ট্যাক্সি করে যেতে যেতে রেডিওতে শুনলাম ২৯শে অক্টোবর দিনটা নাকি "ওয়ার্ল্ড স্ট্রোক ডে" হিসেবে পালিত হয়। জনসাধারণকে স্ট্রোক সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করানোর জন্য এই বিশেষ দিনটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি যদিও গুরুতর তবুও এই তথ্যটি শুনে একটা মজার ঘটনা মনে পড়ে গেলো।
আমার এক বান্ধবীকে গান শেখানোর জন্যে এক শিক্ষককে নিযুক্ত করা হয়েছিলো। ওনার উপর দায়িত্ব ছিলো বান্ধবীটির বাড়ি এসে গান শিখিয়ে যাওয়ার। তবে এই শিক্ষকমশায় মানুষ হিসেবে ছিলেন একজন "ফুলবাবু" অর্থাৎ যাকে বলে "ফুলের ঘায়ে মূর্ছা যায়" এমন এক ব্যক্তি। প্রায়শঃই উনি ছোটখাটো কোনো কারণে ক্লাস কামাই করতেন। তো একবার উনি অনেকদিন ধরে গান শেখাতে আসছেন না দেখে বান্ধবীর বাবা শিক্ষকের বাড়িতে ফোন করলেন (সে সময় মোবাইলের যুগ ছিলো না)। শিক্ষকমশায় ফোন ধরে বলেন যে ইতিমধ্যে ওনার একটি স্ট্রোক হয়ে গেছে তাই উনি কোনো ছাত্র ছাত্রীর বাড়ি ইদানিং যাচ্ছেন না। এই শুনে বান্ধবীর বাবা স্বভাবতঃই উদ্বিগ্ন হয়ে উনি শরীরের ঠিক মতো যত্ন নিচ্ছেন কিনা জানার জন্যে আরো কিছু খুঁটিনাটি প্রশ্ন করেন এবং এই প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে জানতে পারেন যে শিক্ষকমশায়ের আসলে হিট স্ট্রোক হয়েছে। স্ট্রোক আর হিট স্ট্রোক -এর মধ্যে গুরুত্বের দিক দিয়ে ফারাক বিশাল। স্ট্রোক হয়েছে শুনে এতক্ষণ ধরে যে উদ্বেগ বান্ধবীটির বাবা মনে মনে পোষণ করছিলেন তা হঠাৎ করে অমূলক হয়ে যাওয়ায় উনি রেগেমেগে অবিলম্বে শিক্ষকমশায়কে ওনার পদ থেকে বরখাস্ত করলেন।