Saturday, August 20, 2016

মিশন: পর্ব ৬

মিশনে পড়াকালীন নিশান, (অনির্বাণ) লাহিড়ী, (অনির্বাণ) জ্যোতি আর আমি -- এই চারজন রুমমেট ছিলাম। ক্লাস ইলেভেন থেকে ক্লাস টুয়েলভে ওঠার সাথে হোস্টেলেও আমরা একতলা থেকে তিনতলায় উন্নীত হলাম। সে সময় লাহিড়ী কোত্থেকে একটা অ্যালার্ম ঘড়ির আমদানি করলো। চান করে এসে খেতে যাওয়ার আগে কিংবা খেলে এসে পড়তে বসার আগে লাহিড়ী পাঁচ দশ মিনিটের জন্য অ্যালার্ম দিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়তো। তখন লাহিড়ীর এই কার্যকলাপ ফালতু বলে মনে হলেও পরে "থ্রি ইডিয়টস" দেখে শিখলাম এটাকে নাকি "পাওয়ার ন্যাপ" বলে।
লাহিড়ীর এই অ্যালার্ম ঘড়ির শব্দটা ছিল বাঁজখাই, প্রথমবার শুনে যে কারোর পিলে চমকে উঠবে। অ্যালার্ম বন্ধ না করলে ক্রমে ক্রমে তার পরিত্রাহি আওয়াজ আবার বাড়তে থাকে। তবে কিনা অ্যালার্ম ঘড়ির প্রধান কর্তব্য যেহেতু মালিকের ঘুম ভাঙিয়ে দেওয়া -- সেই দিক থেকে ভাবলে এই ঘড়িটা নিঃসন্দেহে একটা সার্থক ঘড়ি।
এবার মূল গল্পে আসা যাক। এক ছুটির দিন দুপুরে রুমের চারজনেই আমরা ঘড়িতে অ্যালার্ম দিয়ে শুয়েছি। যথা সময়ে অ্যালার্ম বেজে ওঠে। কিন্তু আমরা কেউ আর উঠে অ্যালার্মটা অফ করছিলাম না। কি এক কারণে এখন আর মনে নেই, সে সময় যে উঠে অ্যালার্মটা বন্ধ করতো সে মানসিক ভাবে অন্যদের কাছে হেরে গেছে -- এরকমটা ধরে নেওয়া হতো। এক মিনিট যায় ... দুই মিনিট যায় ... পাঁচ মিনিট ... দশ মিনিট যায় ... আমরা চারজন নিজের নিজের বিছানা কামড়ে শুয়ে রয়েছি। এদিকে অ্যালার্মের সোচ্চার রবে প্রাণ যায় যায়। কিন্তু প্রাণের চেয়ে সম্মানটা তো আগে! এরকম টানটান উত্তেজনার মুহূর্তে যেখানে প্রাণপণ লড়াই চলছে সেখানে শেষ পর্যন্ত জয়ী হলাম কিন্তু আমরা চারজনেই। মাঝখান থেকে হেরে বসলো (শুভদীপ) খাটুয়া। সে পাশের উইং থেকে (অর্থাৎ পাঁচ-ছয়খান দূরের রুম থেকে) লাহিড়ীর ঘড়ির অট্টচিত্কার সহ্য করতে আর না পেরে আমাদের রুমে এসে অ্যালার্মটা বন্ধ করে দিলো। সে যাত্রায় খাটুয়ার দৌলতে আমাদের চার রুমমেটের প্রাণ মান দুটোই রক্ষা পেলো।

No comments: