-- তুই তো আর এবছর রিইউনিয়ন অ্যাটেন্ড করতে পারলি না। এবারে কার সাথে দেখা হলো জানিস?
-- কার সাথে?
-- অর্পণদা কে খেয়াল আছে? আমাদের থেকে কয়েক বছরের সিনিয়র ছিলো।
-- হ্যাঁ, আছে।
-- ও গ্রাজুয়েশন করে যে বিদেশী কোম্পানিটাতে ঢুকেছিলো এখন সেটার একজন ভিপি হয়ে গেছে।
-- ওদের কথা ছাড়তো, ওদের সময় আমাদের মতো কম্পেটিশন ছিলো না। আগেকার দিন বলে সহজেই একটা ভালো চাকরি বাগিয়ে নিয়েছে তারপর ওপরওয়ালাদের সুনজরে ছিলো তাই ক্রমে ক্রমে উন্নতি করেছে -- এ আর বেশি কথা কি!
-- আচ্ছা, আর কার সাথে দেখা হলো জানিস -- অনুপমের সাথে। আমাদের থেকে অনেকটাই জুনিয়র ছিলো। পুরোনো নোটসের খাতা জোগাড়ের জন্য আমাদের কাছে মাঝে মাঝে ঘুরঘুর করতো -- তোর হয়তো খেয়াল থাকবে।
-- হ্যাঁ, হ্যাঁ, ওই সেই রোগা করে ছুঁচোলো নাকওয়ালা ছেলেটা, তাই না? কি খবর মালটার?
-- হ্যাঁ, সেই ছেলেটাই। ও তো এখন ব্যাঙ্গালোরে থাকে। নিজের একটা স্টার্ট আপ আছে। ভালোই চলছে। যদ্দূর সম্ভব ও অ্যাদ্দিনে কোটিপতি হয়ে গেছে।
-- সব কপাল ভাই! ওরা হলো ইন্টারনেটের যুগের ছেলে। আমাদের পাড়ায় প্রথম যখন সাইবার ক্যাফে খোলে তখন আমরা স্কুলের গন্ডি প্রায় পেরিয়ে গেছি। ওদের মতো সুযোগ সুবিধে যদি আমাদের থাকতো তাহলে তো কোনো কথাই ছিলো না -- আমরাও এতোদিনে কেষ্টুবিষ্টু হয়ে যেতাম কোনো কোম্পানির।
-- হুমম। তবে এবারে কার দেখা পেয়ে সবচেয়ে অবাক হলাম জানিস -- রাজীবের। ওই বোধহয় আমাদের একমাত্র ব্যাচমেট যার সাথে পাশ করার পর মাঝখানে কখনো একবারের জন্যেও দেখা-সাক্ষাৎ হয়নি। স্রেফ ভ্যানিশ হয়ে গেছিলো। এবার রিইউনিয়নে দেখে তো পুরো চমকে উঠলাম -- মালটা পুরো পালটে গেছে। এখন নাকি আমেরিকাতে একটা ইউনিভার্সিটিতে প্রোফেসর। কথা-বার্তা চাল-চলন দেখলে তাক লেগে যাবে পুরো।
(কিছুক্ষনের নীরবতা)
-- এবার আমার আর কিছুই বলার নেই, বুঝলি। রাজীব ছেলেটা তো আমাদের সাথে একই বেঞ্চে বসতো, একই ক্লাস করতো, ইন ফ্যাক্ট আমরা একই টিউশনে পর্যন্ত পড়তাম। মোদ্দা কথা সে সময় আমাদের মধ্যে চুলচেরা ফারাক ছিলো। সিনিয়র জুনিয়রের সাফল্য উড়িয়ে দিতে পারি যতোটা সহজে, ব্যাচমেটের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ততোটাই কঠিন।