Wednesday, November 26, 2014

কথা দিয়েছিলাম লিখবো। তাই আজকের কথাগুলো সত্যরক্ষা পালন হেতু লিখতে বসেছি।
(বিধিঅসম্মত সতর্কীকরণ: বেশি ভালো কিছু আশা করবেন না, আজকে ভাঁড়ার শূন্য -- তাই এসব কথার প্রস্তাবনা।)

১) আমার এক মিশনের গল্পের উৎস হিসেবে একজনের কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছিলাম, তার নাম লিখেছিলাম "মাওবাদী"। এ হেন নামকরণের ইতিহাসটা তখন চেপে গিয়েছিলাম পরে কখনো জানানোর ইঙ্গিত দিয়ে। আজ প্রথমে এই ইতিবৃত্তটাই খোলসা করি।
আইআইটিতে আমার এক জনদরদী বন্ধু আছে যে অচেনা অজানা ছেলেদের সঙ্গে বৈদ্যুতিক মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে ভাব জমিয়ে ফেলে এবং প্রয়োজনে তাদের জন্যে নানারকম সুযোগ সুবিধের ব্যবস্থা করে থাকে। এরকমই এক (প্রায়) অপরিচিত ছেলের জন্যে সে একবার আমাদের আইআইটির মেসে তার থাকা খাওয়ার আয়োজন করে। এই ছেলেটি মেসের সকলের অপরিচিত হওয়ায় এবং সে সময় মেদিনীপুরে মাওবাদীদের কিঞ্চিত বাড়বাড়ন্ত হওয়ার ফলে মেসের কারুর মাথায় আসে, "আচ্ছা, ছেলেটা মাওবাদী নয় তো?" সে থেকেই তার ডাকনাম হয়ে যায় "মাওবাদী"।

২) ০৬-০২-২০১১: এই তারিখে আইআইটিতে একটি বুনো হাতি ঢুকে পড়েছিলো। ব্যাস, ঘটনাটা এটুকুই। ফেসবুকে অন্য একটি ঘটনা প্রসঙ্গে এই দিনটি উঠে আসায় আমার এক বন্ধু এই হাতি নিয়ে ঘটনাটা একটু বিশদে লিখতে বলেছিলো; কিন্তু বিশ্বাস করুন এর চেয়ে বেশি আমার আর কিছু লেখার নেই। তবুও এতো সংক্ষেপে শেষ করলে আমার সেই বন্ধুর মন খারাপ হতে পারে ভেবে আরো দুটো কথা যোগ করছি। এই একটা হাতি জনশ্রুতিতে ছটায় গিয়ে ঠেকেছিলো এবং আমার ধারণা নিজের চোখে না দেখে কানে শুনেই জনসাধারণের মধ্যে হৃদকম্পনটা বেশি সৃষ্টি হয়েছিলো। পরেরদিন ইন্টারনেটে টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এই খবরটার নিচে আইআইটির এক পড়ুয়া নিজের মনের ইচ্ছা প্রকাশ করে কমেন্ট করেছিলো, "হাতি মেরে সাথী তু আজা, একদিন কা ছুট্টি দিলা যা।"

Wednesday, November 19, 2014

কিছুদিন আগে টাকের প্রকারভেদ নিয়ে একটা লেখা লিখেছিলাম। আজকে হঠাৎ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে টাক পড়ার একটা সুফল আবিষ্কার করলাম: "টাক পড়লে কপাল খুলে যায়।"

Saturday, November 15, 2014

বি:দ্র: বিতর্ক উস্কে দেওয়া নয়, নিছক আনন্দ দেওয়াই এ লেখার উদ্দেশ্য।

এক তরুণ গবেষক: "আইআইটির উপর আমার ঘেন্না ধরে গেছে। কর্তাদের আচরণ দেখেই বোঝা যায় এমএস, পিএইচডি স্টুডেন্টরা আইআইটির কাছে গুরুত্বের দিক দিয়ে সেকেন্ডারি।"
আরেক পোড়খাওয়া গবেষক: "তাহলে তো আমাদের মতো সিনিয়র পিএইচডি স্টুডেন্টদের হায়ার সেকেন্ডারি বলতে হয়।"

Friday, November 14, 2014

শিশু দিবসে ভেবেছিলাম শিশুদেরকে নিয়ে কোন ঘটনা লিখবো। কিন্তু আর কিছু না পেয়ে, আপাতত নিম্নলিখিত "শিশুসুলভ" আচরণের এই ঘটনাটা দিয়েই ইচ্ছেপূরণ করতে হলো।

বাসুদেব: পর্ব ২

ইলেকট্রিকাল ডিপার্টমেন্টের এই স্যার ভীষণ কড়া। উনি ভারি গলায় পড়িয়ে চলেছেন। ওনার গলার স্বর বাদে ক্লাসে পিন ড্রপ সাইলেন্স। টানা দু'ঘন্টার ক্লাস, মাঝখানে ব্রেক নেই। স্যারের ভয়ে ক্লাসে ছাত্র ছাত্রীরা সকলে তটস্থ। হঠাৎ দেখা যায় বাসুদেব হাত তুলেছে, শুধু তাই নয় -- সে আবার হাত নেড়ে স্যারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছে। কিছু একটা ঘটতে চলেছে, এই ভেবে প্রবল উৎকণ্ঠায় সকলের নজর তখন বাসুদেবের দিকে।
স্যার (বাঁজখাই স্বরে): কিছু বলবে ?
বাসুদেব: স্যার, বাথরুম যাবো ?
এই প্রশ্ন শুনে স্যার বিব্রত বোধ করেন। স্যার: এতো বড় হয়েছো, এখনো ক্লাসে কিভাবে বিহেভ করতে হয় জানো না ? স্কুল হলে কি করতে ?
বাসুদেব: স্যার, ক্লাস ফাইভ সিক্সের সময় বাথরুম পেলে টিচারকে জিজ্ঞেস করতাম, উনি অনুমতি দিলে চলে যেতাম। ক্লাস ইলেভেন টুয়েলভের সময় বাথরুম পেলে টিচারকে জিজ্ঞেস করতাম, উনি বলতেন ক্লাস শেষ হলে তারপর যেও।
স্যার (রাগত স্বরে): তাহলে কলেজে উঠেও সেই এক প্রশ্ন করছো কেন ?
বাসুদেব: ও মা ! কলেজে উঠেছি বলে কি বাথরুম পাবে না ?

Monday, November 10, 2014

বাসুদেব: পর্ব ১

বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস চলছে। স্যার অনুচ্চ একঘেয়ে স্বরে জটিল জটিল তথ্য পড়িয়ে চলেছেন। ছাত্ররা কদ্দূর বুঝলো না বুঝলো সেদিকে হুঁশ নেই। পেছনের বেঞ্চ থেকে বাসুদেব বলে উঠলো: "স্যার, আপনার গলা এখান থেকে শোনা যাচ্ছে না। আরেকটু জোরে বলবেন?"
স্যার: "আমি যদি জোরে কথা বলি তাহলে যারা প্রথম সারিতে বসে আছে তাদের কানে লাগবে।" এই বলে স্যার পেছন ফিরে আগের ভঙ্গিতেই পড়িয়ে যেতে লাগলেন। 
কিছুক্ষণ পর বাসুদেব আবার বলে উঠলো: "স্যার, ওই ডায়াগ্রামটা নিয়ে কি বললেন ঠিক শুনতে পেলাম না। আরেকবার একটু বোঝাবেন ?"
স্যার: "টেপ রেকর্ডারে রিওয়াইন্ড বোতাম থাকতে পারে, আমার নেই।"

এই তিক্ত অভিজ্ঞতার পর বাসুদেব সেই স্যারের ক্লাসে আসাই বন্ধ করে দিল। হঠাৎ কি মনে করে একদিন বাসুদেব একটু দেরি করে সেই স্যারের ক্লাসে ঢুকতে গেল। সেদিন কোনো কারণে স্যারের মেজাজ আগে থেকেই বিগড়ে ছিলো; বাসুদেবকে দেরি করে ঢুকতে দেখে উনি তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলেন।
স্যার: "এমনিতে তো তোমাকে ক্লাসে দেখি না। এখন কি মনে করেছ যখন ইচ্ছে আমার ক্লাসে ঢোকা যায় ? যাও, আজ আমি তোমাদের ক্লাসটাই নেব না।"
এই বলে স্যার হনহন করে ক্লাস থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন -- এমন সময় বাসুদেব পেছন থেকে বলে উঠলো: "যা বাবা ! আজ ভাবলাম ক্লাস করবো আর এসেই দেখি কিনা আজ ক্লাস হবে না -- এই জন্যেই তো আমি ক্লাসে আসি না।"

Friday, November 7, 2014

ছোটবেলায় মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিকের রেজাল্ট বেরনোর সময়টা ছিল আমার কাছে অত্যন্ত ভীতিপ্রদ। রেজাল্ট বেরনোর হপ্তাখানেকের মধ্যেই বাংলা দূরদর্শনে এই পরীক্ষাগুলির কৃতি ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে প্রশ্নোত্তরভিত্তিক একটি অনুষ্ঠান হতো, এবং মায়ের সাথে বসে এই অনুষ্ঠানটি দেখা আমার কাছে ছিল একপ্রকার বাধ্যতামূলক। প্রত্যেক বছর ছাত্র ছাত্রীকে কিছু বাঁধাধরা প্রশ্ন করতেন অনুষ্ঠান সঞ্চালকরা যেমন -- দিনে কতো ঘন্টা পড়তে, কতোগুলো সাবজেক্টের জন্যে প্রাইভেট টিউশন নিতে, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা কি, ইত্যাদি। ছাত্র ছাত্রীদের উত্তরগুলোও ছিল এক গতের -- দিনে ষোলো থেকে সতেরো ঘন্টা পড়ি, অঙ্ক পদার্থবিদ্যা ইতিহাস ভূগোল বাংলা ইংলিশ (এককথায় সব সাবজেক্টের) টিউশন নিতাম, ডাক্তার হয়ে বা ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বা শিক্ষক হয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করাই আমার জীবনের ব্রত, ইত্যাদি। তবে মুশকিল হতো যখন এই সব ছাত্র  ছাত্রীদের সাক্ষাৎকার দেখে মা বলতো: "দেখেছিস, দাদা দিদিরা সব কতো পড়াশুনা করে, এমনি এমনি তো আর ভালো ফল হয় না।" তারপর দীর্ঘশ্বাস ফেলে যোগ করতো: "তোর যে কি হবে ?"

আমার অবশ্য এই সব দিনে 'ষোলো থেকে সতেরো ঘন্টা' পড়াশুনা করা দাদা দিদিদের দেখে মনে হতো -- এরা মানুষ না রোবোট বোঝা দায়। শুধুমাত্র ভালবাসার তাগিদেই এরা এতো পড়াশুনা করে নাকি অন্য কোনো কারণে ? আমার পরিচিত এক মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে স্ট্যান্ড করা ছেলের সম্বন্ধে শুনেছিলাম সে নাকি প্রাথমিক স্কুলে পড়াকালীন পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিলো বলে তার বাবা তাকে রাস্তায় জুতোপেটা করেছিলো। (জুতোপেটা করাটা যদি অতিরঞ্জন বলে আপনার মনে হয়ে থাকে, তাহলে নিজের পক্ষসমর্থন করে বলে রাখি এই অতিরঞ্জনের উৎস আমি নই -- যার কাছ থেকে আমি ঘটনাটি শুনেছি, দায়ী সেই ব্যক্তি।) অর্থাৎ খোঁজ নিলে হয়তো দেখা যাবে ভালো নম্বরের পেছনে পড়াশুনার প্রতি ভালবাসার সাথে ব্যর্থতার ভয়ও সমধিক ভাবে দায়ী।

এই প্রসঙ্গে অর্ণব রায়ের একটা বক্তৃতার কিছু অংশ মনে পড়ে গেলো। অর্ণব রায় কে? অর্ণব রায় একজন বিখ্যাত Blogger। ওনার ব্লগ "Random Thoughts of a Demented Mind" ২০০৬ ও ২০০৮ সালে Indiblog of the Year অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলো। মানে ওনার ব্লগ বহু লোকে নিয়মিত পড়ে থাকেন আর কি (আমার ব্লগের ক্ষেত্রে যে কথা প্রযোজ্য নয়)। উনি TEDX-এর অন্তর্গত একটি বক্তৃতা দিতে এসেছিলেন আইআইটিতে -- সেখানেই শোনা। তারিখটা ছিলো ০৬-০২-২০১। (সেদিন আবার আইআইটিতে একটি বুনো হাতিও ঢুকে পড়েছিলো, তবে সে কথা আপাতত থাক।)
অর্ণব রায় নাকি ছোটোবেলায় একবার বাবার কাছে গিয়ে বলেছিলেন যে উনি বড় হয়ে গাইয়ে হবেন -- শুনে বাবা বলেন, ঠিক আছে। কিছু দিন পর অর্ণব আবার বাবার কাছে গিয়ে বলেন উনি বড় হয়ে Break Dancer হবেন -- শুনে বাবা এবারও বলেন, ঠিক আছে। আরেকটু বড় হবার পর বাবা অর্ণবকে কাছে ডেকে উপদেশ দেন, গাইয়ে বা নাচিয়ে হয়ে বাঁচতে গেলে একজনকে সেই পেশায় শ্রেষ্ঠ হতে হয় কিন্তু একজন ইঞ্জিনিয়ার হলে সে সাধারণ মানের হলেও তার চলে যায়। এই অকাট্য যুক্তি শুনে অর্ণব বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হয় -- ওনার কথা শুনে আমারও মনে হয় যে আমিও সঠিক পেশাই বেছে নিয়েছি।

শেষ করবো একটা মজার ঘটনা দিয়ে যেখানে একটি প্রতিযোগিতায় প্রথমকে মনে না রেখে দর্শকরা অন্তিম স্থানাধিকারীকেই ভালোবেশে ফেলেছিলেন। ঘটনাটি ঘটিয়েছিলো আমার মামাতো দাদা। একদম নিচু ক্লাসের দৌড় প্রতিযোগীতা শুরু হয়েছে। নাদুসনুদুস হওয়ার দরুণ আমার মামাতো দাদা একটু পরেই বাকিদের থেকে পিছিয়ে পড়ে। প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারানোর উদ্দেশ্যে সে দৌড়তে দৌড়তে হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ে কাল্পনিক তীর ছুঁড়তে থাকে বাকি প্রতিযোগীদের দিকে তাক করে। এই দেখে তো সমস্ত দর্শক হেসে কুটোপাটি। আমার দাদাও ততক্ষনে মনে মনে শত্রুদের বধ করে বিজয়ীর হাসি হাসছে।