Wednesday, June 12, 2019

দাদা যখন ইঞ্জিনিয়ার তখন ভাই ডাক্তার হলে সেটাই বেশি মানায়। এরকম একটা মনোভাবের জন্যই বোধ করি আমার বাড়ি থেকে একটা চাপ ছিলো মেডিক্যাল পড়া নিয়ে। ক্লাস ইলেভেনে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণমিশনে ভর্তিও হই বায়োলজি অ্যাডিশনাল সাবজেক্ট নিয়ে। (পরে অবশ্য বহুবার মনে হয়েছে স্ট্যাটিসটিক্স নিলেই বেশি ভালো হতো।) ওয়েস্টবেঙ্গল জয়েন্টের রেজাল্ট বেরোনোর পর জানতে পারি মেডিক্যালে আমার যা রাঙ্ক হয়েছে তাতে এমবিবিএসে অ্যাডমিশন পাবো না তবে ডেন্টালে হয়ে যাবে। ডেন্টাল পড়ার ইচ্ছা আমার ছিলো না তাই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ঢুকে যাই। বাড়ি থেকে চাপ দিয়েছিলো কিছুদিন দ্বিতীয়বার জয়েন্ট দেওয়ার জন্য -- আরেকবার উঠে পড়ে লাগলে সেকেন্ড চান্সে এমবিবিএস নির্ঘাৎ হয়ে যাবে এই ভেবে হয়তো -- তবে আমি তাতে কান দিইনি।

আমার মাঝে মাঝে অলীক কল্পনা করে সময় নষ্ট করার অভ্যেস আছে -- আচ্ছা যদি জীবনে এরকমটা না হয়ে ওরকমটা হতো তাহলে কেমন হতো? যেমন ইঞ্জিনিয়ারিং না পড়ে ডাক্তারি পড়লে আজ আমার জীবন কেমন হতো? সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এনআরএস কাণ্ডের জন্য যাক এতদিনে একশো শতাংশ নিশ্চিত হলাম যে আমি তখন জয়েন্টের পর সঠিক ডিসিশনই নিয়েছিলাম।

Tuesday, June 11, 2019

ক্রিকেট বিশ্বকাপ নিয়ে বাজার এখন গরম। তাই এই সংক্রান্ত কিছু অসংলগ্ন কথা।

২০১৫ সাল:
আমি: কি জয়দা, ভারতের খেলা দেখছো না?
জয়দা: কার সাথে?
আমি: হায় ভগবান! পাকিস্তানের সাথে।
জয়দা: আসলে আজকাল এতো বেশি ক্রিকেট খেলা হচ্ছে যে ইন্টারেস্টটাই চলে গেছে ... তাও যদি বিশ্বকাপ হতো তো একটা কথা ছিলো।
আমি: এটা বিশ্বকাপেরই ম্যাচ।

জয়দার মতো ক্রিকেট খেলা নিয়ে এতোখানি নিরুৎসাহ আমি কোনোদিনই নই। তবে এখন আর সেই স্টুডেন্ট লাইফ নেই বলে আগেরবারের মতো ক্রিকেট বিশ্বকাপ ঘিরে সেরকম উত্তেজনা বোধ করছি না। তার উপর রোজ রোজ বৃষ্টি হয়ে পুরো মজাটাই মাটি হয়ে যাচ্ছে।

এবারের বিশ্বকাপে থার্ড আম্পায়ারের কমেন্ট্রি একটা বাড়তি প্রাপ্তি। আমার তো বেশ ভালোই লেগেছে। তা নইলে এতদিন থার্ড আম্পায়ার ব্যাটা যেন তেমন কিছু না করেই টাকা কামাচ্ছে এরকমটা মনে হতো।

দু'দিন আগের ইন্ডিয়া অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের স্কোর কার্ড যদি cricinfo জাতীয় কোনো সাইটে দেখেন তাহলে লক্ষ্য করবেন এই ম্যাচে দুটি ক্যাচ নিয়েছে রবীন্দ্র জাদেজা এবং একটি রান আউট করেছে শঙ্কর যারা বিকল্প ফিল্ডার হিসেবে মাঠে নেমেছিলো। বাংলা কাগজের স্কোরবোর্ডে কিন্তু এই বিকল্প ফিল্ডারদের নাম ছাপা হয় না -- শুধু লেখা থাকে "পরিবর্ত"। আনন্দবাজার পত্রিকায় এই পরিবর্ত নামটা প্রথম পড়েছিলাম বহুদিন আগে। কাকতালীয় ভাবে সেই ম্যাচে অনেকগুলি আউটের পাশে পরিবর্ত শব্দটি ছিলো। আমি ভেবেছিলাম ইন্ডিয়া টিমে কোনো নতুন খেলোয়াড় এসেছে যে দারুণ ফিল্ডার। তবে দুঃখের বিষয় বেচারি প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং বা বোলিং করার কোনো সুযোগ পায়নি।

Monday, June 10, 2019

একদিন ছোটবেলায় আমাদের সামনের বাড়িতে গিয়ে বলেছিলাম: "জেঠিমা, একবার তমুক বইটা দেবেন?" "জেঠিমা" তখন ঝাঁঝালো জবাব দিয়েছিলেন: "আমাকে জেঠিমা না, কাকিমা বলবি।" পাঠকরা যাতে আমার সেই জেঠিমা থুড়ি কাকিমার বয়সের একটা আন্দাজ পায় তাই জানিয়ে রাখি যে ওঁনার নাতি আমার সমবয়সী ছিলো। ফলে জনসমক্ষে বয়স কমানোর প্রবণতা যে সর্বজনীন সেটা প্রথম সেদিন অনুভব করেছিলাম। যদিও মহিলাদেরকেই বয়স সম্বন্ধে বেশি সংবেদনশীল আমরা ভেবে থাকি, পুরুষরাও এই বিষয়ে কিছু কম যান না। ওই কাকিমার স্বামী আমাকে পরে বলেছিলেন যে আমি তাঁকে "কাকু"ও ডাকতে পারি কিংবা ইচ্ছা করলে "মামু"ও ডাকতে পারি --  মোদ্দা কথা "জেঠু" ডাক নৈব নৈব চ।
তবে এই বয়স কমানোর প্রথার বিপরীত মনোভাব দেখেছিলাম আইআইটি খড়্গপুরে ভর্তি হয়ে। ওখানে হোস্টেলে আমার পরিচয় হয় রাকেশদার সাথে। সব সময় তার মধ্যে একটা গার্জেন গার্জেন ভাব। দেখলেই মনে হবে কাঁধে করে অ্যাটলাসের মতো গুরুদায়িত্ব বয়ে বেড়াচ্ছে। একবার হোস্টেলে স্পেশ্যাল মিলের দিন আমি খাবার শেষ করতে পারছি না দেখে বলেছিলো: "এই সামান্য খাবার খেতে তুই উল্টে যাচ্ছিস, তোর বয়সে তো আমরা লোহা চিবিয়ে হজম করে নিতাম।" যারা আমাকে দেখেছেন তারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন যে আমি খাবার শেষ করতে পারছি না মানে সেই খাবারের পরিমাণ নেহাৎ কম নয়। উপরন্তু রাকেশদার চেহারা আমার আদ্ধেক। আমি শুরুতে ভাবতাম রাকেশদা না জানি কতো বড়ো কিন্তু পরে জেনেছিলাম রাকেশদা আমার চেয়ে মোটে এক বছরের সিনিয়র। তবে কথায় বলে বাপেরও বাপ থাকে।
রাকেশদার বাপ ছিলো পার্থদা। আগেই জানিয়ে রাখি পার্থদা রাকেশদার চেয়ে মাত্র দুই বছরের বড়ো। একবার কথা কাটাকাটির সময় আমি দেখি পার্থদা রাকেশদাকে বলছে: "আমার সাথে বেশি লাগতে আসিস না। বাবা-মা সঠিক বয়সে বিয়ে দিলে আজকে তোর বয়সী আমার একটা ছেলে থাকতো, বুঝলি?!"