Saturday, December 31, 2016

আজকাল আর আগের মতো ইংরেজিতে কথা বলতে গেলে বা লিখতে গেলে প্রথমে মনে মনে কথাটা বাংলায় ভেবে তারপর সেটা অনুবাদ করে বলতে বা লিখতে হয় না। এখন ইংরেজি ভাষাটা প্রায় বাংলার মতোই স্বাভাবিক ভাবে লিখতে, পড়তে বা বলতে পারি। তবে এর ব্যতিক্রম হয় দুটি শব্দের ক্ষেত্রে -- "push" এবং "pull"। এখনও কোনো দরজায় এই দুটোর কোনো একটা শব্দ লেখা আছে দেখলেই "pull মানে টানা, push মানে ঠেলা" -- এই কথাটা মনে মনে আওড়ে নিই।

Monday, December 19, 2016

রেস্টুরেন্টে গেলে রামবাবুকে একবার অন্ততঃ বাথরুম থেকে ঘুরে আসতে হবেই। সেদিনও উনি রেস্টুরেন্টে গিয়ে মেন্ কোর্সের শেষে বাথরুমের খোঁজ করতে গিয়ে "He" লেখা দরজাটা দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়লেন। অন্যান্য অনেক রেস্টুরেন্টের মতো এদের বাথরুমটা ছোট। একবারে শুধু একজনই ব্যবহার করতে পারে। রামবাবু ভেতরে ঢুকে ভেতর থেকে ছিটকিনিটা লাগিয়ে দিলেন। সমস্ত কাজ সমাধা করে বাথরুমের দরজা খুলে বেরোতেই দেখেন বাইরে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। "Unisex" টয়লেট তো এটা নয়! তাহলে মেয়েটা কেন তার বাথরুমের দরজার বাইরে অপেক্ষা করছে? হঠাৎ রামবাবুর চোখ চলে গেলো উল্টো দিকের বাথরুমের দরজার উপরে লেখা ফলকটার দিকে, সেখানে লেখা আছে "His"। এটা কি হলো? রামবাবু ঘাড় ঘুরিয়ে নিজের বাথরুমের উপরের লেখাটা এবার খুঁটিয়ে পড়লেন -- সেটা আসলে "Her", তবে শেষের অক্ষর "r"-টা খানিক মুছে গেছে বলে তাড়াহুড়োর মধ্যে উনি ভুল পড়েছিলেন। নিজের ভুল বুঝতে পেরেই পুরনো অভ্যাসবশতঃ উনি আধ-হাত জিভ বার করে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটির কাছে মাফ চেয়ে নিলেন। ঘটনার জল এর চেয়ে বেশি গড়ায়নি। কিন্তু রামবাবু মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলেন হিসি করতে এসে এরকম "He-She"-র ব্যাপারে ভবিষ্যতে উনি আরো বেশি পর্যবেক্ষণশীল হবেন।

এই প্রসঙ্গে অনেকদিন আগে পড়া একটা ঘটনা জানিয়ে রাখি। একটা রেস্টুরেন্টে প্রায়শই ভুলবশতঃ ছেলেরা মেয়েদের বাথরুমে এবং মেয়েরা ছেলেদের বাথরুমে ঢুকে পড়তো। কারণ ছেলেদের বাথরুমের দরজায় লেখা ছিলো "Not for Women" আর মেয়েদের বাথরুমের দরজায় লেখা ছিলো "Men not allowed"। তাড়াহুড়োতে খদ্দেররা অধিকাংশ সময়েই শুধু "Men" আর "Women" এইটুকু পড়তো, পুরো লেখাটা আর তারা পড়ে দেখতো না।

Sunday, December 11, 2016

আমার বাড়ির মালিক কোনো চাকরি করেন না। বাড়ি ভাড়ার টাকাতেই ওনার সংসার চলে। বেশ ভালো ভাবেই চলে যায়। আপাততঃ উনি চব্বিশটা ফ্ল্যাট আর নিজের বাড়ির একতলাটা ভাড়া দিয়ে রেখেছেন। আরো আটটা নতুন ফ্ল্যাট বানিয়েছেন, তাতে কয়েকমাসের মধ্যেই নতুন ভাড়াটিয়া চলে আসবে। আমাদের বিল্ডিংয়ের সামনে এরপর ওনার কিছু দোকান খোলার প্ল্যান আছে। কাজেই আর আলাদা করে কোথাও চাকরি ওনাকে করতে হয় না। তবে শুধু উনি নন, ওনাদের পাঁচ ভাইয়ের কোনো ভাই-ই চাকরি করেন না। ওনার বাবা কংগ্রেসের এমএলএ ছিলেন। উনি মারা যাওয়ার আগে দশটা বাড়ি বানিয়ে দিয়ে যান, পাঁচ বাড়ি পাঁচ ভাইয়ের থাকার জন্য আর বাকি পাঁচটা পাঁচ ছেলে ভাড়া দেবে বলে।
তবে আমার বাড়ির মালিকের আর কোনো কাজ না থাকার জন্য ভাড়াটিয়াদের কিছু লাভ হয়েছে বৈকি। যেমন আমাদের বিল্ডিংয়ের জন্য আলাদা করে দারোয়ান রাখতে হয়নি, মালিক নিজেই সব সময় বিল্ডিংয়ের আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়ান। প্রয়োজনে উনি টুকটাক ইলেক্ট্রিসিয়ানের কাজটাও চালিয়ে নিয়ে পারেন। সিঁড়ির বাল্ব পাল্টানো, নতুন ফিউজ লাগানো ইত্যাদির জন্য ভাড়াটিয়াদের ছোটাছুটি করতে হয় না, মালিক এসব কাজে ভালোই পারদর্শী। আমার ধারণা প্লাম্বারের কাজও উনি কিছু কিছু নিশ্চয়ই ম্যানেজ করে নিতে পারবেন। সব সময় বিল্ডিংয়েই ঘুরঘুর করার জন্য অনেক সময় আমাদের কমপ্লেন পর্যন্ত করতে হয়না, মালিক স্বত্বপ্রণোদিত হয়ে নিজেই একটা বন্দোবস্ত করে দেন। তারই একটা উদাহরণ নিচে দিলাম।
আমি অফিসে যাওয়ার সময় প্রায়শই ঘরের ভেতরের মেন্ সুইচটা অফ করে দিয়ে যাই। একা মানুষ, আমি ঘরে না থাকলে ইলেক্ট্রিসিটির প্রয়োজনটাই বা কি! সেদিন আমি অফিস থেকে ফেরার সময় দেখি আমার বাড়ির মালিক বিল্ডিংয়ের নিচে আমার ঘরের মেন্ সুইচ বোর্ডটা খুলে কি করছেন। আমি গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছে? মালিক উত্তর দিলেন উনি অনেকক্ষণ ধরে লক্ষ্য করছেন যে আমার ইলেক্ট্রিকের মিটারটা ঘুরছে না তাই সমস্যাটা কোথায় সেটাই উনি বোঝার চেষ্টা করছেন।

Friday, December 9, 2016

ফ্রাইডে ইভনিং -- সপ্তাহের সেরা সময়। আগামী দুদিন ছুটি, ভাবলেই মনটা ফুরফুরে হয়ে যায়। আমি তাই আজ বিকেলে কি করা যায়, কি করা যায় ভাবছি। হঠাৎ খেয়াল পড়লো পকেটে ক্যাশ তো প্রায় নেই বললেই চলে। তাই চট করে একটা এটিএমের সামনে দাঁড়িয়ে পড়লাম। এটিএম কাউন্টার থেকে বেরিয়ে পরে দেখি সন্ধে কখন গড়িয়ে গেছে।