Thursday, March 31, 2016

ব্রাহ্মণ পরিবার যখন তখন বংশে কেও না কেও তো নিশ্চয়ই অপরের বাড়ি গিয়ে পৌরহিত্য করে এসেছেন, তবে আমার দেখা আমাদের বংশে আমিই প্রথম। সম্প্রতি বেঙ্গালুরুতে আমার আইআইটির রুমমেট সৌম্যর বাড়িতে সরস্বতী পুজো করে এলাম। ফেসবুকের দৌলতে সে খবর আপনারা অনেকেই আগে পেয়ে গেছেন। ভেতরের খবর হলো দক্ষিণা পেয়েছি মাত্র এক টাকা, কার্যত বুঝতেই পারছেন আমার একমাত্র সঞ্চয় হলো -- অভিজ্ঞতা। এই অভিজ্ঞতা সবিস্তারে না হয় পরে কখনো সুযোগ পেলে বলবো, আপাতত পুজোর প্রধান সামগ্রী -- সরস্বতী ঠাকুরের প্রতিমা -- জোগাড় করা নিয়ে কিছু মজার ঘটনা বলি।
এখানে সরস্বতী পূজার প্রচলন নেই বলে সৌম্য তো মায়ের প্রতিমার সন্ধানে ঘুরে ঘুরে হয়রান। অবশেষে এক দোকানে সরস্বতীর একটি ছোট (দক্ষিণ ভারতীয় মুখের আদলসহ) প্রতিমা খুঁজে পেয়ে তাই চটপট কিনে ফেলে; সে দেখতে যেমনই হোক, পাওয়া তো গেছে -- এই রক্ষে! তখন যে সরস্বতী পুজোর সময় সেটা তো এখানকার দোকানদার জানে না, তাই সেও চটপট নিজের ব্যবসাহিক বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে গণেশের একটি বিগ্রহ বের করে সৌম্যকে (ইংরেজিতে) বলে: "আপনি এই ভগবানকেও সঙ্গে নিয়ে যান -- ইনিও পরীক্ষায় পাস করতে সাহায্য করেন।"
এই ঘটনাটির লেজুড় আরেকটু আছে। সরস্বতী পুজোর আগের দিন সৌম্য অফিস থেকে বেরিয়ে দেখে অফিসের উল্টো দিকে রাস্তায় একজন মৃৎশিল্পী প্রচুর দেবদেবীর বিগ্রহের পসরা নিয়ে বসেছে। তার কাছে মনোমতন সরস্বতীর প্রতিমা পাওয়া যায় এবং সেই প্রতিমাই পুজোতে ব্যবহৃত হয়।

Monday, March 28, 2016

বেঙ্গালুরুতে খরচা যেমন আছে তেমন টাকাও কিন্তু আছে। সেদিন ডমিনো'স পিত্জার সামনে দেখি বিজ্ঞাপন দিয়েছে যে পিত্জা ডেলিভারি করার জন্য লোক চাই -- মাইনে দেখি অনেক পিএইচডি স্কলারের স্কলারশিপের চেয়ে বেশ বেশি। এই দেখে সম্প্রতি শোনা একজন প্রফেসরের কথা মনে পড়ে গেল। ইনি ডিএসটি (ডিপার্টমেন্ট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি) অনুমোদিত স্কলারশিপের চেয়ে অনেক কম স্কলারশিপ দেন নিজের ছাত্রদের। এই কম স্কলারশিপ দেওয়ার কারণ ছাত্ররা একবার ওনার কাছে পিএইচডি করতে ঢুকলে যাতে মাঝখানে ছেড়ে না চলে যায়।
এই বিপরীত বিবেচনার কথা পড়ে অবাক হচ্ছেন? তাহলে শুনুন।
আসলে এই প্রফেসর যখন প্রথম চাকরিতে ঢোকেন তখন ওনার কাছে প্রথম যে ছাত্রটি পিএইচডি করতে ঢুকেছিল তাকে উনি ঠিকঠাক পয়সাই দিতেন। এই ছাত্রটিকে প্রথম একবছর কাজকর্ম সম্বন্ধে কিছু জিজ্ঞেস করলেই সে "সায়েন্স", "নেচার" জাতীয় তাবড় তাবড় জার্নাল পড়ে পিএইচডির জন্য প্রবলেম বার করা নিয়ে ব্যস্ত আছে -- এই কথা বলতো। স্যারের তো এই ছাত্রকে ঘিরে প্রচুর আশা। এক বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর একদিন সকালে ছাত্রটি এসে স্যারকে প্রণাম করে নিজের পদত্যাগপত্রটি জমা দিল। স্যারের তো ইস্তফাপত্র পড়ে মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। হঠাৎ কাজ ছাড়ার কারণ জিজ্ঞেস করলে পরে ছাত্রটি জানায় যে আসলে সে এমবিএ-র জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এমবিএ পড়ার খরচা অনেক -- তার খানিকটা এই এক বছরে সে জমিয়ে ফেলেছে।
এর পর থেকে সেই প্রফেসর আর কোনো ছাত্রকে টাকা জমাবার সুযোগ দেবেন না বলে প্রতিজ্ঞা করেছেন।

পুনশ্চঃ এই ঘটনাটা যাদেরকে আগে বলেছি তারা সবাই অভিমত জানিয়েছে যে এরকম ছাত্রই এমবিএ পড়ে ভবিষ্যতে দুঁদে ম্যানেজার হয় -- তা, আপনি কি বলেন?

Monday, March 14, 2016

বাবা: আমাকে একটা ফেসবুকে প্রোফাইল খুলে দে।
ছেলে: তুমি তো মেল-ই করতে পারো না. ফেসবুকে কি করবে?
বাবা: তুই তো ইনকামই করতে পারিস না, তাও ব্যাঙ্কের একাউন্ট খুলেছিস। আমি কিছু বলেছি?
অদ্ভুত নিস্তব্ধতা।

(মৈনাকের সৌজন্যে)

Monday, March 7, 2016

ছবিদার দোকান (মৈনাকের সংযোজন):

সেদিন, ২৯ শে ফেব্রুয়ারী, এই দুপুর বেলা লাঞ্চ টাইমে ছবিদার দোকানে সিগারেট কিনতে গেছি। ছবিদা লোকটা এমনিতে কোনো খবর টবর রাখে না, দোকানে গেলেই সবসময় B-গ্রেড বাংলা সিনেমার গান শুনতে পাওয়া যায়। কিন্তু তাহলে কি হবে, বাজেটটা ঠিক শুনতেই হবে।
সেদিন ১০০ টাকার একটা নোট ধরিয়ে বললাম,
"দাও গোল্ড ফ্লেক, এক প্যাকেট"...
ছবিদা চুপচাপ প্যাকেটটা দিয়ে একটা ১০ টাকার নোট আর একটা ৫ টাকার কয়েন ফেরত দিল...
আমি : কি হল? আর ৫ টাকা?
ছবিদা : ও দাম বেড়ে গেছে, বাজেটে বলে দিয়েছে।
আমি : আরে অরুণ জেটলি এখনো বাজেট শেষ করেনি আর তুমি দাম বাড়িয়ে দিলে?
ছবিদার সেই বিখ্যাত হাসি, সে হাসি দেখলে আর কিছু বলা যায় না, শুধু ছবিদার দিকে তাকিয়ে দুটো অস্ফুট চার অক্ষর মনের ভেতর ঘুরপাক খায়...

Sunday, March 6, 2016

পিএইচডি করা এক ইঞ্জিনিয়ারের বৃত্তান্ত:
আমার ভিসিটিং কার্ডটা হাতে নিয়ে ভদ্রলোক বললেন -- "তোমার নামের আগে Dr লেখা, এদিকে তোমার ডেসিগনেশান লেখা আছে 'সিনিয়র সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার'! তুমি একই সাথে ডাক্তার আবার ইঞ্জিনিয়ারও?"