল মামদো ছানার শুদ্ধি ।
পঁচা ডোবায় ডোবাও তাকে, কান মুলে দাও বেশ,
এবারের মতো বিচার সভা এখানেই শেষ।
Wednesday, May 20, 2015
Tuesday, May 19, 2015
অনেক কথা আমরা অন্যের কাছে গোপন করি পাছে সে কথা প্রকাশ করলে লোকে আমাকে নিয়ে উপহাস করবে, এই ভেবে। কিন্তু সে সব কথা বলার পর অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় গোপনীয়তার কোনো প্রয়োজনীয়তাই ছিল না কারণ শ্রোতারা নিজেরাও ভুক্তভোগী। এরকমই এক ঘটনা ঘটেছিল আমার জীবনে।
আমি কখনও কখনও স্বপ্ন দেখতাম যে আমি ওপর থেকে নিচে পড়ে যাচ্ছি আর ঠিক তারপরই কেঁপে উঠে আমার ঘুমটা ভেঙ্গে যেতো। এই কথা একবার বন্ধুদের মধ্যে বলার পর দেখি সবাই অবাক কারণ সবাই এই একই রকম স্বপ্ন দেখেছে; এই প্রসঙ্গটা উত্থাপন করায় সকলে পরস্পরের একই অভিজ্ঞতার বর্ণনা শুনে সকলেই নিশ্চিন্ত হই।
ছোটবেলার এই ঘটনাটা কিছুদিন আগে আরেক বন্ধুকে বলায় সে স্বপ্নে এই ধরণের অনুভূতির একটা সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দিল। মানুষ সভ্য হওয়ার আগে বহুদিন arboreal life অর্থাৎ বৃক্ষবাসীর জীবন যাপন করায় গাছ থেকে পড়ে যাওয়ার ভীতিটা মানুষের মজ্জাগত হয়ে গেছে, তাই অবচেতন মনে আজও মানুষ এই শূন্যে পড়ে যাওয়ার স্বপ্নটা দেখে।
পরে ইন্টারনেটে ঘেঁটে দেখি এ ধরণের পড়ে যাওয়ার স্বপ্ন প্রায় সর্বজনীন তবে arboreal life-এর ব্যাখ্যাটা কোথাও পাইনি, কিন্তু এই ব্যাখ্যাটা একেবারে ফেলে দেওয়া যায়না বলে মনে হওয়ায় মনের কথাটা আপনাদের সাথে ভাগ করে নিলাম।
আমি কখনও কখনও স্বপ্ন দেখতাম যে আমি ওপর থেকে নিচে পড়ে যাচ্ছি আর ঠিক তারপরই কেঁপে উঠে আমার ঘুমটা ভেঙ্গে যেতো। এই কথা একবার বন্ধুদের মধ্যে বলার পর দেখি সবাই অবাক কারণ সবাই এই একই রকম স্বপ্ন দেখেছে; এই প্রসঙ্গটা উত্থাপন করায় সকলে পরস্পরের একই অভিজ্ঞতার বর্ণনা শুনে সকলেই নিশ্চিন্ত হই।
ছোটবেলার এই ঘটনাটা কিছুদিন আগে আরেক বন্ধুকে বলায় সে স্বপ্নে এই ধরণের অনুভূতির একটা সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দিল। মানুষ সভ্য হওয়ার আগে বহুদিন arboreal life অর্থাৎ বৃক্ষবাসীর জীবন যাপন করায় গাছ থেকে পড়ে যাওয়ার ভীতিটা মানুষের মজ্জাগত হয়ে গেছে, তাই অবচেতন মনে আজও মানুষ এই শূন্যে পড়ে যাওয়ার স্বপ্নটা দেখে।
পরে ইন্টারনেটে ঘেঁটে দেখি এ ধরণের পড়ে যাওয়ার স্বপ্ন প্রায় সর্বজনীন তবে arboreal life-এর ব্যাখ্যাটা কোথাও পাইনি, কিন্তু এই ব্যাখ্যাটা একেবারে ফেলে দেওয়া যায়না বলে মনে হওয়ায় মনের কথাটা আপনাদের সাথে ভাগ করে নিলাম।
Sunday, May 17, 2015
এবার রাজনীতির সূত্র ধরে স্রেফ নীতি সম্পর্কিত একটা পৌরাণিক গল্প বলি।
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের আগে হস্তিনাপুরের মন্ত্রী বিদুর voluntary retirement অর্থাৎ স্বেচ্ছা অবসর গ্রহণ করেন। তিনি কৌরবদের সেনাপতি ভীষ্মকেও পান্ডবদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার থেকে বিরত থাকার জন্যে মন্ত্রণা দেন। ভীষ্ম উত্তরে বলেন যে তিনি ভালো করেই জানেন যে যুধিষ্ঠির দুর্যোধনের চেয়ে সুযোগ্য রাজা এবং যুধিষ্ঠিরের দাবিও ন্যায্য কিন্তু ভীষ্ম প্রতিজ্ঞা করেছেন "হস্তিনাপুরের রাজসিংহাসনকে রক্ষা করবো", তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও দুর্যোধন যেহেতু এই মুহূর্তে হস্তিনাপুরের রাজা সেহেতু বিদুরের অনুরোধ রক্ষা করতে তিনি অপারগ। এর প্রত্যুত্তরে বিদুর বলেন: "নীতিরও একটা আয়ু আছে"।
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের আগে হস্তিনাপুরের মন্ত্রী বিদুর voluntary retirement অর্থাৎ স্বেচ্ছা অবসর গ্রহণ করেন। তিনি কৌরবদের সেনাপতি ভীষ্মকেও পান্ডবদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার থেকে বিরত থাকার জন্যে মন্ত্রণা দেন। ভীষ্ম উত্তরে বলেন যে তিনি ভালো করেই জানেন যে যুধিষ্ঠির দুর্যোধনের চেয়ে সুযোগ্য রাজা এবং যুধিষ্ঠিরের দাবিও ন্যায্য কিন্তু ভীষ্ম প্রতিজ্ঞা করেছেন "হস্তিনাপুরের রাজসিংহাসনকে রক্ষা করবো", তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও দুর্যোধন যেহেতু এই মুহূর্তে হস্তিনাপুরের রাজা সেহেতু বিদুরের অনুরোধ রক্ষা করতে তিনি অপারগ। এর প্রত্যুত্তরে বিদুর বলেন: "নীতিরও একটা আয়ু আছে"।
Friday, May 15, 2015
সাম্যবাদের সূত্র ধরে রাজনীতি সম্পর্কিত একটা ছোট ঘটনা বলি।
আমার এক (সর্বজ্ঞ) বন্ধু: "রাজনীতি" মানে জানিস ?
আমি: যদ্দূর মনে হয় -- রাজার নীতি।
বন্ধু: না, হলো না।
আমি: তবে কি -- রাজ্য চালানোর নীতি ?
বন্ধু: ইদানিং এই অর্থেই "রাজনীতি" শব্দটা ব্যবহার হয় ঠিকই, কিন্তু আসল মানে এটা নয়।
(খানিক মাথা চুলকিয়ে) আমি: নাহ, আর তো কিছু মাথায় আসছে না, তুইই বলে দে মানেটা।
বন্ধু: "রাজনীতি" মানে হলো -- নীতিদের রাজা।
আমার এক (সর্বজ্ঞ) বন্ধু: "রাজনীতি" মানে জানিস ?
আমি: যদ্দূর মনে হয় -- রাজার নীতি।
বন্ধু: না, হলো না।
আমি: তবে কি -- রাজ্য চালানোর নীতি ?
বন্ধু: ইদানিং এই অর্থেই "রাজনীতি" শব্দটা ব্যবহার হয় ঠিকই, কিন্তু আসল মানে এটা নয়।
(খানিক মাথা চুলকিয়ে) আমি: নাহ, আর তো কিছু মাথায় আসছে না, তুইই বলে দে মানেটা।
বন্ধু: "রাজনীতি" মানে হলো -- নীতিদের রাজা।
Wednesday, May 13, 2015
Sunday, May 10, 2015
আজ বিশ্ব মাতৃদিবস, সেই উপলক্ষে নিচের লেখাটি দেওয়া হোলো।
-----------------------------------
"সেসব দিনের কথা" -- মৈনাক ঠাকুর
আজকে বলি সেসব দিনের কথা,
কবিতায় তখন মিলতো নাকো ছন্দ।
আজকে বলি সেসব দিনের কথা,
বাবার যখন কারখানাটা বন্ধ।।
তখনো আমার স্বপ্ন ছিল রঙিন,
দু'হাত দিয়ে চাঁদ ধরতাম রাতে।
ইস্কুলেতে খেতাম নাকো টিফিন,
বছর পাঁচেক আলু সেদ্ধ ভাতে।।
মা বলতো: "শোন রে ওরে খোকন,
সূয্যি ডোবে, আবার সূয্যি ওঠে"।
আমি বলতাম: "মিছেই করছো গোপন,
খাবার ঘরে কিচ্ছুটি নেই মোটে"।।
পুজোর জামা? বলছি তবে শোনো,
মায়ের কাছে ভীষণ বায়না সেবার:
"একটা ধুতি নিজেই তুমি বোনো,
নতুন ধুতি পরবো আমি এবার"।।
মায়ের তখন নতুন সেলাই মেশিন,
আওয়াজ আমার এখনো কানে বাজে।
পুজোর আগে শব্দ আরো বেশি,
নিজহাতে মোরে সাজালো নতুন সাজে।।
সেসব কথা বড্ড মনে পড়ে,
তিনজনাতে লড়াই করে বাঁচা।
দেয়ালে তোদের পিঠ ঠেকেছে ওরে,
হেলান দিতে শিখতে হবে বাছা।।
-----------------------------------
"সেসব দিনের কথা" -- মৈনাক ঠাকুর
আজকে বলি সেসব দিনের কথা,
কবিতায় তখন মিলতো নাকো ছন্দ।
আজকে বলি সেসব দিনের কথা,
বাবার যখন কারখানাটা বন্ধ।।
তখনো আমার স্বপ্ন ছিল রঙিন,
দু'হাত দিয়ে চাঁদ ধরতাম রাতে।
ইস্কুলেতে খেতাম নাকো টিফিন,
বছর পাঁচেক আলু সেদ্ধ ভাতে।।
মা বলতো: "শোন রে ওরে খোকন,
সূয্যি ডোবে, আবার সূয্যি ওঠে"।
আমি বলতাম: "মিছেই করছো গোপন,
খাবার ঘরে কিচ্ছুটি নেই মোটে"।।
পুজোর জামা? বলছি তবে শোনো,
মায়ের কাছে ভীষণ বায়না সেবার:
"একটা ধুতি নিজেই তুমি বোনো,
নতুন ধুতি পরবো আমি এবার"।।
মায়ের তখন নতুন সেলাই মেশিন,
আওয়াজ আমার এখনো কানে বাজে।
পুজোর আগে শব্দ আরো বেশি,
নিজহাতে মোরে সাজালো নতুন সাজে।।
সেসব কথা বড্ড মনে পড়ে,
তিনজনাতে লড়াই করে বাঁচা।
দেয়ালে তোদের পিঠ ঠেকেছে ওরে,
হেলান দিতে শিখতে হবে বাছা।।
Friday, May 8, 2015
নিচের লেখাটি মৈনাকের। আমি স্রেফ ওর ইংরেজি হরফগুলিকে বাংলায় লিখেছি, আর কিছু যতিচিহ্ন পরিবর্তন করেছি।
------------------------------ ---------------
নিজেকে কখনোই জাত গল্পকথক হিসেবে দাবি করি নাই, বাচালপনাও কখনো করিয়াছি বলিয়া মনে পড়ে না। তবুও বৃষ্টি হইলে গল্প করিতে ইচ্ছা হয় -- মজার, অদ্ভুতুড়ে কিম্বা রহস্য গল্প। আমি একলা মানুষ, গল্প করিবার লোক নাই, তাই আপনাদের বারবার বিরক্ত করিয়া থাকি। সবার জীবনেই কিছু না কিছু অভিজ্ঞতা রহিয়াছে যাহা অন্যের সহিত ভাগ করিয়া লইলে সাময়িক আনন্দপ্রাপ্তি ঘটে, যাহারা একগাদা সময় লইয়া বসিয়া আছেন কিছুই করিবার নাই তাহাদের জন্যে আজকের গল্পটি। অভিজ্ঞতা অনেক ভাবে অর্জন করা যায়, মূলতঃ পাঁচটি ইন্দ্রিয়ের দ্বারা, এইটি আমার শ্রবনেন্দ্রিয়ের দ্বারা প্রাপ্ত, কাজেই একে ঠিক "সত্য ঘটনা অবলম্বনে" শ্রেণীতে ফেলা যায় না।
গণিত লইয়া পড়াশুনা করার কারণে বেশ কিছু গণিতজ্ঞের সাহচর্য লাভের সৌভাগ্য (বা দুর্ভাগ্য) আমার হইয়াছে। এই গল্পের নায়কও এক উঠতি সম্ভাবনাময় গণিতজ্ঞ, ঠিক কিভাবে তাহার অল্পের জন্যে Fields (ফিল্ডস) পুরস্কারটি হাতছাড়া হইয়াছিল আজ তারই বিবরণ করিব। এইখানে বলিয়া রাখি, "ফিল্ডস মেডেল"-কে বলা হয় গণিতের নোবেল পুরস্কার। গণিত বিশারদরা অনেক সময় তাচ্ছিল্যের সুরে বলিয়া থাকেন যে "কি আর করবো ভায়া, যে বিষয়ে গবেষণা করি তাতে তো আর আমাদের নোবেল দেওয়া হয় না", যেন নোবেল দেওয়া হইলেই তিনি পাইতেন, শুধু দেওয়া হয়না বলিয়াই আজ পর্যন্ত তাহার কোনো পুরস্কার কপালে জোটে নাই। যাহা হউক, তবুও সত্য অস্বীকার করা যায় না, গণিত বিভাগে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার রীতি নাই, এই জন্যে গণিতজ্ঞেরা নিজদিগকে বেশ খানিক পৃথক জ্ঞান করিয়া থাকেন।
আমার এই মিত্র গণিতজ্ঞটি তখন ভারতের এক অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পাঠ্যরত। সময়টা এই শতকের প্রথম দিক, তখনো ইন্টারনেট এতো বারোয়ারী হয় নাই, লাইব্রেরিতেই ছাত্রেরা বই-খাতা-কলম সহযোগে পড়াশুনা করিত। আমরা অনেকেই জানি যে স্নাতকোত্তর বিজ্ঞান বিভাগে প্রায় সব প্রতিষ্ঠানেই "ফাইনাল ইয়ার প্রোজেক্ট" বলিয়া একটি বস্তু আছে। যাহারা B.Tech করিয়াছেন তাহারা সহজেই ব্যাপারটি ধরিতে পারিবেন। যাহারা করেন নাই, তাহাদের জন্যে বলিয়া রাখি, ইহাকে খানিকটা উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তিপ্রাপ্তির সহিত তুলনা করা যায়, সুসন্তান ও কুসন্তান সবাই সম্পত্তির অধিকারী, সকলকে সন্তুষ্ট করিয়া কোর্স শেষ করাই সম্ভবত এই বিষয়টিকে পাঠ্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করার একমাত্র কারণ বলিয়া ঠাহর হয়। বেকায়দার কোনো অধ্যাপকের খপ্পরে না পড়িলে, কখনো কেহ এই প্রোজেক্ট যত্ন সহকারে সৎভাবে করিয়াছে বলিয়া শোনা যায় না। তবুও এটি আছে। এই প্রোজেক্ট শেষে ছাত্রটিকে সর্বসমক্ষে একটি presentation দিতে হয়।.সাধারণতঃ সকলে এই বিষয়ে বেশ ভালো নম্বর পাইয়া থাকে। এই প্রোজেক্ট কোনো এক অধ্যাপকের তত্ত্বাবধানে এক সেমিস্টার (কখনো বা এক বৎসর) যাবৎ করিতে হয়, অধিকাংশ সময়ে অধ্যাপকটি পরীক্ষার দিন ছাত্রটিকে প্রথমবার দেখিতে পান, এবং তার presentation-এ নিজের নাম দেখিয়া কিঞ্চিৎ বিস্মিত হন। এমনি এক প্রোজেক্ট লইয়াছিল আমার গণিতজ্ঞ বন্ধুটি, তাহাদিগের গণিত বিভাগের Pure Mathematics-এর এক অধ্যাপকের নিকট। এই অধ্যাপকটি খুব নামজাদা কেহ নহে, তবে তার হাতে নম্বর পাওয়া বেশ সহজ বলিয়া ছাত্রদের তাহার দিকে ঝোঁক কিঞ্চিৎ বেশি ছিল। সেমিস্টার শুরুর সময় এই অধ্যাপক আমার বন্ধুটিকে অজ্ঞাত কোনো বই থেকে একটি প্রবলেম দিয়া বলেন যে এই প্রবলেমটি উদ্ধার করিতে পারিলেই তাহার ফাইনাল ইয়ার প্রোজেক্ট খতম। আমার বন্ধুটির জানা ছিল না যে ওই প্রবলেমটি আসলে বিশ্বের ২০টি অসমাধিত (unsolved) প্রবলেমের মধ্যে একটি, যেটি সমাধান করিতে পারিলে তাহার ফিল্ডস মেডেল আটকায় কার বাপের সাধ্যি। আমার ব্যক্তিগত ধারণা অধ্যাপকটিও এ সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। তবু ভালো ব্যাপার এই যে বন্ধুটি এ ব্যাপারে অজ্ঞাত থাকাতে সে কয়েকটি বই লইয়া লাইব্রেরিতে বসিয়া কয়েকবার প্রবলেমটি সমাধান করার চেষ্টাও করিয়াছিল। সত্যিকারের অসমাধিত প্রবলেম দিয়াছে জানিলে হয়তো সে তত্ক্ষণাৎ মূর্ছা যাইতো। এই অসমাধিত প্রবলেমগুলি আবার আকারে প্রকারে গ্রাম্য তরুণীর ন্যায় সরল হয়, দেখিলেই মনে হয় নির্জনে একটু আলাপ করিলেই সমস্তটা বুঝিতে পারিব কিন্তু আদতে বিশ্বের দুঁদে গণিত বিশেষজ্ঞরা শতাব্দী যাবৎ চেষ্টা করিয়াও তা সমাধান করিতে পারে নাই। যাহা হউক, আমার বন্ধুটি কয়েকবার চেষ্টা করিয়া বিফল হইয়া শেষে ক্ষান্ত হয় এবং সেমিস্টার শেষে কিছু একটা প্রোগ্রাম লিখিয়া প্রবলেমটি যে কয়েকটি ক্ষেত্রে সিদ্ধ হইতেছে তাহা দেখাইয়া কয়েক পাতা presentation তৈরী করিয়া অধ্যাপকদের বাহবা লাভ করে। বেশ একটি সম্মানীয় নম্বর লইয়া স্নাতকোত্তর ডিগ্রীও সম্পন্ন করে। কথায় বলে যে "ignorance is bliss"। কেহই জানিতে পারে না যে প্রবলেমটির আসল মাহাত্ম্য বা গভীরত্ব কতখানি। নিয়মমাফিক আমার বন্ধুটির নাম তাহাদের গণিত বিভাগের ওয়েবসাইটে স্নাতকোত্তীর্ণ ছাত্রদের তালিকাভুক্ত করা হয় এবং তার নামের পাশে "প্রোজেক্ট" হিসেবে সেই প্রবলেমটিও থাকে, তদুপরি "successfully completed"-ও লেখা হয়।
এর প্রায় বছরখানেক বাদে, রাশিয়ার এক অধ্যাপকের কাছ থেকে আমার বন্ধুটি একটি ইমেল পান। তাতে লেখা থাকে যে উনি "Clay Mathematical Institute"-এর একজন কর্ণধার এবং সে জানতে পারে যে ওই অসমাধিত প্রবলেমটি সমাধান করার জন্যে বেশ কয়েক মিলিয়ন ডলার পুরস্কার আছে, তাই ওই অধ্যাপক প্রবলেমটি সে কিভাবে সমাধান করিয়াছে সে বিষয়ে আলোচনা করিতে ইচ্ছুক। অধ্যাপকটির আবার ধারণা হইয়াছে যে আমার মিত্রটি নিতান্তই উদার যে প্রবলেমটি সমাধান করিয়াও তার প্রাপ্য পুরস্কার দাবি করে নাই। এই ইমেলটি পাওয়ার পর আমার মিত্রের টনক নড়ে। সে বেশ ভালো করিয়া খোঁজ খবর লইয়া জানিতে পারে যে তার প্রোজেক্টটি আসলে ছিল একটি অসমাধিত প্রবলেম যেটি সে "successfully complete" করিয়াছে। কিন্তু এখন সে ওই রাশিয়ার অধ্যাপককে কি করিয়া বুঝাইবে যে সমাধান সে কেমনে করিয়াছে। এ তো একপ্রকার জাতীয় লজ্জা। ওই অধ্যাপকের ভারতীয় ছাত্র সম্পর্কে কি ধারণা হইবে তাহা ভাবিয়া সে প্রহর গুনিতে থাকে। সে কিভাবে এই সমস্যা থেকে বাহির হইয়াছিল তাহা আলোচনা করা এই গল্পের উদ্দেশ্য নহে। আমার বন্ধুর মতন নিরীহ এক গণিত বিশেষজ্ঞ যে এই প্রকার সমস্যার সম্মুখীন হইতে পারে তাহাই আশ্চর্যের। আসলে যে কোনো প্রবলেমই আমাদের দেওয়া হোক না কেন, তাহাকে হালকাভাবে নেওয়াই আমাদের অভ্যাস, আমরা পরে পস্তাতে প্রস্তুত, কিন্তু সাময়িক ভাবে উতরে যাওয়াটাই আমাদের প্রধান ও প্রাথমিক উদ্দেশ্য।
"You can fool all the people some of the time, and some of the people all the time, but you cannot fool all the people all the time." -- Abraham Lincoln
Thursday, May 7, 2015
র্যাগিং: পর্ব ৩
র্যাগিং নিঃসন্দেহে একটি স্পর্শকাতর বিষয় যাকে নিয়ে রম্যরচনা লেখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। র্যাগিং হচ্ছে জুনিয়রদের সর্বনাশ এবং সিনিয়রদের পৌষমাস উপভোগ করার একটি মাধ্যম। তবুও সাহস করে এই বিষয়ে প্রায় এক বছর পর আরেক কিস্তি লিখতে বসেছি। আশা করি, আগেকার মতো এবারও আমার লেখা আপনারা হালকা মেজাজেই নেবেন; পাঠককে শুধুমাত্র আনন্দ দেওয়াই এ লেখার উদ্দেশ্য, কোনো ভাবেই র্যাগিংকে প্রশ্রয় দেওয়া নয়।
এবারের মূল বিষয় হচ্ছে আনুষ্ঠানিক ভাবে সিনিয়রদের দ্বারা জুনিয়রদের র্যাগিং থেকে মুক্তি প্রদান। অন্যান্য অনেক কলেজের মতো আমাদের কলেজেও যেমনি নিয়ম ছিলো "Freshers' Welcome" অনুষ্ঠানটির পর আর কোনো সিনিয়র কোনো জুনিয়রকে র্যাগিং করবে না। এর পরেও যদি কোনো সিনিয়রকে কোনো জুনিয়রের উপর অন্যায় নির্যাতন করতে দেখা যেতো তাহলে কলেজের স্টুডেন্ট ইউনিয়নের তরফ থেকেই সেই সিনিয়রের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হতো। সব কলেজে অবশ্য এরকম কোনো নির্দিষ্ট দিন থেকে র্যাগিং বন্ধ করার প্রথা থাকে না। একটি কলেজে যেমনি নিয়ম আছে কোনো সিনিয়র কোনো জুনিয়রকে র্যাগিং করলে পর, তাকে জুনিয়রটির খাতায় কিছু নম্বর দিয়ে সই করে দিতে হবে। এই ভাবে কোনো জুনিয়রের যদি একশো নম্বর আয় হয়ে যায় তাহলে তার তত্ক্ষণাৎ র্যাগিং-এর হাত থেকে মুক্তি। শুনেছি এই কলেজে নাকি কিছু কিছু জুনিয়ররা তাড়াতাড়ি র্যাগিং থেকে খালাস পাওয়ার জন্যে সিনিয়রদের কাছে গিয়ে নিজেরাই বলে: "Rag me"।
আবার মূল বিষয়ে ফিরে আসা যাক, অর্থাৎ সেই সব কলেজের কথায় আসা যাক যেখানকার ঐতিহ্য হচ্ছে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে র্যাগিং-এর অবসান ঘটানো। উত্তর বঙ্গের একটি বেসরকারী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে যেমনি প্রথম বর্ষের শেষে ছাত্ররা একটা সারিতে মিছিল করে গিয়ে শহরের একটি বিশেষ পানা পুকুরে ডুব দিয়ে উঠে নিজেদের পাপস্খালন করে। অন্যদিকে হাওড়ার একটি সরকারী কলেজে এই সমাপ্তি অনুষ্ঠানটি হচ্ছে একটি জুনিয়র বনাম সিনিয়র ফুটবল ম্যাচ। আপাতদৃষ্টিতে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা সম্প্রীতিপূর্ণ মনে হলেও এই খেলার একমাত্র ব্যতিক্রমী নিয়মটি হলো খেলা চলাকালীন যদি কোনো জুনিয়রের পা সিনিয়রের গায়ে লেগে যায় তাহলে তাকে অবিলম্বে মাঠের মধ্যে সিনিয়রটির পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতে হবে।
Wednesday, May 6, 2015
আচ্ছা, বলুন তো, কোন প্রাণীকে শৈশবে দেখলে ভয়, যৌবনে দেখলে রাগ আর পুজোর সময় দেখলে মায়া হয় ?
পারলেন না তো ? উত্তরটা হলো "পুলিশ"।
বহুদিন আগে কোনো এক সংবাদ পত্রে পড়া এই প্রশ্নোত্তরটা হঠাৎ করে মনে পড়ে গেলো তারাপদ রায়ের "পুলিশ" নিয়ে একটি রম্যরচনা পড়ে।
রচনাটির শুরুতেই বলা আছে: "মাছের মধ্যে ইলিশ, আর মানুষের মধ্যে পুলিশ।" স্বাভাবিক ভাবেই এরপর মৎস সমাজে ইলিশ আর মনুষ্য সমাজে পুলিশের কি মিল তা জানতে আমি আগ্রহী হয়ে পড়ি কিন্তু তা নিয়ে বিন্দুমাত্র আলোকপাত না করে লেখক ইলিশের প্রাচীনত্ব ও পুলিশের আধুনিকত্ব নিয়ে বিচার করতে বসে পড়েন। ইলিশ যেখানে বহু সহস্রাব্দী ধরে বাঙালির পাতে বিরাজ করছে সেখানে পুলিশ মাত্র আড়াইশো বছর আগে ইংরেজদের মারফৎ আমদানি করা জিনিস। এই জিনিসটির কাজ হলো দেশের আইন রক্ষা করা।
এই সম্পর্কে কিছু দিন আগে আনন্দবাজার পত্রিকার এক সম্পাদকীয়তে পড়েছিলাম: "মনে রাখিতে হইবে, কোনও সভ্য দেশেই কিন্তু নিছক সংখ্যার জোরে পুলিশের পক্ষে আইনের শাসন বজায় রাখা সম্ভব নয়। জনসংখ্যার অনুপাতে পুলিশের সংখ্যা সর্বত্র সামান্য। পুলিশের জোর জনমানসে তাহার ভাবমূর্তিতে। সম্ভ্রমই পুলিশের জোর, প্রশাসনের চাবিকাঠি।" বোধ করি আর সমস্ত সামগ্রীর ন্যায় পুলিশের দামও সময়ের সাথে হ্রাস হয়েছে। এখন যেখানে কথায় কথায় পুলিশকে চড়িয়ে দেওয়া বা হেনস্থা করা প্রায় নিত্যনৈমিত্তিক কার্যে রূপান্তরিত হয়েছে সেখানে আগেকার দিনে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের সম্ভ্রম কিরকম ছিলো, সেটা নিম্নলিখিত গল্পটিতে প্রকাশ পায়। (মূল কাহিনীটা আজ আর আমার মনে নেই; যদ্দূর সম্ভব শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের বা দুলেন্দ্র ভৌমিকের লেখা কোনো উপন্যাস, শারদীয়া আনন্দমেলায় বেরিয়েছিল।)
স্বাধীনতার পূর্বের ঘটনা। এক বিপ্লবী গাছতলায় দাঁড়িয়ে ইংরেজদের বিরুদ্ধে রগরগে ভাষণ দিচ্ছে। তাকে ঘিরে প্রচুর মানুষের জমায়েত। শ্রোতাদের রক্ত টগবগ করে ফুটছে। এমন সময় সেখানে এক বয়স্ক লিকলিকে চেহারার কনস্টেবলের দু'হাতে বাজারের থলি হাতে আবির্ভাব ঘটে। ব্যস, নিমেষের ভেতর সমস্ত শ্রোতা হাওয়া। ফাঁকা গাছতলায় বসে সেই বিপ্লবী একটা বিড়ি ধরিয়ে স্বগতোক্তি করে: "ধুস, এ পোড়া দেশে বিপ্লব-টিপ্লব কিস্সু হবে না।"
আচ্ছা, আপনারা খেয়াল করে দেখেছেন কি পুলিশে চাকুরীরত পুরুষদের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তাদের সকলের একখানা মোটা গোঁফ আছে ?
মাসখানেক আগে এক বিয়ে বাড়িতে গিয়ে আমার এক বন্ধুর জামাইবাবুর সাথে পরিচয় হয়। তিনি কলকাতা পুলিশের সার্জেন্ট অথচ তার গোঁফ নেই। তাঁকে দেখে আমার সন্দেহ হলো আমার এতোদিনের বিশ্বাস কি তবে ভুল ? পরে জানতে পারি উনিও নাকি এমনিতে গোঁফ রাখেন, কিন্তু বাড়িতে বিয়ে জাতীয় সামাজিক অনুষ্ঠানের আগে গোঁফটা কামিয়ে নেন। ওনার এই স্বভাবটি শুনে অবাক হচ্ছেন ? আমিও হয়েছিলাম, পরে অবশ্য ওনার এই স্বভাবের একটা কারণ খুঁজে পেয়েছি সেই লেখক যার গল্পের সূত্র ধরে এতো কথার সূচনা, অর্থাৎ তারাপদ রায়ের গল্পে।
দরজায় কড়া নাঁড়া শুনে এক বাবা তার মেয়েকে কে এসেছে দেখতে বাইরে পাঠায়। মেয়েটি ফিরে এসে বাবাকে বলে: "বাইরে এক ভদ্রলোক আর একজন পুলিশ দাঁড়িয়ে আছেন।"
পুনশ্চ: আপনাদের কারুর জানা আছে কি ছোটবেলায় ছোঁয়া ছুঁয়ি কিম্বা কুমির-ডাঙা খেলার সময় খেলার নিয়ম থেকে সাময়িক বিরতি পাবার জন্যে যে শব্দটা বলতে হতো -- "আপ্পুলিশ" -- সেটার উৎপত্তি কি "পুলিশ" শব্দটার থেকে ?
পারলেন না তো ? উত্তরটা হলো "পুলিশ"।
বহুদিন আগে কোনো এক সংবাদ পত্রে পড়া এই প্রশ্নোত্তরটা হঠাৎ করে মনে পড়ে গেলো তারাপদ রায়ের "পুলিশ" নিয়ে একটি রম্যরচনা পড়ে।
রচনাটির শুরুতেই বলা আছে: "মাছের মধ্যে ইলিশ, আর মানুষের মধ্যে পুলিশ।" স্বাভাবিক ভাবেই এরপর মৎস সমাজে ইলিশ আর মনুষ্য সমাজে পুলিশের কি মিল তা জানতে আমি আগ্রহী হয়ে পড়ি কিন্তু তা নিয়ে বিন্দুমাত্র আলোকপাত না করে লেখক ইলিশের প্রাচীনত্ব ও পুলিশের আধুনিকত্ব নিয়ে বিচার করতে বসে পড়েন। ইলিশ যেখানে বহু সহস্রাব্দী ধরে বাঙালির পাতে বিরাজ করছে সেখানে পুলিশ মাত্র আড়াইশো বছর আগে ইংরেজদের মারফৎ আমদানি করা জিনিস। এই জিনিসটির কাজ হলো দেশের আইন রক্ষা করা।
এই সম্পর্কে কিছু দিন আগে আনন্দবাজার পত্রিকার এক সম্পাদকীয়তে পড়েছিলাম: "মনে রাখিতে হইবে, কোনও সভ্য দেশেই কিন্তু নিছক সংখ্যার জোরে পুলিশের পক্ষে আইনের শাসন বজায় রাখা সম্ভব নয়। জনসংখ্যার অনুপাতে পুলিশের সংখ্যা সর্বত্র সামান্য। পুলিশের জোর জনমানসে তাহার ভাবমূর্তিতে। সম্ভ্রমই পুলিশের জোর, প্রশাসনের চাবিকাঠি।" বোধ করি আর সমস্ত সামগ্রীর ন্যায় পুলিশের দামও সময়ের সাথে হ্রাস হয়েছে। এখন যেখানে কথায় কথায় পুলিশকে চড়িয়ে দেওয়া বা হেনস্থা করা প্রায় নিত্যনৈমিত্তিক কার্যে রূপান্তরিত হয়েছে সেখানে আগেকার দিনে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের সম্ভ্রম কিরকম ছিলো, সেটা নিম্নলিখিত গল্পটিতে প্রকাশ পায়। (মূল কাহিনীটা আজ আর আমার মনে নেই; যদ্দূর সম্ভব শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের বা দুলেন্দ্র ভৌমিকের লেখা কোনো উপন্যাস, শারদীয়া আনন্দমেলায় বেরিয়েছিল।)
স্বাধীনতার পূর্বের ঘটনা। এক বিপ্লবী গাছতলায় দাঁড়িয়ে ইংরেজদের বিরুদ্ধে রগরগে ভাষণ দিচ্ছে। তাকে ঘিরে প্রচুর মানুষের জমায়েত। শ্রোতাদের রক্ত টগবগ করে ফুটছে। এমন সময় সেখানে এক বয়স্ক লিকলিকে চেহারার কনস্টেবলের দু'হাতে বাজারের থলি হাতে আবির্ভাব ঘটে। ব্যস, নিমেষের ভেতর সমস্ত শ্রোতা হাওয়া। ফাঁকা গাছতলায় বসে সেই বিপ্লবী একটা বিড়ি ধরিয়ে স্বগতোক্তি করে: "ধুস, এ পোড়া দেশে বিপ্লব-টিপ্লব কিস্সু হবে না।"
আচ্ছা, আপনারা খেয়াল করে দেখেছেন কি পুলিশে চাকুরীরত পুরুষদের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তাদের সকলের একখানা মোটা গোঁফ আছে ?
মাসখানেক আগে এক বিয়ে বাড়িতে গিয়ে আমার এক বন্ধুর জামাইবাবুর সাথে পরিচয় হয়। তিনি কলকাতা পুলিশের সার্জেন্ট অথচ তার গোঁফ নেই। তাঁকে দেখে আমার সন্দেহ হলো আমার এতোদিনের বিশ্বাস কি তবে ভুল ? পরে জানতে পারি উনিও নাকি এমনিতে গোঁফ রাখেন, কিন্তু বাড়িতে বিয়ে জাতীয় সামাজিক অনুষ্ঠানের আগে গোঁফটা কামিয়ে নেন। ওনার এই স্বভাবটি শুনে অবাক হচ্ছেন ? আমিও হয়েছিলাম, পরে অবশ্য ওনার এই স্বভাবের একটা কারণ খুঁজে পেয়েছি সেই লেখক যার গল্পের সূত্র ধরে এতো কথার সূচনা, অর্থাৎ তারাপদ রায়ের গল্পে।
দরজায় কড়া নাঁড়া শুনে এক বাবা তার মেয়েকে কে এসেছে দেখতে বাইরে পাঠায়। মেয়েটি ফিরে এসে বাবাকে বলে: "বাইরে এক ভদ্রলোক আর একজন পুলিশ দাঁড়িয়ে আছেন।"
পুনশ্চ: আপনাদের কারুর জানা আছে কি ছোটবেলায় ছোঁয়া ছুঁয়ি কিম্বা কুমির-ডাঙা খেলার সময় খেলার নিয়ম থেকে সাময়িক বিরতি পাবার জন্যে যে শব্দটা বলতে হতো -- "আপ্পুলিশ" -- সেটার উৎপত্তি কি "পুলিশ" শব্দটার থেকে ?
Subscribe to:
Posts (Atom)
