Saturday, October 31, 2015

আজ থেকে প্রায় চৌত্রিশ পঁয়ত্রিশ বছর কি আরও আগেকার ঘটনা, বাবা সবে চাকরিতে ঢুকেছে। একদিন রাস্তায় এক পুরনো বন্ধুর সাথে দেখা হয়ে যায়।
বন্ধু: "কি রে, তুই তো গত মাসে চাকরিতে ঢুকেছিস শুনলাম। তা, প্রথম মাসের মাইনে পেয়ে কি কিনলি?"
বাবা: "তেমন কিছু না, নিজের জন্যে অ্যাম্বাসেডর কিনেছি।"
বন্ধুর চক্ষু চড়কগাছ: "বলিস কি ! একেবারে অ্যাম্বাসেডর কিনে ফেললি?"
বাবা: "হ্যাঁ, অ্যাম্বাসেডর জোড়া বেশ ভালো।"
বন্ধু (সন্দিগ্ধ ভাবে): "অ্যাম্বাসেডর জোড়া?"
বাবা: "হ্যাঁ, বাটা একটা নতুন ব্র্যান্ড বার করেছে না ! জুতো জোড়া বেশ আরামের।"
বন্ধু (স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে): "ও, তাই বল !"
___________

আজ থেকে প্রায় দু' তিন বছর আগেকার কথা। আমি হন্তদন্ত হয়ে হোস্টেলের রুমে ঢুকছি।
পাশের রুমের বন্ধু: "কি রে, এত তাড়াহুড়ো করে কোথা থেকে ফেরা হচ্ছে?"
আমি: "হংকং থেকে।"
বন্ধুর চক্ষু চড়কগাছ: "উরিব্বাস, হংকং ! কিসে করে ফিরলি?"
আমি: "সাইকেল চালিয়ে।"
বন্ধু (সন্দিগ্ধ ভাবে): "সাইকেল চালিয়ে -- মানে?"
আমি: "আইআইটির প্রেমবাজার গেট দিয়ে বেরিয়ে তিন চার কিলোমিটার গেলে একটা "হংকং" নাম রেস্টুরেন্ট আছে না ! সেটায় গেছিলাম।"
বন্ধু (স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে): "ও, তাই বল।"

(প্রজন্ম বদলেছে মানসিকতা বদলায়নি।)

Friday, October 30, 2015

লেখক: পর্ব ৬

সম্প্রতি আমেরিকা থেকে আমাদের ল্যাবের বড়বাবু বেঙ্গালুরুতে এসেছিলেন। ইনি প্রবাসী ভারতীয় উপরন্তু ছোটবেলাটা কোলকাতায় কাটানোর ফলে বাংলাটাও ভালো বোঝেন। হাসি মস্করা করার অভ্যাসটাও আছে। এই বছর আবার ভারতে আমাদের ল্যাবের পাঁচ বছর পূর্তি হলো। সেই উপলক্ষে এক বিলাসবহুল হোটেলে একটা ছোট ফাংশন এবং খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা ছিল। ফাংশন বলতে বড় কিছু নয়, ফাংশনের পারফর্মার এবং দর্শক প্রত্যেকেই আমাদের ল্যাবের সদস্য অথবা তাদের পরিবারবর্গ। ইতিমধ্যে অফিসের ক্যান্টিনে মাঝে মাঝে আমার ব্লগের কিছু হাসির গল্প বলে থাকায় লোকজনের ধারণা হয়েছিল আমি বোধহয় একজন ভালো কমেডিয়ান তাই সবাই মিলে অনুরোধ করলো ফাংশনে কিছু জোকস বলার জন্য। আমি তো জীবনে কখনো মঞ্চে উঠে স্ট্যান্ড আপ কমেডি জাতীয় কিছু করিনি তবুও উপরোধে ঢেঁকি গিলতে হলো। ব্লগের কিছু টুকরো টুকরো গল্প জোড়াতালি দিয়ে ম্যানেজ করতে প্রস্তুত হলাম। তারই সামান্য নিদর্শন নিচে দেওয়া হলো।

আইআইটি খড়্গপুরের সঙ্গে আমার সম্পর্ক গত ছ'বছরের হলেও খড়্গপুরের সঙ্গে আমার সম্পর্ক কিন্তু প্রায় জন্ম থেকেই। যতবার মামাবাড়ি বাঁকুড়ায় যেতাম ততবার এই খড়্গপুরের উপর দিয়েই যেতে হতো। ছোটবেলায় এই স্টেশনটার নাম কেন "খড়্গপুর জং" সেই নিয়ে ভীষণ কৌতুহল ছিল -- "জং" মানে তো হিন্দীতে "যুদ্ধ", এমন অদ্ভুত নাম স্টেশনটার কে দিল? পরে জানতে পেরেছি "জং" হচ্ছে "জংশন"-এর ক্ষুদ্র রূপ। তারও পরে আইআইটি খড়্গপুরে ঢুকে উপলব্ধি করেছি যিনি এই স্টেশনটির নামকরণ করেছেন তিনি সত্যিই বিচক্ষণ ব্যক্তি। একজন ছাত্রকে আইআইটি খড়্গপুরে ঢুকে প্রথমেই যে যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হয় তা হচ্ছে হোস্টেলের খাবার খেয়ে বেঁচে থাকার লড়াই। এখানকার খাবারের কোয়ালিটি অসাধারণ ভাবে বর্ণনা করেছে ফেসবুকের একটা পোস্ট। এই পোস্টটিতে উপরে একটি ছবি আছে, নিচে আরেকটি। উপরের ছবিতে দেখা যাচ্ছে 300 (থ্রি হান্ড্রেড) সিনেমার নায়ক লিওনাইডাস চিৎকার করে বলছেন: "Tonight we dine in hell !" এই শুনে নিচের ছবিতে এক আইআইটি খড়্গপুরের ছাত্রের মন্তব্য: "ও আচ্ছা, আজ রাতে আমাদের হোস্টেলে খেতে আসছেন বুঝি?"

বলাই বাহুল্য, আমার জোকগুলি শুনে দু-একজন দর্শক সৌজন্যতামূলক হাসি উপহার দিয়েছেন মাত্র। তবে এই প্রসঙ্গে একটা তথ্য জানিয়ে রাখি যেটা আমি অনুষ্ঠান শেষে এক দর্শকের কাছ থেকে জানতে পারি: কোনো এক আইআইটি খড়্গপুরের প্রাক্তনী তিহার জেল থেকে ঘুরে এসে জানায় যে তিহার জেলের খাবারও আমাদের হোস্টেলের চেয়ে ভাল। (এই প্রাক্তনীটির পরিচয় সেই দর্শক আমাকে না জানালেও সেটা যে অরবিন্দ কেজরিওয়াল নন এটুকু তিনি জানিয়েছেন।)

Tuesday, October 27, 2015

রাস্তায় গুঁতোগুঁতি ঠেলাঠেলি কিচ্ছু নেই। স্বেচ্ছাসেবকদের লাঠি হাতে তদারকি, দাদাগিরি নেই। যানবাহন সমস্ত স্বাভাবিক গতিতে চলছে। এমনকি শব্দদূষণ বায়ুদুষণ পর্যন্ত অন্যান্য দিনের মতো। নাঃ, এবারে দুর্গাপুজোটা সেভাবে এনজয় করতে পারলাম না। তবু এবছরে বেঙ্গালুরুতে এক সিনিয়র, কিছু ব্যাচমেট, আকস্মিক ভাবে দেখা হয়ে যাওয়া এক (সস্ত্রীক) পুরনো বন্ধু ও তাদের কিছু বন্ধুদের সাথে সময় কাটিয়ে বেশ ভালো লাগলো। পুরনো রুমমেটের গাড়িতে পঞ্চাশ মাইল ঘুরে সাতটা ঠাকুর দেখা হলো। প্যান্ডেলে ঠাকুর দেখার চেয়ে বাঙালিদের খাবারের স্টলের সামনে বেশি ভিঁড় করতে দেখে খানিক নস্টালজিক হয়ে পড়লুম। কোলকাতার তুলনায় গলাকাটা দাম হলেও নস্টালজিয়া কাটানোর জন্যে আমিও খাবারের দোকানে লাইন দিলাম। উলসুর লেকের ধারে দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলে দেখি আবার কোলকাতা বুক সেলার্স গিল্ডের তরফ থেকে একটা বাংলা বইয়ের স্টল দিয়েছে। আমি তো আর নিজেকে আটকে রাখতে না পেরে কয়েকখান বইও কিনে ফেললুম। আপাতত দিনগুলো বাংলা বই পড়ে দারুণ কাটছে।

এবার একটা ইন্টারেস্টিং তথ্য জানাই -- সম্প্রতি "নির্বাচিত ত্রৈলোক্যনাথ" বইটি পড়ে জেনেছি। "যমালয়ে জীবন্ত মানুষ" সিনেমাটা নিশ্চয়ই সবাই দেখেছেন। এই সিনামাটির কাহিনীকার "প্রফুল্ল চক্রবর্তী" -- যিনি এই সিনেমাটির নির্দেশকও। তবে ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়ের "নয়নচাঁদের ব্যবসা" গল্পটির সাথে এই সিনেমার গল্পের অদ্ভুত মিল আছে। এখানেও এক জীবন্ত বাঙালিকে যমদূতেরা যমালয়ে নিয়ে আসে, মালিকের নির্দেশে এক প্রকান্ড ষাঁড় যমরাজ ও চিত্রগুপ্তকে যমপুরী থেকে বিষ্ণুলোকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায় এবং আরো কিছু অতিশয় মিল আছে যা কাকতালীয় বলে মেনে নেওয়া কঠিন। কখনো এই গল্পটি হাতের কাছে পেলে অবশ্যই পড়ে দেখবেন।

Thursday, October 15, 2015

মিশন: পর্ব ৫

এবারের গল্প "ভন্ড"-দা কে ঘিরে। এহেন নামকরণের ইতিহাস আমার জানা নেই তবে ভন্ডদা যে সর্বত্র "ভন্ড" নামেই পরিচিত ছিল এটা বেশ মনে আছে। এই কারণে ভন্ডদার আসল নামটা যে কি সেটা আজ আর শত চেষ্টা করেও মনে করতে পারছি না।
আমি যে বছর মিশনে ক্লাস ইলেভেনে ভর্তি হই, সে বছর ভন্ডদাও মিশনে কলেজের ফার্স্ট ইয়ারে ঢোকে। আমাদের দুজনেরই গৌরাঙ্গ ভবনে থাকার ব্যবস্থা হয়। যারা জানেন না তাদের বলে রাখি মিশনে hall কে ভবন বলাটাই রীতি।
কিছুদিনের মধ্যেই ভন্ডদা আমাদের ভবনের সুপারিনটেনডেন্ট মহারাজকে ম্যানেজ করে পাকাপাকি ভাবে ভবনের খাদ্য পরিবেশনকারী হয়ে ওঠে। এক্ষণে এই "খাবার পরিবেশনকারী" ব্যাপারটা একটু খোলসা করে বলা উচিৎ। আমাদের ভবনে প্রত্যেক সপ্তাহে দুটো করে রুমের অর্থাৎ মোট আটজন করে ছাত্রের উপর বাকি সমস্ত ছাত্রকে খাবার পরিবেশন করার দায়িত্ব পড়তো। কাজটা যদিও খানিক পরিশ্রমের তবুও আমরা সবাই এই দায়িত্ব পালন করার জন্যে উন্মুখ হয়ে থাকতাম কারণ পরিবেশন শেষে যেখানে অন্যান্য ছাত্ররা এক পিশ করে মাছ পেত সেখানে পরিবেশনকারীরা পেত দুপিশ মাছ তাছাড়া যেদিন ধরুন পায়েস হয়েছে সেদিন পরমান্নের অংশ জুটতো সাধারণের জন্যে বরাদ্দ অংশের চেয়ে সামান্য বেশি -- সেটাই ছিল আমাদের কাছে বিশাল বড় পাওনা।
তো, এই ভন্ডদা পাকাপাকি ভাবে খাদ্য পরিবেশনকারী হয়ে ওঠায় সে অনেকের কাছেই ঈর্ষার পাত্র হয়ে ওঠে। এর ফলে যেদিন ভন্ডদা সুপারিনটেনডেন্ট মহারাজের অনুগ্রহ থেকে পতিত হয় সেদিনটা আমাদের ভবনের অনেকের কাছেই ছিল সেলিব্রেশনের দিন। আর ঘটনাটা ঘটেও ছিল এক শুভ লগ্নে: ভগবান গৌরাঙ্গের পুণ্য জন্মতিথিতে।
সেদিন ভগবান গৌরাঙ্গের জন্মতিথি উপলক্ষে সকাল থেকেই আমাদের ভবনে বিশেষ তোড়জোড় চলছে। দিন শেষে ভবনের কমন রুমে একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বক্তৃতা, আলোচনা, গৌরাঙ্গের জীবনীপাঠ, ইত্যাদির শেষে ভবনের সুপারিনটেনডেন্ট মহারাজ ঘোষণা করলেন যে ভবনের কোনো ছাত্র যদি এই শুভ লগ্নে কোনো আবৃত্তি বা গান গাইতে চায় তাহলে সে নিঃসংকোচে মঞ্চে উঠে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে পারে। ভন্ডদা সর্বাগ্রে জানায় যে মহারাজ অনুমতি দিলে সে একটি লোকগীতি পরিবেশন করতে রাজী আছে। অতি উত্তম প্রস্তাব, মানা করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
ভন্ডদা মঞ্চে উঠে গলা পরিষ্কার করে একটি অতি পরিচিত লোকগীতি গাইতে শুরু করে: "দাদা তোর্ পায়ে পড়ি রে, মেলা থেকে বউ এনে দে।"

যদি কেও গানটি না জেনে থাকেন, তার জন্যে গানটি নিচে দেওয়া হোলো: (সুত্র: http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28781936)

দাদা পায়ে পড়ি রে
মেলা থেকে বউ এনে দে
নয়ত কলসি দড়ি দে রে
ডুবে মরি রে

তুই দাদা বউকে নিয়ে
সুখে করিস ঘর
আর আমি বউ চাইলে কেন
গালে মারিস চড়
দাদা চাস না কি বউকে নিয়ে
খেলা করি রে

তাড়াতাড়ি যা রে দাদা
মিনতি তোর কাছে
নয়ত সব বউ কিনে নেবে
পয়সা যাদের আছে

দাদা পায়ে পড়িরে

এই গানটা পুরোটা অবশ্য ভন্ডদা গেয়ে উঠতে পারেনি। গানটির প্রথম স্তবক শুনেই ব্রহ্মচর্যে ব্রতী মহারাজের মুখ রক্তিম হয়ে ওঠে। "ডেঁপো ছেলে"-কে তক্ষুনি নিচে নেমে আসতে তিনি হুকুম করেন এবং তীব্র ভর্ত্সনার সঙ্গে উপহার দেন একটি পেল্লাই কানমলা।
সে বছর ভগবান গৌরাঙ্গের জন্মতিথি অনুষ্ঠানের এখানেই সমাপ্তি, ভবনের অন্যান্য ছাত্রদের সেলিব্র্শনের শুরু।

(বিঃদ্রঃ কিছু কিছু অংশে গল্পের গরু হয়তো একেবারে মগডালে উঠে গেছে তবে সেটা নিছক পাঠকদের আনন্দ দেওয়ার উদ্দেশ্যে।)

Sunday, October 11, 2015

বাস: পর্ব ৫

বাসে এক ধরণের যাত্রী ওঠে যারা সিটে বসে মাঝে মাঝেই নিজেদের ব্যাগ ঘাঁটতে থাকে। আপনি ধরুন দাঁড়িয়ে আছেন। এমন সময় কাওকে ব্যাগ গোছাতে দেখলে স্বাভাবিকভাবেই ভাববেন ওই বুঝি একজন স্টপেজে নামার আগে নিজের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে একবার চোখ বুলিয়ে নিলো। আপনি পাশের দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদেরকে পাশ কাটিয়ে সেই বসে থাকা যাত্রীর সিটের সামনে গিয়ে হাজির হলেন। আসার পথে দু-একজনের হয়তো পা মাড়িয়ে দিলেন। সেরকম ভদ্রলোক হলে হয়তো একটা রোষপূর্ণ চাহনি দিয়ে ছেড়ে দেবে, নয়তো "দাদা, দেখে চলতে পারেন না" বা "চোখে ঠুলি হয়েছে"-- এই গোছের কিছু একটা মন্তব্য মুখ বুজে হজম করতে হবে। এই উদ্দেশ্য নিয়ে সরে এলেন যে ওই ব্যক্তি উঠলেই আপনি টুক করে তার জায়গায় বসে পড়বেন। প্রস্তুতি হিসেবে আপনি এমন ভাবে উপরের রেলিং আর সামনের সিটের গরাদটা ধরে দাঁড়ালেন যাতে আর কারুর পক্ষে আপনাকে ডিঙিয়ে ওই সিটে বসা সম্ভব না হয়। সামনের স্টপেজ এলো, আশপাশের কিছু বসে থাকা যাত্রী উঠে গেলেও আপনার সামনের যাত্রী কিন্তু উঠলেন না। আপনি ভাবলেন: "যাক গে, এই স্টপেজে নয় হয়তো পরের স্টপেজে নামবে।"  কিন্তু উনি পরের স্টপেজেও নামবেন না। আবার ওনাকে ব্যাগ গোছাতে দেখে ভাববেন: "ও, এবার বুঝি নামবে।" কিন্তু সে সব আপনার বৃথাই আশা। এদিকে আপনার পরে বাসে ওঠা যাত্রীকে  দেখবেন আপনি আগে যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন তার সামনের সিটে বসে থাকতে। দেখে আপনার কি আফশোষটাই না হবে: "ইস, যদি লোভ করে এদিকে না আসতাম।" কিন্তু এতোটা সময় এবং শ্রম যখন ইনভেস্ট করেই ফেলেছেন তখন দাঁত চেপে নিজের জায়গাতেই দাঁড়িয়ে থাকবেন। কষ্ট যখন করছেন তখন কেষ্ট লাভ আপনার হবেই এই ভেবে। কিন্তু ওই যাত্রীকে আরো বার কয়েক নিজের ব্যাগ নাড়াচাড়া করতে দেখে শেষ পর্যন্ত উপলব্ধি করবেন: "ও হরি, এ তো দেখছি থেকে থেকেই শুধু মিস কল দেয়।" অগত্যা আপনি পাশে সরে এসে আরেকটি সিটের দখল নিতে তৎপর হয়ে উঠবেন। এই সময় সেই বসে থাকা ব্যক্তি হঠাৎ নিজের গন্তব্য এসে গেছে দেখতে পেয়ে হন্তদন্ত হয়ে বাস থেকে নেমে পড়বেন। আর আপনার সাধের সিটে কোনো এক অজ্ঞাতকুলশীল যাত্রী নিজের সম্পত্তি ভেবে বসে পড়বে। আপনার এতক্ষণের প্ল্যান বানচাল হয়ে যাওয়ার দুঃখ নিয়ে আপনাকে বাকি রাস্তাটা হয়তো বাসে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই যেতে হবে।

এই সব বাসে অকারণে ব্যাগ গোছানো পাবলিকরা আমার দুঃচক্ষের বিষ -- গত সপ্তাহের অভিজ্ঞতার পর অনুভব করলাম।

Saturday, October 3, 2015

ইন্টেলে আইআইটি খড়্গপুরের আমার দুই সিনিয়র আছে -- একজনের ডাকনাম ডিডি অপরজনের পিডি। দুজনে আবার ইন্টেলের একই বিল্ডিং-এ একই ফ্লোরে কাজ করে। যারা জানেন না তাদের জন্যে বলে রাখি বেঙ্গালুরুতে ইন্টেলের মোট পাঁচটি বহুতল অফিস আছে, কাজেই আমার এই দুই সিনিয়রের সহাবস্থান খানিকটা অকস্মাৎ তো বটেই। খুঁজলে পরে তাদের মধ্যে নিশ্চয়ই আরো বেশি মিল পাওয়া যাবে তবে এই লেখা তাদের মিল নিয়ে নয় বরং গরমিল নিয়ে। এবং গরমিলের এই বিষয়টি হলো "কুকুর"।
তাহলে এবার খোলসা করে বলি। আইআইটি খড়্গপুরে আমার আর ডিডিদার ওভারল্যাপ ছিল এক সেমিস্টারের। আমরা একই ল্যাবে বসতাম। একদিন রাতে ল্যাবে শুধু আমি আর ডিডিদা রয়েছি। এমন সময় ডিডিদা আমার কিউবিকেলে এসে বলে গেল আমি যেন ল্যাব থেকে বেরোনোর সময় ডিডিদাকে ডেকে নিয়ে যাই। নির্দেশমতো আমি কাজ শেষে ডিডিদার কিউবিকেলে গিয়ে তাকে ডাকি, তারপর আমরা একসাথে সাইকেল চালিয়ে নিজেদের হোস্টেলে ফিরে আসি। আপাতদৃষ্টিতে পুরো ঘটনাটার মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু নজরে পড়ে না। তবে আমি পরে লক্ষ্য করি যেদিন রাতে শুধু আমি আর ডিডিদা শেষ পর্যন্ত ল্যাবে থাকি সেই দিনগুলোতে ডিডিদা আমাকে প্রত্যেকবার হোস্টেলে ফেরার সময় তাকে ডেকে নিয়ে যেতে বলে। এই ঘটনার বেশ কয়েকবার পুনরাবৃত্তি হওয়ার পর আমি ল্যাবের বাকিদেরকে ব্যাপারটা জানাই এবং জানতে পারি ডিডিদার নাকি মারাত্মক কুকুরের ভয়। আমাদের ল্যাব থেকে হোস্টেলে ফেরার পথে আবার কিছু কুকুর নাকি সজাগ থাকে যারা যখনই কেও একা সাইকেলে করে সেই রাস্তা দিয়ে যায় তখনই তাকে তাড়া করে। কখনও কেউ সেই রাস্তায় কুকুরের কামড় খেয়েছে বলে শোনা না গেলেও এক পাল কুকুর যদি ধাওয়া করে তাহলে বিষয়টা ভীতিপ্রদ বইকি।
তো এরকমই একবার নাকি সেই কুকুরের দল পিডিদাকে একা সাইকেলে করে ফিরতে দেখে তার পিছু নিয়েছিল। জনশ্রুতি আছে পিডিদা নাকি তখন সাইকেল থেকে নেমে, সাইকেলটাকে মাথার উপর তুলে নিজেই সেই কুকুরের পালকে বহুদূর তাড়া করে নিয়ে গেছিল। কি, পিডিদার এহেন আচরণ বিশ্বাস হচ্ছে না? আমার কিন্তু খুব বিশ্বাস হয়। পিডিদা একবার নিজের শক্তির পরিচয় দিতে গিয়ে দেওয়ালে ঘুসি মেরে নিজের হাত ভেঙ্গে ফেলেছিল -- একথা আমি বহু লোকের মুখে শুনেছি। পিডিদার আরো কতো কান্ডকারখানা আছে, সেসব বিস্তারিত ভাবে পরে বলা যাবে'খন। এক কথায় পিডিদা আইআইটি খড়্গপুরের "লেজেন্ড"।
যাই হোক, পড়লেন তো আমার দুই সিনিয়রের কথা, সোমবার অফিসে গিয়ে এরা না আমায় আবার তাড়া করে বেড়ায়। দুগ্গা দুগ্গা !