Sunday, April 15, 2018

শুভ নববর্ষ ১৪২৫!
আজকেও দিনটা অন্যান্য ছুটির দিনের মতো ঘরের কাজ দিয়ে শুরু করেছিলাম। তারপর খেয়াল পড়লো ছোটবেলায় শোনা কথাটা -- বছরের প্রথম দিন যেভাবে কাটাবে, বাকি বছরটাও সেভাবে কাটবে। এ বছর পয়লা জানুয়ারী কি করেছিলাম এখন ঠিক মনে পড়ছে না তবে এবছর লেখালেখি প্রায় বন্ধ হবার পর্যায়। তাই খানিক জোর করেই আজ পয়লা বৈশাখে লিখতে বসা। যদি কোনো পরিবর্তন আসে - এই আশায়।

বিয়ের পর এটাই ব্লগে লেখা প্রথম পোস্ট তাই বিয়ে সম্পর্কিত ঘটনা নিয়েই লিখি। বিয়ের খবর জানাতে এক বন্ধুকে ফোন করেছি, সেই কথোপকথনের অংশবিশেষ নিচে দিলাম:
-- হ্যালো, কি রে কুণাল, অ্যাদ্দিন পর হঠাৎ আমাকে মনে পড়লো?
-- আরে একটা ভালো খবর দেওয়ার আছে - বিয়ে করছি সামনের মাসে।
-- উরিব্বাস, এতো দারুণ খবর। Congratulations!
-- থ্যাংক ইউ। তোকে কিন্তু বৌদি এবং মেয়ে সমেত - মানে একেবারে সপরিবারে - আসতেই হবে।
-- নিশ্চয়ই আসবো। এই খবরটা শুনে, মাইরি বলছি, খুব খুশি হলাম। আসলে এই সুখবরটা এতদিন ধরে না পেয়ে আমি তো ভেবেছিলাম তুই বুঝি আর বিয়েই করবি না।

তবে বেশি বয়সে বিয়ে যে শুধুমাত্র পিএইচডি করা ছাত্রছাত্রীদের কপালে লেখা থাকে, তেমনটা নয়। কিছুদিন আগে হসপিটালে স্কুলের এক বন্ধুর সাথে ১৬ বছর পরে দেখা। শেষ ওকে দেখেছিলাম ICSE পরীক্ষার রেজাল্ট বেরোনোর দিন। মাঝখানে বয়সটা পাক্কা দ্বিগুন হয়ে গেছে। হসপিটালে দেখা হওয়াটা কপাল মন্দ না হলে হয় না। তবে এই ক্ষেত্রে কপালটা শুধু আমারই মন্দ ছিল। বাবা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় হসপিটালে ভর্তি করতে হয় তাঁকে। আমার বন্ধুটি এখন পেশায় মেডিক্যাল রিপ্রেসেন্টেটিভ - তাই সে কাজের সূত্রেই গেছিলো হাসপাতালে। কথায় কথায় বিয়ের প্রসঙ্গ উঠলো। বন্ধু জানায় সে এখনো বিয়ে করেনি। আমি তাকে আর দেরি না করার পরামর্শ দেওয়ায় সে বললো যে তাকে বিয়ে করতে এখন সবাই তাড়া দিচ্ছে। এক জ্ঞাতি তো তাকে নাকি বলেছে: "তাড়াতাড়ি বিয়েটা নামিয়ে ফ্যাল। আর দেরি করলে দেখবি ছেলে যাচ্ছে [ক্লাস] ওয়ানে আর বাবা শ্মশানে।"

শেষ করছি আমার বিয়ে সংক্রান্ত একটা ঘটনা দিয়ে। বিয়ের পরে রাতে শ্বশুরবাড়ির বাথরুমে ঢুকেছি। বাথরুমটির বৈশিষ্ট্য হলো এতে ঢোকার দুটো দরজা, দু'দিকের বেডরুম দিয়েই এতে ঢোকা যায়। যাতে দুদিকের লোকজনই এটার ব্যবহার করতে পারে তাই নিয়ম হলো শুধুমাত্র ব্যবহারকালীন দুটো দরজার ছিটকিনি বন্ধ রাখা -- অন্য সময় ছিটকিনিদুটো খোলাই থাকে। স্বাভাবিকভাবেই বাথরুম সম্বন্ধীয় এই নিয়ম আমার জানা ছিল না, তার উপর বেজায় ঘুম লেগে ছিল চোখে। আমি যেই দরজা দিয়ে ঢুকেছি অভ্যেসবশতঃ শুধু সেটাই বন্ধ করেছি। নাঃ, শেষমেশ তেমন কিছুই ঘটেনি তবে কান ঘেঁষে নতুন জামাইয়ের সম্মানটা বেঁচে গেছে এটা বলা যেতে পারে।

No comments: