প্রতিভা আর ফুস্কুড়ি নাকি চেপে রাখা যায় না -- এক গুরুজনের মুখে শুনেছি। বাল্যকালেই প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন এমন মনীষীর উদাহরণ অনেক আছে। বিশিষ্ট বৈজ্ঞানিকদের ছোটবেলাকার কৌতুহলজনিত বেশ কিছু কৌতুককর ঘটনা বড়দের কাছে গল্প হিসেবে শুনেছি বা বইয়ে পড়েছি। যেমন টমাস এডিসন ছোটবেলায় নিজের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী এই সিদ্ধান্তে পৌঁছে ছিলেন যে পাখিরা পোকা খায় বলেই পাখিরা উড়তে পারে। এরপর নিজের পর্যবেক্ষণ হাতে নাতে প্রমাণ করবেন বলে নিজের এক শিক্ষিকাকে জলে পোকা গুলে খাওয়াবার প্রচেষ্টা করেছিলেন। (খেয়াল করবেন এক্সপেরিমেন্টটা নিজের উপর না করে অপরের উপর করার মধ্যেও কিন্তু যথেষ্ট বুদ্ধির ছাপ আছে যা হলিউড এবং বলিউডের প্রচুর কল্পবিজ্ঞানভিত্তিক সিনেমার হিরোদের ভেতর দেখা যায় না।) এরপর একবার তিনি রাজহাঁসের একটি ডিমের উপর বসে সেটিকে বহুক্ষণ তা দিয়েছিলেন, ডিম থেকে কি ভাবে বাচ্চা বের হয় তার চাক্ষুস জ্ঞান লাভ করার উদ্দেশ্যে।
মজার ব্যাপার হলো আমাদের ডিপার্টমেন্টের এক তরুণ গবেষকও ছোটবেলায় একবার ডিমের উপর বসে এই একই এক্সপেরিমেন্ট করেছিল, তফাৎ শুধু ডিমটা রাজহাঁসের না হয়ে মুরগির ছিলো। আর একটা ছোট পার্থক্য বোধহয় আছে এডিসন আর এই ছেলেটির এক্সপেরিমেন্টের মধ্যে, এক্সপেরিমেন্ট শেষ করার পর ছেলেটির মা তাকে প্যান্ট "হলুদ" করার জন্যে ভীষণ বকেছিল; এই সম্বন্ধে এডিসনের মায়ের প্রতিক্রিয়া অবশ্য আমাদের জানা নেই। তবে বলাই বাহুল্য, এই বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ছেলেটি এডিসনের থেকে জেনে তারপর করেনি, সে সহজাত ভাবেই এই গবেষণায় ব্রতী হয়েছিলো। তাই আমাদের বিশাল আশা এই ছেলেও একদিন এডিসনের মতো বিখ্যাত হবে।
আমাদের ডিপার্টমেন্টের তরুণ গবেষকদের কথা যখন উঠলো তখন আরেক প্রতিভাধর ছাত্রের একটা ছোট ঘটনা বলি। নেপালের প্রথম ভূমিকম্পের সময় সে হোস্টেলে নিজের রুমে ছিলো। স্বাভাবিকভাবেই ভূমিকম্পের সময় তার প্রথমেই মনে হলো যে তার বোধহয় ভীষণ শরীর খারাপ হয়েছে আর তাই তার মাথা ঘুরছে। তাই আর অগ্রপশ্চাৎ বিবেচনা না করে টুক করে সে একটা প্যান ফর্টির ট্যাবলেট গিলে নিল। পরে ভূমিকম্প হয়েছে শুনে সে কিছুটা আনন্দ আর কিছুটা দুঃখ পায়। অন্যান্য ওষুধ থাকতে হঠাৎ প্যান ফর্টি খাওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলে পর সে জানায় তার সমস্ত রোগই নাকি প্যান ফর্টি খেলে সেরে যায়, অর্থাৎ প্রোফেসর শঙ্কুর ভাষায় প্যান ফর্টি হলো তার "মিরাকিউরল"।