ছোটবেলায় টিভিতে "গিনিস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস" দেখতাম। যদ্দূর সম্ভব ডিডি মেট্রোতে রোব্বার হতো। সেখানে দেখি একবার কে কতো জোরে চিৎকার করতে পারে তার প্রতিযোগিতা চলছে। একটি মেয়ে খুব জোরে চিৎকার করে বিশ্বরেকর্ড স্থাপন করে। সঞ্চালক এগিয়ে এসে মেয়েটিকে অভিনন্দন জানান। পরক্ষণেই সেই মেয়েটির বোন আরো জোরে চিৎকার নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়ে। সঞ্চালক এবার এগিয়ে এসে বোনকে অভিনন্দন জানান, তার সাথে আগের মেয়েটিকেও অভিনন্দন জানান "সবচেয়ে কম সময়ের জন্য বিশ্বরেকর্ড স্থাপন করার" বিশ্বরেকর্ড স্থাপন করার জন্য।
Friday, December 26, 2014
Monday, December 22, 2014
আমাকে কে বললো যে ট্রেনে নাকি WiFi-এর ব্যবস্থা করে দিয়েছে। সারা রাতের ট্রেন জার্নি তাই আমি কার্পণ্য না করে AC 2 tier-এর টিকিট কাটলাম। এই প্রথম 2 tier, আগে ভাবতাম না জানি কি আছে ওই কূপগুলোতে -- পরীরা এসে খাবার দেয় -- এই সব। অদেখা অজানা জিনিস কল্পনা করতে আমার জুড়ি নেই। তা উঠলাম প্রথমবার 2 tier-এ। WiFi তো দূরের কথা, চার্জিং পয়েন্টই কাজ করে না। তদুপরি pantry car-ও নাকি নেই এই ট্রেনে। ইন্টারনেট না হয় নাই করলাম -- কিছু যায় আসে না, কিন্তু না খেয়ে থাকতে হবে নাকি সারা রাত? টিকিট পরীক্ষককে খোঁজা দরকার, টিকিটটা তো উনি দেখে গেলেন হেলতে-দুলতে -- আমাদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যটা কে দেখবে? পয়সা দিয়ে টিকিট কেটে উঠেছি, এই সব ভাবতে ভাবতে গেলাম। দেখি বাবু পান চিবুচ্ছেন, আমার প্রশ্ন শুনে হাসতে হাসতে বললেন যে এই ট্রেনে নাকি সব থেকে বেশিবার Maoist attack হয়েছে; আর ওরা এলে প্রথমে pantry car-এর সব খাবার তুলে নিয়ে যায় -- তাই ওই পাট এখন তুলে দেওয়া হয়েছে। ... বুঝলাম রাতে ঘুমটাও হবে না।
কি ট্রেন সেটা জানতে চান? LTT শালিমার। (জনস্বার্থে প্রচারিত)
(এই ঘটনাটি মৈনাকের ভাষাতেই লিখে রাখলাম।)
কি ট্রেন সেটা জানতে চান? LTT শালিমার। (জনস্বার্থে প্রচারিত)
(এই ঘটনাটি মৈনাকের ভাষাতেই লিখে রাখলাম।)
Thursday, December 18, 2014
দ্বিতীয় স্টপেজে মেট্রো ট্রেনে ঠেছি। উঠে দেখি এর মধ্যেই ভিড় জমে গেছে, তাই বাধ্য হয়ে প্রবীণ নাগরিকদের জন্যে নির্দিষ্ট সিটটিতে গিয়ে বসি। পরের স্টপেজেই এক বয়স্ক ভদ্রলোক আমার কামরায় ওঠায়, বাধ্য হয়ে ওনাকে সিটটা ছেড়ে দিই। কিছুক্ষণের মধ্যেই উনি পাশে বসা আরেক বয়স্ক ভদ্রলোকের সাথে গল্প জুড়ে দেন। আমার মনে পড়ে যায় পূর্বে শোনা সেই কথাটা: "বৃদ্ধেরা গল্প করে।" স্বভাববশত আমি কান খাড়া করি।
ওনাদের গল্পের বিষয় খুবই প্রাসঙ্গিক -- বয়স্ক মানুষদের দেখে আজকের প্রজন্মের নিজের থেকে সিট ছেড়ে দেওয়া। ওনারা দুজনেই একমত যে এখনকার ছেলেমেয়েদের ক্রমশ গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধা কমে যাচ্ছে। এই প্রসঙ্গে একজন বয়স্ক ভদ্রলোক যোগ করেন যে এইসব ছেলেমেয়েদের অবিলম্বে সহবত শেখানো উচিৎ এবং উনি নিজের সমর্থনে মেট্রোতে ওনার একটি অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন। ঘটনাটি এইরূপ: একদিন উনি মেট্রোতে উঠে দেখেন একজন জোয়ান ছেলে প্রবীণ নাগরিকদের সিটে বসে আছে, এদিকে একজন বৃদ্ধ ভদ্রলোক ঠিক ওই ছেলেটির সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। এই দেখে উনি সিটের উপরে লেখা নির্দেশিকার দিকে ছেলেটির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং ছেলেটি উঠে গেলে পর তার জায়গায় গিয়ে বসেন। মজার ব্যাপার হলো চোখের সামনে সিটটির মালিকানা পাল্টে যেতে দেখে দাঁড়িয়ে থাকা ভদ্রলোক বলে ওঠেন: "দাদা, আমি কি দোষ করলাম?"
এই ঘটনাটি শুনে অপর বয়স্ক ভদ্রলোকটি নিজের একটি অনুরূপ অভিজ্ঞতার কথা বলেন। সেখানেও একটি ছেলে নির্দেশিকা উপেক্ষা করে প্রবীণ নাগরিকদের সিটে বসে আছে এবং এক বৃদ্ধ লোক সিটটির সামনে দাঁড়িয়ে। কেন ছেলেটিকে সিটটা ছেড়ে দিতে বলছেন না বৃদ্ধ লোকটি জিজ্ঞেস করলে পর তিনি বলেন: "ওদের আর কি দোষ বলো, ওরা আমাদের থেকে যে শিক্ষা পেয়েছে তার ফল তো আমাদেরই ভোগ করতে হবে।"
ওনাদের গল্পের বিষয় খুবই প্রাসঙ্গিক -- বয়স্ক মানুষদের দেখে আজকের প্রজন্মের নিজের থেকে সিট ছেড়ে দেওয়া। ওনারা দুজনেই একমত যে এখনকার ছেলেমেয়েদের ক্রমশ গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধা কমে যাচ্ছে। এই প্রসঙ্গে একজন বয়স্ক ভদ্রলোক যোগ করেন যে এইসব ছেলেমেয়েদের অবিলম্বে সহবত শেখানো উচিৎ এবং উনি নিজের সমর্থনে মেট্রোতে ওনার একটি অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন। ঘটনাটি এইরূপ: একদিন উনি মেট্রোতে উঠে দেখেন একজন জোয়ান ছেলে প্রবীণ নাগরিকদের সিটে বসে আছে, এদিকে একজন বৃদ্ধ ভদ্রলোক ঠিক ওই ছেলেটির সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। এই দেখে উনি সিটের উপরে লেখা নির্দেশিকার দিকে ছেলেটির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং ছেলেটি উঠে গেলে পর তার জায়গায় গিয়ে বসেন। মজার ব্যাপার হলো চোখের সামনে সিটটির মালিকানা পাল্টে যেতে দেখে দাঁড়িয়ে থাকা ভদ্রলোক বলে ওঠেন: "দাদা, আমি কি দোষ করলাম?"
এই ঘটনাটি শুনে অপর বয়স্ক ভদ্রলোকটি নিজের একটি অনুরূপ অভিজ্ঞতার কথা বলেন। সেখানেও একটি ছেলে নির্দেশিকা উপেক্ষা করে প্রবীণ নাগরিকদের সিটে বসে আছে এবং এক বৃদ্ধ লোক সিটটির সামনে দাঁড়িয়ে। কেন ছেলেটিকে সিটটা ছেড়ে দিতে বলছেন না বৃদ্ধ লোকটি জিজ্ঞেস করলে পর তিনি বলেন: "ওদের আর কি দোষ বলো, ওরা আমাদের থেকে যে শিক্ষা পেয়েছে তার ফল তো আমাদেরই ভোগ করতে হবে।"
Thursday, December 4, 2014
শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমরা মূলত: কাহিনীকার হিসেবে চিনলেও, বাংলা সাহিত্যে ওনার আত্মপ্রকাশ কিন্তু কবিতার বই দিয়ে। ওনার "অনুমন" কাব্যগ্রন্থ থেকে একটি তিন লাইনের কবিতা নিচে উদ্ধৃত করা হলো, কবিতার নাম -- চন্দ্রহাস।
চন্দ্রহাস
শিল্পীর শিরে পিলপিল করে আইডিয়া
লেখেন যখন পুস্তক তিনি তাই দিয়া
উই পোকা কয়, চল এইবার খাই গিয়া।
এইবারে একটি তথ্য জানাই -- শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণত: "চন্দ্রহাস" ছদ্মনামে কবিতা লিখতেন। আচ্ছা, এই কবিতা কি কবির অনুজ্জ্বল ভবিষ্যত নিয়ে দুশ্চিন্তার বহিঃপ্রকাশ ?
আশাকরি বাস্তব জীবনে এই দুশ্চিন্তা লেখককে বেশি দিন গ্রাস করে রাখতে পারিনি -- এই দুশ্চিন্তা আপাতত আমার।
(তথ্য সুত্র: শরদিন্দু অমনিবাস, একাদশ খন্ড, গ্রন্থ পরিচয়)
চন্দ্রহাস
শিল্পীর শিরে পিলপিল করে আইডিয়া
লেখেন যখন পুস্তক তিনি তাই দিয়া
উই পোকা কয়, চল এইবার খাই গিয়া।
এইবারে একটি তথ্য জানাই -- শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণত: "চন্দ্রহাস" ছদ্মনামে কবিতা লিখতেন। আচ্ছা, এই কবিতা কি কবির অনুজ্জ্বল ভবিষ্যত নিয়ে দুশ্চিন্তার বহিঃপ্রকাশ ?
আশাকরি বাস্তব জীবনে এই দুশ্চিন্তা লেখককে বেশি দিন গ্রাস করে রাখতে পারিনি -- এই দুশ্চিন্তা আপাতত আমার।
(তথ্য সুত্র: শরদিন্দু অমনিবাস, একাদশ খন্ড, গ্রন্থ পরিচয়)
Tuesday, December 2, 2014
ডোভার্স লেন ক্লাবের সদস্যদের বিশেষ সুনাম আছে "বোদ্ধা" হিসেবে। লঘুমানের কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নাকি এই ক্লাবে কখনো হয়না। পার্থদার এক বন্ধু (বোধ হয় পরখ করার উদ্দেশ্যে) কোনো এক পরিচিতের মাধ্যমে এই ক্লাবের শারদীয়া অনুষ্ঠানের একটি টিকিট জোগাড় করে। অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে, এক বিখ্যাত গায়িকা (নামটা উহ্যই থাক) একটি গান ধরেছেন। গানের একটি মাত্র লাইনকেই উনি নানা ভাবে, নানা ভঙ্গিমায়, বিভিন্ন সুরে, বিভিন্ন আঙ্গিকে গেয়েই চলেছেন। আর ধৈর্য রাখতে না পেরে পার্থদার সেই বন্ধু পাশে বসে থাকা দর্শকদের উদ্দেশ্যে জোর গলায় বলে ওঠে: "পরের লাইনটা বোধ হয় ভুলে গেছে।"
বলাই বাহুল্য, সেই বন্ধু আর কোনোদিন ও পাড়ামুখো হয়নি।
************************************
ফেসবুকে আমার উপরের লেখাটি পড়ে আমার বন্ধু (এবং প্রাক্তন রুমমেট) মৈনাকের সংযোজন:
প্রখ্যাত ভাষাবিদ সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় সুকুমার রায়ের বন্ধু ছিলেন। একদিন বিকেল বেলা সুকুমার তাঁকে বলেন - আমার সাথে এক জায়গায় যাবে? সুনীতি কুমার "কোথায়" জিজ্ঞেস করায় সুকুমার বলেন তাঁর এক পরিচিত ভদ্রলোক গত হয়েছেন, সেই ভদ্রলোকের শোকসভা হবে ব্রাম্হ সমাজ হলে। সুকুমার যাবেন, যদি সুনীতি কুমারও তার সংগে যান। সুনীতি কুমার বলছেন ইতিপূর্বে তিনি সুকুমারের সংগে কিছু জায়গায় গিয়েছেন এবং তার সেই পূর্ব অভিজ্ঞতা মোটেই সুখকর ছিলো না। সুকুমার তাকে আস্বস্থ করেন তিনি এমন কিছু করবেন না যাতে সুনীতি কুমার বিপদে পড়েন। অতঃপর দুজনে ব্রাম্হ সমাজ হলে গিয়ে উপস্থিত হন।
সেখানে সবাই সেই প্রয়াত মানুষটির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।কেউ কেউ ব্রাম্হ সংগীত পরিবেশন করেন। একেবারে শেষে সুকুমার বলেন যে তিনি একটি গান গাইতে ইচ্ছুক। সবাই একমত হয়ে তাঁকে গান করার অনুমতি দিলে তিনি হারমোনিয়াম সহযোগে গাইতে শুরু করেন "কাঁদো রে মন, কাঁদো রে"। এই একটি লাইন তিনি অন্তত কুড়ি - পঁচিশ বার পুনরাবৃত্তি করেন। বিভিন্ন ভাবে গাইলেন। সকল শ্রোতা আপ্লুত হয়ে পড়েছেন এমন সময় তিনি দ্বিতীয় লাইনটি গান। সেটি ছিল "আমার মন বাগানের সখের তরুর ফল খেয়ে যায় বাঁদরে"।
সুনীতি কুমার বলেছিলেন তার পর যা হয়েছিল তা আর না বলাই ভাল। তবে এর পরে শত অনুরোধেও সুনীতি কুমার আর সুকুমারের সংগে কোথাও যাননি।
বলাই বাহুল্য, সেই বন্ধু আর কোনোদিন ও পাড়ামুখো হয়নি।
************************************
ফেসবুকে আমার উপরের লেখাটি পড়ে আমার বন্ধু (এবং প্রাক্তন রুমমেট) মৈনাকের সংযোজন:
প্রখ্যাত ভাষাবিদ সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় সুকুমার রায়ের বন্ধু ছিলেন। একদিন বিকেল বেলা সুকুমার তাঁকে বলেন - আমার সাথে এক জায়গায় যাবে? সুনীতি কুমার "কোথায়" জিজ্ঞেস করায় সুকুমার বলেন তাঁর এক পরিচিত ভদ্রলোক গত হয়েছেন, সেই ভদ্রলোকের শোকসভা হবে ব্রাম্হ সমাজ হলে। সুকুমার যাবেন, যদি সুনীতি কুমারও তার সংগে যান। সুনীতি কুমার বলছেন ইতিপূর্বে তিনি সুকুমারের সংগে কিছু জায়গায় গিয়েছেন এবং তার সেই পূর্ব অভিজ্ঞতা মোটেই সুখকর ছিলো না। সুকুমার তাকে আস্বস্থ করেন তিনি এমন কিছু করবেন না যাতে সুনীতি কুমার বিপদে পড়েন। অতঃপর দুজনে ব্রাম্হ সমাজ হলে গিয়ে উপস্থিত হন।
সেখানে সবাই সেই প্রয়াত মানুষটির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।কেউ কেউ ব্রাম্হ সংগীত পরিবেশন করেন। একেবারে শেষে সুকুমার বলেন যে তিনি একটি গান গাইতে ইচ্ছুক। সবাই একমত হয়ে তাঁকে গান করার অনুমতি দিলে তিনি হারমোনিয়াম সহযোগে গাইতে শুরু করেন "কাঁদো রে মন, কাঁদো রে"। এই একটি লাইন তিনি অন্তত কুড়ি - পঁচিশ বার পুনরাবৃত্তি করেন। বিভিন্ন ভাবে গাইলেন। সকল শ্রোতা আপ্লুত হয়ে পড়েছেন এমন সময় তিনি দ্বিতীয় লাইনটি গান। সেটি ছিল "আমার মন বাগানের সখের তরুর ফল খেয়ে যায় বাঁদরে"।
সুনীতি কুমার বলেছিলেন তার পর যা হয়েছিল তা আর না বলাই ভাল। তবে এর পরে শত অনুরোধেও সুনীতি কুমার আর সুকুমারের সংগে কোথাও যাননি।
Monday, December 1, 2014
বাচ্ছা ছেলেটিকে দেবী মন্ডপের সামনে ঘুরঘুর করতে দেখে এক সংগঠক জিজ্ঞেস করলো: "কি রে, এই তো একটু আগে প্রসাদ নিয়ে গেলি ! আবার কি নিতে এসেছিস ?"
বাচ্ছা ছেলেটি উত্তর দিলো: "এবার কিছু নিচ্ছি না, শুধু দিচ্ছি।"
সংগঠক: "কি দিচ্ছিস ?"
বাচ্ছা ছেলে: "লোভ।"
অগত্যা ... মায়ের দয়ায় আরেকবার প্রসাদ লাভ হলো।
********************************
উপরে লেখা ঘটনাটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক নয়, আংশিক ভাবে আমার নিজের জীবনের এক ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত।
তখন আমি বেশ বড়। একবার সরস্বতী পুজোর প্রসাদ খাওয়ার পর আমি মন্ডপের সামনে ঘোরাফেরা করছি, পুজোর কর্মকর্তাদের মধ্যে একজনের তাই দেখে আমার হাবভাব বোধ হয় সন্দেহজনক বলে ঠেকে। এর পরের দেওয়া-নেওয়ার বাক্যালাপটা আগের মতোই, তবে আমার উত্তর শুনে সেই কর্মকর্তার প্রতিক্রিয়াটা ছিলো একটু অন্যরকম -- উনি চেঁচিয়ে ওঠেন: "ভাগ, শালা, এখান থেকে।"
বাচ্ছা ছেলেটি উত্তর দিলো: "এবার কিছু নিচ্ছি না, শুধু দিচ্ছি।"
সংগঠক: "কি দিচ্ছিস ?"
বাচ্ছা ছেলে: "লোভ।"
অগত্যা ... মায়ের দয়ায় আরেকবার প্রসাদ লাভ হলো।
********************************
উপরে লেখা ঘটনাটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক নয়, আংশিক ভাবে আমার নিজের জীবনের এক ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত।
তখন আমি বেশ বড়। একবার সরস্বতী পুজোর প্রসাদ খাওয়ার পর আমি মন্ডপের সামনে ঘোরাফেরা করছি, পুজোর কর্মকর্তাদের মধ্যে একজনের তাই দেখে আমার হাবভাব বোধ হয় সন্দেহজনক বলে ঠেকে। এর পরের দেওয়া-নেওয়ার বাক্যালাপটা আগের মতোই, তবে আমার উত্তর শুনে সেই কর্মকর্তার প্রতিক্রিয়াটা ছিলো একটু অন্যরকম -- উনি চেঁচিয়ে ওঠেন: "ভাগ, শালা, এখান থেকে।"
Wednesday, November 26, 2014
কথা দিয়েছিলাম লিখবো। তাই আজকের কথাগুলো সত্যরক্ষা পালন হেতু লিখতে বসেছি।
(বিধিঅসম্মত সতর্কীকরণ: বেশি ভালো কিছু আশা করবেন না, আজকে ভাঁড়ার শূন্য -- তাই এসব কথার প্রস্তাবনা।)
১) আমার এক মিশনের গল্পের উৎস হিসেবে একজনের কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছিলাম, তার নাম লিখেছিলাম "মাওবাদী"। এ হেন নামকরণের ইতিহাসটা তখন চেপে গিয়েছিলাম পরে কখনো জানানোর ইঙ্গিত দিয়ে। আজ প্রথমে এই ইতিবৃত্তটাই খোলসা করি।
আইআইটিতে আমার এক জনদরদী বন্ধু আছে যে অচেনা অজানা ছেলেদের সঙ্গে বৈদ্যুতিক মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে ভাব জমিয়ে ফেলে এবং প্রয়োজনে তাদের জন্যে নানারকম সুযোগ সুবিধের ব্যবস্থা করে থাকে। এরকমই এক (প্রায়) অপরিচিত ছেলের জন্যে সে একবার আমাদের আইআইটির মেসে তার থাকা খাওয়ার আয়োজন করে। এই ছেলেটি মেসের সকলের অপরিচিত হওয়ায় এবং সে সময় মেদিনীপুরে মাওবাদীদের কিঞ্চিত বাড়বাড়ন্ত হওয়ার ফলে মেসের কারুর মাথায় আসে, "আচ্ছা, ছেলেটা মাওবাদী নয় তো?" সে থেকেই তার ডাকনাম হয়ে যায় "মাওবাদী"।
২) ০৬-০২-২০১১: এই তারিখে আইআইটিতে একটি বুনো হাতি ঢুকে পড়েছিলো। ব্যাস, ঘটনাটা এটুকুই। ফেসবুকে অন্য একটি ঘটনা প্রসঙ্গে এই দিনটি উঠে আসায় আমার এক বন্ধু এই হাতি নিয়ে ঘটনাটা একটু বিশদে লিখতে বলেছিলো; কিন্তু বিশ্বাস করুন এর চেয়ে বেশি আমার আর কিছু লেখার নেই। তবুও এতো সংক্ষেপে শেষ করলে আমার সেই বন্ধুর মন খারাপ হতে পারে ভেবে আরো দুটো কথা যোগ করছি। এই একটা হাতি জনশ্রুতিতে ছটায় গিয়ে ঠেকেছিলো এবং আমার ধারণা নিজের চোখে না দেখে কানে শুনেই জনসাধারণের মধ্যে হৃদকম্পনটা বেশি সৃষ্টি হয়েছিলো। পরেরদিন ইন্টারনেটে টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এই খবরটার নিচে আইআইটির এক পড়ুয়া নিজের মনের ইচ্ছা প্রকাশ করে কমেন্ট করেছিলো, "হাতি মেরে সাথী তু আজা, একদিন কা ছুট্টি দিলা যা।"
(বিধিঅসম্মত সতর্কীকরণ: বেশি ভালো কিছু আশা করবেন না, আজকে ভাঁড়ার শূন্য -- তাই এসব কথার প্রস্তাবনা।)
১) আমার এক মিশনের গল্পের উৎস হিসেবে একজনের কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছিলাম, তার নাম লিখেছিলাম "মাওবাদী"। এ হেন নামকরণের ইতিহাসটা তখন চেপে গিয়েছিলাম পরে কখনো জানানোর ইঙ্গিত দিয়ে। আজ প্রথমে এই ইতিবৃত্তটাই খোলসা করি।
আইআইটিতে আমার এক জনদরদী বন্ধু আছে যে অচেনা অজানা ছেলেদের সঙ্গে বৈদ্যুতিক মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে ভাব জমিয়ে ফেলে এবং প্রয়োজনে তাদের জন্যে নানারকম সুযোগ সুবিধের ব্যবস্থা করে থাকে। এরকমই এক (প্রায়) অপরিচিত ছেলের জন্যে সে একবার আমাদের আইআইটির মেসে তার থাকা খাওয়ার আয়োজন করে। এই ছেলেটি মেসের সকলের অপরিচিত হওয়ায় এবং সে সময় মেদিনীপুরে মাওবাদীদের কিঞ্চিত বাড়বাড়ন্ত হওয়ার ফলে মেসের কারুর মাথায় আসে, "আচ্ছা, ছেলেটা মাওবাদী নয় তো?" সে থেকেই তার ডাকনাম হয়ে যায় "মাওবাদী"।
২) ০৬-০২-২০১১: এই তারিখে আইআইটিতে একটি বুনো হাতি ঢুকে পড়েছিলো। ব্যাস, ঘটনাটা এটুকুই। ফেসবুকে অন্য একটি ঘটনা প্রসঙ্গে এই দিনটি উঠে আসায় আমার এক বন্ধু এই হাতি নিয়ে ঘটনাটা একটু বিশদে লিখতে বলেছিলো; কিন্তু বিশ্বাস করুন এর চেয়ে বেশি আমার আর কিছু লেখার নেই। তবুও এতো সংক্ষেপে শেষ করলে আমার সেই বন্ধুর মন খারাপ হতে পারে ভেবে আরো দুটো কথা যোগ করছি। এই একটা হাতি জনশ্রুতিতে ছটায় গিয়ে ঠেকেছিলো এবং আমার ধারণা নিজের চোখে না দেখে কানে শুনেই জনসাধারণের মধ্যে হৃদকম্পনটা বেশি সৃষ্টি হয়েছিলো। পরেরদিন ইন্টারনেটে টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এই খবরটার নিচে আইআইটির এক পড়ুয়া নিজের মনের ইচ্ছা প্রকাশ করে কমেন্ট করেছিলো, "হাতি মেরে সাথী তু আজা, একদিন কা ছুট্টি দিলা যা।"
Wednesday, November 19, 2014
Saturday, November 15, 2014
বি:দ্র: বিতর্ক উস্কে দেওয়া নয়, নিছক আনন্দ দেওয়াই এ লেখার উদ্দেশ্য।
এক তরুণ গবেষক: "আইআইটির উপর আমার ঘেন্না ধরে গেছে। কর্তাদের আচরণ দেখেই বোঝা যায় এমএস, পিএইচডি স্টুডেন্টরা আইআইটির কাছে গুরুত্বের দিক দিয়ে সেকেন্ডারি।"
আরেক পোড়খাওয়া গবেষক: "তাহলে তো আমাদের মতো সিনিয়র পিএইচডি স্টুডেন্টদের হায়ার সেকেন্ডারি বলতে হয়।"
এক তরুণ গবেষক: "আইআইটির উপর আমার ঘেন্না ধরে গেছে। কর্তাদের আচরণ দেখেই বোঝা যায় এমএস, পিএইচডি স্টুডেন্টরা আইআইটির কাছে গুরুত্বের দিক দিয়ে সেকেন্ডারি।"
আরেক পোড়খাওয়া গবেষক: "তাহলে তো আমাদের মতো সিনিয়র পিএইচডি স্টুডেন্টদের হায়ার সেকেন্ডারি বলতে হয়।"
Friday, November 14, 2014
শিশু
দিবসে ভেবেছিলাম শিশুদেরকে নিয়ে কোন ঘটনা লিখবো। কিন্তু আর কিছু না পেয়ে,
আপাতত নিম্নলিখিত "শিশুসুলভ" আচরণের এই ঘটনাটা দিয়েই ইচ্ছেপূরণ করতে হলো।
বাসুদেব: পর্ব ২
ইলেকট্রিকাল ডিপার্টমেন্টের এই স্যার ভীষণ কড়া। উনি ভারি গলায় পড়িয়ে চলেছেন। ওনার গলার স্বর বাদে ক্লাসে পিন ড্রপ সাইলেন্স। টানা দু'ঘন্টার ক্লাস, মাঝখানে ব্রেক নেই। স্যারের ভয়ে ক্লাসে ছাত্র ছাত্রীরা সকলে তটস্থ। হঠাৎ দেখা যায় বাসুদেব হাত তুলেছে, শুধু তাই নয় -- সে আবার হাত নেড়ে স্যারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছে। কিছু একটা ঘটতে চলেছে, এই ভেবে প্রবল উৎকণ্ঠায় সকলের নজর তখন বাসুদেবের দিকে।
স্যার (বাঁজখাই স্বরে): কিছু বলবে ?
বাসুদেব: স্যার, বাথরুম যাবো ?
এই প্রশ্ন শুনে স্যার বিব্রত বোধ করেন। স্যার: এতো বড় হয়েছো, এখনো ক্লাসে কিভাবে বিহেভ করতে হয় জানো না ? স্কুল হলে কি করতে ?
বাসুদেব: স্যার, ক্লাস ফাইভ সিক্সের সময় বাথরুম পেলে টিচারকে জিজ্ঞেস করতাম, উনি অনুমতি দিলে চলে যেতাম। ক্লাস ইলেভেন টুয়েলভের সময় বাথরুম পেলে টিচারকে জিজ্ঞেস করতাম, উনি বলতেন ক্লাস শেষ হলে তারপর যেও।
স্যার (রাগত স্বরে): তাহলে কলেজে উঠেও সেই এক প্রশ্ন করছো কেন ?
বাসুদেব: ও মা ! কলেজে উঠেছি বলে কি বাথরুম পাবে না ?
বাসুদেব: পর্ব ২
ইলেকট্রিকাল ডিপার্টমেন্টের এই স্যার ভীষণ কড়া। উনি ভারি গলায় পড়িয়ে চলেছেন। ওনার গলার স্বর বাদে ক্লাসে পিন ড্রপ সাইলেন্স। টানা দু'ঘন্টার ক্লাস, মাঝখানে ব্রেক নেই। স্যারের ভয়ে ক্লাসে ছাত্র ছাত্রীরা সকলে তটস্থ। হঠাৎ দেখা যায় বাসুদেব হাত তুলেছে, শুধু তাই নয় -- সে আবার হাত নেড়ে স্যারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছে। কিছু একটা ঘটতে চলেছে, এই ভেবে প্রবল উৎকণ্ঠায় সকলের নজর তখন বাসুদেবের দিকে।
স্যার (বাঁজখাই স্বরে): কিছু বলবে ?
বাসুদেব: স্যার, বাথরুম যাবো ?
এই প্রশ্ন শুনে স্যার বিব্রত বোধ করেন। স্যার: এতো বড় হয়েছো, এখনো ক্লাসে কিভাবে বিহেভ করতে হয় জানো না ? স্কুল হলে কি করতে ?
বাসুদেব: স্যার, ক্লাস ফাইভ সিক্সের সময় বাথরুম পেলে টিচারকে জিজ্ঞেস করতাম, উনি অনুমতি দিলে চলে যেতাম। ক্লাস ইলেভেন টুয়েলভের সময় বাথরুম পেলে টিচারকে জিজ্ঞেস করতাম, উনি বলতেন ক্লাস শেষ হলে তারপর যেও।
স্যার (রাগত স্বরে): তাহলে কলেজে উঠেও সেই এক প্রশ্ন করছো কেন ?
বাসুদেব: ও মা ! কলেজে উঠেছি বলে কি বাথরুম পাবে না ?
Monday, November 10, 2014
বাসুদেব: পর্ব ১
বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস চলছে। স্যার অনুচ্চ একঘেয়ে স্বরে জটিল জটিল তথ্য পড়িয়ে চলেছেন। ছাত্ররা কদ্দূর বুঝলো না বুঝলো সেদিকে হুঁশ নেই। পেছনের বেঞ্চ থেকে বাসুদেব বলে উঠলো: "স্যার, আপনার গলা এখান থেকে শোনা যাচ্ছে না। আরেকটু জোরে বলবেন?"
স্যার: "আমি যদি জোরে কথা বলি তাহলে যারা প্রথম সারিতে বসে আছে তাদের কানে লাগবে।" এই বলে স্যার পেছন ফিরে আগের ভঙ্গিতেই পড়িয়ে যেতে লাগলেন।
কিছুক্ষণ পর বাসুদেব আবার বলে উঠলো: "স্যার, ওই ডায়াগ্রামটা নিয়ে কি বললেন ঠিক শুনতে পেলাম না। আরেকবার একটু বোঝাবেন ?"
স্যার: "টেপ রেকর্ডারে রিওয়াইন্ড বোতাম থাকতে পারে, আমার নেই।"
এই তিক্ত অভিজ্ঞতার পর বাসুদেব সেই স্যারের ক্লাসে আসাই বন্ধ করে দিল। হঠাৎ কি মনে করে একদিন বাসুদেব একটু দেরি করে সেই স্যারের ক্লাসে ঢুকতে গেল। সেদিন কোনো কারণে স্যারের মেজাজ আগে থেকেই বিগড়ে ছিলো; বাসুদেবকে দেরি করে ঢুকতে দেখে উনি তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলেন।
স্যার: "এমনিতে তো তোমাকে ক্লাসে দেখি না। এখন কি মনে করেছ যখন ইচ্ছে আমার ক্লাসে ঢোকা যায় ? যাও, আজ আমি তোমাদের ক্লাসটাই নেব না।"
এই বলে স্যার হনহন করে ক্লাস থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন -- এমন সময় বাসুদেব পেছন থেকে বলে উঠলো: "যা বাবা ! আজ ভাবলাম ক্লাস করবো আর এসেই দেখি কিনা আজ ক্লাস হবে না -- এই জন্যেই তো আমি ক্লাসে আসি না।"
বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস চলছে। স্যার অনুচ্চ একঘেয়ে স্বরে জটিল জটিল তথ্য পড়িয়ে চলেছেন। ছাত্ররা কদ্দূর বুঝলো না বুঝলো সেদিকে হুঁশ নেই। পেছনের বেঞ্চ থেকে বাসুদেব বলে উঠলো: "স্যার, আপনার গলা এখান থেকে শোনা যাচ্ছে না। আরেকটু জোরে বলবেন?"
স্যার: "আমি যদি জোরে কথা বলি তাহলে যারা প্রথম সারিতে বসে আছে তাদের কানে লাগবে।" এই বলে স্যার পেছন ফিরে আগের ভঙ্গিতেই পড়িয়ে যেতে লাগলেন।
কিছুক্ষণ পর বাসুদেব আবার বলে উঠলো: "স্যার, ওই ডায়াগ্রামটা নিয়ে কি বললেন ঠিক শুনতে পেলাম না। আরেকবার একটু বোঝাবেন ?"
স্যার: "টেপ রেকর্ডারে রিওয়াইন্ড বোতাম থাকতে পারে, আমার নেই।"
এই তিক্ত অভিজ্ঞতার পর বাসুদেব সেই স্যারের ক্লাসে আসাই বন্ধ করে দিল। হঠাৎ কি মনে করে একদিন বাসুদেব একটু দেরি করে সেই স্যারের ক্লাসে ঢুকতে গেল। সেদিন কোনো কারণে স্যারের মেজাজ আগে থেকেই বিগড়ে ছিলো; বাসুদেবকে দেরি করে ঢুকতে দেখে উনি তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলেন।
স্যার: "এমনিতে তো তোমাকে ক্লাসে দেখি না। এখন কি মনে করেছ যখন ইচ্ছে আমার ক্লাসে ঢোকা যায় ? যাও, আজ আমি তোমাদের ক্লাসটাই নেব না।"
এই বলে স্যার হনহন করে ক্লাস থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন -- এমন সময় বাসুদেব পেছন থেকে বলে উঠলো: "যা বাবা ! আজ ভাবলাম ক্লাস করবো আর এসেই দেখি কিনা আজ ক্লাস হবে না -- এই জন্যেই তো আমি ক্লাসে আসি না।"
Friday, November 7, 2014
ছোটবেলায় মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিকের রেজাল্ট বেরনোর সময়টা ছিল আমার কাছে অত্যন্ত ভীতিপ্রদ। রেজাল্ট বেরনোর হপ্তাখানেকের মধ্যেই বাংলা দূরদর্শনে এই পরীক্ষাগুলির কৃতি ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে প্রশ্নোত্তরভিত্তিক একটি অনুষ্ঠান হতো, এবং মায়ের সাথে বসে এই অনুষ্ঠানটি দেখা আমার কাছে ছিল একপ্রকার বাধ্যতামূলক। প্রত্যেক বছর ছাত্র ছাত্রীকে কিছু বাঁধাধরা প্রশ্ন করতেন অনুষ্ঠান সঞ্চালকরা যেমন -- দিনে কতো ঘন্টা পড়তে, কতোগুলো সাবজেক্টের জন্যে প্রাইভেট টিউশন নিতে, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা কি, ইত্যাদি। ছাত্র ছাত্রীদের উত্তরগুলোও ছিল এক গতের -- দিনে ষোলো থেকে সতেরো ঘন্টা পড়ি, অঙ্ক পদার্থবিদ্যা ইতিহাস ভূগোল বাংলা ইংলিশ (এককথায় সব সাবজেক্টের) টিউশন নিতাম, ডাক্তার হয়ে বা ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বা শিক্ষক হয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করাই আমার জীবনের ব্রত, ইত্যাদি। তবে মুশকিল হতো যখন এই সব ছাত্র ছাত্রীদের সাক্ষাৎকার দেখে মা বলতো: "দেখেছিস, দাদা দিদিরা সব কতো পড়াশুনা করে, এমনি এমনি তো আর ভালো ফল হয় না।" তারপর দীর্ঘশ্বাস ফেলে যোগ করতো: "তোর যে কি হবে ?"
আমার অবশ্য এই সব দিনে 'ষোলো থেকে সতেরো ঘন্টা' পড়াশুনা করা দাদা দিদিদের দেখে মনে হতো -- এরা মানুষ না রোবোট বোঝা দায়। শুধুমাত্র ভালবাসার তাগিদেই এরা এতো পড়াশুনা করে নাকি অন্য কোনো কারণে ? আমার পরিচিত এক মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে স্ট্যান্ড করা ছেলের সম্বন্ধে শুনেছিলাম সে নাকি প্রাথমিক স্কুলে পড়াকালীন পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিলো বলে তার বাবা তাকে রাস্তায় জুতোপেটা করেছিলো। (জুতোপেটা করাটা যদি অতিরঞ্জন বলে আপনার মনে হয়ে থাকে, তাহলে নিজের পক্ষসমর্থন করে বলে রাখি এই অতিরঞ্জনের উৎস আমি নই -- যার কাছ থেকে আমি ঘটনাটি শুনেছি, দায়ী সেই ব্যক্তি।) অর্থাৎ খোঁজ নিলে হয়তো দেখা যাবে ভালো নম্বরের পেছনে পড়াশুনার প্রতি ভালবাসার সাথে ব্যর্থতার ভয়ও সমধিক ভাবে দায়ী।
এই প্রসঙ্গে অর্ণব রায়ের একটা বক্তৃতার কিছু অংশ মনে পড়ে গেলো। অর্ণব রায় কে? অর্ণব রায় একজন বিখ্যাত Blogger। ওনার ব্লগ "Random Thoughts of a Demented Mind" ২০০৬ ও ২০০৮ সালে Indiblog of the Year অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলো। মানে ওনার ব্লগ বহু লোকে নিয়মিত পড়ে থাকেন আর কি (আমার ব্লগের ক্ষেত্রে যে কথা প্রযোজ্য নয়)। উনি TEDX-এর অন্তর্গত একটি বক্তৃতা দিতে এসেছিলেন আইআইটিতে -- সেখানেই শোনা। তারিখটা ছিলো ০৬-০২-২০১। (সেদিন আবার আইআইটিতে একটি বুনো হাতিও ঢুকে পড়েছিলো, তবে সে কথা আপাতত থাক।)
অর্ণব রায় নাকি ছোটোবেলায় একবার বাবার কাছে গিয়ে বলেছিলেন যে উনি বড় হয়ে গাইয়ে হবেন -- শুনে বাবা বলেন, ঠিক আছে। কিছু দিন পর অর্ণব আবার বাবার কাছে গিয়ে বলেন উনি বড় হয়ে Break Dancer হবেন -- শুনে বাবা এবারও বলেন, ঠিক আছে। আরেকটু বড় হবার পর বাবা অর্ণবকে কাছে ডেকে উপদেশ দেন, গাইয়ে বা নাচিয়ে হয়ে বাঁচতে গেলে একজনকে সেই পেশায় শ্রেষ্ঠ হতে হয় কিন্তু একজন ইঞ্জিনিয়ার হলে সে সাধারণ মানের হলেও তার চলে যায়। এই অকাট্য যুক্তি শুনে অর্ণব বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হয় -- ওনার কথা শুনে আমারও মনে হয় যে আমিও সঠিক পেশাই বেছে নিয়েছি।
শেষ করবো একটা মজার ঘটনা দিয়ে যেখানে একটি প্রতিযোগিতায় প্রথমকে মনে না রেখে দর্শকরা অন্তিম স্থানাধিকারীকেই ভালোবেশে ফেলেছিলেন। ঘটনাটি ঘটিয়েছিলো আমার মামাতো দাদা। একদম নিচু ক্লাসের দৌড় প্রতিযোগীতা শুরু হয়েছে। নাদুসনুদুস হওয়ার দরুণ আমার মামাতো দাদা একটু পরেই বাকিদের থেকে পিছিয়ে পড়ে। প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারানোর উদ্দেশ্যে সে দৌড়তে দৌড়তে হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ে কাল্পনিক তীর ছুঁড়তে থাকে বাকি প্রতিযোগীদের দিকে তাক করে। এই দেখে তো সমস্ত দর্শক হেসে কুটোপাটি। আমার দাদাও ততক্ষনে মনে মনে শত্রুদের বধ করে বিজয়ীর হাসি হাসছে।
আমার অবশ্য এই সব দিনে 'ষোলো থেকে সতেরো ঘন্টা' পড়াশুনা করা দাদা দিদিদের দেখে মনে হতো -- এরা মানুষ না রোবোট বোঝা দায়। শুধুমাত্র ভালবাসার তাগিদেই এরা এতো পড়াশুনা করে নাকি অন্য কোনো কারণে ? আমার পরিচিত এক মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে স্ট্যান্ড করা ছেলের সম্বন্ধে শুনেছিলাম সে নাকি প্রাথমিক স্কুলে পড়াকালীন পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিলো বলে তার বাবা তাকে রাস্তায় জুতোপেটা করেছিলো। (জুতোপেটা করাটা যদি অতিরঞ্জন বলে আপনার মনে হয়ে থাকে, তাহলে নিজের পক্ষসমর্থন করে বলে রাখি এই অতিরঞ্জনের উৎস আমি নই -- যার কাছ থেকে আমি ঘটনাটি শুনেছি, দায়ী সেই ব্যক্তি।) অর্থাৎ খোঁজ নিলে হয়তো দেখা যাবে ভালো নম্বরের পেছনে পড়াশুনার প্রতি ভালবাসার সাথে ব্যর্থতার ভয়ও সমধিক ভাবে দায়ী।
এই প্রসঙ্গে অর্ণব রায়ের একটা বক্তৃতার কিছু অংশ মনে পড়ে গেলো। অর্ণব রায় কে? অর্ণব রায় একজন বিখ্যাত Blogger। ওনার ব্লগ "Random Thoughts of a Demented Mind" ২০০৬ ও ২০০৮ সালে Indiblog of the Year অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলো। মানে ওনার ব্লগ বহু লোকে নিয়মিত পড়ে থাকেন আর কি (আমার ব্লগের ক্ষেত্রে যে কথা প্রযোজ্য নয়)। উনি TEDX-এর অন্তর্গত একটি বক্তৃতা দিতে এসেছিলেন আইআইটিতে -- সেখানেই শোনা। তারিখটা ছিলো ০৬-০২-২০১। (সেদিন আবার আইআইটিতে একটি বুনো হাতিও ঢুকে পড়েছিলো, তবে সে কথা আপাতত থাক।)
অর্ণব রায় নাকি ছোটোবেলায় একবার বাবার কাছে গিয়ে বলেছিলেন যে উনি বড় হয়ে গাইয়ে হবেন -- শুনে বাবা বলেন, ঠিক আছে। কিছু দিন পর অর্ণব আবার বাবার কাছে গিয়ে বলেন উনি বড় হয়ে Break Dancer হবেন -- শুনে বাবা এবারও বলেন, ঠিক আছে। আরেকটু বড় হবার পর বাবা অর্ণবকে কাছে ডেকে উপদেশ দেন, গাইয়ে বা নাচিয়ে হয়ে বাঁচতে গেলে একজনকে সেই পেশায় শ্রেষ্ঠ হতে হয় কিন্তু একজন ইঞ্জিনিয়ার হলে সে সাধারণ মানের হলেও তার চলে যায়। এই অকাট্য যুক্তি শুনে অর্ণব বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হয় -- ওনার কথা শুনে আমারও মনে হয় যে আমিও সঠিক পেশাই বেছে নিয়েছি।
শেষ করবো একটা মজার ঘটনা দিয়ে যেখানে একটি প্রতিযোগিতায় প্রথমকে মনে না রেখে দর্শকরা অন্তিম স্থানাধিকারীকেই ভালোবেশে ফেলেছিলেন। ঘটনাটি ঘটিয়েছিলো আমার মামাতো দাদা। একদম নিচু ক্লাসের দৌড় প্রতিযোগীতা শুরু হয়েছে। নাদুসনুদুস হওয়ার দরুণ আমার মামাতো দাদা একটু পরেই বাকিদের থেকে পিছিয়ে পড়ে। প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারানোর উদ্দেশ্যে সে দৌড়তে দৌড়তে হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ে কাল্পনিক তীর ছুঁড়তে থাকে বাকি প্রতিযোগীদের দিকে তাক করে। এই দেখে তো সমস্ত দর্শক হেসে কুটোপাটি। আমার দাদাও ততক্ষনে মনে মনে শত্রুদের বধ করে বিজয়ীর হাসি হাসছে।
Sunday, October 26, 2014
"এক পয়সার পুজো" -- এ নামেই নাকি একসময় খ্যাত ছিল খড়গপুরের কালী পুজো যেটি বর্তমানে আইআইটির ভিতর অনুষ্ঠিত হয়। মাথাপিছু মাত্র এক পয়সা চাঁদা নিয়ে নাকি এই পুজোর আয়োজন করা হতো সে সময়। এখন দিন পালটেছে, চাঁদা অনেক বেড়েছে তবে তার সাথে পাল্লা দিয়ে অনেক বেশি বেড়েছে দেবীর প্রতিপত্তি -- কালী পুজোর পরের দিন খিচুড়ি ভোগ খেতে যা লোকজন সমাগম হয়, দেখে তো আমার মনে হয় এদিন বুঝি খড়গপুরে কারো বাড়িতে উনুন জ্বলে না। (Source: পার্থদা)
********************************
এক জমিদার বাড়িতে এককালে খুব ধুমধাম করে কালীপুজো করা হতো। দেবীর প্রসাদে পাঁঠার মাংস থাকাটা নাকি বাধ্যতামূলক, তাই প্রচুর পাঁঠাবলি দেওয়া হতো। তবে কয়েকবছর পর এলাহি আয়োজনে খানিকটা ভাঁটা পড়ে, আগের মতো পাঁঠাবলি দেওয়ার রেওয়াজটা উঠে যায়। ভাবছেন বুঝি জমিদারের রোজগারে ইতিমধ্যে মন্দা দেখা দিয়েছে -- উঁহু, আসলে ইতিমধ্যে জমিদারবাবুর দাঁত পড়ে গেছে, আগের মতো আর হাড় চিবোতে পারেন না। (Source: শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত)
********************************
এক জমিদার বাড়িতে এককালে খুব ধুমধাম করে কালীপুজো করা হতো। দেবীর প্রসাদে পাঁঠার মাংস থাকাটা নাকি বাধ্যতামূলক, তাই প্রচুর পাঁঠাবলি দেওয়া হতো। তবে কয়েকবছর পর এলাহি আয়োজনে খানিকটা ভাঁটা পড়ে, আগের মতো পাঁঠাবলি দেওয়ার রেওয়াজটা উঠে যায়। ভাবছেন বুঝি জমিদারের রোজগারে ইতিমধ্যে মন্দা দেখা দিয়েছে -- উঁহু, আসলে ইতিমধ্যে জমিদারবাবুর দাঁত পড়ে গেছে, আগের মতো আর হাড় চিবোতে পারেন না। (Source: শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত)
Monday, October 20, 2014
"রামধনু" সিনেমার হিরো লালটু বাবু ক্লাস ফাইভ থেকে A, B, C, D পড়ার ফলে বর্তমানে ওনার ইংলিশে তথৈবচ অবস্থা দেখে একটা জিনিষ মনে হলো:
আচ্ছা, এই কারণেই কি স্কুলে বাংলা পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে "সার্থক" বাক্য রচনা করার নির্দেশ দেওয়া হলেও ইংলিশের ক্ষেত্রে কিন্তু স্রেফ Make sentence এটুকুই লেখা থাকতো -- কারণ ওটুকুতেই স্যারেরা খুশি; Make "ideal" sentence এধরনের নির্দেশ কখনো দেখিনি।
আচ্ছা, এই কারণেই কি স্কুলে বাংলা পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে "সার্থক" বাক্য রচনা করার নির্দেশ দেওয়া হলেও ইংলিশের ক্ষেত্রে কিন্তু স্রেফ Make sentence এটুকুই লেখা থাকতো -- কারণ ওটুকুতেই স্যারেরা খুশি; Make "ideal" sentence এধরনের নির্দেশ কখনো দেখিনি।
Thursday, October 16, 2014
ক্ষনিকের ভ্রম
লোকাল ট্রেনে করে বাড়ি ফিরছি। পিছন থেকে শুনতে পেলাম হকারের গলা: "একশো কুড়ি, দুশো চল্লিশ, তিনশো পঞ্চাশ !"
"বাবা, লোকাল ট্রেনে একশো কুড়ি, দুশো চল্লিশ, তিনশো পঞ্চাশ -- এতো দামি আবার কি মাল উঠলো ?" এই ভেবে উঠে দাঁড়িয়ে পিছন ঘুরে দেখি হকার শোন পাঁপড়ি বিক্রি করছে -- একশো গ্রাম কুড়ি টাকা, দুশো গ্রাম চল্লিশ টাকা আর তিনশো গ্রাম কিনলে কিঞ্চিৎ ছাড় সহযোগে দাম মাত্র পঞ্চাশ টাকা।
নিশ্চিন্ত হয়ে আবার নিজের সিটে বসে পড়লাম।
লোকাল ট্রেনে করে বাড়ি ফিরছি। পিছন থেকে শুনতে পেলাম হকারের গলা: "একশো কুড়ি, দুশো চল্লিশ, তিনশো পঞ্চাশ !"
"বাবা, লোকাল ট্রেনে একশো কুড়ি, দুশো চল্লিশ, তিনশো পঞ্চাশ -- এতো দামি আবার কি মাল উঠলো ?" এই ভেবে উঠে দাঁড়িয়ে পিছন ঘুরে দেখি হকার শোন পাঁপড়ি বিক্রি করছে -- একশো গ্রাম কুড়ি টাকা, দুশো গ্রাম চল্লিশ টাকা আর তিনশো গ্রাম কিনলে কিঞ্চিৎ ছাড় সহযোগে দাম মাত্র পঞ্চাশ টাকা।
নিশ্চিন্ত হয়ে আবার নিজের সিটে বসে পড়লাম।
Thursday, October 9, 2014
দিব্যেন্দু: পর্ব ১০
দিব্যেন্দু তখন স্কুলে পড়ে। একদিন টিফিনের সময় দিব্যেন্দু ক্লাসে হৈচৈ করছে। ইতিমধ্যে টিফিন শেষের ঘন্টা পড়ে গেছে, স্যার ক্লাসেও এসে গেছেন -- কিন্তু দিব্যেন্দুর সেদিকে হুঁশ নেই, সে নিজের খেয়ালে তখনো কথা বলে যাচ্ছে।
স্যার: "দেখবি ! বের করে দেব।"
দিব্যেন্দু: "কি বের করে দেখাবেন, স্যার ? প্লিজ, দেখান না !"
স্যার চুপ।
দিব্যেন্দু তখন স্কুলে পড়ে। একদিন টিফিনের সময় দিব্যেন্দু ক্লাসে হৈচৈ করছে। ইতিমধ্যে টিফিন শেষের ঘন্টা পড়ে গেছে, স্যার ক্লাসেও এসে গেছেন -- কিন্তু দিব্যেন্দুর সেদিকে হুঁশ নেই, সে নিজের খেয়ালে তখনো কথা বলে যাচ্ছে।
স্যার: "দেখবি ! বের করে দেব।"
দিব্যেন্দু: "কি বের করে দেখাবেন, স্যার ? প্লিজ, দেখান না !"
স্যার চুপ।
Tuesday, October 7, 2014
Thursday, September 25, 2014
দিব্যেন্দু: পর্ব ৯
এই ঘটনাগুলির সঙ্গে যুক্ত মূল অভিযুক্তরা সকলেই এখন হাতের নাগালের বাইরে, তাই বিভিন্ন ব্যক্তির বারংবার বারণ সত্ত্বেও আজ এই কথাগুলো লেখার সাহস পেয়েছি।
আপনারা অনেকেই হয়তো ইতিমধ্যেই জানেন দিব্যেন্দুর "জল-বাতাস" দুই ধরণের বস্তুর উপরেই আসক্তি আছে। দ্বিতীয়টি তুলনামূলক ভাবে সস্তা, সহজলভ্য এবং কম প্রতিক্রিয়াশীল হওয়ার দরুণ সেটার সেবন নিয়মিত করলেও, দিব্যেন্দু প্রথমটির থেকে পারতপক্ষে দূরেই থাকে -- মুড না হলে বা অন্যের ট্রিট না হলে খায় না। তাই এই দ্বিতীয় বস্তুটিকে নিয়ে ঘটনাটাই প্রথমে বলি।
দিব্যেন্দু প্রতিদিন এক প্যাকেট করে এই বস্তুটি হোস্টেলের সামনে রবিদার দোকান থেকে কিনে নিয়ে আসে এবং নিজের অবসরে অগ্নিসংযোগে তা একটি একটি করে ধ্বংশ করে। দিব্যেন্দুর এক জনৈক রুমমেট হঠাৎ কি খেয়ালে প্রতিদিন তার প্যাকেট থেকে একটি করে সেই বস্তু সরিয়ে নিতে থাকলো, সরিয়ে নেওয়ার পর প্যাকেটটা আবার সুন্দর করে মুড়ে রেখে দিতো যাতে দিব্যেন্দু বুঝতে না পারে। অল্প কিছুদিন পরপর সুখটানের থেকে কিঞ্চিত বঞ্চিত হওয়ার পর দিব্যেন্দু ঘটনাটা রবিদাকে বলে; প্যাকেটে মাল পুরোপুরি না থাকার কথা শুনে রবিদাও অবাক হয়। রবিদাকে অবাক হতে দেখে দিব্যেন্দু নিশ্চিত হয় গলদ নিশ্চয়ই গোড়াতে -- এবং তারপর দিব্যেন্দু কোম্পানি এভাবে কাস্টমারদেরকে ঠকিয়ে বছরে কতো টাকা লাভবান হচ্ছে তার হিসেব কষতে বসে।
একবার এক বন্ধু বিদেশ থেকে বিদেশি জল নিয়ে এসেছে। এ জিনিস তো আর রোজ রোজ ভাগ্যে জোটে না তাই দিব্যেন্দু বলে রেখেছিলো তার জন্যে যেন কিছুটা বাঁচিয়ে রাখা হয়। দিব্যেন্দু রুমে আসলে পর আরেক বন্ধু কাফ সিরাপের সঙ্গে খানিক স্প্রাইট আর খানিক (সত্যিকারের) জল মিশিয়ে তাকে খেতে দেয়, দিব্যেন্দু তাই খেয়ে খুশি হয়ে বলে: "বাহ, এর নেশাটা তো বেশ অন্য রকম!"
এই ঘটনাগুলির সঙ্গে যুক্ত মূল অভিযুক্তরা সকলেই এখন হাতের নাগালের বাইরে, তাই বিভিন্ন ব্যক্তির বারংবার বারণ সত্ত্বেও আজ এই কথাগুলো লেখার সাহস পেয়েছি।
আপনারা অনেকেই হয়তো ইতিমধ্যেই জানেন দিব্যেন্দুর "জল-বাতাস" দুই ধরণের বস্তুর উপরেই আসক্তি আছে। দ্বিতীয়টি তুলনামূলক ভাবে সস্তা, সহজলভ্য এবং কম প্রতিক্রিয়াশীল হওয়ার দরুণ সেটার সেবন নিয়মিত করলেও, দিব্যেন্দু প্রথমটির থেকে পারতপক্ষে দূরেই থাকে -- মুড না হলে বা অন্যের ট্রিট না হলে খায় না। তাই এই দ্বিতীয় বস্তুটিকে নিয়ে ঘটনাটাই প্রথমে বলি।
দিব্যেন্দু প্রতিদিন এক প্যাকেট করে এই বস্তুটি হোস্টেলের সামনে রবিদার দোকান থেকে কিনে নিয়ে আসে এবং নিজের অবসরে অগ্নিসংযোগে তা একটি একটি করে ধ্বংশ করে। দিব্যেন্দুর এক জনৈক রুমমেট হঠাৎ কি খেয়ালে প্রতিদিন তার প্যাকেট থেকে একটি করে সেই বস্তু সরিয়ে নিতে থাকলো, সরিয়ে নেওয়ার পর প্যাকেটটা আবার সুন্দর করে মুড়ে রেখে দিতো যাতে দিব্যেন্দু বুঝতে না পারে। অল্প কিছুদিন পরপর সুখটানের থেকে কিঞ্চিত বঞ্চিত হওয়ার পর দিব্যেন্দু ঘটনাটা রবিদাকে বলে; প্যাকেটে মাল পুরোপুরি না থাকার কথা শুনে রবিদাও অবাক হয়। রবিদাকে অবাক হতে দেখে দিব্যেন্দু নিশ্চিত হয় গলদ নিশ্চয়ই গোড়াতে -- এবং তারপর দিব্যেন্দু কোম্পানি এভাবে কাস্টমারদেরকে ঠকিয়ে বছরে কতো টাকা লাভবান হচ্ছে তার হিসেব কষতে বসে।
একবার এক বন্ধু বিদেশ থেকে বিদেশি জল নিয়ে এসেছে। এ জিনিস তো আর রোজ রোজ ভাগ্যে জোটে না তাই দিব্যেন্দু বলে রেখেছিলো তার জন্যে যেন কিছুটা বাঁচিয়ে রাখা হয়। দিব্যেন্দু রুমে আসলে পর আরেক বন্ধু কাফ সিরাপের সঙ্গে খানিক স্প্রাইট আর খানিক (সত্যিকারের) জল মিশিয়ে তাকে খেতে দেয়, দিব্যেন্দু তাই খেয়ে খুশি হয়ে বলে: "বাহ, এর নেশাটা তো বেশ অন্য রকম!"
Saturday, September 20, 2014
"খোকা, তুমি বড় হয়ে কি হবে?" -- এ সব প্রশ্ন সেই ছোটবেলায় শুনেছিলাম, এতোদিন পর পিএইচডির শেষ লগ্নে এসে আবার এই প্রশ্নটার সম্মুখীন হতে হলো -- "পিএইচডির পর কি করবে ভাবছো: Post-doc, faculty না industry?"
বিদেশে গিয়ে Post-doc করার মতো বান্দা আমি নই -- ঘরের থেকে অতদূরে গিয়ে, নিজে রান্না-বান্না করে, অফিসে (থুড়ি, ল্যাবে) সারাদিন ঘাড় গুঁজে কাজ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। (এখানে খাওয়া-দাওয়া, লন্ড্রি, বাজার -- এসব কিছু নিয়ে মাথা ঘামাতে হয় না, তাতেও বলে কাজ করতে পারি না আর ওখানে গেলে কিনা কাজ করে ফাটিয়ে দেব, এমনটা হয় নাকি?)
তাহলে হাতে রইলো ফ্যাকাল্টি আর ইন্ডাস্ট্রি। ফ্যাকাল্টি হতে গেলে কিছু গুণ থাকা আবশ্যক যেগুলো আমার মধ্যে বোধহয় নেই। যেমন ধরুন, মাথা ঠান্ডা রাখা -- আমার ধারণা আমার অল্পতেই মাথা গরম হয়ে যায়; আর শিক্ষকের সহজে মাথা গরম হয়ে গেলে ছাত্ররা যে কতরকম ভাবে তার পেছনে লাগে সে অভিজ্ঞতা কম বেশী আমাদের সকলেরই আছে। তাছাড়া কোনো বিষয় পড়াতে গেলে সেটা ছাত্রদের মনোগ্রাহী করে পড়ানো উচিৎ যা অধিকাংশ শিক্ষকই পারে না। এই নিয়ে একটা ঘটনা বাবার কাছে শুনেছিলাম।
স্টেট ব্যাঙ্কে চাকরি পাওয়ার পর বাবাকে অনেক বিষয় ট্রেনিং-এর সময় পড়তে হয়েছিলো। তার মধ্যে একটি ছিল -- আইন। বাবাদের একজন আইনের টিচার ক্লাসে এসে প্রথমেই বললেন: "আইন খুব জটিল বিষয়, আমি যা যা বলছি সব খুব মনোযোগ দিয়ে শুনে নোট করে রাখবে।" এই স্যারের ক্লাস ছিল ভীষণ একঘেয়ে।
কিছুদিন পর আরেকজন স্যার আইন পড়াতে আসেন, তিনি প্রথমেই বলেন: "আইন খুব ইন্টারেস্টিং সাবজেক্ট, আমি যা বলছি সব যুক্তির সঙ্গে ভাববে -- তাহলেই দেখবে বিষয়টা বেশ সহজ।" ছাত্রদের উৎসাহ দেওয়ার জন্যে তিনি একটি উদাহরণ দেন -- একবার ভারতে নতুন নিয়ম করা হয় যে কোনো দেবতার মন্দির দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে দশ কাঠার বেশী রাখতে পারবে না, তার অধিক জমি থাকলে সরকার তা অধিগ্রহণ করবে। এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর রাধা-কৃষ্ণের একটি মন্দিরের কর্তৃপক্ষ সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে, তাদের দাবি যেহেতু মন্দিরে দুইজন দেব-দেবীর পুজো হয় তাই তাদের প্রাপ্য বিশ কাঠা জমি সরকারকে ছেড়ে দিতে হবে। সরকার পক্ষের উকিল যুক্তি দেখান যে হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট অনুযায়ী (হিন্দু দেবতা যখন, তখন হিন্দু আইন-ই প্রযোজ্য) স্বামী-স্ত্রীকে আলাদা আলাদা দাবিদার বলে স্বীকৃতি দেওয়া যায় না, তাই রাধা-কৃষ্ণের মন্দিরের দশ কাঠা জমিই প্রাপ্য। এই শুনে বাদী পক্ষের উকিল কোর্টে পণ্ডিতকে ডেকে শাস্ত্র খুলে দেখিয়ে দেন শাস্ত্রে কোথাও রাধা কৃষ্ণের বিয়ের কথা লেখা নেই, অর্থাৎ সরকার পক্ষের উকিলের যুক্তি ধোপে টিকবে না। শেষ পর্যন্ত, এই মামলায় মন্দির কর্তৃপক্ষই জয়ী হন।
সেই স্যার আরেকটি মজার মামলার কথা বলেছিলেন। হিন্দু, মুসলমান আর শিখ -- তিনটি সম্প্রদায়ই কোর্টে মামলা করেছে হনুমান কোন ধর্মাবলম্বী এই বিবাদের সমাধান করতে; সকলেরই দাবি হনুমান তাদের ধর্মের একজন। হিন্দুর যুক্তি: হনুমানের কথা কোন বইয়ে লেখা আছে -- রামায়ণ, এটি যেহেতু হিন্দু ধর্মগ্রন্থ তার মানে হনুমানও হিন্দু। মুসলমানের যুক্তি: মুসলিম নাম কি ধরণের হয় -- উলেমান, সুলেমান, ঠিক সেরকমই ছন্দ মিলিয়ে হনুমান, নাম থেকেই মালুম হচ্ছে হনুমান মুসলমান। শিখের যুক্তি: নাম দিয়ে কারো বিচার করা উচিৎ, বিচার করা উচিৎ তার কাম দিয়ে; লঙ্কায় যখন হনুমানের ল্যাজে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হলো তখন পাশে এতো বড়ো সমুদ্র থাকতেও হনুমান নিজের ল্যাজের আগুন কিভাবে নেভালো -- না, নিজের মুখের মধ্যে ল্যাজ ঢুকিয়ে দিয়ে, এমন কাজ একমাত্র পাঞ্জাবিদের পক্ষেই সম্ভব। এই মামলার শেষ পর্যন্ত কি নিষ্পত্তি হয়েছিল তা অবশ্য আমার জানা নেই।
যাই হোক, আমি ভাবছি ইন্ডাস্ট্রি জয়েন করবো -- এখনো দেরি আছে অবশ্য, আরেকটু ভেবে দেখি।
বিদেশে গিয়ে Post-doc করার মতো বান্দা আমি নই -- ঘরের থেকে অতদূরে গিয়ে, নিজে রান্না-বান্না করে, অফিসে (থুড়ি, ল্যাবে) সারাদিন ঘাড় গুঁজে কাজ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। (এখানে খাওয়া-দাওয়া, লন্ড্রি, বাজার -- এসব কিছু নিয়ে মাথা ঘামাতে হয় না, তাতেও বলে কাজ করতে পারি না আর ওখানে গেলে কিনা কাজ করে ফাটিয়ে দেব, এমনটা হয় নাকি?)
তাহলে হাতে রইলো ফ্যাকাল্টি আর ইন্ডাস্ট্রি। ফ্যাকাল্টি হতে গেলে কিছু গুণ থাকা আবশ্যক যেগুলো আমার মধ্যে বোধহয় নেই। যেমন ধরুন, মাথা ঠান্ডা রাখা -- আমার ধারণা আমার অল্পতেই মাথা গরম হয়ে যায়; আর শিক্ষকের সহজে মাথা গরম হয়ে গেলে ছাত্ররা যে কতরকম ভাবে তার পেছনে লাগে সে অভিজ্ঞতা কম বেশী আমাদের সকলেরই আছে। তাছাড়া কোনো বিষয় পড়াতে গেলে সেটা ছাত্রদের মনোগ্রাহী করে পড়ানো উচিৎ যা অধিকাংশ শিক্ষকই পারে না। এই নিয়ে একটা ঘটনা বাবার কাছে শুনেছিলাম।
স্টেট ব্যাঙ্কে চাকরি পাওয়ার পর বাবাকে অনেক বিষয় ট্রেনিং-এর সময় পড়তে হয়েছিলো। তার মধ্যে একটি ছিল -- আইন। বাবাদের একজন আইনের টিচার ক্লাসে এসে প্রথমেই বললেন: "আইন খুব জটিল বিষয়, আমি যা যা বলছি সব খুব মনোযোগ দিয়ে শুনে নোট করে রাখবে।" এই স্যারের ক্লাস ছিল ভীষণ একঘেয়ে।
কিছুদিন পর আরেকজন স্যার আইন পড়াতে আসেন, তিনি প্রথমেই বলেন: "আইন খুব ইন্টারেস্টিং সাবজেক্ট, আমি যা বলছি সব যুক্তির সঙ্গে ভাববে -- তাহলেই দেখবে বিষয়টা বেশ সহজ।" ছাত্রদের উৎসাহ দেওয়ার জন্যে তিনি একটি উদাহরণ দেন -- একবার ভারতে নতুন নিয়ম করা হয় যে কোনো দেবতার মন্দির দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে দশ কাঠার বেশী রাখতে পারবে না, তার অধিক জমি থাকলে সরকার তা অধিগ্রহণ করবে। এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর রাধা-কৃষ্ণের একটি মন্দিরের কর্তৃপক্ষ সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে, তাদের দাবি যেহেতু মন্দিরে দুইজন দেব-দেবীর পুজো হয় তাই তাদের প্রাপ্য বিশ কাঠা জমি সরকারকে ছেড়ে দিতে হবে। সরকার পক্ষের উকিল যুক্তি দেখান যে হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট অনুযায়ী (হিন্দু দেবতা যখন, তখন হিন্দু আইন-ই প্রযোজ্য) স্বামী-স্ত্রীকে আলাদা আলাদা দাবিদার বলে স্বীকৃতি দেওয়া যায় না, তাই রাধা-কৃষ্ণের মন্দিরের দশ কাঠা জমিই প্রাপ্য। এই শুনে বাদী পক্ষের উকিল কোর্টে পণ্ডিতকে ডেকে শাস্ত্র খুলে দেখিয়ে দেন শাস্ত্রে কোথাও রাধা কৃষ্ণের বিয়ের কথা লেখা নেই, অর্থাৎ সরকার পক্ষের উকিলের যুক্তি ধোপে টিকবে না। শেষ পর্যন্ত, এই মামলায় মন্দির কর্তৃপক্ষই জয়ী হন।
সেই স্যার আরেকটি মজার মামলার কথা বলেছিলেন। হিন্দু, মুসলমান আর শিখ -- তিনটি সম্প্রদায়ই কোর্টে মামলা করেছে হনুমান কোন ধর্মাবলম্বী এই বিবাদের সমাধান করতে; সকলেরই দাবি হনুমান তাদের ধর্মের একজন। হিন্দুর যুক্তি: হনুমানের কথা কোন বইয়ে লেখা আছে -- রামায়ণ, এটি যেহেতু হিন্দু ধর্মগ্রন্থ তার মানে হনুমানও হিন্দু। মুসলমানের যুক্তি: মুসলিম নাম কি ধরণের হয় -- উলেমান, সুলেমান, ঠিক সেরকমই ছন্দ মিলিয়ে হনুমান, নাম থেকেই মালুম হচ্ছে হনুমান মুসলমান। শিখের যুক্তি: নাম দিয়ে কারো বিচার করা উচিৎ, বিচার করা উচিৎ তার কাম দিয়ে; লঙ্কায় যখন হনুমানের ল্যাজে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হলো তখন পাশে এতো বড়ো সমুদ্র থাকতেও হনুমান নিজের ল্যাজের আগুন কিভাবে নেভালো -- না, নিজের মুখের মধ্যে ল্যাজ ঢুকিয়ে দিয়ে, এমন কাজ একমাত্র পাঞ্জাবিদের পক্ষেই সম্ভব। এই মামলার শেষ পর্যন্ত কি নিষ্পত্তি হয়েছিল তা অবশ্য আমার জানা নেই।
যাই হোক, আমি ভাবছি ইন্ডাস্ট্রি জয়েন করবো -- এখনো দেরি আছে অবশ্য, আরেকটু ভেবে দেখি।
Saturday, September 6, 2014
আমার গল্পের কালেকশন লিখে রাখতাম যে ডায়েরিটায়, সেটা গতকাল ফুরিয়ে গেছে। ডায়েরি ফুরিয়ে যাক তাতে কোনো অসুবিধে নেই, নতুন একটা দোকান থেকে কিনে নিলেই হলো; কিন্তু গল্প ফুরিয়ে গেলেই মুশকিল। গল্পের ভাঁড়ার চিরকালই অপ্রতুল তবে মাঝে মাঝে অপ্রত্যাশিত ভাবেই এক-আধটা গল্প কানে চলে আসে। এই সেদিন, গণেশদার ক্যান্টিনে একা চুপচাপ বসে ব্রেকফাস্ট করতে করতে আমার পাশে বসা দুটি অপরিচিত ছেলের কথোপকথন শুনে খুব মজা পেলাম।
একজন ছেলে আরেকজনকে তার ট্রেনে লব্ধ একটি অভিজ্ঞতার কথা বলছে।
একবার ট্রেনে করে যাওয়ার সময় সিগারেট খাওয়ার জন্যে টিটিই তাকে হাজার টাকা জরিমানা করে।
ছেলেটি তাতে আপত্তি জানিয়ে বলে: "ধূমপানের জন্য তো দুশো টাকা ফাইন লেখা আছে ?"
টিটিই: "ঠিক ধরেছেন। সিগারেট খাওয়ার জন্য দুশো টাকাই ফাইন করেছি, আর দেশলাই-টার জন্য আটশো টাকা।"
ছেলেটি: "মানে ?"
টিটিই: "আরে ! এটা জানেন না, flammable object নিয়ে ট্রেনে ওঠার ফাইন আটশো টাকা।"
ছেলেটি তবুও কিন্তু কিন্তু করছে দেখে টিটিই যোগ করেন: "এটা আশাকরি নিশ্চয়ই জানেন -- অনাদায়ে জেল হতে পারে !"
একজন ছেলে আরেকজনকে তার ট্রেনে লব্ধ একটি অভিজ্ঞতার কথা বলছে।
একবার ট্রেনে করে যাওয়ার সময় সিগারেট খাওয়ার জন্যে টিটিই তাকে হাজার টাকা জরিমানা করে।
ছেলেটি তাতে আপত্তি জানিয়ে বলে: "ধূমপানের জন্য তো দুশো টাকা ফাইন লেখা আছে ?"
টিটিই: "ঠিক ধরেছেন। সিগারেট খাওয়ার জন্য দুশো টাকাই ফাইন করেছি, আর দেশলাই-টার জন্য আটশো টাকা।"
ছেলেটি: "মানে ?"
টিটিই: "আরে ! এটা জানেন না, flammable object নিয়ে ট্রেনে ওঠার ফাইন আটশো টাকা।"
ছেলেটি তবুও কিন্তু কিন্তু করছে দেখে টিটিই যোগ করেন: "এটা আশাকরি নিশ্চয়ই জানেন -- অনাদায়ে জেল হতে পারে !"
Tuesday, September 2, 2014
ময়ূরাক্ষী ফাস্ট প্যাসেঞ্জার (আবার নিশান কর্তৃক)
----------------------------
সে আমলে সিউড়ি থেকে কলকাতার একটিই ট্রেন ছিলো, ময়ূরাক্ষী ফাস্ট প্যাসেঞ্জার। সিঙ্গল লাইন, ট্রেন চলতো মন্থর বেগে অণ্ডাল অব্দি, তারপর সাঁ সাঁ করে দৌড়তো। দুর্গাপুর থেকে গুচ্ছের লোক উঠতো কারণ নামমাহাত্ম্যের দরূন লোকালের ভাড়ায় এক্সপ্রেস যাওয়া যেত।
প্রসঙ্গতঃ দুর্গাপুরের যে দলটি উঠতো তাদের মধ্যে অধিকাংশই ছোটলোক, এবং এরকম ভয়াবহ প্যাসেঞ্জার গোটা পশ্চিমবাংলায় আর কোথাও পাওয়া যাবে নাকি আমার সে বিষয়ে সবিশেষ সন্দেহ আছে। এঁরা সকালবেলা ডাউনট্রেনে উঠেই দাবী করতেন তিনজনের সিটে চারজন বসতে দিতে হবে, কারণ "এটাই নিয়ম" এবং "এভাবেই চলে আসছে" এবং উপপাদ্য ট্রেনের বেশ কটি কামরা ও সিট তাঁদের পিতৃদত্ত সম্পত্তি। অতএব আপ ট্রেনে বিকেলবেলা যখন আপনি উঠছেন, ততক্ষণে তারা পিতৃদত্ত সম্পত্তিতে অধিকার স্থাপন করে ফেলেছেন, আর আপনি যদি বলতে গেলেন "এ ট্রেনে তো তিনজনের সিটে...." ব্যস আপনার ঊর্ধ্বতন সপ্তম পুরুষ স্বর্গে বসে ঢোক এবং হেঁচকি তুলতে আরম্ভ করবেন।
এরকমই এক বিকেলে নরেন্দ্রপুর থেকে ফেরার সময়, আমি বাবা ও আমার পাড়ার দাদা, দীপকদা, লটবহর সহ হাওড়া স্টেশনে এসে পৌঁছলাম। দীপকদা তৎপর ছেলে, ট্রেন ঢোকার সময় চলমান অবস্থাতেই টুক করে একটা কামরায় ঢুকে পড়লো, এবং গোটা তিনেক সিট রুমাল ও সিগারেটের প্যাকেট দিয়ে নিশ্চিৎ করে আমাদের ডাকতে নিচে নেমে এলো। আমি দুখানা ব্যাগ নিয়ে ভিড় ঠেলে কোনমতে উঠলাম, বাইরে থেকে হাজার চিৎকারের মাঝে দীপকদার নির্দেশ মত সিটে পৌঁছে দেখি এক স্থুলকায় ভদ্রলোক আমার জায়গায় দিব্যি বসে আছেন।
আমি বললাম, ভদ্রভাবেই, "কাকু, এই জায়গাটা কিন্তু আমার।"
"আপনার মানে?"
"মানে আমার দাদা জায়গাটা আমার জন্য রেখেছে"
"ইয়ার্কি হচ্ছে, অন্য একজন জায়গাটা রেখেছে, আপনার মানে, ডেঁপো ছেলে, ইয়ার্কি হচ্ছে?"
গরমে ঘামে এবং লোকের বগলের গন্ধে আমার ত্রাহি মাম অবস্থা, দাঁড়াতে পারছি না, এদিকে কাঁধে দু পিস ব্যাগ। এই কথোপকথন চলাকালীন দীপকদাও উঠে এসেছে। আমাকে বললো "একি নিশান, বসোনি কেন? জায়গা রেখেছি তো!"
আমি কাকুর দিকে তাকালাম, মাথায় আগুন জ্বলছে, বললাম "দেখলেন তো বলেছিলাম আমার জায়গা, শুনলেন না, এবার হোলো তো? উঠে পড়ুন তো মশাই!"
----------------------------
সে আমলে সিউড়ি থেকে কলকাতার একটিই ট্রেন ছিলো, ময়ূরাক্ষী ফাস্ট প্যাসেঞ্জার। সিঙ্গল লাইন, ট্রেন চলতো মন্থর বেগে অণ্ডাল অব্দি, তারপর সাঁ সাঁ করে দৌড়তো। দুর্গাপুর থেকে গুচ্ছের লোক উঠতো কারণ নামমাহাত্ম্যের দরূন লোকালের ভাড়ায় এক্সপ্রেস যাওয়া যেত।
প্রসঙ্গতঃ দুর্গাপুরের যে দলটি উঠতো তাদের মধ্যে অধিকাংশই ছোটলোক, এবং এরকম ভয়াবহ প্যাসেঞ্জার গোটা পশ্চিমবাংলায় আর কোথাও পাওয়া যাবে নাকি আমার সে বিষয়ে সবিশেষ সন্দেহ আছে। এঁরা সকালবেলা ডাউনট্রেনে উঠেই দাবী করতেন তিনজনের সিটে চারজন বসতে দিতে হবে, কারণ "এটাই নিয়ম" এবং "এভাবেই চলে আসছে" এবং উপপাদ্য ট্রেনের বেশ কটি কামরা ও সিট তাঁদের পিতৃদত্ত সম্পত্তি। অতএব আপ ট্রেনে বিকেলবেলা যখন আপনি উঠছেন, ততক্ষণে তারা পিতৃদত্ত সম্পত্তিতে অধিকার স্থাপন করে ফেলেছেন, আর আপনি যদি বলতে গেলেন "এ ট্রেনে তো তিনজনের সিটে...." ব্যস আপনার ঊর্ধ্বতন সপ্তম পুরুষ স্বর্গে বসে ঢোক এবং হেঁচকি তুলতে আরম্ভ করবেন।
এরকমই এক বিকেলে নরেন্দ্রপুর থেকে ফেরার সময়, আমি বাবা ও আমার পাড়ার দাদা, দীপকদা, লটবহর সহ হাওড়া স্টেশনে এসে পৌঁছলাম। দীপকদা তৎপর ছেলে, ট্রেন ঢোকার সময় চলমান অবস্থাতেই টুক করে একটা কামরায় ঢুকে পড়লো, এবং গোটা তিনেক সিট রুমাল ও সিগারেটের প্যাকেট দিয়ে নিশ্চিৎ করে আমাদের ডাকতে নিচে নেমে এলো। আমি দুখানা ব্যাগ নিয়ে ভিড় ঠেলে কোনমতে উঠলাম, বাইরে থেকে হাজার চিৎকারের মাঝে দীপকদার নির্দেশ মত সিটে পৌঁছে দেখি এক স্থুলকায় ভদ্রলোক আমার জায়গায় দিব্যি বসে আছেন।
আমি বললাম, ভদ্রভাবেই, "কাকু, এই জায়গাটা কিন্তু আমার।"
"আপনার মানে?"
"মানে আমার দাদা জায়গাটা আমার জন্য রেখেছে"
"ইয়ার্কি হচ্ছে, অন্য একজন জায়গাটা রেখেছে, আপনার মানে, ডেঁপো ছেলে, ইয়ার্কি হচ্ছে?"
গরমে ঘামে এবং লোকের বগলের গন্ধে আমার ত্রাহি মাম অবস্থা, দাঁড়াতে পারছি না, এদিকে কাঁধে দু পিস ব্যাগ। এই কথোপকথন চলাকালীন দীপকদাও উঠে এসেছে। আমাকে বললো "একি নিশান, বসোনি কেন? জায়গা রেখেছি তো!"
আমি কাকুর দিকে তাকালাম, মাথায় আগুন জ্বলছে, বললাম "দেখলেন তো বলেছিলাম আমার জায়গা, শুনলেন না, এবার হোলো তো? উঠে পড়ুন তো মশাই!"
মশাই আমার দিকে কটমট করে তাকিয়ে খানিক সরে বসলেন, আমি দীপকদাকে বললাম "তুমি
ওখানে বসো" বলে আমি উল্টোদিকের সিটের তলায় নানা কসরত করে ব্যাগ ঢোকাতে
শুরু করলাম, বাজি রেখে বলতে পারি আর দিন সাতেক করলে আমি অলিম্পিকে কোন না
কো বিভাগে নিশ্চিৎ সোনা বাগিয়ে আনতাম, অতি দুরূহ ও জটিল কাজ। যাই হোক মিনিট
দুয়েক পরে কাকু হঠাৎ জ্বলে ঊঠে বললেন " উঠে পড়ুন মশাই কি ধরনের কথা হে
ছোকরা, সহবৎ শেখোনি?"
আমি তখনো ব্যাগ নিযে ঝামেলায়, মাথা তড়াক করে জ্বলে যাওয়ায়, আমি বললাম "বেশী বকবেন নাতো মশাই চুপ করুন দেখি!"
কাকু আবার দমে গেলেন, ব্যাগ ঢোকাতে আরো মিনিট চারেক লাগলো, আমি উঠে বসে রুমালে মুখ মুছছি, উটকো গরম, হঠাৎ কাকু আবার জ্বলে ঊঠলেন, ওনার এই দোদমা বোমা গোছের খেপে খেপে জ্বলে ওঠাটা আমি ঠিক বুঝে উঠিনি আজও।
এবার বললেন "চুপ করুন তো মানে কি? তুমি ঠিক করে দেবে আমি চুপ করবো না করবো?"
ততক্ষণে আমার তুরীয় অবস্থা চলে এসেছে, আমি রুমাল নামিয়ে নির্বিকার স্বরে বললুম "ও চুপ করবেন না? তা বেশ তো! চেঁচান!"
কাকু তেড়েমেরে কিছু একটা বলার জন্য হাঁ করেছিলেন, কিন্তু আমার কথার সত্যতা প্রমাণের শঙ্কাতেই বোধহয়, দেখলাম কোঁৎ করে আধবেরোন কথা আবার গিলে ফেললেন।
আমি তখনো ব্যাগ নিযে ঝামেলায়, মাথা তড়াক করে জ্বলে যাওয়ায়, আমি বললাম "বেশী বকবেন নাতো মশাই চুপ করুন দেখি!"
কাকু আবার দমে গেলেন, ব্যাগ ঢোকাতে আরো মিনিট চারেক লাগলো, আমি উঠে বসে রুমালে মুখ মুছছি, উটকো গরম, হঠাৎ কাকু আবার জ্বলে ঊঠলেন, ওনার এই দোদমা বোমা গোছের খেপে খেপে জ্বলে ওঠাটা আমি ঠিক বুঝে উঠিনি আজও।
এবার বললেন "চুপ করুন তো মানে কি? তুমি ঠিক করে দেবে আমি চুপ করবো না করবো?"
ততক্ষণে আমার তুরীয় অবস্থা চলে এসেছে, আমি রুমাল নামিয়ে নির্বিকার স্বরে বললুম "ও চুপ করবেন না? তা বেশ তো! চেঁচান!"
কাকু তেড়েমেরে কিছু একটা বলার জন্য হাঁ করেছিলেন, কিন্তু আমার কথার সত্যতা প্রমাণের শঙ্কাতেই বোধহয়, দেখলাম কোঁৎ করে আধবেরোন কথা আবার গিলে ফেললেন।
Monday, September 1, 2014
২১৮ (নিশান কর্তৃক)
------
কুণাল এত লিখছে দেখে আমার আরেকখানা ঘটনা মনে পড়ে গেলো, আমি কুণাল ও জ্যোতি গেছি ধর্মতলায় সিনেমা দেখতে, কি সিনেমা মনে নেই, দেখার পর হাঁটতে হাঁটতে, পার্ক সার্কাসের কাছাকাছি এসে ২১৮ বাস ধরা হোলো। ভুক্তভোগী মাত্রেই জানেন ২১৮ কি জিনিস, গরমকালে এখানে লোহা সেদ্ধ করা যায়, শীতকালে নিদেন পক্ষে আলু বা বেগুন। টিকিট কাটার দরকার কোনদিন বোধ করিনি। সামনের দরজা দিয়ে উঠে পেছোতে পেছোতে পেছনের দরজা দিয়ে নেমে যেতাম। আর সামনের কণ্ডাকটর জিজ্ঞেস করলে বলতাম পেছনে টিকিট হয়ে গেছে, পেছনের জন জিজ্ঞেস করলে সামনে, ভিড় এত প্রবল হোতো যে সেটা অপ্রমাণ করা রীতিমত দুঃসাধ্য ছিলো।
যাইহোক সেদিন কোন এক অজানা কারণে বাসে তখনো ভিড় তেমন নেই, এবং প্রাথমিক ভুল হিসেবে আমরা বসে পড়লাম লেডিস সিটে, স্বভাবতঃই মিনিট পাঁচেকের মধ্যে সে সিট থেকে উৎখাত হলাম, কিন্তু ভিড় এমন বেশী যে নড়াচড়ার জায়গা নেই। অতএব লেডিস সিটের সামনেই দাঁড়িয়ে বাইরের নরক গুলজার জানলার আধখানা দিয়ে উপভোগ করছিলাম।
যাইহোক প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য এক শ্রেণীর ছেলে থাকে যাদের স্বভাব মেয়ে দেখলেই লালা ঝরা, এবং সুযোগ পেলেই বাসে ট্রেনে মেয়েদের গিয়ে হাত দেওয়া, আর এক শ্রেণীর মহিলা থাকেন যাঁদের ধারণা সমস্ত ছেলের সমস্ত চেতনা কেন্দ্রীভূত তাঁকে এবং তাঁকেই ঘিরে। প্রকৃতির কোন এক অমোঘ চক্রান্তে এই দুই শ্রেণীর কখনোই মোলাকাত হয়না! যাই হোক, আমি তো দিব্যি দেখছি বাইরে। হঠাৎ শুনি কেউ একজন বললেন "এই যে শুনছেন?"
আমি এদিক ওদিক তাকিয়ে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কে বুঝলাম না।
এইবার হাঁটুতে খোঁচা "হ্যাঁ হ্যাঁ আপনাকেই বলছি!"
সামনের সিটের মহিলা আমার দিকে রোষকষায়িত নয়নে চেয়ে, ভয়ানক আতঙ্কের সাথে লক্ষ্য করলাম আমি কুণাল ও জ্যোতি কাউকেই দেখতে পাচ্ছি না!
ঢোক গিলে বললাম "আ..আমাকে বলছেন?"
"হ্যাঁ, হ্যাঁ আপনি! আপনি তখন থেকে আমার গায়ে নিশ্বাস ফেলছেন কেন?"
আমার তো ভয়ে হয়ে গেছে, ২১৮ তে মহিলা মহলের সভাপতি পুরুষের সংখ্যা প্রচুর, আর গণধোলাই কাকে বলে আমি ভালোই দেখেছি!
আশেপাশে গুণগুণ শুনছি...
আমি আরো বার চারেক ঢোক গিলে বললাম "মানে, আমি তো আপনার সামনেই দাঁড়িয়ে আছি, আর কোথায় নিশ্বাস ফেলবো বুঝতে পারছি না..."
আর দেখে কে! আরো আগুন, তিনি তেলে বেগুনে জ্বলে বললেন, "কই আর কেউ তো ফেলছে না!"
হঠাৎ করে ভয় কেটে গিয়ে আমার মাথাও গেলো জ্বলে!
আমি বললুম "দেখুন যে যার সামনে দাঁড়িয়ে আছে তার গায়েই নিশ্বাস ফেলছে, আপনার দরকার থাকে বলুন আমি বাকিদেরও বলছি আপনার গায়ে নিশ্বাস ফেলতে!"
আর দেখে কে, মহিলা এমন রেগে গেলেন যে ৩০ সেকেণ্ড কোন বাক্যস্ফুর্তি হোলো না, বাস তখন গড়িয়াহাটের ব্রিজে উঠছে, আমি এই সুযোগ বুঝে বললুম, "দিদি সরুন সরুন সরুন একটু!"
থতমত খেয়ে তিনি মাথা ৩০º ঘুরিয়ে ফেললেন জানলা থেকে, বললেন "ক...কেন?"
আমি বললাম " নানা মানে জানালা দিয়ে মাথাটা বের করে টুক করে নিঃশ্বাসটা বাইরে ফেলে দেবো।"
বলেই একগাল হাসি!
আর দেখে কে, আশেপাশের কয়েকজনও ফিক ফিক করে হাসছে, তিনি আমাকে চপেটাঘাত করার আগেই আমি ভয়ানক জোরে আরো ভিড়ের মধ্যে সেঁধিয়ে গেলাম, ২১৮য় আমায় ধরে কোন শালা?
------
কুণাল এত লিখছে দেখে আমার আরেকখানা ঘটনা মনে পড়ে গেলো, আমি কুণাল ও জ্যোতি গেছি ধর্মতলায় সিনেমা দেখতে, কি সিনেমা মনে নেই, দেখার পর হাঁটতে হাঁটতে, পার্ক সার্কাসের কাছাকাছি এসে ২১৮ বাস ধরা হোলো। ভুক্তভোগী মাত্রেই জানেন ২১৮ কি জিনিস, গরমকালে এখানে লোহা সেদ্ধ করা যায়, শীতকালে নিদেন পক্ষে আলু বা বেগুন। টিকিট কাটার দরকার কোনদিন বোধ করিনি। সামনের দরজা দিয়ে উঠে পেছোতে পেছোতে পেছনের দরজা দিয়ে নেমে যেতাম। আর সামনের কণ্ডাকটর জিজ্ঞেস করলে বলতাম পেছনে টিকিট হয়ে গেছে, পেছনের জন জিজ্ঞেস করলে সামনে, ভিড় এত প্রবল হোতো যে সেটা অপ্রমাণ করা রীতিমত দুঃসাধ্য ছিলো।
যাইহোক সেদিন কোন এক অজানা কারণে বাসে তখনো ভিড় তেমন নেই, এবং প্রাথমিক ভুল হিসেবে আমরা বসে পড়লাম লেডিস সিটে, স্বভাবতঃই মিনিট পাঁচেকের মধ্যে সে সিট থেকে উৎখাত হলাম, কিন্তু ভিড় এমন বেশী যে নড়াচড়ার জায়গা নেই। অতএব লেডিস সিটের সামনেই দাঁড়িয়ে বাইরের নরক গুলজার জানলার আধখানা দিয়ে উপভোগ করছিলাম।
যাইহোক প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য এক শ্রেণীর ছেলে থাকে যাদের স্বভাব মেয়ে দেখলেই লালা ঝরা, এবং সুযোগ পেলেই বাসে ট্রেনে মেয়েদের গিয়ে হাত দেওয়া, আর এক শ্রেণীর মহিলা থাকেন যাঁদের ধারণা সমস্ত ছেলের সমস্ত চেতনা কেন্দ্রীভূত তাঁকে এবং তাঁকেই ঘিরে। প্রকৃতির কোন এক অমোঘ চক্রান্তে এই দুই শ্রেণীর কখনোই মোলাকাত হয়না! যাই হোক, আমি তো দিব্যি দেখছি বাইরে। হঠাৎ শুনি কেউ একজন বললেন "এই যে শুনছেন?"
আমি এদিক ওদিক তাকিয়ে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কে বুঝলাম না।
এইবার হাঁটুতে খোঁচা "হ্যাঁ হ্যাঁ আপনাকেই বলছি!"
সামনের সিটের মহিলা আমার দিকে রোষকষায়িত নয়নে চেয়ে, ভয়ানক আতঙ্কের সাথে লক্ষ্য করলাম আমি কুণাল ও জ্যোতি কাউকেই দেখতে পাচ্ছি না!
ঢোক গিলে বললাম "আ..আমাকে বলছেন?"
"হ্যাঁ, হ্যাঁ আপনি! আপনি তখন থেকে আমার গায়ে নিশ্বাস ফেলছেন কেন?"
আমার তো ভয়ে হয়ে গেছে, ২১৮ তে মহিলা মহলের সভাপতি পুরুষের সংখ্যা প্রচুর, আর গণধোলাই কাকে বলে আমি ভালোই দেখেছি!
আশেপাশে গুণগুণ শুনছি...
আমি আরো বার চারেক ঢোক গিলে বললাম "মানে, আমি তো আপনার সামনেই দাঁড়িয়ে আছি, আর কোথায় নিশ্বাস ফেলবো বুঝতে পারছি না..."
আর দেখে কে! আরো আগুন, তিনি তেলে বেগুনে জ্বলে বললেন, "কই আর কেউ তো ফেলছে না!"
হঠাৎ করে ভয় কেটে গিয়ে আমার মাথাও গেলো জ্বলে!
আমি বললুম "দেখুন যে যার সামনে দাঁড়িয়ে আছে তার গায়েই নিশ্বাস ফেলছে, আপনার দরকার থাকে বলুন আমি বাকিদেরও বলছি আপনার গায়ে নিশ্বাস ফেলতে!"
আর দেখে কে, মহিলা এমন রেগে গেলেন যে ৩০ সেকেণ্ড কোন বাক্যস্ফুর্তি হোলো না, বাস তখন গড়িয়াহাটের ব্রিজে উঠছে, আমি এই সুযোগ বুঝে বললুম, "দিদি সরুন সরুন সরুন একটু!"
থতমত খেয়ে তিনি মাথা ৩০º ঘুরিয়ে ফেললেন জানলা থেকে, বললেন "ক...কেন?"
আমি বললাম " নানা মানে জানালা দিয়ে মাথাটা বের করে টুক করে নিঃশ্বাসটা বাইরে ফেলে দেবো।"
বলেই একগাল হাসি!
আর দেখে কে, আশেপাশের কয়েকজনও ফিক ফিক করে হাসছে, তিনি আমাকে চপেটাঘাত করার আগেই আমি ভয়ানক জোরে আরো ভিড়ের মধ্যে সেঁধিয়ে গেলাম, ২১৮য় আমায় ধরে কোন শালা?
Sunday, August 31, 2014
মিশন: পর্ব ৪
ওয়েস্ট বেঙ্গল বোর্ড এখন সিলেবাসে অনেক সংশোধন করেছে, পরীক্ষার ধরণও আর আগের মতো নেই -- আশা করি এই সব রদবদলের ফলে পড়াশুনার মান উন্নত হয়েছে। আমাদের সময়ে কিন্তু ওয়েস্ট বেঙ্গল বোর্ডের যথেষ্ট দুর্নাম ছিল কিছু কিছু সাবজেক্টের ক্ষেত্রে -- quantity over quality -- এই মত পোষণ করার জন্য। যেমন ধরুন, বাংলা বা ইতিহাস পরীক্ষায় যে যত বেশি পাতার খাতা জমা দেবে সে তত বেশি নম্বর পাবে, লেখার মান এই সব সাবজেক্টে অতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমার সেই অঙ্কের স্যার, সুকুমার রায়, এই নিয়ে একটা মজার গল্প বলতেন।
একজন ইতিহাসের পরীক্ষক পরীক্ষার খাতা ঘরে এনে একটা নিচু টুলের উপর রাখতেন, দিয়ে ছেলেকে ডেকে বলতেন: "অ্যাই পল্টু, একটা লাথি মেরে যা তো !" পল্টু একটু দূর থেকে ছুটে এসে সেই খাতার বান্ডিলে মারতো এক লাথি; এর ফলে যেই খাতাগুলো বেশি ভারি সেগুলি সামনে পড়ে থাকতো আর হালকা খাতাগুলি ছিটকে গিয়ে দূরে পড়তো। এভাবে খুব সহজেই সেই পরীক্ষক ওজনের উপর ভিত্তি করে খাতাগুলোকে আলাদা করে ফেলতেন; তারপর আর কি, খাতার স্থূলত্ব অনুযায়ই নম্বর জুটতো ছাত্র ছাত্রীদের ভাগ্যে।
এই পাতা ভরানোর জন্যে অনেক ছাত্র ছাত্রী কি করতো, উত্তরের শুরু আর শেষটা ঠিক রেখে মাঝখানে হাবিজাবি কিছু একটা লিখে দিত, "আমি আজ বাজারে গেছিলাম; আজ আলুর দর তিরিশ টাকা প্রতি কিলো, পটলের কুড়ি টাকা, ঝিঙের চল্লিশ টাকা" -- এ জাতীয় কিছু একটা আর কি। অনেক পরীক্ষকই প্রচুর খাতা চেক করতে গিয়ে উপর উপর চোখ বোলানোর বেশি আর কিছু করতেন না, তাই এই সকল ছাত্র ছাত্রীর মধ্যে কেউ কেউ, ভাগ্য ভালো থাকলে, এসব লিখে নম্বরও ভালো পেত।
মিশনে কিন্তু সব সাবজেক্টের খাতাই ভালো করে দেখতেন মাস্টারমশাইরা। ব্যতিক্রম ছিল একটি মাত্র বিষয় -- Indian Culture, সংক্ষেপে IC। যারা মিশনে পড়েননি তারা বোধহয় এই সাবজেক্টটির নামও শোনেননি। তাদের জন্যে বলছি, এই বিষয়ের ক্লাসে পড়ানো বিভিন্ন মহামানবের জীবনী, তাদের বাণী, (ছাত্রদের মতো করে লেখা) কিছু ধর্মগ্রন্থের নির্যাস, আধ্যাত্মিক দর্শন, ইত্যাদি। এই বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বর বাকি সাবজেক্টের নম্বরের সাথে যোগ করা হতো না ঠিকই, কিন্তু এই সাবজেক্টে পাস করা ছিল বাধ্যতামূলক। ছাত্রাবস্থায় সাবজেক্টটা কঠিন লাগার ফলেই হোক কিম্বা শুধুমাত্র পাস করার লক্ষ্য নিয়ে পড়াশুনা করার মানসিকতার ফলেই হোক, বেশির ভাগ ছাত্র পরীক্ষার হলে গিয়ে কি লিখবে ভেবে পেত না। স্বাভাবিক ভাবেই, খাতা ভরানোর উদ্দেশ্যে ছাত্রেরা মনের মাধুরী মিশিয়ে কিছু একটা উত্তর লিখে দিয়ে আসতো, এবং অধিকাংশ সময় পারও পেয়ে যেত।
একদিন গবা মহারাজ ক্লাসে এসে ছাত্রদেরকে বললেন: "তোদের বন্ধু 'অমুক' IC পরীক্ষায় কি লিখেছে শোন।"
প্রশ্নটা ছিল আমাদের গুরুদেব ও গুরুপত্নি উভয়েই বর্তমান এরকম একটা স্মরণীয় ঘটনা লিখতে হবে, এর উত্তরে 'অমুক' যা লিখেছিল তার খানিকটা অংশ উদ্ধৃত করে নীচে দিলাম:
"গুরুদেব গুরুপত্নিকে একান্তে ডেকে বললেন: 'আই লাভ ইউ।'
গুরুপত্নি কম্পিত কণ্ঠে উত্তর দিলেন: 'আই লাভ ইউ টু।' "
এই উত্তরটি পাঠ করার শেষে গবা মহারাজ বলেন: "তোরাই বল, আমি এখন কি করবো ?"
পিছনের বেঞ্চ থেকে একটি উত্তর আসে: "মহারাজ, ওর উত্তরটা আরেকবার পড়ে শোনাবেন !"
Courtesy: ছেলেটার ভালো নামটা এখন মনে পড়ছে না, তবে ওর ডাকনামটা আমরা দিয়েছিলাম "মাওবাদী"। এই নামকরণের ইতিহাস আর ওর কাছে শোনা অন্যান্য মিশনের গল্প পরে লিখবো'খন।
ওয়েস্ট বেঙ্গল বোর্ড এখন সিলেবাসে অনেক সংশোধন করেছে, পরীক্ষার ধরণও আর আগের মতো নেই -- আশা করি এই সব রদবদলের ফলে পড়াশুনার মান উন্নত হয়েছে। আমাদের সময়ে কিন্তু ওয়েস্ট বেঙ্গল বোর্ডের যথেষ্ট দুর্নাম ছিল কিছু কিছু সাবজেক্টের ক্ষেত্রে -- quantity over quality -- এই মত পোষণ করার জন্য। যেমন ধরুন, বাংলা বা ইতিহাস পরীক্ষায় যে যত বেশি পাতার খাতা জমা দেবে সে তত বেশি নম্বর পাবে, লেখার মান এই সব সাবজেক্টে অতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমার সেই অঙ্কের স্যার, সুকুমার রায়, এই নিয়ে একটা মজার গল্প বলতেন।
একজন ইতিহাসের পরীক্ষক পরীক্ষার খাতা ঘরে এনে একটা নিচু টুলের উপর রাখতেন, দিয়ে ছেলেকে ডেকে বলতেন: "অ্যাই পল্টু, একটা লাথি মেরে যা তো !" পল্টু একটু দূর থেকে ছুটে এসে সেই খাতার বান্ডিলে মারতো এক লাথি; এর ফলে যেই খাতাগুলো বেশি ভারি সেগুলি সামনে পড়ে থাকতো আর হালকা খাতাগুলি ছিটকে গিয়ে দূরে পড়তো। এভাবে খুব সহজেই সেই পরীক্ষক ওজনের উপর ভিত্তি করে খাতাগুলোকে আলাদা করে ফেলতেন; তারপর আর কি, খাতার স্থূলত্ব অনুযায়ই নম্বর জুটতো ছাত্র ছাত্রীদের ভাগ্যে।
এই পাতা ভরানোর জন্যে অনেক ছাত্র ছাত্রী কি করতো, উত্তরের শুরু আর শেষটা ঠিক রেখে মাঝখানে হাবিজাবি কিছু একটা লিখে দিত, "আমি আজ বাজারে গেছিলাম; আজ আলুর দর তিরিশ টাকা প্রতি কিলো, পটলের কুড়ি টাকা, ঝিঙের চল্লিশ টাকা" -- এ জাতীয় কিছু একটা আর কি। অনেক পরীক্ষকই প্রচুর খাতা চেক করতে গিয়ে উপর উপর চোখ বোলানোর বেশি আর কিছু করতেন না, তাই এই সকল ছাত্র ছাত্রীর মধ্যে কেউ কেউ, ভাগ্য ভালো থাকলে, এসব লিখে নম্বরও ভালো পেত।
মিশনে কিন্তু সব সাবজেক্টের খাতাই ভালো করে দেখতেন মাস্টারমশাইরা। ব্যতিক্রম ছিল একটি মাত্র বিষয় -- Indian Culture, সংক্ষেপে IC। যারা মিশনে পড়েননি তারা বোধহয় এই সাবজেক্টটির নামও শোনেননি। তাদের জন্যে বলছি, এই বিষয়ের ক্লাসে পড়ানো বিভিন্ন মহামানবের জীবনী, তাদের বাণী, (ছাত্রদের মতো করে লেখা) কিছু ধর্মগ্রন্থের নির্যাস, আধ্যাত্মিক দর্শন, ইত্যাদি। এই বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বর বাকি সাবজেক্টের নম্বরের সাথে যোগ করা হতো না ঠিকই, কিন্তু এই সাবজেক্টে পাস করা ছিল বাধ্যতামূলক। ছাত্রাবস্থায় সাবজেক্টটা কঠিন লাগার ফলেই হোক কিম্বা শুধুমাত্র পাস করার লক্ষ্য নিয়ে পড়াশুনা করার মানসিকতার ফলেই হোক, বেশির ভাগ ছাত্র পরীক্ষার হলে গিয়ে কি লিখবে ভেবে পেত না। স্বাভাবিক ভাবেই, খাতা ভরানোর উদ্দেশ্যে ছাত্রেরা মনের মাধুরী মিশিয়ে কিছু একটা উত্তর লিখে দিয়ে আসতো, এবং অধিকাংশ সময় পারও পেয়ে যেত।
একদিন গবা মহারাজ ক্লাসে এসে ছাত্রদেরকে বললেন: "তোদের বন্ধু 'অমুক' IC পরীক্ষায় কি লিখেছে শোন।"
প্রশ্নটা ছিল আমাদের গুরুদেব ও গুরুপত্নি উভয়েই বর্তমান এরকম একটা স্মরণীয় ঘটনা লিখতে হবে, এর উত্তরে 'অমুক' যা লিখেছিল তার খানিকটা অংশ উদ্ধৃত করে নীচে দিলাম:
"গুরুদেব গুরুপত্নিকে একান্তে ডেকে বললেন: 'আই লাভ ইউ।'
গুরুপত্নি কম্পিত কণ্ঠে উত্তর দিলেন: 'আই লাভ ইউ টু।' "
এই উত্তরটি পাঠ করার শেষে গবা মহারাজ বলেন: "তোরাই বল, আমি এখন কি করবো ?"
পিছনের বেঞ্চ থেকে একটি উত্তর আসে: "মহারাজ, ওর উত্তরটা আরেকবার পড়ে শোনাবেন !"
Courtesy: ছেলেটার ভালো নামটা এখন মনে পড়ছে না, তবে ওর ডাকনামটা আমরা দিয়েছিলাম "মাওবাদী"। এই নামকরণের ইতিহাস আর ওর কাছে শোনা অন্যান্য মিশনের গল্প পরে লিখবো'খন।
Saturday, August 30, 2014
গবা মহারাজের কান্ডকারখানা লিখে পাঠকদের কাছ থেকে ফেসবুকে যে পরিমাণ সাড়া পেয়েছি, তা আগে কখনো পাইনি। তাদেরই মধ্যে কিছুজনের বক্তব্য (তাদেরই ভাষায়) আলাদা করে উল্লেখ করার দাবি রাখে, সেগুলি নীচে দেওয়া হলো:
১) গেছো দাদা (এটাই যদি কারুর ফেসবুকে পোশাকি নাম হয়, আমি কি করতে পারি !)
বালতির গপ্পোটা আমার কেমিস্ট্রি টিউটর সুজয় পট্টনায়েকের থেকে শোনা -- সত্যি বলতে কি, গপ্পোটার একটা বাড়তি ব্যপার আছে। বালতি চাপা দিয়ে দু'চারটে চড়-থাপ্পড় মারার পরে গবা চ্যাঁচাতে থাকেন - "যার বালতি, তাকে টিসি দেবো।" আলো আসার পরে দেখা যায়, যে বালতিটা গবার নিজেরই।
২) নিশান
আমি গবাকে গাল দেবো না, গবার কল্যাণে আমি বাইমান্থলি পরীক্ষা না দিয়ে বাড়ি কেটে পড়তে পেরেছিলাম, ১০৬ জ্বরের অজুহাত দেখিয়ে !
৩) সৌম্যদীপ
একদিন আমাদের একটা বন্ধু কিছু দুষ্টুমি করেছে আমাদের হোস্টেলে। তা সেই সময় গবা খবরটা পেয়ে ওই ছাত্রের ঘরে ঢুকেই তাকে পেটাতে আরম্ভ করলো।
ছাত্র: "মহারাজ, মারছেন কেন ? আমি কিছু করিনি। আপনি একটা 'গান্ডু' -- এটা জানেন ?"
গবা: "সে না হয় মানছি আমি 'গান্ডু' -- তা বলে ওরকম ভাবে বলার কি আছে ?"
১) গেছো দাদা (এটাই যদি কারুর ফেসবুকে পোশাকি নাম হয়, আমি কি করতে পারি !)
বালতির গপ্পোটা আমার কেমিস্ট্রি টিউটর সুজয় পট্টনায়েকের থেকে শোনা -- সত্যি বলতে কি, গপ্পোটার একটা বাড়তি ব্যপার আছে। বালতি চাপা দিয়ে দু'চারটে চড়-থাপ্পড় মারার পরে গবা চ্যাঁচাতে থাকেন - "যার বালতি, তাকে টিসি দেবো।" আলো আসার পরে দেখা যায়, যে বালতিটা গবার নিজেরই।
২) নিশান
আমি গবাকে গাল দেবো না, গবার কল্যাণে আমি বাইমান্থলি পরীক্ষা না দিয়ে বাড়ি কেটে পড়তে পেরেছিলাম, ১০৬ জ্বরের অজুহাত দেখিয়ে !
৩) সৌম্যদীপ
একদিন আমাদের একটা বন্ধু কিছু দুষ্টুমি করেছে আমাদের হোস্টেলে। তা সেই সময় গবা খবরটা পেয়ে ওই ছাত্রের ঘরে ঢুকেই তাকে পেটাতে আরম্ভ করলো।
ছাত্র: "মহারাজ, মারছেন কেন ? আমি কিছু করিনি। আপনি একটা 'গান্ডু' -- এটা জানেন ?"
গবা: "সে না হয় মানছি আমি 'গান্ডু' -- তা বলে ওরকম ভাবে বলার কি আছে ?"
Friday, August 29, 2014
মিশন: পর্ব ৩
গবা মহারাজকে ঘিরে বিভিন্ন কীর্তিকলাপের সাক্ষী আছি আমি। আরো অনেক ঘটনা মিশনের ছাত্রদের মুখে মুখে প্রচলিত। তার মধ্যে কিছুর বাস্তবিকতা নিয়ে পাঠকদের মনে সন্দেহ জাগতে পারে; তা সত্তেও সেরকম কিছু নমুনা আমি এখানে সংকলিত করছি, অত্যুৎসাহী পাঠকরা নিজ উদ্যোগে এগুলির যথার্ততা যাচাই করে নেবেন।
উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার admit card বানানোর জন্যে কিছু ছাত্র গড়িয়া গেছিল ছবি তোলাতে। তারা মিশনে ফিরে এসে ভবনে (অর্থাৎ hall-এ) ঢোকার সময় গবা মহারাজের মুখোমুখি পড়ে যায়।
গবা মহারাজ: "কি ব্যাপার ? একসাথে কোথায় গেছিলে ?"
এক ছাত্র: "মহারাজ, admit card-এর জন্যে ছবি তোলাতে।"
গবা মহারাজ: "তা এতজন মিলে যাবার কি দরকার, একজন গিয়ে সবার ছবি তুলে আনা যায় না ?"
আমাদের সময় মোবাইল, ল্যাপটপ -- এই সবের প্রচলন ছিল না, তাই ছাত্রদের ঘরে কোনো প্লাগ পয়েন্ট থাকতো না। এই পড়ে যদি কোনো পাঠকের অবাক লাগে তাহলে বলি আমার দাদা ক্লাস ৪ থেকে ১০ পুরুলিয়া মিশনে পড়াকালীন ছাত্রদের রুমে ফ্যান পর্যন্ত ছিল না। পুরুলিয়ার মতো গরমের জায়গায় ফ্যান ছাড়া থাকাটা কতোখানি উপভোগ্য সেটা একবার ভেবে দেখুন তো ! এখন অবশ্য এক প্রাক্তনীর টাকায় পুরুলিয়া মিশনে প্রত্যেক ঘরে ফ্যান লাগানো হয়েছে। পুরুলিয়া মিশনের কথা পরে আবার হবে'খন, আপাতত মূল কাহিনীতে ফেরা যাক। আমাদের মিশনে সেই সময় প্লাগ পয়েন্ট থাকতো ব্লাইন্ড ছেলেদের ঘরে। দুর্ভাগ্যবশত: ব্লাইন্ড ছেলেদের জন্যে ব্রেইল ভাষায় যথেষ্ঠ বই না থাকার দরুণ ওদের ক্যাসেটে পড়া রেকর্ড করে সেই শুনে পড়া মুখস্থ করতে হতো, তাই তাদের ঘরে প্লাগ পয়েন্টের ব্যবস্থা। কিছু ছাত্র এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করার জন্যে বাইরে থেকে VCP ভাড়া করে নিয়ে এসে তাতে হিন্দী সিনেমা দেখছিল। হঠাৎ রুমের কড়া নড়ে উঠলো, এক ছাত্র রুমের বাইরে এসে দেখে গবা মহারাজ দাঁড়িয়ে। এদিকে রুমের ভিতরে সিনেমা তখনো চলছে, পর্দায় হিরোইন একটা গান ধরেছে সবে।
গবা মহারাজ: "কি রে, তোরা এই রুমে কি করছিস ?"
ছাত্র: "মহারাজ, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতির মাঝে মনকে সতেজ রাখার জন্যে ভজন শুনছি।"
গবা মহারাজ: "বাহ্, এ তো খুব ভালো কথা। তোরা চালিয়ে যা।"
এই বলে মহারাজ চলে গেলেন। প্রসঙ্গত এই ছাত্রটি আমাদের বেলায় উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যে প্রথম দশের মধ্যে স্থান অধিকার করেছিল।
কিছু কিছু ঘটনা প্রায় প্রত্যেক স্কুল কলেজেই থাকে যে ঘটনাটির কৃতিত্ব প্রত্যেক ব্যাচের ছেলেরাই দাবি করে যে তাদেরই কোনো এক সহপাঠীর। সেরকমই একটি ঘটনা হলো লোড শেডিং-এর সময় গবা মহারাজের মাথায় বালতি চাপা দিয়ে কোনো এক বিতশ্রদ্ধ ছাত্রের দু-চার ঘা বসিয়ে দেওয়া; শুরুতেই মাথায় বালতি চাপা দিয়ে দেওয়ার ফলে পরে গবা মহারাজ আর দোষী ছাত্রকে সনাক্ত করতে পারেননি, তাই ওনাকে ব্যাপারটা চুপচাপ হজম করে নিতে হয়।
লোড শেডিং-এর কথায় মনে পড়লো, মিশনের ছাত্রদের একটি স্বভাব হলো লোড শেডিং হলে পরেই চেঁচিয়ে ওঠা "এই গবা, আলো দিয়ে যা !" এই প্রসঙ্গে একটা গল্প (ঘটনা) শুনেছিলাম:
একবার বিদেশের একটি প্রেক্ষাগৃহে একটি নাটক চলছে, এমন সময় সেখানে লোড শেডিং। সেই অন্ধকারের মধ্যে কে একজন চেঁচিয়ে উঠলো: "এই গবা, আলো দিয়ে যা !" এই শুনে পেছন থেকে আরেকজন কে চেঁচিয়ে উঠলো: "আমি সেভেনটি ফোরের ব্যাচ, তুমি কোন ইয়ারের ?"
গবা মহারাজকে ঘিরে বিভিন্ন কীর্তিকলাপের সাক্ষী আছি আমি। আরো অনেক ঘটনা মিশনের ছাত্রদের মুখে মুখে প্রচলিত। তার মধ্যে কিছুর বাস্তবিকতা নিয়ে পাঠকদের মনে সন্দেহ জাগতে পারে; তা সত্তেও সেরকম কিছু নমুনা আমি এখানে সংকলিত করছি, অত্যুৎসাহী পাঠকরা নিজ উদ্যোগে এগুলির যথার্ততা যাচাই করে নেবেন।
উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার admit card বানানোর জন্যে কিছু ছাত্র গড়িয়া গেছিল ছবি তোলাতে। তারা মিশনে ফিরে এসে ভবনে (অর্থাৎ hall-এ) ঢোকার সময় গবা মহারাজের মুখোমুখি পড়ে যায়।
গবা মহারাজ: "কি ব্যাপার ? একসাথে কোথায় গেছিলে ?"
এক ছাত্র: "মহারাজ, admit card-এর জন্যে ছবি তোলাতে।"
গবা মহারাজ: "তা এতজন মিলে যাবার কি দরকার, একজন গিয়ে সবার ছবি তুলে আনা যায় না ?"
আমাদের সময় মোবাইল, ল্যাপটপ -- এই সবের প্রচলন ছিল না, তাই ছাত্রদের ঘরে কোনো প্লাগ পয়েন্ট থাকতো না। এই পড়ে যদি কোনো পাঠকের অবাক লাগে তাহলে বলি আমার দাদা ক্লাস ৪ থেকে ১০ পুরুলিয়া মিশনে পড়াকালীন ছাত্রদের রুমে ফ্যান পর্যন্ত ছিল না। পুরুলিয়ার মতো গরমের জায়গায় ফ্যান ছাড়া থাকাটা কতোখানি উপভোগ্য সেটা একবার ভেবে দেখুন তো ! এখন অবশ্য এক প্রাক্তনীর টাকায় পুরুলিয়া মিশনে প্রত্যেক ঘরে ফ্যান লাগানো হয়েছে। পুরুলিয়া মিশনের কথা পরে আবার হবে'খন, আপাতত মূল কাহিনীতে ফেরা যাক। আমাদের মিশনে সেই সময় প্লাগ পয়েন্ট থাকতো ব্লাইন্ড ছেলেদের ঘরে। দুর্ভাগ্যবশত: ব্লাইন্ড ছেলেদের জন্যে ব্রেইল ভাষায় যথেষ্ঠ বই না থাকার দরুণ ওদের ক্যাসেটে পড়া রেকর্ড করে সেই শুনে পড়া মুখস্থ করতে হতো, তাই তাদের ঘরে প্লাগ পয়েন্টের ব্যবস্থা। কিছু ছাত্র এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করার জন্যে বাইরে থেকে VCP ভাড়া করে নিয়ে এসে তাতে হিন্দী সিনেমা দেখছিল। হঠাৎ রুমের কড়া নড়ে উঠলো, এক ছাত্র রুমের বাইরে এসে দেখে গবা মহারাজ দাঁড়িয়ে। এদিকে রুমের ভিতরে সিনেমা তখনো চলছে, পর্দায় হিরোইন একটা গান ধরেছে সবে।
গবা মহারাজ: "কি রে, তোরা এই রুমে কি করছিস ?"
ছাত্র: "মহারাজ, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতির মাঝে মনকে সতেজ রাখার জন্যে ভজন শুনছি।"
গবা মহারাজ: "বাহ্, এ তো খুব ভালো কথা। তোরা চালিয়ে যা।"
এই বলে মহারাজ চলে গেলেন। প্রসঙ্গত এই ছাত্রটি আমাদের বেলায় উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যে প্রথম দশের মধ্যে স্থান অধিকার করেছিল।
কিছু কিছু ঘটনা প্রায় প্রত্যেক স্কুল কলেজেই থাকে যে ঘটনাটির কৃতিত্ব প্রত্যেক ব্যাচের ছেলেরাই দাবি করে যে তাদেরই কোনো এক সহপাঠীর। সেরকমই একটি ঘটনা হলো লোড শেডিং-এর সময় গবা মহারাজের মাথায় বালতি চাপা দিয়ে কোনো এক বিতশ্রদ্ধ ছাত্রের দু-চার ঘা বসিয়ে দেওয়া; শুরুতেই মাথায় বালতি চাপা দিয়ে দেওয়ার ফলে পরে গবা মহারাজ আর দোষী ছাত্রকে সনাক্ত করতে পারেননি, তাই ওনাকে ব্যাপারটা চুপচাপ হজম করে নিতে হয়।
লোড শেডিং-এর কথায় মনে পড়লো, মিশনের ছাত্রদের একটি স্বভাব হলো লোড শেডিং হলে পরেই চেঁচিয়ে ওঠা "এই গবা, আলো দিয়ে যা !" এই প্রসঙ্গে একটা গল্প (ঘটনা) শুনেছিলাম:
একবার বিদেশের একটি প্রেক্ষাগৃহে একটি নাটক চলছে, এমন সময় সেখানে লোড শেডিং। সেই অন্ধকারের মধ্যে কে একজন চেঁচিয়ে উঠলো: "এই গবা, আলো দিয়ে যা !" এই শুনে পেছন থেকে আরেকজন কে চেঁচিয়ে উঠলো: "আমি সেভেনটি ফোরের ব্যাচ, তুমি কোন ইয়ারের ?"
Tuesday, August 26, 2014
মিশন: পর্ব ২
মিশনে সবচেয়ে খ্যাতিসম্পন্ন মহারাজের ডাকনাম ছিল "গবা"। এই নামের উৎপত্তি নিয়ে নানা মুনির নানা মত। সেই সব প্রচলিত ব্যাখ্যার মধ্যে প্রধান তিনটি নীচে দেওয়া হলো।
১) সাধারণ ব্যাখ্যা: উনি আস্ত একটি "গবেট", তাই সংক্ষেপে "গবা"।
২) আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা: উনি ভগবানের অন্তসার খুঁজে পেয়েছেন তাই "গবা"। বুঝতে পারলেন না ? তবে এই দেখুন -- ভ(গবা)ন !
৩) বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা: ভগবান + conc. HNO_3 --> H(ভন)NO_3 (^) + গবা (v)
অর্থাৎ ভগবানের সঙ্গে কনসেন্ট্রেটেড নাইট্রিক অ্যাসিডের রিঅ্যাকশনে H(ভন)NO_3 গ্যাস উৎপন্ন হয় এবং "গবা" প্রেসিপিটেট হয়।
কি, শেষেরটা বড্ড বোকাবোকা হয়ে গেল ? আমাদের মিশনের ছেলেদের কিন্তু আজও এটা শুনলে হাসি পায়।
যাই হোক, গবা-কে নিয়ে গল্প পরের পর্বের জন্য তোলা থাকলো।
মিশনে সবচেয়ে খ্যাতিসম্পন্ন মহারাজের ডাকনাম ছিল "গবা"। এই নামের উৎপত্তি নিয়ে নানা মুনির নানা মত। সেই সব প্রচলিত ব্যাখ্যার মধ্যে প্রধান তিনটি নীচে দেওয়া হলো।
১) সাধারণ ব্যাখ্যা: উনি আস্ত একটি "গবেট", তাই সংক্ষেপে "গবা"।
২) আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা: উনি ভগবানের অন্তসার খুঁজে পেয়েছেন তাই "গবা"। বুঝতে পারলেন না ? তবে এই দেখুন -- ভ(গবা)ন !
৩) বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা: ভগবান + conc. HNO_3 --> H(ভন)NO_3 (^) + গবা (v)
অর্থাৎ ভগবানের সঙ্গে কনসেন্ট্রেটেড নাইট্রিক অ্যাসিডের রিঅ্যাকশনে H(ভন)NO_3 গ্যাস উৎপন্ন হয় এবং "গবা" প্রেসিপিটেট হয়।
কি, শেষেরটা বড্ড বোকাবোকা হয়ে গেল ? আমাদের মিশনের ছেলেদের কিন্তু আজও এটা শুনলে হাসি পায়।
যাই হোক, গবা-কে নিয়ে গল্প পরের পর্বের জন্য তোলা থাকলো।
Monday, August 25, 2014
"Forgive and forget." "দয়াই পরম ধর্ম।"
এধরণের কথা আমরা প্রায়শই বলে থাকি। তবে কিনা শুধুমাত্র বলেই থাকি, এই কথাগুলোর যথার্ততার প্রমাণ দেওয়ার সময় তখন আমাদের অন্য রূপ; ছোটখাটো দোষও আমাদের মনে হয় ক্ষমার অযোগ্য, অতি অল্প কারণেই আমরা হয়ে উঠি প্রতিহিংসাপরায়ণ। আমার নিজের জীবনের একটি ছোট ঘটনাই তার পরিচায়ক।
লেখক: পর্ব ৪
ছোট বেসরকারী বাসে চেপেছেন নিশ্চয়ই -- মানে আমি সেই বাসগুলোর কথা বলছি যেগুলোর সিটের পরিসর খুবই কম। দু'জনের সিটে আদতে দেড়জন বসতে পারে, যদি না দু'টো বাচ্চা কিম্বা একেবারে তালপাতার সেপাইয়ের মতো ফিগারের দু'জন পাশাপাশি বসে। নতুবা ডানদিকের সিটের ধারে বসে থাকা যাত্রীর বাঁ পা আর অপরদিকে বাঁদিকের সিটের বসে থাকা যাত্রীর ডান পা বাইরে বেরিয়ে থাকবেই -- এ কথা আমি হলপ করে বলতে পারি। তবে সবচেয়ে অসুবিধে হয় যদি কেউ একদম শেষের সিটটিতে বসে। এই সিটটির মাপ স্বাভাবিক চেহারার পাঁচজনের ইয়ের চেয়ে সামান্য বেশি -- টেনেটুনে এটাকে 5 and a half seater বলা যেতে পারে, তার চেয়ে বেশি কখনোই নয়। কিন্তু খেয়াল করে দেখবেন "দাদা, একটু চেপে বসুন" বলে সেই সিটে ছয়জন যাত্রী বসবেই।
এই সিটে বসার একটা অলিখিত নিয়ম হচ্ছে যে প্রথম পাঁচ যাত্রী মোটের উপর একটু ভালো ভাবেই বসতে পারবে, পিছনের সিটে হেলান দিয়ে। তবে ষষ্ঠ যাত্রীকে সর্বদা সামনে ঝুঁকে বসে থাকতে হবে, সেই মুহূর্তে এই যাত্রীর আর সিটের মধ্যে সংস্পর্শ থাকবে সামান্যই। শেষ সিটের অন্য কোন যাত্রী সিট ছেড়ে উঠলে পরে বাকি বসে থাকা যাত্রীরা নিজেদের মধ্যে একটু নড়েচড়ে বসে এই ষষ্ঠ যাত্রীটিকে ভালো ভাবে বসার ব্যবস্থা করে দেন; আর নতুন যে যাত্রী এই সিটে এসে বসে তাকে আগেরজনের মতো পিঠটা কুঁজো করে বসতে হয় -- নবীনকে সর্বদা প্রবীণের জন্যে এই কষ্টটা মেনে নিতে হবে, এটাই নিয়ম।
একবার আমি এইরকম এক পিছনের সিটে বসেছি -- ষষ্ঠ যাত্রী হিসেবে। খানিকক্ষণ পর আমার পাশের পাশের যাত্রীটি তার স্টপেজ এসে যাওয়ায় সিট ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। এদিকে আমার পাশের যাত্রীটি কিন্তু এতোটুকুও নড়ার প্রয়োজন বোধ করলেন না, তাই অপর এক যাত্রী ভালো ভাবেই বসার সুযোগ পেয়ে গেলেন। অন্যের উপকারে আমার কি লাভ ? আমার মতো সুস্বাস্থ্যের অধিকারী একজনের সামনের দিকে ঝুঁকে ওইভাবে বসে থাকাটা যে কি কষ্টের, সেটা একবার ভেবে দেখুন ! আমার তো পিঠ টনটন করছে; ওদিকে আরেকজন যাত্রী উঠে পড়লেন, এবারও আমার পাশের যাত্রীটি সরে বসলেন না একটুও।
হঠাৎ ওনার মোবাইলে ফোন আসায়, আমার পাশের যাত্রীটি টাইট প্যান্টের পকেট থেকে মোবাইলটি বার করার উদ্দেশ্যে উঠে দাঁড়ান। আমিও সুযোগ বুঝে টুক করে নিজের বসার জায়গার দখল নিয়ে নিই। মোবাইলটা কানে দিয়ে ফের সিটে বসতে গিয়ে ভদ্রলোক বুঝতে পারেন ইতিমধ্যে ওনার কি ক্ষতি হয়ে গেছে। সেই মুহূর্তে ওনার মুখে বিরক্তির অভিব্যক্তিটি দেখে আমার যে কি যারপরনাই আনন্দ হয়েছিল তা আমি লিখে প্রকাশ করতে পারব না।
এধরণের কথা আমরা প্রায়শই বলে থাকি। তবে কিনা শুধুমাত্র বলেই থাকি, এই কথাগুলোর যথার্ততার প্রমাণ দেওয়ার সময় তখন আমাদের অন্য রূপ; ছোটখাটো দোষও আমাদের মনে হয় ক্ষমার অযোগ্য, অতি অল্প কারণেই আমরা হয়ে উঠি প্রতিহিংসাপরায়ণ। আমার নিজের জীবনের একটি ছোট ঘটনাই তার পরিচায়ক।
লেখক: পর্ব ৪
ছোট বেসরকারী বাসে চেপেছেন নিশ্চয়ই -- মানে আমি সেই বাসগুলোর কথা বলছি যেগুলোর সিটের পরিসর খুবই কম। দু'জনের সিটে আদতে দেড়জন বসতে পারে, যদি না দু'টো বাচ্চা কিম্বা একেবারে তালপাতার সেপাইয়ের মতো ফিগারের দু'জন পাশাপাশি বসে। নতুবা ডানদিকের সিটের ধারে বসে থাকা যাত্রীর বাঁ পা আর অপরদিকে বাঁদিকের সিটের বসে থাকা যাত্রীর ডান পা বাইরে বেরিয়ে থাকবেই -- এ কথা আমি হলপ করে বলতে পারি। তবে সবচেয়ে অসুবিধে হয় যদি কেউ একদম শেষের সিটটিতে বসে। এই সিটটির মাপ স্বাভাবিক চেহারার পাঁচজনের ইয়ের চেয়ে সামান্য বেশি -- টেনেটুনে এটাকে 5 and a half seater বলা যেতে পারে, তার চেয়ে বেশি কখনোই নয়। কিন্তু খেয়াল করে দেখবেন "দাদা, একটু চেপে বসুন" বলে সেই সিটে ছয়জন যাত্রী বসবেই।
এই সিটে বসার একটা অলিখিত নিয়ম হচ্ছে যে প্রথম পাঁচ যাত্রী মোটের উপর একটু ভালো ভাবেই বসতে পারবে, পিছনের সিটে হেলান দিয়ে। তবে ষষ্ঠ যাত্রীকে সর্বদা সামনে ঝুঁকে বসে থাকতে হবে, সেই মুহূর্তে এই যাত্রীর আর সিটের মধ্যে সংস্পর্শ থাকবে সামান্যই। শেষ সিটের অন্য কোন যাত্রী সিট ছেড়ে উঠলে পরে বাকি বসে থাকা যাত্রীরা নিজেদের মধ্যে একটু নড়েচড়ে বসে এই ষষ্ঠ যাত্রীটিকে ভালো ভাবে বসার ব্যবস্থা করে দেন; আর নতুন যে যাত্রী এই সিটে এসে বসে তাকে আগেরজনের মতো পিঠটা কুঁজো করে বসতে হয় -- নবীনকে সর্বদা প্রবীণের জন্যে এই কষ্টটা মেনে নিতে হবে, এটাই নিয়ম।
একবার আমি এইরকম এক পিছনের সিটে বসেছি -- ষষ্ঠ যাত্রী হিসেবে। খানিকক্ষণ পর আমার পাশের পাশের যাত্রীটি তার স্টপেজ এসে যাওয়ায় সিট ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। এদিকে আমার পাশের যাত্রীটি কিন্তু এতোটুকুও নড়ার প্রয়োজন বোধ করলেন না, তাই অপর এক যাত্রী ভালো ভাবেই বসার সুযোগ পেয়ে গেলেন। অন্যের উপকারে আমার কি লাভ ? আমার মতো সুস্বাস্থ্যের অধিকারী একজনের সামনের দিকে ঝুঁকে ওইভাবে বসে থাকাটা যে কি কষ্টের, সেটা একবার ভেবে দেখুন ! আমার তো পিঠ টনটন করছে; ওদিকে আরেকজন যাত্রী উঠে পড়লেন, এবারও আমার পাশের যাত্রীটি সরে বসলেন না একটুও।
হঠাৎ ওনার মোবাইলে ফোন আসায়, আমার পাশের যাত্রীটি টাইট প্যান্টের পকেট থেকে মোবাইলটি বার করার উদ্দেশ্যে উঠে দাঁড়ান। আমিও সুযোগ বুঝে টুক করে নিজের বসার জায়গার দখল নিয়ে নিই। মোবাইলটা কানে দিয়ে ফের সিটে বসতে গিয়ে ভদ্রলোক বুঝতে পারেন ইতিমধ্যে ওনার কি ক্ষতি হয়ে গেছে। সেই মুহূর্তে ওনার মুখে বিরক্তির অভিব্যক্তিটি দেখে আমার যে কি যারপরনাই আনন্দ হয়েছিল তা আমি লিখে প্রকাশ করতে পারব না।
Saturday, August 16, 2014
চায়ের আসরে কথা হচ্ছে।
প্রথম পিএইচডি স্টুডেন্ট: "এক একটা থিসিস বাঁধাতে কতো খরচা জানিস? ৫০০ টাকা। ভাবছি নিজের কাছে রাখার জন্যে থিসিস আর বাঁধাবো না, প্রয়োজনে সফ্ট কপি থেকেই পড়ে নেব।"
দ্বিতীয় পিএইচডি স্টুডেন্ট: "নিজের থিসিসের অন্তত একটা হার্ড কপি রাখিস, ভবিষ্যতে ছেলেমেয়েদের দেখাতে পারবি।"
প্রথম পিএইচডি স্টুডেন্ট: "তখন হয়তো ছেলেমেয়েরা আমার থিসিস দেখে বলবে, 'বাবা, তুমি এর জন্যে জীবনের এতগুলো বছর ব্যয় করলে? না করলে, আমরা তো কবেই হয়ে যেতাম।' "
প্রথম পিএইচডি স্টুডেন্ট: "এক একটা থিসিস বাঁধাতে কতো খরচা জানিস? ৫০০ টাকা। ভাবছি নিজের কাছে রাখার জন্যে থিসিস আর বাঁধাবো না, প্রয়োজনে সফ্ট কপি থেকেই পড়ে নেব।"
দ্বিতীয় পিএইচডি স্টুডেন্ট: "নিজের থিসিসের অন্তত একটা হার্ড কপি রাখিস, ভবিষ্যতে ছেলেমেয়েদের দেখাতে পারবি।"
প্রথম পিএইচডি স্টুডেন্ট: "তখন হয়তো ছেলেমেয়েরা আমার থিসিস দেখে বলবে, 'বাবা, তুমি এর জন্যে জীবনের এতগুলো বছর ব্যয় করলে? না করলে, আমরা তো কবেই হয়ে যেতাম।' "
Friday, August 15, 2014
Thursday, August 14, 2014
হায়ার সেকেন্ডারির বাংলা পরীক্ষা চলার সময় আমার দাদাকে পেছন থেকে এক বন্ধু জিজ্ঞেস করেছিল: "এই 'মহেশ'-টা কে? মানুষটা না গরুটা?"
***************
অ্যানুয়াল পরীক্ষায় বাংলা প্রশ্নপত্রে মানে লিখতে দিয়েছে -- (প্রায়) সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ: বৃত্ত আর বিত্ত।
পরীক্ষার হলে পেছন থেকে এক বন্ধু সন্দীপনকে জিজ্ঞেস করেছে বৃত্ত আর বিত্ত -- কার কি মানে।
সন্দীপন: "বৃত্ত মানে গোলাকার।"
বন্ধু: "আর বিত্ত?"
সন্দীপন: "ধন।"
বন্ধু: "প্লিজ, পরীক্ষার সময় এখন বাজে কথা বলিস না। তুই তাড়াতাড়ি বিত্তের মানেটা বল।"
***************
অ্যানুয়াল পরীক্ষায় বাংলা প্রশ্নপত্রে মানে লিখতে দিয়েছে -- (প্রায়) সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ: বৃত্ত আর বিত্ত।
পরীক্ষার হলে পেছন থেকে এক বন্ধু সন্দীপনকে জিজ্ঞেস করেছে বৃত্ত আর বিত্ত -- কার কি মানে।
সন্দীপন: "বৃত্ত মানে গোলাকার।"
বন্ধু: "আর বিত্ত?"
সন্দীপন: "ধন।"
বন্ধু: "প্লিজ, পরীক্ষার সময় এখন বাজে কথা বলিস না। তুই তাড়াতাড়ি বিত্তের মানেটা বল।"
Sunday, August 10, 2014
(এই কথাগুলো অনেকদিন ধরেই লিখবো ভাবছিলাম কিন্তু স্লো ইন্টারনেট কানেকশনের জন্যে লিখতে গিয়ে মাঝে মাঝে ধৈর্য হারিয়ে ফেলছিলাম, তাই একটু দেরি হয়ে গেল।)
কার্টুনিস্ট প্রাণ মারা গেছেন শুনে বড় দুঃখ পেলাম। ওনার সৃষ্ট চরিত্রগুলি -- চাচা চৌধুরী, সাবু, বিল্লু, পিঙ্কি, রমন, চান্নি চাচী -- আজও আমার স্মৃতিতে উজ্জ্বল। এক সময় এরা ছিল আমার নিত্যকার সঙ্গী, এদের এক একটা বই আমি পাঁচ ছয়বার করে অন্তত পড়তাম। এদের মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় চরিত্র ছিল অবশ্যই চাচা চৌধুরী, যার মগজ কম্পিউটারের চেয়েও প্রখর। চাচা চৌধুরীর সব গল্পই, যাকে বলে, চেটেপুটে খেতাম; বিশেষ করে সেই সংখ্যাগুলো যেগুলোতে রাকা থাকতো -- পুরো বই জুড়ে টানটান উত্তেজনা অনুভব করতাম। অনেক বয়সেও আমি লুকিয়ে লুকিয়ে এই সব কমিকস পড়েছি। সাহারা টিভি চ্যানেলে চাচা চৌধুরীকে নিয়ে একটা টিভি সিরিয়াল হতো, অভিনতাদের স্থির চিত্র জুড়ে জুড়ে সেই গল্পগুলোও কমিকসের আকারে পরে বেরিয়েছে; সেগুলিও আমি পড়ে দেখেছি তবে তাতে প্রাণের ছোঁয়া পাইনি। যাই হোক, এই সমস্ত ডায়মন্ড কমিকসের প্রতি আমার ভালবাসার একটা উদাহরণ দিই।
তখন বোধহয় আমি ক্লাস ওয়ানে পড়ি। তখন আমরা থাকতাম কসবায় একটা ভাঁড়া বাড়িতে। কসবা থেকে বিজন সেতু পেরলেই গড়িয়াহাট আর গড়িয়াহাটের মোড়ে, ঠিক 'আনন্দমেলা' দোকানটার সামনে, একটা অস্থায়ী কমিকসের বইয়ের দোকান ছিল। সেখান থেকে আমি কতো যে কমিকস কিনেছি তার ইয়ত্তা নেই। সেখান দিয়ে পেরোবার সময় আমি সব সময়ই (আর দাদা কখনো কখনো) কমিকস কিনে দেওয়ার জন্য বায়না ধরতাম। সব সময় তো আর বায়না পূরণ করা সম্ভব নয় (হয়তো উচিৎও নয়) তাই বাবা একবার কিছুতেই রাজি হচ্ছিলেন না, এদিকে আমিও নাছোড়বান্দা। শেষপর্যন্ত বাবা বললেন যে উনি বই কিনে দিতে পারেন একটি শর্তে -- পরেরবার যখন সবাই মিলে ধোসা খেতে যাওয়া হবে তখন কিন্তু যাকে বই কিনে দেওয়া হবে সে কিছু খেতে পাবে না। সে সময় আমার আর দাদার কাছে ধোসা খাদ্যবস্তুটা ছিল অমৃতসমান। দাদা ধোসা খেতে রাজি হলেও আমি বললাম যে আমি কমিকসই কিনবো, তার জন্যে এক বেলা ভুখা থাকতেও আমি রাজি। অগত্যা বাবা আমাকে একটা চাচা চৌধুরীর কমিকস কিনে দিলেন। বাড়ি এসে আমি বইটা পড়া শেষ করে তারপর থেকে বইটা সর্বদা বগলদাবা করে ঘুরতাম। যদ্দূর সম্ভব, বইটা বালিশের তলায় রেখে ঘুমোতামও। ভাবছেন আমি বুঝি এতোই ভালবাসতাম কমিকসের বইগুলিকে? আরে না না, আমি বইটা হাতছাড়া করছিলাম না পাছে দাদা বইটা পড়ে ফেলে -- এই ভয়ে; দাদা বইটাও পড়বে আবার ধোসাও খেতে পাবে, এটা আমি কিছুতেই সহ্য করতে পারছিলাম না। বইটা পড়ার জন্য দাদার শত অনুনয় বিনয়েও যখন আমার মন গললো না তখন বাবাকেই মধ্যস্থতা করার জন্য আমাকেও ধোসা খাওয়াবার প্রতিশ্রুতি দিতে হল। অবশেষে দাদাকে আমি বইটা পড়তে দিই।
পুনশ্চ: আচ্ছা, রাকা তো সেই চক্রম আচার্যের ওষুধ খেয়ে অমর হয়ে গেছিল। শেষ পর্যন্ত রাকার কি হাল হয়েছিল আপনারা জানেন কি? আমার তো জানতে ভীষণ কৌতূহল হচ্ছে।
কার্টুনিস্ট প্রাণ মারা গেছেন শুনে বড় দুঃখ পেলাম। ওনার সৃষ্ট চরিত্রগুলি -- চাচা চৌধুরী, সাবু, বিল্লু, পিঙ্কি, রমন, চান্নি চাচী -- আজও আমার স্মৃতিতে উজ্জ্বল। এক সময় এরা ছিল আমার নিত্যকার সঙ্গী, এদের এক একটা বই আমি পাঁচ ছয়বার করে অন্তত পড়তাম। এদের মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় চরিত্র ছিল অবশ্যই চাচা চৌধুরী, যার মগজ কম্পিউটারের চেয়েও প্রখর। চাচা চৌধুরীর সব গল্পই, যাকে বলে, চেটেপুটে খেতাম; বিশেষ করে সেই সংখ্যাগুলো যেগুলোতে রাকা থাকতো -- পুরো বই জুড়ে টানটান উত্তেজনা অনুভব করতাম। অনেক বয়সেও আমি লুকিয়ে লুকিয়ে এই সব কমিকস পড়েছি। সাহারা টিভি চ্যানেলে চাচা চৌধুরীকে নিয়ে একটা টিভি সিরিয়াল হতো, অভিনতাদের স্থির চিত্র জুড়ে জুড়ে সেই গল্পগুলোও কমিকসের আকারে পরে বেরিয়েছে; সেগুলিও আমি পড়ে দেখেছি তবে তাতে প্রাণের ছোঁয়া পাইনি। যাই হোক, এই সমস্ত ডায়মন্ড কমিকসের প্রতি আমার ভালবাসার একটা উদাহরণ দিই।
তখন বোধহয় আমি ক্লাস ওয়ানে পড়ি। তখন আমরা থাকতাম কসবায় একটা ভাঁড়া বাড়িতে। কসবা থেকে বিজন সেতু পেরলেই গড়িয়াহাট আর গড়িয়াহাটের মোড়ে, ঠিক 'আনন্দমেলা' দোকানটার সামনে, একটা অস্থায়ী কমিকসের বইয়ের দোকান ছিল। সেখান থেকে আমি কতো যে কমিকস কিনেছি তার ইয়ত্তা নেই। সেখান দিয়ে পেরোবার সময় আমি সব সময়ই (আর দাদা কখনো কখনো) কমিকস কিনে দেওয়ার জন্য বায়না ধরতাম। সব সময় তো আর বায়না পূরণ করা সম্ভব নয় (হয়তো উচিৎও নয়) তাই বাবা একবার কিছুতেই রাজি হচ্ছিলেন না, এদিকে আমিও নাছোড়বান্দা। শেষপর্যন্ত বাবা বললেন যে উনি বই কিনে দিতে পারেন একটি শর্তে -- পরেরবার যখন সবাই মিলে ধোসা খেতে যাওয়া হবে তখন কিন্তু যাকে বই কিনে দেওয়া হবে সে কিছু খেতে পাবে না। সে সময় আমার আর দাদার কাছে ধোসা খাদ্যবস্তুটা ছিল অমৃতসমান। দাদা ধোসা খেতে রাজি হলেও আমি বললাম যে আমি কমিকসই কিনবো, তার জন্যে এক বেলা ভুখা থাকতেও আমি রাজি। অগত্যা বাবা আমাকে একটা চাচা চৌধুরীর কমিকস কিনে দিলেন। বাড়ি এসে আমি বইটা পড়া শেষ করে তারপর থেকে বইটা সর্বদা বগলদাবা করে ঘুরতাম। যদ্দূর সম্ভব, বইটা বালিশের তলায় রেখে ঘুমোতামও। ভাবছেন আমি বুঝি এতোই ভালবাসতাম কমিকসের বইগুলিকে? আরে না না, আমি বইটা হাতছাড়া করছিলাম না পাছে দাদা বইটা পড়ে ফেলে -- এই ভয়ে; দাদা বইটাও পড়বে আবার ধোসাও খেতে পাবে, এটা আমি কিছুতেই সহ্য করতে পারছিলাম না। বইটা পড়ার জন্য দাদার শত অনুনয় বিনয়েও যখন আমার মন গললো না তখন বাবাকেই মধ্যস্থতা করার জন্য আমাকেও ধোসা খাওয়াবার প্রতিশ্রুতি দিতে হল। অবশেষে দাদাকে আমি বইটা পড়তে দিই।
পুনশ্চ: আচ্ছা, রাকা তো সেই চক্রম আচার্যের ওষুধ খেয়ে অমর হয়ে গেছিল। শেষ পর্যন্ত রাকার কি হাল হয়েছিল আপনারা জানেন কি? আমার তো জানতে ভীষণ কৌতূহল হচ্ছে।
Friday, August 8, 2014
আজ ২২শে শ্রাবণ, সেই উপলক্ষে একটা ছোট্ট গল্প।
কবিগুরুর কবিতার একটা অংশ পড়াচ্ছেন দাদাদের সেই বাংলার স্যার:
"সাত কোটি সন্তানেরে হে মুগ্ধ জননী, রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করনি !"
আজ কেন এমনটা হলো তা বোঝাবার জন্যে স্যার এই কারণটা বলেছিলেন: "আজকালকার মায়েরা কি চায় জানিস? পাশের বাড়ির ছেলে হবে নেতাজি (সুভাষচন্দ্র বসু) আর আমার ছেলে নেতাজির উপর রচনা লিখে ফার্স্ট প্রাইজ পাবে।"
কবিগুরুর কবিতার একটা অংশ পড়াচ্ছেন দাদাদের সেই বাংলার স্যার:
"সাত কোটি সন্তানেরে হে মুগ্ধ জননী, রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করনি !"
আজ কেন এমনটা হলো তা বোঝাবার জন্যে স্যার এই কারণটা বলেছিলেন: "আজকালকার মায়েরা কি চায় জানিস? পাশের বাড়ির ছেলে হবে নেতাজি (সুভাষচন্দ্র বসু) আর আমার ছেলে নেতাজির উপর রচনা লিখে ফার্স্ট প্রাইজ পাবে।"
Wednesday, August 6, 2014
দু' দিন আগে বাংলা থেকে ইংরিজীতে অনুবাদ করা নিয়ে একটা বক্তব্য রেখেছিলাম। সেই পরিপ্রেক্ষিতে একটা ঘটনা মনে পড়ে গেল।
পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশনে দাদাদের ব্যাচকে বাংলার স্যার সাধু থেকে চলিত ভাষায় রূপান্তরিত করতে দিয়েছেন: "দ্যুমরাজ গর্জিলা কহিলেন ... ।"
এক ছাত্র এর উত্তরে লিখেছে: "দ্যুমরাজ গর্জিলার মতো গর্জন করে বললেন ... ।"
পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশনে দাদাদের ব্যাচকে বাংলার স্যার সাধু থেকে চলিত ভাষায় রূপান্তরিত করতে দিয়েছেন: "দ্যুমরাজ গর্জিলা কহিলেন ... ।"
এক ছাত্র এর উত্তরে লিখেছে: "দ্যুমরাজ গর্জিলার মতো গর্জন করে বললেন ... ।"
Monday, August 4, 2014
মিশন: পর্ব ১
এটা মিশনের স্কুলের ঘটনা। স্কুলটি সম্পূর্ণ আবাসিক হওয়ার দরুণ সমস্ত ছাত্রকে একসাথে থাকতে হয়। একদিন এক ছাত্রের কোনো কারণে দিনটি ভালো যাচ্ছিল না; সে স্নান করতে করতে হঠাৎ চেঁচিয়ে ওঠে: "ভগবান, তুমি একটা ****।" (গালাগালটা ঠিক কি ছিল, সেটা আর বিশদে লিখলাম না -- এই গল্পে সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। পাঠকরা ইচ্ছে হলে নিজেদের পছন্দমতো কিছু একটা বসিয়ে নিতে পারেন।) দিনটা যে মন্দ থেকে মন্দতর দিকে মোড় নেবে সেটা এই ছাত্রের জানা ছিল না। স্নান করে বেরোতেই ঘনশ্যাম নামে এক ছাত্র তাকে কিল চড় মারতে শুরু করে দিল। নাদুসনুদুস চেহারার ঘনশ্যামকে সকলে শান্ত প্রকৃতির ছেলে বলেই জানতো, তার এহেন আচরণে সকলেই হতবাক। সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত এই আক্রমণ পূর্বের ছেলেটি কোনো ভাবে প্রতিরোধ পর্যন্ত করতে পারলো না। পরে বন্ধুদের মধ্যে এই নিয়ে বিস্তর আলোচনা, কেন ঘনশ্যাম এভাবে রিআক্ট করলো। বেশির ভাগের মত যে ঘনশ্যাম নিশ্চয় ভীষণ ধার্মিক তাই ভগবানের অপমান সে মেনে নিতে পারেনি। ঘনশ্যাম এদিকে মুখে কুলুপ এঁটে রেখেছে। অনেক পরে অবশ্য আমরা তার এই আচরণের কারণ জানতে পেরেছিলাম -- ঘনশ্যামের বাবার নাম "ভগবান"।
এটা মিশনের স্কুলের ঘটনা। স্কুলটি সম্পূর্ণ আবাসিক হওয়ার দরুণ সমস্ত ছাত্রকে একসাথে থাকতে হয়। একদিন এক ছাত্রের কোনো কারণে দিনটি ভালো যাচ্ছিল না; সে স্নান করতে করতে হঠাৎ চেঁচিয়ে ওঠে: "ভগবান, তুমি একটা ****।" (গালাগালটা ঠিক কি ছিল, সেটা আর বিশদে লিখলাম না -- এই গল্পে সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। পাঠকরা ইচ্ছে হলে নিজেদের পছন্দমতো কিছু একটা বসিয়ে নিতে পারেন।) দিনটা যে মন্দ থেকে মন্দতর দিকে মোড় নেবে সেটা এই ছাত্রের জানা ছিল না। স্নান করে বেরোতেই ঘনশ্যাম নামে এক ছাত্র তাকে কিল চড় মারতে শুরু করে দিল। নাদুসনুদুস চেহারার ঘনশ্যামকে সকলে শান্ত প্রকৃতির ছেলে বলেই জানতো, তার এহেন আচরণে সকলেই হতবাক। সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত এই আক্রমণ পূর্বের ছেলেটি কোনো ভাবে প্রতিরোধ পর্যন্ত করতে পারলো না। পরে বন্ধুদের মধ্যে এই নিয়ে বিস্তর আলোচনা, কেন ঘনশ্যাম এভাবে রিআক্ট করলো। বেশির ভাগের মত যে ঘনশ্যাম নিশ্চয় ভীষণ ধার্মিক তাই ভগবানের অপমান সে মেনে নিতে পারেনি। ঘনশ্যাম এদিকে মুখে কুলুপ এঁটে রেখেছে। অনেক পরে অবশ্য আমরা তার এই আচরণের কারণ জানতে পেরেছিলাম -- ঘনশ্যামের বাবার নাম "ভগবান"।
Sunday, August 3, 2014
সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের "লোটা কম্বল" বইটির প্রথম পৃষ্ঠা থেকে গৃহীত:
"স্কুলের প্রধান শিক্ষক মশাই ক্লাসে এসে ... শম্ভু সাঁতরার দিকে কটমট করে তাকিয়ে বলতেন, উঠে দাঁড়া। শম্ভু কলের পুতুলের মত উঠে দাঁড়াত। ইংরিজী কর, রামেরা দুই ভাই। শম্ভু বার কতক রাম নাম করে চেত্তা খাওয়া ঘুড়ির মত একপাশে কেতরে পড়ত। সেই বয়েসেই বুঝেছিলুম, ত্রেতায় রাম নামের যথেষ্ট পাওয়ার থাকলেও কলির শেষপাদে একেবারেই শক্তিহীন; কারণ এর পরেই হেডমাস্টার মশাই শম্ভুর পিঠে লিকলিকে বেত দিয়ে সপাসপ আঁচড় কাটতে শুরু করেছেন।"
স্কুলে থাকতে এই বই পড়ে ভীষণ আনন্দ পেয়েছি, এখনও মাঝে মাঝে বইটার পাতা ওল্টাই। তবে তখন থেকেই একটা ব্যাপার মনের ভেতর খচখচ করতো -- সত্যিই তো, "রামেরা দুই ভাই" -- এর ইংরিজী অনুবাদটা ঠিক কি? ভাগ্যিস স্কুলে থাকতে কোনো টিচার আমাকে এই প্রশ্নটা করেনি, নইলে তো আমিও পারতাম না। পিএইচডি-তে ঢুকে অবশেষে মনে হচ্ছে কৃতকার্য হতে পেরেছি; "রামেরা দুই ভাই"-এর ইংরিজী অনুবাদ হল: "Ram et al. are two brothers."
কি, ঠিক লিখেছি তো?
"স্কুলের প্রধান শিক্ষক মশাই ক্লাসে এসে ... শম্ভু সাঁতরার দিকে কটমট করে তাকিয়ে বলতেন, উঠে দাঁড়া। শম্ভু কলের পুতুলের মত উঠে দাঁড়াত। ইংরিজী কর, রামেরা দুই ভাই। শম্ভু বার কতক রাম নাম করে চেত্তা খাওয়া ঘুড়ির মত একপাশে কেতরে পড়ত। সেই বয়েসেই বুঝেছিলুম, ত্রেতায় রাম নামের যথেষ্ট পাওয়ার থাকলেও কলির শেষপাদে একেবারেই শক্তিহীন; কারণ এর পরেই হেডমাস্টার মশাই শম্ভুর পিঠে লিকলিকে বেত দিয়ে সপাসপ আঁচড় কাটতে শুরু করেছেন।"
স্কুলে থাকতে এই বই পড়ে ভীষণ আনন্দ পেয়েছি, এখনও মাঝে মাঝে বইটার পাতা ওল্টাই। তবে তখন থেকেই একটা ব্যাপার মনের ভেতর খচখচ করতো -- সত্যিই তো, "রামেরা দুই ভাই" -- এর ইংরিজী অনুবাদটা ঠিক কি? ভাগ্যিস স্কুলে থাকতে কোনো টিচার আমাকে এই প্রশ্নটা করেনি, নইলে তো আমিও পারতাম না। পিএইচডি-তে ঢুকে অবশেষে মনে হচ্ছে কৃতকার্য হতে পেরেছি; "রামেরা দুই ভাই"-এর ইংরিজী অনুবাদ হল: "Ram et al. are two brothers."
কি, ঠিক লিখেছি তো?
Friday, August 1, 2014
কলেজে আমার এক সুদর্শন ব্যাচমেট ছিল। তার ছিল অভিনয়ের শখ। তাকে একবার আমি গিরীশ মঞ্চে অভিনয় করতেও দেখেছি। এই সব কাজে ব্যস্ত থাকার দরুণ সে মাঝে মাঝেই ক্লাস মিস করতো। একবার এক সাবজেক্টের viva চলছে, viva নিচ্ছেন আই.টি. ডিপার্টমেন্টের HoD -- তিনি আবার ভীষণ রাগি। স্বাভাবিক ভাবেই ক্লাসে অনুপস্থিতির ফলে আমার সেই বন্ধুটির প্রস্তুতি অতি সামান্য। তার উপর আবার কম উপস্থিতির হারের জন্যে তিরস্কার তো কপালে আছেই। যথা সময়ে তার পালা এলে পর সে সেই সাবজেক্টের বইটা হাতে নিয়েই স্যারের রুমে ঢুকে পড়লো। আমরা তো অবাক। কিছুক্ষণ পরে বেরিয়ে এসে তার মুখে হাসি দেখে তো আমাদের চোখ ছানাবড়া। তাকে সবাই মিলে ছেঁকে ধরায় সে যা বললো, সেই জবানীটা ছিল অনেকটা এই রকম:
"বুঝতেই পারছিস আমার প্রিপারেশন বলতে কিছুই ছিল না। তাই দুগ্গা বলে সাবজেক্টের বইটা হাতে নিয়েই স্যারের রুমে ঢুকে পড়লাম। ঢুকেই প্রথমে স্যারের সামনে কেঁদে ফেললাম। স্যারকে বললাম --
"আমি খুব গরিব ঘরের ছেলে। বাবা বলে দিয়েছে আর আমার পড়ার খরচা জোগান দিনে পারবেন না। তাই রোজগারের চেষ্টায় একটা ব্যবসা শুরু করেছি -- রোজ তার পেছনেই অনেকটা সময় ব্যয় করতে হয়, ক্লাসেও তাই নিয়মিত আসতে পারিনা। আমি স্বীকার করছি যে আপনার সাবজেক্টটা আমি ভালো জানি না, তবে বিশ্বাস করুন স্যার, আমি এই বিষয়টা সত্যি সত্যি ভালো করে শিখতে চাই। সেই কারণে আমি বইটাও সঙ্গে করে নিয়ে এসেছি -- আপনি যদি দয়া করে ইম্পর্টান্ট চ্যাপ্টারগুলো দাগ দিয়ে দেন তাহলে আমার বড় উপকার হয়।"
স্যার তো পুরো গলে জল। বইয়ে দাগ দিলেন, সাথে এটাও বললেন যে উনি বোঝেন আমাকে কতো প্রতিকূলতার মধ্যে পড়াশুনা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। আমার মতো ছেলেরাই নাকি দেশের ভবিষ্যত। -- আশা করি ধরতেই পেরেছিস, আসলে সবটাই আমার অসাধারণ অভিনয়ের ফল।"
এই বলে আমার বন্ধুর মুখের হাসিটা আরো চওড়া হয়ে গেল।
"বুঝতেই পারছিস আমার প্রিপারেশন বলতে কিছুই ছিল না। তাই দুগ্গা বলে সাবজেক্টের বইটা হাতে নিয়েই স্যারের রুমে ঢুকে পড়লাম। ঢুকেই প্রথমে স্যারের সামনে কেঁদে ফেললাম। স্যারকে বললাম --
"আমি খুব গরিব ঘরের ছেলে। বাবা বলে দিয়েছে আর আমার পড়ার খরচা জোগান দিনে পারবেন না। তাই রোজগারের চেষ্টায় একটা ব্যবসা শুরু করেছি -- রোজ তার পেছনেই অনেকটা সময় ব্যয় করতে হয়, ক্লাসেও তাই নিয়মিত আসতে পারিনা। আমি স্বীকার করছি যে আপনার সাবজেক্টটা আমি ভালো জানি না, তবে বিশ্বাস করুন স্যার, আমি এই বিষয়টা সত্যি সত্যি ভালো করে শিখতে চাই। সেই কারণে আমি বইটাও সঙ্গে করে নিয়ে এসেছি -- আপনি যদি দয়া করে ইম্পর্টান্ট চ্যাপ্টারগুলো দাগ দিয়ে দেন তাহলে আমার বড় উপকার হয়।"
স্যার তো পুরো গলে জল। বইয়ে দাগ দিলেন, সাথে এটাও বললেন যে উনি বোঝেন আমাকে কতো প্রতিকূলতার মধ্যে পড়াশুনা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। আমার মতো ছেলেরাই নাকি দেশের ভবিষ্যত। -- আশা করি ধরতেই পেরেছিস, আসলে সবটাই আমার অসাধারণ অভিনয়ের ফল।"
এই বলে আমার বন্ধুর মুখের হাসিটা আরো চওড়া হয়ে গেল।
Wednesday, July 30, 2014
এক নেতা ভোটে জয়ী হয়ে নিজের এলাকার অধিবাসীদের জলের সমস্যা দূর করার জন্যে একটি পুকুর খনন করার সিদ্ধান্ত নিলেন। সেই বাবদ সরকারের থেকে তিনি কিছু অর্থ সাহায্য চাইলেন। সরকার সেই টাকা অনুমোদনও করলো।
পরের বার আরেক নেতা সেই এলাকায় জয়ী হয়ে সরকারকে জানালেন যে পুকুরটি হয়ে উঠেছে মশা মাছি উৎপাদনের কারখানা, তাই অবিলম্বে সেই পুকুরকে বুজিয়ে ফেলার জন্যে সরকারের কিছু অর্থ ব্যয় করা উচিৎ। সরকার এবারও কিছু টাকা অনুমোদন করলো।
এর পরের বার সেই এলাকা থেকে তৃতীয় এক নেতা জয়ী হয়ে সরকারের কাছে পুনর্বার পুকুর খনন করার আর্জি জানান। সরকার এবারে একটু নড়েচড়ে বসলো, একই জায়গায় বারবার পুকুর খোঁড়া আর বোজানো ইয়ার্কির ব্যাপার নাকি। তাই সরকার এবারে তদন্তের জন্যে কিছু লোক পাঠালেন এটা জানার জন্যে যে এলাকার বেশির ভাগ লোক পুকুর চায় নাকি চায় না।
তদন্ত করতে এসে সরকারী অফিসাররা যা শুনলেন তাতে তো তাদের চক্ষু চড়কগাছ -- সেই এলাকায় কস্মিন কালেও কোনো পুকুর ছিল না। পরে বোঝা গেল যে নেতাদের প্ররোচনায় -- পুকুর খনন ও বোজানো -- সমস্ত কার্যই হয়েছে শুধুমাত্র সেই এলাকার ম্যাপের উপর।
পরের বার আরেক নেতা সেই এলাকায় জয়ী হয়ে সরকারকে জানালেন যে পুকুরটি হয়ে উঠেছে মশা মাছি উৎপাদনের কারখানা, তাই অবিলম্বে সেই পুকুরকে বুজিয়ে ফেলার জন্যে সরকারের কিছু অর্থ ব্যয় করা উচিৎ। সরকার এবারও কিছু টাকা অনুমোদন করলো।
এর পরের বার সেই এলাকা থেকে তৃতীয় এক নেতা জয়ী হয়ে সরকারের কাছে পুনর্বার পুকুর খনন করার আর্জি জানান। সরকার এবারে একটু নড়েচড়ে বসলো, একই জায়গায় বারবার পুকুর খোঁড়া আর বোজানো ইয়ার্কির ব্যাপার নাকি। তাই সরকার এবারে তদন্তের জন্যে কিছু লোক পাঠালেন এটা জানার জন্যে যে এলাকার বেশির ভাগ লোক পুকুর চায় নাকি চায় না।
তদন্ত করতে এসে সরকারী অফিসাররা যা শুনলেন তাতে তো তাদের চক্ষু চড়কগাছ -- সেই এলাকায় কস্মিন কালেও কোনো পুকুর ছিল না। পরে বোঝা গেল যে নেতাদের প্ররোচনায় -- পুকুর খনন ও বোজানো -- সমস্ত কার্যই হয়েছে শুধুমাত্র সেই এলাকার ম্যাপের উপর।
Monday, July 28, 2014
Sunday, July 27, 2014
স্যার: "Programming জানো নিশ্চয়ই। কোনো program লিখতে দিলে C-তে লিখতে পারবে?"
ছাত্র: "পারলে পারবো।"
স্যার: "পারলে পারবো -- মানেটা কি? না পারলে চেষ্টাই করবে না?"
ছাত্র: "হ্যাঁ স্যার, পারলে পারবো।"
স্যার: "তুমি কি আমার সাথে মস্করা করছো?"
ছাত্র: "না, স্যার। আসলে আমি C ভালো জানি না, সেই তুলনায় Perl ভালো জানি। তাই বলছি, Perl-এ পারবো।"
ছাত্র: "পারলে পারবো।"
স্যার: "পারলে পারবো -- মানেটা কি? না পারলে চেষ্টাই করবে না?"
ছাত্র: "হ্যাঁ স্যার, পারলে পারবো।"
স্যার: "তুমি কি আমার সাথে মস্করা করছো?"
ছাত্র: "না, স্যার। আসলে আমি C ভালো জানি না, সেই তুলনায় Perl ভালো জানি। তাই বলছি, Perl-এ পারবো।"
Sunday, July 13, 2014
আমি আমার চরিত্রদের নাম অনেক ক্ষেত্রেই পাল্টে দিই তাদের গোপনীয়তা রক্ষা
করার স্বার্থে। কিন্তু এক্ষেত্রে চরিত্রের ফার্স্ট নেম পাল্টানো গেলেও
লাস্ট নেম পাল্টানো যাবে না -- কারণ ঘটনাটা তার লাস্ট নেম নিয়েই। আজকের
চরিত্রের নাম -- মাধব হাতি। এই 'হাতি' পদবীটির জন্যেই সে বন্ধুমহলে ছোটবেলা
থেকেই হাসির পাত্র। তাই বড় হওয়ার পরেও কেউ তার নাম জিজ্ঞেস করলে সে শুধু
'মাধব'-টুকুই বলে, নিজের পদবীকে পারতপক্ষে সে এড়িয়েই চলে। একদিন কলেজে এক
স্যার তার নাম জিজ্ঞেস করলে পর সে অভ্যাশবশতঃ বলে: "মাধব"। স্যারের কোনো
কারণে পুরো নামটাই জানার ইচ্ছে ছিলো, উনি বলেন: "মাধব কি? তোমার টাইটেল
হাতি-ঘোড়া কিছু তো একটা আছে নাকি?"
Saturday, July 12, 2014
সৌরাশিসদা নিজের ডেস্কে বসে কাজ করছে। এমন সময় খুব অল্প মেয়াদের মধ্যেই তার চোখের সামনে তিনটি দৃশ্য সঙ্ঘটিত হয়।
১ম দৃশ্য: একটা বই ধপাস করে তার পাসে মেঝেতে এসে পড়লো। (পাঠকদের জানিয়ে রাখি বইটি ছিলো রবার্ট ল্যাফোরের লেখা, C++-এর উপর।)
২য় দৃশ্য: এক ছাত্র কাঁদো কাঁদো মুখে এসে বইটি তুলে নিয়ে চলে গেলো।
৩য় দৃশ্য: স্যার হনহন করে পাশে পায়চারি করতে শুরু করলেন আর গজগজ করে নিজেকেই বলছেন: "কোথা থেকে এই সব ল্যাফোর না লোফারের বই জোগাড় করে এনে এখন আমাকে শেখাচ্ছে? হয় ও (ছাত্রটি) C++ জানে, নয় আমি C++ জানি -- আমাদের জ্ঞানের কোনো overlap নেই।"
*******************
এই জোকটা মূলতঃ কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্টদের জন্য।
আমাদের ডিপার্টমেন্টের সবচেয়ে প্রবীণ ছাত্র সৌরভদা একদিন কথায় কথায় বললো যে আমাদের মতো সৌরভদা কিন্তু B.Tech.-এর সময় C++ বা Java শেখেনি। এটা শুনে এক জুনিয়র জিজ্ঞাসা করে তার কারণ কি সৌরভদাদের সময় "Object-oriented programming" কনসেপ্টটাই আবিষ্কৃত হয়নি। সৌরভদা লজ্জা এবং রাগমিশ্রিত উত্তর দেয়: "না না, আমি তোদের থেকে অতোটাও বড় নই।"
১ম দৃশ্য: একটা বই ধপাস করে তার পাসে মেঝেতে এসে পড়লো। (পাঠকদের জানিয়ে রাখি বইটি ছিলো রবার্ট ল্যাফোরের লেখা, C++-এর উপর।)
২য় দৃশ্য: এক ছাত্র কাঁদো কাঁদো মুখে এসে বইটি তুলে নিয়ে চলে গেলো।
৩য় দৃশ্য: স্যার হনহন করে পাশে পায়চারি করতে শুরু করলেন আর গজগজ করে নিজেকেই বলছেন: "কোথা থেকে এই সব ল্যাফোর না লোফারের বই জোগাড় করে এনে এখন আমাকে শেখাচ্ছে? হয় ও (ছাত্রটি) C++ জানে, নয় আমি C++ জানি -- আমাদের জ্ঞানের কোনো overlap নেই।"
*******************
এই জোকটা মূলতঃ কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্টদের জন্য।
আমাদের ডিপার্টমেন্টের সবচেয়ে প্রবীণ ছাত্র সৌরভদা একদিন কথায় কথায় বললো যে আমাদের মতো সৌরভদা কিন্তু B.Tech.-এর সময় C++ বা Java শেখেনি। এটা শুনে এক জুনিয়র জিজ্ঞাসা করে তার কারণ কি সৌরভদাদের সময় "Object-oriented programming" কনসেপ্টটাই আবিষ্কৃত হয়নি। সৌরভদা লজ্জা এবং রাগমিশ্রিত উত্তর দেয়: "না না, আমি তোদের থেকে অতোটাও বড় নই।"
Friday, July 11, 2014
র্যাগিং: পর্ব ২
এই র্যাগিংটির একটি বিশেষ নাম আছে: "চন্দ্র-সূর্য-পৃথিবী"। এর জন্যে প্রয়োজন তিনটি জুনিয়র -- গ্রহ, উপগ্রহ এবং নক্ষত্রের ভূমিকায়। যে সূর্য তার কোনো চাপ নেই, তাকে শুধু চুপ করে মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। যে পৃথিবী সে সূর্যের চারদিকে ঘুরবে, আর যে চন্দ্র সে পৃথিবীর চারদিকে ঘুরতে ঘুরতে সূর্যের চারদিকে ঘুরবে। মানে যেটা আমরা সকলেই ছোটবেলা থেকেই ভূগোলে পড়ে এসেছি সেটারই একটা ছোট ডেমনস্ট্রেশন দিতে হবে সিনিয়রদের সামনে। তবে ঘোরার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে জুনিয়রদের নিজেদের মধ্যে যেন ধাক্কা না লাগে, কোনো মহাজাগতিক সংঘর্ষ হওয়া মানেই কপালে রয়েছে ভয়ঙ্কর "প্রলয়"।
এরকমই এক চন্দ্র-সূর্য-পৃথিবী অভিনয়ের মাঝে যে চন্দ্র সে হাঁপিয়ে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছে।
সিনিয়র: "কিরে, দাঁড়ালি কেন?"
চন্দ্র: "এখন চন্দ্রগ্রহণ চলছে।"
সিনিয়র: "না না, এখানে গ্রহণ-ট্রহণ হয় না। তুই ঘুরতে থাক।"
কিছুক্ষণ পর চন্দ্র আবার দাঁড়িয়ে পড়েছে।
সিনিয়র: "আবার কি হলো?"
চন্দ্র: "পৃথিবী বছরের হিসেবে সূর্যের চারদিকে ঘুরছে। কিন্তু দিনের হিসেবে নিজের কক্ষে তো কই ঘুরছে না? তাই ওকে প্রদক্ষিণ করার সময় দিন-রাতটা ঠিক ঠাহর করতে পারছি না।"
এই র্যাগিংটির একটি বিশেষ নাম আছে: "চন্দ্র-সূর্য-পৃথিবী"। এর জন্যে প্রয়োজন তিনটি জুনিয়র -- গ্রহ, উপগ্রহ এবং নক্ষত্রের ভূমিকায়। যে সূর্য তার কোনো চাপ নেই, তাকে শুধু চুপ করে মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। যে পৃথিবী সে সূর্যের চারদিকে ঘুরবে, আর যে চন্দ্র সে পৃথিবীর চারদিকে ঘুরতে ঘুরতে সূর্যের চারদিকে ঘুরবে। মানে যেটা আমরা সকলেই ছোটবেলা থেকেই ভূগোলে পড়ে এসেছি সেটারই একটা ছোট ডেমনস্ট্রেশন দিতে হবে সিনিয়রদের সামনে। তবে ঘোরার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে জুনিয়রদের নিজেদের মধ্যে যেন ধাক্কা না লাগে, কোনো মহাজাগতিক সংঘর্ষ হওয়া মানেই কপালে রয়েছে ভয়ঙ্কর "প্রলয়"।
এরকমই এক চন্দ্র-সূর্য-পৃথিবী অভিনয়ের মাঝে যে চন্দ্র সে হাঁপিয়ে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছে।
সিনিয়র: "কিরে, দাঁড়ালি কেন?"
চন্দ্র: "এখন চন্দ্রগ্রহণ চলছে।"
সিনিয়র: "না না, এখানে গ্রহণ-ট্রহণ হয় না। তুই ঘুরতে থাক।"
কিছুক্ষণ পর চন্দ্র আবার দাঁড়িয়ে পড়েছে।
সিনিয়র: "আবার কি হলো?"
চন্দ্র: "পৃথিবী বছরের হিসেবে সূর্যের চারদিকে ঘুরছে। কিন্তু দিনের হিসেবে নিজের কক্ষে তো কই ঘুরছে না? তাই ওকে প্রদক্ষিণ করার সময় দিন-রাতটা ঠিক ঠাহর করতে পারছি না।"
Thursday, July 10, 2014
র্যাগিং সততই নিন্দনীয়। তবুও কিছু কিছু র্যাগিঙের অভিনবত্ব বা সেই সংক্রান্ত ঘটনা যে কখনো কখনো কৌতুকের সৃষ্টি করে একথাও অনস্বীকার্য। র্যাগিঙে অংশগ্রহণকারী জুনিয়রদের সেই মুহূর্তগুলি সেই মুহূর্তে দুর্বিষহ মনে হলেও বোধ করি ভবিষত্যে তারা নিজেরাও সেই ঘটনাগুলি নিয়ে ইয়ার্কি ঠাট্টা করে থাকেন। এই ধরণেরই কিছু ঘটনা র্যাগিঙের বিভিন্ন পর্বে সংকলিত হলো।
র্যাগিং: পর্ব ১
বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষের একটি ছেলেকে সিনিয়ররা নির্দেশ দিয়েছে মাঠে গিয়ে উপুড় হয়ে শুয়ে থাকতে, তার সাথে এটাও শিখিয়ে দিয়েছে কেউ যদি এভাবে শুয়ে থাকার কারণ জিজ্ঞেস করে তাহলে তাকে কি উত্তর দিতে হবে। মাঠের মধ্যে উপুড় হয়ে এই ছাত্রটিকে শুয়ে থাকতে দেখে এক গার্জেনের মনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। ছাত্রটির কাছে গিয়ে তিনি জিজ্ঞেস করেন: "বাবা, তুমি এভাবে শুয়ে আছো কেন? তোমার কি শরীর খারাপ লাগছে?" ছাত্রটি তৎক্ষনাৎ সিনিয়রদের শেখানো বুলিটি আউড়ে দেয়: "আমাকে বিরক্ত করবেন না। আমি এখন ধরণীর বুক থেকে দুগ্ধ পান করছি।" গার্জেনটি এই উত্তর শুনে কি বলবেন ভেবে না পেয়ে সেখান থেকে, যাকে বলে, মানে মানে কেটে পড়লেন।
র্যাগিং: পর্ব ১
বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষের একটি ছেলেকে সিনিয়ররা নির্দেশ দিয়েছে মাঠে গিয়ে উপুড় হয়ে শুয়ে থাকতে, তার সাথে এটাও শিখিয়ে দিয়েছে কেউ যদি এভাবে শুয়ে থাকার কারণ জিজ্ঞেস করে তাহলে তাকে কি উত্তর দিতে হবে। মাঠের মধ্যে উপুড় হয়ে এই ছাত্রটিকে শুয়ে থাকতে দেখে এক গার্জেনের মনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। ছাত্রটির কাছে গিয়ে তিনি জিজ্ঞেস করেন: "বাবা, তুমি এভাবে শুয়ে আছো কেন? তোমার কি শরীর খারাপ লাগছে?" ছাত্রটি তৎক্ষনাৎ সিনিয়রদের শেখানো বুলিটি আউড়ে দেয়: "আমাকে বিরক্ত করবেন না। আমি এখন ধরণীর বুক থেকে দুগ্ধ পান করছি।" গার্জেনটি এই উত্তর শুনে কি বলবেন ভেবে না পেয়ে সেখান থেকে, যাকে বলে, মানে মানে কেটে পড়লেন।
Wednesday, July 9, 2014
Saturday, July 5, 2014
বহুদিন আগে এই ঘটনাটা পড়েছিলাম, যদ্দূর সম্ভব আনন্দবাজার পত্রিকার পাতায়। লেখাটা হুবহু তো আর মনে নেই, তাই সারাংশটা নিজের ভাষায় লিখছি।
এক ভদ্রলোক যাদবপুরে বাস থেকে নেমে একটি রিক্সায় উঠে বললেন যে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন। রিক্সাওলা জানায় যে সে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কোথায় জানে না। এই শুনে ভদ্রলোক অবাক হয়ে বলেন: "সে কি, যাদবপুর ইউনিভার্সিটি কোথায় জানো না?" রিক্সাওলা এবার নিশ্চিন্ত হয়ে বলে: "হ্যাঁ বাবু, জানি বইকি। আপনি আগেরবার বিশ্ববিদ্যালয় না কি বললেন না? আমরা মুখ্যু মানুষ আমাদেরকে সোজা বাংলায় বলবেন তো!"
***************************
এর অনুরূপ একটি ঘটনা ঘটেছে কিছুদিন আগে আমার বন্ধু সপ্তর্ষির পরিচিতদের সাথে।এক ভদ্রলোক যাদবপুরে বাস থেকে নেমে একটি রিক্সায় উঠে বললেন যে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন। রিক্সাওলা জানায় যে সে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কোথায় জানে না। এই শুনে ভদ্রলোক অবাক হয়ে বলেন: "সে কি, যাদবপুর ইউনিভার্সিটি কোথায় জানো না?" রিক্সাওলা এবার নিশ্চিন্ত হয়ে বলে: "হ্যাঁ বাবু, জানি বইকি। আপনি আগেরবার বিশ্ববিদ্যালয় না কি বললেন না? আমরা মুখ্যু মানুষ আমাদেরকে সোজা বাংলায় বলবেন তো!"
***************************
দুই ভদ্রমহিলা অনেকক্ষণ ধরে ট্যাক্সি খুঁজছেন। হঠাৎ একটা "No Refusal" ট্যাক্সি দেখতে পেয়ে ওনারা হাতে স্বর্গ পেলেন। নিশ্চিন্ত মনে একজন ভদ্রমহিলা ট্যাক্সির পেছনের দরজাটা খুলে বসতে গেলেন। ট্যাক্সি ড্রাইভার যথারীতি জিজ্ঞেস করলেন কোথায় যাবেন ওনারা। গন্তব্য শুনে ড্রাইভার বললেন যে উনি সেখানে যাবেন না। এই শুনে এক ভদ্রমহিলা অবাক হয়ে "No Refusal" প্রতীকটির দিকে ড্রাইভারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ড্রাইভার স্বাভাবিক গলায় উত্তর দেন যে উনি ভাড়ায় ট্যাক্সি চালান; গাড়ির মালিকের পছন্দ হয়েছে তাই হয়তো গাড়ির কোম্পানির নাম দিয়েছেন "No Refusal" -- এই নিয়ে ভদ্রমহিলার মাথাব্যথার কি কারণ থাকতে পারে সেটা ড্রাইভারটি বুঝতে পারছেন না।
Thursday, July 3, 2014
কিছুদিন আগে আমি আর জয়দা একটা রেস্টুরেন্টে দুপুরবেলায় খেতে গেছি। হেঁটে যাওয়ার ফলে দু'জনেই পুরো ঘেমে গেছিলাম। খাবারের প্লেট দিয়ে গেলে পর আলসেমি কাটিয়ে কারোরই আর উঠে গিয়ে বেসিনে হাত ধুতে ইচ্ছে করছিলো না। জয়দা তাই টেবিলের উপরেই জাগ থেকে জল নিয়ে হাতটা ধুয়ে ফেললো। আমি আসে পাশের লোকদের চাউনি দেখে বুঝলাম তারা জয়দার কান্ড দেখে ভাবছে জয়দা ভীষণ "uncultured"। আমি তাই জাগ থেকে হাতে জল নিয়ে হাতটা প্লেটের চারদিকে ঘুরিয়ে তারপর জলটা ফেললাম। লোকজন ভাবলো আমি নিশ্চয়ই ভীষণ ধার্মিক, খাবার আগে আচমন করে নিলাম।
(ইদানিং বিশ্বকাপ নিয়ে মেতে থাকার দরুণ লেখাটা মুলতুবি রেখেছিলাম। আজ খেলা নেই বলে সুযোগ পেয়ে গেলাম।)
(ইদানিং বিশ্বকাপ নিয়ে মেতে থাকার দরুণ লেখাটা মুলতুবি রেখেছিলাম। আজ খেলা নেই বলে সুযোগ পেয়ে গেলাম।)
Friday, June 27, 2014
ক্লাস ১১-১২তে পড়ার সময় আমি এক স্যারের বাড়িতে অঙ্কের টিউশন নিতে যেতাম। স্যারের নাম ছিলো -- "সুকুমার রায়"। উনি নিজে সর্বদা ফাউন্টেন পেনে লিখতেন এবং ওনার ক্লাসে ছাত্র ছাত্রীদেরও ফাউন্টেন পেন ব্যবহার করা ছিলো বাধ্যতামূলক। কেউ ডট পেন ব্যবহার করলেই তার কপালে জুটতো কানমলা। স্যরি, তার 'কানে' জুটতো কানমলা।
একদিন এক ছাত্র সাহস করে জিজ্ঞেস করেছিলো: "কিন্তু স্যার, ডট পেনও তো পেন?"
স্যার উত্তরে বলেছিলেন: "তাহলে তো তুই বলবি বনমানুষও মানুষ।"
আরেকদিন এক ছাত্রী ডট পেনের পক্ষ নিয়ে বলেছিলো: "স্যার, দেখেছেন এই ডট পেনটা কি সুন্দর দেখতে। কই, কোনো ফাউন্টেন পেনে তো এরকম নকশা থাকে না।"
এই কথা শুনে স্যার বলেছিলেন: "লতা মঙ্গেশকরকে মঞ্চে উঠে শুধু গানই গাইতে হয়; এখনকার গায়িকাদের কিন্তু শুধু গাইলে হয় না, সঙ্গে নাচতেও হয়।"
একদিন এক ছাত্র সাহস করে জিজ্ঞেস করেছিলো: "কিন্তু স্যার, ডট পেনও তো পেন?"
স্যার উত্তরে বলেছিলেন: "তাহলে তো তুই বলবি বনমানুষও মানুষ।"
আরেকদিন এক ছাত্রী ডট পেনের পক্ষ নিয়ে বলেছিলো: "স্যার, দেখেছেন এই ডট পেনটা কি সুন্দর দেখতে। কই, কোনো ফাউন্টেন পেনে তো এরকম নকশা থাকে না।"
এই কথা শুনে স্যার বলেছিলেন: "লতা মঙ্গেশকরকে মঞ্চে উঠে শুধু গানই গাইতে হয়; এখনকার গায়িকাদের কিন্তু শুধু গাইলে হয় না, সঙ্গে নাচতেও হয়।"
Wednesday, June 25, 2014
জোক শুনে আমার হাসি পায় ঠিকই, তবে অপ্রত্যাশিত ভাবে যখন কারুর প্রতিক্রিয়া
কোনো কৌতুকের সৃষ্টি করে -- তা দেখে আমার আনন্দ হয় অনেক বেশি। এই
পরিপ্রেক্ষিতে মীরাক্কেলে দেখা আমার সব চেয়ে হাসির মুহূর্তটা আপনাদের সাথে
আজ ভাগ করে নিচ্ছি।
তখন মীরাক্কেলে তিন খ্যাতনামা অভিনেতাকে মেন্টর বা 'হাসগুরু'-র পদ দেওয়া হয়েছিলো; এনারা হলেন -- পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ এবং কাঞ্চন মল্লিক। মীরাক্কেলের প্রতিযোগীদের তিন ভাগে ভাগ করে, প্রত্যেক মেন্টরকে একটি করে গ্রুপকে তালিম দেওয়ার দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছিলো। একদিন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের দলের এক প্রতিযোগী সর্বাধিক নম্বর পেয়ে "দিনের সেরা"-র শিরোপা লাভ করেন। এই সম্মান লাভ করে তার কেমন লাগছে জিজ্ঞেস করলে পর তিনি জানান: "আমার আজ খুব আনন্দ হচ্ছে। তবে এই আনন্দের মাঝেও এই কারণে দুঃখ হচ্ছে যে দাদা (পরমব্রত) আজ আমাদের মাঝে নেই।" এই শুনে মীর লাফিয়ে উঠে বলেন: "দাদা আছেন। দাদা আছেন। উনি আজ স্টুডিওতে আসতে পারেননি, তবে আপনি দুঃখ করবেন না কারণ দাদা আছেন।"
তখন মীরাক্কেলে তিন খ্যাতনামা অভিনেতাকে মেন্টর বা 'হাসগুরু'-র পদ দেওয়া হয়েছিলো; এনারা হলেন -- পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ এবং কাঞ্চন মল্লিক। মীরাক্কেলের প্রতিযোগীদের তিন ভাগে ভাগ করে, প্রত্যেক মেন্টরকে একটি করে গ্রুপকে তালিম দেওয়ার দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছিলো। একদিন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের দলের এক প্রতিযোগী সর্বাধিক নম্বর পেয়ে "দিনের সেরা"-র শিরোপা লাভ করেন। এই সম্মান লাভ করে তার কেমন লাগছে জিজ্ঞেস করলে পর তিনি জানান: "আমার আজ খুব আনন্দ হচ্ছে। তবে এই আনন্দের মাঝেও এই কারণে দুঃখ হচ্ছে যে দাদা (পরমব্রত) আজ আমাদের মাঝে নেই।" এই শুনে মীর লাফিয়ে উঠে বলেন: "দাদা আছেন। দাদা আছেন। উনি আজ স্টুডিওতে আসতে পারেননি, তবে আপনি দুঃখ করবেন না কারণ দাদা আছেন।"
Monday, June 23, 2014
আই.আই.টি.-তে পি.এইচ.ডি. পাঠনরত ছাত্রদের মধ্যে যারা বিবাহিত তারা যাতে পরিবারের সাথে থাকতে পারে সে জন্যে কিছু নির্দিষ্ট হোস্টেল আছে। এমনই এক হোস্টেলে স্ত্রীর অবর্তমানে এক স্বামী তার কিছু বন্ধুর সঙ্গে তাসের আসর বসিয়েছে। (হয়তো বা স্ত্রীর অনুপস্থিতি উদযাপন করার উদ্দেশ্যেই।)
তাসের আসরে কোনো কারণবশত চতুর্থ সঙ্গীটি আসতে পারেনি। এদিকে চারজন না হলে তো খেলাও জমবে না, তাই সেই স্বামী এক বন্ধুকে পাশের ঘরের পুরুষটিকে ডেকে আনতে বলে। সেই বন্ধুটি পাশের ঘরের কলিং বেল বাজানোয় পড়শির স্ত্রী বেরিয়ে আসেন এবং বন্ধুটিকে কোনো কথা বলার ফুরসৎ না দিয়েই বলে ওঠেন: "আপনি কেমন বেআক্কেলে লোক মশাই! দিলেন তো বেল টিপে বাচ্চাটার ঘুম ভাঙিয়ে। যান, এখুনি ভিতরে গিয়ে ওকে ঘুম পাড়িয়ে আসুন।"
একজন সম্পূর্ণ অপরিচিত মহিলার এই কথা শুনে বন্ধুটি প্রথমে থতমত খেয়ে যায়, তারপর সটান সেখান থেকে ছুট।
তাসের আসরে কোনো কারণবশত চতুর্থ সঙ্গীটি আসতে পারেনি। এদিকে চারজন না হলে তো খেলাও জমবে না, তাই সেই স্বামী এক বন্ধুকে পাশের ঘরের পুরুষটিকে ডেকে আনতে বলে। সেই বন্ধুটি পাশের ঘরের কলিং বেল বাজানোয় পড়শির স্ত্রী বেরিয়ে আসেন এবং বন্ধুটিকে কোনো কথা বলার ফুরসৎ না দিয়েই বলে ওঠেন: "আপনি কেমন বেআক্কেলে লোক মশাই! দিলেন তো বেল টিপে বাচ্চাটার ঘুম ভাঙিয়ে। যান, এখুনি ভিতরে গিয়ে ওকে ঘুম পাড়িয়ে আসুন।"
একজন সম্পূর্ণ অপরিচিত মহিলার এই কথা শুনে বন্ধুটি প্রথমে থতমত খেয়ে যায়, তারপর সটান সেখান থেকে ছুট।
Saturday, June 21, 2014
আমি: "শেষ পরীক্ষাটা কেমন হলো?"
সিনিয়র-দাদা: "ভালোই হয়েছে।"
আমি: "বলো কি? বাকিরা সবাই বলছে প্রশ্ন নাকি খুব কঠিন হয়েছে।"
সিনিয়র-দাদা: "আসলে ম্যাডাম ক্লাসে যেই চ্যাপ্টারগুলো ভালো করে পড়ান, সেখান থেকে বেশি প্রশ্ন করেন না। যেগুলো শুধু ছুঁয়ে বেরিয়ে যান, সেইখান থেকেই বেশি প্রশ্ন করেন। আমি জানতাম এরকমটাই হবে, সেই মতো প্রস্তুতি নেওয়ায় আমার পরীক্ষাটা ভালোই হয়েছে।"
আমি: "বুঝলাম। তার মানে ম্যাডামের পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেতে গেলে সাবজেক্টের চেয়েও যেটা ভালো করে জানতে হবে সেটা হলো ম্যাডামের চরিত্র।"
সিনিয়র-দাদা: "ভালোই হয়েছে।"
আমি: "বলো কি? বাকিরা সবাই বলছে প্রশ্ন নাকি খুব কঠিন হয়েছে।"
সিনিয়র-দাদা: "আসলে ম্যাডাম ক্লাসে যেই চ্যাপ্টারগুলো ভালো করে পড়ান, সেখান থেকে বেশি প্রশ্ন করেন না। যেগুলো শুধু ছুঁয়ে বেরিয়ে যান, সেইখান থেকেই বেশি প্রশ্ন করেন। আমি জানতাম এরকমটাই হবে, সেই মতো প্রস্তুতি নেওয়ায় আমার পরীক্ষাটা ভালোই হয়েছে।"
আমি: "বুঝলাম। তার মানে ম্যাডামের পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেতে গেলে সাবজেক্টের চেয়েও যেটা ভালো করে জানতে হবে সেটা হলো ম্যাডামের চরিত্র।"
Thursday, June 19, 2014
কিছু দিন আগে আমার তুতো-দাদার কান্ডকারখানা পড়ে তাপসদা তার এক বন্ধুর দাদুর কথা লিখেছিলো। সেটাই এখানে দিয়ে দিলাম। তাপসদার ইংরেজি হরফে লেখা বাংলা গল্পটা আমি বাংলা হরফে লিখলাম -- এটুকুই আমার কৃতিত্ব। লেখাটা 'প্রায়' অপরিবর্তিতই থাকলো, যা যৎসামান্য রদবদল করেছি সেগুলো ওই ডিফেকটিভ শাড়ি বিক্রির বিজ্ঞাপনের মতো "খালি চোখে খুঁজে পাওয়া যাবে না"।
বন্ধুর বাড়ি মোটামুটি স্বচ্ছল। দাদু হাই কোর্টে ওকালতি করেন। বাড়িতে মক্কেলদের প্রায়শই আনাগোনা, সেই সাথে দাদুর বন্ধু বান্ধবদেরও। কিন্তু দাদু ভীষণ কিপটে। চা পর্যন্ত খাওয়ানোতে আপত্তি। এতো লোককে খাওয়াবেন কেন? কিন্তু আবার ওনার মতো একজন অভিজাত মানুষের বাড়ি এলে কেউ চা খাওয়ার কথা জিজ্ঞেস পর্যন্ত করবে না -- সেটা কি করে হয়? তাই উনি ভেবে বেশ একটা কায়দা বার করেছিলেন। তাতে চা খাওয়ার কথা জিজ্ঞেস করাও হতো কিন্তু চা খাওয়াতেও হতো না ... ওনারা আবার ঢাকার খাস বাঙাল, তাই শুধোতেন:
"তা আপনারা কি চা খাইয়া আইসেন না গিয়া খাইবো? হেঁ হেঁ হেঁ !"
বন্ধুর বাড়ি মোটামুটি স্বচ্ছল। দাদু হাই কোর্টে ওকালতি করেন। বাড়িতে মক্কেলদের প্রায়শই আনাগোনা, সেই সাথে দাদুর বন্ধু বান্ধবদেরও। কিন্তু দাদু ভীষণ কিপটে। চা পর্যন্ত খাওয়ানোতে আপত্তি। এতো লোককে খাওয়াবেন কেন? কিন্তু আবার ওনার মতো একজন অভিজাত মানুষের বাড়ি এলে কেউ চা খাওয়ার কথা জিজ্ঞেস পর্যন্ত করবে না -- সেটা কি করে হয়? তাই উনি ভেবে বেশ একটা কায়দা বার করেছিলেন। তাতে চা খাওয়ার কথা জিজ্ঞেস করাও হতো কিন্তু চা খাওয়াতেও হতো না ... ওনারা আবার ঢাকার খাস বাঙাল, তাই শুধোতেন:
"তা আপনারা কি চা খাইয়া আইসেন না গিয়া খাইবো? হেঁ হেঁ হেঁ !"
Wednesday, June 18, 2014
লেখক: পর্ব ৩
ক্লাস ১১-১২ আমি পড়েছিলাম নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে। সে সময় নরেন্দ্রপুর থেকে বাড়ি এলে প্রায়শই এক শোচনীয় পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো কারণ মা আমার জামা থেকে সিগারেটের গন্ধ পেতেন। অথচ আমি মোটেও সিগারেট খেতাম না। (আমার এক রুমমেট খেত বটে, তবে ক্লাস ১১ থেকে ১২-এ ওঠার সময় সে সিগারেট খাওয়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলো -- সে তখন সিগারেট ছেড়ে পাইপ ধরেছিলো। হয়তো সেই গন্ধই আমার জামায় লেগে থাকতো।) আমি নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করলেও মা সন্দিগ্ধ নজরে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতেন, আমি সত্যি বলছি না মিথ্যে তার আঁচ পাওয়ার জন্যে বোধ হয়। তার সাথে ধূমপানের বিভিন্ন কুফল আর কতো কতো ভালো ছেলে নেশাচক্রে পড়ে নিজের সর্বনাশ ডেকে এনেছে সেই নিয়ে বিস্তর জ্ঞান তো ছিলই।
তখন বিরক্ত লাগলেও পরে ভেবে দেখেছি মায়ের দুশ্চিন্তা করাটা অহেতুক নয়। কারণ, ধূমপানের প্রথম অভিজ্ঞতাটা অন্যান্য সকলের চেয়ে আমার আগেই হয়েছে। আমি প্রথম (এবং সেই শেষ) বিড়ি খেয়েছিলাম ক্লাস টু-তে। আমাদের আবাসনের কেয়ার-টেকার কোনো কারণে নিজের বিড়ি জ্বলন্ত অবস্থাতেই নিজের ঘরে রেখে বেরিয়েছিল, সেই সুযোগে আমি তাতে দু-টান দিয়ে দিয়েছিলাম। বাড়ি ফিরে এসে নবলব্ধ অভিজ্ঞতার কথা বাবাকে জানিয়েও ছিলাম।
-- "বাবা, তুমি কখনো বিড়ি খেয়েছো?"
-- "হ্যাঁ, খেয়েছি।"
-- "খুব বাজে খেতে, বলো?"
-- "তুই কি করে জানলি?"
-- "আমিও খেয়েছি।"
ক্লাস ১১-১২ আমি পড়েছিলাম নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে। সে সময় নরেন্দ্রপুর থেকে বাড়ি এলে প্রায়শই এক শোচনীয় পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো কারণ মা আমার জামা থেকে সিগারেটের গন্ধ পেতেন। অথচ আমি মোটেও সিগারেট খেতাম না। (আমার এক রুমমেট খেত বটে, তবে ক্লাস ১১ থেকে ১২-এ ওঠার সময় সে সিগারেট খাওয়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলো -- সে তখন সিগারেট ছেড়ে পাইপ ধরেছিলো। হয়তো সেই গন্ধই আমার জামায় লেগে থাকতো।) আমি নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করলেও মা সন্দিগ্ধ নজরে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতেন, আমি সত্যি বলছি না মিথ্যে তার আঁচ পাওয়ার জন্যে বোধ হয়। তার সাথে ধূমপানের বিভিন্ন কুফল আর কতো কতো ভালো ছেলে নেশাচক্রে পড়ে নিজের সর্বনাশ ডেকে এনেছে সেই নিয়ে বিস্তর জ্ঞান তো ছিলই।
তখন বিরক্ত লাগলেও পরে ভেবে দেখেছি মায়ের দুশ্চিন্তা করাটা অহেতুক নয়। কারণ, ধূমপানের প্রথম অভিজ্ঞতাটা অন্যান্য সকলের চেয়ে আমার আগেই হয়েছে। আমি প্রথম (এবং সেই শেষ) বিড়ি খেয়েছিলাম ক্লাস টু-তে। আমাদের আবাসনের কেয়ার-টেকার কোনো কারণে নিজের বিড়ি জ্বলন্ত অবস্থাতেই নিজের ঘরে রেখে বেরিয়েছিল, সেই সুযোগে আমি তাতে দু-টান দিয়ে দিয়েছিলাম। বাড়ি ফিরে এসে নবলব্ধ অভিজ্ঞতার কথা বাবাকে জানিয়েও ছিলাম।
-- "বাবা, তুমি কখনো বিড়ি খেয়েছো?"
-- "হ্যাঁ, খেয়েছি।"
-- "খুব বাজে খেতে, বলো?"
-- "তুই কি করে জানলি?"
-- "আমিও খেয়েছি।"
Monday, June 16, 2014
লেখক: পর্ব ২
'ইন্দ্রলুপ্তি' -- মানে সোজা বাংলায় 'টাক পড়া'। টাক পড়ার অভিজ্ঞতাটা পুরুষদের কাছে খানিকটা ভয়ের, খানিকটা লজ্জার আর সর্বোপরি হতাশার। নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি। ইদানীং চুল আঁচড়াবার পর চিরুনির দিকে তাকানোর সাহস হয় না, পুরনো বন্ধুদের ছেড়ে চলে যেতে দেখলে কার না দুঃখ হয়। যে মুষ্টিমেয় পুরুষদের এই অনুভূতি গোটা জীবনে ভোগ করতে হয় না, তারা সত্যিই বাকিদের কাছে ঈর্ষণীয়। মনে পড়ে ছোটবেলায় একটা বিজ্ঞাপন দূরদর্শনে দেখতে পেতাম -- ডক্টর সরকারের 'আর্নিকা প্লাস ট্রায়োফার ট্রিপল অ্যাকশন হেয়ার ভাইটালাইজার' -- চুল পড়ার মহান প্রতিষেধক। কিন্তু সেই বিজ্ঞাপন আজ বহু বছর আর দেখতে পাইনা। ডক্টর সরকারের নিজেরই টাক পড়ে গেলো নাকি?
যাই হোক, মূল বক্তব্যে আসা যাক। টাকের প্রকারভেদ আছে -- সেগুলো আপনাদের জানা আছে কি? আমি শুনেছিলাম দাদার কাছে, দাদা শুনেছিল পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশনে পড়াকালীন এক মাস্টারমশাইয়ের কাছে, ওনার সোর্সটা কি তা অবশ্য বলতে পারবো না। টাক মূলত চার প্রকার:
(১) ছাদ খালি সিঁড়ি জ্যাম -- অর্থাৎ গোটা মাথায় চুল আছে, শুধু ব্রহ্মতালুর জায়গাটা ফাঁকা। এই 'ছাদের' প্রসস্তি কিন্তু দিনে দিনে বৃদ্ধি পায়।
(২) ওরা থাকে ওধারে -- এটা অসমান ভাবে চুল ওঠার ফল, ধরুন মাথার বাঁদিকটা খালি অথচ ডানদিকে যথেষ্ট চুল বাকি আছে। এই গোত্রের পুরুষেরা চুল আঁচড়াবার সময় ডানদিকের চুলগুলোকে টেনে এনে বাঁদিকটা ভরাট করার প্রতি বিশেষ যত্নবান হন।
(৩) স্মৃতিটুকু থাক -- নাম শুনে নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন, মাথায় ছিঁটে ফোঁটা চুল বাকি থাকে যাদের।
(৪) অবাক পৃথিবী -- মানে যাদের মাথার তেল বা চিরুনির পেছনে খরচা সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
(১) ছাদ খালি সিঁড়ি জ্যাম -- অর্থাৎ গোটা মাথায় চুল আছে, শুধু ব্রহ্মতালুর জায়গাটা ফাঁকা। এই 'ছাদের' প্রসস্তি কিন্তু দিনে দিনে বৃদ্ধি পায়।
(২) ওরা থাকে ওধারে -- এটা অসমান ভাবে চুল ওঠার ফল, ধরুন মাথার বাঁদিকটা খালি অথচ ডানদিকে যথেষ্ট চুল বাকি আছে। এই গোত্রের পুরুষেরা চুল আঁচড়াবার সময় ডানদিকের চুলগুলোকে টেনে এনে বাঁদিকটা ভরাট করার প্রতি বিশেষ যত্নবান হন।
(৩) স্মৃতিটুকু থাক -- নাম শুনে নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন, মাথায় ছিঁটে ফোঁটা চুল বাকি থাকে যাদের।
(৪) অবাক পৃথিবী -- মানে যাদের মাথার তেল বা চিরুনির পেছনে খরচা সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
গলযোদ্ধা অ্যাসটেরিক্স (Asterix the Gaul) পড়েছেন কি? তাতে রোমান ক্যাম্পে গিয়ে পুরোহিত এটাসেটামিক্স (Druid Getafix) দ্রুত হারে চুল গজানোর শক্তিসম্পন্ন জাদু পানীয় খাইয়ে রোমানদের কেমন নাকানি চোবানি খাইয়েছিল মনে পড়ে? আপাতত আমি সেই জাদু পানীয়ের খোঁজে রয়েছি।
পুনশ্চ:
অনুসন্ধিৎসু পাঠকদের জন্য যোগ করলাম -- আমারটা প্রথম প্রকারের অন্তর্গত।
অনুসন্ধিৎসু পাঠকদের জন্য যোগ করলাম -- আমারটা প্রথম প্রকারের অন্তর্গত।
Wednesday, June 11, 2014
বাসের চাকার মতো ভাগ্যের চাকাও ঘুরে চলে। বন্ধু-বান্ধব,
আত্মীয়-স্বজন সকলের অপদস্থ হওয়ার ঘটনা এই পাবলিক ফোরামে বলেছি, এবার আমার
নিজের পালা। তাই আজ থেকে শুরু হলো:
লেখক: পর্ব ১
অন্যের দিকে আঙুল তুললে হাতের বাকি চারটে
আঙুল নিজের দিকে ইঙ্গিত করে। (নাকি তিনটে? বুড়ো আঙুলটা তো মাটির দিকে তাক
করে থাকে দেখেছি।) তাই বাকিদের বাকি রেখে নিজের ভীষণ লজ্জিত হওয়ার একটা
ঘটনা এখন বলছি। আমি "ভীষণ লজ্জিত" হয়েছিলাম মানেই বুঝতে পারছেন --
ব্যাপারটা ঘোরতর।লেখক: পর্ব ১
ঘোরতর হতেই হবে কেন?
আরে বাবা, আমার মতো প্রায় মান-সম্মান বোধহীন
একজন লোক লজ্জিত, থুড়ি ভীষণ লজ্জিত, বোধ করছে এটা ঘোরতর ব্যাপার নয়? আমার
যে মান-সম্মান বোধটা একটু কম তার উদাহরণস্বরূপ বর্তমান মুহূর্তটাই ধরুন,
আমার যদি অতই সম্মান বোধ থাকতো তাহলে কি এভাবে আপনাদের কাছে এই কাহিনীটা
তুলে ধরতাম? তবে হ্যাঁ, সম্মান বোধটা কম হলেও দু'কান কাটা তো আর নই। যাক,
এবার ঘটনা প্রসঙ্গে আসা যাক -- গৌরচন্দ্রিকাটা দেখছি বেশ বড়ই হয়ে গেলো।তখন আমি সবে আই.আই.টি.-তে ঢুকেছি। রোজ দেখতাম দুপুর বেলায় স্নান করতে যাবার সময় হোস্টেলের অন্যান্য বাসিন্দারা নিজেদের মধ্যে কি একটা চাপা গুঞ্জন করছে। মাঝে মাঝে খুক খুক করে হাসির আওয়াজও শুনতে পেতাম। এই আলোচনা, ঠাট্টার কেন্দ্রে যে আমি সেটা বেশ ভালো করেই বুঝতে পারতাম। কিন্তু দুপুরে আমি স্নান করতে যাওয়ার সময়েই কেন এই ঘটনা প্রতিদিন ঘটে তা কিছুতেই ঠাহর করতে পারতাম না। একদিন সাহস করে এক সিনিয়রকে কারণটা জিজ্ঞেস করলাম।
সিনিয়রটি হেসে উত্তর দিলো: "তুই আর কতোদিন ওই লোডশেডিং গামছাটা পরে চালাবি?"
আমি: "লোডশেডিং গামছা?"
সিনিয়র: "তোর ওই গামছাটা যা পাতলা, লোডশেডিং ছাড়া বাকি সময় তো ওটা দিয়ে লজ্জা নিবারণ হয় না।"
Monday, June 9, 2014
বাস: পর্ব ৪
বাস স্টপেজে এসে থেমেছে। এক মহিলা যাত্রী নামার সময় কন্ডাকটর জোর গলায় জিজ্ঞেস করলেন: "টিকিট হয়েছে?" মহিলাটি "হ্যাঁ" বলে নেমে গেলেন। বাস স্টপেজ ছেড়ে এগিয়ে চললো, কন্ডাকটর কিন্তু নিশ্চিত যে মহিলাটি টিকিট কাটেননি -- সেটা প্রকাশ পেলো কন্ডাকটরের স্বগতোক্তিতে: "হু! বললেই হলো টিকিট কেটেছি। আমি বলে সারাদিন ধরে ছিঁড়ছি, আমি জানি না?"
বাস স্টপেজে এসে থেমেছে। এক মহিলা যাত্রী নামার সময় কন্ডাকটর জোর গলায় জিজ্ঞেস করলেন: "টিকিট হয়েছে?" মহিলাটি "হ্যাঁ" বলে নেমে গেলেন। বাস স্টপেজ ছেড়ে এগিয়ে চললো, কন্ডাকটর কিন্তু নিশ্চিত যে মহিলাটি টিকিট কাটেননি -- সেটা প্রকাশ পেলো কন্ডাকটরের স্বগতোক্তিতে: "হু! বললেই হলো টিকিট কেটেছি। আমি বলে সারাদিন ধরে ছিঁড়ছি, আমি জানি না?"
Sunday, June 8, 2014
সাল ২০০০:
অমুক স্যারের ক্লাসে ছাত্র হয়েছে মাত্র তিনজন। অথচ অন্তত পাঁচজন ছাত্র কোনো সাবজেক্টে রেজিস্টার না করলে, সাবজেক্টটা সেই সেমিস্টারে পড়ানোই হবে না -- এটাই নিয়ম। প্রথমদিনের ক্লাসের পর সেই তিন ছাত্র আরো দুই বন্ধুকে এই সাবজেক্টটা নিতে রাজি করানোয়, সে যাত্রায় অমুক স্যার সব ক্লাস নিতে পেরেছিলেন। (এক সিনিয়রের কাছে শোনা)
সাল ২০১৪:
অমুক স্যারের ক্লাসে ছাত্র হয়েছে ঠিক পাঁচজন। প্রত্যেক ছাত্র একে অপরের দিকে তাকিয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেললো, যাক বাবা, এবছর তাহলে সাবজেক্টটা পড়ানো হচ্ছে। (নিজের চোখে দেখা)
ইউনিভার্সিটিতে ছাত্রের সংখ্যা বেড়েছে কয়েকগুণ, কিন্তু একটা সাবজেক্ট পড়ানোর জন্য নূন্যতম ছাত্র সংখ্যা কেন সমানুপাতিক হারে বাড়েনি -- এটা কখনো ভেবে দেখেছেন কি? অমুক স্যারকে দেখে এতদিনে বুঝলাম।
অমুক স্যারের ক্লাসে ছাত্র হয়েছে মাত্র তিনজন। অথচ অন্তত পাঁচজন ছাত্র কোনো সাবজেক্টে রেজিস্টার না করলে, সাবজেক্টটা সেই সেমিস্টারে পড়ানোই হবে না -- এটাই নিয়ম। প্রথমদিনের ক্লাসের পর সেই তিন ছাত্র আরো দুই বন্ধুকে এই সাবজেক্টটা নিতে রাজি করানোয়, সে যাত্রায় অমুক স্যার সব ক্লাস নিতে পেরেছিলেন। (এক সিনিয়রের কাছে শোনা)
সাল ২০১৪:
অমুক স্যারের ক্লাসে ছাত্র হয়েছে ঠিক পাঁচজন। প্রত্যেক ছাত্র একে অপরের দিকে তাকিয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেললো, যাক বাবা, এবছর তাহলে সাবজেক্টটা পড়ানো হচ্ছে। (নিজের চোখে দেখা)
ইউনিভার্সিটিতে ছাত্রের সংখ্যা বেড়েছে কয়েকগুণ, কিন্তু একটা সাবজেক্ট পড়ানোর জন্য নূন্যতম ছাত্র সংখ্যা কেন সমানুপাতিক হারে বাড়েনি -- এটা কখনো ভেবে দেখেছেন কি? অমুক স্যারকে দেখে এতদিনে বুঝলাম।
Friday, June 6, 2014
Thursday, June 5, 2014
ইদানীং কেউ কেউ বলছে যে আমার সাথে নাকি আর কথা বলবে না, পাছে তাদের কথা আমি ফেসবুকে প্রচার করে দিই -- এই ভয়ে। তাদের আমি একটা কথাই বলবো: যাদের কথা আমি ফেসবুকে লিখেছি (স্বনামে হোক বা বেনামে), তাদের বেশির ভাগের সঙ্গেই আমার উঠতে বসতে দেখা হয়, কথা হয়। একটা আলটপকা মন্তব্য কিংবা দুর্বল মুহূর্তের কোন বেঁফাস কথা, অর্থাৎ পান থেকে চুন খসলেই এরা কি আমায় ছেড়ে কথা বলবে? তাই আমার পরিস্থিতিটা একবার ভেবে দেখুন।
***********************
তা ছাড়া কোন মানুষের প্রতিক্রিয়া তার সেই মুহূর্তের মন, মেজাজের উপর নির্ভর করে -- এ কথা সবাই জানে। শুধুমাত্র আমার লেখা পড়ে কোন পাঠক যদি আমার কোন চরিত্রের চরিত্র নিয়ে ধারণা পোষণ করে থাকেন, তা নেহাতই আহাম্মকি। গল্পে রং চড়াতে গিয়ে হয়তো অজান্তেই বক্তার অভিপ্রায় হারিয়ে গেছে। আমার সব গল্প / ঘটনাই আমার দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে লেখা, তাই আমার গল্প থেকে যদি কারো মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায় তাহলে তা একান্তই আমার, আমার কোন চরিত্রের নয়।
***********************
তা ছাড়া কোন মানুষের প্রতিক্রিয়া তার সেই মুহূর্তের মন, মেজাজের উপর নির্ভর করে -- এ কথা সবাই জানে। শুধুমাত্র আমার লেখা পড়ে কোন পাঠক যদি আমার কোন চরিত্রের চরিত্র নিয়ে ধারণা পোষণ করে থাকেন, তা নেহাতই আহাম্মকি। গল্পে রং চড়াতে গিয়ে হয়তো অজান্তেই বক্তার অভিপ্রায় হারিয়ে গেছে। আমার সব গল্প / ঘটনাই আমার দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে লেখা, তাই আমার গল্প থেকে যদি কারো মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায় তাহলে তা একান্তই আমার, আমার কোন চরিত্রের নয়।
Monday, June 2, 2014
আমার এক তুতো-দাদা আছে। সে নাকি ছোটবেলায় একমাত্র নাতি হওয়ার সুবাদে আমার দাদুর খুব আদরের ছিল। আদরের মাত্রাটা একটু বেশি হওয়ার দরুণ, গুরুজনেরা যেমনটা বলে থাকেন, সে একটি বাঁদরে পরিণত হয়েছিল। তাকে কোথাও নিয়ে যাওয়া মানেই বিপত্তি, সে রকমই কিছু ঘটনা বলছি।
(১)
দাদুর সাথে সে এক পরিচিতের বাড়ি গেছে। খানিকক্ষণ পরেও তাদেরকে কিছু খেতে দেওয়া হয়নি দেখে আমার দাদা বললো: "তোমরা কেমন লোক? ঘরে ছোট ছেলে এলে তাকে কিছু খেতে দিতে হয় -- জানো না?" শুনে তো বাড়ির লোকের সাথে আমার দাদুরও লজ্জায় কান লাল। একজন তাড়াতাড়ি দাদাকে একটা বিস্কুট দেয়। দাদা: "ডান হাতে তো একটা বিস্কুট দিলে, আর আমার বাঁ হাতটা কি ফাঁকা থাকবে?"
(২)
দাদুর সাথে দাদা আরেকদিন অন্য এক পরিচিতের বাড়ি গেছে। এরা বোধহয় পূর্বের ঘটনা জানতেন তাই আসার সাথে সাথেই প্লেটে করে দুজনকে মিষ্টি খেতে দিয়েছেন। দাদা প্রথমেই লক্ষ্য করলো দাদুর প্লেটে বেশি মিষ্টি। তাই চট করে প্লেট দুটো পাল্টাপাল্টি করে নিলো। একটা মিষ্টি মুখে দেওয়ার পর, দাদা: "তোমাদের মিষ্টিটা তেমন ভালো নয়, তোমরা বরং আমাদের আনা মিষ্টিটাও দাও।"
(৩)
দাদুর সাথে দাদা কোথাও একটা বেড়াতে গেছে। সেখানে দাদুর এক প্রবীণ বন্ধুর সাথে ওদের দেখা হয়। উনি দাদাকে জিজ্ঞেস করেন: "খোকা, তোমার নাম কি?" দাদা নিজের নাম জানায়। প্রবীণ মানুষটি কানে খাটো হওয়ায় আবার দাদাকে তার নাম জিজ্ঞেস করেন। দাদা উচ্চ কন্ঠে আরেকবার নিজের নাম জানায়। তা সত্ত্বেও বৃদ্ধ ভদ্রলোকটি তৃতীয়বার নাম জিজ্ঞেস করায়, দাদা চেঁচিয়ে বলে: "আমার নাম? আমার নাম -- গু। খাবে?" বেচারা বৃদ্ধ ভদ্রলোক এবার দাদার কথা ঠিক শুনতে পেয়েছেন। রাগে-অপমানে উনি দ্রুত ওখান থেকে চলে যান।
প্রত্যেকটি ঘটনায় দাদুর একই প্রতিক্রিয়া -- উনি প্রতিজ্ঞা করেন দাদাকে নিয়ে আর কখনো "ভদ্রসমাজে" বেরোবেন না।
(১)
দাদুর সাথে সে এক পরিচিতের বাড়ি গেছে। খানিকক্ষণ পরেও তাদেরকে কিছু খেতে দেওয়া হয়নি দেখে আমার দাদা বললো: "তোমরা কেমন লোক? ঘরে ছোট ছেলে এলে তাকে কিছু খেতে দিতে হয় -- জানো না?" শুনে তো বাড়ির লোকের সাথে আমার দাদুরও লজ্জায় কান লাল। একজন তাড়াতাড়ি দাদাকে একটা বিস্কুট দেয়। দাদা: "ডান হাতে তো একটা বিস্কুট দিলে, আর আমার বাঁ হাতটা কি ফাঁকা থাকবে?"
(২)
দাদুর সাথে দাদা আরেকদিন অন্য এক পরিচিতের বাড়ি গেছে। এরা বোধহয় পূর্বের ঘটনা জানতেন তাই আসার সাথে সাথেই প্লেটে করে দুজনকে মিষ্টি খেতে দিয়েছেন। দাদা প্রথমেই লক্ষ্য করলো দাদুর প্লেটে বেশি মিষ্টি। তাই চট করে প্লেট দুটো পাল্টাপাল্টি করে নিলো। একটা মিষ্টি মুখে দেওয়ার পর, দাদা: "তোমাদের মিষ্টিটা তেমন ভালো নয়, তোমরা বরং আমাদের আনা মিষ্টিটাও দাও।"
(৩)
দাদুর সাথে দাদা কোথাও একটা বেড়াতে গেছে। সেখানে দাদুর এক প্রবীণ বন্ধুর সাথে ওদের দেখা হয়। উনি দাদাকে জিজ্ঞেস করেন: "খোকা, তোমার নাম কি?" দাদা নিজের নাম জানায়। প্রবীণ মানুষটি কানে খাটো হওয়ায় আবার দাদাকে তার নাম জিজ্ঞেস করেন। দাদা উচ্চ কন্ঠে আরেকবার নিজের নাম জানায়। তা সত্ত্বেও বৃদ্ধ ভদ্রলোকটি তৃতীয়বার নাম জিজ্ঞেস করায়, দাদা চেঁচিয়ে বলে: "আমার নাম? আমার নাম -- গু। খাবে?" বেচারা বৃদ্ধ ভদ্রলোক এবার দাদার কথা ঠিক শুনতে পেয়েছেন। রাগে-অপমানে উনি দ্রুত ওখান থেকে চলে যান।
প্রত্যেকটি ঘটনায় দাদুর একই প্রতিক্রিয়া -- উনি প্রতিজ্ঞা করেন দাদাকে নিয়ে আর কখনো "ভদ্রসমাজে" বেরোবেন না।
Sunday, June 1, 2014
গত পরশু সকালে আমি, আবির আর আমাদের লাল বন্ধু একসাথে নেসকাফেতে চা খেতে গেছি।
আবির লাল বন্ধুকে: "তোমাদের দলে কি কেউ নেই যে দলটাকে তুলতে পারে?"
আমি: "কেন! আমাদের লাল বন্ধুই তো আছে -- দলটাকে তুলে দেবে।"
****************
আমার আই.আই.টি.-র বন্ধুদের প্রতি বিনীত অনুরোধ: আপনারা যার কথা ভাবছেন, আমি সেই লাল বন্ধুর কথাই বলেছি -- কিন্তু দয়া করে তার প্রতি কোন সরাসরি মন্তব্য করবেন না। আমি ধুতি ধরে টেনেছি ঠিকই, তা বলে আপনারা একেবারে কাছা খুলে দেবেন না।
আবির লাল বন্ধুকে: "তোমাদের দলে কি কেউ নেই যে দলটাকে তুলতে পারে?"
আমি: "কেন! আমাদের লাল বন্ধুই তো আছে -- দলটাকে তুলে দেবে।"
****************
আমার আই.আই.টি.-র বন্ধুদের প্রতি বিনীত অনুরোধ: আপনারা যার কথা ভাবছেন, আমি সেই লাল বন্ধুর কথাই বলেছি -- কিন্তু দয়া করে তার প্রতি কোন সরাসরি মন্তব্য করবেন না। আমি ধুতি ধরে টেনেছি ঠিকই, তা বলে আপনারা একেবারে কাছা খুলে দেবেন না।
Saturday, May 31, 2014
Sphota-র তৃতীয় এডিশনে (২০১১-২০১২) আমার নিম্নলিখিত গল্পটি প্রকাশ পায়। এই গল্পটা ব্লগের অন্যান্য গল্প / ঘটনার সাথে মানানসই না হলেও হারিয়ে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচাবার জন্যে এখানে তুলে রাখলাম। জীবন তো শুধুমাত্র হাসি ঠাট্টা নিয়ে নয়, তাই আপনাদের কারুর কারুর হয়তো এই গল্পটাও ভালো লাগবে।
"রুজি"
অমলকান্তি চাকরিটা পেয়ে গেছে। তার ড্রিম জব। তবে ইদানীং স্বপ্নের ঘোর যেন আস্তে আস্তে কেটে যাচ্ছে। শুরুতে অবশ্য এরকমটা ছিল না। তখন তার কানে লেগে থাকত প্লেসমেন্টের আগে পি.পি.টি. তে শোনা কথাগুলো। “তোমরাই হতে পারো বর্তমান জীবনের মূল জীবনীশক্তি। ভবিষ্যতের ফল ফলবে তোমাদেরই স্পর্শে। তোমরা ছড়িয়ে পড়বে দিগ্বিদিকে। সকলকে আলো দেবে, কোনও পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই। শেষ করবে জগতের অন্ধকার।” সত্যি বাড় খাওয়াতে পারে কয়েকজন! অমলকান্তি জয়েন করেছিল “মিঠে রোদ” হিসেবে। জুনিয়র-মোস্ট পজিশন। কিন্তু তখন কাজে আনন্দ পেত। লোকজন তার দেখা পাওয়ার জন্যে সারাদিন অপেক্ষা করতো। তাকে দেখতে পেলেই তাদের মুখে হাসি ফুটতো। তাকে আদর করে ডাকত “রোদ্দুর” বলে।
কিন্তু এখন অমলকান্তি প্রমোশন পেয়ে “চড়া রোদ”-এ উন্নীত হয়েছে। আর তাকে সারা বছর বিভিন্ন জায়গায় ছোটাছুটি করতে হয়না। গ্রীষ্মকালেই যা একটু ইন্সপেকশন ডিউটি পড়ে। বাকি সময়টা মেন-অফিসে নিজের জন্যে তেজ, উত্তাপ, আলো সংগ্রহ করেই কাটাতে হয়। এসব করতেই হবে, নাহলে যে অফিসের কলিগদের কাছে পিছিয়ে পড়তে হবে। অমলকান্তি বুঝতে পারে তার দায়িত্ব যেমন বেড়েছে, দূরত্ব বেড়েছে ততোধিক। লোকজনের ভালবাসায় ভাটা পড়েছে। আর তাকে দেখে কেউ হাসে না, বরং তাড়াতাড়ি মুখ লুকোয়। তার সংস্পর্শ সবাই এড়িয়ে চলতে চায়।
এরকমটা অমলকান্তি চায়নি। তা সত্ত্বেও তার এই প্রতিষ্ঠা, এই প্রতিপত্তির সাথে সে এতটাই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে আজ যে এখন আর ফিরে তাকাবার সুযোগ তার কাছে নেই। সুযোগ থাকলেও ইচ্ছে আর নেই। সামনে আবার আরেকটা বড় প্রমোশনের হাতছানি, এটা ক্লিয়ার করতে পারলে সে হয়ে যাবে “কাঠফাটা রোদ”, অর্থাৎ ম্যানেজার সূর্য-বাবুর খুব কাছের জন। তখন তার প্রতাপ দেখে কে! কত কি করার পরিকল্পনা আছে তখন অমলকান্তির!
********
সকাল থেকে খুব মিঠে গলায় গান ধরেছে রামেশ্বর ওরফে রামু। গানের কথা গ্রাম্য। আমাদের অপরিচিত। কিন্তু একটা করুণ সুর আছে যা সহজেই মানুষের মনকে নাড়া দেয়। নাকি নাড়া দেয় না? রামুর সামনে রাখা শূন্য বাটিটা তো তাই বলছে। রামু কিন্তু জানে তার গান হাটে উপস্থিত সকলেরই ভালো লাগে। অন্তত এক সময় তো লাগতো। এরা প্রত্যেকেই তখন তার সাথে গলা মেলাতো, তাকে ঘিরে নাচতো, কেউ কেউ ঢোল কাঁসর নিয়ে সঙ্গত দিত। মাত্র কয়েক বছর আগেকার কথা। তখন এদের সকলের জমি ছিল, পেশায় চাষি ছিল সবাই।
হঠাৎ কিছু জোতদার এসে দখল করলো তাদের জমি। সরকার আবার তাদেরই সাথে। তাই সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে বেহাত হয়ে গেল জমি। অন্ধকার নেমে এলো সকলের চোখে। তাদের একমাত্র আশার আলো দেখায় গাঁয়ের ছেলে অমল। সে শিক্ষিত, চটপটে, কথাবার্তাতেও পটু। কাদের সঙ্গে জানি চেনাশোনাও আছে। তারা নাকি প্রচুর প্রভাবশালী, টাকার জোর আছে - তাহলেও লোক ভালো। অমল বলতো, “কিছু ভেবো না খুড়ো, একবার আমাদের হাতে ক্ষমতা আসতে দাও, তারপর দেখো।” তখন অমলকে কত বাবা-বাছা বলে ডাকতো রামু। কতো ভালোবাসতো। আগের ইলেকশনে বিপুল ভোটে জয়ী করলো তাকে। তার কিছু দিন পর সপরিবারে শহরে চলে গেল অমল। ওখানে থাকলেই নাকি সে গ্রামের জন্যে বেশি সাহায্য করতে পারবে। তারপর থেকে বলতে গেলে আর তার দেখাই পাওয়া যায় না। সে নাকি ভীষণ ব্যস্ত। এত ব্যস্ত যে নিজের বাস্তু ভিটেটাকেই দেখবার সময় পায়না?
সূর্যের সাথে রামুর গলাও চড়তে শুরু করেছে। লোকগুলো কি সব বোবা-কালা হয়ে গেছে? অন্যদিন কিছু টাকা তার এরমধ্যেই রোজগার হয়ে যায়। “দিন আনি দিন খাই” - এ ভাবেই কোনোরকমে সংসার চলে যায়। আজ যে ভাঁড়ে মা ভবানী। রামুর মনে কতই আশা ছিল যে আবার জমি ফিরে পাবে, চাষ করবে। কিন্তু হারামজাদা অমলের যে পাত্তাই নেই! এদিকে শোনা যায় তার কাজে সন্তুষ্ট হয়ে দল নাকি তাকে আগামী-বার আরও বড় পদের জন্য ভোটে দাঁড় করাচ্ছে। জিততে পারলে অমল নাকি হয়ে যাবে তাদের দলপতির ডান হাত। তখন তার প্রতাপ দেখে কে! আচ্ছা, তখন অমল তার গাঁয়ের দিকে ফিরে তাকাবে তো?
কিন্তু সে তো কালকের কথা, তাই শুকিয়ে কাঠ হওয়া সত্ত্বেও গলা ফাটিয়ে গান গাইতে থাকে রামু - তার গান আজকে লোকের কানে পৌঁছে দিতেই হবে।
"রুজি"
অমলকান্তি চাকরিটা পেয়ে গেছে। তার ড্রিম জব। তবে ইদানীং স্বপ্নের ঘোর যেন আস্তে আস্তে কেটে যাচ্ছে। শুরুতে অবশ্য এরকমটা ছিল না। তখন তার কানে লেগে থাকত প্লেসমেন্টের আগে পি.পি.টি. তে শোনা কথাগুলো। “তোমরাই হতে পারো বর্তমান জীবনের মূল জীবনীশক্তি। ভবিষ্যতের ফল ফলবে তোমাদেরই স্পর্শে। তোমরা ছড়িয়ে পড়বে দিগ্বিদিকে। সকলকে আলো দেবে, কোনও পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই। শেষ করবে জগতের অন্ধকার।” সত্যি বাড় খাওয়াতে পারে কয়েকজন! অমলকান্তি জয়েন করেছিল “মিঠে রোদ” হিসেবে। জুনিয়র-মোস্ট পজিশন। কিন্তু তখন কাজে আনন্দ পেত। লোকজন তার দেখা পাওয়ার জন্যে সারাদিন অপেক্ষা করতো। তাকে দেখতে পেলেই তাদের মুখে হাসি ফুটতো। তাকে আদর করে ডাকত “রোদ্দুর” বলে।
কিন্তু এখন অমলকান্তি প্রমোশন পেয়ে “চড়া রোদ”-এ উন্নীত হয়েছে। আর তাকে সারা বছর বিভিন্ন জায়গায় ছোটাছুটি করতে হয়না। গ্রীষ্মকালেই যা একটু ইন্সপেকশন ডিউটি পড়ে। বাকি সময়টা মেন-অফিসে নিজের জন্যে তেজ, উত্তাপ, আলো সংগ্রহ করেই কাটাতে হয়। এসব করতেই হবে, নাহলে যে অফিসের কলিগদের কাছে পিছিয়ে পড়তে হবে। অমলকান্তি বুঝতে পারে তার দায়িত্ব যেমন বেড়েছে, দূরত্ব বেড়েছে ততোধিক। লোকজনের ভালবাসায় ভাটা পড়েছে। আর তাকে দেখে কেউ হাসে না, বরং তাড়াতাড়ি মুখ লুকোয়। তার সংস্পর্শ সবাই এড়িয়ে চলতে চায়।
এরকমটা অমলকান্তি চায়নি। তা সত্ত্বেও তার এই প্রতিষ্ঠা, এই প্রতিপত্তির সাথে সে এতটাই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে আজ যে এখন আর ফিরে তাকাবার সুযোগ তার কাছে নেই। সুযোগ থাকলেও ইচ্ছে আর নেই। সামনে আবার আরেকটা বড় প্রমোশনের হাতছানি, এটা ক্লিয়ার করতে পারলে সে হয়ে যাবে “কাঠফাটা রোদ”, অর্থাৎ ম্যানেজার সূর্য-বাবুর খুব কাছের জন। তখন তার প্রতাপ দেখে কে! কত কি করার পরিকল্পনা আছে তখন অমলকান্তির!
********
সকাল থেকে খুব মিঠে গলায় গান ধরেছে রামেশ্বর ওরফে রামু। গানের কথা গ্রাম্য। আমাদের অপরিচিত। কিন্তু একটা করুণ সুর আছে যা সহজেই মানুষের মনকে নাড়া দেয়। নাকি নাড়া দেয় না? রামুর সামনে রাখা শূন্য বাটিটা তো তাই বলছে। রামু কিন্তু জানে তার গান হাটে উপস্থিত সকলেরই ভালো লাগে। অন্তত এক সময় তো লাগতো। এরা প্রত্যেকেই তখন তার সাথে গলা মেলাতো, তাকে ঘিরে নাচতো, কেউ কেউ ঢোল কাঁসর নিয়ে সঙ্গত দিত। মাত্র কয়েক বছর আগেকার কথা। তখন এদের সকলের জমি ছিল, পেশায় চাষি ছিল সবাই।
হঠাৎ কিছু জোতদার এসে দখল করলো তাদের জমি। সরকার আবার তাদেরই সাথে। তাই সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে বেহাত হয়ে গেল জমি। অন্ধকার নেমে এলো সকলের চোখে। তাদের একমাত্র আশার আলো দেখায় গাঁয়ের ছেলে অমল। সে শিক্ষিত, চটপটে, কথাবার্তাতেও পটু। কাদের সঙ্গে জানি চেনাশোনাও আছে। তারা নাকি প্রচুর প্রভাবশালী, টাকার জোর আছে - তাহলেও লোক ভালো। অমল বলতো, “কিছু ভেবো না খুড়ো, একবার আমাদের হাতে ক্ষমতা আসতে দাও, তারপর দেখো।” তখন অমলকে কত বাবা-বাছা বলে ডাকতো রামু। কতো ভালোবাসতো। আগের ইলেকশনে বিপুল ভোটে জয়ী করলো তাকে। তার কিছু দিন পর সপরিবারে শহরে চলে গেল অমল। ওখানে থাকলেই নাকি সে গ্রামের জন্যে বেশি সাহায্য করতে পারবে। তারপর থেকে বলতে গেলে আর তার দেখাই পাওয়া যায় না। সে নাকি ভীষণ ব্যস্ত। এত ব্যস্ত যে নিজের বাস্তু ভিটেটাকেই দেখবার সময় পায়না?
সূর্যের সাথে রামুর গলাও চড়তে শুরু করেছে। লোকগুলো কি সব বোবা-কালা হয়ে গেছে? অন্যদিন কিছু টাকা তার এরমধ্যেই রোজগার হয়ে যায়। “দিন আনি দিন খাই” - এ ভাবেই কোনোরকমে সংসার চলে যায়। আজ যে ভাঁড়ে মা ভবানী। রামুর মনে কতই আশা ছিল যে আবার জমি ফিরে পাবে, চাষ করবে। কিন্তু হারামজাদা অমলের যে পাত্তাই নেই! এদিকে শোনা যায় তার কাজে সন্তুষ্ট হয়ে দল নাকি তাকে আগামী-বার আরও বড় পদের জন্য ভোটে দাঁড় করাচ্ছে। জিততে পারলে অমল নাকি হয়ে যাবে তাদের দলপতির ডান হাত। তখন তার প্রতাপ দেখে কে! আচ্ছা, তখন অমল তার গাঁয়ের দিকে ফিরে তাকাবে তো?
কিন্তু সে তো কালকের কথা, তাই শুকিয়ে কাঠ হওয়া সত্ত্বেও গলা ফাটিয়ে গান গাইতে থাকে রামু - তার গান আজকে লোকের কানে পৌঁছে দিতেই হবে।
Friday, May 30, 2014
আমাদের হোস্টেলে Hall Day উপলক্ষে বাৎসরিক একটি ম্যাগাজিন বের করা হয় -- Sphota। তারই দ্বিতীয় এডিশনে (২০১০-২০১১) আমার নিম্নলিখিত গল্পটি প্রকাশ পায়। সামান্য পরিমার্জিত করে এখানে দিয়ে দিলাম, আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।
"গুণধর"
রজনীকান্ত পড়েছে বিশাল বিপদে। পরীক্ষা শুরু হয়েছে এক ঘণ্টা হতে চললো, কিন্তু এখনও সে খাতায় একটা দাগ পর্যন্ত কাটতে পারলো না। অঙ্কে সে বরাবরই কাঁচা, তার উপর অ্যানুয়াল পরীক্ষার কোশ্চেনটাও হয়েছে হাফ-ইয়ারলির চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। অবশ্য হাফ-ইয়ারলির স্ট্যান্ডার্ডের হলেও রজনীকান্ত তাতে পাশ করতে পারতো না – কারণ, হাফ-ইয়ারলিতে অঙ্কে তার নম্বর ছিল মোটে ১২। অ্যানুয়ালে একটা ফাটাফাটি কিছু করে উঠতে না পারলে যে এ বছর তার আর পরের ক্লাসে প্রমোশন হবে না, তা রজনীকান্ত ভালো করেই জানে। তাই পরীক্ষার প্রস্তুতিও সে বরাবরের চেয়ে অনেক বেশি করেই করেছিলো। কিন্তু অঙ্ক যে তার মাথায় ঢোকে না মোটেই, অগত্যা… কথায় আছে – “আশায় বাঁচে চাষা”। তাই, তেত্রিশ কোটি দেবদেবীকে স্মরণ করে রজনীকান্ত পরীক্ষা হলে ঢুকেছিলো, যদি দেবকৃপায় তার একটা হিল্লে হয়ে যায়। কিন্তু তাঁরা যে এভাবে ভক্তকে ফেলে পিঠটান দেবেন তা কে জানতো?
অনেকের মনে হতে পারে যে রজনীকান্ত বুঝি মন দিয়ে পড়াশোনা করে না, একই ক্লাসে বার কয়েক গাড্ডু খায় – কিন্তু এমনটা মোটেই নয়। ক্লাস সিক্স থেকে সেভেনে সে ফার্স্ট হয়ে উঠেছে। তাই যখন সে হাফ-ইয়ারলি পরীক্ষায় অঙ্কে ১২ এবং অন্যান্য সাবজেক্টে তথৈবচ নম্বর পেল, তা দেখে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, রজনীকান্তের বাবা-মা, সহপাঠীরা, সকলেই বেশ অবাক হয়। অনেকে ভাবে ফার্স্ট হয়ে রজনীকান্ত পড়াশোনাকে হেলাফেলা করছে। আসল কারণটা যে ঠিক কি, তা কেউ বুঝতে পারেনা। রজনীকান্ত নিজের সাফল্যের রহস্য ভালো করেই জানে, তাই সে কিছুটা শক্ড হলেও সারপ্রাইজ্ড নয় মোটেই। ক্লাস সিক্সে ওর পরীক্ষা এতো ভালো হবে যে একেবারে প্রথম হয়ে যাবে, তা যদি আগে থেকে জানতে পারতো, তাহলে অত ভালো পরীক্ষা সে কখনোই দিত না। প্রয়োজন মতো ইচ্ছে করে কিছু উত্তর বা বানান ভুল করে আসতো। শেষ পর্যন্ত ফার্স্ট হওয়াটাই রজনীকান্তের কাল হল।
রজনীকান্ত ক্লাস থ্রি ফোর থেকে বরাবরই ভালো রেজাল্ট করে আসছে। কিন্তু ক্লাসের টপার সে গতবছর পরীক্ষার আগে কখনোই ছিল না। রজনীকান্ত এককালে পড়াশোনা করতো বেশ মন দিয়েই, কিন্তু শত চেষ্টাতেও পড়া কখনোই তার ঠিকমতো তৈরি হতো না। তাই ক্লাস থ্রির অ্যানুয়াল পরীক্ষায় খানিকটা মরিয়া হয়েই রজনীকান্ত তার সামনে বসে থাকা অর্ণবের খাতা থেকে টোকা শুরু করে। না, টুকলি করতে রজনীকান্তের বিশেষ একটা অসুবিধা পোয়াতে হয়নি। বরং ব্যাপারটা তার বেশ সহজ বলেই মনে হয়। অর্ণব কোনো উত্তরে আটকে গেলে, অর্ণবকে ছাড়িয়ে রজনীকান্তের দৃষ্টি চলে যায় অর্ণবের সামনে বসে থাকা সুস্মিতের খাতার দিকে। সুস্মিতের সামনে বসা রমেশের খাতার সূক্ষ্ম হাতের লেখা পড়তেও বিশেষ বেগ পেতে হয়না রজনীকান্তের। আগামী পরীক্ষাগুলিতে রজনীকান্ত সহজাত প্রতিভায় অনায়াসেই দক্ষতা লাভ করে। ক্রমশ সে নিজের কর্মক্ষমতার আরও উন্নতি ঘটায়। এখন আর তাকে খাতায় লেখা অক্ষরগুলো পড়তে হয়না – সহপাঠীদের পেন ধরা, হাত চালানো দেখেই কে কি লিখছে, রজনীকান্ত নির্ভুল আন্দাজ করে নিতে পারে। অবশ্য আন্দাজ যদি নির্ভুল হয়, তবে তাকে কি আর আন্দাজ বলা যেতে পারে?
রজনীকান্তের স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রত্যেক বছর রোল নাম্বার নির্ধারণ করা হয় তাদের বর্তমান পরীক্ষায় অর্জিত স্থানের ওপর ভিত্তি করে। আর, পরীক্ষার সময় তাদের বসানোও হয় এই রোল নাম্বার অনুযায়ী। তাই আজ রজনীকান্তের এই দশা। প্রত্যেক বছর সে পেছনের সারি থেকে ধাপে ধাপে সামনে এগিয়ে এসেছে। আর গত বছর প্রথম হওয়ার ফলে এবছর প্রথম বেঞ্চটা তার জন্যেই নির্ধারিত। এ মুহূর্তে রজনীকান্তের সামনে যিনি বসে আছেন, তিনি তাদের ক্লাস টিচার মৃত্যুঞ্জয়বাবু – ভারী গম্ভীর লোক, কোনরকম বেয়াদবি সহ্য করেন না। ডায়াসের উপর নিজের চেয়ারে বসে তিনি সকলের ওপর কড়া নজর রেখে চলেছেন। হাফ-ইয়ারলির রেজাল্ট তো সবাই জানেই! অ্যানুয়ালের রেজাল্টও যদি অনুরূপ হয়, তাহলে রজনীকান্তের ক্লাস সেভেনে থেকে যাওয়া ঠেকায় কে? ফার্স্ট বয় থেকে একেবারে ফেল বয়! ছিঃ ছিঃ, লজ্জার একশেষ। অবশ্য তারই মধ্যে সান্ত্বনার কথা একটাই যে, নিয়মানুযায়ী সেক্ষেত্রে রজনীকান্তের স্থান হবে একেবারে লাস্ট বেঞ্চে। মানে, একবারের বেশি দু’বার তাকে আর ফেল করতে হবে না। এইসব ছাইপাঁশ ভাবতে ভাবতে আরও আধঘণ্টা কেটে গেছে। তবুও একবারই বা ফেল করতে কে চায়? একটা শেষ চেষ্টা করলে হয়না?
রজনীকান্ত নিজের ঘাড়টা পিছনদিকে ঘুরিয়েছে কি ঘুরোয়নি, মৃত্যুঞ্জয়বাবু হেঁকে উঠলেন – "রজনীকান্ত, খাতা নিয়ে উঠে এসো।" যাঃ, আজ আর তবে নিস্তার নেই, নির্ঘাৎ ফেল। রজনীকান্ত খাতা পেন নিয়ে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়। মৃত্যুঞ্জয়বাবু নিজের চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে চেয়ারের দিকে আঙুল দেখিয়ে বললেন – "এখানে এসে বসো।" স্যারের হুকুম অমান্য করেই বা কি করে রজনীকান্ত, তার ঘাড়ে তো আর দু’টো মাথা নেই। আস্তে আস্তে স্যারের টেবিলে খাতা রেখে, চেয়ারে এসে বসে। রজনীকান্ত লক্ষ্য করে, সহপাঠীরা মিটিমিটি হাসছে। ফার্স্ট বয়কে হেনস্থা হতে দেখতে কার না ভালো লাগে? রজনীকান্তের দু’কান লাল হয়ে ওঠে। অবশ্য বসে থেকে লাভই বা কি? শেষ পর্যন্ত তো সাদা খাতাই জমা দিতে হবে, মনে মনে ভাবে রজনীকান্ত। কিন্তু একি? এখান থেকে তো সকলের খাতাই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। মানে, কে কি লিখছে, চেষ্টা করলেই বোঝা যায়। সাধারণতঃ যা দেখতে রজনীকান্ত অভ্যস্ত, উল্টোদিক থেকে তা একটু কষ্টকর; কিন্তু কথাতেই তো আছে – “কষ্ট না করলে কেষ্ট মেলেনা।” নিজেকে মানিয়ে নিতে মিনিট খানেক সময় লাগে রজনীকান্তের। তারপরই তার হাত চলতে থাকে দ্রুতগতিতে।
"গুণধর"
রজনীকান্ত পড়েছে বিশাল বিপদে। পরীক্ষা শুরু হয়েছে এক ঘণ্টা হতে চললো, কিন্তু এখনও সে খাতায় একটা দাগ পর্যন্ত কাটতে পারলো না। অঙ্কে সে বরাবরই কাঁচা, তার উপর অ্যানুয়াল পরীক্ষার কোশ্চেনটাও হয়েছে হাফ-ইয়ারলির চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। অবশ্য হাফ-ইয়ারলির স্ট্যান্ডার্ডের হলেও রজনীকান্ত তাতে পাশ করতে পারতো না – কারণ, হাফ-ইয়ারলিতে অঙ্কে তার নম্বর ছিল মোটে ১২। অ্যানুয়ালে একটা ফাটাফাটি কিছু করে উঠতে না পারলে যে এ বছর তার আর পরের ক্লাসে প্রমোশন হবে না, তা রজনীকান্ত ভালো করেই জানে। তাই পরীক্ষার প্রস্তুতিও সে বরাবরের চেয়ে অনেক বেশি করেই করেছিলো। কিন্তু অঙ্ক যে তার মাথায় ঢোকে না মোটেই, অগত্যা… কথায় আছে – “আশায় বাঁচে চাষা”। তাই, তেত্রিশ কোটি দেবদেবীকে স্মরণ করে রজনীকান্ত পরীক্ষা হলে ঢুকেছিলো, যদি দেবকৃপায় তার একটা হিল্লে হয়ে যায়। কিন্তু তাঁরা যে এভাবে ভক্তকে ফেলে পিঠটান দেবেন তা কে জানতো?
অনেকের মনে হতে পারে যে রজনীকান্ত বুঝি মন দিয়ে পড়াশোনা করে না, একই ক্লাসে বার কয়েক গাড্ডু খায় – কিন্তু এমনটা মোটেই নয়। ক্লাস সিক্স থেকে সেভেনে সে ফার্স্ট হয়ে উঠেছে। তাই যখন সে হাফ-ইয়ারলি পরীক্ষায় অঙ্কে ১২ এবং অন্যান্য সাবজেক্টে তথৈবচ নম্বর পেল, তা দেখে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, রজনীকান্তের বাবা-মা, সহপাঠীরা, সকলেই বেশ অবাক হয়। অনেকে ভাবে ফার্স্ট হয়ে রজনীকান্ত পড়াশোনাকে হেলাফেলা করছে। আসল কারণটা যে ঠিক কি, তা কেউ বুঝতে পারেনা। রজনীকান্ত নিজের সাফল্যের রহস্য ভালো করেই জানে, তাই সে কিছুটা শক্ড হলেও সারপ্রাইজ্ড নয় মোটেই। ক্লাস সিক্সে ওর পরীক্ষা এতো ভালো হবে যে একেবারে প্রথম হয়ে যাবে, তা যদি আগে থেকে জানতে পারতো, তাহলে অত ভালো পরীক্ষা সে কখনোই দিত না। প্রয়োজন মতো ইচ্ছে করে কিছু উত্তর বা বানান ভুল করে আসতো। শেষ পর্যন্ত ফার্স্ট হওয়াটাই রজনীকান্তের কাল হল।
রজনীকান্ত ক্লাস থ্রি ফোর থেকে বরাবরই ভালো রেজাল্ট করে আসছে। কিন্তু ক্লাসের টপার সে গতবছর পরীক্ষার আগে কখনোই ছিল না। রজনীকান্ত এককালে পড়াশোনা করতো বেশ মন দিয়েই, কিন্তু শত চেষ্টাতেও পড়া কখনোই তার ঠিকমতো তৈরি হতো না। তাই ক্লাস থ্রির অ্যানুয়াল পরীক্ষায় খানিকটা মরিয়া হয়েই রজনীকান্ত তার সামনে বসে থাকা অর্ণবের খাতা থেকে টোকা শুরু করে। না, টুকলি করতে রজনীকান্তের বিশেষ একটা অসুবিধা পোয়াতে হয়নি। বরং ব্যাপারটা তার বেশ সহজ বলেই মনে হয়। অর্ণব কোনো উত্তরে আটকে গেলে, অর্ণবকে ছাড়িয়ে রজনীকান্তের দৃষ্টি চলে যায় অর্ণবের সামনে বসে থাকা সুস্মিতের খাতার দিকে। সুস্মিতের সামনে বসা রমেশের খাতার সূক্ষ্ম হাতের লেখা পড়তেও বিশেষ বেগ পেতে হয়না রজনীকান্তের। আগামী পরীক্ষাগুলিতে রজনীকান্ত সহজাত প্রতিভায় অনায়াসেই দক্ষতা লাভ করে। ক্রমশ সে নিজের কর্মক্ষমতার আরও উন্নতি ঘটায়। এখন আর তাকে খাতায় লেখা অক্ষরগুলো পড়তে হয়না – সহপাঠীদের পেন ধরা, হাত চালানো দেখেই কে কি লিখছে, রজনীকান্ত নির্ভুল আন্দাজ করে নিতে পারে। অবশ্য আন্দাজ যদি নির্ভুল হয়, তবে তাকে কি আর আন্দাজ বলা যেতে পারে?
রজনীকান্তের স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রত্যেক বছর রোল নাম্বার নির্ধারণ করা হয় তাদের বর্তমান পরীক্ষায় অর্জিত স্থানের ওপর ভিত্তি করে। আর, পরীক্ষার সময় তাদের বসানোও হয় এই রোল নাম্বার অনুযায়ী। তাই আজ রজনীকান্তের এই দশা। প্রত্যেক বছর সে পেছনের সারি থেকে ধাপে ধাপে সামনে এগিয়ে এসেছে। আর গত বছর প্রথম হওয়ার ফলে এবছর প্রথম বেঞ্চটা তার জন্যেই নির্ধারিত। এ মুহূর্তে রজনীকান্তের সামনে যিনি বসে আছেন, তিনি তাদের ক্লাস টিচার মৃত্যুঞ্জয়বাবু – ভারী গম্ভীর লোক, কোনরকম বেয়াদবি সহ্য করেন না। ডায়াসের উপর নিজের চেয়ারে বসে তিনি সকলের ওপর কড়া নজর রেখে চলেছেন। হাফ-ইয়ারলির রেজাল্ট তো সবাই জানেই! অ্যানুয়ালের রেজাল্টও যদি অনুরূপ হয়, তাহলে রজনীকান্তের ক্লাস সেভেনে থেকে যাওয়া ঠেকায় কে? ফার্স্ট বয় থেকে একেবারে ফেল বয়! ছিঃ ছিঃ, লজ্জার একশেষ। অবশ্য তারই মধ্যে সান্ত্বনার কথা একটাই যে, নিয়মানুযায়ী সেক্ষেত্রে রজনীকান্তের স্থান হবে একেবারে লাস্ট বেঞ্চে। মানে, একবারের বেশি দু’বার তাকে আর ফেল করতে হবে না। এইসব ছাইপাঁশ ভাবতে ভাবতে আরও আধঘণ্টা কেটে গেছে। তবুও একবারই বা ফেল করতে কে চায়? একটা শেষ চেষ্টা করলে হয়না?
রজনীকান্ত নিজের ঘাড়টা পিছনদিকে ঘুরিয়েছে কি ঘুরোয়নি, মৃত্যুঞ্জয়বাবু হেঁকে উঠলেন – "রজনীকান্ত, খাতা নিয়ে উঠে এসো।" যাঃ, আজ আর তবে নিস্তার নেই, নির্ঘাৎ ফেল। রজনীকান্ত খাতা পেন নিয়ে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়। মৃত্যুঞ্জয়বাবু নিজের চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে চেয়ারের দিকে আঙুল দেখিয়ে বললেন – "এখানে এসে বসো।" স্যারের হুকুম অমান্য করেই বা কি করে রজনীকান্ত, তার ঘাড়ে তো আর দু’টো মাথা নেই। আস্তে আস্তে স্যারের টেবিলে খাতা রেখে, চেয়ারে এসে বসে। রজনীকান্ত লক্ষ্য করে, সহপাঠীরা মিটিমিটি হাসছে। ফার্স্ট বয়কে হেনস্থা হতে দেখতে কার না ভালো লাগে? রজনীকান্তের দু’কান লাল হয়ে ওঠে। অবশ্য বসে থেকে লাভই বা কি? শেষ পর্যন্ত তো সাদা খাতাই জমা দিতে হবে, মনে মনে ভাবে রজনীকান্ত। কিন্তু একি? এখান থেকে তো সকলের খাতাই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। মানে, কে কি লিখছে, চেষ্টা করলেই বোঝা যায়। সাধারণতঃ যা দেখতে রজনীকান্ত অভ্যস্ত, উল্টোদিক থেকে তা একটু কষ্টকর; কিন্তু কথাতেই তো আছে – “কষ্ট না করলে কেষ্ট মেলেনা।” নিজেকে মানিয়ে নিতে মিনিট খানেক সময় লাগে রজনীকান্তের। তারপরই তার হাত চলতে থাকে দ্রুতগতিতে।
Thursday, May 29, 2014
আবার হিন্দী ভাষায় কথা বলার প্রসঙ্গে ফিরে যাই।
একবার এক অবাঙালি বন্ধুর সাথে কথোপকথনের সময় কি কারণে -- "কারো পৌষমাস তো কারো সর্বনাশ" -- এই প্রবাদ বাক্যটি বলার প্রয়োজনীয়তা বোধ করি। অবাঙালি বন্ধু তো আর "পৌষমাস" বললে বুঝবে না, তাই -- "কিসি কা সর্বনাশ তো কিসি কা ক্রিসমাস" -- এই বলে ব্যাপারটা ম্যানেজ করে দিই।
Wednesday, May 28, 2014
নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার জন্য আমরা প্রায়শই কথার মাঝে প্রবাদ বাক্যের ব্যবহার করে থাকি। আমাদের গুরুজনেরাও করতেন -- তাই তো আজ এই বাক্যগুলি "প্রবাদ" হয়ে উঠেছে। তবে কিনা শুধু বক্তব্য নয়, আলাদা আলাদা মনের ভাব প্রকাশের জন্যেও এরা প্রাসঙ্গিক। যেমন ধরুন "দাঁত থাকতে কেউ দাঁতের মর্যাদা বোঝে না" আর "ভালোবাসা না হারালে কেউ ভালবাসার গভীরতা বোঝে না" -- এই দুটি প্রবাদ বাক্যের বক্তব্য এক হলেও ক্ষেত্র বিশেষে এরা প্রযোজ্য।
পার্থদার কাছে আমি অনেক নতুন প্রবাদ বাক্য শিখেছি, তার কিছু এখানে লিখে রাখলাম। এগুলি হয়তো বা প্রচলিত, কিন্তু আমার আগে জানা ছিল না। আপনারা যারা এগুলির সমার্থক অন্য কোনো প্রবাদ জানেন, তারাও নিশ্চয়ই এদের অনন্যতা স্বীকার করবেন। আশা করি আপনারা এই প্রবাদ বাক্যগুলি পড়েই এদের মানে বুঝতে পারবেন এবং ভবিষ্যতে ব্যবহারিক প্রয়োগ করবেন।
(১) "একদিনের বৈরাগী ভাতেরে কয় অন্ন।"
(২) "মোটে মা-য়ে রাঁধে না, তপ্ত না পান্তা।"
(৩) "পড়লো কথা সবার মাঝে, যার কথা তার প্রাণে বাজে।"
******************************************
আমাদের ল্যাবের শুভঙ্করদা একবার একটা বেশ মজার (গুরুচন্ডাল দোষযুক্ত) প্রবাদ বলেছিল -- "অভাগা যেদিকে চায়, oceans become dry"।
পার্থদার কাছে আমি অনেক নতুন প্রবাদ বাক্য শিখেছি, তার কিছু এখানে লিখে রাখলাম। এগুলি হয়তো বা প্রচলিত, কিন্তু আমার আগে জানা ছিল না। আপনারা যারা এগুলির সমার্থক অন্য কোনো প্রবাদ জানেন, তারাও নিশ্চয়ই এদের অনন্যতা স্বীকার করবেন। আশা করি আপনারা এই প্রবাদ বাক্যগুলি পড়েই এদের মানে বুঝতে পারবেন এবং ভবিষ্যতে ব্যবহারিক প্রয়োগ করবেন।
(১) "একদিনের বৈরাগী ভাতেরে কয় অন্ন।"
(২) "মোটে মা-য়ে রাঁধে না, তপ্ত না পান্তা।"
(৩) "পড়লো কথা সবার মাঝে, যার কথা তার প্রাণে বাজে।"
******************************************
আমাদের ল্যাবের শুভঙ্করদা একবার একটা বেশ মজার (গুরুচন্ডাল দোষযুক্ত) প্রবাদ বলেছিল -- "অভাগা যেদিকে চায়, oceans become dry"।
Tuesday, May 27, 2014
গতকাল পার্থদার Synopsis সেমিনার ভালো ভাবেই হয়ে গেছে, তাই এখন তার মনে বেশ ফূর্তি। এই আনন্দের রেশ থাকতে থাকতেই সাহস করে এই কথাগুলো লিখে দিই:
পার্থদার হিন্দী অতুলনীয়। বিশ্বাস না হলে এই উদাহরণগুলোই ধরুন।
(১) সে ঘুমোচ্ছে -- বো ঘুম রাহা হ্যায়।
(২) ছুঁড়ে মারবো -- ছোড় কর মারুঙ্গা।
(৩) ঘেমে আছি -- ঘামা ঘামা হু।
(৪) একদিন ছাগলের হিন্দী 'বকরী' এটা মনে না আসায় এক অবাঙালি বন্ধুকে বলেছিল -- "আরে ছাগল নেহী সমঝতা, যো পাতা হ্যায় বো খাতা হ্যায়।"
ফেসবুকে পাবলিক ডিমান্ডের জন্য এই ঘটনাটি যোগ করছি। হিন্দী না জানার ফল যে কতো দুঃখজনক হতে পারে - এ ঘটনাটি তারই পরিচায়ক।
পার্থদা সরস্বতী পুজোর দিন একটি অবাঙালি মেয়েকে সন্ধ্যারতির সময় আসবে কি না জিজ্ঞেস করতে গেছে। পার্থদার হিন্দীর দৌড় যে কদ্দূর সেটা পার্থদা নিজেও জানে, তাই সহজ করে মেয়েটিকে বললো -- "তুম রাত কো আনা।" মেয়েটি পার্থদার কথার কি ইঙ্গিত বুঝলো কে জানে -- তবে আমরা জানি যে এভাবে সূচনাতেই তাদের সম্পর্কের ইতি ঘটেছিল।
(যদি আমার তেমন কিছু ঘটে যায় তাহলে জানবেন এর জন্যে দায়ী - পার্থদা ও আমার দুঃসাহসিকতা।)
পার্থদার হিন্দী অতুলনীয়। বিশ্বাস না হলে এই উদাহরণগুলোই ধরুন।
(১) সে ঘুমোচ্ছে -- বো ঘুম রাহা হ্যায়।
(২) ছুঁড়ে মারবো -- ছোড় কর মারুঙ্গা।
(৩) ঘেমে আছি -- ঘামা ঘামা হু।
(৪) একদিন ছাগলের হিন্দী 'বকরী' এটা মনে না আসায় এক অবাঙালি বন্ধুকে বলেছিল -- "আরে ছাগল নেহী সমঝতা, যো পাতা হ্যায় বো খাতা হ্যায়।"
ফেসবুকে পাবলিক ডিমান্ডের জন্য এই ঘটনাটি যোগ করছি। হিন্দী না জানার ফল যে কতো দুঃখজনক হতে পারে - এ ঘটনাটি তারই পরিচায়ক।
পার্থদা সরস্বতী পুজোর দিন একটি অবাঙালি মেয়েকে সন্ধ্যারতির সময় আসবে কি না জিজ্ঞেস করতে গেছে। পার্থদার হিন্দীর দৌড় যে কদ্দূর সেটা পার্থদা নিজেও জানে, তাই সহজ করে মেয়েটিকে বললো -- "তুম রাত কো আনা।" মেয়েটি পার্থদার কথার কি ইঙ্গিত বুঝলো কে জানে -- তবে আমরা জানি যে এভাবে সূচনাতেই তাদের সম্পর্কের ইতি ঘটেছিল।
(যদি আমার তেমন কিছু ঘটে যায় তাহলে জানবেন এর জন্যে দায়ী - পার্থদা ও আমার দুঃসাহসিকতা।)
Monday, May 26, 2014
পুজোর ছুটি তখন সবে পড়েছে। একদিন বিকেলে বাড়ির সামনের মাঠে খেলা শেষ হওয়ার পর...
উজ্জ্বল: "ঠিকই বলেছিস। তবে তৃতীয়টার ক্ষেত্রে বোধহয় 'কু' থাকাটাই মঙ্গলজনক, না থাকলেই মুশকিল।"
পরাক্রম: "কিরে এবার পুজোয় কোথায় যাবি ?"
আমি: "মামা বাড়ি, বাঁকুড়ায়।"
পরাক্রম: "তোর কি ভাই সবেতেই 'কু'? ভালো নাম - 'কুণাল', ডাক নাম - 'পুকুন', কোথায় বেড়াতে যাবি - 'বাঁকুড়া'।"
আমি আর কি বলবো, চুপ করে আছি। আমাদের পাশে আরেক বন্ধু উজ্জ্বল বসে ছিল।আমি: "মামা বাড়ি, বাঁকুড়ায়।"
পরাক্রম: "তোর কি ভাই সবেতেই 'কু'? ভালো নাম - 'কুণাল', ডাক নাম - 'পুকুন', কোথায় বেড়াতে যাবি - 'বাঁকুড়া'।"
উজ্জ্বল: "ঠিকই বলেছিস। তবে তৃতীয়টার ক্ষেত্রে বোধহয় 'কু' থাকাটাই মঙ্গলজনক, না থাকলেই মুশকিল।"
Sunday, May 25, 2014
কলেজের
ফাইনাল ইয়ারের এক ছাত্র গেছে ডাক্তার দেখাতে। পরীক্ষা করে ডাক্তার তাকে
একটাই নির্দেশ দেন -- বেশী করে জল খেতে হবে। ছাত্রটি জানায় যে সে এই
নির্দেশ পালন করতে অপারগ। কারণ জিজ্ঞেস করলে পরে সে জানায় যে হোস্টেলে তার
রুমমেট একটি জুনিয়র ছাত্র আর রুমে জল ভরে আনার দ্বায়িত্ব সর্বদাই জুনিয়রের,
কিন্তু তার রুমমেটটি সব সময় রুমে জল ভরে আনে না -- এমনই নির্দেশ
অমান্যকারী বদমায়েশ জুনিয়র পড়েছে তার ভাগ্যে।
Saturday, May 24, 2014
সহপাঠীদের অনুরোধে এই কথাগুলো লিখছি।
ঘটনাগুলিতে চরিত্র ২টি: আমাদের ডিপার্টমেন্টের এক পোড় খাওয়া পি.এইচ.ডি স্কলার - নাম বলা বারণ তাই আজ সে 'দীপক' (নামটাও সহপাঠীদেরই পছন্দ করা) আর তার পি.এইচ.ডি গাইড - ওনার 'গাইড' নামটাই থাক।
বহুদিন আগে গাইডের কাছে দেওয়া একটি পেপারের কারেকশন সংগ্রহ করতে গিয়ে দীপকদা দেখে যে পুরো পেপারটায় শুধু একটা প্যারাগ্রাফ গোল করেছেন গাইড।
দীপকদা: "এই প্যারাগ্রাফটা কি পেপার থেকে বাদ দিয়ে দেব?"
গাইড: "না, ওই প্যারাগ্রাফটাই শুধু ভালো করে লেখা হয়েছে। ওইটাকে রেখে বাকি পেপারটা আবার লিখে নিয়ে এসো।"
ভবিষ্যতে দীপকদা প্রচুর পেপার পাবলিশ করেছে - তবে সবই কনফারেন্সে, তখনো অবধি একটাও পেপার জার্নালে ছিল না।
গাইড: "তুমি যদি ১০০টা পেপার কনফারেন্সে পাবলিশ করো তাও আমি তোমায় ছাড়বো না।"
দীপকদা: "তাহলে আমি ১০১টা পেপার কনফারেন্সে পাবলিশ করবো।"
ঘটনাগুলিতে চরিত্র ২টি: আমাদের ডিপার্টমেন্টের এক পোড় খাওয়া পি.এইচ.ডি স্কলার - নাম বলা বারণ তাই আজ সে 'দীপক' (নামটাও সহপাঠীদেরই পছন্দ করা) আর তার পি.এইচ.ডি গাইড - ওনার 'গাইড' নামটাই থাক।
বহুদিন আগে গাইডের কাছে দেওয়া একটি পেপারের কারেকশন সংগ্রহ করতে গিয়ে দীপকদা দেখে যে পুরো পেপারটায় শুধু একটা প্যারাগ্রাফ গোল করেছেন গাইড।
দীপকদা: "এই প্যারাগ্রাফটা কি পেপার থেকে বাদ দিয়ে দেব?"
গাইড: "না, ওই প্যারাগ্রাফটাই শুধু ভালো করে লেখা হয়েছে। ওইটাকে রেখে বাকি পেপারটা আবার লিখে নিয়ে এসো।"
ভবিষ্যতে দীপকদা প্রচুর পেপার পাবলিশ করেছে - তবে সবই কনফারেন্সে, তখনো অবধি একটাও পেপার জার্নালে ছিল না।
গাইড: "তুমি যদি ১০০টা পেপার কনফারেন্সে পাবলিশ করো তাও আমি তোমায় ছাড়বো না।"
দীপকদা: "তাহলে আমি ১০১টা পেপার কনফারেন্সে পাবলিশ করবো।"
Friday, May 23, 2014
বাস: পর্ব ৩
"সোজা উল্টো, সোজা উল্টো" - চেঁচিয়ে চলেছে কন্ডাকটর। বাসও ছুটে চলেছে বাইপাস ধরে সোজা উল্টোডাঙা।
স্টপেজ এলেই ড্রাইভার জোরে ব্রেক কসছে, যাত্রীরা বেসামাল হয়ে গড়িয়ে পড়ছে, আর কন্ডাকটর বাসে আরো লোক উঠিয়ে যাচ্ছে।
কিছুক্ষণ পর এক যাত্রী বিরক্ত হয়ে ড্রাইভাররের উদ্দেশ্যে চেঁচিয়ে উঠলেন - "এটা কি হচ্ছে। প্রত্যেকটা স্টপেজে জোরে ব্রেক কসে বাস দাঁড় করাচ্ছ আর লোক উঠিয়েই যাচ্ছ, এদিকে যাত্রীরা যে ভালো করে দাঁড়াতেই পারছে না।"
পাশ থেকে আরেক যাত্রী শান্ত গলায় বললেন - "আরে, আপনি এর পিছনের বিজ্ঞানটাকে ধরতে পারছেন না। ধরুন আপনি বাড়িতে মুড়ির টিনে মুড়ি ঢালছেন। কিছুক্ষণ পর দেখলেন আর ঢালার মতো জায়গা নেই। তখন কি করেন? টিনটাকে একটু নড়িয়ে দেন, ব্যস তাহলেই দেখবেন ওই টিনে আরো মুড়ি ঢালতে পারছেন। এখানেও তো সেই এক কেস।"
"সোজা উল্টো, সোজা উল্টো" - চেঁচিয়ে চলেছে কন্ডাকটর। বাসও ছুটে চলেছে বাইপাস ধরে সোজা উল্টোডাঙা।
স্টপেজ এলেই ড্রাইভার জোরে ব্রেক কসছে, যাত্রীরা বেসামাল হয়ে গড়িয়ে পড়ছে, আর কন্ডাকটর বাসে আরো লোক উঠিয়ে যাচ্ছে।
কিছুক্ষণ পর এক যাত্রী বিরক্ত হয়ে ড্রাইভাররের উদ্দেশ্যে চেঁচিয়ে উঠলেন - "এটা কি হচ্ছে। প্রত্যেকটা স্টপেজে জোরে ব্রেক কসে বাস দাঁড় করাচ্ছ আর লোক উঠিয়েই যাচ্ছ, এদিকে যাত্রীরা যে ভালো করে দাঁড়াতেই পারছে না।"
পাশ থেকে আরেক যাত্রী শান্ত গলায় বললেন - "আরে, আপনি এর পিছনের বিজ্ঞানটাকে ধরতে পারছেন না। ধরুন আপনি বাড়িতে মুড়ির টিনে মুড়ি ঢালছেন। কিছুক্ষণ পর দেখলেন আর ঢালার মতো জায়গা নেই। তখন কি করেন? টিনটাকে একটু নড়িয়ে দেন, ব্যস তাহলেই দেখবেন ওই টিনে আরো মুড়ি ঢালতে পারছেন। এখানেও তো সেই এক কেস।"
Thursday, May 22, 2014
Wednesday, May 21, 2014
Tuesday, May 20, 2014
দিব্যেন্দু: পর্ব ৫
দিব্যেন্দু তখন সিকিমের একটি কলেজের প্রফেসর। কিছু বন্ধু দিব্যেন্দুর বাড়ি বেড়াতে গেছে। দিব্যেন্দুর ঘরের জানলা দিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। সেদিন মেঘ করেছে, পাহারচূড়া ভালো করে দেখা যাচ্ছে না। দিব্যেন্দু সেই "নৈসর্গিক" দৃশ্য দেখে একটি অপূর্ব তুলনা টেনে বললো - "উফ, মেঘে ঢাকা কাঞ্চনজঙ্ঘা -- যেন চুড়িদার পরা কার্মেন ইলেক্ট্রা।"
দিব্যেন্দু তখন সিকিমের একটি কলেজের প্রফেসর। কিছু বন্ধু দিব্যেন্দুর বাড়ি বেড়াতে গেছে। দিব্যেন্দুর ঘরের জানলা দিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। সেদিন মেঘ করেছে, পাহারচূড়া ভালো করে দেখা যাচ্ছে না। দিব্যেন্দু সেই "নৈসর্গিক" দৃশ্য দেখে একটি অপূর্ব তুলনা টেনে বললো - "উফ, মেঘে ঢাকা কাঞ্চনজঙ্ঘা -- যেন চুড়িদার পরা কার্মেন ইলেক্ট্রা।"
Monday, May 19, 2014
দিব্যেন্দু: পর্ব ৪
ঘটনাস্থল: একটি বার ও রেস্টুরেন্ট।
বিশ্বকাপ ফুটবল আর IPL নিয়ে আলোচনা তখন তুঙ্গে, পেটে জল পড়ায় সবার গলার আওয়াজও স্বাভাবিকের থেকে অনেক বেশি। এর মাঝে দেখা যায় দিব্যেন্দু আর শুভ্র নিজেদের মধ্যে গুজ গুজ ফিস ফিস করে কি আলোচনা করছে। এমন সময় তন্ময়দা হঠাৎ খুব জোরে হেসে উঠে বললো: "জানিস দিব্যেন্দু কি শিক্ষা দিচ্ছে শুভ্রকে? বলছে, "তুই যাকে ভালবাসিস তাকে নয়, যে মেয়ে তোকে ভালবাসে -- তার সাথে প্রেম কর।" "
ঘটনাস্থল: একটি বার ও রেস্টুরেন্ট।
বিশ্বকাপ ফুটবল আর IPL নিয়ে আলোচনা তখন তুঙ্গে, পেটে জল পড়ায় সবার গলার আওয়াজও স্বাভাবিকের থেকে অনেক বেশি। এর মাঝে দেখা যায় দিব্যেন্দু আর শুভ্র নিজেদের মধ্যে গুজ গুজ ফিস ফিস করে কি আলোচনা করছে। এমন সময় তন্ময়দা হঠাৎ খুব জোরে হেসে উঠে বললো: "জানিস দিব্যেন্দু কি শিক্ষা দিচ্ছে শুভ্রকে? বলছে, "তুই যাকে ভালবাসিস তাকে নয়, যে মেয়ে তোকে ভালবাসে -- তার সাথে প্রেম কর।" "
Sunday, May 18, 2014
দিব্যেন্দু: পর্ব ৩
দিব্যেন্দু মেসে বেশ আমেজ করে সিগারেট খাচ্ছে।
এমন সময়, পার্থদা: "জানিস না, সিগারেটের ধোঁয়ায় আমার অসুবিধে হয়। ... সিগারেট খাওয়াটা তো একেবারে ছেড়ে দিতে পারিস।"
অমিতদা: "আমি নিজের গোঁফ বাজি রাখছি, ও যদি সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দেয় তাহলে আমি গোঁফ কেটে দেব।"
দিব্যেন্দু: "আমি কথা দিচ্ছি, তুমি যদি গোঁফের জায়গায় ভালো কিছু কাটার বাজি রাখো তাহলে আমি এক্ষুণি সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দেব।"
দিব্যেন্দু মেসে বেশ আমেজ করে সিগারেট খাচ্ছে।
এমন সময়, পার্থদা: "জানিস না, সিগারেটের ধোঁয়ায় আমার অসুবিধে হয়। ... সিগারেট খাওয়াটা তো একেবারে ছেড়ে দিতে পারিস।"
অমিতদা: "আমি নিজের গোঁফ বাজি রাখছি, ও যদি সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দেয় তাহলে আমি গোঁফ কেটে দেব।"
দিব্যেন্দু: "আমি কথা দিচ্ছি, তুমি যদি গোঁফের জায়গায় ভালো কিছু কাটার বাজি রাখো তাহলে আমি এক্ষুণি সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দেব।"
Saturday, May 17, 2014
দিব্যেন্দু: পর্ব ২
আমার এক ঘনিষ্ট বন্ধুর কার্যকলাপ "দিব্যেন্দু" নামের আড়ালে চালাবার চেষ্টা করছি দেখে এক পাঠক স্বাভাবিক ভাবেই উদ্বিগ্ন হয়ে প্রশ্ন করে যে দিব্যেন্দু এই পোস্ট দেখলে পরে আমাদের সম্পর্কে কি সত্যিই চিড় ধরবে না। এর উত্তরে আমি জানাই যে দিব্যেন্দুর "স্পোর্টসম্যান স্পিরিটের" উপর আমার ভরসা আছে - সে নিশ্চই ব্যাপারটা গায়ে মাখবে না। আমার উত্তরটা পড়ে আমার আরেক বন্ধু দেবমাল্য জানায় যে সে আমার ধারণার সাথে সম্পূর্ণ একমত, তার কারণ:
(১) দিব্যেন্দু নিঃসন্দেহে বড় মাপের স্পোর্টসম্যান।
কম্প্যুটারের কৃত্রিম দুনিয়ায় হোক কি বাস্তবের খেলার মাঠে - দিব্যেন্দু সব সময় এক কথায় খেলতে রাজি। আমরা তার অনেক বিরল কীর্তির সাক্ষী। উদাহরণস্বরূপ একবার আমাদের হোস্টেলের সাথে আরেকটি হোস্টেলের ফুটবল খেলার সময় দিব্যেন্দু খেলার মাঝখানে সাবস্টিটিউট হিসেবে নামে এবং পায়ে বল না লাগিয়েই সম্পূর্ণ একক কৃতিত্বেই উল্টে পড়ে পা ভেঙে ফেলে। আই.আই.টি.-র ইতিহাসে বোধহয় প্রথমবার সাবস্টিটিউটের সাবস্টিটিউট পাঁচ মিনিটের মধ্যে নামাতে হয়।
প্রসঙ্গত আমাদের হোস্টেলের একটি ক্রিকেট খেলার সময় দিব্যেন্দু নিজেই উৎসাহ
নিয়ে একটি ভিডিও ক্যামেরা জোগাড় করে ম্যাচের সাথে নিজের লাইভ কমেন্ট্রি
রেকর্ডিং করে। ম্যাচ শেষে দেখা যায় দিব্যেন্দু "রেকর্ড" বোতামটাই টিপতে
ভুলে গেছে।আমার এক ঘনিষ্ট বন্ধুর কার্যকলাপ "দিব্যেন্দু" নামের আড়ালে চালাবার চেষ্টা করছি দেখে এক পাঠক স্বাভাবিক ভাবেই উদ্বিগ্ন হয়ে প্রশ্ন করে যে দিব্যেন্দু এই পোস্ট দেখলে পরে আমাদের সম্পর্কে কি সত্যিই চিড় ধরবে না। এর উত্তরে আমি জানাই যে দিব্যেন্দুর "স্পোর্টসম্যান স্পিরিটের" উপর আমার ভরসা আছে - সে নিশ্চই ব্যাপারটা গায়ে মাখবে না। আমার উত্তরটা পড়ে আমার আরেক বন্ধু দেবমাল্য জানায় যে সে আমার ধারণার সাথে সম্পূর্ণ একমত, তার কারণ:
(১) দিব্যেন্দু নিঃসন্দেহে বড় মাপের স্পোর্টসম্যান।
কম্প্যুটারের কৃত্রিম দুনিয়ায় হোক কি বাস্তবের খেলার মাঠে - দিব্যেন্দু সব সময় এক কথায় খেলতে রাজি। আমরা তার অনেক বিরল কীর্তির সাক্ষী। উদাহরণস্বরূপ একবার আমাদের হোস্টেলের সাথে আরেকটি হোস্টেলের ফুটবল খেলার সময় দিব্যেন্দু খেলার মাঝখানে সাবস্টিটিউট হিসেবে নামে এবং পায়ে বল না লাগিয়েই সম্পূর্ণ একক কৃতিত্বেই উল্টে পড়ে পা ভেঙে ফেলে। আই.আই.টি.-র ইতিহাসে বোধহয় প্রথমবার সাবস্টিটিউটের সাবস্টিটিউট পাঁচ মিনিটের মধ্যে নামাতে হয়।
(২) দিব্যেন্দু স্পিরিটেও কারুর চেয়ে কম যায় না। (এ ক্ষেত্রেও "বড় মাপের" বিশেষণটা অবশ্যই প্রযোজ্য।)
সে সব ঘটনা না হয় পরে বলবো 'খন।
Friday, May 16, 2014
আমার নরেন্দ্রপুরের এক রুমমেট - নিশান - আমাকে নিয়ে একটি ঘটনা লিখেছিল। সেটি সামান্য পরিমার্জিত করে পোস্ট করলাম।
"এবার আমি একটা ঘটনা বলি, নরেন্দ্রপুরে পড়ি, নরনারায়ন সেবার দিন কুণাল, আমি আর জ্যোতি (অনির্বাণ), গেলাম লাইটহাউসে সিনেমা দেখতে। পকেটে তখন হেবি টান, কুল্লে ৪০০ টাকা হাতখরচা পাই। এর মাঝে লাইটহাউসে কুণাল বায়না ধরলো পপকর্ণ কিনতেই হবে। হলের ভেতর এমনিতেই সবকিছুর দাম বেশী। কুট্টি সাইজের একটা পপকর্ণ কেনা হোলো। যার দাম ৫ টাকা। তা কিনেইছে যখন, আমি আর জ্যোতিও দু এক দানা মুখে দিলাম।
সিনেমা শেষ করে ফেরার সময় আমরা বুঝলাম ফিরে খাওয়া যাবে না আর। তাই মহামায়াতলায় নেমে অ্যাণ্টনদার দোকানে যাওয়া হোলো (যেখানে আমরা ১০% ছাড় পেতাম।) যাই হোক, দোকানে বসে হিসেব হচ্ছে চুলচেরা। কুণাল বলে কি "পপকর্ণের দাম তো পাঁচটাকা, তা আমিই যখন চেয়েছিলাম কিনতে, আমিই বেশীটা দিচ্ছি" অ্যাদ্দূর শুনে আমার আর জ্যোতির মুখে হাসি ফুটতে যাচ্ছিলো, তারপরই শুনলাম "আমি নাহয় দু টাকা দিচ্ছি, তোরা দুজন দেড়টাকা করে দিয়ে দিস" শুনে আমাদের হাসি আমরা আবার কপ করে গিলে ফেললাম।"
"এবার আমি একটা ঘটনা বলি, নরেন্দ্রপুরে পড়ি, নরনারায়ন সেবার দিন কুণাল, আমি আর জ্যোতি (অনির্বাণ), গেলাম লাইটহাউসে সিনেমা দেখতে। পকেটে তখন হেবি টান, কুল্লে ৪০০ টাকা হাতখরচা পাই। এর মাঝে লাইটহাউসে কুণাল বায়না ধরলো পপকর্ণ কিনতেই হবে। হলের ভেতর এমনিতেই সবকিছুর দাম বেশী। কুট্টি সাইজের একটা পপকর্ণ কেনা হোলো। যার দাম ৫ টাকা। তা কিনেইছে যখন, আমি আর জ্যোতিও দু এক দানা মুখে দিলাম।
সিনেমা শেষ করে ফেরার সময় আমরা বুঝলাম ফিরে খাওয়া যাবে না আর। তাই মহামায়াতলায় নেমে অ্যাণ্টনদার দোকানে যাওয়া হোলো (যেখানে আমরা ১০% ছাড় পেতাম।) যাই হোক, দোকানে বসে হিসেব হচ্ছে চুলচেরা। কুণাল বলে কি "পপকর্ণের দাম তো পাঁচটাকা, তা আমিই যখন চেয়েছিলাম কিনতে, আমিই বেশীটা দিচ্ছি" অ্যাদ্দূর শুনে আমার আর জ্যোতির মুখে হাসি ফুটতে যাচ্ছিলো, তারপরই শুনলাম "আমি নাহয় দু টাকা দিচ্ছি, তোরা দুজন দেড়টাকা করে দিয়ে দিস" শুনে আমাদের হাসি আমরা আবার কপ করে গিলে ফেললাম।"
Subscribe to:
Posts (Atom)