Friday, June 27, 2014

ক্লাস ১১-১২তে পড়ার সময় আমি এক স্যারের বাড়িতে অঙ্কের টিউশন নিতে যেতাম। স্যারের নাম ছিলো -- "সুকুমার রায়"। উনি নিজে সর্বদা ফাউন্টেন পেনে লিখতেন এবং ওনার ক্লাসে ছাত্র ছাত্রীদেরও ফাউন্টেন পেন ব্যবহার করা ছিলো বাধ্যতামূলক। কেউ ডট পেন ব্যবহার করলেই তার কপালে জুটতো কানমলা। স্যরি, তার 'কানে' জুটতো কানমলা।
একদিন এক ছাত্র সাহস করে জিজ্ঞেস করেছিলো: "কিন্তু স্যার, ডট পেনও তো পেন?"
স্যার উত্তরে বলেছিলেন: "তাহলে তো তুই বলবি বনমানুষও মানুষ।"
আরেকদিন এক ছাত্রী ডট পেনের পক্ষ নিয়ে বলেছিলো: "স্যার, দেখেছেন এই ডট পেনটা কি সুন্দর দেখতে। কই, কোনো ফাউন্টেন পেনে তো এরকম নকশা থাকে না।"
এই কথা শুনে স্যার বলেছিলেন: "লতা মঙ্গেশকরকে মঞ্চে উঠে শুধু গানই গাইতে হয়; এখনকার গায়িকাদের কিন্তু শুধু গাইলে হয় না, সঙ্গে নাচতেও হয়।"

Wednesday, June 25, 2014

জোক শুনে আমার হাসি পায় ঠিকই, তবে অপ্রত্যাশিত ভাবে যখন কারুর প্রতিক্রিয়া কোনো কৌতুকের সৃষ্টি করে -- তা দেখে আমার আনন্দ হয় অনেক বেশি। এই পরিপ্রেক্ষিতে মীরাক্কেলে দেখা আমার সব চেয়ে হাসির মুহূর্তটা আপনাদের সাথে আজ ভাগ করে নিচ্ছি।

তখন মীরাক্কেলে তিন খ্যাতনামা অভিনেতাকে মেন্টর বা 'হাসগুরু'-র পদ দেওয়া হয়েছিলো; এনারা হলেন -- পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ এবং কাঞ্চন মল্লিক। মীরাক্কেলের প্রতিযোগীদের তিন ভাগে ভাগ করে, প্রত্যেক মেন্টরকে একটি করে গ্রুপকে তালিম দেওয়ার দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছিলো। একদিন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের দলের এক প্রতিযোগী সর্বাধিক নম্বর পেয়ে "দিনের সেরা"-র শিরোপা লাভ করেন। এই সম্মান লাভ করে তার কেমন লাগছে জিজ্ঞেস করলে পর তিনি জানান: "আমার আজ খুব আনন্দ হচ্ছে। তবে এই আনন্দের মাঝেও এই কারণে দুঃখ হচ্ছে যে দাদা (পরমব্রত) আজ আমাদের মাঝে নেই।" এই শুনে মীর লাফিয়ে উঠে বলেন: "দাদা আছেন। দাদা আছেন। উনি আজ স্টুডিওতে আসতে পারেননি, তবে আপনি দুঃখ করবেন না কারণ দাদা আছেন।"

Monday, June 23, 2014

আই.আই.টি.-তে পি.এইচ.ডি. পাঠনরত ছাত্রদের মধ্যে যারা বিবাহিত তারা যাতে পরিবারের সাথে থাকতে পারে সে জন্যে কিছু নির্দিষ্ট হোস্টেল আছে। এমনই এক হোস্টেলে স্ত্রীর অবর্তমানে এক স্বামী তার কিছু বন্ধুর সঙ্গে তাসের আসর বসিয়েছে। (হয়তো বা স্ত্রীর অনুপস্থিতি উদযাপন করার উদ্দেশ্যেই।)
তাসের আসরে কোনো কারণবশত চতুর্থ সঙ্গীটি আসতে পারেনি। এদিকে চারজন না হলে তো খেলাও জমবে না, তাই সেই স্বামী এক বন্ধুকে পাশের ঘরের পুরুষটিকে ডেকে আনতে বলে। সেই বন্ধুটি পাশের ঘরের কলিং বেল বাজানোয় পড়শির স্ত্রী বেরিয়ে আসেন এবং বন্ধুটিকে কোনো কথা বলার ফুরসৎ না দিয়েই বলে ওঠেন: "আপনি কেমন বেআক্কেলে লোক মশাই! দিলেন তো বেল টিপে বাচ্চাটার ঘুম ভাঙিয়ে। যান, এখুনি ভিতরে গিয়ে ওকে ঘুম পাড়িয়ে আসুন।"
একজন সম্পূর্ণ অপরিচিত মহিলার এই কথা শুনে বন্ধুটি প্রথমে থতমত খেয়ে যায়, তারপর সটান সেখান থেকে ছুট।

Saturday, June 21, 2014

আমি: "শেষ পরীক্ষাটা কেমন হলো?"
সিনিয়র-দাদা: "ভালোই হয়েছে।"
আমি: "বলো কি? বাকিরা সবাই বলছে প্রশ্ন নাকি খুব কঠিন হয়েছে।"
সিনিয়র-দাদা: "আসলে ম্যাডাম ক্লাসে যেই চ্যাপ্টারগুলো ভালো করে পড়ান, সেখান থেকে বেশি প্রশ্ন করেন না। যেগুলো শুধু ছুঁয়ে বেরিয়ে যান, সেইখান থেকেই বেশি প্রশ্ন করেন। আমি জানতাম এরকমটাই হবে, সেই মতো প্রস্তুতি নেওয়ায় আমার পরীক্ষাটা ভালোই হয়েছে।"
আমি: "বুঝলাম। তার মানে ম্যাডামের পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেতে গেলে সাবজেক্টের চেয়েও যেটা ভালো করে জানতে হবে সেটা হলো ম্যাডামের চরিত্র।"

Thursday, June 19, 2014

কিছু দিন আগে আমার তুতো-দাদার কান্ডকারখানা পড়ে তাপসদা তার এক বন্ধুর দাদুর কথা লিখেছিলো। সেটাই এখানে দিয়ে দিলাম। তাপসদার ইংরেজি হরফে লেখা বাংলা গল্পটা আমি বাংলা হরফে লিখলাম -- এটুকুই আমার কৃতিত্ব। লেখাটা 'প্রায়' অপরিবর্তিতই থাকলো, যা যৎসামান্য রদবদল করেছি সেগুলো ওই ডিফেকটিভ শাড়ি বিক্রির বিজ্ঞাপনের মতো "খালি চোখে খুঁজে পাওয়া যাবে না"।

বন্ধুর বাড়ি মোটামুটি স্বচ্ছল। দাদু হাই কোর্টে ওকালতি করেন। বাড়িতে মক্কেলদের প্রায়শই আনাগোনা, সেই সাথে দাদুর বন্ধু বান্ধবদেরও। কিন্তু দাদু ভীষণ কিপটে। চা পর্যন্ত খাওয়ানোতে আপত্তি। এতো লোককে খাওয়াবেন কেন? কিন্তু আবার ওনার মতো একজন অভিজাত মানুষের বাড়ি এলে কেউ চা খাওয়ার কথা জিজ্ঞেস পর্যন্ত করবে না -- সেটা কি করে হয়? তাই উনি ভেবে বেশ একটা কায়দা বার করেছিলেন। তাতে চা খাওয়ার কথা জিজ্ঞেস করাও হতো কিন্তু চা খাওয়াতেও হতো না ... ওনারা আবার ঢাকার খাস বাঙাল, তাই শুধোতেন:
"তা আপনারা কি চা খাইয়া আইসেন না গিয়া খাইবো?  হেঁ হেঁ হেঁ !"

Wednesday, June 18, 2014

লেখক: পর্ব ৩

ক্লাস ১১-১২ আমি পড়েছিলাম নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে। সে সময় নরেন্দ্রপুর থেকে বাড়ি এলে প্রায়শই এক শোচনীয় পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো কারণ মা আমার জামা থেকে সিগারেটের গন্ধ পেতেন। অথচ আমি মোটেও সিগারেট খেতাম না। (আমার এক রুমমেট খেত বটে, তবে ক্লাস ১১ থেকে ১২-এ ওঠার সময় সে সিগারেট খাওয়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলো -- সে তখন সিগারেট ছেড়ে পাইপ ধরেছিলো। হয়তো সেই গন্ধই আমার জামায় লেগে থাকতো।) আমি নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করলেও মা সন্দিগ্ধ নজরে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতেন, আমি সত্যি বলছি না মিথ্যে তার আঁচ পাওয়ার জন্যে বোধ হয়। তার সাথে ধূমপানের বিভিন্ন কুফল আর কতো কতো ভালো ছেলে নেশাচক্রে পড়ে নিজের সর্বনাশ ডেকে এনেছে সেই নিয়ে বিস্তর জ্ঞান তো ছিলই।

তখন বিরক্ত লাগলেও পরে ভেবে দেখেছি মায়ের দুশ্চিন্তা করাটা অহেতুক নয়। কারণ, ধূমপানের প্রথম অভিজ্ঞতাটা অন্যান্য সকলের চেয়ে আমার আগেই হয়েছে। আমি প্রথম (এবং সেই শেষ) বিড়ি খেয়েছিলাম ক্লাস টু-তে। আমাদের আবাসনের কেয়ার-টেকার কোনো কারণে নিজের বিড়ি জ্বলন্ত অবস্থাতেই নিজের ঘরে রেখে বেরিয়েছিল, সেই সুযোগে আমি তাতে দু-টান দিয়ে দিয়েছিলাম। বাড়ি ফিরে এসে নবলব্ধ অভিজ্ঞতার কথা বাবাকে জানিয়েও ছিলাম।
-- "বাবা, তুমি কখনো বিড়ি খেয়েছো?"
-- "হ্যাঁ, খেয়েছি।"
-- "খুব বাজে খেতে, বলো?"
-- "তুই কি করে জানলি?"
-- "আমিও খেয়েছি।"

Monday, June 16, 2014

লেখক: পর্ব ২
'ইন্দ্রলুপ্তি' -- মানে সোজা বাংলায় 'টাক পড়া'। টাক পড়ার অভিজ্ঞতাটা পুরুষদের কাছে খানিকটা ভয়ের, খানিকটা লজ্জার আর সর্বোপরি হতাশার। নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি। ইদানীং চুল আঁচড়াবার পর চিরুনির দিকে তাকানোর সাহস হয় না, পুরনো বন্ধুদের ছেড়ে চলে যেতে দেখলে কার না দুঃখ হয়। যে মুষ্টিমেয় পুরুষদের এই অনুভূতি গোটা জীবনে ভোগ করতে হয় না, তারা সত্যিই বাকিদের কাছে ঈর্ষণীয়। মনে পড়ে ছোটবেলায় একটা বিজ্ঞাপন দূরদর্শনে দেখতে পেতাম -- ডক্টর সরকারের 'আর্নিকা প্লাস ট্রায়োফার ট্রিপল অ্যাকশন হেয়ার ভাইটালাইজার' -- চুল পড়ার মহান প্রতিষেধক। কিন্তু সেই বিজ্ঞাপন আজ বহু বছর আর দেখতে পাইনা। ডক্টর সরকারের নিজেরই টাক পড়ে গেলো নাকি?
যাই হোক, মূল বক্তব্যে আসা যাক। টাকের প্রকারভেদ আছে -- সেগুলো আপনাদের জানা আছে কি? আমি শুনেছিলাম দাদার কাছে, দাদা শুনেছিল পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশনে পড়াকালীন এক মাস্টারমশাইয়ের কাছে, ওনার সোর্সটা কি তা অবশ্য বলতে পারবো না। টাক মূলত চার প্রকার:
(১) ছাদ খালি সিঁড়ি জ্যাম -- অর্থাৎ গোটা মাথায় চুল আছে, শুধু ব্রহ্মতালুর জায়গাটা ফাঁকা। এই 'ছাদের' প্রসস্তি কিন্তু দিনে দিনে বৃদ্ধি পায়।
(২) ওরা থাকে ওধারে -- এটা অসমান ভাবে চুল ওঠার ফল, ধরুন মাথার বাঁদিকটা খালি অথচ ডানদিকে যথেষ্ট চুল বাকি আছে। এই গোত্রের পুরুষেরা চুল আঁচড়াবার সময় ডানদিকের চুলগুলোকে টেনে এনে বাঁদিকটা ভরাট করার প্রতি বিশেষ যত্নবান হন।
(৩) স্মৃতিটুকু থাক -- নাম শুনে নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন, মাথায় ছিঁটে ফোঁটা চুল বাকি থাকে যাদের।
(৪) অবাক পৃথিবী -- মানে যাদের মাথার তেল বা চিরুনির পেছনে খরচা সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
গলযোদ্ধা অ্যাসটেরিক্স (Asterix the Gaul) পড়েছেন কি? তাতে রোমান ক্যাম্পে গিয়ে পুরোহিত এটাসেটামিক্স (Druid Getafix) দ্রুত হারে চুল গজানোর শক্তিসম্পন্ন জাদু পানীয় খাইয়ে রোমানদের কেমন নাকানি চোবানি খাইয়েছিল মনে পড়ে? আপাতত আমি সেই জাদু পানীয়ের খোঁজে রয়েছি।
পুনশ্চ:
অনুসন্ধিৎসু পাঠকদের জন্য যোগ করলাম -- আমারটা প্রথম প্রকারের অন্তর্গত।

Wednesday, June 11, 2014

বাসের চাকার মতো ভাগ্যের চাকাও ঘুরে চলে। বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন সকলের অপদস্থ হওয়ার ঘটনা এই পাবলিক ফোরামে বলেছি, এবার আমার নিজের পালা। তাই আজ থেকে শুরু হলো:

লেখক: পর্ব ১
অন্যের দিকে আঙুল তুললে হাতের বাকি চারটে আঙুল নিজের দিকে ইঙ্গিত করে। (নাকি তিনটে? বুড়ো আঙুলটা তো মাটির দিকে তাক করে থাকে দেখেছি।) তাই বাকিদের বাকি রেখে নিজের ভীষণ লজ্জিত হওয়ার একটা ঘটনা এখন বলছি। আমি "ভীষণ লজ্জিত" হয়েছিলাম মানেই বুঝতে পারছেন -- ব্যাপারটা ঘোরতর।
ঘোরতর হতেই হবে কেন?
আরে বাবা, আমার মতো প্রায় মান-সম্মান বোধহীন একজন লোক লজ্জিত, থুড়ি ভীষণ লজ্জিত, বোধ করছে এটা ঘোরতর ব্যাপার নয়? আমার যে মান-সম্মান বোধটা একটু কম তার উদাহরণস্বরূপ বর্তমান মুহূর্তটাই ধরুন, আমার যদি অতই সম্মান বোধ থাকতো তাহলে কি এভাবে আপনাদের কাছে এই কাহিনীটা তুলে ধরতাম? তবে হ্যাঁ, সম্মান বোধটা কম হলেও দু'কান কাটা তো আর নই। যাক, এবার ঘটনা প্রসঙ্গে আসা যাক -- গৌরচন্দ্রিকাটা দেখছি বেশ বড়ই হয়ে গেলো।

তখন আমি সবে আই.আই.টি.-তে ঢুকেছি। রোজ দেখতাম দুপুর বেলায় স্নান করতে যাবার সময় হোস্টেলের অন্যান্য বাসিন্দারা নিজেদের মধ্যে কি একটা চাপা গুঞ্জন করছে। মাঝে মাঝে খুক খুক করে হাসির আওয়াজও শুনতে পেতাম। এই আলোচনা, ঠাট্টার কেন্দ্রে যে আমি সেটা বেশ ভালো করেই বুঝতে পারতাম। কিন্তু দুপুরে আমি স্নান করতে যাওয়ার সময়েই কেন এই ঘটনা প্রতিদিন ঘটে তা কিছুতেই ঠাহর করতে পারতাম না। একদিন সাহস করে এক সিনিয়রকে কারণটা জিজ্ঞেস করলাম।
সিনিয়রটি হেসে উত্তর দিলো: "তুই আর কতোদিন ওই লোডশেডিং গামছাটা পরে চালাবি?"
আমি: "লোডশেডিং গামছা?"
সিনিয়র: "তোর ওই গামছাটা যা পাতলা, লোডশেডিং ছাড়া বাকি সময় তো ওটা দিয়ে লজ্জা নিবারণ হয় না।"

বি:দ্র: লোকজন ফেসবুক দেখে সময় কাটাচ্ছে মানেই তাদের সময়ের দাম নেই -- এমনটা তো নয়, তাই ফেসবুকে ভূমিকাটা বাদ দিলাম।

Monday, June 9, 2014

বাস: পর্ব ৪

বাস স্টপেজে এসে থেমেছে। এক মহিলা যাত্রী নামার সময় কন্ডাকটর জোর গলায় জিজ্ঞেস করলেন: "টিকিট হয়েছে?" মহিলাটি "হ্যাঁ" বলে নেমে গেলেন। বাস স্টপেজ ছেড়ে এগিয়ে চললো, কন্ডাকটর কিন্তু নিশ্চিত যে মহিলাটি টিকিট কাটেননি -- সেটা প্রকাশ পেলো কন্ডাকটরের স্বগতোক্তিতে: "হু! বললেই হলো টিকিট কেটেছি। আমি বলে সারাদিন ধরে ছিঁড়ছি, আমি জানি না?" 

Sunday, June 8, 2014

সাল ২০০০:
অমুক স্যারের ক্লাসে ছাত্র হয়েছে মাত্র তিনজন। অথচ অন্তত পাঁচজন ছাত্র কোনো সাবজেক্টে রেজিস্টার না করলে, সাবজেক্টটা সেই সেমিস্টারে পড়ানোই হবে না -- এটাই নিয়ম। প্রথমদিনের ক্লাসের পর সেই তিন ছাত্র আরো দুই বন্ধুকে এই সাবজেক্টটা নিতে রাজি করানোয়, সে যাত্রায় অমুক স্যার সব ক্লাস নিতে পেরেছিলেন। (এক সিনিয়রের কাছে শোনা)

সাল ২০১৪:
অমুক স্যারের ক্লাসে ছাত্র হয়েছে ঠিক পাঁচজন। প্রত্যেক ছাত্র একে অপরের দিকে তাকিয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেললো, যাক বাবা, এবছর তাহলে সাবজেক্টটা পড়ানো হচ্ছে। (নিজের চোখে দেখা)

ইউনিভার্সিটিতে ছাত্রের সংখ্যা বেড়েছে কয়েকগুণ, কিন্তু একটা সাবজেক্ট পড়ানোর জন্য নূন্যতম ছাত্র সংখ্যা কেন সমানুপাতিক হারে বাড়েনি -- এটা কখনো ভেবে দেখেছেন কি? অমুক স্যারকে দেখে এতদিনে বুঝলাম।

Friday, June 6, 2014

দিব্যেন্দু: পর্ব ৮

অয়ন সপাটে মেরেছে -- বলটা মাঠ চিরে সোজা বাউন্ডারি পার। বাকি খেলোয়াড়দের দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া আর কিছু করার উপায় ছিল না।
দিব্যেন্দু: "হ্যাঁ! এই গ্যাপটাই তোকে খুঁজে বার করতে হবে -- তবে ক্রিকেটে, এখন ফুটবল খেলার সময় নয়।"

Thursday, June 5, 2014

ইদানীং কেউ কেউ বলছে যে আমার সাথে নাকি আর কথা বলবে না, পাছে তাদের কথা আমি ফেসবুকে প্রচার করে দিই -- এই ভয়ে। তাদের আমি একটা কথাই বলবো: যাদের কথা আমি ফেসবুকে লিখেছি (স্বনামে হোক বা বেনামে), তাদের বেশির ভাগের সঙ্গেই আমার উঠতে বসতে দেখা হয়, কথা হয়। একটা আলটপকা মন্তব্য কিংবা দুর্বল মুহূর্তের কোন বেঁফাস কথা, অর্থাৎ পান থেকে চুন খসলেই এরা কি আমায় ছেড়ে কথা বলবে? তাই আমার পরিস্থিতিটা একবার ভেবে দেখুন।

***********************

তা ছাড়া কোন মানুষের প্রতিক্রিয়া তার সেই মুহূর্তের মন, মেজাজের উপর নির্ভর করে -- এ কথা সবাই জানে। শুধুমাত্র আমার লেখা পড়ে কোন পাঠক যদি আমার কোন চরিত্রের চরিত্র নিয়ে ধারণা পোষণ করে থাকেন, তা নেহাতই  আহাম্মকি। গল্পে রং চড়াতে গিয়ে হয়তো অজান্তেই বক্তার অভিপ্রায় হারিয়ে গেছে। আমার সব গল্প / ঘটনাই আমার দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে লেখা, তাই আমার গল্প থেকে যদি কারো মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায় তাহলে তা একান্তই আমার, আমার কোন চরিত্রের নয়।

Monday, June 2, 2014

আমার এক তুতো-দাদা আছে। সে নাকি ছোটবেলায় একমাত্র নাতি হওয়ার সুবাদে আমার দাদুর খুব আদরের ছিল। আদরের মাত্রাটা একটু বেশি হওয়ার দরুণ, গুরুজনেরা যেমনটা বলে থাকেন, সে একটি বাঁদরে পরিণত হয়েছিল। তাকে কোথাও নিয়ে যাওয়া মানেই বিপত্তি, সে রকমই কিছু ঘটনা বলছি।

(১)
দাদুর সাথে সে এক পরিচিতের বাড়ি গেছে। খানিকক্ষণ পরেও তাদেরকে কিছু খেতে দেওয়া হয়নি দেখে আমার দাদা বললো: "তোমরা কেমন লোক? ঘরে ছোট ছেলে এলে তাকে কিছু খেতে দিতে হয় -- জানো না?" শুনে তো বাড়ির লোকের সাথে আমার দাদুরও লজ্জায় কান লাল। একজন তাড়াতাড়ি দাদাকে একটা বিস্কুট দেয়। দাদা: "ডান হাতে তো একটা বিস্কুট দিলে, আর আমার বাঁ হাতটা কি ফাঁকা থাকবে?" 

(২)
দাদুর সাথে দাদা আরেকদিন অন্য এক পরিচিতের বাড়ি গেছে। এরা বোধহয় পূর্বের ঘটনা জানতেন তাই আসার সাথে সাথেই প্লেটে করে দুজনকে মিষ্টি খেতে দিয়েছেন। দাদা প্রথমেই লক্ষ্য করলো দাদুর প্লেটে বেশি মিষ্টি। তাই চট করে প্লেট দুটো পাল্টাপাল্টি করে নিলো। একটা মিষ্টি মুখে দেওয়ার পর, দাদা: "তোমাদের মিষ্টিটা তেমন ভালো নয়, তোমরা বরং আমাদের আনা মিষ্টিটাও দাও।"

(৩)
দাদুর সাথে দাদা কোথাও একটা বেড়াতে গেছে। সেখানে দাদুর এক প্রবীণ বন্ধুর সাথে ওদের দেখা হয়। উনি দাদাকে জিজ্ঞেস করেন: "খোকা, তোমার নাম কি?" দাদা নিজের নাম জানায়। প্রবীণ মানুষটি কানে খাটো হওয়ায় আবার দাদাকে তার নাম জিজ্ঞেস করেন। দাদা উচ্চ কন্ঠে আরেকবার নিজের নাম জানায়। তা সত্ত্বেও বৃদ্ধ ভদ্রলোকটি তৃতীয়বার নাম জিজ্ঞেস করায়, দাদা চেঁচিয়ে বলে: "আমার নাম? আমার নাম -- গু। খাবে?"  বেচারা বৃদ্ধ ভদ্রলোক এবার দাদার কথা ঠিক শুনতে পেয়েছেন। রাগে-অপমানে উনি দ্রুত ওখান থেকে চলে যান।

প্রত্যেকটি ঘটনায় দাদুর একই প্রতিক্রিয়া -- উনি প্রতিজ্ঞা করেন দাদাকে নিয়ে আর কখনো "ভদ্রসমাজে" বেরোবেন না।

Sunday, June 1, 2014

গত পরশু সকালে আমি, আবির আর আমাদের লাল বন্ধু একসাথে নেসকাফেতে চা খেতে গেছি।
আবির লাল বন্ধুকে: "তোমাদের দলে কি কেউ নেই যে দলটাকে তুলতে পারে?"
আমি: "কেন! আমাদের লাল বন্ধুই তো আছে -- দলটাকে তুলে দেবে।"

****************
আমার আই.আই.টি.-র বন্ধুদের প্রতি বিনীত অনুরোধ: আপনারা যার কথা ভাবছেন, আমি সেই লাল বন্ধুর কথাই বলেছি -- কিন্তু দয়া করে তার প্রতি কোন সরাসরি মন্তব্য করবেন না। আমি ধুতি ধরে টেনেছি ঠিকই, তা বলে আপনারা একেবারে কাছা খুলে দেবেন না।