Monday, December 25, 2017

বড়দিনে একটা ছোট্ট গল্প:

লোকাল ট্রেন। ভীষণ ভিড়। এক যাত্রী কোনোরকমে জানলার একটা গরাদ ধরে ঝুলে পড়েছে। খানিক বাদে আর থাকতে না পেরে চেঁচিয়ে ওঠে: "দাদা, আমি এখানে ঝুলছি।"
ভেতর থেকে আরেক যাত্রী উত্তর দেন: "শুধু ঝুলে থাকলেই লম্বা হবে না, মামনি কে বলো কমপ্লান খাওয়াতে।"

Sunday, December 3, 2017

লেখক: পর্ব ২২

ইঞ্জিনিয়ার এবং মেকানিকের ভেতরের তফাৎটা অনেকে বোঝেন না, ভাবেন দুটোই বুঝি এক জিনিস। আমি বুঝিয়ে দিচ্ছি তফাৎটা কোথায়। বি.টেক. কিংবা বি.ই. ডিগ্রী থাকলে সে ইঞ্জিনিয়ার আর হাতে কলমে কাজটা জানলে সে মেকানিক। যার যত বেশি ডিগ্রী তার মানে সে তত বেশি পুঁথিগত বিদ্যা আয়ত্ত করেছে, ব্যবহারিক জীবনে সেই সমস্ত বিদ্যার প্রয়োগ সাধারণতঃ খুব সামান্য।
পিএইচডি করার পর থেকে যখন কোনো আত্মীয়ের অথবা বন্ধুর কম্পিউটারে নেটওয়ার্ক কেন আসছে না কিংবা অপারেটিং সিস্টেমের কোনো সার্ভিস কেন চলছে না এই জাতীয় প্রশ্নের উত্তরে "আমি জানি না" বলি তখন তাঁদের মুখগুলো হয় দেখার মতো। প্রাথমিক অভিব্যক্তি হয় বিস্ময়ের কিন্তু খানিক পরেই তা ক্রোধে পরিণত হয়। সে সময় যদি তাঁরা আমার ডিগ্রী সার্টিফিকেটের নাগাল পান তাহলে বোধ করি তক্ষুনি তা ছিঁড়ে কুটি কুটি করে তারা আমার মুখে ছুঁড়ে মারবেন। তবে ইদানিং কালে কেউ এধরণের প্রশ্ন করলে নিজের সম্মান রক্ষার্থে আমি একটা টোটকা বার করেছি। এই টোটকা আমি পেয়েছি ছোটবেলায় শোনা একটা গল্পের থেকে। ছোট্ট করে সেটা এখানে বলে নেওয়া যাক।

এক দেশে এক বৃদ্ধ বৈদ্য ছিল। তাঁর দেশজোড়া সুনাম। এদিকে তাঁর ছেলেটি গণ্ডমূর্খ। তখন বোধহয় জাতিভেদ প্রথা তুঙ্গে ছিল। তাই নিয়ম অনুযায়ী বৈদ্যের ছেলেকেও বৈদ্য হতে হবে। মারা যাওয়ার সময় বৃদ্ধের মাথায় একটি বুদ্ধি আসে। সে ছেলেকে কাছে ডেকে হরীতকী দ্বারা নির্মিত একটি মাত্র ওষুধ তাকে শেখায় এবং উপদেশ দেয় যে যে কোনো রুগী তার কাছে এলে সে যেন এই  ওষুধটি তাকে খেতে দেয়। আসলে এটি পেট পরিষ্কার করার ওষুধ এবং বৃদ্ধ বৈদ্য জানতেন পেট সাফ থাকলেই অধিকাংশ রোগ দূর হয়ে যায়। পিতার মৃত্যুর পর পিতার কথা অনুযায়ী ছেলে বৈদ্য হয়ে সে প্রত্যেক রুগীকে এই এক ওষুধ দিতে থাকে আর বেশির ভাগ রুগী ওষুধ খেয়ে সুস্থ হয়ে ওঠায় তার নাম ছড়িয়ে পড়তে থাকে।
আমার এই লেখার জন্যে গল্পের এইটুকু লিখে রাখলেই চলতো তবে পাঠকদের জন্যে গল্পের বাকিটাও লিখে রাখি। একদিন সেই রাজ্যের সীমানায় শত্রুদেশের রাজা সৈন্যদল নিয়ে এসে তাঁবু গাঁড়লেন। যুদ্ধ আসন্ন বুঝতে পেরে রাজার মাথায় হাত পড়লো কারণ তার সৈন্য শক্তি শত্রুদেশের অর্ধেক। এদিকে বিনা যুদ্ধে সমর্পন করা এটাও তিনি ক্ষত্রিয় হয়ে মেনে নিতে পারেন না। রাজা তরুণ বৈদ্যের সুনাম শুনেছেন তাই তিনি তখন সেই বৃদ্ধ বৈদ্যের ছেলেকে রাজদরবারে ডেকে পাঠান। রাজা তরুণ বৈদ্যকে নির্দেশ দেন রাজ্যের সৈন্যদের বলবৃদ্ধির জন্যে কোনো ওষুধ দিতে। মূর্খ বৈদ্য তো একটি বই দুটি ওষুধ জানে না তাই সে পরিচিত ওষুধটিই একটু বেশি মাত্রায় সৈন্যদের দিয়ে দেয়। এর ফলে পরদিন সেই রাজ্যের সৈন্যদের ঘনঘন বাহ্যে যেতে হয়।
এদিকে শত্রুদেশের রাজা গুপ্তচর লাগিয়েছিলেন প্রতিপক্ষের সৈন্যবল আসলে ঠিক কতখানি তা যাচাই করার জন্য। সেই গুপ্তচরের বলিহারি বুদ্ধি মাইরি! সে সৈন্য শিবিরের সামনে যে পুকুরটি ছিল তার সামনে লুকিয়ে থেকে বাহ্যে করতে কতজন সৈন্য আসছে তার গণনা করতে থাকে। একজন মানুষ দিনে একবারই ইয়ে করে -- এরকমটা ভেবে এসেছিলো সেই গুপ্তচর। এদিকে ওষুধের প্রভাবে এক একজন সৈনিককে দিনে দশবার করে পুকুরপাড় থেকে ঘুরে আসতে হয়। ফলে শত্রুরাজার কাছে খবর যায় যে বিরোধী রাজা তাঁর চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং তিনি তাড়াতাড়ি যুদ্ধ না করেই চম্পট দেন। অপরদিকে তরুণ বৈদ্যকে তার রাজ্যের সকলে ধন্যধন্য করতে থাকে। (সতর্কীকরণঃ ছোটবেলার গল্প শুরুতেই লিখেছি তাই বেশি লজিক খুঁজতে যাবেন না।)

আবার আমার জীবনে ফিরে আসি। টোটকাটা কি ভাবছেন? আমারও ওই তরুণ বৈদ্যর মতন একটা উত্তর আছে যা আমাকে কম্পিউটার সংক্রান্ত কোনো সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন করলে আমি সবাইকে বলে থাকি এবং বিশ্বাস করুন অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেটা সমস্যার সমাধানও করে দেয়। সেই উত্তরটা হলো: "মেশিনটা আরেকবার রিস্টার্ট করে দেখুন তো ..."

Friday, November 24, 2017

"সাত কান্ড রামায়ণ পড়ে সীতা কার মাসি?"
উপরের কথাটা নিশ্চয়ই বহুবার শুনেছেন। এরকমই একটা ঘটনা ঘটেছিলো বি.টেক. পড়াকালীন -- সেটাই নিচে লিখে রাখলাম।

স্যার ক্লাসে ডাটাবেস (database) পড়াচ্ছেন। সেদিনের বিষয় ছিলো রিড লক (read  lock) এবং রাইট লক (write lock)। ক্লাসের শেষে উনি ছাত্র-ছাত্রীদের জিজ্ঞেস করলেন কারোর কোনো প্রশ্ন আছে কিনা। এই শুনে আমাদের এক সহপাঠী অর্ণব উঠে দাঁড়িয়ে স্যারকে প্রশ্ন করলো: "স্যার, আপনি ক্লাসে রাইট লক নিয়ে কথা বললেন কিন্তু কোই লেফ্ট লক নিয়ে তো কিছু বললেন না!?"

Thursday, November 16, 2017

চার বছর আগে এই দিনে ফেসবুকে লেখা আমার একটি পোস্টের বঙ্গানুবাদ।

(শচীনের) ক্রিকেট বনাম (আমার) রিসার্চ:

শচীন টেন্ডুলকার ক্রিকেটে সর্বাধিক রানের অধিকারী। আমাদের কিন্তু এটা মনে রাখা উচিৎ যে শচীন যতবার রান নেওয়ার জন্যে ক্রিজ ছেড়ে দৌড়েছেন ততবার আরেক ব্যক্তি (রানার্স এন্ডের ব্যাটসম্যান) উল্টোদিকে দৌড়েছেন -- এবং এভাবেই প্রতিবার দৌড়ে রান স্কোর করেছেন শচীন।
আমি যখনই মনে মনে একটা ভালো কাজ করেছি এই ভেবে পেপার সাবমিট করি ততবার আরেক ব্যক্তি (রিভিউয়ার) উল্টোটা ভাবেন -- এবং এভাবেই প্রতিবার রিজেকশন পেয়ে থাকি আমি।

Tuesday, October 31, 2017

বেঙ্গালুরুতে ঘর থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে আটকে পড়েছেন -- এদিকে উবের বা ওলাতে কোনো ট্যাক্সি পাচ্ছেন না -- ভাবছেন এখন কি করবেন?

ঘাবড়াবেন না। কাছাকাছি কোনো একটা রেস্তোরাঁয় সোজা গিয়ে ঢুকে পড়ুন। তারপর সেই হোটেল থেকে ঘরের জন্য একটা মিল বুক করে ফেলুন। ডেলিভারি বয় পৌঁছে গেলে তার বাইকের পেছনে বসে খাবার সমেত নিশ্চিন্তে ঘরে পৌঁছে যান।
সস্তায় পুষ্টিকর -- এর চেয়ে বেশি ভালো উদাহরণ আর কিছু পাবেন না।

Thursday, October 19, 2017

আজ কালীপূজা। বললে বিশ্বাস করবেন না -- সক্কাল সক্কাল মা জগজ্জননীর দেখা পেয়ে গেলাম। তবে রামকৃষ্ণ কিংবা বামাক্ষ্যাপার মতো মস্ত লাইফটাইম ভক্ত তো আর নই তাই নিতান্তই সাধারণ ভক্তের জন্য মা "ছোটা রিচার্জ" প্যাকে ধরা দিলেন। 

আজ সকালে অফিসে ব্রেকফাস্টে "কর্ণফ্লেক্স উইথ ফ্রুটস" অর্ডার দিয়েছি। কাউন্টারের ওপাশ থেকে ছেলেটি জিজ্ঞেস করলো ফলগুলো কি খোসা ছাড়িয়ে কর্ণফ্লেক্সে মেশাবে? আমি জানালাম না থাক, খোসা থাকলে আমার কোনো আপত্তি নেই। ছেলেটি দেখি আপেল ইত্যাদি দেওয়ার পর কলাও খোসা সমেত মেশাতে যাচ্ছে। আমি সঠিক সময়ে চেঁচিয়ে উঠে তাকে সাবধান করে দেওয়ায় ছেলেটি শেষ মুহূর্তে নিজেকে সামলে নেয়। অন্যমনস্কতাবশতঃ আরেকটু হলেই যে ছড়িয়ে ফেলছিলো সেটা বুঝতে পেরে ছেলেটি তৎক্ষণাৎ আমার দিকে তাকিয়ে এক হাত জিভ বার করে মা কালীর রূপ ধারণ করলো।

Wednesday, October 18, 2017

লেখক: পর্ব ২১

ভূত চতুর্দশীতে ভূতের গল্পই মানায়। কিন্তু আপাতত আমার ভূতুড়ে গল্পের ভাঁড়ার শূন্য হওয়ায় আমি বরং আমার প্রথম ভূতের সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতাটাই আপনাদের সাথে শেয়ার করি। আমার দেখা প্রথম ভূতের সিনেমা: ইভিল ডেড, যেটা পরবর্তী কালে একটি কাল্ট মুভিতে পরিণত হয়েছে। আমার ধারণা আপনারা অনেকেই সিনেমাটি দেখেছেন কিন্তু আমি যে বয়সে সিনেমাটা দেখেছি হলপ করে বলতে পারি যে আপনারা সে বয়সে দেখেননি। আমি এই সিনেমাটি দেখি ক্লাস ফোরে পড়াকালীন। মাথায় কি ভূত চেপেছিলো জানি না, সে সময় বাবা মার কাছে বায়না ধরেছিলাম ভূতের সিনেমা দেখবো। আমাকে সে সময় স্কুল বাসে তুলতে যেত একটা ছেলে -- সেই কোথ্থেকে জোগাড় করে দিয়েছিলো একটা ভিসিআর আর ইভিল ডেড সিনেমার ভিডিও ক্যাসেটটা।
সিনেমা দেখে তো আমার হালুয়া টাইট -- প্যান্ট হলুদ করে ফেলি আর কি! তারপর প্রায় এক মাস আমি কোনো ঘরে একা থাকতে সাহস পাইনি, অন্ধকার রাস্তা এড়িয়ে চলেছি, দিনে দুপুরে বাথরুম যেতে পর্যন্ত বুক দুরুদুরু করতো।
আমাকে তখন পাড়ার মসজিদে নিয়ে যায় আমাদের বিল্ডিংয়ের কেয়ারটেকার দিলীপকাকু। সেখানে এক পীর বাবা ঝাঁটা দিয়ে আমাকে ঝেড়ে দেয় (বিঃদ্রঃ টিভিতে দেখা ওঝাদের ঝাঁটাপেটার সাথে এই ঝাড়ার কিন্তু বিশেষ মিল নেই) এবং খানিক মন্ত্রপূতঃ বিটনুন দেন একটি কাগজে মুড়ে। এই বিটনুন বাড়ির নুনের সাথে মিশিয়ে তাই দিয়ে রান্না করা খাবার খাওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। এই নির্দেশ আমার পরিবারের লোকজন কতোখানি মেনেছিলো জানি না তবে আমি কিছুদিনের মধ্যেই ওই সর্বদা ভয়-ভয় ভাবটা কাটিয়ে উঠি।
এই মুহূর্তে আমাকে কিন্তু হরর ফিল্মের ফ্যান বলা চলে। এই মাত্র আমি একা একা ঘরে বসে Annabelle: Creation মুভিটা দেখা শেষ করলাম।

Tuesday, September 26, 2017

ব্যাঙ্গালুরুতে চাকরিতে জয়েন করার পর থেকে দূর্গা পুজোয় বাড়ি যাওয়া হয়নি। এই নিয়ে তিন বছর হলো। একেবারে হ্যাটট্রিক! এখানে ছুটিও দেয় মাত্র দুই দিন -- নবমী আর দশমী (যথাক্রমে আয়ুধ পূজা ও দশেরা উপলক্ষে)। এবারে তবু বাবা মা থাকাতে ভেবেছিলাম সপ্তমী অষ্টমী ছুটি নিয়ে কাছেপিঠে কোথাও ঘুরতে যাবো -- কিন্তু সে আশাতেও গুড়ে বালি। হঠাৎ একটা ডেডলাইন এসে যাওয়ায় আগামী দু'দিনও অফিস আসতে হবে। আমরা হুকুমের গোলাম, উপরওয়ালার হুকুমমাফিক না চলে উপায় নেই। তাই মেজাজটা ভীষণ খিঁচড়ে ছিলো।

এর মাঝে আমার আইআইটির রুমমেট মৈনাক দেখি ম্যাসেজ করেছে ফেসবুকে। জানতে চেয়েছে বেঙ্গালুরুতে দূর্গা পূজা হয় কিনা। কথাপ্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি মৈনাক এখন ফ্রান্সে পোস্ট-ডক করতে ব্যস্ত। ওর ম্যাসেজ পড়ে আরেকবার অনুভব করলাম নিজের পরিস্থিতি বিন্দুমাত্র না পাল্টালেও আরেকজন আমার চেয়ে অসুখী আছে দেখলে নিজের দুঃখ খানিক লাঘব হয়।

Monday, September 25, 2017

আইআইটিতে ভর্তি হওয়ার পর একটা কথা হাসি তামাশার আসরে প্রায়শই শুনতাম যে খড়্গপুর স্টেশনে নাকি সব সময় কিছু রাজমিস্ত্রী যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মোতায়েন থাকে। খড়্গপুর রেল স্টেশনের প্ল্যাটফর্মটি বিশ্বের দীর্ঘতম -- এই রেকর্ডটি যাতে অক্ষুণ্ণ থাকে তাই পৃথিবীর কোথাও যদি কোনো প্ল্যাটফর্ম খড়্গপুরের চেয়ে একচুল লম্বা হয়েছে বলে খবর আসে তাহলে এই রাজমিস্ত্রীরা ছুটে গিয়ে কয়েকখান ইঁট গেঁথে খড়্গপুরের তকমাটা বজায় রাখে।

কিন্তু আজ অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে খড়্গপুর তার শিরোপা ইতিমধ্যে হারিয়ে ফেলেছে। ভারতবর্ষের দীর্ঘতম প্ল্যাটফর্মগুলির মধ্যে খড়্গপুরের স্থান তৃতীয়। না অযথা বেশি ভয় পাবেন না। বিশ্বের দীর্ঘতম প্ল্যাটফর্মগুলির মধ্যে প্রথম তিনটিই ভারতের। এই মুহূর্তে বিশ্বের দীর্ঘতম প্ল্যাটফর্মটি হলো উত্তর প্রদেশের গোরখপুর এবং দ্বিতীয়টি হলো কেরালার কোল্লাম জংশন। এগুলির সঙ্গে খড়্গপুরের প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্যে তফাৎ ঠিক কতোখানি এবং প্রতিদিন বারোজন রাজমিস্ত্রীকে নিয়োগ করে যদি আড়াই মিটার করে খড়্গপুরের প্ল্যাটফর্ম বাড়ানো সম্ভব হয় এবং রাজমিস্ত্রী পিছু যদি প্রতিদিন দেড়শো টাকা করে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে খরচ করতে হয় তাহলে মোট কতো টাকা খরচা করে আমরা আবার আমাদের এতোদিনের গর্ব পুনোরোদ্ধার করতে পারবো -- এজাতীয় কে সি নাগ সুলভ হিসেবে যদি কারো রুচি থাকে তাহলে অবশ্যই নিচে দেওয়া লিংকটিতে ক্লিক করুন।

https://en.wikipedia.org/wiki/Railway_platform

Thursday, September 7, 2017

একা থাকার বেশ কিছু সুবিধে আছে যেমন আঙ্গুল ঢুকিয়ে সোজা বয়াম থেকে খাবার খাওয়া যায়, পিঠে গামছা বেঁধে নিজেকে সুপারম্যান ভাবা যায় এবং ইচ্ছে করলে বাথরুমের বাইরেও জোর গলায় বেসুরে গান গাওয়া যায়। লোকচক্ষুর আড়ালে লোক নিন্দের ভয় থাকে না। কিন্তু একা থাকার কষ্ট সব চেয়ে বেশি অনুভূত হয় শরীর খারাপ হলে। বাড়ির বাইরে যে থেকেছে তার কাছে এ কোনো অজানা তথ্য নয়।
সাধারণ সর্দি কাশি বাদ দিলে বেঙ্গালুরু আসার পর গত দু'বছরের বেশি সময়ে আমার কোনো শরীর খারাপ হয়নি। কিন্তু গত দু'দিন জ্বরে শয্যাশায়ী ছিলাম। কোনো ওষুধপত্র না খেয়ে আপনা থেকেই শরীর আজ খানিক ভালো আছে। বাবা মা-ও শিগ্রী বেঙ্গালুরু আসছে -- না, আমার শরীর খারাপের খবর শুনে নয়, এমনিতেই আসার কথা ছিলো। যাই হোক, তার মানে হলো আগামী কিছুদিন আমার যত্নের কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না।

Sunday, September 3, 2017

-- তুই তো আর এবছর রিইউনিয়ন অ্যাটেন্ড করতে পারলি না। এবারে কার সাথে দেখা হলো জানিস?
-- কার সাথে?
-- অর্পণদা কে খেয়াল আছে? আমাদের থেকে কয়েক বছরের সিনিয়র ছিলো।
-- হ্যাঁ, আছে।
-- ও গ্রাজুয়েশন করে যে বিদেশী কোম্পানিটাতে ঢুকেছিলো এখন সেটার একজন ভিপি হয়ে গেছে।
-- ওদের কথা ছাড়তো, ওদের সময় আমাদের মতো কম্পেটিশন ছিলো না। আগেকার দিন বলে সহজেই একটা ভালো চাকরি বাগিয়ে নিয়েছে তারপর ওপরওয়ালাদের সুনজরে ছিলো তাই ক্রমে ক্রমে উন্নতি করেছে -- এ আর বেশি কথা কি!
-- আচ্ছা, আর কার সাথে দেখা হলো জানিস -- অনুপমের সাথে। আমাদের থেকে অনেকটাই জুনিয়র ছিলো। পুরোনো নোটসের খাতা জোগাড়ের জন্য আমাদের কাছে মাঝে মাঝে ঘুরঘুর করতো -- তোর হয়তো খেয়াল থাকবে।
-- হ্যাঁ, হ্যাঁ, ওই সেই রোগা করে ছুঁচোলো নাকওয়ালা ছেলেটা, তাই না? কি খবর মালটার?
-- হ্যাঁ, সেই ছেলেটাই। ও তো এখন ব্যাঙ্গালোরে থাকে। নিজের একটা স্টার্ট আপ আছে। ভালোই চলছে। যদ্দূর সম্ভব ও অ্যাদ্দিনে কোটিপতি হয়ে গেছে।
-- সব কপাল ভাই! ওরা হলো ইন্টারনেটের যুগের ছেলে। আমাদের পাড়ায় প্রথম যখন সাইবার ক্যাফে খোলে তখন আমরা স্কুলের গন্ডি প্রায় পেরিয়ে গেছি। ওদের মতো সুযোগ সুবিধে যদি আমাদের থাকতো তাহলে তো কোনো কথাই ছিলো না -- আমরাও এতোদিনে কেষ্টুবিষ্টু হয়ে যেতাম কোনো কোম্পানির।
-- হুমম। তবে এবারে কার দেখা পেয়ে সবচেয়ে অবাক হলাম জানিস -- রাজীবের। ওই বোধহয় আমাদের একমাত্র ব্যাচমেট যার সাথে পাশ করার পর মাঝখানে কখনো একবারের জন্যেও দেখা-সাক্ষাৎ  হয়নি। স্রেফ ভ্যানিশ হয়ে গেছিলো। এবার রিইউনিয়নে দেখে তো পুরো চমকে উঠলাম -- মালটা পুরো পালটে গেছে। এখন নাকি আমেরিকাতে একটা ইউনিভার্সিটিতে প্রোফেসর। কথা-বার্তা চাল-চলন দেখলে তাক লেগে যাবে পুরো।
(কিছুক্ষনের নীরবতা)
-- এবার আমার আর কিছুই বলার নেই, বুঝলি। রাজীব ছেলেটা তো আমাদের সাথে একই বেঞ্চে বসতো, একই ক্লাস করতো, ইন ফ্যাক্ট আমরা একই টিউশনে পর্যন্ত পড়তাম। মোদ্দা কথা সে সময় আমাদের মধ্যে চুলচেরা ফারাক ছিলো। সিনিয়র জুনিয়রের সাফল্য উড়িয়ে দিতে পারি যতোটা সহজে, ব্যাচমেটের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ততোটাই কঠিন।

Saturday, September 2, 2017

প্রোগ্রামার (programmer) শব্দটার মানে আমরা সবাই জানি। যে কম্পিউটারে প্রোগ্রাম লেখে সেই প্রোগ্রামার। কিন্তু নিনজা প্রোগ্রামার (ninja programmer) -- এই শব্দটার সঙ্গে কি আপনি পরিচিত? নিনজা প্রোগ্রামার হলো তারা, যারা বিশেষ কোনো কম্পিউটার আর্কিটেকচার (অর্থাৎ কতোখানি ক্যাশ মেমারি, কতোখানি শেয়ার্ড মেমারি, ব্যান্ডউইড্থ কতো ইত্যাদি) মাথায় রেখে প্রোগ্রাম লেখে। এই সমস্ত প্রোগ্রাম গতানুগতিক প্রোগ্রামের চেয়ে অনেক দ্রুত সমাধান দিতে সক্ষম। হাই পারফরম্যান্স কম্পিউটিং (high performance computing) -- কম্পিউটার সায়েন্সের এই বিশেষ শাখায় যারা কাজ করেন তাদের জন্যে নিনজা প্রোগ্রামিং শেখাটা একপ্রকার বাধ্যতামূলক।
গত দুবছর ইন্টেলে চাকরি করে আমিও নিনজা প্রোগ্রামিং খানিক আয়ত্ত করেছি তবে এখনো বহু কিছু শেখা বাকি আছে। আমার গ্রুপের সিনিয়ররা কিন্তু যাকে বলে একেবারে পোড়খাওয়া দুঁদে নিনজা প্রোগ্রামার।
একদিন আমাদের ম্যানেজার গ্রুপের মেম্বারদের সাথে একজন এক্সেকিউটিভের পরিচয় করাচ্ছিলেন। পরিচয় পর্বটা ছিলো খানিক এরকম: এ হচ্ছে অমুক, আমাদের সবচেয়ে পুরনো নিনজা প্রোগ্রামার এবং এ হচ্ছে তমুক, আরেকজন দুর্দান্ত নিনজা প্রোগ্রামার।
শেষমেশ আমার কাছে পৌঁছে আমাদের ম্যানেজার খানিক কি ভাবলেন (বোধকরি আমাকে নিনজা প্রোগ্রামার বলাটা কতোখানি সমীচীন হবে এই ব্যাপারটা) তারপর আমাকে দেখিয়ে বললেন: আর এ হলো আমাদের নিনজা টার্টেল (turtle)। (আমার চেহারার প্রতিও কোনো কটাক্ষ ছিলো কি এই মন্তব্যে?)

তদুপরি জানিয়ে রাখি ইন্টেলের হাই পারফরম্যান্স কম্পিউটিং সম্বন্ধীয় একটা প্রবন্ধ বেরিয়েছে সম্প্রতি, তার লিংক এই লেখার শেষে দিলাম। খুঁটিয়ে পড়লে দেখতে পাবেন এই কাজটিতে Intel Math Kernel Library বলে একটি সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে। আমার লেখা একটি বিশেষ কোড সদ্য সংযোজিত হয়েছে এই লাইব্রেরিতে। সেই কোড অবশ্য এই কাজে ব্যবহৃত হয়েছে কিনা তা আমি জানি না।
https://www.hpcwire.com/2017/08/28/nersc-scales-deep-learning15-pflops/

Sunday, August 20, 2017

আগে কি ফাটতো, এখন কি ফাটছে?

আগেকার সাহিত্যে এই ধরণের কথা মাঝে মাঝেই খুঁজে পেতাম -- "বুক ফেটে কান্না" কিংবা "বুক ফাটা আর্তনাদ"। এর থেকে আন্দাজ করা যায় আগেকার দিনে মানুষের বুক প্রায়শই ফাটতো। কিন্তু আজকালকার কথোপকথনে ও হালফিলের লেখাতে বুক ফাটার প্রসঙ্গ একবারও দেখতে পাইনা।
দেশজুড়ে দুর্নীতি, অপর জেলায় বন্যা, টিউশনে শ্লীলতাহানি অথবা পাশের বাড়িতে চুরি -- কোনো কিছুতেই বোধ করি বাঙালির বুক আর আগের মতো সহজে ফাটে না। এসব এখন আমাদের কাছে জলভাত। বড়জোর ফেসবুকে "ওয়ান শেয়ার একুয়াল টু ওয়ান প্রেয়ার" এই মর্মে কিছু পোস্ট লাগানো অবধি আমাদের দৌড়।

বিপরীতভাবে আমাদের শরীরের উল্টোদিকের নিম্নাংশটি কিন্তু ইদানিং ভীষণ ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। যখন তখন যে সে ফাটিয়ে দিচ্ছে। অফিসের বড়বাবু হুকুম জারি করলেন প্রত্যেককে কাল থেকে সময়মত অফিসে ঢুকতে হবে -- অর্থাৎ আপনার এতদিনের দুলকি চালে অফিস আসার অভ্যাসে ছেদ পড়লো -- ব্যাস, অমনি ফেটে গেলো। বাড়িওয়ালা ঘরে এসে জানিয়ে গেলেন ফি মাসে পাঁচ তারিখের মধ্যে ভাড়া দিতে হবে -- তৎক্ষণাৎ ফট-ফট-ফটাস! (অবশ্যই এই শব্দটা আমার মস্তিস্কপ্রসূত, ব্যক্তিভেদে শব্দের তারতম্য খানিক হতেই পারে।) বাজার করতে গিয়ে দোকানির কাছে শুনলেন বন্যার জন্য সাপ্লাই কম তাই পেয়াঁজ আজ ৫০ টাকা কিলো -- অমনি শরীরের বিশেষ অংশটি ভেঙে খান-খান। (খেয়াল করবেন সরাসরি ভুক্তভুগিদের কথা বাদ দিলে আমরা বাকিরা কিন্তু বন্যার কথা শুনে অতোটা দুঃখ পাইনি যতটা সব্জির দাম বাড়ায় পেয়েছি।) মায় কাজের লোক পর্যন্ত কামাই করলে "ধরণী দ্বিধা হতে" দেরি হয় না।

তাই আমার মতে এখনকার ইয়ে ফাটার চেয়ে বোধ হয় বাঙালির আগেকার বুক ফাটার অভ্যেসটাই ভালো ছিলো।

Saturday, August 19, 2017

জীবনে খারাপ কিছু ঘটলেই আমরা ভাবি "এরকমটা কেন শুধু আমার সাথেই হয়?" অথচ ভালো কিছু ঘটলে সেটাকে আমাদের প্রাপ্য বলে মেনে নিতে অসুবিধে হয় না। নিঃসন্দেহে আমি নিজেও এ নিয়মের ব্যতিক্রম নই। তাই ইদানিং কালে না চাইতেই যে প্রাপ্তিযোগ আমার কপালে জুটেছে তা আজকে সর্বসমক্ষে জানিয়ে খানিক পাপস্খালন করে নিতে চাই।
প্রথমেই জানিয়ে রাখি। আমার হিতকারীর নাম ACT Fibernet। দু'বছর আগে আমি যখন এই কোম্পানির কাছে সাবস্ক্রিপশন নিই তখন আমি যা ফি দিতাম তাতে আমি মাসে ৬০জিবি আপলোড এবং ৬০জিবি ডাউনলোড করার সুযোগ পেতাম। কিছুদিন পরে অনুগ্রহ করে তারা ৬০জিবির বদলে ৭৫জিবি আপলোড ও ডাউনলোডের উর্দ্ধসীমা বলে নির্ধারণ করে, ক্রমে তা বেড়ে হয় ১০০ এবং আরো খানিকদিন পর এই সংখ্যাটা এক লাফে বেড়ে দাঁড়ায় ১৭৫। এই মাস থেকে আবার ২২৫জিবি আপলোড ও ২২৫জিবি ডাউনলোড করার সুযোগ পাচ্ছি আমি -- এই বর্ধিত সুবিধের জন্য কোনোদিন কোনো বাড়তি শুল্ক কিন্তু দিতে হয়নি আমায়।
আর একজন ব্যাচেলর ছেলে যে বিদেশ বিভুঁইয়ে একা থাকে তার পক্ষে ফাউ ইন্টারনেট যে কতখানি আনন্দ বয়ে নিয়ে আসে তা আশাকরি আপনারা সহজেই আন্দাজ করে নিতে পারবেন। তাই আরেকবার আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই ACT ফাইবারনেটকে।

Saturday, August 12, 2017

পিএইচডি ডিগ্রী এখনো আমাদের দেশে খানিক দুর্লভ বলে আশপাশের লোক সাধারণতঃ পিএইচডি ডিগ্রীধারীদের শ্রদ্ধার চোখে থাকে। উপরন্তু সেই পিএইচডি যদি হয়ে থাকে গণিত শাস্ত্রে তাহলে তো সোনায় সোহাগা। ঢিপ করে হয়তো একখান পেন্নামই ঠুকে দেবে লোকে।
Spoiler Alert: যদি আপনিও পিএইচডি ডিগ্রীধারীদের প্রতি অতি শ্রদ্ধাশীল হন এবং নিজের ধারণা বজায় রাখতে চান তাহলে এই লেখা আর ভুলেও পড়বেন না নয়তো পরে আফসোস করতে হতে পারে।

মিশনের আমার দুই ব্যাচমেট ভারত থেকে গণিত বিভাগে গ্র্যাজুয়েশন করে বিদেশে পিএইচডি করতে যায় -- একজন ইউরোপে অপরজন আমেরিকায়। দুজনেই নিজেকে হেপ ভাবে, একজন ভাবে আমিই সেরা তো অপরজন ভাবে "হাম কিসি সে কম নেহি"। তাই ঈষৎ (কিংবা হয়তো অনেকটাই) রেষারেষি ছিলো (আছে) এদের মধ্যে। গত সপ্তাহে জানতে পারি যে ছেলেটি ইউরোপে গিয়েছিলো সে একঘেয়েমি থেকে বাঁচার জন্যে ফেসবুকে একটি মেয়ের নামে জাল প্রোফাইল খোলে এবং আমেরিকা নিবাসী বন্ধুটির সাথে রসালাপ শুরু করে। ইঞ্জিনিয়ারিং পাঠরত ছাত্রদের মেয়েদের প্রতি দুর্বলতা প্রসিদ্ধ তবে গণিতের ছেলেরা বোধ করি আরো এক কাঠি উপরে। আমেরিকাবাসী বন্ধুটি কদিনের আলাপেই প্রেমে হাবুডুবু খায়, তাই অবশ্যম্ভাবী প্রপোসাল এসে পৌঁছায় মেয়েটির কাছে অর্থাৎ আমার অপর বন্ধুটির কাছে। আর যায় কোথা -- ইউরোপের ছাত্রটি নিজের স্বরূপ প্রকাশ করে রাজ্যের হ্যাঠা উপহার দেয় ব্যাচমেটকে। সেই থেকে তাদের মুখ দেখাদেখি বন্ধ। আপাততঃ তাদের যোগসূত্র হচ্ছে কমন ফ্রেন্ডরা।

এঘটনাটা বলার পেছনে অবশ্য আরেকটা কারণও আছে। Sarahah-র শিহরণ নিয়ে বক্তব্য আমার এখনো শেষ হয়নি। আমি মাত্র একদিন account-টা রেখেছিলাম আর সেই সময়ে খান কুড়ি কমেন্ট পাই। তার ভেতর কয়েকখান প্রেম নিবেদনও ছিলো যথা: "কুণাল, তুমি শুধু আমার"। এর চেয়েও ঢের বেশি সুড়সুড়ি দেওয়া কমেন্ট ছিলো যা প্রকাশ্যে বলা যায় না। এগুলো যে আমার ইউরোপনিবাসী বন্ধুটির মতো পুরুষ বন্ধুরাই পাঠিয়েছেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তাদের জন্যে উপদেশ -- আপনারা উত্তেজনার পরিমাণটা খানিক কম করতে পারলে হয়তো বেশি মুরগি ধরতে পারবেন।

পরস্পর পিঠ চাপড়াচাপড়ী করার মানসিকতা আমাদের ভেতর যতদিন আছে ততদিন Sarahah এবং অনুরূপ হুজুগ চলতেই থাকবে। তবে আমার মতে ফেসবুকে Sarahah-র আয়ু আর দিন সাতেক, তার বেশি নয় -- দেখা যাক আমার ভবিষ্যদ্বাণী মেলে কিনা।

Thursday, August 10, 2017

"Give a man a mask and he will show his true face."
অস্কার ওয়াইল্ড-এর লেখা উপরের উক্তিটির উপর ভিত্তি করেই হয়তো সম্প্রতি Sarahah নামক অ্যাপটির সূচনা হয়েছে। তবে অ্যাপটির দাবি অনুযায়ী constructive criticism অর্থাৎ গঠনমূলক সমালোচনার বিন্দুমাত্র উদাহরণ দেখতে পেলাম না কারো ফেসবুক দেওয়ালে -- খালি চাড্ডি প্রশংসা (যা অনেকটা স্তাবকতার পর্যায়ে পড়ে), মামুলি প্রেম নিবেদন (মূলতঃ মেয়েদের) আর কিছু সস্তা খিল্লি পড়াই সার হলো। উপরন্তু "সারাহায় শিহরণ" এই quote-টা যে কতোবার দেখতে হলো তার ইয়ত্তা নেই -- সবাই ভাবছে তার মাথাতেই এই নামটা বোধ হয় প্রথম এলো।

গঠনমূলক সমালোচনার উদ্দেশ্য যদি চরিত্র গঠন হয়ে থাকে তাহলে আমার মতে আত্মসমালোচনার চেয়ে বড় আর কিছু হয় না। যদিও Sarahah account খোলার পেছনে কারো চরিত্র গঠন করবো এ ধরণের লক্ষ্য ছিলো না বলেই আমার ধারণা তবুও এই অবকাশে নিজের জীবন থেকে নেওয়া কিছু উপলব্ধি এখানে লিখে রাখছি। এ সব কথা আইআইটিতে একাধিকবার নেসকাফেতে বসে  বন্ধুমহলে বলে থাকলেও আগে লিপিবদ্ধ করা হয়নি।

কোনো এক মনীষী বলে গেছেন: "অন্যের দুঃখে কাঁদা সহজ অন্যের আনন্দে হাসার চেয়ে।" এই উক্তিটি ছোটবেলায় মায়ের কাছে শুনেছিলাম। কিন্তু আমি ভাবতাম একথাটা সর্বাধিক মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও আমার জন্যে নয় কারণ বন্ধুদের সাফল্যে আমিও খুশি হতাম। এই ধারণাটা আমার পিএইচডিতে ভর্তি হবার পর আন্দাজ দু'বছর পর্যন্ত ছিলো। আমি পিএইচডির সময় যে ল্যাবে বসতাম সেখানে মোট চব্বিশজন রিসার্চ স্কলার বসতো। প্রায়শই কনফারেন্স বা জার্নালে পেপার হয়েছে বলে কেউ না কেউ বাকিদের কোনো হোটেলে নিয়ে গিয়ে ট্রিট দিতো। আমি পেটুক মানুষ তাই বেশ আনন্দেই দিন কাটছিলো। তবে বারবার কি আর বাকিদের থেকে পার্টি নিতে ভালো লাগে? তাই স্বাভাবিকভাবেই আমার মনে হতো -- সুযোগ আসুক তাহলে আমিও পার্টি দেবো। কিন্তু সুযোগ তো আর সহজে আসে না -- পেপার ছাপাতে কালঘাম ছুটে যায়। সেই সময় সিনেমা, টিভি সিরিজ, কম্পিউটার গেম কোনো কিছুই উপভোগ করতে পারতাম না। বন্ধুদের ট্রিট পর্যন্ত বিস্বাদ লাগতো। মনীষী বাক্যের যথার্থতা হাড়ে হাড়ে টের পেতাম। অবশেষে দু'মাস অন্তরে দুটো জার্নাল পেপার অ্যাকসেপ্ট হওয়ায় ফলে আবার মানসিক শান্তি ফিরে আসে।
মোরাল অফ দ্য স্টোরি: "অন্যের সাফল্যে খুশি হতে গেলে নিজেকেও সফল হতে হয়।"

কোন কথা থেকে কোন কথায় চলে এলাম। Sarahah প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কি একটু বাড়াবাড়ি হয়ে গেলো?


পুনশ্চ: Sarahah-র দৌলতে যে কোনো চিন্তাশীল মন্তব্য আমার ভাগ্যে জোটেনি তা বললে অবশ্য ভুল হবে -- আমার লেখার মান ইদানিং পড়ে গেছে এ কথা দু' তিনজন অন্ততঃ জানিয়েছে। কাজের চাপে আজকাল আর আগের মতন লেখার সময় পাই না -- তবে এই লেখাটা কেমন হয়েছে সেটা যদি তারা আমার ইনবক্সে লিখে জানান তো খুব ভালো হয়। Interactive কমেন্ট পেলে আমার হয়তো উন্নতি সাধনে সুবিধে হবে।

Monday, July 31, 2017

সম্প্রতি ফেসবুকের দৌলতে জানতে পারলাম আমার বি.টেক ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ -- হেরিটেজ ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি -- সেরা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের খেতাব অর্জন করেছে। টাইমস অফ ইন্ডিয়ায় এই সংক্রান্ত যে খবরটি বেরিয়েছে তার লিংক এই লেখার শেষে দিলাম।

হেরিটেজ কলেজের বরাবরই দেখেছি লেখাপড়ার মান উন্নত করার দিকে নজর আছে। তাই আইআইটি খড়্গপুর, আইএসআই কোলকাতা, যাদবপুর ইউনিভার্সিটি বা শিবপুর কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপকদের HoD, Dean বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ করে থাকে হেরিটেজ কলেজের কর্তৃপক্ষ। এঁনারা যে ক্লাসগুলি নেন তাদের গুণমানও হয় অসাধারণ।
আমি পড়াকালীন যিনি কম্পিউটার সায়েন্স ডিপার্টমেন্টের হেড ছিলেন, তিনিও অন্য কলেজ থেকে অবসর নেওয়ার পর হেরিটেজে জয়েন করেছিলেন। তাঁর বয়সও হয়েছিলো ভারী। স্যার মাথা নিচু করে কাজ করার সময় কেও ওঁনাকে ডাকলে ওঁনার মাথা তুলে তাকাতে সময় লাগতো পাক্কা এক মিনিট -- এই কারণে এই স্যারের ডাকনাম ছিলো একটি জনপ্রিয় হিন্দি সিনেমার নাম -- কল হো না হো।

Sunday, July 30, 2017

মিশন: পর্ব ৭

আজকে যে ঘটনাগুলি সম্বন্ধে লিখতে চলেছি সেগুলি ঘটেছিলো উচ্চ মাধ্যমিকের সময় কেমিস্ট্রি প্রাকটিক্যাল পরীক্ষার দিন। সেদিন পরীক্ষার শুরুতেই প্রত্যেক ছাত্রকে একটি করে খাতা ধরিয়ে দেওয়া হয় -- প্রত্যেক খাতার একটি unique নাম্বার ছিলো যা দেখে কোন ছাত্রের খাতা তা সহজেই সনাক্ত করা যায় এবং প্রত্যেক খাতার উপর ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা লেখা ছিলো। সেই সংখ্যা অনুযায়ী লবণ (Salt)-এর নমুনা সংগ্রহ করে তার মধ্যে কি cation ও anion আছে তা নির্ধারণ করতে হবে আমাদের। আমি আমার খাতাটা নিয়ে গিয়ে ল্যাবরেটরির একটি টেবিলে রেখে বাইরে আসি ব্যাগ থেকে পেন্সিল বাক্স আনার জন্য। ইতিমধ্যে আমার সহপাঠী বিপ্লব মাঝি সেই টেবিলের উপরে নিজের খাতাটি রেখে সেও বাইরে আসে। এদিকে আমি ফিরে এসে অসাবধানতাবশতঃ তার খাতার উপর নিজের নাম লিখে দিই। এরপর বিপ্লব ফিরে এসে আমার ভুল ধরতে পেরে হুলুস্থুলু বাধিয়ে দেয়। অতঃপর আমরা মিশনের কেমিস্ট্রি ডিপার্টমেন্টের হেড স্যারের দ্বারস্থ হই আমার ডেকে আনা বিপদ থেকে নিস্তার পাওয়ার জন্য। এই স্যার সম্বন্ধে প্রচলিত যে তিনি খুব জ্ঞানী কিন্তু মানুষ হিসেবে মোটেও সুবিধের নয়। বিপ্লব কাঁদো কাঁদো গলায় স্যারকে সমস্ত ঘটনা বর্ণনা করলে পর স্যার আমাদের সান্ত্বনা দিয়ে জানান যে এই ছোটোখাটো ঘটনার জন্য আমাদের চিন্তার কিছু নেই। বিপ্লব বেচারির কোনো দোষ নেই কিন্তু আমারও চিন্তার কিছু নেই শুনে আমি স্বস্তির নিশ্বাস ছাড়লাম, মনে মনে ভাবলাম সবাই হেড স্যারকে নিয়ে ফালতুই নিন্দে করে -- আমার চোখে উনি তখন দেবতুল্য পুরুষ। এরপর হেড স্যার আরেকটি বাক্য উচ্চারণ করেন: "পরের বছর না হয় আরেকবার কেমিস্ট্রি প্রাকটিক্যাল পরীক্ষাটা দিও।" এই শুনে তো আমি চোখে অন্ধকার দেখি।

এ হেন দুঃসময়ে মানুষের দুঃখ লাঘব শুধুমাত্র তখনই হয় যখন সে দেখে তার চেয়েও কষ্টে কেও আছে। সেই মুহূর্তে হেড স্যারের কাছে উপস্থিৎ আমার আর এক সহপাঠী -- অর্ণব। আমাদের ব্যাচে পাঁচজন অর্ণব ছিলো (আর ছয়জন অনির্বাণ), তাই অনিচ্ছাসত্বেও অর্ণবের ডাকনামটাই এই লেখায় ব্যবহার করছি -- কামড়ি। কামড়ি উচ্চ মাধ্যমিকের অরিজিনাল admit কার্ড না নিয়ে এসে তার ফটোকপি নিয়ে এসেছিলো। সেই দেখে হেড স্যারের উক্তি: "ও, প্রাকটিক্যাল পরীক্ষাটা বুঝি আসল পরীক্ষা নয় তাই xerox নিয়ে এসেছো?" এরপর স্যার জানান যতক্ষণ না কামড়ি অরিজিনাল admit কার্ড দেখাবে ততক্ষণ ওর খাতা জমা নেওয়া হবে না। এই শুনে কামড়ির আক্কেল গুড়ুম হয়ে যায়। সে যুগটা মোবাইল ফোনের ছিলো না। অফিস থেকে বাড়িতে বারবার ফোন করতে থাকে কামড়ি admit কার্ড জোগাড়ের উদ্দেশ্যে। আমি অনেক পীড়াপীড়ি করায় স্যার নিমরাজি হয়ে আমাকে পরীক্ষায় বসতে দেন। কামড়ির পরিবার পরদিন admit কার্ড নিয়ে আসলে পর সেইদিন তার খাতা জমা নেন স্যার।

এই ঘটনাবহুল দিনের কথা এখানেই শেষ নয়। আমাদের কেমিস্ট্রি ডিপার্টমেন্টে কমবয়সী, খুব ছাত্রদরদী এক স্যার ছিলেন। লবণের উপাদান নির্ধারণ করার পর সেই স্যারের কাছে গিয়ে লবণ সমেত টেস্ট টিউবটি দেখলে পরে স্যার সঠিক না বেঠিক নির্ধারণ হয়েছে তা বলে দিতেন। ভুল করলে পর স্যার সরাসরি উত্তর না বলে দিয়ে cation বা anion টা আরেকবার পরীক্ষা কর এটা বলতেন। তো অন্যান্য ছাত্রের দেখাদেখি আমাদের এক সহপাঠী সেই স্যারের কাছে গিয়ে নিজের টেস্ট টিউবটি দেখিয়ে লবণের নামটি বলে। স্যার দেখেন টেস্ট টিউবটি সম্পূর্ণ ফাঁকা অর্থাৎ ছাত্রটি রসায়ন পরীক্ষার সময় পুরো লবণটি শেষ করে ফেলেছে। সেই ফাঁকা টিউবটি হাতে নিয়ে স্যার বলেন: "বাবা, আমি অনেকদিন কেমিস্ট্রি চর্চা করছি ঠিকই কিন্তু ফাঁকা টেস্ট টিউব দেখে বলে দেব তার ভেতর আগে কি ছিলো অতখানি বিদ্যা এখনো আয়ত্ত করে উঠতে পারিনি।"

Sunday, July 9, 2017

অনেকদিন ধরে ভাবছি কোনো এক পুণ্য তিথিতে এই লেখাটা বাজারে ছাড়বো (অর্থাৎ ফেসবুকে পোস্ট করবো)। সম্প্রতি রথযাত্রা, ঈদ, উল্টোরথ পেরিয়ে গেলো কিন্তু আমি কাজের ফাঁকে সময় বার করে উঠতে পারলাম না। অগত্যা দিন-ক্ষণ-পাঁজি মুলতুবি রেখে আজ খানিক অবসর বার করে লেখাটা আপনাদের সামনে পেশ করছি।

লেখক: পর্ব ২০

বেঙ্গালুরুতে ISKCON-এর একটি বড় শাখা আছে। সেখানে গিয়ে মূল মন্দিরে প্রবেশ করে দেখি দেবতা দর্শনার্থে সামনে দু'টি লাইন -- একটি বড়, অপরটি ছোট। অগ্র-পশ্চাৎ বিবেচনা না করে অভ্যাস বশে ছোট লাইনটির পেছনে গিয়ে দাঁড়ালাম। ছোট লাইনটির প্রথম যে বিশেষত্বটি চোখে পড়লো সেটি হলো মেঝেতে চৌকো চৌকো ঘর আঁকা আছে এবং লোকজন সেই চৌকো ঘরগুলির উপর পা রেখে রেখে এগোচ্ছে। এক দু'ধাপ অগ্রসৱ হওয়ার পর দেখি আমার সামনের লোকটি তাঁর সম্মুখে ফাঁকা জায়গা থাকা সত্ত্বেও আর এগোচ্ছেন না। খানিকক্ষণ অবাক হয়ে তাঁকে এবং সামনে অন্যান্য ভক্তদের পর্যবেক্ষণ করে বুঝতে পারলাম এই লাইনটি ছোট হওয়ার পেছনে কি রহস্য লুকিয়ে আছে। এই লাইনে দাঁড়ানোর নিয়ম হচ্ছে প্রত্যেক ব্যক্তিকে নিচে লেখা স্তবকটি একবার করে গেয়ে তারপর এক ধাপ সামনে এগোতে হবে:
"হরে কৃষ্ণ, হরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
 হরে রাম, হরে রাম, রাম রাম হরে হরে।।"
মন্দিরের ভিতর মাইকে সর্বদা এই দু'টি লাইন গেয়ে শোনানো হচ্ছে এবং ভক্তবৃন্দ সেই তালে তালে গেয়ে চলেছেন। মনে মনে বা আস্তে আস্তে গান গাইলে কিন্তু চলবে না। দেয়ালে নির্দেশাবলীতে লেখা আছে গান অন্ততঃ এতখানি জোরে গাওয়া উচিৎ যাতে নিজের আওয়াজ নিজের কানে পৌঁছোয়। অতো লোকের মাঝে গাইতে হলে স্বাভাবিকভাবেই ডেসিবেলের মাত্রাটা খানিক না বাড়ালে এই নির্দেশ মান্য করা সম্ভব নয়। উপরন্তু ১০৮খানি ধাপ আছে এই লাইনে। এদিকে ফিরে আসারও আর সুযোগ নেই কেননা আমার পেছনে অন্যান্য ব্যক্তি ইতিমধ্যে লাইন দিয়েছেন। অগত্যা আমিও আওড়াতে শুরু করলাম:
"হরে কৃষ্ণ, হরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
 হরে রাম, হরে রাম, রাম রাম হরে হরে।।"

Sunday, June 4, 2017

VSRC hall-এর কিছু কিছু পাবলিকের মধ্যে অন্যতম একটা গর্বের বিষয় হলো VSRC-ই আইআইটি খড়্গপুরের প্রথম হল যেখানে hall day তে Chinese lantern বা চীনা লণ্ঠন ওড়ানো হয়। টিভিতে একাধিকবার দেখে থাকলেও VSRC-র হল ডের আগে আমি নিজেও সামনাসামনি চাক্ষুষ কখনো চীনা লণ্ঠন দেখিনি। সম্প্রতি সৃজিৎ মুখার্জীর "রাজকাহিনী" সিনেমাটা দেখছিলাম। তাতে দেখি ভারতবর্ষ স্বাধীন হবে এই ঘোষণা শুনে গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্ররা চীনা লণ্ঠন ওড়াচ্ছে। খেয়াল করবেন সালটা ১৯৪৭। সিনটা দেখে খুশি হবো না দুঃখী সেটা ঠিক করে উঠতে পারলাম না।

Sunday, May 28, 2017

একটা অভিনব হুমকি শুনলাম:
আমাকে ঘাঁটাস না। আমি এখন মাল খেয়ে আছি। মনে রাখিস -- "আমি মাল খেয়ে বাওয়াল করি না, বমি করি।"

পুনশ্চ: দয়া করে ভাববেন না এই হুমকিটি আমাকে দেওয়া হয়েছে।

Sunday, May 21, 2017

সুনীল গাঙ্গুলীর লেখা "পাহাড় চূড়ায় আতঙ্ক" বইটি পড়েছেন কি? এই গল্পের একটি অংশে কাকাবাবুকে অপহরণ করে ইয়েতিদের আস্তানায় বন্দি করে রাখা হয়েছে। হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন -- ইয়েতিদের আস্তানায় -- এই বিষয়ে বিশদে জানতে চাইলে বইটি পড়ে দেখুন, আমি বরং আমার মূল বক্তব্যে চলে আসি। কাকাবাবুকে যে ঘরে বন্দি করে রাখা হয়েছে সেখানে তেষ্টা মেটানোর জন্য কোনো জলের পাত্র পর্যন্ত নেই। এদিকে কাকাবাবুর পকেটে রাখা একটা ট্যাবলেট খাওয়ার সময় হয়ে গেছে। এই ওষুধটি কাকাবাবুর স্বাস্থের জন্যে খুব জরুরি, না খেলেই নয়। কাকাবাবু অগত্যা পকেট থেকে ট্যাবলেটটা বের করে চুসে চুসে খেয়ে ফেললেন। লেখক এই ঘটনাটি লিখেছেন কাকাবাবুর মনের কতোখানি জোর তা বোঝাবার জন্য। আজকে খানিক আগে আমিও একটা ট্যাবলেট চুসে চুসে খাচ্ছিলাম, খেতে খেতে ছোটবেলায় পড়া এই গল্পটার কথা মনে পড়ে গেলো। অনুসন্ধিত্সু পাঠকদের কথা চিন্তা করে আমার ট্যাবলেটের নামটা এখানে লিখে রাখলাম: ডাইজিন (রাতের খাওয়াটা একটু বেশি হয়ে গেছে আসলে)।

Sunday, May 14, 2017

আজকে "মাতৃ দিবস"। তাই আজ মায়ের প্রতি উপচে পড়া ভালোবাসার নিদর্শন বেশ কিছু পাবেন ফেসবুকে আপনাদের বন্ধুদের স্টেটাস মেসেজে। তো আমিও জোয়ারে গা ভাসিয়ে দেব ভেবেছিলাম কিন্তু লিখতে গিয়ে উপলব্ধি করলাম জোর করে কোনো বিষয়ে লেখা আমার দ্বারা হবে না। মাকে আমি ভালোবাসি ঠিকই কিন্তু সেটা গদ গদ ভাষায় (প্রয়োজনে অন্যের স্টেটাস মেসেজ চুরি করে) লেখা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। যাই হোক, জেনারেশন গ্যাপ সম্বন্ধীয় একটা চিন্তা মাথায় ঘুরছিলো সেটা এই সুযোগে বাজারে ছেড়ে দিলাম।

এটা বরাবর দেখে আসছি যে প্রত্যেক প্রজন্ম নিজেকে আগামী প্রজন্মের চেয়ে উন্নততর বলে দাবি করে মনে মনে আনন্দ পেয়ে থাকে। কিন্তু "every child is born as a blank slate" এই কথাটি যদি যথাযথ হয়ে থাকে তাহলে প্রত্যেক প্রজন্মকে তার পূর্ব প্রজন্মের সৃষ্টি বলে মেনে নিতে হয়। সে ক্ষেত্রে সৃষ্টি যত উন্নত হয় স্রষ্টার তত বেশি খুশি হওয়া উচিৎ -- অর্থাৎ আগামী প্রজন্ম উত্তম হলে তবেই বর্তমান প্রজন্মের খুশি হওয়া বাঞ্চনীয়, উল্টোটা নয়। আপনারা কি বলেন?

Sunday, May 7, 2017

কুসকা

ভেজ বিরিয়ানি বলে জগতে সত্যি কিছু আছে কিনা সেটা তর্কসাপেক্ষ। অনেকে মনে করেন মাংস ছাড়া বিরিয়ানি হয় না -- ভেজ বিরিয়ানি বলে যেটা মার্কেটে বিক্রি হয় সেটাকে বড়জোর পোলাও বলা যেতে পারে। এক সময় ক্যামাক স্ট্রিটে আমার নিয়মিত যাতায়াত ছিল। ওখানকার কিছু দোকানে যে কোনো বিরিয়ানি অর্ডার করলে সে সব বিরিয়ানি একই হাঁড়ি থেকে দোকানদার বের করে দিতো। লক্ষ্য করেছিলাম চিকেন বিরিয়ানি চাইলে হাঁড়ির বাঁদিক থেকে বের করে দিতো, মটন বিরিয়ানি চাইলে ডানদিক থেকে আর ভেজ বিরিয়ানি অর্ডার দিলে যে কোনো এক দিক থেকে বিরিয়ানি বের করে চিকেন বা মটনের পিসটা আবার হাঁড়িতে ফেলে দিয়ে শুধু রাইসটা পরিবেশন করতো। অর্থাৎ আমার অভিজ্ঞতা থেকে জেনেছি ভেজ বিরিয়ানি তৈরী হয় নন-ভেজ বিরিয়ানি তৈরী হওয়ার প্রণালীতেই শুধু নন-ভেজ আইটেমটা প্লেটে পড়ে না। এই কথাটা একদিন অফিসে বললে পরে বহু কলিগ আমার কথার বিরোধিতা করে। আসলে তারা সবাই সম্পূর্ণ ভেজিটেরিয়ান কিন্তু ভেজ বিরিয়ানি তারা সবাই কখনো না কখনো খেয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই আমার বক্তব্য তাদের পক্ষে মেনে নেওয়া অস্বস্তিকর। তবে গতকাল একটা নতুন খাবারের আইটেম দেখলাম আমার বেঙ্গালুরুর লোকাল রেস্তোরাঁয় -- কুসকা। এই আইটেমটি মেনু কার্ডে স্থান পেয়েছে ঠিক চিকেন বিরিয়ানি, মটন বিরিয়ানির নিচেই। জিজ্ঞেস করে জানলাম কুসকা আসলে চিকেন মটনবর্জিত বিরিয়ানির রাইসকে বলে। কিন্তু যেহেতু এই রাইসটা নন-ভেজ পদগুলির সাথেই রান্না হয়েছে তাই তাকে রেস্তোরাঁর মালিক "ভেজ বিরিয়ানি" বলে আর চালায়নি।

পুনশ্চ: বন্ধু মৈনাকের কাছে জানতে পারলাম ভেজ বিরিয়ানিকে পোলাও বলাটাও ঠিক হবে না কারণ "পোলাও" শব্দটা এসেছে "পলান্ন" থেকে। "পলান্ন" অর্থাৎ "পল যুক্তু অন্ন" আর "পল" কথাটির মানে হলো "মাংস"। তাহলে কি ভেজ বিরিয়ানিকে ফ্রাইড রাইস বলাই শ্রেয়?

আরেকটা চিন্তা মাথায় এলো যে পাঠকদের হয়তো দামটা সম্বন্ধে আগ্রহ থাকতে পারে তাই দামের তালিকাটা এখানে দিলাম -- চিকেন বিরিয়ানি: ১২০, এগ (ডিম) বিরিয়ানি: ৯০, কুসকা: ৭০।

Monday, April 24, 2017

রান্নার জাদুকর:

ইদানীং বাড়িতে রান্না করছি। রান্না করতে গিয়ে মাঝে মাঝেই ছড়িয়ে ফেলছি। তবে কোনো প্রকারে ব্যাপারটাকে ম্যানেজও করে ফেলছি। যেমন ধরুন ডিম ভাজতে গিয়ে ডিমটাকে ভেঙে ফেললে সেটাকে ডিম ভুরজি বলে চালিয়ে দিচ্ছি।একবার তো পোস্ত রাঁধার সব আয়োজন শেষ করে দেখি ঘরে পোস্ত ফুরিয়ে গেছে। তখন তরকারিটাকে আলু চচ্চড়ি বলে চালিয়ে দিলাম।মানে এভাবে সববারই ছড়িয়ে ফেলার পরও শেষ পর্যন্ত রন্ধন কার্যকে কিছু না কিছু করে সামাল দিতে পেরেছি। অ্যাদ্দুর পড়ে যারা ভাবছেন এই লেখার নামকরণে "জাদুকর" শব্দটি কেন ব্যবহার করেছি তাদের জন্যে জাদুর সম্রাট পি সি সরকারকে নিয়ে একটা কানে শোনা গল্প পেশ করছি (অর্থাৎ গল্পের যথার্থতা সম্পর্কে আমাকে দয়া করে জিজ্ঞেস করবেন না -- আমি কোনো প্রমান তথ্যাদি জোগাড় করতে পারবো না)।

পি সি সরকার একটি প্রেক্ষাগৃহে এক মাস যাবৎ শো করে আসছেন। এক যুবক প্রত্যেক দিন প্রথম সারিতে বসে তার শো দেখতো। এক মাস পর সে পি সি সরকারের বাড়ি গিয়ে জানায় যে সে জাদুকরের সমস্ত কারসাজি খুঁটিয়ে দেখার ফলে ধরে ফেলেছে। এবং তারপর সে পি সি সরকারের সামনে তাঁর সমস্ত ম্যাজিক নিখুঁত ভাবে করে দেখায়। যুবকের পর্যবেক্ষণ শক্তি দেখে পি সি সরকার খুব খুশি হন কিন্তু শেষে তাকে একটি উপদেশ দেন যে যদিও এ কথা ঠিক যে যুবকটি পি সি সরকারের সমস্ত ম্যাজিক ধরে ফেলেছে তবুও একটা ব্যাপারে পি সি সরকার এখনও এগিয়ে -- সেটি হলো যদি কোনো ম্যাজিক দেখানোর সময় সেটি প্ল্যান মাফিক না চলে কোনো কারণে মাঝপথে বিগড়ে যায় তাহলে দর্শকদের সামনে কি ভাবে সেই ত্রুটি ঢাকতে হবে সেটা কেবল পি সি সরকার জানেন।

Friday, April 14, 2017

লেখক: পর্ব ১৯

দু' টুকরো ঘটনা
(১)
আগের সপ্তাহে এক বন্ধুর বাড়ি গেছি। বেঙ্গালুরুতে বসবাসকারী আমার সমস্ত ব্যাচমেটদের মধ্যে সেই একমাত্র ব্যাচেলর (আমাকে ছাড়া)। এই কথাটা তাকে বলায় সে ভেতরের ঘরে গিয়ে আলমারি খুলে তার বৌভাতের নিমন্ত্রণ পত্র আমাকে উপহার দিলো। যদিও আমার খুশি হওয়ার কথা তবুও এই উপহারের মধ্যে বন্ধু বিচ্ছেদের অশনি সংকেত দেখতে পেলাম যেন।
(২)
এ বছরের appraisal-এর পর বাড়ি ফিরে বাবা মা কে বললাম এরপর থেকে আমি সরাসরি ইন্টেল ল্যাবের ডিরেক্টরের কাছে রিপোর্ট করবো। বাবা মা আশান্বিত হয়ে জিজ্ঞেস করলো এর মানে কি আমার প্রমোশন হয়েছে? আমি জানালাম: "না, আমার ম্যানেজার প্রমোশন পেয়ে ইন্টেল ল্যাবের ডিরেক্টর হয়েছেন"।

Wednesday, March 29, 2017

আগের বার ফেভারিট রেস্টুরেন্ট নিয়ে লিখেছিলাম, সেই সূত্র ধরে ফেভারিট কালার বা প্রিয় রং নিয়ে একটা ঘটনা বলি।

দম্পতিদের নিয়ে একটা কুইজ শো চলছে।
প্রশ্নকর্তা এক স্বামীকে জিজ্ঞাসা করেছেন "আপনার স্ত্রীর প্রিয় রং কি?"
স্বামী: "মাস্টার্ড (mustard)।"
প্রশ্নকর্তা: "মাস্টার্ড! এই রং কারো ফেভারিট বলে তো আগে শুনিনি -- আপনি সিওর তো?"
স্বামী: "তাই তো মনে হয়। আসলে বিয়ের পর থেকে তো চোখে শুধু সর্ষে ফুলই দেখছি।"

Monday, March 27, 2017

আমার এক কলিগের একটা প্রশ্ন শুনে খুব কৌতুক অনুভব করলুম -- "আচ্ছা, তোমার ফেভারিট হসপিটাল কি?"
ফেভারিট ফুড, ফেভারিট মুভি, ইত্যাদি প্রচুর শুনেছি কিন্তু ফেভারিট হসপিটাল !!!
পরে খেয়াল পড়লো আমার এই কলিগটি বিভিন্ন কারণে প্রায়শই হাসপাতালে ভর্তি হয়। না, না, সেরকম কোনো জটিল রোগ তার নেই। জ্বর, পেট খারাপ, ফোঁড়া -- এইসব সামান্য ব্যাপারেই।
যাই হোক, এইসব মানুষদের জন্য zomato-র মতো হাসপাতাল, নার্সিং হোম নিয়ে একটা app বানালে মন্দ হয় না -- কি বলেন?

Monday, March 20, 2017

আমার এক আইআইটির পুরোনো বন্ধু বিয়ের কিছুদিন পরই কিডনি সংক্রান্ত সমস্যায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এই কথাটা আইআইটির আর এক পুরোনো বন্ধুকে জানানোয় তার প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া: "অমুক কি নতুন বউকে iPhone 7 গিফ্ট করতে গেছিলো?"

Monday, February 27, 2017

এখানকার একটা দোকানে রাখা ওজন মাপার যন্ত্র অন্যান্য জায়গার থেকে তিন-চার কিলো কম ওজন দেখায়। (সন্দেহবাতিকদের জন্য বলে রাখি এটি একটি পরীক্ষিত সত্য।) এই দোকানেই কিন্তু ওজন মাপার ভিড় অন্যান্য দোকানের চেয়ে বেশী।

Wednesday, January 25, 2017

আমেরিকা থেকে এক সাহেব এসেছে আমাদের ল্যাবে। তার কাছে শুনলাম এখন নাকি আমেরিকায় কেও মিসেস (Mrs.) শব্দটা ব্যবহার করা না। সব মহিলাকে মিস (Miss) বলে ডাকাটাই হালফিলের রীতি। এই শুনে একজন বললো "মিস" শব্দটা ব্যবহার না করে "মিস" এবং "মিসেস"-এর মাঝামাঝি কোনো শব্দ থাকলে সেটাকে ব্যবহার করাটাই শ্রেয়। এই মন্তব্য শুনে আরেকজন বললো "মিস" এবং "মিসেস"-এর মাঝামাঝি যে শব্দটি আছে সেটা ব্যবহার না করাই ভালো কারণ সেই শব্দটি হলো "মিসট্রেস" (Mistress)।

Tuesday, January 24, 2017

ক: আর বলিস না, আমাদের পুরপিতা সবসময় মাল খেয়ে মাতাল অবস্থায় থাকে।
খ: তার মানে উনি সত্যি সত্যি পুরো পিতা।

Sunday, January 22, 2017

লেখক: পর্ব ১৮

পোশাক-আষাকের ব্যাপারে আমি সাধারণের চেয়ে বেশ খানিকটা কম সচেতন। এই কথাটা আগে বাড়ির লোকের কাছে অনেকবার শুনে থাকলেও ব্যাপারটাকে আমল দিইনি। তবে সম্প্রতি হোটেলের এক ওয়েটারের মন্তব্যে বুঝলাম সাজসজ্জা সম্পর্কে এতো বেশি উদাসীন না হওয়াই ভালো। সেই ঘটনাটা এখানে খুলে বলি।
বেঙ্গালুরুতে বাড়ির কাছে এক হোটেলে আমি প্রায়শঃই খেতে যেতাম। টি-শার্ট আর থ্রি-কোয়ার্টার্স -- মোটামুটি এটাই ছিল আমার হোটেলে যাওয়ার ড্রেস কোড। আমার এলাকার বিভিন্ন হোটেল পরীক্ষা করার পর স্বাদ এবং স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে আমি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলাম যে একমাত্র এই হোটেলের মিলই আমার পক্ষে দিনের পর দিন খাওয়া সম্ভব। বাকি যাবতীয় হোটেলের হয় খাবারের স্বাদ ভালো নয় নতুবা রান্নায় অত্যধিক তেল মশলা ব্যবহার করে। উপরন্তু এখানের খাবারের দামও তুলনামূলকভাবে সস্তা। এই কারণেই বোধহয় সমাজের সর্বস্তরের খদ্দেরের আগমন ঘটতো সেই হোটেলে।
বহুদিন ধরে যাওয়ার ফলে আমি মুখচেনা হয়ে গেছিলাম হোটেলের সব কর্মচারীর কাছে। আমাকে অর্ডার করার সময় আর আলাদা করে বলতে হতো না যে আমি চাপাটি খাবো না রুটি কিংবা কটা চাপাটি খাবো। সব ওদের মুখস্থ ছিলো। জানতে চাইছেন রুটি আর চাপাটির মধ্যে তফাৎ কি? আমিও জানতাম না এই হেটেলে আসার আগে। চাপাটি হচ্ছে আটার তৈরী মানে যা আমরা সাধারণতঃ খেয়ে থাকি, আর রুটি হচ্ছে বাজরার তৈরী -- চাপাটির চেয়ে বেশি পুষ্টিকর কিন্তু স্বাদে অতো ভালো নয়।
একদিন দেখি হোটেলের এক ওয়েটার ঘুরঘুর করছে আমার চারপাশে আর উসখুস করছে কিছু একটা বলার জন্য। খানিক পরে আর থাকতে না পেরে সে মনের ভেতর চেপে রাখা প্রশ্নটা আমার সামনে করেই ফেললো -- "ভাই, তুমি দিনে কতো টাকা রোজগার করো?"

Monday, January 9, 2017

লেখক: পর্ব ১৭

আমার তুতো ভাইদের সাথে হোস্টেলে থাকা নিয়ে কথা হচ্ছিলো। হোস্টেলে কার ঘর কতো নোংরা থাকতো সেই নিয়ে আলোচনা চলছিল। কথা বলতে বলতে আইআইটির বি.সি.রায় হোস্টেলে থাকার সময় আমার রুম পরিষ্কার করার ঘটনা মনে পড়ে গেলো। বি.সি.রায় হল আইআইটি খড়্গপুরের সবচেয়ে পুরোনো হলগুলোর মধ্যে একটা। আমার ঘরে যে খাট, টেবিল, চেয়ার, ইত্যাদি ছিলো সেগুলো এতো পুরোনো ছিলো যে নিয়মিত সেগুলো থেকে ঘুণ পড়তো। তা সত্ত্বেও আমি পারতপক্ষে ঘর পরিষ্কার করা নিয়ে মাথা ঘামাতাম না। কিন্তু তিন চার মাস পর যখন ঘরের ভেতর পা ফেললে মেঝের পুরু ধুলোর উপর পায়ের ছাপ স্পষ্ট বোঝা যেতো তখন আমি হোস্টেলের কোনো এক সুইপারকে ডেকে ঘর পরিষ্কার করাতাম। উপরি ইনকামের জন্য যে কোনো সুইপারকে কোনো স্টুডেন্ট ঘর পরিষ্কার করতে ডাকলেই সে রাজি হয়ে যেত। আমার স্পষ্ট মনে আছে যে আমি যে সুইপারকে প্রথম ডেকেছিলাম সে তো আমার ঘরের নোংরা দেখে ভেবেছিলো যে ঘরটা নিশ্চয়ই বেশ কিছুদিন বন্ধ পড়ে ছিলো আর আমি এই ঘরে নতুন এসেছি, কোনো ছাত্র যে এতো নোংরা রুমে বেশি দিন থাকতে পারে না সে বিষয়ে সে নিশ্চিত ছিলো। আমি লজ্জায় আর তার ভুল ভাঙাইনি। এবং তিন চার মাস অন্তর অন্তর আমি আলাদা আলাদা সুইপারকে ডেকে এনে ঘর পরিষ্কার করাতাম আর ঘরের দৈন দশা দেখে কেও কৌতূহল প্রকাশ করলে আমি এই রুমে নতুন এসেছি এই গুলটাই দিতাম।

Monday, January 2, 2017

লেখক: পর্ব ১৬

১লা জানুয়ারী, ২০১৬। বাবা মার সাথে বেঙ্গালুরুর রামকৃষ্ণ মঠে গেছিলাম। কল্পতরু দিবস উপলক্ষে দুপুরে ভোগের ব্যবস্থা হয়েছে। মেনু সামান্যই -- খিচুড়ি আর পায়েস। প্রথমে খিচুড়ি মুখে দিয়েই বাবা মার্ খুব ঝাল লেগে গেলো, আসলে ওই খিচুড়িটা হলো এখানকার "বিসিবেলে বাথ" যেটা দেখতে বাংলা দেশের খিচুড়ির মতো হলেও ঝালের পরিমানটা এতে একটু বেশি হয়। যাক, খিচুড়িটা ঝাল তো কি হয়েছে! হাতা ভর্তি করে পায়েস দিয়েছে তা দিয়েই পেট ভরে যাবে, এই ভেবে পায়েস মুখে দিতেই বাবা মা বুঝলো জিনিসটা ভীষণ টক, মিষ্টির ছিঁটে ফোঁটাও তাতে নেই। থাকবে কি করে? ওটা তো আসলে সাউথ ইন্ডিয়ার ফেভারিট ডিস্: কার্ড রাইস অর্থাৎ দই-ভাত। এদিকে আমি তো প্লেট চেটেপুটে সাফ করে দিয়েছি। তা দেখে মা বললো: "তোর এখানে ভালো খাওয়া দাওয়া জুটছে না, না রে?"

পুনশ্চ: আমার এক বন্ধু ফেসবুকে আমার এই লেখাটি পড়ে তার নিজের একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করে। সে নাকি বেঙ্গালুরুতে একবার কার্ড রাইসকে পায়েস ভেবে কার্ড রাইসের সাথে দুটো রুটিও কিনেছিলো।