Tuesday, March 31, 2015

দিব্যেন্দু: পর্ব ১১

পঙ্কজ: ইদানিং ভুঁড়িটা বেশ বেড়ে গেছে। নিজেকে আয়নায় দেখে বিশাল মোটা লাগছে।
দিব্যেন্দু: তুই এখনো তেমন মোটা হোসনি, "বিশাল মোটা" ছিলেন আমাদের এক স্যার।
পঙ্কজ: তাই নাকি? তোদের স্যার কেমন মোটা ছিলেন শুনি!"
দিব্যেন্দু: আমাদের স্যার এতো মোটা ছিলেন যে ট্যাক্সির পেছনের সিটে বসলে ওনার বাঁ-হাত আর ডান-হাত, দুই হাতের কনুই দুই দিকের জানলায় রাখতেন।

Monday, March 30, 2015

-- "তুই কি জানিস সত্যি সত্যি অদৃশ্য মানব আছে।"
-- "যাঃ, কি যে বলিস।"
-- "কেন? তোর্ বিশ্বাস হচ্ছে না?"
-- "কি করে হবে? অদৃশ্য মানব যদি সত্যি সত্যি থাকতো তাহলে তাকে আজ পর্যন্ত কেউ দেখেনি -- এমনটা কখনো হতে পারতো কি?"
-- "হুঁ হুঁ বাবা, সে যে সত্যিকারের অদৃশ্য মানব -- তাই তো তাকে কেউ আজ পর্যন্ত দেখতে পায়নি।"

Saturday, March 21, 2015

হঠাৎ কানে ভেসে এলো এক চাকুরীরতা মহিলার স্বামীর আক্ষেপ।
কলিগ: "দাদা, বহুদিনের ইচ্ছে -- একবার বৌদির হাতের রান্না খাবো।"
(কলিগের) দাদা: "হ্যাঁ, এটা আমারও বহুদিনের ইচ্ছে।"

Wednesday, March 18, 2015

স্কুলে ক্লাস সিক্স থেকে সংস্কৃত পড়ানো শুরু হয় থার্ড ল্যাঙ্গোয়েজ হিসেবে। সংস্কৃতের ক্লাস নেন এক পন্ডিত ব্রাহ্মণ। সংস্কৃতে যেমন তাঁর অগাধ জ্ঞান, যাবতীয় কাজকর্মও তেমন করেন শাস্ত্রীয় আচরণবিধি অনুসারে। এদিকে ক্লাস সিক্সের ছাত্র পঙ্কজের মাথায় কিন্তু সংস্কৃত ঢোকে না এক রত্তি। স্কুলে হাফ-ইয়ার্লির সংস্কৃত পরীক্ষায় গরুর উপর রচনা লিখতে দিয়েছে। কি করবে প্রথমে ভেবে না পেয়ে, শেষ পর্যন্ত পঙ্কজ বুদ্ধি করে পরীক্ষার খাতায় একটা গরুর ছবি এঁকে চলে এলো -- কেন বলুন তো?
কারণ পন্ডিতমশায় আদতে ধর্মীয় ব্রাহ্মণ তো, তাই আর যাই করুন গরু কাটতে পারবেন না।

Tuesday, March 17, 2015

কিছুদিন আগে এক বন্ধুকে ফেসবুকে একটা জোক শেয়ার করতে দেখেছিলাম:
এক ভদ্রলোক রেস্টুরেন্টে খেতে গেছেন। এদিকে কিছুতেই "মেনু কার্ড" -- এই কথাটা ওনার মাথায় আসছে না। তাই কিছুক্ষণ পর ওয়েটারের কাছে রেস্টুরেন্টের "সিলেবাস"-টি চেয়ে বসলেন সেই খদ্দের ভদ্রলোকটি।

এই রকম ঘটনা -- মানে যখন কিছু কিছু শব্দ পেটে আসছে কিন্তু মুখে আসছে না -- এই ধরনের অভিজ্ঞতা বোধ করি আমাদের প্রত্যেকের সাথেই কখনো না কখনো ঘটেছে। তবে সব সময় আমাদের ব্যবহৃত প্রতিশব্দগুলি যে ঠিক লাগানসই হয়না উপরন্তু কখনো সখনো বেশ অস্বস্তিদায়কও হয়ে ওঠে, সেটাও নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন। উদাহরণস্বরূপ অনেকদিন আগে লেখা আমার একটি ঘটনার পুনরাবৃত্তি করছি এখানে।

 "God has blessed us with a beautiful baby. To celebrate the occassion, sweets are kept at my desk. Please join."
এই ইমেলটি পড়ে অফিসের এক কলিগ সদ্য হওয়া বাবাকে অভিবাদন জানাতে গেছে। এদিকে "Congratulations" শব্দটা সেই মুহুর্তে কিছুতেই মনে পড়ছে না। তাই উনি করমর্দন করে বললেন "Well done"।


এই প্রসঙ্গে আমার সিনিয়র পার্থদার একটা ঘটনা বলি। পার্থদার সাথে আপনাদের পরিচয় আগেও করিয়েছি -- সেই যার হিন্দী ভাষার উপর দখল মারাত্মক; "সে ঘুমোচ্ছে"-এর হিন্দী অনুবাদ করেছিলো "বো ঘুম রাহা হ্যায়", আবার "ছাগল"-এর হিন্দী "বকরী" এটা ভুলে যাওয়ায় এক অবাঙালি ছেলেকে বলেছিলো "ছাগল নেহি সমঝতা -- যো পাতা হ্যায় বো খাতা হ্যায়।" আরো কিছু পার্থদার এধরনের সংলাপ আমার পুরনো লেখায় পাবেন। তবে সে সময় যেটা বলা হয়নি সেটা হলো পার্থদা আবার মাঝে মাঝেই অনেক শব্দ ভুলে যায়, তখন অন্যান্য লোকেরা যেমনি "ইয়ে" বা "ইসে" বলে তার জায়গায় পার্থদা "এ" বলে থাকে। যেমন "This is the conclusion of my presentation" বলতে গিয়ে স্যারেদের সামনে বলে ফেলেছিলো "This is the এ of my এ"। এজাতীয় ভুলে পার্থদাকে পারতপক্ষে কখনো কোনো অসুবিধেয় পড়তে হয়নি, শুধু একবার বিপদে পড়ার উপক্রম হয়েছিলো। সেবার একজন অবাঙালি মেয়ের সাথে কথোপকথনের সময় পার্থদা মুখ ফসকে বলে ফেলেছিলো: "তুম্হারে পাস এ যো হ্যায় না, এ মুঝে চাহিয়ে।" সাংঘাতিক কথা! এর জল অনেক দূর গড়াতে পারতো -- নেহাৎ মেয়েটা পার্থদার মুদ্রাদোষ সম্বন্ধে অবহিত ছিলো এবং "এ" বলতে পার্থদা ঠিক কি বলতে চেয়েছিলো সেটা বুঝতে পেরেছিলো তাই বাঁচোয়া। না, পাঠকদের কাছে "এ"-র সঠিক মানেটা সম্বন্ধে আর রহস্য সৃষ্টি করবো না, পাঠকদের কল্পনা শক্তিকে প্রশ্রয় দেওয়াটা এই ক্ষেত্রে উচিৎ হবে না। পার্থদার মেয়েটির কাছে চাহিদা সামান্যই ছিলো -- ক্লাস নোটসের খাতাটা।

Saturday, March 14, 2015

(বি:দ্র: কাউকে অসম্মান করা নয়, নিছক আনন্দ দেওয়াই এই লেখার উদ্দেশ্য।)

এক কর্মচারী চুপচাপ বসে আছে।
তার এক বন্ধু এসে তাকে জিজ্ঞেস করে: "কি রে, মুখ ব্যাজার করে বসে আছিস কেন?"
কর্মচারী: "আর বলিস না, ম্যানেজার বাবুর জন্যে খুব চিন্তা হচ্ছে। চারদিকে যা সোয়াইন ফ্লু হচ্ছে -- ওনারও না কোনদিন হয়ে যায়।"
কর্মচারীটির বন্ধু: "ম্যানেজার বাবুর সোয়াইন ফ্লু হবে কি না হবে -- সেই নিয়ে এখন থেকে এতো দুশ্চিন্তা করার কি কোন কারণ আছে?"
কর্মচারী: "হ্যাঁ, আছে। উনি পাক্কা শুয়োরের বাচ্চা কিনা -- তাই তো এতো দুশ্চিন্তা!"

Tuesday, March 10, 2015

"কালি, কলম, মন -- লেখে তিনজন।" ছাত্র হয়ে কালি-কলম কম পড়াটা একটু অস্বাভাবিক, ফলে বুঝতেই পারছেন মনের কারণেই অনেকদিন কিছু লেখা হয়নি। নানারকম কর্মব্যস্ততার মধ্যে ঠিক সময় করে উঠতে পারিনি। অনেকদিন পর আজকে কি লিখবো কি লিখবো ভাবছি, হঠাৎ মনে পড়লো ক্লাস টু-তে আমার প্রথম ধূমপানের ঘটনাটা আপনাদেরকে বলা হলেও, ক্লাস সিক্সে আমার প্রথম মদ খাওয়ার ঘটনাটা এখনো জানানো হয়নি। "ছিঃ ছিঃ, এভাবে পাবলিকে নিজের বেলেল্লাপনা প্রচার করার একটা সীমা থাকা উচিৎ" -- এতদূর অবধি আমার লেখা পড়ে যদি আপনাদের কারুর এরকমটা মনে হয়ে থাকে তাহলে তাঁকে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাই যেন উনি পুরো লেখাটা পড়ে তারপর আমার চরিত্রের বিচার করেন।

ঘটনাটা ঘটেছিলো হাসিমারায়। হাসিমারা জলপাইগুড়ি জেলার মধ্যে অবস্থিত একটি ছোট্ট টাউন, গন্ড গ্রামের তুলনায় সামান্য উন্নত। স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ায় কাজ করার সুবাদে আমার বাবাকে এখানে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার হিসেবে বদলি হয়ে আসতে হয়। বাবার বদলির চাকরির সুবাদে CBSE, ICSE এবং West Bengal -- স্কুলজীবনে এই তিনটি বোর্ডেই পড়ার অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে। আমি হাসিমারায় এসে Air Force School (CBSE বোর্ড)-এ ভর্তি হই। ছোটবেলা থেকে কোলকাতায় মানুষ হয়েছি, কাজেই চারদিকের চা বাগান, পাহাড়ি লোকজন, সবুজ পরিবেশ -- প্রথম প্রথম দেখতে ভালো লাগলেও, কাঁহাতক আর সহ্য করা যায় বলুন তো? ফলে অচিরাৎ "হাসিমারা" নামের সার্থকতা উপলব্ধি করতে পারলাম। হাসিমারায় থাকাকালীন হঠাৎ স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার কিছু সিনিয়র অফিসার বাবাকে জানালেন যে তাঁরা কি একটা মিটিং করতে হাসিমারায় আসবেন। কি এমন মিটিং যে হাসিমারা ছাড়া করা যাবে না -- সে আমি বলতে পারবো না; আমার ব্যক্তিগত ধারণা ওসব মিটিং-ফিটিং স্রেফ বাহানা, আসলে ফাঁকতালে জলপাইগুড়ি ঘুরে যাওয়াটাই উদ্দেশ্য। যাই হোক, বাবুরা তো এলেন, এদিকে হাসিমারায় কোনো ভালো হোটেল নেই, তাই ওনাদের থাকার ব্যবস্থা হয় চা বাগানের এক মালিকের বাড়িতে। মালিক নিজে সে বাড়িতে কখনো-সখনো ছুটি কাটাতে আসেন, সাধারণত বাড়িটা ফাঁকাই পড়ে থাকে। সেই সময় বাবুদের দেখভাল করার পুরো দায়িত্ব ছিলো সেখানকার এক খানসামার উপর। বাবুরা ফিরে গেলে, বাবা সেই খানসামাকে কিছু বকশিশ দেওয়ার জন্য আমাকে নিয়ে সেই বাড়িতে যান। খানসামাটি আমাকে জিজ্ঞেস করে আমি কি খাবো, আমি জানাই যে maazaa বা Slice জাতীয় কোল্ড ড্রিঙ্কস আমার পছন্দ। বাবাকে জিজ্ঞেস করলে পর বাবা জানায় "কালো কিছু" থাকলে সেটা দিতে। কিছুক্ষণের মধ্যে আমাকে maaza আর বাবাকে একটি কালো পানীয় দিয়ে যায় সেই লোকটি; দেওয়ার সময় সে আবার বাবাকে চোখ টিপে ইসারাকরে। ইঙ্গিতটা প্রথমে বুঝতে না পারলেও, বাবা সেই কালো পানীয়তে চুমুক দিয়ে বুঝতে পারে যে সেই কালো পানীয়টি ওনার ধারণা মতো কোক বা পেপসি নয়। ছোট ছেলের সামনে "মদ" কথাটা উচ্চারণ করতে লজ্জা পাচ্ছে বলে সাংকেতিক ভাষায় "কালো কিছু" বলে বাবা নিজের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে বলে ধরে নিয়েছে খানসামাটি। এক চুমুক খেয়ে বাবা হাতের গ্লাসটি নিচে নামিয়ে রাখতে না রাখতেই আমি সেই বিস্বাদ পানীয়কে নতুন ধরনের কোল্ড ড্রিঙ্ক ভেবে ততক্ষণে এক চুমুক খেয়ে ফেলেছি।