মিশন: পর্ব ৪
ওয়েস্ট বেঙ্গল বোর্ড এখন সিলেবাসে অনেক সংশোধন করেছে, পরীক্ষার ধরণও আর আগের মতো নেই -- আশা করি এই সব রদবদলের ফলে পড়াশুনার মান উন্নত হয়েছে। আমাদের সময়ে কিন্তু ওয়েস্ট বেঙ্গল বোর্ডের যথেষ্ট দুর্নাম ছিল কিছু কিছু সাবজেক্টের ক্ষেত্রে -- quantity over quality -- এই মত পোষণ করার জন্য। যেমন ধরুন, বাংলা বা ইতিহাস পরীক্ষায় যে যত বেশি পাতার খাতা জমা দেবে সে তত বেশি নম্বর পাবে, লেখার মান এই সব সাবজেক্টে অতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমার সেই অঙ্কের স্যার, সুকুমার রায়, এই নিয়ে একটা মজার গল্প বলতেন।
একজন ইতিহাসের পরীক্ষক পরীক্ষার খাতা ঘরে এনে একটা নিচু টুলের উপর রাখতেন, দিয়ে ছেলেকে ডেকে বলতেন: "অ্যাই পল্টু, একটা লাথি মেরে যা তো !" পল্টু একটু দূর থেকে ছুটে এসে সেই খাতার বান্ডিলে মারতো এক লাথি; এর ফলে যেই খাতাগুলো বেশি ভারি সেগুলি সামনে পড়ে থাকতো আর হালকা খাতাগুলি ছিটকে গিয়ে দূরে পড়তো। এভাবে খুব সহজেই সেই পরীক্ষক ওজনের উপর ভিত্তি করে খাতাগুলোকে আলাদা করে ফেলতেন; তারপর আর কি, খাতার স্থূলত্ব অনুযায়ই নম্বর জুটতো ছাত্র ছাত্রীদের ভাগ্যে।
এই পাতা ভরানোর জন্যে অনেক ছাত্র ছাত্রী কি করতো, উত্তরের শুরু আর শেষটা ঠিক রেখে মাঝখানে হাবিজাবি কিছু একটা লিখে দিত, "আমি আজ বাজারে গেছিলাম; আজ আলুর দর তিরিশ টাকা প্রতি কিলো, পটলের কুড়ি টাকা, ঝিঙের চল্লিশ টাকা" -- এ জাতীয় কিছু একটা আর কি। অনেক পরীক্ষকই প্রচুর খাতা চেক করতে গিয়ে উপর উপর চোখ বোলানোর বেশি আর কিছু করতেন না, তাই এই সকল ছাত্র ছাত্রীর মধ্যে কেউ কেউ, ভাগ্য ভালো থাকলে, এসব লিখে নম্বরও ভালো পেত।
মিশনে কিন্তু সব সাবজেক্টের খাতাই ভালো করে দেখতেন মাস্টারমশাইরা। ব্যতিক্রম ছিল একটি মাত্র বিষয় -- Indian Culture, সংক্ষেপে IC। যারা মিশনে পড়েননি তারা বোধহয় এই সাবজেক্টটির নামও শোনেননি। তাদের জন্যে বলছি, এই বিষয়ের ক্লাসে পড়ানো বিভিন্ন মহামানবের জীবনী, তাদের বাণী, (ছাত্রদের মতো করে লেখা) কিছু ধর্মগ্রন্থের নির্যাস, আধ্যাত্মিক দর্শন, ইত্যাদি। এই বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বর বাকি সাবজেক্টের নম্বরের সাথে যোগ করা হতো না ঠিকই, কিন্তু এই সাবজেক্টে পাস করা ছিল বাধ্যতামূলক। ছাত্রাবস্থায় সাবজেক্টটা কঠিন লাগার ফলেই হোক কিম্বা শুধুমাত্র পাস করার লক্ষ্য নিয়ে পড়াশুনা করার মানসিকতার ফলেই হোক, বেশির ভাগ ছাত্র পরীক্ষার হলে গিয়ে কি লিখবে ভেবে পেত না। স্বাভাবিক ভাবেই, খাতা ভরানোর উদ্দেশ্যে ছাত্রেরা মনের মাধুরী মিশিয়ে কিছু একটা উত্তর লিখে দিয়ে আসতো, এবং অধিকাংশ সময় পারও পেয়ে যেত।
একদিন গবা মহারাজ ক্লাসে এসে ছাত্রদেরকে বললেন: "তোদের বন্ধু 'অমুক' IC পরীক্ষায় কি লিখেছে শোন।"
প্রশ্নটা ছিল আমাদের গুরুদেব ও গুরুপত্নি উভয়েই বর্তমান এরকম একটা স্মরণীয় ঘটনা লিখতে হবে, এর উত্তরে 'অমুক' যা লিখেছিল তার খানিকটা অংশ উদ্ধৃত করে নীচে দিলাম:
"গুরুদেব গুরুপত্নিকে একান্তে ডেকে বললেন: 'আই লাভ ইউ।'
গুরুপত্নি কম্পিত কণ্ঠে উত্তর দিলেন: 'আই লাভ ইউ টু।' "
এই উত্তরটি পাঠ করার শেষে গবা মহারাজ বলেন: "তোরাই বল, আমি এখন কি করবো ?"
পিছনের বেঞ্চ থেকে একটি উত্তর আসে: "মহারাজ, ওর উত্তরটা আরেকবার পড়ে শোনাবেন !"
Courtesy: ছেলেটার ভালো নামটা এখন মনে পড়ছে না, তবে ওর ডাকনামটা আমরা দিয়েছিলাম "মাওবাদী"। এই নামকরণের ইতিহাস আর ওর কাছে শোনা অন্যান্য মিশনের গল্প পরে লিখবো'খন।
ওয়েস্ট বেঙ্গল বোর্ড এখন সিলেবাসে অনেক সংশোধন করেছে, পরীক্ষার ধরণও আর আগের মতো নেই -- আশা করি এই সব রদবদলের ফলে পড়াশুনার মান উন্নত হয়েছে। আমাদের সময়ে কিন্তু ওয়েস্ট বেঙ্গল বোর্ডের যথেষ্ট দুর্নাম ছিল কিছু কিছু সাবজেক্টের ক্ষেত্রে -- quantity over quality -- এই মত পোষণ করার জন্য। যেমন ধরুন, বাংলা বা ইতিহাস পরীক্ষায় যে যত বেশি পাতার খাতা জমা দেবে সে তত বেশি নম্বর পাবে, লেখার মান এই সব সাবজেক্টে অতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমার সেই অঙ্কের স্যার, সুকুমার রায়, এই নিয়ে একটা মজার গল্প বলতেন।
একজন ইতিহাসের পরীক্ষক পরীক্ষার খাতা ঘরে এনে একটা নিচু টুলের উপর রাখতেন, দিয়ে ছেলেকে ডেকে বলতেন: "অ্যাই পল্টু, একটা লাথি মেরে যা তো !" পল্টু একটু দূর থেকে ছুটে এসে সেই খাতার বান্ডিলে মারতো এক লাথি; এর ফলে যেই খাতাগুলো বেশি ভারি সেগুলি সামনে পড়ে থাকতো আর হালকা খাতাগুলি ছিটকে গিয়ে দূরে পড়তো। এভাবে খুব সহজেই সেই পরীক্ষক ওজনের উপর ভিত্তি করে খাতাগুলোকে আলাদা করে ফেলতেন; তারপর আর কি, খাতার স্থূলত্ব অনুযায়ই নম্বর জুটতো ছাত্র ছাত্রীদের ভাগ্যে।
এই পাতা ভরানোর জন্যে অনেক ছাত্র ছাত্রী কি করতো, উত্তরের শুরু আর শেষটা ঠিক রেখে মাঝখানে হাবিজাবি কিছু একটা লিখে দিত, "আমি আজ বাজারে গেছিলাম; আজ আলুর দর তিরিশ টাকা প্রতি কিলো, পটলের কুড়ি টাকা, ঝিঙের চল্লিশ টাকা" -- এ জাতীয় কিছু একটা আর কি। অনেক পরীক্ষকই প্রচুর খাতা চেক করতে গিয়ে উপর উপর চোখ বোলানোর বেশি আর কিছু করতেন না, তাই এই সকল ছাত্র ছাত্রীর মধ্যে কেউ কেউ, ভাগ্য ভালো থাকলে, এসব লিখে নম্বরও ভালো পেত।
মিশনে কিন্তু সব সাবজেক্টের খাতাই ভালো করে দেখতেন মাস্টারমশাইরা। ব্যতিক্রম ছিল একটি মাত্র বিষয় -- Indian Culture, সংক্ষেপে IC। যারা মিশনে পড়েননি তারা বোধহয় এই সাবজেক্টটির নামও শোনেননি। তাদের জন্যে বলছি, এই বিষয়ের ক্লাসে পড়ানো বিভিন্ন মহামানবের জীবনী, তাদের বাণী, (ছাত্রদের মতো করে লেখা) কিছু ধর্মগ্রন্থের নির্যাস, আধ্যাত্মিক দর্শন, ইত্যাদি। এই বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বর বাকি সাবজেক্টের নম্বরের সাথে যোগ করা হতো না ঠিকই, কিন্তু এই সাবজেক্টে পাস করা ছিল বাধ্যতামূলক। ছাত্রাবস্থায় সাবজেক্টটা কঠিন লাগার ফলেই হোক কিম্বা শুধুমাত্র পাস করার লক্ষ্য নিয়ে পড়াশুনা করার মানসিকতার ফলেই হোক, বেশির ভাগ ছাত্র পরীক্ষার হলে গিয়ে কি লিখবে ভেবে পেত না। স্বাভাবিক ভাবেই, খাতা ভরানোর উদ্দেশ্যে ছাত্রেরা মনের মাধুরী মিশিয়ে কিছু একটা উত্তর লিখে দিয়ে আসতো, এবং অধিকাংশ সময় পারও পেয়ে যেত।
একদিন গবা মহারাজ ক্লাসে এসে ছাত্রদেরকে বললেন: "তোদের বন্ধু 'অমুক' IC পরীক্ষায় কি লিখেছে শোন।"
প্রশ্নটা ছিল আমাদের গুরুদেব ও গুরুপত্নি উভয়েই বর্তমান এরকম একটা স্মরণীয় ঘটনা লিখতে হবে, এর উত্তরে 'অমুক' যা লিখেছিল তার খানিকটা অংশ উদ্ধৃত করে নীচে দিলাম:
"গুরুদেব গুরুপত্নিকে একান্তে ডেকে বললেন: 'আই লাভ ইউ।'
গুরুপত্নি কম্পিত কণ্ঠে উত্তর দিলেন: 'আই লাভ ইউ টু।' "
এই উত্তরটি পাঠ করার শেষে গবা মহারাজ বলেন: "তোরাই বল, আমি এখন কি করবো ?"
পিছনের বেঞ্চ থেকে একটি উত্তর আসে: "মহারাজ, ওর উত্তরটা আরেকবার পড়ে শোনাবেন !"
Courtesy: ছেলেটার ভালো নামটা এখন মনে পড়ছে না, তবে ওর ডাকনামটা আমরা দিয়েছিলাম "মাওবাদী"। এই নামকরণের ইতিহাস আর ওর কাছে শোনা অন্যান্য মিশনের গল্প পরে লিখবো'খন।