Friday, January 30, 2015

এই লেখাটি আমার নয়, আমার বন্ধু নিশানের (যার লেখার টুকটাক নিদর্শন আপনারা পূর্বেও পেয়েছেন)। এই লেখাটির ক্ষেত্রে দ্রষ্টব্য হলো নিশানের "উদার" ভাষার বিপুল ব্যবহার। তবে এই ভাষা আমার ক্ষুদ্র পাঠক মহলের কাছে কতোটা গ্রহণীয় সে বিষয়ে আমার কিঞ্চিত সন্দেহ থাকায় আমি নিজ বিবেচনা অনুযায়ী সামান্য কাঁচি চালিয়েছি। কিন্তু পাঠককে সম্পূর্ণ রূপে এ রস থেকে বঞ্চিত করা উচিৎ হবে না ভেবে, প্রয়োজন বোধে লেখার কিছু অংশ অপরিবর্তিত রেখেছি। (আমি কোন অংশগুলির কথা বলছি তা আশা করি পাঠকরা নিজ গুণে বুঝতে পারবেন।) বোধ করি আমার সম্পাদনায় লেখার মান খুব একটা খর্ব হয়নি।
তরকারী
ইহাও জনশ্রুতি, সত্যাসত্যর দায় নেই!
"অমুক" আংশিক বোর্ডিং স্কুল, যারা হস্টেলে থাকে তাদের রেলা স্বভাবতঃই বাইরের ছেলেপিলের চেয়ে দু কাঠি বেশী। এই সমস্ত হস্টেলেই ওয়ার্ডেনদের আমাদের ছোটবেলায় বাঘ মনে হোতো, পরে বুঝেছি যেসব ছেলে ছোকরা কোথাও কোনকালে কোন কাজ পায় না, তারাই এসব জায়গায় চাকরি নেয়, এবং দুনিয়ার সর্বত্র লাথ খেয়ে তাঁদের রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটে ছাত্রদের উপর!
কিছু হস্টেলে আবার ডাইনিং স্টাফ এবং দারোয়ানদের মধ্যেও এ বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।
খাবার জায়গার ব্যবস্থাটি এইরকম: মাটিতে বাবু হয়ে সারি দিয়ে বসো, দু সারি মুখোমুখি করে, মাঝের জায়গা দিয়ে ভাত তরকারি ঠেলতে ঠেলতে কর্মচারীরা যাবে, দুদিকে খাবার বাড়তে বাড়তে।
এরকম এক ডাইনিং হলে এক কর্মচারী একবার উপস্থিত হোলো, সে এক জিনিস বিশেষ, হাড় হারামি বললে কম বলা হয়। রেলা তার চরম, মুখও চরম। কিছু কথা বলতে গেলেই তেড়ে আসে! ধরা যাক তার নাম নরেশ।
এখানে ছাত্ররা হোলো সবচেয়ে নিচু শ্রেণীর নাগরিক, তাদের কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করারও বিশেষ উপায় নেই, করবেই বা কার কাছে?
এরকম অবস্থা যখন সমাজে নেমে আসে তখন কি হয়? রঞ্জিত মল্লিক বা মিঠুন চক্কোত্তি এসে আইন স্বহস্তে তুলে নেন! আমরা বাঙালী, বাঙলা সিনেমা আমাদের গৌরব, এবং যেখানে কৌরব বংশের মত হাড় হারামিতে ভর্তি সেখানে এক দু পিস রঞ্জিত মল্লিক বেরোবে না তাও কি সম্ভব?
হস্টেলটির হাজার একটা দোষ থাকতে পারে কিন্তু খাবার যাই হোক না কেন, জিনিসটা গরম পাওয়া যেত।
এরকমই এক রাতের বেলা, খাবার দেওয়া হচ্ছে, ভাত পড়ে গেছে, তরকারী হয়েছে আলুপোস্ত, গামলায় তরকারি নিয়ে নরেশ এগিয়ে চলেছে মাঝ বরাবর। পরনে লুঙ্গি, ডোরাকাটা জামা, লুঙ্গী আবার হাফ গুটিয়ে হাঁটুর উপর তোলা।

ভীষণ গরম তরকারী, ধোঁয়া উঠছে রীতিমত!
ঠিক এরকম সময়েই হঠাৎ কারেণ্ট বন্ধ! ঘুটঘুটি অন্ধকার। এবং কোন শালা জেনারেটারও চালাচ্ছে না! কি সর্বনাশ।
হঠাৎ চিল চিৎকার! ত্রিভুবন প্রকম্পিত করা চিৎকার! ঠিক তখনই আলো উঠেছে জ্বলে! সবাই তাকিয়ে দেখে নরেশ তরকারী-টারী ফেলে দৌড়চ্ছে কিচেনের দিকে! যাবার পথে তরকারী সমৃদ্ধ পদচিহ্ন!
প্রথমে কেউ বোঝেনি কি হয়েছে! সবাই একটা হৈ হৈ রৈ রৈ এর মধ্যে দিশে হারিয়ে ফেলেছে! কিছুক্ষণ পরে বোঝা গেলো, কারেণ্ট টারেণ্ট যায়নি, কেউ একটা মেন সুইচ অফ করেছিলো, আর তখনই, ঠিক তখনই, কেউ একহাতা আগুনের মত গরম তরকারী হাতায় তুলে ছুঁড়ে মেরেছে নরেশের দু পায়ের মাঝখান টিপ করে!
আগেই বলেছি নরেশ লুঙ্গী পরে ছিলো!
অতএব অলমতি বিস্তরেণ।

Thursday, January 29, 2015

গতকাল আইআইটি খড়্গপুরের স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার ব্রাঞ্চে গিয়ে একটা মজার জিনিস লক্ষ্য করলাম।
একটা কাউন্টারে লেখা আছে:
"Check the notes before leaving the counter otherwise no request for change will be entertained afterwards."
তবে এই লেখা দেখে ঘাবড়াবার কিছু নেই, কারণ ঠিক তার পাশের কাউন্টারেই লেখা আছে:
"Exchange of soiled / adjudication of mutilated bank notes received here."

Wednesday, January 28, 2015

-- "আচ্ছা, বলতো আজকালকার দিনে পুজো করতে গেলে সবার আগে কি জোগাড় করতে হয় ?"
-- "প্রতিমা ?"
-- "উঁহু, হলো না।"
-- "প্যান্ডেল ?"
-- "না, এটাও হলো না।"
-- "তবে কি পুরোহিত ?"
-- "ধুস, এটাও হলো না।"
-- "তাহলে তুমিই বলো।"
-- "মিউজিক সিস্টেম আর মাইক।"
-- "যাঃ, কি যে বলো।"
-- "বিশ্বাস হচ্ছে না ? তাহলে পাশের মাঠটা থেকে একবার ঘুরে আয়। আজ বাদে কাল সরস্বতী পুজো -- প্রতিমা তো ছেড়েই দিলাম, বাবুরা প্যান্ডেলের জন্যে একটা বাঁশ পর্যন্ত পোঁতেনি। শুধু একটা মিউজিক সিস্টেম আর মাইক ভাঁড়া করে এনে তাতে গান চালিয়ে বাবুদের সে কি নাচ।"

Tuesday, January 27, 2015

স্কুলে পড়াকালীন এক বন্ধু ছিল যে প্রায়শই গ্যাস অম্বলের রোগে ভুগতো। তবে মজার ব্যাপার হলো আমরা যেমন "গ্যাস অম্বলের জ্বালায় ভুগছি" বলি সে কিন্তু সেরকমটা বলতো না, সে সর্বদাই নির্দিষ্টভাবে গ্যাস হয়েছে অথবা অম্বল হয়েছে বলতো। একদিন এক সহপাঠী কৌতূহল নিবারণের জন্য তাকে জিজ্ঞেস করে যে কি করে সে নিশ্চিতভাবে গ্যাস এবং অম্বলের মধ্যে পার্থক্য ধরতে পারে। উত্তরে সে জানায়: "এতো খুব সোজা। যেটা উপরের দিকে ওঠে সেটা অম্বল আর যেটা নিচের দিকে নামে সেটা গ্যাস।"

Tuesday, January 6, 2015

হাইট অফ "penny wise and pound foolish" কি ?

একটু আগে দেখি দুই বন্ধু সিগারেটে সুখটান দিতে দিতে গল্প করছে। কাছে গিয়ে শুনতে পাই এক বন্ধু আরেক বন্ধুকে বলছে: "সিগারেটের মুখে ফসফরাস থাকে যাতে সিগারেটটা সহজেই জ্বলে যায়; তাই শুরুর ধোঁয়াটা নাক দিয়ে টানবি না, ওটা শরীরের পক্ষে খুব খারাপ।"

Monday, January 5, 2015

মহর্ষি বাল্মীকির "রামায়ণ" যুগে যুগে বিভিন্ন লেখকের হাত ধরে ইষৎ পরিবর্তিত এবং বহুলাংশে পরিবর্ধিত হয়ে এসেছে; সে তুলসীদাসের "রামচরিতমানস"-ই হোক বা কৃত্তিবাসের "শ্রীরাম পাঁচালি"। এই প্রক্রিয়া কিন্তু আজও অব্যাহত। এই নবযুগের রামায়নের পরিবর্তকদের মধ্যে একজন হলেন আমার মা।
ছোটবেলায় আমাকে দুমুঠো ভাত খাওয়াতে বসে নাকি মায়ের সব গল্প ফুরিয়ে যেত, তবু আমার খাওয়া শেষ হতো না। তাই খানিকটা বাধ্য হয়েই মাকে নতুন নতুন আখ্যান উপাখ্যানের প্রচলন করতে হয় ভারতবর্ষের প্রাচীন মহাকাব্যে। তার মধ্যে থেকে দুটি উপাখ্যান আমার এই মুহুর্তে মনে পড়ছে।

১) কুম্ভকর্ণকে রাবণ যুদ্ধে পাঠিয়েছে রাম-লক্ষ্মণকে ধরে আচ্ছা করে ঠ্যাঙাতে। এদিকে প্রায় ছয়মাস পরে ঘুম থেকে উঠে সঙ্গে সঙ্গেই যুদ্ধের আসরে এসে পড়ায় কুম্ভকর্ণ বাড়ি থেকে ব্রেকফাস্টটা ভালোভাবে করে আসতে পারেনি। তাই যুদ্ধক্ষেত্রে এসে মুখের সামনে লোভনীয় খাবার বানরসেনাদের দেখে, তাদেরকে ধরে জ্যান্ত অবস্থাতেই টপাটপ গিলে নিতে থাকে কুম্ভকর্ণ। বানরসেনারা এদিকে কুম্ভকর্ণের পেটে ঢুকে গদা দিয়ে তার লিভারে, কিডনিতে, স্টোমাকে ক্রমাগত আঘাত করতে থাকে। কুম্ভকর্ণ তখন যুদ্ধ করবে কি -- সে তো পেটের ব্যথায় কাবু। তাই তো তখন শ্রীরাম এক ঝটকায় কুম্ভকর্ণকে পরাস্ত করে ফেললেন। (সেই বয়সে শারীরবিদ্যা কিছু না বুঝলেও এই গল্পটা কিন্তু আমি দারুণ উপভোগ করতাম।)

২) রাম রাবণের যুদ্ধ শেষ। রাম নিজের সৈন্যবাহিনী নিয়ে সম্পূর্ণ লঙ্কা অধিকার করে ফেলেছেন। যুদ্ধে বহু রাক্ষস মারা যাওয়ায় প্রচুর বাচ্চা রাক্ষস সেই মুহুর্তে অনাথ। লঙ্কার অধিপতি হওয়ার সুবাদে লঙ্কার নাগরিক এই সব বাচ্চা রাক্ষসদের দেখভাল করার দায়িত্ব তাই রামের উপরেই বর্তায়। কাজেই রাম লক্ষ্মণ তখন একটি অনাথ আশ্রম খুলে বসেন। বাচ্চা রাক্ষসরা জন্ম থেকেই কাঁচা মাংস খেয়ে এসেছে, তাই তাদের মানুষ করার প্রচেষ্টায় অনাথ আশ্রমে রান্না করা সব্জির প্রচলন করেন শ্রীরাম। সেই সব খাবার খেতে অনভ্যস্ত বাচ্চা রাক্ষসদের ভালো লাগবে কেন? তাই নিয়ে গোটা লঙ্কা হুলুস্থুলু। তখন পরীক্ষামূলক ভাবে তাদেরকে পোস্তর বড়া খাওয়ান রামের পাচক। পোস্তর বড়া প্রথম রিলিজেই হিট। বাচ্চারা বায়না ধরে বসে শুধু পোস্তর বড়া খাবে তারা। তখন আবার কিলো কিলো পোস্তর যোগান দিতে গিয়ে গোটা লঙ্কা হিমসিম। (আমার ধারণা বাঁকুড়ার মেয়ে হওয়ার দরুণ আমার মায়ের এই পোস্তপ্রীতি।)

একটি ছোট্ট তথ্য দিয়ে রাখি, এই লেখাটি আমার ব্লগের ১০০তম পোস্ট !

Sunday, January 4, 2015

নতুন বছর ২০১৫। নতুন বছরে নতুনত্বের স্বাদের জন্য এই প্রথম আমার লেখার সাথে একটি ভিডিও শেয়ার করলাম। এই ভিডিওটি একটি সর্ট ফিল্ম -- পরিচালনা করেছে আমার প্রাক্তন রুমমেট মৈনাক ঠাকুর (ভিডিওটিতে অবশ্য মৈনাক ট্যাগোর নামটা দেখতে পাবেন)। এই ভিডিওটির সাথে জড়িত কলা-কুশলীরা প্রত্যেকেই আমার বন্ধু। তাই অনুরোধ করছি পর্দায় ওদের এই প্রথম প্রয়াস আপনারা নিজেরা দেখুন এবং ভালো লাগলে বাকিদেরও দেখান। ভালো লাগুক কি না লাগুক, কোনো মন্তব্য থাকলে অতি অবশ্যই তা লিখে জানান ইউটিউবে এই ভিডিওটির নিচে।

তবে এই প্রচার কিন্তু সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থ নয়। ভিডিওটির শুরুতে কৃতজ্ঞতা স্বীকারে ক্ষণিকের জন্য আমার নামটাও দেখতে পাবেন। এক্ষণে খোলসা করে জানিয়ে দিই এই ভিডিওটিতে আমার অবদানটা ঠিক কি। মূলত আমি ছিলাম "ছোটু"-র ভূমিকায়। না, "ছোটু" এই গল্পে কোনো চরিত্রের নাম নয়। "ছোটু"-কে বলা যেতে পারে একপ্রকার পেশাগত নাম। ছোটুর কাজ হলো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে যে সব কুশলীরা আছেন প্রয়োজন মতো তাদের ফাই-ফরমাশ খাটা। এই ধরুন, নির্দেশকের আদেশ মতো সেট সাজানো, ক্যামেরাম্যানের নির্দেশ মতো আলো ফেলা, অভিনেতার স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী ফ্যানের স্পিড রাখা।
সমস্ত ভিডিওতে কিছু দৃশ্য থাকে যেখানে অভিনেতারা অনুপস্থিত। এই ভিডিওর সেরকম কিছু দৃশ্য হলো আলোর জ্বলা-নেভা, ফ্যানের পাখা ঘোরা, দরজা-জানলা ঠকঠক করে কাঁপা ইত্যাদি। এই সমস্ত শুটিংয়েও আমাকে হাত লাগাতে হয়েছে (অবশ্যই নির্দেশ মতো), যেমন দূর থেকে সুইচ অন-অফ করা, বাথরুমে ঢুকে ভেতর থেকে ধাক্কা দেওয়া ইত্যাদি। যাই হোক, আমি সাহায্য করতে পেরে এবং তার ফলাফল দেখে খুব খুশি হয়েছি, আশা করি আপনারাও হবেন।

রাত দুটোর আশেপাশে