Tuesday, August 30, 2016

লেখক: পর্ব ১৪

ঘরের কাছে একটা হোটেলে খেতে গেছি। সেখানে দেখি টিভিতে আঞ্চলিক ভাষায় একটা সিনেমা চলছে। অবশ্য "আঞ্চলিক ভাষা" -- এই শব্দটা ব্যবহার করাটা বোধহয় ঠিক হলো না। ভাষাটা কান্নাডা না হয়ে তামিল বা তেলেগু হতে পারে -- এই সব ভাষাই আমার কানে এক। (তবে যদ্দূর সম্ভব ভাষাটা কান্নাডাই ছিলো -- এই কথাটা কেন বলছি সেটা এই লেখার পরবর্তী অংশটা পড়লেই বুঝতে পারবেন।) যাই হোক, আমি খেতে খেতে মন দিয়ে সেই সিনেমাটাই দেখতে লাগলাম। ভাষা না বুঝলেও সিনেমার দৃশ্য দেখেই গল্পটা মোটের উপর বোঝা যাচ্ছিল। আমাদের বাংলা সিনেমার মতোই গড়পড়তা গল্প। সিনেমার দৃশ্য অনুযায়ী বোধ করি আমার মুখের এক্সপ্রেশনগুলো মিলে যাচ্ছিলো তাই খাওয়ার শেষে হোটেলের ওয়েটার এসে আমাকে দক্ষিণ ভারতীয় ভাষাতেই একটা প্রশ্ন করলো, আরো খাবার লাগবে কিনা বা খাবার সুস্বাদু ছিলো কিনা এই গোছের কিছু একটা হবে। এই শুনে আমি বললাম: "কান্নাডা গোথিল্লা" অর্থাৎ "আমি কান্নাডা ভাষা জানি না"। কান্নাডা ভাষায় এই একটা কথাই জানি, সেটাই সুযোগ বুঝে ঝেড়ে দিলাম আর কি। আমার কথা শুনে ওয়েটারের মুখের অভিব্যক্তিটা যা হয়েছিলো তা পুরো বাঁধিয়ে রাখার মতো।

Saturday, August 20, 2016

মিশন: পর্ব ৬

মিশনে পড়াকালীন নিশান, (অনির্বাণ) লাহিড়ী, (অনির্বাণ) জ্যোতি আর আমি -- এই চারজন রুমমেট ছিলাম। ক্লাস ইলেভেন থেকে ক্লাস টুয়েলভে ওঠার সাথে হোস্টেলেও আমরা একতলা থেকে তিনতলায় উন্নীত হলাম। সে সময় লাহিড়ী কোত্থেকে একটা অ্যালার্ম ঘড়ির আমদানি করলো। চান করে এসে খেতে যাওয়ার আগে কিংবা খেলে এসে পড়তে বসার আগে লাহিড়ী পাঁচ দশ মিনিটের জন্য অ্যালার্ম দিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়তো। তখন লাহিড়ীর এই কার্যকলাপ ফালতু বলে মনে হলেও পরে "থ্রি ইডিয়টস" দেখে শিখলাম এটাকে নাকি "পাওয়ার ন্যাপ" বলে।
লাহিড়ীর এই অ্যালার্ম ঘড়ির শব্দটা ছিল বাঁজখাই, প্রথমবার শুনে যে কারোর পিলে চমকে উঠবে। অ্যালার্ম বন্ধ না করলে ক্রমে ক্রমে তার পরিত্রাহি আওয়াজ আবার বাড়তে থাকে। তবে কিনা অ্যালার্ম ঘড়ির প্রধান কর্তব্য যেহেতু মালিকের ঘুম ভাঙিয়ে দেওয়া -- সেই দিক থেকে ভাবলে এই ঘড়িটা নিঃসন্দেহে একটা সার্থক ঘড়ি।
এবার মূল গল্পে আসা যাক। এক ছুটির দিন দুপুরে রুমের চারজনেই আমরা ঘড়িতে অ্যালার্ম দিয়ে শুয়েছি। যথা সময়ে অ্যালার্ম বেজে ওঠে। কিন্তু আমরা কেউ আর উঠে অ্যালার্মটা অফ করছিলাম না। কি এক কারণে এখন আর মনে নেই, সে সময় যে উঠে অ্যালার্মটা বন্ধ করতো সে মানসিক ভাবে অন্যদের কাছে হেরে গেছে -- এরকমটা ধরে নেওয়া হতো। এক মিনিট যায় ... দুই মিনিট যায় ... পাঁচ মিনিট ... দশ মিনিট যায় ... আমরা চারজন নিজের নিজের বিছানা কামড়ে শুয়ে রয়েছি। এদিকে অ্যালার্মের সোচ্চার রবে প্রাণ যায় যায়। কিন্তু প্রাণের চেয়ে সম্মানটা তো আগে! এরকম টানটান উত্তেজনার মুহূর্তে যেখানে প্রাণপণ লড়াই চলছে সেখানে শেষ পর্যন্ত জয়ী হলাম কিন্তু আমরা চারজনেই। মাঝখান থেকে হেরে বসলো (শুভদীপ) খাটুয়া। সে পাশের উইং থেকে (অর্থাৎ পাঁচ-ছয়খান দূরের রুম থেকে) লাহিড়ীর ঘড়ির অট্টচিত্কার সহ্য করতে আর না পেরে আমাদের রুমে এসে অ্যালার্মটা বন্ধ করে দিলো। সে যাত্রায় খাটুয়ার দৌলতে আমাদের চার রুমমেটের প্রাণ মান দুটোই রক্ষা পেলো।

Sunday, August 14, 2016

লেখক: পর্ব ১৩

ব্যাঙ্গালোরে রাস্তা পেরনো মোটেও সহজসাধ্য ব্যাপার নয়, বিশেষতঃ আমার এই বেলান্দুর অঞ্চলে। অ্যাদ্দিন এখানে অফিস টাইমে শুধু মাত্র সাধারণ মানুষদের রাস্তা পার করানোর জন্য কিছু লোক নিযুক্ত করা ছিলো। তবে সম্প্রতি পথচারীদের সুবিধার্থে এখানে একটা স্কাই-ওয়াক তৈরী করা হয়েছে। (আমার তো বাকি বন্ধুদের মতো DSLR ক্যামেরা নেই তাই মোবাইল ক্যামেরায় তোলা স্কাই-ওয়াকটির একটি নিম্ন মানের ছবি নিচে দিলাম।) এই অতীব সাধারণ ঘটনাটি পাঠকদের বলার কারণ একটাই -- আমিই প্রথম ব্যক্তি যে এই স্কাই-ওয়াকটির একটি প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত অবধি হেঁটেছি।
স্কাই-ওয়াকটি তখনও চালু হয়নি -- আমি দেখি এক মহিলা স্কাই-ওয়াকটিতে চড়ছেন। এই দেখে আমিও উত্সাহিত হয়ে ব্রিজটিতে উঠে পড়ি এবং মহিলাকে পার হয়ে এগিয়ে যাই। উল্টোদিকে নামতেই আমি নিজের ভুল বুঝতে পারি -- আমার জুতো নরম সিমেন্টে আটকে যায়। আমি খেয়াল করে দেখি আশেপাশে আর কোনো জুতো-চটির দাগ আছে কিনা -- কিন্তু আর কোনো সেরকম চিহ্ন দেখতে পাই না। ফলে স্পষ্টতই আমিই প্রথম ব্যক্তি যে এই স্কাই-ওয়াকটি পারাপার করেছে।


Monday, August 8, 2016

সেদিন কি এক অবোধ্য কারণে এক বন্ধু ট্রিট চাই ট্রিট চাই বলে ঘ্যান ঘ্যান করছিলো। কিন্তু শত অনুনয় বিনয়ের পরেও আমি যখন রাজি হলাম না তখন সে যুক্তি দেখালো -- রোজগার করা তো খরচের জন্যেই। এই শুনে আমি তাকে ছোটবেলায় দেখা Duck Tales-এর একটা গল্প বলে দিলাম।
একদিন এক রিপোর্টার গেছে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী হাঁস স্ক্রুজ ম্যাকডাকের কাছে। (যারা জানেন না তাঁদেরকে বলে রাখি কোনো এক অজ্ঞাত কারণে ডাক টেলসের জগতে মানুষের বদলে হাঁসেরা পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত প্রজাতিতে বিবর্তিত হয়েছে।)
রিপোর্টার: "মিস্টার ম্যাকডাক, আপনি তো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী হাঁস অথচ আপনার নিন্দুকেরা প্রায়শই বলে থাকে যে আপনি নাকি ভীষণ কিপটে -- এ ব্যাপারে আপনার কি কিছু বলার আছে?"
স্ক্রুজ ম্যাকডাক: "তোমার কি মনে হয় আমি কি ভাবে পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী হাঁস হয়ে উঠলাম?"

Thursday, August 4, 2016

ফেসবুকের দেওয়াল এমনিতেই বন্ধুবান্ধবদের বর্তমান জীবনের খুঁটিনাটি খবরাখবরে ছয়লাপ। এখন আবার তার সাথে এসে জুটেছে গত কয়েকবছরে আজকের এই বিশেষ দিনে কি ঘটেছিলো তা আরেকবার করে বন্ধুদের মনে করিয়ে দেওয়ার হিড়িক। বাঞ্ছারামে গিয়ে মালপোয়া খাওয়ার, অমুকের সাথে ফেসবুকে বন্ধুত্ব হওয়ার, তমুকের সাথে বোটানিক্যাল গার্ডেন ঘোরার, ইত্যাদির বর্ষপূরণ করার ঘটনাটা আরেকবার ফেসবুকে রাষ্ট্র করতে মাঝে মাঝে লোকজনের ভালোই লাগে।
তো সেদিন দেখি আমারও একটা জোক শেয়ার করার দুই বত্সর পূর্ণ হয়েছে ফেসবুকে। শুরুতেই সতর্ক করে দিই এই জোকটা কিন্তু কম্প্যুটার সায়েন্স সংক্রান্ত।
http://kunalbanerjee.blogspot.in/2014/07/blog-post_27.html

এই জোকটা দেখে আরেকটা ঘটনা মনে পড়ে গেল -- এই ঘটনাটার রস আস্বাদন করার জন্যেও কম্প্যুটার সায়েন্সের কিঞ্চিৎ জ্ঞান থাকা আবশ্যক।
স্যার মৌখিক পরীক্ষায় প্রশ্ন করলেন: লিনাক্স টার্মিনালে "এলএস মাইনাস এলএস" (ls -ls) টাইপ করলে কি দেখতে পাবে?
ছাত্র: এতো খুব সোজা -- জিরো !