Saturday, December 31, 2016

আজকাল আর আগের মতো ইংরেজিতে কথা বলতে গেলে বা লিখতে গেলে প্রথমে মনে মনে কথাটা বাংলায় ভেবে তারপর সেটা অনুবাদ করে বলতে বা লিখতে হয় না। এখন ইংরেজি ভাষাটা প্রায় বাংলার মতোই স্বাভাবিক ভাবে লিখতে, পড়তে বা বলতে পারি। তবে এর ব্যতিক্রম হয় দুটি শব্দের ক্ষেত্রে -- "push" এবং "pull"। এখনও কোনো দরজায় এই দুটোর কোনো একটা শব্দ লেখা আছে দেখলেই "pull মানে টানা, push মানে ঠেলা" -- এই কথাটা মনে মনে আওড়ে নিই।

Monday, December 19, 2016

রেস্টুরেন্টে গেলে রামবাবুকে একবার অন্ততঃ বাথরুম থেকে ঘুরে আসতে হবেই। সেদিনও উনি রেস্টুরেন্টে গিয়ে মেন্ কোর্সের শেষে বাথরুমের খোঁজ করতে গিয়ে "He" লেখা দরজাটা দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়লেন। অন্যান্য অনেক রেস্টুরেন্টের মতো এদের বাথরুমটা ছোট। একবারে শুধু একজনই ব্যবহার করতে পারে। রামবাবু ভেতরে ঢুকে ভেতর থেকে ছিটকিনিটা লাগিয়ে দিলেন। সমস্ত কাজ সমাধা করে বাথরুমের দরজা খুলে বেরোতেই দেখেন বাইরে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। "Unisex" টয়লেট তো এটা নয়! তাহলে মেয়েটা কেন তার বাথরুমের দরজার বাইরে অপেক্ষা করছে? হঠাৎ রামবাবুর চোখ চলে গেলো উল্টো দিকের বাথরুমের দরজার উপরে লেখা ফলকটার দিকে, সেখানে লেখা আছে "His"। এটা কি হলো? রামবাবু ঘাড় ঘুরিয়ে নিজের বাথরুমের উপরের লেখাটা এবার খুঁটিয়ে পড়লেন -- সেটা আসলে "Her", তবে শেষের অক্ষর "r"-টা খানিক মুছে গেছে বলে তাড়াহুড়োর মধ্যে উনি ভুল পড়েছিলেন। নিজের ভুল বুঝতে পেরেই পুরনো অভ্যাসবশতঃ উনি আধ-হাত জিভ বার করে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটির কাছে মাফ চেয়ে নিলেন। ঘটনার জল এর চেয়ে বেশি গড়ায়নি। কিন্তু রামবাবু মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলেন হিসি করতে এসে এরকম "He-She"-র ব্যাপারে ভবিষ্যতে উনি আরো বেশি পর্যবেক্ষণশীল হবেন।

এই প্রসঙ্গে অনেকদিন আগে পড়া একটা ঘটনা জানিয়ে রাখি। একটা রেস্টুরেন্টে প্রায়শই ভুলবশতঃ ছেলেরা মেয়েদের বাথরুমে এবং মেয়েরা ছেলেদের বাথরুমে ঢুকে পড়তো। কারণ ছেলেদের বাথরুমের দরজায় লেখা ছিলো "Not for Women" আর মেয়েদের বাথরুমের দরজায় লেখা ছিলো "Men not allowed"। তাড়াহুড়োতে খদ্দেররা অধিকাংশ সময়েই শুধু "Men" আর "Women" এইটুকু পড়তো, পুরো লেখাটা আর তারা পড়ে দেখতো না।

Sunday, December 11, 2016

আমার বাড়ির মালিক কোনো চাকরি করেন না। বাড়ি ভাড়ার টাকাতেই ওনার সংসার চলে। বেশ ভালো ভাবেই চলে যায়। আপাততঃ উনি চব্বিশটা ফ্ল্যাট আর নিজের বাড়ির একতলাটা ভাড়া দিয়ে রেখেছেন। আরো আটটা নতুন ফ্ল্যাট বানিয়েছেন, তাতে কয়েকমাসের মধ্যেই নতুন ভাড়াটিয়া চলে আসবে। আমাদের বিল্ডিংয়ের সামনে এরপর ওনার কিছু দোকান খোলার প্ল্যান আছে। কাজেই আর আলাদা করে কোথাও চাকরি ওনাকে করতে হয় না। তবে শুধু উনি নন, ওনাদের পাঁচ ভাইয়ের কোনো ভাই-ই চাকরি করেন না। ওনার বাবা কংগ্রেসের এমএলএ ছিলেন। উনি মারা যাওয়ার আগে দশটা বাড়ি বানিয়ে দিয়ে যান, পাঁচ বাড়ি পাঁচ ভাইয়ের থাকার জন্য আর বাকি পাঁচটা পাঁচ ছেলে ভাড়া দেবে বলে।
তবে আমার বাড়ির মালিকের আর কোনো কাজ না থাকার জন্য ভাড়াটিয়াদের কিছু লাভ হয়েছে বৈকি। যেমন আমাদের বিল্ডিংয়ের জন্য আলাদা করে দারোয়ান রাখতে হয়নি, মালিক নিজেই সব সময় বিল্ডিংয়ের আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়ান। প্রয়োজনে উনি টুকটাক ইলেক্ট্রিসিয়ানের কাজটাও চালিয়ে নিয়ে পারেন। সিঁড়ির বাল্ব পাল্টানো, নতুন ফিউজ লাগানো ইত্যাদির জন্য ভাড়াটিয়াদের ছোটাছুটি করতে হয় না, মালিক এসব কাজে ভালোই পারদর্শী। আমার ধারণা প্লাম্বারের কাজও উনি কিছু কিছু নিশ্চয়ই ম্যানেজ করে নিতে পারবেন। সব সময় বিল্ডিংয়েই ঘুরঘুর করার জন্য অনেক সময় আমাদের কমপ্লেন পর্যন্ত করতে হয়না, মালিক স্বত্বপ্রণোদিত হয়ে নিজেই একটা বন্দোবস্ত করে দেন। তারই একটা উদাহরণ নিচে দিলাম।
আমি অফিসে যাওয়ার সময় প্রায়শই ঘরের ভেতরের মেন্ সুইচটা অফ করে দিয়ে যাই। একা মানুষ, আমি ঘরে না থাকলে ইলেক্ট্রিসিটির প্রয়োজনটাই বা কি! সেদিন আমি অফিস থেকে ফেরার সময় দেখি আমার বাড়ির মালিক বিল্ডিংয়ের নিচে আমার ঘরের মেন্ সুইচ বোর্ডটা খুলে কি করছেন। আমি গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছে? মালিক উত্তর দিলেন উনি অনেকক্ষণ ধরে লক্ষ্য করছেন যে আমার ইলেক্ট্রিকের মিটারটা ঘুরছে না তাই সমস্যাটা কোথায় সেটাই উনি বোঝার চেষ্টা করছেন।

Friday, December 9, 2016

ফ্রাইডে ইভনিং -- সপ্তাহের সেরা সময়। আগামী দুদিন ছুটি, ভাবলেই মনটা ফুরফুরে হয়ে যায়। আমি তাই আজ বিকেলে কি করা যায়, কি করা যায় ভাবছি। হঠাৎ খেয়াল পড়লো পকেটে ক্যাশ তো প্রায় নেই বললেই চলে। তাই চট করে একটা এটিএমের সামনে দাঁড়িয়ে পড়লাম। এটিএম কাউন্টার থেকে বেরিয়ে পরে দেখি সন্ধে কখন গড়িয়ে গেছে।

Saturday, November 26, 2016

ট্যাক্সি করে যেতে যেতে রেডিওতে শুনলাম ২৯শে অক্টোবর দিনটা নাকি "ওয়ার্ল্ড স্ট্রোক ডে" হিসেবে পালিত হয়। জনসাধারণকে স্ট্রোক সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করানোর জন্য এই বিশেষ দিনটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি যদিও গুরুতর তবুও এই তথ্যটি শুনে একটা মজার ঘটনা মনে পড়ে গেলো।
আমার এক বান্ধবীকে গান শেখানোর জন্যে এক শিক্ষককে নিযুক্ত করা হয়েছিলো। ওনার উপর দায়িত্ব ছিলো বান্ধবীটির বাড়ি এসে গান শিখিয়ে যাওয়ার। তবে এই শিক্ষকমশায় মানুষ হিসেবে ছিলেন একজন "ফুলবাবু" অর্থাৎ যাকে বলে "ফুলের ঘায়ে মূর্ছা যায়" এমন এক ব্যক্তি। প্রায়শঃই উনি ছোটখাটো কোনো কারণে ক্লাস কামাই করতেন। তো একবার উনি অনেকদিন ধরে গান শেখাতে আসছেন না দেখে বান্ধবীর বাবা শিক্ষকের বাড়িতে ফোন করলেন (সে সময় মোবাইলের যুগ ছিলো না)। শিক্ষকমশায় ফোন ধরে বলেন যে ইতিমধ্যে ওনার একটি স্ট্রোক হয়ে গেছে তাই উনি কোনো ছাত্র ছাত্রীর বাড়ি ইদানিং যাচ্ছেন না। এই শুনে বান্ধবীর বাবা স্বভাবতঃই উদ্বিগ্ন হয়ে উনি শরীরের ঠিক মতো যত্ন নিচ্ছেন কিনা জানার জন্যে আরো কিছু খুঁটিনাটি প্রশ্ন করেন এবং এই প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে জানতে পারেন যে শিক্ষকমশায়ের আসলে হিট স্ট্রোক হয়েছে। স্ট্রোক আর হিট স্ট্রোক -এর মধ্যে গুরুত্বের দিক দিয়ে ফারাক বিশাল। স্ট্রোক হয়েছে শুনে এতক্ষণ ধরে যে উদ্বেগ বান্ধবীটির বাবা মনে মনে পোষণ করছিলেন তা হঠাৎ করে অমূলক হয়ে যাওয়ায় উনি রেগেমেগে অবিলম্বে শিক্ষকমশায়কে ওনার পদ থেকে বরখাস্ত করলেন।

Sunday, October 2, 2016

ইদানীং ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপ খুললেই দেখি কেউ না কেউ "পুজোর গন্ধ" পাচ্ছে জানিয়ে কিছু একটা পোস্ট করেছে। সে সব পড়ে বেঙ্গালুরুতে বসেও পুজোর আঁচ খানিকটা পাওয়ায় মনটা আনন্দে ভরে উঠলো। কিন্তু ঘর থেকে বেরোতেই বেলান্দুর লেকের গন্ধ নাকে যেতেই মুডটা পুরো নষ্ট হয়ে গেলো।

Monday, September 12, 2016

লেখক: পর্ব ১৫

কাবেরীর জল নিয়ে বচসা এখন তুঙ্গে। ব্যাঙ্গালোরে বাস ট্যাক্সি পোড়াচ্ছে কিছু পাগল লোকজন। তবে আমাকে নিয়ে চিন্তা করার কোনো কারণ নেই। ঝামেলা হতে পারে শুনে আমার এক কলিগ গাড়িতে করে আমাকে বাড়িতে ড্রপ করে দিয়ে গেছে অনেক আগে। ইতিমধ্যে বাড়ি থেকে একাধিকবার ফোন করে খোঁজ নেওয়াও হয়ে গেছে।
খানিকক্ষণ আগে দেখি অচেনা নাম্বার থেকে কে আমাকে কল করছে। আমি ভাবলাম নিশ্চয়ই কোনো হিতাকাঙ্ক্ষী হবে, এখানকার পরিস্থিতি সম্বন্ধে খবর নেওয়ার জন্যে ফোন করছে। ফোন তুলে দেখি ফোন করেছে "রিলায়েন্স লাইফ ইন্স্যুরেন্স" কোম্পানি থেকে। না, মানতেই হলো অম্বানীরা এমনি এমনি বড়লোক হয়নি।

Friday, September 9, 2016

আজ গোটা কর্ণাটক জুড়ে বারো ঘন্টার ধর্মঘট পালন হচ্ছে। এই প্রসঙ্গ নিয়ে গতকাল অফিসে আমরা চার অবিবাহিত কলিগ আলোচনা করছিলাম। আমাদের চারজনের মধ্যে অনুরূপ ম্যারিটাল স্ট্যাটাস ছাড়াও আরেকটা মিল হচ্ছে যে আমরা প্রত্যেকেই "ওয়ার্ক ফ্রম হোম" সুবিধাটা থাকা সত্ত্বেও পারতপক্ষে অফিস কামাই করি না কারণ অফিসে এলে অন্তত ব্রেকফাস্ট আর লাঞ্চ নিয়ে মাথা ঘামাতে হয় না। ধর্মঘটের দিনে অফিস ক্যান্টিন বন্ধ থাকবে বলে পেটপুজোর ব্যাপারটা কিভাবে সমাধা হবে সেটাই আলোচনার মূল বিষয়। আমি জানাই যে বাড়িতে ম্যাগি, মুড়ি, চানাচুর, বিস্কুট আছে, তাই দিয়ে সকাল আর দুপুরটা ম্যানেজ করে দেব, রাত্রে তো একটা না একটা রেস্টুরেন্ট খোলা পেয়ে যাবই। আরো দুজন কলিগেরও দেখি আমারই মতো প্ল্যান। চতুর্থজনকে তার পরিকল্পনা সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলে পর সে জানায়: "মেরে পাস মা হ্যায়।" তার বাবা মা আসলে দু'দিন আগে ব্যাঙ্গালোরে এসেছে তার কাছে থাকতে। তাঁরা থাকার ফলে এই চতুর্থ কলিগটিকে আর দোকান-বাজার, রান্না, ইত্যাদি নিয়ে এখন ক'দিন ভাবতে হবে না।

Thursday, September 8, 2016

গতকাল রাত্রে একটা অদ্ভুত স্বপ্ন দেখলাম:
দেখি আমি কলকাতায় এক কোম্পানিতে চাকরি করছি। সেই কোম্পানি থেকে বিজ্ঞাপন দিয়েছে যে কোম্পানির জন্য একজন CTO চাই। এই বিজ্ঞাপন পড়ে এক পদপ্রার্থী আবেদন জানায় এবং তাঁকে কোম্পানির কর্তৃপক্ষ CTO হিসেবে নিয়োগও করে। নতুন CTO চাকরিতে যোগদান করার পরদিন আমি অফিস যাবো বলে বিল্ডিংয়ের নিচে নেমে দেখি সেই CTO ভদ্রলোক আমার বিল্ডিংয়ের সামনে একটি অটোতে বসে আছেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো উনি অটোর সামনে ড্রাইভারের সিটটিতে বসে আছেন। আমি ওঁনার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম যে উনি এখানে কি করছেন। উনি অবাক হয়ে উত্তর দিলেন যে উনি তো কোম্পানিতে জয়েন করে গেছেন এবং সেই কারণেই উনি আমার জন্যে অপেক্ষা করছেন। তখন আমার খেয়াল পড়লো যে উনি যে CTO-র পদে নিযুক্ত হয়েছেন সেটার full form হলো "Chief Transportation Officer"!

Monday, September 5, 2016

অফিসে এক কলিগ আছেন যিনি জুনিয়র ব্যাচেলর কলিগদের সবসময় বিয়ে থেকে বিরত থাকার উপদেশ দেন। উনি নিজে বিবাহিত। ভুক্তভোগী হওয়ার ফলেই হয়তো বাকিদের আগের থেকে সাবধান করে দেওয়াটা উনি নিজের কর্তব্য বলে বোধ করেন।
কয়েকদিন আগে অফিসে চায়ের টেবিলে অন্য এক কলিগ জিজ্ঞেস করলেন বিয়ে নিয়ে আমার আরেক কলিগের কি প্ল্যান। সে জানায় যে বাড়ির থেকে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছে তবে এখনও কোথাও সেভাবে কথা বার্তা এগোয়নি। এই শুনে প্রথমের সেই কলিগ জিজ্ঞেস করলেন ব্যাচেলর কলিগটিকে যে তার বিয়ে করার পেছনে মূল কারণ কি? আশেপাশের সবাই ততক্ষণে বুঝে গেছি যে এবার ওঁনার চিরপরিচিত হিতোপদেশের বান শুরু হলো বলে। কিন্তু সেই ব্যাচেলর ছেলেটি চট করে উত্তর দেয়: "খবরে নিশ্চয়ই পড়েছেন যে টরেন্ট এবার ভারতে ব্যান হয়ে যেতে পারে। শাস্তি হিসেবে তিন বছরের জেল পর্যন্ত হতে পারে। এমতাবস্থায় ব্যাচেলর ছেলেদের বাঁচার জন্যেও তো কিছু রসদ দরকার নাকি?"
এই উত্তর শুনে বিবাহবিদ্বেষী ভদ্রলোক খানিকক্ষণ হাঁ করে বক্তার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলেন তারপর "বেস্ট অফ লাক" বলে সেখান থেকে সরে পড়লেন।

Sunday, September 4, 2016

একটি মেয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে নালিশ করেছে খাবারে প্রচুর তেল মশলা আছে বলে। মজার ব্যাপার হলো মেয়েটি কোনো রেস্তোরাঁ বা বিয়ে বাড়ি জাতীয় অনুষ্ঠানে খাবার খেয়ে নালিশ করেনি, করেছে হাসপাতালের খাবার খেয়ে।

Tuesday, August 30, 2016

লেখক: পর্ব ১৪

ঘরের কাছে একটা হোটেলে খেতে গেছি। সেখানে দেখি টিভিতে আঞ্চলিক ভাষায় একটা সিনেমা চলছে। অবশ্য "আঞ্চলিক ভাষা" -- এই শব্দটা ব্যবহার করাটা বোধহয় ঠিক হলো না। ভাষাটা কান্নাডা না হয়ে তামিল বা তেলেগু হতে পারে -- এই সব ভাষাই আমার কানে এক। (তবে যদ্দূর সম্ভব ভাষাটা কান্নাডাই ছিলো -- এই কথাটা কেন বলছি সেটা এই লেখার পরবর্তী অংশটা পড়লেই বুঝতে পারবেন।) যাই হোক, আমি খেতে খেতে মন দিয়ে সেই সিনেমাটাই দেখতে লাগলাম। ভাষা না বুঝলেও সিনেমার দৃশ্য দেখেই গল্পটা মোটের উপর বোঝা যাচ্ছিল। আমাদের বাংলা সিনেমার মতোই গড়পড়তা গল্প। সিনেমার দৃশ্য অনুযায়ী বোধ করি আমার মুখের এক্সপ্রেশনগুলো মিলে যাচ্ছিলো তাই খাওয়ার শেষে হোটেলের ওয়েটার এসে আমাকে দক্ষিণ ভারতীয় ভাষাতেই একটা প্রশ্ন করলো, আরো খাবার লাগবে কিনা বা খাবার সুস্বাদু ছিলো কিনা এই গোছের কিছু একটা হবে। এই শুনে আমি বললাম: "কান্নাডা গোথিল্লা" অর্থাৎ "আমি কান্নাডা ভাষা জানি না"। কান্নাডা ভাষায় এই একটা কথাই জানি, সেটাই সুযোগ বুঝে ঝেড়ে দিলাম আর কি। আমার কথা শুনে ওয়েটারের মুখের অভিব্যক্তিটা যা হয়েছিলো তা পুরো বাঁধিয়ে রাখার মতো।

Saturday, August 20, 2016

মিশন: পর্ব ৬

মিশনে পড়াকালীন নিশান, (অনির্বাণ) লাহিড়ী, (অনির্বাণ) জ্যোতি আর আমি -- এই চারজন রুমমেট ছিলাম। ক্লাস ইলেভেন থেকে ক্লাস টুয়েলভে ওঠার সাথে হোস্টেলেও আমরা একতলা থেকে তিনতলায় উন্নীত হলাম। সে সময় লাহিড়ী কোত্থেকে একটা অ্যালার্ম ঘড়ির আমদানি করলো। চান করে এসে খেতে যাওয়ার আগে কিংবা খেলে এসে পড়তে বসার আগে লাহিড়ী পাঁচ দশ মিনিটের জন্য অ্যালার্ম দিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়তো। তখন লাহিড়ীর এই কার্যকলাপ ফালতু বলে মনে হলেও পরে "থ্রি ইডিয়টস" দেখে শিখলাম এটাকে নাকি "পাওয়ার ন্যাপ" বলে।
লাহিড়ীর এই অ্যালার্ম ঘড়ির শব্দটা ছিল বাঁজখাই, প্রথমবার শুনে যে কারোর পিলে চমকে উঠবে। অ্যালার্ম বন্ধ না করলে ক্রমে ক্রমে তার পরিত্রাহি আওয়াজ আবার বাড়তে থাকে। তবে কিনা অ্যালার্ম ঘড়ির প্রধান কর্তব্য যেহেতু মালিকের ঘুম ভাঙিয়ে দেওয়া -- সেই দিক থেকে ভাবলে এই ঘড়িটা নিঃসন্দেহে একটা সার্থক ঘড়ি।
এবার মূল গল্পে আসা যাক। এক ছুটির দিন দুপুরে রুমের চারজনেই আমরা ঘড়িতে অ্যালার্ম দিয়ে শুয়েছি। যথা সময়ে অ্যালার্ম বেজে ওঠে। কিন্তু আমরা কেউ আর উঠে অ্যালার্মটা অফ করছিলাম না। কি এক কারণে এখন আর মনে নেই, সে সময় যে উঠে অ্যালার্মটা বন্ধ করতো সে মানসিক ভাবে অন্যদের কাছে হেরে গেছে -- এরকমটা ধরে নেওয়া হতো। এক মিনিট যায় ... দুই মিনিট যায় ... পাঁচ মিনিট ... দশ মিনিট যায় ... আমরা চারজন নিজের নিজের বিছানা কামড়ে শুয়ে রয়েছি। এদিকে অ্যালার্মের সোচ্চার রবে প্রাণ যায় যায়। কিন্তু প্রাণের চেয়ে সম্মানটা তো আগে! এরকম টানটান উত্তেজনার মুহূর্তে যেখানে প্রাণপণ লড়াই চলছে সেখানে শেষ পর্যন্ত জয়ী হলাম কিন্তু আমরা চারজনেই। মাঝখান থেকে হেরে বসলো (শুভদীপ) খাটুয়া। সে পাশের উইং থেকে (অর্থাৎ পাঁচ-ছয়খান দূরের রুম থেকে) লাহিড়ীর ঘড়ির অট্টচিত্কার সহ্য করতে আর না পেরে আমাদের রুমে এসে অ্যালার্মটা বন্ধ করে দিলো। সে যাত্রায় খাটুয়ার দৌলতে আমাদের চার রুমমেটের প্রাণ মান দুটোই রক্ষা পেলো।

Sunday, August 14, 2016

লেখক: পর্ব ১৩

ব্যাঙ্গালোরে রাস্তা পেরনো মোটেও সহজসাধ্য ব্যাপার নয়, বিশেষতঃ আমার এই বেলান্দুর অঞ্চলে। অ্যাদ্দিন এখানে অফিস টাইমে শুধু মাত্র সাধারণ মানুষদের রাস্তা পার করানোর জন্য কিছু লোক নিযুক্ত করা ছিলো। তবে সম্প্রতি পথচারীদের সুবিধার্থে এখানে একটা স্কাই-ওয়াক তৈরী করা হয়েছে। (আমার তো বাকি বন্ধুদের মতো DSLR ক্যামেরা নেই তাই মোবাইল ক্যামেরায় তোলা স্কাই-ওয়াকটির একটি নিম্ন মানের ছবি নিচে দিলাম।) এই অতীব সাধারণ ঘটনাটি পাঠকদের বলার কারণ একটাই -- আমিই প্রথম ব্যক্তি যে এই স্কাই-ওয়াকটির একটি প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত অবধি হেঁটেছি।
স্কাই-ওয়াকটি তখনও চালু হয়নি -- আমি দেখি এক মহিলা স্কাই-ওয়াকটিতে চড়ছেন। এই দেখে আমিও উত্সাহিত হয়ে ব্রিজটিতে উঠে পড়ি এবং মহিলাকে পার হয়ে এগিয়ে যাই। উল্টোদিকে নামতেই আমি নিজের ভুল বুঝতে পারি -- আমার জুতো নরম সিমেন্টে আটকে যায়। আমি খেয়াল করে দেখি আশেপাশে আর কোনো জুতো-চটির দাগ আছে কিনা -- কিন্তু আর কোনো সেরকম চিহ্ন দেখতে পাই না। ফলে স্পষ্টতই আমিই প্রথম ব্যক্তি যে এই স্কাই-ওয়াকটি পারাপার করেছে।


Monday, August 8, 2016

সেদিন কি এক অবোধ্য কারণে এক বন্ধু ট্রিট চাই ট্রিট চাই বলে ঘ্যান ঘ্যান করছিলো। কিন্তু শত অনুনয় বিনয়ের পরেও আমি যখন রাজি হলাম না তখন সে যুক্তি দেখালো -- রোজগার করা তো খরচের জন্যেই। এই শুনে আমি তাকে ছোটবেলায় দেখা Duck Tales-এর একটা গল্প বলে দিলাম।
একদিন এক রিপোর্টার গেছে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী হাঁস স্ক্রুজ ম্যাকডাকের কাছে। (যারা জানেন না তাঁদেরকে বলে রাখি কোনো এক অজ্ঞাত কারণে ডাক টেলসের জগতে মানুষের বদলে হাঁসেরা পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত প্রজাতিতে বিবর্তিত হয়েছে।)
রিপোর্টার: "মিস্টার ম্যাকডাক, আপনি তো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী হাঁস অথচ আপনার নিন্দুকেরা প্রায়শই বলে থাকে যে আপনি নাকি ভীষণ কিপটে -- এ ব্যাপারে আপনার কি কিছু বলার আছে?"
স্ক্রুজ ম্যাকডাক: "তোমার কি মনে হয় আমি কি ভাবে পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী হাঁস হয়ে উঠলাম?"

Thursday, August 4, 2016

ফেসবুকের দেওয়াল এমনিতেই বন্ধুবান্ধবদের বর্তমান জীবনের খুঁটিনাটি খবরাখবরে ছয়লাপ। এখন আবার তার সাথে এসে জুটেছে গত কয়েকবছরে আজকের এই বিশেষ দিনে কি ঘটেছিলো তা আরেকবার করে বন্ধুদের মনে করিয়ে দেওয়ার হিড়িক। বাঞ্ছারামে গিয়ে মালপোয়া খাওয়ার, অমুকের সাথে ফেসবুকে বন্ধুত্ব হওয়ার, তমুকের সাথে বোটানিক্যাল গার্ডেন ঘোরার, ইত্যাদির বর্ষপূরণ করার ঘটনাটা আরেকবার ফেসবুকে রাষ্ট্র করতে মাঝে মাঝে লোকজনের ভালোই লাগে।
তো সেদিন দেখি আমারও একটা জোক শেয়ার করার দুই বত্সর পূর্ণ হয়েছে ফেসবুকে। শুরুতেই সতর্ক করে দিই এই জোকটা কিন্তু কম্প্যুটার সায়েন্স সংক্রান্ত।
http://kunalbanerjee.blogspot.in/2014/07/blog-post_27.html

এই জোকটা দেখে আরেকটা ঘটনা মনে পড়ে গেল -- এই ঘটনাটার রস আস্বাদন করার জন্যেও কম্প্যুটার সায়েন্সের কিঞ্চিৎ জ্ঞান থাকা আবশ্যক।
স্যার মৌখিক পরীক্ষায় প্রশ্ন করলেন: লিনাক্স টার্মিনালে "এলএস মাইনাস এলএস" (ls -ls) টাইপ করলে কি দেখতে পাবে?
ছাত্র: এতো খুব সোজা -- জিরো !

Monday, July 25, 2016

কয়েকজন বন্ধু মিলে চিলকা বেড়াতে গেছি। একটা ৬ জন চড়বার মতো নৌকা নিয়ে চিলকাতে ডলফিন দেখতে যাওয়া হয়েছে। ডলফিন এর তো আর দেখা মেলেই না । এক বন্ধু নৌকার এদিক থেকে ওদিক যাচ্ছে আর উঁকি মারছে জলে। নৌকাও দোদুল্যমান। নাবিক ক্রমশ বিরক্ত হচ্ছিলো, কিন্তু কিছু বলছিলো না।  তারপর একটা শ্যাওলার মতো কিছু দেখে সেই বন্ধু ডলফিন বলে লাফিয়ে একদিকে যেতেই নৌকাটা একটু বেশিই দুলতে থাকে।  এবার আর মাঝি থাকতে না পেরে (ভাঙা ওড়িয়া আর ভাঙা বাংলায়) বলে উঠলো: "নৌকায় উঠে এতো এপট-উপট করলে আমার নৌকা লটপট করছে। এতো চটপট ছটপট করলে নৌকা তটে পৌঁছাবার আগেই এপটেই জলের মাঝে লোপাট হবে।"

সু্ত্র: পারমিশন ছাড়া নাম বলা বারণ।

Sunday, July 24, 2016

লেখক: পর্ব ১২

"যে ছেলে পরীক্ষাশালায় গোপনে বই লইয়া যায় তাকে খেদাইয়া দেওয়া হয়; আর যে ছেলে তার চেয়েও লুকাইয়া লয়, অর্থাৎ চাদরের মধ্যে না লইয়া মগজের মধ্যে লইয়া যায় সেই বা কম কী করিল? সভ্যতার নিয়ম অনুসারে মানুষের স্মরণশক্তির মহলটা ছাপাখানায় অধিকার করিয়াছে। অতএব যারা বই মুখস্থ করিয়া পাস করে তারা অসভ্যরকমে চুরি করে অথচ সভ্যতার যুগে পুরস্কার পাইবে তারাই?"
-- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (শিক্ষার বাহন)

কিছুদিন আগে ফেসবুকে এক বন্ধুর দেওয়ালে এই উক্তিটি দেখে আমি কমেন্ট করেছিলাম: "মাগ্গু মুর্দাবাদ!" মাগ (mug) অর্থাৎ মুখস্থ করাকে আমরা বরাবরই হেয় চোখে দেখি যদিও ছোটবেলাতে নামতা, কবিতা, ইত্যাদি মুখস্থ করানোয় আমাদের গুরুজনেরা, শিক্ষকেরা বিশেষ তৎপর ছিলেন। আমরা এতো কষ্ট করেও পড়া তৈরী করতে পারছি না আর তোরা শুধুমাত্র ভালো স্মৃতিশক্তি নিয়ে জন্মেছিস বলে এতো সহজে পার পেয়ে যাবি? মাগ্গুদের উপর জনসাধারণের রোষের কারণ হয়তো খানিক ঈর্ষাজনিত তবে এই কার্যকারণ বিশ্লেষণের মধ্যে না গিয়ে আমি বরং আমার নিজের জীবনে একবার মুখস্থ বিদ্যার দ্বারা কিভাবে পরীক্ষায় উৎরে গেছিলাম সেই বৃত্তান্ত ঝটপট বলে ফেলি।

সেই পরীক্ষাটা ছিল হিন্দী ভাষার। আমি আগেও একাধিকবার বলেছি যে বাবার বদলির চাকরি হওয়ার দরুণ -- CBSE, ICSE এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল -- এই তিনটি বোর্ডেই আমি পড়েছি। তখন আমি ক্লাস সিক্সে জলপাইগুড়ি জেলার অন্তর্গত হাসিমারা নামক এক জায়গায় এয়ারফোর্স স্কুলে ভর্তি হয়েছি। কৌতুকপ্রদ ব্যাপার হলো হাসিমারা জায়গাটি পশ্চিমবঙ্গের ভেতর হলেও সেখানে কোনো স্কুলে বাংলা পড়ানো হয় না, ফলে আমাকেও সেখানে সেকেন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ হিসেবে হিন্দী নিতে হলো। হিন্দী ভাষায় অক্ষর জ্ঞান আমার আগে থেকেই ছিল কিন্তু ক্লাস সিক্সে ওইটুকু বিদ্যে দিয়ে কাজ চলবে কেন? আমার মনে আছে প্রথম প্রথম হিন্দী ভাষার ক্লাসে স্যারের দেওয়া ডিক্টেশন লেখার পর আমি নিজেই নিজের লেখার মাথামুন্ডু কিছু বুঝে উঠতে পারতাম না। অতো চটজলদি হিন্দী লেখা কি দু-একদিনের কম্মো!

তার উপর হিন্দী ভাষার পরীক্ষায় আমাদের বংশের ট্র্যাক রেকর্ডও তেমন ভালো নয়। আমার দাদামশায়ের হিন্দী ভাষার উপর যথেষ্ট দখল না থাকায় প্রমোশন মিস করতে হয়েছিল। ঘটনাটা ভুলে গিয়ে থাকলে নিচের লিংকটা পড়ে আরেকবার ব্যাপারটা ঝালিয়ে নিতে পারেন।
http://kunalbanerjee.blogspot.in/2015/02/blog-post.html
বাবা নিজের জীবনে প্রথম হিন্দী পরীক্ষায় কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি, শুধু "গরু" বিষয়ক একটি রচনা লিখে আসতে পেরেছিলেন। রচনাটি ছিল খানিকটা এরকম:
"গরু কা দো শিং হ্যায়। গরু কা চার প্যার হ্যায়। গরু কা এক ল্যাজ যায়। ..."
অর্থাৎ শব্দগুলির উচ্চারণ যদিও হিন্দীর মতোই কিন্তু আদতে শব্দগুলি লেখা বাংলা হরফেই। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সেই পরীক্ষায় বাবার কপালে জুটেছিল একটি মস্ত বড় গোল্লা।

আমারও প্রথম প্রথম হিন্দী ভাষার ক্ষেত্রে জ্ঞান ছিল তথৈবচ। এয়ারফোর্স স্কুলে নিয়ম ছিল হাফ-ইয়ার্লি, অ্যানুয়াল এবং দুটি ইউনিট টেস্টের ভিত্তিতে বছরের শেষে ছাত্র ছাত্রীদের বিভিন্ন সাবজেক্টে পাশ ফেল, ক্লাসে র‌্যাঙ্ক, ইত্যাদি নির্ধারিত হবে। হাফ-ইয়ার্লি এবং দুটি ইউনিট টেস্টে হিন্দীতে আমার যা মার্কস এসেছিলো তাতে অ্যানুয়াল পরীক্ষাটা আমার কাছে হয়ে দাঁড়িয়েছিল -- "করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে"! গোদের উপর বিষফোঁড়া অ্যানুয়াল পরীক্ষার সময় ইংরেজি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে গিয়ে শুনি সেদিন নাকি আসলে হিন্দী পরীক্ষা। আমি নিজের দোষেই দিনগুলো গুলিয়ে ফেলেছিলাম। যাই হোক, মোটের উপর পরীক্ষা ভালোই দিলাম। নির্ধারিত দিনে রেজাল্ট বেরলো -- আমি দেখি অ্যানুয়াল পরীক্ষায় হিন্দীতে হাইয়েস্ট মার্কস পেয়েছি, মাইরি বলছি! এতো দেখি সুকুমার রায়ের "নন্দলালের মন্দ কপাল" গল্পের নায়কের মতো অবস্থা যে কিনা সংস্কৃত পরীক্ষায় সর্বাধিক নম্বর পেয়েছিল। কাল্পনিক গল্প তাহলে বাস্তব জীবনেও ঘটে।

তবে আমার এতো ভালো ফল করার রহস্য কিন্তু সামান্যই। আমি হাফ-ইয়ার্লি আর ইউনিট টেস্টে লক্ষ্য করেছিলাম আমাদের হিন্দী ভাষার স্যার প্রত্যেক চ্যাপ্টারের শেষে যে প্রশ্নগুলো থাকে তার থেকেই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে প্রশ্নপত্র তৈরী করেন। তাই অ্যানুয়াল পরীক্ষার আগে হিন্দী ভাষার সহায়িকা বইটা কিনে আমি আদ্যোপান্ত গাঁতিয়ে ফেলি।

পরিশেষে এটুকু বলে রাখি বাবা আবার কলকাতায় বদলি হয়ে ফিরে আসার পর কলকাতার স্কুলে যখন ভর্তি হই, তখন সেখানে থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ হিসেবে হিন্দী নিতে হয়। তার আগে আমি এতো ভালো হিন্দী শিখে গেছি যে থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ হিসেবে হিন্দীতে যা শেখানো হতো তা আমার কাছে ছেলেখেলা বলে মনে হতো। তাই কলকাতার স্কুলে হিন্দীতে আমি বরাবরই হাইয়েস্ট মার্কস পেয়ে এসেছি।

Tuesday, July 19, 2016

লেখক: পর্ব ১১

সান্টা বারবারাতে একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকে কাউন্টারে গিয়ে অর্ডার দিয়েছি। কাউন্টারে কর্মরত মহিলাটি আমাকে খাবারের বিলের সঙ্গে একটি ছোট চৌকো ইলেক্ট্রনিক মেশিন হাতে ধরিয়ে দিলেন। মেশিনটার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সেটার গায়ে কিছু ক্ষুদ্র বাল্ব লাগানো আছে কিন্তু সেগুলোর কোনোটাই জ্বলছে না। এই দেখে আমি তো প্রথমে খানিক ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম। এটা নিয়ে আমি এখন কি করবো? কিছুক্ষণ কাউন্টারে দাঁড়িয়ে থেকে যে ব্যাপারটা লক্ষ্য করলাম সেটা হলো প্রত্যেক ব্যক্তি যে এসে কাউন্টার থেকে নিজের অর্ডার সংগ্রহ করছেন তাঁর হাতে ধরা মেশিনটার আলোগুলো জ্বলছে নিবছে, জ্বলছে নিবছে। এবার বিষয়টা আমার কাছে খোলসা হলো। এই মেশিন হাতে থাকলে কাস্টমারদেরকে আর কাউন্টারের সামনে ভিঁড় করতে হবে না, খানিক দূরে গিয়ে অপেক্ষা করলেও চলবে। হাতে ধরা মেশিনটাই সংকেত দিয়ে দেবে কখন তাদের খাবার প্রস্তুত হয়ে গেছে। (গুগল-এ সার্চ করে আমার দেখা মেশিনটার ছবি খুঁজে পেলাম না, তাই পাঠকদের চক্ষু-কর্ণের বিবাদটা মেটাতে পারলাম না বলে দুঃখিত।)
যথা সময়ে আমার ডাক পড়ালো। আমি গিয়ে আমার অর্ডার কালেক্ট করলাম কিন্তু মুশকিল হলো রেস্টুরেন্টে কোথাও হাত মোছার ন্যাপকিন খুঁজে পেলাম না। আমি কাউন্টারে গিয়ে একজন কর্মচারীর কাছে ন্যাপকিন চাইলাম কিন্তু সে আমি কি চাইছি বুঝতেই পারলো না। আমি তখন ন্যাপকিনের সমার্থক ইংরেজিতে আর যে যে শব্দ জানি তা এক এক করে বলে গেলাম -- টিসু পেপার, পেপার টাওয়েল, হ্যান্ডকারচিপ, ইত্যাদি। কিন্তু সে দেখি কিছুতেই বুঝতে পারছে না আমি কি চাইছি। অবশেষে আমি ডাম্ব শারাড্স-এর জ্ঞান লাগিয়ে হাত মোছার অভিনয় করায় সে ব্যাপারটা ধরতে পারলো আর আমি শিখলাম ওখানকার লোকেরা নাকি আমার চাহিদার বস্তুটিকে বলে -- ওয়াইপি। ইংরেজিতে বানানটা লিখলে হয়তো পাঠকদের কাছে নামকরণটা স্পষ্ট হবে: wipe-y।

এবারের গল্পটা এখানেই শেষ নয়। আমি ব্যাঙ্গালোরে ফিরে এসে এই ঘটনাটা এক কলিগকে জানাই। তারপর আমরা একদিন এখানকার এক রেস্টুরেন্টে একসাথে খেতে যাই। ওয়েটার আমাদের কি লাগবে জিজ্ঞেস করায় আমার সেই কলিগ প্রথমেই বলে উঠলো: "Can we get some wipey?" এখানকার লোকজন ওয়াইপি শব্দটার সাথে মোটেও পরিচিত নয়, কিন্তু কুশলী ওয়েটার চটপট উত্তর দেয়: "সরি স্যার, আজকে আমাদের মেনুতে এই আইটেমটি নেই।"

পুনশ্চঃ বন্ধু প্রমিতের সহায়তায় যন্ত্রটার ছবি খুঁজে পেয়েছি। এই ধরণের যন্ত্রগুলিকে "রেস্টুরেন্ট পেজার" বলা হয়।
 সৌজন্যঃ ইন্টারনেট

Saturday, July 16, 2016

কি কারণে যেন ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা RAW-এর প্রসঙ্গ উঠেছে অফিসে চায়ের আসরে। এক কলিগ দাবি করে তার এক দূর সম্পর্কের পিসেমশাই নাকি RAW-এর কর্মী। সাধারণতঃ এই ধরণের সংস্থায় কর্তব্যরতরা নিজেদের দপ্তরের কথা গোপন রাখে, তাই আরেক কলিগ প্রথমজনের পিসেমশাই সত্যিই RAW-তে চাকরি করেন কিনা এই নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে। এতে প্রথমজন রেগে গিয়ে বলে যে তার পিসেমশাই সত্যি সত্যিই RAW-এর কর্মী -- তা না হলে পিসেমশাই মাঝে মাঝে দু-তিন মাসের জন্যে পুরোপুরি বেপাত্তা হয়ে যেতেন না। এই শুনে দ্বিতীয়জন মন্তব্য করে তাড়াতাড়ি খোঁজ নেওয়া উচিৎ পিসেমশাই আবার অন্য কোথাও আরেকটা সংসার পেতে বসেননি তো!

Tuesday, July 5, 2016

লেখক: পর্ব ১০

সম্প্রতি আমেরিকা থেকে ঘুরে এলাম। এখবরটা যারা ফেসবুকে আমার আপলোড করা ছবিগুলো দেখেছেন তাদের কাছে নতুন কিছু নয়। কিন্তু আমার এই লেখাটা সফরকালীন কোনো বিষয় নিয়ে নয় বরং সফরে যাওয়ার প্রস্তুতি সংক্রান্ত বলা যেতে পারে।
দশ বছর আগে প্রথম পাসপোর্ট করিয়েছিলাম তাই এবছর সেটার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। কাজেই পাসপোর্ট রিনিউ করতে গেছিলাম ব্যাঙ্গালোরের এক পাসপোর্ট অফিসে। এই বিষয়ে সর্বশেষ প্রশাসনিক কাজটি ছিল পুলিশ ভেরিফিকেশন। আমার ডাক পড়ে নিকটবর্তী থানায় গিয়ে নিজের অস্তিত্ব প্রমাণ করার জন্য। থানার কাজ মিটিয়ে হঠাৎ মনে হয় থানায় তো আর বারবার আসা হবে না তাই একবার এখানকার ফাটকটা দেখে যাই -- একটা নতুন অভিজ্ঞতা তো হবে। (এ ধরণের উটকো খেয়াল আমার মাথায় মাঝে মাঝেই আসে -- সে সব নিয়ে ভাবতে যাবেন না, আপাতত লেখাটা পড়তে থাকুন।) ফাটকের কাছে গিয়ে দেখি গারদের ভেতরে আমার বাড়ির মালিকের মতো দেখতে কে একজন বসে আছে। আমি চট করে ফাটকের ঝটিকা সফর শেষ করে বাড়ি ফিরে আসি। কাকে দেখতে কাকে দেখেছি এই ভেবে আমি আর মাথা ঘামাই না।
কয়েকদিন পর আমার বাড়ির মালিকের সঙ্গে বিল্ডিং-এর বাইরে দেখা। আমার পাসপোর্ট সংক্রান্ত সমস্ত কাজ মিটে গেছে কিনা তিনি জিজ্ঞাসা করলেন। আসলে ব্যাঙ্গালোরে আমার বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ বলতে একমাত্র সম্বল ছিল আমার বাড়ি ভাড়ার চুক্তিপত্রটা, সেটা মালিকের কাছ থেকে চেয়ে এনেছিলাম বলে উনি খোঁজখবর নিচ্ছিলেন। আমি ওঁনাকে উত্তরে জানাই যে বাকি সমস্ত কাজ তো আগেই হয়ে গেছিল, অন্তিম কাজটা ছিল পুলিশ ভেরিফিকেশন সেটাও সেরে ফেলেছি। আমার উত্তর শুনে বাড়িওয়ালা হেসে বললেন যে হ্যাঁ, উনি আমাকে পুলিশ স্টেশনে দেখেছিলেন।

এই ঘটনাটা আমি পূর্বে যাকেই বলেছি সে জিজ্ঞাসা করেছে যে আমি বাড়িওয়ালাকে জিজ্ঞেস করেছি কিনা যে উনি কেন গারদে ছিলেন। আমার নেতিবাচক উত্তর শুনে শ্রোতারা সবাই হতাশ হয়েছেন, আসলে আমার এই প্রশ্নটা না করার পেছনে একটা ভয় ছিল যে যদি উনি ফাটকে যাওয়ার কারণ হিসেবে বলতেন "ভাড়াটের সঙ্গে বচসা" তাহলে ব্যাপারটা আমার পক্ষে ভালো হতো কি!

Friday, June 24, 2016

"তেরো-চৌদ্দ বৎসরের ছেলের মতো পৃথিবীতে এমন বালাই আর নাই। ... তাহার মুখে আধে-আধো কথাও ন্যাকামি, পাকা কথাও জ্যাঠামি।"
-- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (ছুটি, গল্পগুচ্ছ)

"অবিবাহিত বন্ধুর হবু বউয়ের ছবি দেখে মন্তব্য করার মতো বালাই আর নাই। এক্ষেত্রে অধিক প্রশংসা যেমন দৃষ্টিকটু, প্রশংসার মাত্রা কিঞ্চিৎ কম হইলেও বন্ধুর মান থাকে না।"
-- কুণাল ব্যানার্জ্জী (অপ্রকাশিত গুচ্ছগল্প)

Thursday, June 23, 2016

দোকানে ঢুকে একটা বিস্কুটের প্যাকেট পছন্দ করে দোকানদারকে প্যাকেটটা আর একটা একশো টাকার নোট দিয়েছি। বিস্কুটটার দাম দেখি পঞ্চাশ টাকা। দোকানদার আমাকে বান্ডিল থেকে উপরের পঞ্চাশ টাকার নোটটা দিতে গিয়ে কি মনে করে নিচ থেকে একটা ঝকঝকে পঞ্চাশ টাকার নোট আমার দিকে এগিয়ে দিলো। নোটটা পেয়ে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে অধিক লাভবান না হলেও আনন্দের খানিক উদ্রেক হলো বৈকি!

Monday, May 23, 2016

"গেম অফ থ্রোনস" সত্যি সত্যি একটি সফল প্রয়াস। তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো এই টিভি শো-টির জন্যে লোকজন ইদানিং সোমবার দিনটির জন্যেও উৎসুক হয়ে অপেক্ষা করছে।

Tuesday, May 3, 2016

আজকে রাস্তায় দেখলাম একটি ছেলে একটা মালবোঝাই টেম্পো চালাচ্ছে আর পেছনে দুজন টেম্পোর সাথে সাথে যাচ্ছে। চালক ছেলেটির চেহারা ভালই আর টেম্পোতে খুব বেশি জিনিসও ছিল না। আমি ভাবছিলাম এই টেম্পোটা ঠেলার জন্য আরো দুজন লোক লাগছে ! এদিকে রাস্তায় খুব জ্যামে আটকে গেছে আমাদের অটো। অটোচালকও হয়তো একই কথা ভেবে ওই টেম্পোচালক ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করলো: "তোদের তিনজনকে মিলে এটা টানতে হচ্ছে !" টেম্পোর ছেলেটি কিছু বলতে যাবে এমন সময় জ্যামটা একটু পাতলা হওয়ায় টেম্পোটা খানিক এগিয়ে গেল। তারপরেই আমি ব্যাপারটা বুঝতে পারলাম। যেই টেম্পোটা সামনের গাড়ির ঠিক পেছনে এলো অমনি পেছনের ছেলে দুটো প্রানপণে টেম্পোটা টেনে ধরলো। টেম্পোটা শেষমেশ থামলো। আমাদের অটো ততক্ষণে আবার টেম্পোর পাশে। টেম্পোর ছেলেটি মুচকি হেসে বললো: "এটার ব্রেক নেই।"

-- অভিরূপ চট্টোপাধ্যায় (আমার মামাতো ভাই) -- WhatsApp-এ যেমনটি পড়েছি প্রায় তেমনটি এখানে তুলে ধরেছি।

Saturday, April 23, 2016

আমার ব্লগে আমি যেদিন প্রথম বাংলা পোস্টটা করেছিলাম সেদিনের তারিখ ছিল ২৬-এপ্রিল-২০১৪। তারপর প্রায় দু'বছর কেটে গেছে। আজকের পোস্টটা আমার ব্লগের ২০০তম পোস্ট।

নারী: "তুমি না কিচ্ছু রং চিনতে পারো না।"
পুরুষ: "যাঃ, কি যে বলো !"
নারী: "আচ্ছা, তাহলে বলো তো এই রংটা কি ?"
পুরুষ: "এ তো খুব সোজা -- গোলাপী।"
নারী: "না, হলো না। এটা হলো ক্রিমসন। আচ্ছা, তাহলে বলো ওই যে রংটা দেখছো -- সেটা কি ?"
পুরুষ: "এখান থেকে তো বাদামী বলেই মনে হচ্ছে।"
নারী: "এটাও হলো না, বুদ্ধুরাম, ওই রংটাকে বলে রাসেট। আচ্ছা, এবারেরটা কিন্তু লাস্ট ট্রাই। বলো তো পাশেই এই যে রংটা দেখতে পারছো -- এটা কি ?"
পুরুষ: "বেগুনী, মানে ভায়োলেট আর কি।"
নারী: "ধুস, এই সহজটাও পারলে না। এই রংটার নাম পার্পেল। এখন বুঝতে পারছো তো, তোমার রং সম্বন্ধে কোনো আইডিয়া নেই।"
পুরুষ: "না, আমার রং চিনতে না পারার পেছনে অন্য একটা কারণও থাকতে পারে।"
নারী: "সেটা কি ?"
পুরুষ: "গোলাপ, বাদাম, বেগুন -- এগুলো কোনোটাই আমরা এক দোকান-বাজার থেকে কিনিনি।"

Wednesday, April 20, 2016

লেখক: পর্ব ৯

মানুষের প্রিয়তম বস্তুগুলির মধ্যে অন্যতম হলো -- মাথার চুল। আয়নার সামনে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা চুলের পরিচর্যা করতে আমি অনেক মানুষকে দেখেছি। এই সব মানুষদের কাছে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হলো টাক পড়া। এসম্বন্ধে আরেকটু বিশদে জানতে হলে (বহুদিন আগে লেখা) আমার "ইন্দ্রলুপ্তি" শীর্ষক লেখাটায় একবার চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন।
তবে চুলের যত্নয়াত্তি সম্বন্ধে আমি এবং আমার দাদা কিন্তু সর্বসাধারণের তুলনায় অনেকটাই উদাসীন। এর কারণ আমাদের বাবা। ছোটবেলা থেকে অনেক বড়বেলা অবধি বাবা আমাদের চুল বড় হয়েছে দেখলেই তত্ক্ষণাৎ আমাদেরকে নিয়ে ইটালিয়ান সেলুনে গিয়ে নাপিতকে কঠোর নির্দেশ দিতেন: "চুল একদম ছোট হবে। দেখলেই যেন মনে হয় সাতদিন আগে ন্যাড়া হয়েছে।" চুল কাটা শেষে বাবা আমাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দেখে নিতেন চুলের দৈর্ঘ্য তাঁর মনোমত হয়েছে কিনা, চুল যথেষ্ট ছোট হয়নি বলে মনে হলে নাপিতকে আবার হাত লাগাতে হতো। (আপনাদের মধ্যে কেউ কেউ কি ভাবছেন "ইটালিয়ান সেলুন" বুঝি আহামরি কিছু? আরে ধুস, ইটালিয়ান সেলুন মানে সেই সমস্ত সেলুন যেখানে ইটের উপর বেঞ্চ পেতে খদ্দেরকে বসতে হয়।) এরকম চুলের ছাঁট নিয়ে যখন আমরা গরমের কিম্বা পুজোর ছুটির শেষে স্কুলে যেতাম তখন যে কতবার আমাদের বন্ধুরা আর টিচাররা আমাদের সম্প্রতি পৈতে হয়েছে ভেবে ভুল করেছে তার ইয়ত্তা নেই। যখন আমাদের সত্যি সত্যি পৈতে হয়েছিল তখন আমি সবে ক্লাস সেভেনে উঠেছি আর দাদা ক্লাস টেনে। আমার আর দাদার এক সাথে পৈতে দেওয়ার পেছনে কারণটা খুব সাধারণ -- কস্ট কাটিং (cost cutting)।
পাঠকদের মধ্যে অনেকের হয়তো ধারণা কস্ট কাটিং জিনিসটা বোধহয় হালফিলের আবিষ্কার। মোটেই তা নয় -- কস্ট কাটিং যুগ যুগ ধরে হয়ে আসছে। আমার আন্দাজ অনুযায়ী এই বস্তুটির প্রণেতা ত্রেতা যুগের রাজা দশরথ। বিশ্বাস না হলে রামায়ণ খুলে দেখুন, উনি নিজের চার ছেলের বিয়ে একসাথে দিয়েছিলেন। রাজা-রাজড়ার ব্যাপার -- বিয়ে মানেই এলাহী খরচা -- তাই চারবারের খরচাটা উনি একবারেই সেরে ফেলেছিলেন। এর চেয়েও পুরনো কোনো কস্ট কাটিংয়ের ঘটনা আপনাদের জানা আছে নাকি?

Saturday, April 16, 2016

আগের দিন একটা ডকুমেন্টারীতে দেখলাম যে ওষুধ কোম্পানিরা কোনো নতুন ওষুধ বাজারে ছাড়ার আগে সেটা কিছু রুগীর উপর পরীক্ষা করে দেখে নেয়। অবশ্যই যে সমস্ত রুগীরা স্বেচ্ছায় এই নতুন ওষুধটি নিজেদের উপর যাচাই করতে রাজি হয় শুধুমাত্র তাদের উপরেই নতুন চিকিত্সা পদ্ধতিটি প্রয়োগ করা হয়। কখনো কখনো এধরণের পরীক্ষায় সম্মতি জানালে ওষুধ কোম্পানির তরফ থেকে কিছু টাকা রুগীদের দেওয়া হয়। বিস্ময়কর ব্যাপারটি হলো এই সমস্ত রুগীদের মধ্যে অর্ধেককে আসল ওষুধটি দেওয়া হয়, বাকিদের একইরকম দেখতে চিনির ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল দেওয়া হয় যার কোনো গুণগত মান নেই -- এই নকল ওষুধটিকে placebo বলা হয়ে থাকে। প্রত্যেক রুগীই ভাবেন তিনি বুঝি আসল ওষুধটাই খাচ্ছেন, এদিকে ডাক্তাররা লক্ষ্য রাখেন যাঁরা আসল ওষুধটি খাচ্ছেন তারা বাকিদের থেকে কতোটা ভালো বা মন্দ আছেন। ডাক্তাররা ওষুধের কার্যকারিতা সম্বন্ধে নিশ্চিত হলে তবেই ওষুধটি বাজারে ছাড়া হয়।
অ্যাদ্দূর অবধি যা পড়লেন সে সমস্ত খবর হয়তো পাঠকদের আগে থেকেই জানা আছে। ভেবে দেখার বিষয় হলো কি ধরণের রুগীরা এধরণের পরীক্ষা নিজেদের উপর করতে রাজি হয়। কেউ কেউ হয়তো অর্থোপার্জনের জন্য সম্মতি জানায় তবে আমার ধারণা সাধারনতঃ যে সব রুগীদের ক্ষেত্রে অন্যান্য সকল গতানুগতিক চিকিত্সা ফলপ্রসু হয়নি তাঁরাই শেষ চেষ্টা ভেবে নতুন ওষুধটি ব্যবহার করতে রাজি হন। তাদের মধ্যে অর্ধেককে প্লাসেবো অর্থাৎ নকল ওষুধ দেওয়াটা একধরণের প্রতারণা নয় কি?
তবে কিনা ওষুধটির কর্মক্ষমতা যাচাই করার এটাই হয়তো শ্রেষ্ঠ উপায়। মানবকুলের রক্ষার্থে কিছু মানবকে বলিদান তো দিতেই হবে। বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্রতর স্বার্থ ত্যাগ করতেই হবে -- এটাই আমার মতে কম্যুনিজমের ভিত।

Monday, April 11, 2016

সৌম্যর বাড়িতে সরস্বতীপুজো করার দায়ভার তো নিয়ে নিয়েছি কিন্তু এদিকে পুজোর আয়োজন সম্বন্ধে আমার বিদ্যে তো লবডঙ্কা। তবে দেবীর কৃপায় এবং গুগল-এর সহায়তায় ইন্টারনেটের একটি লিংক থেকে সরস্বতী পুজোর যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারলাম। এই তথ্যাবলীটির যিনি রচয়িতা তিনি আমেরিকায় থাকেন, সেখানকার বাঙালি সমাজ যাতে সরস্বতী পুজোর রীতিনীতি ভুলে না যায় তাই তাকে রক্ষা করার জন্যে তাঁর এই সাধু প্রয়াস। কিন্তু মুশকিল হলো যে সব পুজোর দ্রব্যাদি আমেরিকায় পাওয়া যায় না সে সকল সামগ্রী উনি নিজ বিবেচনায় তাঁর উপকরণের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন। পুজোর দিন সকালে আমরা পুজোর উদ্যোক্তারা সেটা উপলব্ধি করলাম কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে। সব পুজোতেই কিছু না কিছু গাফিলতি থেকেই যায় তাই পুজোর শেষে ভগবানের কাছে ক্ষমা চাওয়ার একটা মন্ত্র বলে নেওয়াটা রীতি। ভাগ্য ভালো সেই মন্ত্রটা ইন্টারনেট থেকে জোগাড় করে রেখেছিলাম -- এই মন্ত্রটা বলে খানিক মানসিক শান্তি পাওয়া গেল।

Sunday, April 10, 2016

মা: "হ্যাঁ রে, জয়দীপের মায়ের কাছে শুনলাম আজকে তোদের হাফ-ইয়ার্লির অঙ্ক খাতা বেরিয়েছে -- কই তুই বলিসনি তো কতো পেয়েছিস?"
ছেলে চুপ। যে নম্বরটা আবিষ্কারের জন্য ভারতবর্ষ গর্বিত সে নম্বরটা বলতে কিন্তু ভারতীয়দের ভীষণ লজ্জা করে -- শূন্য।

Thursday, April 7, 2016

সেদিন দেখি এক মহিলা হেলমেট পরে রাস্তা পার হচ্ছেন। বেঙ্গালুরুর রাস্তাঘাট যা বিপজ্জনক -- ফুটপাথ তো সর্বত্র টু-হুইলার চালকদের কাছে শর্টকাট -- তাতে সত্যি সাবধানের মার নেই।

Sunday, April 3, 2016

Techsym নামক একটি সম্মেলন আইআইটি খড়্গপুরের স্টুডেন্টরা নিয়মিত ভাবে প্রতি বছর আয়োজন করে আসছে। ২০১১ সালে তালেগোলে আমি এই সম্মেলনের একজন উদ্যোক্তার পদ লাভ করেছিলাম। আমার প্রধান দায়িত্ব ছিল গত প্রত্যেক বছরের মতো সে বছরেও স্থানীয় স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে একটি কুইজ এবং একটি সায়েন্স এক্সিবিশন সংগঠন করা। আমার মতো করিত্কর্মা ছেলেকে একাজের দায়ভার দেওয়ার ফল হলো যে সেবছর থেকে এই দুটি অনুষ্ঠান সম্মেলনের কর্মসুচি থেকে চিরতরে কাটা পড়লো। আমাকে "ট্রেন্ড-কিলার" বলা উচিৎ না "ট্রেন্ড-সেটার" সে বিচার সমালোচকদের উপর ছেড়ে দিয়ে আপাতত আমরা আমার এই সম্মেলনের দ্বিতীয় কার্যভারের গল্পে চলে আসি।
এই দায়িত্বটি তুলনামূলক ভাবে বেশ সোজা -- গাড়ি করে খড়্গপুর থেকে কলকাতা এয়ারপোর্ট যাওয়া আর সেখান থেকে এক নিমন্ত্রিত অতিথিকে সেই গাড়ি করে খড়্গপুর গেস্ট হাউসে নিয়ে আসা। আমাদের সম্মেলনের ক্যাশিয়র প্রদীপ্ত জানালো যে এই জার্নির সময় গেস্টের এন্টারটেইনমেন্টের বাবদ যদি কিছু জলখাবারের ব্যবস্থা করতে হয় তাহলে সে সমস্ত খরচা বিল দেখালে সম্মেলনের ফান্ড থেকে আমাকে ফেরৎ দিয়ে দেওয়া হবে। উপরন্তু এয়ারপোর্টে যাওয়ার সময় পুরো রাস্তা একা একা যাওয়াটা অনেকেরই বিরক্তিকর লাগে বলে ঠিক হলো আমার সাথে আমার রুমমেট সৌম্যও যাবে। দুই উর্বর মস্তিস্ক আর বৃহৎ উদর এক হলে যা হয় তাই হলো। আমরা দুজন কম্পিউটার সায়েন্স ডিপার্টমেন্টের সামনের কফি হাউস থেকেই আমাদের পেটপুজো শুরু করে দিলাম, অবশ্যই বিলগুলো জোগাড় করে নিতে ভুলিনি। এয়ারপোর্টে পৌঁছে প্রথমেই আমরা হানা দিলাম সেখানকার CCD-তে। সে সময় CCD ছিল আমাদের কাছে দুর্লভ বস্তু, তখন যা স্কলারশিপ পেতাম তাতে CCD-তে ঢোকার কথা আমরা ভাবতেই পারতাম না -- নেহাৎ রিফান্ড পেয়ে যাব তাই সেদিন সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে ঢোকা। এদিকে আমাদের সেই নিমন্ত্রিত অতিথি এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে আমাদেরকে নির্দিষ্ট জায়গায় দেখতে না পেয়ে আমাকে ফোন করলেন। আমি তো CCD-তে বসে ফোন ধরে বিস্মিত ভঙ্গিতে তাকেই জিজ্ঞেস করলাম কোথায় তিনি, আমরা তো এদিকে তাকে খুঁজে খুঁজে হয়রান হয়ে গেছি।
এই অতিথির নাম উহ্যই থাক -- শুধু শুধু এক ভদ্রলোককে এই গল্পের মাঝে টেনে এনে লাভ নেই। তবুও গল্পের খাতিরে আমরা তাকে মাইক্রোবাবু বলবো। (উনি মাইক্রোসফ্ট-এ চাকরি করেন তো, তাই।) মাইক্রোবাবুর সাথে আমি আর সৌম্য নানা কথা বলতে বলতে ফিরছি, এদিকে আমাদের দুজনেরই মাথায় ঘুরছে মাইক্রোবাবুকে রাজি করিয়ে যদি মাঝখানে কোলাঘাটে গাড়ি থামিয়ে "শের-ই-পাঞ্জাব" নামক হোটেলটায় ডিনারটা সেরে ফেলা যায় তাহলে মন্দ হয় না। তাই আমি আর সৌম্য পালা করে মাইক্রোবাবুকে খানিকক্ষণ পরপর ওনার ক্ষিদে পেয়েছে কিনা সেটা ওনাকে জিজ্ঞেস করে যাচাই করে নিচ্ছিলাম। উনি যতো "না" বলেন আমরা ততো জোর দিয়ে বলি উনি যেন কোনো মতেই লজ্জা করে ক্ষিদে পাওয়ার (সু)-সংবাদটা আমাদের কাছে লুকিয়ে না রাখেন। কিন্তু আমাদের মনোস্কামনা পূর্ণ না করে গাড়ি একেবারে আইআইটির গেস্ট হাউসে এসেই থামলো। গেস্ট হাউসে পৌঁছে জানতে পারলাম আমাদের ফিরতে দেরি হতে পারে ভেবে মাইক্রোবাবুর সাথে আমার আর সৌম্যার ডিনারের ব্যবস্থাও গেস্ট হাউসে সেদিন করা হয়েছে। মাইক্রোবাবুর বরাত সত্যিই ভালো বলতে হবে, না হলে সেদিন রাত্রে ওনাকে আমার আর সৌম্যার এতো অভিশাপ কুড়োতে হতো ...

তবে গল্প এখানেই শেষ নয়। পরদিন ক্যাশিয়র প্রদীপ্তকে আমাদের খাবারের বিলগুলো জমা দেওয়াতে সে দেখে বললো: "গেস্টের এন্টারটেইনমেন্ট বাবদ সমস্ত খরচা রিফান্ড করার কথা ছিল কিন্তু তোদের সমস্ত বিলেই প্রত্যেকটা আইটেম দুটো করে দেখছি কেন? গেস্ট প্লাস তোরা দুজন অর্থাৎ তিনটে করে আইটেম থাকা উচিৎ তো !" যাই হোক, বন্ধু বলে ক্ষমা ঘেন্না করে রিফান্ডটা শেষমেশ করে দিয়েছিল প্রদীপ্ত।

সামনেই ২০১৬ সালের Techsym অনুষ্ঠিত হতে চলেছে -- আমার এই লেখা এবছরের কোনো উদ্যোক্তা পড়ে ফেললেই চিত্তির।

Saturday, April 2, 2016

আমাদের বাড়ির কাছে "পদ্মশ্রী" নামক একটা ফালতু সিনেমা হল আছে। সিনেমা হলটার দুর্নাম আগে শুনেছিলাম বটে তবে হলটা কতোটা বাজে সে সম্বন্ধে সঠিক ধারণা না থাকায় আমি আর দাদা একবার ভুল করে "Krish" সিনেমাটা দেখতে ওই হলে ঢুকে পড়ি।
প্রথমত, এই সিনেমা হলের টিকিটে কোনো সিট নম্বর থাকে না। টিকিট কেটে একবার ঢুকে পড়লে যে কেউ যে কোনো ফাঁকা সিটে বসে পড়তে পারে। আমি আর দাদা সিনেমা শুরু হওয়ার অল্প কিছুক্ষণ আগে টিকিট কেটে হলে ঢুকি। ভেবেছিলাম সমস্ত সারির মাঝখানের সিটগুলো নিশ্চয়ই এতোক্ষণে বেদখল হয়ে গেছে, কিন্তু ঢুকে দেখি যে দর্শকরা ধারের সিটগুলো ভর্তি করে ফেলেছে -- মাঝখানের সিট মোটামুটি ফাঁকা। নিজেদের সৌভাগ্যবান ভেবে আমরা তাড়াতাড়ি গিয়ে মাঝখানের দুটো সিটে বসে পড়ি এবং সামান্য সময়ের মধ্যে এই হলের দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্যটি আবিষ্কার করি -- এই হলের সমস্ত ফ্যান দুইদিকের দেয়ালে লাগানো, তাই ধারের সিটে বসা দর্শকরাই শুধু হাওয়া খেতে পারে। এদিকে মাঝখানের সিটে বসে আমরা কুল কুল করে ঘামছি।
যাই হোক, সিনেমা তো শুরু হল। শারীরিক কষ্ট ভুলে সিনেমাতে ডুব দিলাম। শুরুতেই চমক: (সিনিয়র) হৃতিক রোশন একটি দুর্ঘটনায় মারা পড়লো। পাশ থেকে কে একজন সংবেদনশীল মহিলা দর্শক বলে উঠলো: "এ মা ! হৃতিক মারা গেলো।" হলে বসে সিনেমা দেখার সময় টুকটাক এমন মন্তব্য কানে আসবেই -- তাতে বিরক্ত হওয়ার কিছু নেই, বরং মাঝেমাঝে কিছু চটুল মন্তব্য পরিবেশটাকে আরো জমিয়ে তোলে। তবে এই ক্ষেত্রে ব্যাপারটা বেয়াড়া দিকে মোড় নিলো সামনের সারি থেকে এক পুরুষ দর্শকের ভেসে আসা মন্তব্যে: "আপনি চিন্তা করবেন না ম্যাডাম -- হৃতিক মরেনি, ওকে ভিলেনরা বন্দী করে রেখেছে। ছেলে হৃতিক ক্রিশ হয়ে বাবাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসবে।" এ কি জ্বালাতন ! সিনেমার গল্প কেও আগে থেকে বলে দিলে আমার মোটেও ভালো লাগে না। সিনেমা শেষ হওয়ার পর হলে যখন আলো জ্বলে উঠলো তখন লক্ষ্য করলাম সামনের সারির সেই জ্ঞানী দর্শকটি পদ্মশ্রী হলের টিকিট চেকার।

Thursday, March 31, 2016

ব্রাহ্মণ পরিবার যখন তখন বংশে কেও না কেও তো নিশ্চয়ই অপরের বাড়ি গিয়ে পৌরহিত্য করে এসেছেন, তবে আমার দেখা আমাদের বংশে আমিই প্রথম। সম্প্রতি বেঙ্গালুরুতে আমার আইআইটির রুমমেট সৌম্যর বাড়িতে সরস্বতী পুজো করে এলাম। ফেসবুকের দৌলতে সে খবর আপনারা অনেকেই আগে পেয়ে গেছেন। ভেতরের খবর হলো দক্ষিণা পেয়েছি মাত্র এক টাকা, কার্যত বুঝতেই পারছেন আমার একমাত্র সঞ্চয় হলো -- অভিজ্ঞতা। এই অভিজ্ঞতা সবিস্তারে না হয় পরে কখনো সুযোগ পেলে বলবো, আপাতত পুজোর প্রধান সামগ্রী -- সরস্বতী ঠাকুরের প্রতিমা -- জোগাড় করা নিয়ে কিছু মজার ঘটনা বলি।
এখানে সরস্বতী পূজার প্রচলন নেই বলে সৌম্য তো মায়ের প্রতিমার সন্ধানে ঘুরে ঘুরে হয়রান। অবশেষে এক দোকানে সরস্বতীর একটি ছোট (দক্ষিণ ভারতীয় মুখের আদলসহ) প্রতিমা খুঁজে পেয়ে তাই চটপট কিনে ফেলে; সে দেখতে যেমনই হোক, পাওয়া তো গেছে -- এই রক্ষে! তখন যে সরস্বতী পুজোর সময় সেটা তো এখানকার দোকানদার জানে না, তাই সেও চটপট নিজের ব্যবসাহিক বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে গণেশের একটি বিগ্রহ বের করে সৌম্যকে (ইংরেজিতে) বলে: "আপনি এই ভগবানকেও সঙ্গে নিয়ে যান -- ইনিও পরীক্ষায় পাস করতে সাহায্য করেন।"
এই ঘটনাটির লেজুড় আরেকটু আছে। সরস্বতী পুজোর আগের দিন সৌম্য অফিস থেকে বেরিয়ে দেখে অফিসের উল্টো দিকে রাস্তায় একজন মৃৎশিল্পী প্রচুর দেবদেবীর বিগ্রহের পসরা নিয়ে বসেছে। তার কাছে মনোমতন সরস্বতীর প্রতিমা পাওয়া যায় এবং সেই প্রতিমাই পুজোতে ব্যবহৃত হয়।

Monday, March 28, 2016

বেঙ্গালুরুতে খরচা যেমন আছে তেমন টাকাও কিন্তু আছে। সেদিন ডমিনো'স পিত্জার সামনে দেখি বিজ্ঞাপন দিয়েছে যে পিত্জা ডেলিভারি করার জন্য লোক চাই -- মাইনে দেখি অনেক পিএইচডি স্কলারের স্কলারশিপের চেয়ে বেশ বেশি। এই দেখে সম্প্রতি শোনা একজন প্রফেসরের কথা মনে পড়ে গেল। ইনি ডিএসটি (ডিপার্টমেন্ট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি) অনুমোদিত স্কলারশিপের চেয়ে অনেক কম স্কলারশিপ দেন নিজের ছাত্রদের। এই কম স্কলারশিপ দেওয়ার কারণ ছাত্ররা একবার ওনার কাছে পিএইচডি করতে ঢুকলে যাতে মাঝখানে ছেড়ে না চলে যায়।
এই বিপরীত বিবেচনার কথা পড়ে অবাক হচ্ছেন? তাহলে শুনুন।
আসলে এই প্রফেসর যখন প্রথম চাকরিতে ঢোকেন তখন ওনার কাছে প্রথম যে ছাত্রটি পিএইচডি করতে ঢুকেছিল তাকে উনি ঠিকঠাক পয়সাই দিতেন। এই ছাত্রটিকে প্রথম একবছর কাজকর্ম সম্বন্ধে কিছু জিজ্ঞেস করলেই সে "সায়েন্স", "নেচার" জাতীয় তাবড় তাবড় জার্নাল পড়ে পিএইচডির জন্য প্রবলেম বার করা নিয়ে ব্যস্ত আছে -- এই কথা বলতো। স্যারের তো এই ছাত্রকে ঘিরে প্রচুর আশা। এক বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর একদিন সকালে ছাত্রটি এসে স্যারকে প্রণাম করে নিজের পদত্যাগপত্রটি জমা দিল। স্যারের তো ইস্তফাপত্র পড়ে মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। হঠাৎ কাজ ছাড়ার কারণ জিজ্ঞেস করলে পরে ছাত্রটি জানায় যে আসলে সে এমবিএ-র জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এমবিএ পড়ার খরচা অনেক -- তার খানিকটা এই এক বছরে সে জমিয়ে ফেলেছে।
এর পর থেকে সেই প্রফেসর আর কোনো ছাত্রকে টাকা জমাবার সুযোগ দেবেন না বলে প্রতিজ্ঞা করেছেন।

পুনশ্চঃ এই ঘটনাটা যাদেরকে আগে বলেছি তারা সবাই অভিমত জানিয়েছে যে এরকম ছাত্রই এমবিএ পড়ে ভবিষ্যতে দুঁদে ম্যানেজার হয় -- তা, আপনি কি বলেন?

Monday, March 14, 2016

বাবা: আমাকে একটা ফেসবুকে প্রোফাইল খুলে দে।
ছেলে: তুমি তো মেল-ই করতে পারো না. ফেসবুকে কি করবে?
বাবা: তুই তো ইনকামই করতে পারিস না, তাও ব্যাঙ্কের একাউন্ট খুলেছিস। আমি কিছু বলেছি?
অদ্ভুত নিস্তব্ধতা।

(মৈনাকের সৌজন্যে)

Monday, March 7, 2016

ছবিদার দোকান (মৈনাকের সংযোজন):

সেদিন, ২৯ শে ফেব্রুয়ারী, এই দুপুর বেলা লাঞ্চ টাইমে ছবিদার দোকানে সিগারেট কিনতে গেছি। ছবিদা লোকটা এমনিতে কোনো খবর টবর রাখে না, দোকানে গেলেই সবসময় B-গ্রেড বাংলা সিনেমার গান শুনতে পাওয়া যায়। কিন্তু তাহলে কি হবে, বাজেটটা ঠিক শুনতেই হবে।
সেদিন ১০০ টাকার একটা নোট ধরিয়ে বললাম,
"দাও গোল্ড ফ্লেক, এক প্যাকেট"...
ছবিদা চুপচাপ প্যাকেটটা দিয়ে একটা ১০ টাকার নোট আর একটা ৫ টাকার কয়েন ফেরত দিল...
আমি : কি হল? আর ৫ টাকা?
ছবিদা : ও দাম বেড়ে গেছে, বাজেটে বলে দিয়েছে।
আমি : আরে অরুণ জেটলি এখনো বাজেট শেষ করেনি আর তুমি দাম বাড়িয়ে দিলে?
ছবিদার সেই বিখ্যাত হাসি, সে হাসি দেখলে আর কিছু বলা যায় না, শুধু ছবিদার দিকে তাকিয়ে দুটো অস্ফুট চার অক্ষর মনের ভেতর ঘুরপাক খায়...

Sunday, March 6, 2016

পিএইচডি করা এক ইঞ্জিনিয়ারের বৃত্তান্ত:
আমার ভিসিটিং কার্ডটা হাতে নিয়ে ভদ্রলোক বললেন -- "তোমার নামের আগে Dr লেখা, এদিকে তোমার ডেসিগনেশান লেখা আছে 'সিনিয়র সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার'! তুমি একই সাথে ডাক্তার আবার ইঞ্জিনিয়ারও?"

Sunday, February 21, 2016

অফিসে সহকর্মীদের ভেতর আলোচনা হচ্ছে। একজনের শ্বশুরমশায় নতুন গাড়ি কিনবেন -- "গাড়িটি শক্তপোক্ত, এসি, ফাইভ সিটার, আরামপ্রদ এবং এটাই যেহেতু তার শেষ গাড়ি হতে চলেছে তাই আধুনিক মডেলের হওযা চাই।" অন্যান্য সহকর্মীরা এই বৈশিষ্ট্যগুলি মাথায় রেখে তাকে নিজের নিজের মতামত জানাচ্ছে; কেউ কেউ বাকি সকলের সুপারিশ করা গাড়ির মডেলের নিজের পচ্ছন্দটি কেন শ্রেষ্ঠ সেই নিয়ে তর্কাতর্কি করছে। "জামাই" সহকর্মীটি বন্ধুদের নির্দেশিত প্রত্যেকটি গাড়ি তার চাহিদার তালিকার কতগুলো বস্তুর সাথে ঠিক ঠিক মিল খাচ্ছে তা নোট করে নিচ্ছে। আমি এসবের কিছুই বুঝি না তাই পাশে বসে চা খেতে খেতে চুপচাপ এদের কথা শুনছিলাম। শুনতে শুনতে হঠাৎ একটা জিনিস উপলব্ধি করলাম: "এই টেবিলটা পাঁচ হাজার টাকায় কিনলাম" -- এই কথাটা বললে বাকিরা যেরকম "হুম, দামটা একটু বেশি নিয়েছে" বা "জিনিসটা তো খুব সস্তায় পেয়ে গেছ হে" এ জাতীয় মন্তব্য করে থাকে -- অর্থাৎ তারা মনে মনে বস্তুটির দামের সাথে একটা নম্বর জুড়ে ফেলে, ঠিক সেরকমই "এটাই যেহেতু তার (শ্বশুরের) শেষ গাড়ি" -- এই মন্তব্যটি করার সময় জামাই বাবাজীবন তার শ্বশুরের আয়ুর উপর মনে মনে একটি নম্বর বসিয়ে দিয়েছে।

Wednesday, February 17, 2016

কাজের চাপ বাড়ছে তাই লেখার তেমন সুযোগ পাচ্ছি না। আজকে ফাঁকতালে একটা ছোট্ট ব্যক্তিগত ঘটনা বলে রাখি।
গত সপ্তাহে একটা অদ্ভুত স্বপ্ন দেখলাম। স্বপ্নটার বিশেষত্ব হচ্ছে স্বপ্নে আমি চোখের স্বাভাবিক দৃষ্টি ক্ষেত্রের বাইরের বস্তুও দেখতে পাচ্ছিলাম -- যেমন ধরুন আমার কানের পেছনের জিনিসপত্রও আমি স্পষ্ট ঠাহর করতে পারছিলাম। কিন্তু হঠাৎ এতো তথ্য আমার মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় একটা ভীষণ অস্বস্তিতে ঘুমটা ভেঙ্গে গেলো।
আপনাদের কারুর এ জাতীয় অদ্ভুত স্বপ্ন দেখার অভিজ্ঞতা আছে নাকি?

Sunday, January 31, 2016

"হ্যাঁ, আমি কুঁড়ের বাদশা। রাজবাড়ির গোলাম হওয়ার চেয়ে কুঁড়েঘরের বাদশা হওয়া ঢের ভালো।" -- শিব্রাম চকরবরতি

Saturday, January 30, 2016

হাট্টিমাটিম ছানা -- শুভ্রাংশু মন্ডল

সকাল বেলায় উঠে দেখ হাট্টিমাটিম ছানা,
আজব সুরে গান ধরেছে, গায়ে আজব জামা ।
গানের সুরে হাওয়ায় উড়ে ফুটছে ঘোড়ার ডিম,
বেরিয়ে পরেই ছানাগুলো সব নাচছে ধিতাং ধিন ।
হাট্টিমাটিম গিয়েছিল কুট্টিমামার বাড়ি,
সেখানে এসব গান সিখেছে পেতে কুয়োয় আড়ি ।
এসব নাকি ভূতের ছানার উরুং বুরুং রাগিনী,
সেসব শুনে ঘোড়াগুলো সব ডিম পাড়ে জাপানী ।
তাই থেকে ফুটে বেরোয় পক্ষীরাজের ছানা,
হাট্টিমাটিম উড়ে বেড়ায়, নেই কোনো তার মানা ।

Monday, January 25, 2016

"আমি যন্ত্র, তুমি যন্ত্রী"

ভাবতে ভালো লাগে আমাদের জীবন সম্পূর্ণ আমাদের নিয়ন্ত্রণে যদিও তা সব সময় সত্যি নয়। পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে হলেও আমরা কিন্তু অধিকাংশ সময় তা বুঝতে পারি না। সম্প্রতি এক ব্যক্তির সঙ্গে প্রায় প্রতিদিন দেখা হচ্ছে আপাতদৃষ্টিতে যার নিজের পেশাগত জীবনের উপর বিন্দুমাত্র নিয়ন্ত্রণ নেই। ইনি একজন ট্রাফিক পুলিশ।
এঁনার কাজ জনগণকে নিরাপদে রাস্তা পার করে দেওয়া। কিন্তু আমি লক্ষ্য করেছি যখন জনগণ রাস্তার ধারে অপেক্ষা করতে করতে বিরক্ত হয়ে গিয়ে সমবেত ভাবে রাস্তা পেরোতে সচেষ্ট হয় এবং আশপাশের গাড়ি পাবলিকের অভিপ্রায় বুঝতে পেরে নিজে থেকেই দাঁড়িয়ে পড়ে, তখনই ইনি বাঁশি বাজিয়ে লোকজনকে রাস্তা পার করানোর জন্যে তৎপর হয়ে ওঠেন।