Tuesday, June 30, 2015

প্রতিভা আর ফুস্কুড়ি নাকি চেপে রাখা যায় না -- এক গুরুজনের মুখে শুনেছি। বাল্যকালেই প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন এমন মনীষীর উদাহরণ অনেক আছে। বিশিষ্ট বৈজ্ঞানিকদের ছোটবেলাকার কৌতুহলজনিত বেশ কিছু কৌতুককর ঘটনা বড়দের কাছে গল্প হিসেবে শুনেছি বা বইয়ে পড়েছি। যেমন টমাস এডিসন ছোটবেলায় নিজের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী এই সিদ্ধান্তে পৌঁছে ছিলেন যে পাখিরা পোকা খায় বলেই পাখিরা উড়তে পারে। এরপর নিজের পর্যবেক্ষণ হাতে নাতে প্রমাণ করবেন বলে নিজের এক শিক্ষিকাকে জলে পোকা গুলে খাওয়াবার প্রচেষ্টা করেছিলেন। (খেয়াল করবেন এক্সপেরিমেন্টটা নিজের উপর না করে অপরের উপর করার মধ্যেও কিন্তু যথেষ্ট বুদ্ধির ছাপ আছে যা হলিউড এবং বলিউডের প্রচুর কল্পবিজ্ঞানভিত্তিক সিনেমার হিরোদের ভেতর দেখা যায় না।) এরপর একবার তিনি রাজহাঁসের একটি ডিমের উপর বসে সেটিকে বহুক্ষণ তা দিয়েছিলেন, ডিম থেকে কি ভাবে বাচ্চা বের হয় তার চাক্ষুস জ্ঞান লাভ করার উদ্দেশ্যে।
মজার ব্যাপার হলো আমাদের ডিপার্টমেন্টের এক তরুণ গবেষকও ছোটবেলায় একবার ডিমের উপর বসে এই একই এক্সপেরিমেন্ট করেছিল, তফাৎ শুধু ডিমটা রাজহাঁসের না হয়ে মুরগির ছিলো। আর একটা ছোট পার্থক্য বোধহয় আছে এডিসন আর এই ছেলেটির এক্সপেরিমেন্টের মধ্যে, এক্সপেরিমেন্ট শেষ করার পর ছেলেটির মা তাকে প্যান্ট "হলুদ" করার জন্যে ভীষণ বকেছিল; এই সম্বন্ধে এডিসনের মায়ের প্রতিক্রিয়া অবশ্য আমাদের জানা নেই। তবে বলাই বাহুল্য, এই বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ছেলেটি এডিসনের থেকে জেনে তারপর করেনি, সে সহজাত ভাবেই এই গবেষণায় ব্রতী হয়েছিলো। তাই আমাদের বিশাল আশা এই ছেলেও একদিন এডিসনের মতো বিখ্যাত হবে।

আমাদের ডিপার্টমেন্টের তরুণ গবেষকদের কথা যখন উঠলো তখন আরেক প্রতিভাধর ছাত্রের একটা ছোট ঘটনা বলি। নেপালের প্রথম ভূমিকম্পের সময় সে হোস্টেলে নিজের রুমে ছিলো। স্বাভাবিকভাবেই ভূমিকম্পের সময় তার প্রথমেই মনে হলো যে তার বোধহয় ভীষণ শরীর খারাপ হয়েছে আর তাই তার মাথা ঘুরছে। তাই আর অগ্রপশ্চাৎ বিবেচনা না করে টুক করে সে একটা প্যান ফর্টির ট্যাবলেট গিলে নিল। পরে ভূমিকম্প হয়েছে শুনে সে কিছুটা আনন্দ আর কিছুটা দুঃখ পায়। অন্যান্য ওষুধ থাকতে হঠাৎ প্যান ফর্টি খাওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলে পর সে জানায় তার সমস্ত রোগই নাকি প্যান ফর্টি খেলে সেরে যায়, অর্থাৎ প্রোফেসর শঙ্কুর ভাষায় প্যান ফর্টি হলো তার "মিরাকিউরল"।

Monday, June 29, 2015

নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে অজ্ঞতার জন্যে আমাদের প্রত্যেকের ভেতর আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহারপ্রণালী নিয়ে কম বেশি ভীতি থাকে। আমি নিজেই যেমন গাড়ির সামনে বসে প্রথমবার সিট্ বেল্ট এমন ভাবে বেঁধেছিলাম যা অভিনব ছিলো, সাথে হাস্যকরও। এই প্রসঙ্গে আরো দুটো ছোট ঘটনা বলি।

তখন সবে ল্যান্ড লাইন লোকজনের বাড়িতে ঢুকতে শুরু করেছে। এরকম সময় একবার লোডশেডিং চলাকালীন ফোনের রিং হওয়ায় আমার এক পিসী সেটিকে রীতিমত ভৌতিক ঘটনা বলে ঠাওরায়, আসলে তখন পিসীর ধারণা ছিলো অন্যান্য অনেক যন্ত্রপাতির মতো ফোনও ইলেকট্রিকে চলে।

দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটিয়ে ছিলো আইআইটির ইলেকট্রিক্যাল ডিপার্টমেন্টের এক কর্মচারী। বহুদিন আগের ঘটনা, এক ছাত্র ইলেকট্রিক্যাল ডিপার্টমেন্টের অফিসে গেছে এক পাতা প্রিন্ট নেবে বলে। তখন অফিসে শুধু এই কর্মচারীটিই ছিলো। সে ছাত্রটিকে প্রিন্ট দেওয়া যাবে না বলে জানায়। ছাত্রটি বলে সে আইআইটির ইলেকট্রিক্যাল ডিপার্টমেন্টের স্টুডেন্ট হওয়ার দরুণ অফিস থেকে প্রিন্ট নেওয়ার অধিকার তার আছে। ছাত্রটির উত্তর শুনে কর্মচারীটি ঘাবড়ে গিয়ে সত্যি কথাটা ফাঁস করে দেয়: অফিসের (একমাত্র) প্রিন্টারটিতে কেউ একজন ২৬৬ পাতা প্রিন্ট দিয়ে চলে গেছে, এদিকে অফিসে অত পাতা নেই। ছাত্রটি জানায় যে এটা কোনো সমস্যাই নয় ওই pending job-টাকে cancel করে দিলেই চলবে। ছাত্রটির কথায় কর্মচারীটির বিশ্বাস হয়না, সে জানায় যে এভাবে job cancel করলে প্রিন্টারের বিশেষ ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা থাকে। তাই সে নিজেই বুদ্ধি করে একটা পাতা জোগাড় করে সেই একটা পৃষ্ঠাতেই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ২৬৬ পাতা প্রিন্ট নেয়।

----------------

এই সংক্রান্ত আরেকটা ঘটনা মনে পড়ে গেলো। বিটেকের প্রথম বর্ষে আমার এক বন্ধু আরেক বন্ধুকে (ইয়ার্কি করে) শিখিয়েছিলো যে সিডি যেদিক করে ঢুকিয়ে ভিডিও গেম ইনস্টল করতে হয় তার উল্টো দিক করে সিডিটা ঢুকিয়ে গেমটা খেলতে হয়। দ্বিতীয় বন্ধুটি কিন্তু অজ্ঞানতা বশতঃ ভেবেছিলো এরকমটাই বুঝি নিয়ম, মানে ক্যাসেটের যেমন দুদিকেই গান থাকে খানিকটা সেরকম। 

Sunday, June 28, 2015

মেয়েটির বিয়ে হয়েছে বেশ কিছু দিন। বিয়ের পর থেকে প্রায় যোগাযোগ নেই এরকম এক ছোটবেলার বান্ধবী ফোন করেছে। এতদিন পরেও ফোনে কথা বলতে বলতে বাল্যকালের সখ্যতা আবার জমে উঠেছে। বান্ধবীটি এক এক করে মেয়েটির বাবা, মা, স্বামী, শ্বশুর প্রত্যেকের কুশল সংবাদ জিজ্ঞাসা করার পর শাশুড়ী ভালো আছেন কিনা জিজ্ঞাসা করলে পর মেয়েটি উত্তর দেয়: "হ্যাঁ, ভালো আছেন। তবে কিনা -- সব ভালো যার শেষ ভালো -- বুঝলি?"

Monday, June 22, 2015

নবদম্পতিটির যে পতি তার বর্তমানে দম ফেলার ফুরসৎ নেই। ইদানিং সে অফিসে হাজিরা দেয় বারোটা থেকে দুটো আর তিনটে থেকে পাঁচটা। আপাতত দিনে এই চার ঘন্টা বিশ্রামই তার জন্যে বরাদ্দ।

Friday, June 19, 2015

এক গ্রামে একটা মেয়ের উপর ভূতের ভর হয়েছে। মেয়েটি হাতের সামনে যা পাচ্ছে তাই ছুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলে দিচ্ছে। অবস্থা সামাল দিতে পাশের গ্রাম থেকে এক ওঝাকে ডেকে আনা হলো। অনেক চেষ্টাচরিত্র করেও সেই ওঝা মেয়েটাকে সুস্থ করে তুলতে পারলো না। অবশেষে হাল ছেড়ে দিয়ে সে বললো যে মেয়েটার উপর আসলে ভূতের নয় পেত্নীর ভর হয়েছে তাই এই সমস্যার সমাধান কোনো মহিলা ওঝার পক্ষেই সম্ভব। চারদিকে মহিলার ওঝার খোঁজ শুরু হয়ে গেলো কিন্তু বহু খোঁজাখুঁজি করেও কোথাও মহিলা ওঝা পাওয়া গেলো না। পাওয়া যাবে কি করে? পুরো সমাজটাই তো পুরুষ-তান্ত্রিক।

অনেকদিন আগে রাজীব ব্যানার্জ্জী নামক মীরাক্কেলের এক প্রতিযোগীর মুখে এই জোকটা শুনেছিলাম। সত্যি, আজও নারী পুরুষের প্রভেদ সর্বত্র প্রতীয়মান। কিন্তু নারী পুরুষের মধ্যে এই পার্থক্যকারী রেখাটি কোথায় সবচেয়ে বিরল বলুন তো? আমার তো মনে হয় ক্লাস ফোর-ফাইভ-সিক্সের ইতিহাস বইয়ের পাতায়। শুনে অবাক হচ্ছেন, তাহলে আরেকটু খোলসা করে বলি।

যে কোনো ক্লাস ফোর-ফাইভ-সিক্সের বাচ্চার ইতিহাস বইয়ের পাতা উল্টে দেখুন -- দেখবেন নারী পুরুষ নির্বিচারে প্রত্যেক ব্যক্তির ছবিতে এক মুখ দাড়ি। সে (প্রায়) মাকুন্দ চেঙ্গিস খানই হোক, পরাক্রমী রানি লক্ষ্মীবাঈ বা সুন্দরী মমতাজ, সবারই গালে শোভা পাচ্ছে একরাশ দাড়ি-গোঁফ। কেউ কেউ অবশ্য মানানসই হবে বিচার করে গৌতম বুদ্ধের মুখে ফ্রেঞ্চকাট বসিয়ে দেয়, সাথে হয়তো ডান গালে একটা বড় আঁচিল। মোদ্দা কথা, (আমার ধারণা) নীচু ক্লাসে ইতিহাসের পড়া শোনার চেয়ে শ্মশ্রু-গুম্ফ অঙ্কন শিল্পেই ছাত্র ছাত্রীদের মনোযোগ থাকে বেশি। এ বোধ হয় একধরণের বয়সোচিত মহামারী এবং শিশু বলেই এদের ভেতর কোনো বৈষম্য নেই।

Thursday, June 18, 2015

হিন্দু সমাজের অবক্ষয়ের পেছনে ব্রাহ্মণদের অবদান কতখানি সেই নিয়ে দুপুরে মেস সরগরম।  ব্রাহ্মণসন্তান হিসেবে আমারও কিছু বক্তব্য রাখা উচিৎ মনে করে আমি সকলের দৃষ্টি ব্রাহ্মণদের এমন একটি কৃতিত্বের প্রতি আকর্ষণ করলাম যা অন্যান্য কোনো ধর্মযাজক করে উঠতে পারেনি।
প্রত্যেক ধর্মের ভিত্তিই হচ্ছে মানুষের পাপ পুণ্যের হিসেব করা এবং সেই অনুযায়ী পুরস্কার বা শাস্তি প্রদান। তাই স্বভাবতই এই পাপ পুণ্যের যদি একটি মাপকাঠি নির্ধারণ করা যায় যাতে সহজে লঘু গুরু প্রভেদ করা সম্ভব, তাহলে সত্যিই একটি বড় জনহিতকর কার্য হয়। আপাতদৃষ্টিতে এই কার্য অসাধ্য বলে মনে হলেও আমাদের অগ্রজ ব্রাহ্মণেরা ঠিক এই কাজটাই করে দেখিয়েছেন এবং এই মাপকাঠির একক এমন একটি বস্তু যাতে কম বেশি ধার্য করা অতি সহজসাধ্য: "মূল্য"।
বাড়িতে অনুষ্ঠান নিয়মনিষ্ঠ ভাবে করতে পারছেন না? কোনো ব্যাপার না, অমুক মূল্য দিলেই চলবে। সমস্ত আচার মেনে পূর্বপুরুষের শ্রাদ্ধ্যশান্তি করার সঙ্গতি নেই? ঠিক আছে, তমুক মূল্য দিলেই সুলভে উদ্ধারের পথ বাৎলে দেওয়া যাবে'খন। কি বললেন, একেবারে পুরো টাকা জোগাড় করতে পারছেন না? ও.কে. বস, আজকালকার ইএমআই-এর যুগে এটা কোনো সমস্যাই নয় -- কিছু সহজ কিস্তিতে শোধ করে দিন পিতৃ ঋণ। দস্তুরমতো অনুষ্ঠান আয়োজন করার মতো সময় বা ইচ্ছের অভাব? কুছ পরোয়া নেহি, আপনাদের মতো busy মানুষদের কথা মাথায় রেখেই সঠিক মূল্যের প্যাকেজ রয়েছে এর সমাধান হিসেবে।
এরপর এই মূল্যের অঙ্কটা দেখে একটা বাচ্চাও পাপ পুণ্যের খতিয়ান করে দিতে পারবে।

Wednesday, June 10, 2015

ম্যাগি ব্যান হয়ে যাওয়ায় এক মর্মাহত ব্যক্তির মন্তব্য: "যাঃ, রান্না জানি কিনা জিজ্ঞেস করলে একটাই রান্নার নাম বলতে পারতাম -- সেটাও ভগবানের সইল না।"

যদিও এই মন্তব্য আমার নয় তবুও পাঠকগণ নিজেদের সুবিধার্থে বক্তার জায়গায় আমার চেহারাটা কল্পনা করে নিতেই পারেন।