লেখক: পর্ব ২২
ইঞ্জিনিয়ার এবং মেকানিকের ভেতরের তফাৎটা অনেকে বোঝেন না, ভাবেন দুটোই বুঝি এক জিনিস। আমি বুঝিয়ে দিচ্ছি তফাৎটা কোথায়। বি.টেক. কিংবা বি.ই. ডিগ্রী থাকলে সে ইঞ্জিনিয়ার আর হাতে কলমে কাজটা জানলে সে মেকানিক। যার যত বেশি ডিগ্রী তার মানে সে তত বেশি পুঁথিগত বিদ্যা আয়ত্ত করেছে, ব্যবহারিক জীবনে সেই সমস্ত বিদ্যার প্রয়োগ সাধারণতঃ খুব সামান্য।
পিএইচডি করার পর থেকে যখন কোনো আত্মীয়ের অথবা বন্ধুর কম্পিউটারে নেটওয়ার্ক কেন আসছে না কিংবা অপারেটিং সিস্টেমের কোনো সার্ভিস কেন চলছে না এই জাতীয় প্রশ্নের উত্তরে "আমি জানি না" বলি তখন তাঁদের মুখগুলো হয় দেখার মতো। প্রাথমিক অভিব্যক্তি হয় বিস্ময়ের কিন্তু খানিক পরেই তা ক্রোধে পরিণত হয়। সে সময় যদি তাঁরা আমার ডিগ্রী সার্টিফিকেটের নাগাল পান তাহলে বোধ করি তক্ষুনি তা ছিঁড়ে কুটি কুটি করে তারা আমার মুখে ছুঁড়ে মারবেন। তবে ইদানিং কালে কেউ এধরণের প্রশ্ন করলে নিজের সম্মান রক্ষার্থে আমি একটা টোটকা বার করেছি। এই টোটকা আমি পেয়েছি ছোটবেলায় শোনা একটা গল্পের থেকে। ছোট্ট করে সেটা এখানে বলে নেওয়া যাক।
এক দেশে এক বৃদ্ধ বৈদ্য ছিল। তাঁর দেশজোড়া সুনাম। এদিকে তাঁর ছেলেটি গণ্ডমূর্খ। তখন বোধহয় জাতিভেদ প্রথা তুঙ্গে ছিল। তাই নিয়ম অনুযায়ী বৈদ্যের ছেলেকেও বৈদ্য হতে হবে। মারা যাওয়ার সময় বৃদ্ধের মাথায় একটি বুদ্ধি আসে। সে ছেলেকে কাছে ডেকে হরীতকী দ্বারা নির্মিত একটি মাত্র ওষুধ তাকে শেখায় এবং উপদেশ দেয় যে যে কোনো রুগী তার কাছে এলে সে যেন এই ওষুধটি তাকে খেতে দেয়। আসলে এটি পেট পরিষ্কার করার ওষুধ এবং বৃদ্ধ বৈদ্য জানতেন পেট সাফ থাকলেই অধিকাংশ রোগ দূর হয়ে যায়। পিতার মৃত্যুর পর পিতার কথা অনুযায়ী ছেলে বৈদ্য হয়ে সে প্রত্যেক রুগীকে এই এক ওষুধ দিতে থাকে আর বেশির ভাগ রুগী ওষুধ খেয়ে সুস্থ হয়ে ওঠায় তার নাম ছড়িয়ে পড়তে থাকে।
আমার এই লেখার জন্যে গল্পের এইটুকু লিখে রাখলেই চলতো তবে পাঠকদের জন্যে গল্পের বাকিটাও লিখে রাখি। একদিন সেই রাজ্যের সীমানায় শত্রুদেশের রাজা সৈন্যদল নিয়ে এসে তাঁবু গাঁড়লেন। যুদ্ধ আসন্ন বুঝতে পেরে রাজার মাথায় হাত পড়লো কারণ তার সৈন্য শক্তি শত্রুদেশের অর্ধেক। এদিকে বিনা যুদ্ধে সমর্পন করা এটাও তিনি ক্ষত্রিয় হয়ে মেনে নিতে পারেন না। রাজা তরুণ বৈদ্যের সুনাম শুনেছেন তাই তিনি তখন সেই বৃদ্ধ বৈদ্যের ছেলেকে রাজদরবারে ডেকে পাঠান। রাজা তরুণ বৈদ্যকে নির্দেশ দেন রাজ্যের সৈন্যদের বলবৃদ্ধির জন্যে কোনো ওষুধ দিতে। মূর্খ বৈদ্য তো একটি বই দুটি ওষুধ জানে না তাই সে পরিচিত ওষুধটিই একটু বেশি মাত্রায় সৈন্যদের দিয়ে দেয়। এর ফলে পরদিন সেই রাজ্যের সৈন্যদের ঘনঘন বাহ্যে যেতে হয়।
এদিকে শত্রুদেশের রাজা গুপ্তচর লাগিয়েছিলেন প্রতিপক্ষের সৈন্যবল আসলে ঠিক কতখানি তা যাচাই করার জন্য। সেই গুপ্তচরের বলিহারি বুদ্ধি মাইরি! সে সৈন্য শিবিরের সামনে যে পুকুরটি ছিল তার সামনে লুকিয়ে থেকে বাহ্যে করতে কতজন সৈন্য আসছে তার গণনা করতে থাকে। একজন মানুষ দিনে একবারই ইয়ে করে -- এরকমটা ভেবে এসেছিলো সেই গুপ্তচর। এদিকে ওষুধের প্রভাবে এক একজন সৈনিককে দিনে দশবার করে পুকুরপাড় থেকে ঘুরে আসতে হয়। ফলে শত্রুরাজার কাছে খবর যায় যে বিরোধী রাজা তাঁর চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং তিনি তাড়াতাড়ি যুদ্ধ না করেই চম্পট দেন। অপরদিকে তরুণ বৈদ্যকে তার রাজ্যের সকলে ধন্যধন্য করতে থাকে। (সতর্কীকরণঃ ছোটবেলার গল্প শুরুতেই লিখেছি তাই বেশি লজিক খুঁজতে যাবেন না।)
আবার আমার জীবনে ফিরে আসি। টোটকাটা কি ভাবছেন? আমারও ওই তরুণ বৈদ্যর মতন একটা উত্তর আছে যা আমাকে কম্পিউটার সংক্রান্ত কোনো সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন করলে আমি সবাইকে বলে থাকি এবং বিশ্বাস করুন অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেটা সমস্যার সমাধানও করে দেয়। সেই উত্তরটা হলো: "মেশিনটা আরেকবার রিস্টার্ট করে দেখুন তো ..."
ইঞ্জিনিয়ার এবং মেকানিকের ভেতরের তফাৎটা অনেকে বোঝেন না, ভাবেন দুটোই বুঝি এক জিনিস। আমি বুঝিয়ে দিচ্ছি তফাৎটা কোথায়। বি.টেক. কিংবা বি.ই. ডিগ্রী থাকলে সে ইঞ্জিনিয়ার আর হাতে কলমে কাজটা জানলে সে মেকানিক। যার যত বেশি ডিগ্রী তার মানে সে তত বেশি পুঁথিগত বিদ্যা আয়ত্ত করেছে, ব্যবহারিক জীবনে সেই সমস্ত বিদ্যার প্রয়োগ সাধারণতঃ খুব সামান্য।
পিএইচডি করার পর থেকে যখন কোনো আত্মীয়ের অথবা বন্ধুর কম্পিউটারে নেটওয়ার্ক কেন আসছে না কিংবা অপারেটিং সিস্টেমের কোনো সার্ভিস কেন চলছে না এই জাতীয় প্রশ্নের উত্তরে "আমি জানি না" বলি তখন তাঁদের মুখগুলো হয় দেখার মতো। প্রাথমিক অভিব্যক্তি হয় বিস্ময়ের কিন্তু খানিক পরেই তা ক্রোধে পরিণত হয়। সে সময় যদি তাঁরা আমার ডিগ্রী সার্টিফিকেটের নাগাল পান তাহলে বোধ করি তক্ষুনি তা ছিঁড়ে কুটি কুটি করে তারা আমার মুখে ছুঁড়ে মারবেন। তবে ইদানিং কালে কেউ এধরণের প্রশ্ন করলে নিজের সম্মান রক্ষার্থে আমি একটা টোটকা বার করেছি। এই টোটকা আমি পেয়েছি ছোটবেলায় শোনা একটা গল্পের থেকে। ছোট্ট করে সেটা এখানে বলে নেওয়া যাক।
এক দেশে এক বৃদ্ধ বৈদ্য ছিল। তাঁর দেশজোড়া সুনাম। এদিকে তাঁর ছেলেটি গণ্ডমূর্খ। তখন বোধহয় জাতিভেদ প্রথা তুঙ্গে ছিল। তাই নিয়ম অনুযায়ী বৈদ্যের ছেলেকেও বৈদ্য হতে হবে। মারা যাওয়ার সময় বৃদ্ধের মাথায় একটি বুদ্ধি আসে। সে ছেলেকে কাছে ডেকে হরীতকী দ্বারা নির্মিত একটি মাত্র ওষুধ তাকে শেখায় এবং উপদেশ দেয় যে যে কোনো রুগী তার কাছে এলে সে যেন এই ওষুধটি তাকে খেতে দেয়। আসলে এটি পেট পরিষ্কার করার ওষুধ এবং বৃদ্ধ বৈদ্য জানতেন পেট সাফ থাকলেই অধিকাংশ রোগ দূর হয়ে যায়। পিতার মৃত্যুর পর পিতার কথা অনুযায়ী ছেলে বৈদ্য হয়ে সে প্রত্যেক রুগীকে এই এক ওষুধ দিতে থাকে আর বেশির ভাগ রুগী ওষুধ খেয়ে সুস্থ হয়ে ওঠায় তার নাম ছড়িয়ে পড়তে থাকে।
আমার এই লেখার জন্যে গল্পের এইটুকু লিখে রাখলেই চলতো তবে পাঠকদের জন্যে গল্পের বাকিটাও লিখে রাখি। একদিন সেই রাজ্যের সীমানায় শত্রুদেশের রাজা সৈন্যদল নিয়ে এসে তাঁবু গাঁড়লেন। যুদ্ধ আসন্ন বুঝতে পেরে রাজার মাথায় হাত পড়লো কারণ তার সৈন্য শক্তি শত্রুদেশের অর্ধেক। এদিকে বিনা যুদ্ধে সমর্পন করা এটাও তিনি ক্ষত্রিয় হয়ে মেনে নিতে পারেন না। রাজা তরুণ বৈদ্যের সুনাম শুনেছেন তাই তিনি তখন সেই বৃদ্ধ বৈদ্যের ছেলেকে রাজদরবারে ডেকে পাঠান। রাজা তরুণ বৈদ্যকে নির্দেশ দেন রাজ্যের সৈন্যদের বলবৃদ্ধির জন্যে কোনো ওষুধ দিতে। মূর্খ বৈদ্য তো একটি বই দুটি ওষুধ জানে না তাই সে পরিচিত ওষুধটিই একটু বেশি মাত্রায় সৈন্যদের দিয়ে দেয়। এর ফলে পরদিন সেই রাজ্যের সৈন্যদের ঘনঘন বাহ্যে যেতে হয়।
এদিকে শত্রুদেশের রাজা গুপ্তচর লাগিয়েছিলেন প্রতিপক্ষের সৈন্যবল আসলে ঠিক কতখানি তা যাচাই করার জন্য। সেই গুপ্তচরের বলিহারি বুদ্ধি মাইরি! সে সৈন্য শিবিরের সামনে যে পুকুরটি ছিল তার সামনে লুকিয়ে থেকে বাহ্যে করতে কতজন সৈন্য আসছে তার গণনা করতে থাকে। একজন মানুষ দিনে একবারই ইয়ে করে -- এরকমটা ভেবে এসেছিলো সেই গুপ্তচর। এদিকে ওষুধের প্রভাবে এক একজন সৈনিককে দিনে দশবার করে পুকুরপাড় থেকে ঘুরে আসতে হয়। ফলে শত্রুরাজার কাছে খবর যায় যে বিরোধী রাজা তাঁর চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং তিনি তাড়াতাড়ি যুদ্ধ না করেই চম্পট দেন। অপরদিকে তরুণ বৈদ্যকে তার রাজ্যের সকলে ধন্যধন্য করতে থাকে। (সতর্কীকরণঃ ছোটবেলার গল্প শুরুতেই লিখেছি তাই বেশি লজিক খুঁজতে যাবেন না।)
আবার আমার জীবনে ফিরে আসি। টোটকাটা কি ভাবছেন? আমারও ওই তরুণ বৈদ্যর মতন একটা উত্তর আছে যা আমাকে কম্পিউটার সংক্রান্ত কোনো সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন করলে আমি সবাইকে বলে থাকি এবং বিশ্বাস করুন অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেটা সমস্যার সমাধানও করে দেয়। সেই উত্তরটা হলো: "মেশিনটা আরেকবার রিস্টার্ট করে দেখুন তো ..."
No comments:
Post a Comment