Sunday, February 22, 2015

এই জোকটা হয়তো আপনারা আগেই শুনেছেন, তবে আমি সম্প্রতি জানতে পেরেছি -- তাই শেয়ার করলাম।

ট্রেন গন্তব্য স্টেশনে পৌঁছতে পাক্কা ২৪ ঘন্টা লেট করেছে। তবুও যাত্রীরা এতোটুকু হুজ্জোতি করলো না -- যেন এমনটাই প্রত্যাশিত ছিল।
কেন বলুন তো?
কারণ ট্রেনটার নামই তো "কাল-কা মেল"।

Saturday, February 21, 2015

আজকে বিশ্ব মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা জানাই সবাইকে।

নানারকম চিন্তার মধ্যে নিজে লেখার টাইম পাচ্ছি না, তাই পাঠকদের চাঙ্গা রাখতে নিশানের ঝুলি থেকে আরেকটা গল্প ঝেপে দিলাম। এই লেখাটায় নিশানের "signature ভাষার" ব্যবহার কম থাকায় ওর লেখাটা অবিকল রইলো।


মেরি কম

মেরি কম নাম কেন দিলাম জানি না, গপপোটা মেরিবিস্কুট কম পড়ারও নয়, আবার অ্যাথলেট কে নিয়েও নয়। যদিও গপপোটা মেরিবিস্কুট নিয়ে। খুব কম কিছু, মূলতঃ দুখানা মেরি বিস্কুট নিয়ে। নরেন্দ্রপুর কলেজে পড়ি তখন, সম্ভবতঃ এগারো ক্লাসের শেষ দিক। আমি থাকতাম গৌরাঙ্গ ভবনে। আমরা অনেকে থাকতাম গৌরাঙ্গ ভবনে। ২৫০ জন। সে যাই হোক, এ গপ্পের নায়ক ক্যাওড়া কুমার, ঘোষাল আর অমর্ত্য।

আমাদের কারেণ্ট চলে গেলে, জেনারেটর চলতো রাত্তির এগারোটা অব্দি। বারান্দার আলো জ্বলতো, ঘরের আলো জ্বলতো না। সেই বারান্দার আলোয় আমাদের মুত্তু খালিগায়ে, বারান্দা বিদ্যাসাগর হয়ে, ভয়ানক ভয়ানক ইণ্টিগ্রেশন করছিলো।

পাশের ঘরে, মোমবাতির আলোয় ঘোষাল, যার গায়ে প্রচুর লোম, এবং বগলেও (প্রসঙ্গত আমার ঘোষাল নামে আরেক বন্ধু আছে, তার গায়েও প্রচুর লোম, বোধহয় ঘোষালদের গায়ে প্রচুর লোম হয়), সে মোমবাতি জ্বালিয়ে মনোযোগ সহকারে দুখানা ব্রিটানিয়া মেরি বিস্কুট পোড়াচ্ছিলো।

পাশে দাঁড়িয়ে অমর্ত্য চিরাচরিত ভঙ্গিতে বুড়ো আঙুল চুষতে চুষতে গোটা ঘটনাটা দেখছিলো।

পোড়ানো শেষ, অতএব অমর্ত্য একখানা কার্বন কালো বিস্কুট নিয়ে হাঁটা দিলো কামড়ির ঘরের দিকে, সন্ধের প্রেয়ার শেষ হয়েছে বেশীক্ষণ হয়নি, আমরা তখনও ধুতি ছাড়ার সময় পাইনি।

কামড়ির ঘরে গিয়েই অমর্ত্য সেখানা তুলে ধরেছে কামড়ির সামনে, বলছে খেয়ে দেখ দারুণ জিনিস। কামড়ি জানে অমর্ত্য মোটে সুবিধার জিনিস না, এদিকে বিকেলবেলা অমর্তযর বাড়ির লোক এসেছিলো, পিঠে ফিঠে হতে পারে, অন্ধকারে হাতে ধরে আবার জিনিসটা গরম গরম ঠেকছে। মনে বিস্তর ডিলেমা, তাও সাহস সঞ্চয় করে এক কামড় দিয়েছে।

দিতেই চিত্তির, অমর্ত্য অবশ্য এক সেকেণ্ডও দাঁড়ায়নি।

এদিকে দ্বিতীয় বিস্কুট নিয়ে ঘোষাল গেছে মুত্তুর সামনে। সেই মুত্তু যে কিনা তখন বড় বড় ইণ্টিগ্রেশন করে আর আমরা ডিফারেন্সিয়েশন করতে জানি না, যে কিনা তখন ভবিষ্যতের, আজকের বর্তমানের ভারতবর্ষের স্বঘোষিত শ্রেষ্ঠ গণিতবিদ, এবং যে হাঁ করে ঘুমোনর সময় মুখে একবাটি নুন ঢেলে দিলেও দুবার ঠোঁট চেটে ফের ঘুমিয়ে পড়ে, তার সামনে। প্রসঙ্গত মুত্তুর গায়েও প্রচুর লোম, অর্কুটের ছবিতে ছিলো।

যাইহোক ঘোষাল মুত্তুর সামনে গিয়ে ক্রমাগত বিজ্ঞাপন দিয়ে চলেছে, "অ্যাই মুত্তু দেখ না খেয়ে, দেখ না, দেখ না, ব্রিটানিয়া নতুন মেরী বার করেছে দারুণ খেতে।"

মুত্তু বলছে "আরে যা না রে বাবা। বিরক্ত করিস না তো!!" ঘোষালও নাছোড়বান্দা। ঘোষাল বলছে "আরে দেখ না, আমিই খেয়ে দেখাচ্ছি, আঁ আঁ..." বলেই মুখ হাঁ করে বিস্কুট খানা ধরে, কামড় দেবে আর কি, তা, পেছনে ছিলো ক্যাওড়া কুমার।

তার দুদিন আগেই ঘোষাল খেলা থেকে ফিরে ঘেমো বাহুমূল ঘষে দিয়েছিলো ক্যাওড়ার মুখে, ক্যাওড়া তাকে গালিগালাজ করতে গিয়ে আমাদের ওয়ার্ডেন আগা খাঁ এর কাছ থেকে শুনেছে, যে আগা খাঁ র চশমা ছিলো হরলিকসের শিশির পেছনের কাচের মত, আর যে হারমোনিয়াম রিড দেখে দেখে বাজাতো, তায় দেখতো না ভালো, অতএব ভয়াবহ বাজনা, তবলায় তাল দিতে নাভিশ্বাস উঠতো আমার, আর গলা ছিলো বাজখাঁই, সেই আগা খাঁর কাছ খেকে ক্যাওড়া শুনেছে তার ভাষা "রিকশাওলাদের মত"  ইত্যাদি। অতএব সে প্রতিশোধস্পৃহায় তককে তককেই ছিলো।

অতএব বিন্দুমাত্র না থমকে, পেছন থেকে ঘোষালের মাথায় এক চাঁটি। এমন চাঁটি যার গুঁতোয় ঘোষাল খেলো দাঁতকপাটি, আর ঐ বিষ মেরী ওর মুখে।

থু থু করে ছিটিয়ে দিয়েই ঘোষাল ধাওয়া করলো ক্যাওড়াকে।

ধান ভানতে প্রচুর শিবের গীত করে ফেললাম, সে যাই হোক।

ঘোষাল আর অমর্ত্য আজ দুজনেই আমাদের মধ্যে নেই, মাঝে মধ্যে মনে হয়, হয়তো এভাবেও মনে রাখা যায়।

Monday, February 16, 2015

আইআইটি খড়্গপুরে এসে পিএইচডির যুদ্ধে নেমে বুঝতে পারলাম স্টেশনে "খড়্গপুর জং" লেখাটার সার্থকতা।

Sunday, February 15, 2015

"আচ্ছা, এই যে তুই লোকজনের নাম ভাঁড়িয়ে তাদের কীর্তি কাহিনী এভাবে ইন্টারনেটে সর্বসমক্ষে জানিয়ে দিস -- তোকে কেও রাস্তায় ধরে ক্যালায় না?"
এক বন্ধুর কাছে এই প্রশ্ন শুনে ভাবতে বসলাম, সত্যিই তো! দু-একটা সামান্য কটু মন্তব্য বাদ দিয়ে সেভাবে কোনো গালিগালাজ বা মারধোর আমাকে আজ পর্যন্ত খেতে হয়নি -- এতো দিনে এ ধরণের এক-আধটা অপ্রীতিকর পরিণাম কি আমার পাওনা হয়নি? আমার গল্পের নায়ক নায়িকারা আমাকে ক্ষমা ঘেন্না করে ছেড়ে দিয়েছেন, এরকমটা নয়তো? নাকি আমার কলমে সেই জ্বালাময়ী লেখনীর শক্তিটাই নেই? এই সব ভাবতে ভাবতে ছোটোবেলায় বাবার কাছে শোনা একটা গল্প মনে পড়ে গেলো। এই গল্পের মধ্যে হয়তো লুকিয়ে আছে আরেকটা সম্ভাব্য কারণ।

এক ধনী ব্যক্তি নিজের বাড়িতে একটা পার্টির আয়োজন করেছেন। সেই পার্টিতে অনেকে নিমন্ত্রিত। এই নিমন্ত্রিতদের মধ্যে একজন কার্টুনিস্টও আছেন। আয়োজকের অনুরোধে এই কার্টুনিস্ট প্রত্যেক নিমন্ত্রিতের একটি করে ছবি আঁকলেন। প্রত্যেকটি ছবিতেই যার ছবি আঁকা হয়েছে তার কোনো একটি চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য কার্টুনিস্টটি নিজের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী সেটাকে কৌতুকপ্রদভাবে পরিবেশন করেছেন। পার্টি শেষ হলে পরে দেখা গেলো প্রত্যেকে সেই ছবিগুলি দেখে কোনটি কার ছবি নির্ভুল ভাবে নির্ধারণ করতে পারলেও কেও নিজের ছবিটি খুঁজে পাচ্ছেন না।

Thursday, February 12, 2015

অমরাবতী এক্সপ্রেসে করে গোয়া থেকে হাওড়া ফিরছি। ট্রেনে দুই বিপরীত মেরুর ভদ্রলোকের মধ্যে এক আশ্চর্য রকমের মিল পেলাম। একজন ঘোর মার্কসবাদী অপরজন এক সন্ন্যাসী -- দুজনেরই হাতে আংটি! একজন ভগবানের অস্তিত্বে সম্পূর্ণ অবিশ্বাসী অপরজন ভগবানের হাতে সম্পূর্ণ সমর্পিত, অথচ আংটি ধারণ করে ভাগ্য পরিবর্তনের কি দুর্নিবার ইচ্ছা।

Monday, February 2, 2015

তখন আমার দাদুর পোস্টিং ছিলো বোলপুর, শান্তিনিকেতনে। আর একবার পদোন্নতি হলেই আমার দাদু হয়ে যাবেন বিডিও (ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার)। বিডিও হতে গেলে হিন্দী ভাষা জানা আবশ্যক, এদিকে হিন্দী ভাষা সম্বন্ধে আমার দাদুর জ্ঞান তথৈবচ। বন্ধুরা দাদুকে ভরসা যোগান এই বলে যে ইন্টারভিউয়ার যেই হন, শান্তিনিকেতন থেকে এসেছেন শুনলে অতি অবশ্যই শান্তিনিকেতন কিম্বা রবীন্দ্রনাথ সম্বন্ধে দু'চার কথা জিজ্ঞেস করবেন, তাই হিন্দী ভাষায় শান্তিনিকেতন এবং রবীন্দ্রনাথের উপর দুটি সুন্দর রচনা মুখস্থ করে গেলেই কেল্লা ফতে। যেই বলা সেই কাজ।

ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে দাদু দেখেন যে প্রশ্নকর্তা তাকে এই সেই কতো কিছু প্রশ্নই করছেন কিন্তু শান্তিনিকেতন অথবা রবীন্দ্রনাথ সম্বন্ধে কোনো উচ্চবাচ্যই করছেন না। দাদু আমতা আমতা করে নিজের সাধ্য মতো হিন্দীতে এক-একটি উত্তর দিচ্ছেন আর শেষে যোগ করছেন "ম্যায় বোলপুর, শান্তিনিকেতন সে আয়া।" এই কথার চার পাঁচবার পুনরাবৃত্তি করার পর প্রশ্নকর্তা বলেন: "হাঁ! আপ বোলপুর, শান্তিনিকেতন সে আয়ে হ্যায়। উসকে বারে মে অগলি বার বোলনা।" বলাই বাহুল্য, আমার দাদু সে বছর পরীক্ষায় পাশ করতে পারেননি। পরের বছর অবশ্য উনি কোতলপুরের বিডিও হিসেবে নিযুক্ত হন।

Sunday, February 1, 2015

যোধপুর পার্ক থেকে গোলপার্কের দিকে যেতে ফ্লাইওভারের উপর থেকে যদি বাঁদিকে তাকান তাহলে একটা বাড়ি দেখতে পাবেন, নাম -- বাবলু'জ। এই বাড়িটি বিয়ে, অন্নপ্রাশন ইত্যাদি অনুষ্ঠানে ভাড়া দেওয়া হয়। এই বাড়িটির গেটের উপর বড় বড় হরফে লেখা আছে:
"God gives and forgives,
 Man gets and forgets."