Tuesday, October 31, 2017

বেঙ্গালুরুতে ঘর থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে আটকে পড়েছেন -- এদিকে উবের বা ওলাতে কোনো ট্যাক্সি পাচ্ছেন না -- ভাবছেন এখন কি করবেন?

ঘাবড়াবেন না। কাছাকাছি কোনো একটা রেস্তোরাঁয় সোজা গিয়ে ঢুকে পড়ুন। তারপর সেই হোটেল থেকে ঘরের জন্য একটা মিল বুক করে ফেলুন। ডেলিভারি বয় পৌঁছে গেলে তার বাইকের পেছনে বসে খাবার সমেত নিশ্চিন্তে ঘরে পৌঁছে যান।
সস্তায় পুষ্টিকর -- এর চেয়ে বেশি ভালো উদাহরণ আর কিছু পাবেন না।

Thursday, October 19, 2017

আজ কালীপূজা। বললে বিশ্বাস করবেন না -- সক্কাল সক্কাল মা জগজ্জননীর দেখা পেয়ে গেলাম। তবে রামকৃষ্ণ কিংবা বামাক্ষ্যাপার মতো মস্ত লাইফটাইম ভক্ত তো আর নই তাই নিতান্তই সাধারণ ভক্তের জন্য মা "ছোটা রিচার্জ" প্যাকে ধরা দিলেন। 

আজ সকালে অফিসে ব্রেকফাস্টে "কর্ণফ্লেক্স উইথ ফ্রুটস" অর্ডার দিয়েছি। কাউন্টারের ওপাশ থেকে ছেলেটি জিজ্ঞেস করলো ফলগুলো কি খোসা ছাড়িয়ে কর্ণফ্লেক্সে মেশাবে? আমি জানালাম না থাক, খোসা থাকলে আমার কোনো আপত্তি নেই। ছেলেটি দেখি আপেল ইত্যাদি দেওয়ার পর কলাও খোসা সমেত মেশাতে যাচ্ছে। আমি সঠিক সময়ে চেঁচিয়ে উঠে তাকে সাবধান করে দেওয়ায় ছেলেটি শেষ মুহূর্তে নিজেকে সামলে নেয়। অন্যমনস্কতাবশতঃ আরেকটু হলেই যে ছড়িয়ে ফেলছিলো সেটা বুঝতে পেরে ছেলেটি তৎক্ষণাৎ আমার দিকে তাকিয়ে এক হাত জিভ বার করে মা কালীর রূপ ধারণ করলো।

Wednesday, October 18, 2017

লেখক: পর্ব ২১

ভূত চতুর্দশীতে ভূতের গল্পই মানায়। কিন্তু আপাতত আমার ভূতুড়ে গল্পের ভাঁড়ার শূন্য হওয়ায় আমি বরং আমার প্রথম ভূতের সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতাটাই আপনাদের সাথে শেয়ার করি। আমার দেখা প্রথম ভূতের সিনেমা: ইভিল ডেড, যেটা পরবর্তী কালে একটি কাল্ট মুভিতে পরিণত হয়েছে। আমার ধারণা আপনারা অনেকেই সিনেমাটি দেখেছেন কিন্তু আমি যে বয়সে সিনেমাটা দেখেছি হলপ করে বলতে পারি যে আপনারা সে বয়সে দেখেননি। আমি এই সিনেমাটি দেখি ক্লাস ফোরে পড়াকালীন। মাথায় কি ভূত চেপেছিলো জানি না, সে সময় বাবা মার কাছে বায়না ধরেছিলাম ভূতের সিনেমা দেখবো। আমাকে সে সময় স্কুল বাসে তুলতে যেত একটা ছেলে -- সেই কোথ্থেকে জোগাড় করে দিয়েছিলো একটা ভিসিআর আর ইভিল ডেড সিনেমার ভিডিও ক্যাসেটটা।
সিনেমা দেখে তো আমার হালুয়া টাইট -- প্যান্ট হলুদ করে ফেলি আর কি! তারপর প্রায় এক মাস আমি কোনো ঘরে একা থাকতে সাহস পাইনি, অন্ধকার রাস্তা এড়িয়ে চলেছি, দিনে দুপুরে বাথরুম যেতে পর্যন্ত বুক দুরুদুরু করতো।
আমাকে তখন পাড়ার মসজিদে নিয়ে যায় আমাদের বিল্ডিংয়ের কেয়ারটেকার দিলীপকাকু। সেখানে এক পীর বাবা ঝাঁটা দিয়ে আমাকে ঝেড়ে দেয় (বিঃদ্রঃ টিভিতে দেখা ওঝাদের ঝাঁটাপেটার সাথে এই ঝাড়ার কিন্তু বিশেষ মিল নেই) এবং খানিক মন্ত্রপূতঃ বিটনুন দেন একটি কাগজে মুড়ে। এই বিটনুন বাড়ির নুনের সাথে মিশিয়ে তাই দিয়ে রান্না করা খাবার খাওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। এই নির্দেশ আমার পরিবারের লোকজন কতোখানি মেনেছিলো জানি না তবে আমি কিছুদিনের মধ্যেই ওই সর্বদা ভয়-ভয় ভাবটা কাটিয়ে উঠি।
এই মুহূর্তে আমাকে কিন্তু হরর ফিল্মের ফ্যান বলা চলে। এই মাত্র আমি একা একা ঘরে বসে Annabelle: Creation মুভিটা দেখা শেষ করলাম।