Monday, March 28, 2016

বেঙ্গালুরুতে খরচা যেমন আছে তেমন টাকাও কিন্তু আছে। সেদিন ডমিনো'স পিত্জার সামনে দেখি বিজ্ঞাপন দিয়েছে যে পিত্জা ডেলিভারি করার জন্য লোক চাই -- মাইনে দেখি অনেক পিএইচডি স্কলারের স্কলারশিপের চেয়ে বেশ বেশি। এই দেখে সম্প্রতি শোনা একজন প্রফেসরের কথা মনে পড়ে গেল। ইনি ডিএসটি (ডিপার্টমেন্ট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি) অনুমোদিত স্কলারশিপের চেয়ে অনেক কম স্কলারশিপ দেন নিজের ছাত্রদের। এই কম স্কলারশিপ দেওয়ার কারণ ছাত্ররা একবার ওনার কাছে পিএইচডি করতে ঢুকলে যাতে মাঝখানে ছেড়ে না চলে যায়।
এই বিপরীত বিবেচনার কথা পড়ে অবাক হচ্ছেন? তাহলে শুনুন।
আসলে এই প্রফেসর যখন প্রথম চাকরিতে ঢোকেন তখন ওনার কাছে প্রথম যে ছাত্রটি পিএইচডি করতে ঢুকেছিল তাকে উনি ঠিকঠাক পয়সাই দিতেন। এই ছাত্রটিকে প্রথম একবছর কাজকর্ম সম্বন্ধে কিছু জিজ্ঞেস করলেই সে "সায়েন্স", "নেচার" জাতীয় তাবড় তাবড় জার্নাল পড়ে পিএইচডির জন্য প্রবলেম বার করা নিয়ে ব্যস্ত আছে -- এই কথা বলতো। স্যারের তো এই ছাত্রকে ঘিরে প্রচুর আশা। এক বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর একদিন সকালে ছাত্রটি এসে স্যারকে প্রণাম করে নিজের পদত্যাগপত্রটি জমা দিল। স্যারের তো ইস্তফাপত্র পড়ে মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। হঠাৎ কাজ ছাড়ার কারণ জিজ্ঞেস করলে পরে ছাত্রটি জানায় যে আসলে সে এমবিএ-র জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এমবিএ পড়ার খরচা অনেক -- তার খানিকটা এই এক বছরে সে জমিয়ে ফেলেছে।
এর পর থেকে সেই প্রফেসর আর কোনো ছাত্রকে টাকা জমাবার সুযোগ দেবেন না বলে প্রতিজ্ঞা করেছেন।

পুনশ্চঃ এই ঘটনাটা যাদেরকে আগে বলেছি তারা সবাই অভিমত জানিয়েছে যে এরকম ছাত্রই এমবিএ পড়ে ভবিষ্যতে দুঁদে ম্যানেজার হয় -- তা, আপনি কি বলেন?

No comments: