Friday, December 26, 2014

ছোটবেলায় টিভিতে "গিনিস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস" দেখতাম। যদ্দূর সম্ভব ডিডি মেট্রোতে রোব্বার হতো। সেখানে দেখি একবার কে কতো জোরে চিৎকার করতে পারে তার প্রতিযোগিতা চলছে। একটি মেয়ে খুব জোরে চিৎকার করে বিশ্বরেকর্ড স্থাপন করে। সঞ্চালক এগিয়ে এসে মেয়েটিকে অভিনন্দন জানান। পরক্ষণেই সেই মেয়েটির বোন আরো জোরে চিৎকার নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়ে। সঞ্চালক এবার এগিয়ে এসে বোনকে অভিনন্দন জানান, তার সাথে আগের মেয়েটিকেও অভিনন্দন জানান "সবচেয়ে কম সময়ের জন্য বিশ্বরেকর্ড স্থাপন করার" বিশ্বরেকর্ড স্থাপন করার জন্য।

Monday, December 22, 2014

আমাকে কে বললো যে ট্রেনে নাকি WiFi-এর ব্যবস্থা করে দিয়েছে। সারা রাতের ট্রেন জার্নি তাই আমি কার্পণ্য না করে AC 2 tier-এর টিকিট কাটলাম। এই প্রথম 2 tier, আগে ভাবতাম না জানি কি আছে ওই কূপগুলোতে -- পরীরা এসে খাবার দেয় -- এই সব। অদেখা অজানা জিনিস কল্পনা করতে আমার জুড়ি নেই। তা উঠলাম প্রথমবার 2 tier-এ। WiFi তো দূরের কথা, চার্জিং পয়েন্টই কাজ করে না। তদুপরি pantry car-ও নাকি নেই এই ট্রেনে। ইন্টারনেট না হয় নাই করলাম -- কিছু যায় আসে না, কিন্তু না খেয়ে থাকতে হবে নাকি সারা রাত? টিকিট পরীক্ষককে খোঁজা দরকার, টিকিটটা তো উনি দেখে গেলেন হেলতে-দুলতে -- আমাদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যটা কে দেখবে? পয়সা দিয়ে টিকিট কেটে উঠেছি, এই সব ভাবতে ভাবতে গেলাম। দেখি বাবু পান চিবুচ্ছেন, আমার প্রশ্ন শুনে হাসতে হাসতে বললেন যে এই ট্রেনে নাকি সব থেকে বেশিবার Maoist attack হয়েছে; আর ওরা এলে প্রথমে pantry car-এর সব খাবার তুলে নিয়ে যায় -- তাই ওই পাট এখন তুলে দেওয়া হয়েছে। ... বুঝলাম রাতে ঘুমটাও হবে না।

কি ট্রেন সেটা জানতে চান? LTT শালিমার। (জনস্বার্থে প্রচারিত)

(এই ঘটনাটি মৈনাকের ভাষাতেই লিখে রাখলাম।)

Thursday, December 18, 2014

দ্বিতীয় স্টপেজে মেট্রো ট্রেনে ঠেছি। উঠে দেখি এর মধ্যেই ভিড় জমে গেছে, তাই বাধ্য হয়ে প্রবীণ নাগরিকদের জন্যে নির্দিষ্ট সিটটিতে গিয়ে বসি। পরের স্টপেজেই এক বয়স্ক ভদ্রলোক আমার কামরায় ওঠায়, বাধ্য হয়ে ওনাকে সিটটা ছেড়ে দিই। কিছুক্ষণের মধ্যেই উনি পাশে বসা আরেক বয়স্ক ভদ্রলোকের সাথে গল্প জুড়ে দেন। আমার মনে পড়ে যায় পূর্বে শোনা সেই কথাটা: "বৃদ্ধেরা গল্প করে।" স্বভাববশত আমি কান খাড়া করি।
ওনাদের গল্পের বিষয় খুবই প্রাসঙ্গিক -- বয়স্ক মানুষদের দেখে আজকের প্রজন্মের নিজের থেকে সিট ছেড়ে দেওয়া। ওনারা দুজনেই একমত যে এখনকার ছেলেমেয়েদের ক্রমশ গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধা কমে যাচ্ছে। এই প্রসঙ্গে একজন বয়স্ক ভদ্রলোক যোগ করেন যে এইসব ছেলেমেয়েদের অবিলম্বে সহবত শেখানো উচিৎ এবং উনি নিজের সমর্থনে মেট্রোতে ওনার একটি অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন। ঘটনাটি এইরূপ: একদিন উনি মেট্রোতে উঠে দেখেন একজন জোয়ান ছেলে প্রবীণ নাগরিকদের সিটে বসে আছে, এদিকে একজন বৃদ্ধ ভদ্রলোক ঠিক ওই ছেলেটির সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। এই দেখে উনি সিটের উপরে লেখা নির্দেশিকার দিকে ছেলেটির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং ছেলেটি উঠে গেলে পর তার জায়গায় গিয়ে বসেন। মজার ব্যাপার হলো চোখের সামনে সিটটির মালিকানা পাল্টে যেতে দেখে দাঁড়িয়ে থাকা ভদ্রলোক বলে ওঠেন: "দাদা, আমি কি দোষ করলাম?"
এই ঘটনাটি শুনে অপর বয়স্ক ভদ্রলোকটি নিজের একটি অনুরূপ অভিজ্ঞতার কথা বলেন। সেখানেও একটি ছেলে নির্দেশিকা উপেক্ষা করে প্রবীণ নাগরিকদের সিটে বসে আছে এবং এক বৃদ্ধ লোক সিটটির সামনে দাঁড়িয়ে। কেন ছেলেটিকে সিটটা ছেড়ে দিতে বলছেন না বৃদ্ধ লোকটি জিজ্ঞেস করলে পর তিনি বলেন: "ওদের আর কি দোষ বলো, ওরা আমাদের থেকে যে শিক্ষা পেয়েছে তার ফল তো আমাদেরই ভোগ করতে হবে।"

Thursday, December 4, 2014

শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমরা মূলত: কাহিনীকার হিসেবে চিনলেও, বাংলা সাহিত্যে ওনার আত্মপ্রকাশ কিন্তু কবিতার বই দিয়ে। ওনার "অনুমন" কাব্যগ্রন্থ থেকে একটি তিন লাইনের কবিতা নিচে উদ্ধৃত করা হলো, কবিতার নাম -- চন্দ্রহাস।

চন্দ্রহাস
শিল্পীর শিরে পিলপিল করে আইডিয়া
লেখেন যখন পুস্তক তিনি তাই দিয়া
উই পোকা কয়, চল এইবার খাই গিয়া।

এইবারে একটি তথ্য জানাই -- শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণত: "চন্দ্রহাস" ছদ্মনামে কবিতা লিখতেন। আচ্ছা, এই কবিতা কি কবির অনুজ্জ্বল ভবিষ্যত নিয়ে দুশ্চিন্তার বহিঃপ্রকাশ ?
আশাকরি বাস্তব জীবনে এই দুশ্চিন্তা লেখককে বেশি দিন গ্রাস করে রাখতে পারিনি -- এই দুশ্চিন্তা আপাতত আমার।

(তথ্য সুত্র: শরদিন্দু অমনিবাস, একাদশ  খন্ড, গ্রন্থ পরিচয়)

Tuesday, December 2, 2014

ডোভার্স লেন ক্লাবের সদস্যদের বিশেষ সুনাম আছে "বোদ্ধা" হিসেবে। লঘুমানের কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নাকি এই ক্লাবে কখনো হয়না। পার্থদার এক বন্ধু (বোধ হয় পরখ করার উদ্দেশ্যে) কোনো এক পরিচিতের মাধ্যমে এই ক্লাবের শারদীয়া অনুষ্ঠানের একটি টিকিট জোগাড় করে। অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে, এক বিখ্যাত গায়িকা (নামটা উহ্যই থাক) একটি গান ধরেছেন। গানের একটি মাত্র লাইনকেই উনি নানা ভাবে, নানা ভঙ্গিমায়, বিভিন্ন সুরে, বিভিন্ন আঙ্গিকে গেয়েই চলেছেন। আর ধৈর্য রাখতে না পেরে পার্থদার সেই বন্ধু পাশে বসে থাকা দর্শকদের উদ্দেশ্যে জোর গলায় বলে ওঠে: "পরের লাইনটা বোধ হয় ভুলে গেছে।"
বলাই বাহুল্য, সেই বন্ধু আর কোনোদিন ও পাড়ামুখো হয়নি।

************************************

ফেসবুকে আমার উপরের লেখাটি পড়ে আমার বন্ধু (এবং প্রাক্তন রুমমেট) মৈনাকের সংযোজন:

প্রখ্যাত ভাষাবিদ সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় সুকুমার রায়ের বন্ধু ছিলেন। একদিন বিকেল বেলা সুকুমার তাঁকে বলেন - আমার সাথে এক জায়গায় যাবে? সুনীতি কুমার "কোথায়" জিজ্ঞেস করায় সুকুমার বলেন তাঁর এক পরিচিত ভদ্রলোক গত হয়েছেন, সেই ভদ্রলোকের শোকসভা হবে ব্রাম্হ সমাজ হলে। সুকুমার যাবেন, যদি সুনীতি কুমারও তার সংগে যান। সুনীতি কুমার বলছেন ইতিপূর্বে তিনি সুকুমারের সংগে কিছু জায়গায় গিয়েছেন এবং তার সেই পূর্ব অভিজ্ঞতা মোটেই সুখকর ছিলো না। সুকুমার তাকে আস্বস্থ করেন তিনি এমন কিছু করবেন না যাতে সুনীতি কুমার বিপদে পড়েন। অতঃপর দুজনে ব্রাম্হ সমাজ হলে গিয়ে উপস্থিত হন।
সেখানে সবাই সেই প্রয়াত মানুষটির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।কেউ কেউ ব্রাম্হ সংগীত পরিবেশন করেন। একেবারে শেষে সুকুমার বলেন যে তিনি একটি গান গাইতে ইচ্ছুক। সবাই একমত হয়ে তাঁকে গান করার অনুমতি দিলে তিনি হারমোনিয়াম সহযোগে গাইতে শুরু করেন "কাঁদো রে মন, কাঁদো রে"। এই একটি লাইন তিনি অন্তত কুড়ি - পঁচিশ বার পুনরাবৃত্তি করেন। বিভিন্ন ভাবে গাইলেন। সকল শ্রোতা আপ্লুত হয়ে পড়েছেন এমন সময় তিনি দ্বিতীয় লাইনটি গান। সেটি ছিল "আমার মন বাগানের সখের তরুর ফল খেয়ে যায় বাঁদরে"।
সুনীতি কুমার বলেছিলেন তার পর যা হয়েছিল তা আর না বলাই ভাল। তবে এর পরে শত অনুরোধেও সুনীতি কুমার আর সুকুমারের সংগে কোথাও যাননি। 

Monday, December 1, 2014

বাচ্ছা ছেলেটিকে দেবী মন্ডপের সামনে ঘুরঘুর করতে দেখে এক সংগঠক জিজ্ঞেস করলো: "কি রে, এই তো একটু আগে প্রসাদ নিয়ে গেলি ! আবার কি নিতে এসেছিস ?"
বাচ্ছা ছেলেটি উত্তর দিলো: "এবার কিছু নিচ্ছি না, শুধু দিচ্ছি।"
সংগঠক: "কি দিচ্ছিস ?"
বাচ্ছা ছেলে: "লোভ।"
অগত্যা ... মায়ের দয়ায় আরেকবার প্রসাদ লাভ হলো।

********************************

উপরে লেখা ঘটনাটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক নয়, আংশিক ভাবে আমার নিজের জীবনের এক ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত।
তখন আমি বেশ বড়। একবার সরস্বতী পুজোর প্রসাদ খাওয়ার পর আমি মন্ডপের সামনে ঘোরাফেরা করছি, পুজোর কর্মকর্তাদের মধ্যে একজনের তাই দেখে আমার হাবভাব বোধ হয় সন্দেহজনক বলে ঠেকে। এর পরের দেওয়া-নেওয়ার বাক্যালাপটা আগের মতোই, তবে আমার উত্তর শুনে সেই কর্মকর্তার প্রতিক্রিয়াটা ছিলো একটু অন্যরকম -- উনি চেঁচিয়ে ওঠেন: "ভাগ, শালা, এখান থেকে।"