আমেরিকা থেকে এক সাহেব এসেছে আমাদের ল্যাবে। তার কাছে শুনলাম এখন নাকি
আমেরিকায় কেও মিসেস (Mrs.) শব্দটা ব্যবহার করা না। সব মহিলাকে মিস (Miss)
বলে ডাকাটাই হালফিলের রীতি। এই শুনে একজন বললো "মিস" শব্দটা ব্যবহার না করে
"মিস" এবং "মিসেস"-এর মাঝামাঝি কোনো শব্দ থাকলে সেটাকে ব্যবহার করাটাই
শ্রেয়। এই মন্তব্য শুনে আরেকজন বললো "মিস" এবং "মিসেস"-এর মাঝামাঝি যে
শব্দটি আছে সেটা ব্যবহার না করাই ভালো কারণ সেই শব্দটি হলো "মিসট্রেস"
(Mistress)।
Wednesday, January 25, 2017
Tuesday, January 24, 2017
Sunday, January 22, 2017
লেখক: পর্ব ১৮
পোশাক-আষাকের ব্যাপারে আমি সাধারণের চেয়ে বেশ খানিকটা কম সচেতন। এই কথাটা আগে বাড়ির লোকের কাছে অনেকবার শুনে থাকলেও ব্যাপারটাকে আমল দিইনি। তবে সম্প্রতি হোটেলের এক ওয়েটারের মন্তব্যে বুঝলাম সাজসজ্জা সম্পর্কে এতো বেশি উদাসীন না হওয়াই ভালো। সেই ঘটনাটা এখানে খুলে বলি।
বেঙ্গালুরুতে বাড়ির কাছে এক হোটেলে আমি প্রায়শঃই খেতে যেতাম। টি-শার্ট আর থ্রি-কোয়ার্টার্স -- মোটামুটি এটাই ছিল আমার হোটেলে যাওয়ার ড্রেস কোড। আমার এলাকার বিভিন্ন হোটেল পরীক্ষা করার পর স্বাদ এবং স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে আমি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলাম যে একমাত্র এই হোটেলের মিলই আমার পক্ষে দিনের পর দিন খাওয়া সম্ভব। বাকি যাবতীয় হোটেলের হয় খাবারের স্বাদ ভালো নয় নতুবা রান্নায় অত্যধিক তেল মশলা ব্যবহার করে। উপরন্তু এখানের খাবারের দামও তুলনামূলকভাবে সস্তা। এই কারণেই বোধহয় সমাজের সর্বস্তরের খদ্দেরের আগমন ঘটতো সেই হোটেলে।
বহুদিন ধরে যাওয়ার ফলে আমি মুখচেনা হয়ে গেছিলাম হোটেলের সব কর্মচারীর কাছে। আমাকে অর্ডার করার সময় আর আলাদা করে বলতে হতো না যে আমি চাপাটি খাবো না রুটি কিংবা কটা চাপাটি খাবো। সব ওদের মুখস্থ ছিলো। জানতে চাইছেন রুটি আর চাপাটির মধ্যে তফাৎ কি? আমিও জানতাম না এই হেটেলে আসার আগে। চাপাটি হচ্ছে আটার তৈরী মানে যা আমরা সাধারণতঃ খেয়ে থাকি, আর রুটি হচ্ছে বাজরার তৈরী -- চাপাটির চেয়ে বেশি পুষ্টিকর কিন্তু স্বাদে অতো ভালো নয়।
একদিন দেখি হোটেলের এক ওয়েটার ঘুরঘুর করছে আমার চারপাশে আর উসখুস করছে কিছু একটা বলার জন্য। খানিক পরে আর থাকতে না পেরে সে মনের ভেতর চেপে রাখা প্রশ্নটা আমার সামনে করেই ফেললো -- "ভাই, তুমি দিনে কতো টাকা রোজগার করো?"
পোশাক-আষাকের ব্যাপারে আমি সাধারণের চেয়ে বেশ খানিকটা কম সচেতন। এই কথাটা আগে বাড়ির লোকের কাছে অনেকবার শুনে থাকলেও ব্যাপারটাকে আমল দিইনি। তবে সম্প্রতি হোটেলের এক ওয়েটারের মন্তব্যে বুঝলাম সাজসজ্জা সম্পর্কে এতো বেশি উদাসীন না হওয়াই ভালো। সেই ঘটনাটা এখানে খুলে বলি।
বেঙ্গালুরুতে বাড়ির কাছে এক হোটেলে আমি প্রায়শঃই খেতে যেতাম। টি-শার্ট আর থ্রি-কোয়ার্টার্স -- মোটামুটি এটাই ছিল আমার হোটেলে যাওয়ার ড্রেস কোড। আমার এলাকার বিভিন্ন হোটেল পরীক্ষা করার পর স্বাদ এবং স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে আমি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলাম যে একমাত্র এই হোটেলের মিলই আমার পক্ষে দিনের পর দিন খাওয়া সম্ভব। বাকি যাবতীয় হোটেলের হয় খাবারের স্বাদ ভালো নয় নতুবা রান্নায় অত্যধিক তেল মশলা ব্যবহার করে। উপরন্তু এখানের খাবারের দামও তুলনামূলকভাবে সস্তা। এই কারণেই বোধহয় সমাজের সর্বস্তরের খদ্দেরের আগমন ঘটতো সেই হোটেলে।
বহুদিন ধরে যাওয়ার ফলে আমি মুখচেনা হয়ে গেছিলাম হোটেলের সব কর্মচারীর কাছে। আমাকে অর্ডার করার সময় আর আলাদা করে বলতে হতো না যে আমি চাপাটি খাবো না রুটি কিংবা কটা চাপাটি খাবো। সব ওদের মুখস্থ ছিলো। জানতে চাইছেন রুটি আর চাপাটির মধ্যে তফাৎ কি? আমিও জানতাম না এই হেটেলে আসার আগে। চাপাটি হচ্ছে আটার তৈরী মানে যা আমরা সাধারণতঃ খেয়ে থাকি, আর রুটি হচ্ছে বাজরার তৈরী -- চাপাটির চেয়ে বেশি পুষ্টিকর কিন্তু স্বাদে অতো ভালো নয়।
একদিন দেখি হোটেলের এক ওয়েটার ঘুরঘুর করছে আমার চারপাশে আর উসখুস করছে কিছু একটা বলার জন্য। খানিক পরে আর থাকতে না পেরে সে মনের ভেতর চেপে রাখা প্রশ্নটা আমার সামনে করেই ফেললো -- "ভাই, তুমি দিনে কতো টাকা রোজগার করো?"
Monday, January 9, 2017
লেখক: পর্ব ১৭
আমার তুতো ভাইদের সাথে হোস্টেলে থাকা নিয়ে কথা হচ্ছিলো। হোস্টেলে কার ঘর কতো নোংরা থাকতো সেই নিয়ে আলোচনা চলছিল। কথা বলতে বলতে আইআইটির বি.সি.রায় হোস্টেলে থাকার সময় আমার রুম পরিষ্কার করার ঘটনা মনে পড়ে গেলো। বি.সি.রায় হল আইআইটি খড়্গপুরের সবচেয়ে পুরোনো হলগুলোর মধ্যে একটা। আমার ঘরে যে খাট, টেবিল, চেয়ার, ইত্যাদি ছিলো সেগুলো এতো পুরোনো ছিলো যে নিয়মিত সেগুলো থেকে ঘুণ পড়তো। তা সত্ত্বেও আমি পারতপক্ষে ঘর পরিষ্কার করা নিয়ে মাথা ঘামাতাম না। কিন্তু তিন চার মাস পর যখন ঘরের ভেতর পা ফেললে মেঝের পুরু ধুলোর উপর পায়ের ছাপ স্পষ্ট বোঝা যেতো তখন আমি হোস্টেলের কোনো এক সুইপারকে ডেকে ঘর পরিষ্কার করাতাম। উপরি ইনকামের জন্য যে কোনো সুইপারকে কোনো স্টুডেন্ট ঘর পরিষ্কার করতে ডাকলেই সে রাজি হয়ে যেত। আমার স্পষ্ট মনে আছে যে আমি যে সুইপারকে প্রথম ডেকেছিলাম সে তো আমার ঘরের নোংরা দেখে ভেবেছিলো যে ঘরটা নিশ্চয়ই বেশ কিছুদিন বন্ধ পড়ে ছিলো আর আমি এই ঘরে নতুন এসেছি, কোনো ছাত্র যে এতো নোংরা রুমে বেশি দিন থাকতে পারে না সে বিষয়ে সে নিশ্চিত ছিলো। আমি লজ্জায় আর তার ভুল ভাঙাইনি। এবং তিন চার মাস অন্তর অন্তর আমি আলাদা আলাদা সুইপারকে ডেকে এনে ঘর পরিষ্কার করাতাম আর ঘরের দৈন দশা দেখে কেও কৌতূহল প্রকাশ করলে আমি এই রুমে নতুন এসেছি এই গুলটাই দিতাম।
আমার তুতো ভাইদের সাথে হোস্টেলে থাকা নিয়ে কথা হচ্ছিলো। হোস্টেলে কার ঘর কতো নোংরা থাকতো সেই নিয়ে আলোচনা চলছিল। কথা বলতে বলতে আইআইটির বি.সি.রায় হোস্টেলে থাকার সময় আমার রুম পরিষ্কার করার ঘটনা মনে পড়ে গেলো। বি.সি.রায় হল আইআইটি খড়্গপুরের সবচেয়ে পুরোনো হলগুলোর মধ্যে একটা। আমার ঘরে যে খাট, টেবিল, চেয়ার, ইত্যাদি ছিলো সেগুলো এতো পুরোনো ছিলো যে নিয়মিত সেগুলো থেকে ঘুণ পড়তো। তা সত্ত্বেও আমি পারতপক্ষে ঘর পরিষ্কার করা নিয়ে মাথা ঘামাতাম না। কিন্তু তিন চার মাস পর যখন ঘরের ভেতর পা ফেললে মেঝের পুরু ধুলোর উপর পায়ের ছাপ স্পষ্ট বোঝা যেতো তখন আমি হোস্টেলের কোনো এক সুইপারকে ডেকে ঘর পরিষ্কার করাতাম। উপরি ইনকামের জন্য যে কোনো সুইপারকে কোনো স্টুডেন্ট ঘর পরিষ্কার করতে ডাকলেই সে রাজি হয়ে যেত। আমার স্পষ্ট মনে আছে যে আমি যে সুইপারকে প্রথম ডেকেছিলাম সে তো আমার ঘরের নোংরা দেখে ভেবেছিলো যে ঘরটা নিশ্চয়ই বেশ কিছুদিন বন্ধ পড়ে ছিলো আর আমি এই ঘরে নতুন এসেছি, কোনো ছাত্র যে এতো নোংরা রুমে বেশি দিন থাকতে পারে না সে বিষয়ে সে নিশ্চিত ছিলো। আমি লজ্জায় আর তার ভুল ভাঙাইনি। এবং তিন চার মাস অন্তর অন্তর আমি আলাদা আলাদা সুইপারকে ডেকে এনে ঘর পরিষ্কার করাতাম আর ঘরের দৈন দশা দেখে কেও কৌতূহল প্রকাশ করলে আমি এই রুমে নতুন এসেছি এই গুলটাই দিতাম।
Monday, January 2, 2017
লেখক: পর্ব ১৬
১লা জানুয়ারী, ২০১৬। বাবা মার সাথে বেঙ্গালুরুর রামকৃষ্ণ মঠে গেছিলাম। কল্পতরু দিবস উপলক্ষে দুপুরে ভোগের ব্যবস্থা হয়েছে। মেনু সামান্যই -- খিচুড়ি আর পায়েস। প্রথমে খিচুড়ি মুখে দিয়েই বাবা মার্ খুব ঝাল লেগে গেলো, আসলে ওই খিচুড়িটা হলো এখানকার "বিসিবেলে বাথ" যেটা দেখতে বাংলা দেশের খিচুড়ির মতো হলেও ঝালের পরিমানটা এতে একটু বেশি হয়। যাক, খিচুড়িটা ঝাল তো কি হয়েছে! হাতা ভর্তি করে পায়েস দিয়েছে তা দিয়েই পেট ভরে যাবে, এই ভেবে পায়েস মুখে দিতেই বাবা মা বুঝলো জিনিসটা ভীষণ টক, মিষ্টির ছিঁটে ফোঁটাও তাতে নেই। থাকবে কি করে? ওটা তো আসলে সাউথ ইন্ডিয়ার ফেভারিট ডিস্: কার্ড রাইস অর্থাৎ দই-ভাত। এদিকে আমি তো প্লেট চেটেপুটে সাফ করে দিয়েছি। তা দেখে মা বললো: "তোর এখানে ভালো খাওয়া দাওয়া জুটছে না, না রে?"
পুনশ্চ: আমার এক বন্ধু ফেসবুকে আমার এই লেখাটি পড়ে তার নিজের একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করে। সে নাকি বেঙ্গালুরুতে একবার কার্ড রাইসকে পায়েস ভেবে কার্ড রাইসের সাথে দুটো রুটিও কিনেছিলো।
১লা জানুয়ারী, ২০১৬। বাবা মার সাথে বেঙ্গালুরুর রামকৃষ্ণ মঠে গেছিলাম। কল্পতরু দিবস উপলক্ষে দুপুরে ভোগের ব্যবস্থা হয়েছে। মেনু সামান্যই -- খিচুড়ি আর পায়েস। প্রথমে খিচুড়ি মুখে দিয়েই বাবা মার্ খুব ঝাল লেগে গেলো, আসলে ওই খিচুড়িটা হলো এখানকার "বিসিবেলে বাথ" যেটা দেখতে বাংলা দেশের খিচুড়ির মতো হলেও ঝালের পরিমানটা এতে একটু বেশি হয়। যাক, খিচুড়িটা ঝাল তো কি হয়েছে! হাতা ভর্তি করে পায়েস দিয়েছে তা দিয়েই পেট ভরে যাবে, এই ভেবে পায়েস মুখে দিতেই বাবা মা বুঝলো জিনিসটা ভীষণ টক, মিষ্টির ছিঁটে ফোঁটাও তাতে নেই। থাকবে কি করে? ওটা তো আসলে সাউথ ইন্ডিয়ার ফেভারিট ডিস্: কার্ড রাইস অর্থাৎ দই-ভাত। এদিকে আমি তো প্লেট চেটেপুটে সাফ করে দিয়েছি। তা দেখে মা বললো: "তোর এখানে ভালো খাওয়া দাওয়া জুটছে না, না রে?"
পুনশ্চ: আমার এক বন্ধু ফেসবুকে আমার এই লেখাটি পড়ে তার নিজের একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করে। সে নাকি বেঙ্গালুরুতে একবার কার্ড রাইসকে পায়েস ভেবে কার্ড রাইসের সাথে দুটো রুটিও কিনেছিলো।
Subscribe to:
Posts (Atom)