ডোভার্স লেন ক্লাবের সদস্যদের বিশেষ সুনাম আছে "বোদ্ধা" হিসেবে। লঘুমানের কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নাকি এই ক্লাবে কখনো হয়না। পার্থদার এক বন্ধু (বোধ হয় পরখ করার উদ্দেশ্যে) কোনো এক পরিচিতের মাধ্যমে এই ক্লাবের শারদীয়া অনুষ্ঠানের একটি টিকিট জোগাড় করে। অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে, এক বিখ্যাত গায়িকা (নামটা উহ্যই থাক) একটি গান ধরেছেন। গানের একটি মাত্র লাইনকেই উনি নানা ভাবে, নানা ভঙ্গিমায়, বিভিন্ন সুরে, বিভিন্ন আঙ্গিকে গেয়েই চলেছেন। আর ধৈর্য রাখতে না পেরে পার্থদার সেই বন্ধু পাশে বসে থাকা দর্শকদের উদ্দেশ্যে জোর গলায় বলে ওঠে: "পরের লাইনটা বোধ হয় ভুলে গেছে।"
বলাই বাহুল্য, সেই বন্ধু আর কোনোদিন ও পাড়ামুখো হয়নি।
************************************
ফেসবুকে আমার উপরের লেখাটি পড়ে আমার বন্ধু (এবং প্রাক্তন রুমমেট) মৈনাকের সংযোজন:
প্রখ্যাত ভাষাবিদ সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় সুকুমার রায়ের বন্ধু ছিলেন। একদিন বিকেল বেলা সুকুমার তাঁকে বলেন - আমার সাথে এক জায়গায় যাবে? সুনীতি কুমার "কোথায়" জিজ্ঞেস করায় সুকুমার বলেন তাঁর এক পরিচিত ভদ্রলোক গত হয়েছেন, সেই ভদ্রলোকের শোকসভা হবে ব্রাম্হ সমাজ হলে। সুকুমার যাবেন, যদি সুনীতি কুমারও তার সংগে যান। সুনীতি কুমার বলছেন ইতিপূর্বে তিনি সুকুমারের সংগে কিছু জায়গায় গিয়েছেন এবং তার সেই পূর্ব অভিজ্ঞতা মোটেই সুখকর ছিলো না। সুকুমার তাকে আস্বস্থ করেন তিনি এমন কিছু করবেন না যাতে সুনীতি কুমার বিপদে পড়েন। অতঃপর দুজনে ব্রাম্হ সমাজ হলে গিয়ে উপস্থিত হন।
সেখানে সবাই সেই প্রয়াত মানুষটির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।কেউ কেউ ব্রাম্হ সংগীত পরিবেশন করেন। একেবারে শেষে সুকুমার বলেন যে তিনি একটি গান গাইতে ইচ্ছুক। সবাই একমত হয়ে তাঁকে গান করার অনুমতি দিলে তিনি হারমোনিয়াম সহযোগে গাইতে শুরু করেন "কাঁদো রে মন, কাঁদো রে"। এই একটি লাইন তিনি অন্তত কুড়ি - পঁচিশ বার পুনরাবৃত্তি করেন। বিভিন্ন ভাবে গাইলেন। সকল শ্রোতা আপ্লুত হয়ে পড়েছেন এমন সময় তিনি দ্বিতীয় লাইনটি গান। সেটি ছিল "আমার মন বাগানের সখের তরুর ফল খেয়ে যায় বাঁদরে"।
সুনীতি কুমার বলেছিলেন তার পর যা হয়েছিল তা আর না বলাই ভাল। তবে এর পরে শত অনুরোধেও সুনীতি কুমার আর সুকুমারের সংগে কোথাও যাননি।
বলাই বাহুল্য, সেই বন্ধু আর কোনোদিন ও পাড়ামুখো হয়নি।
************************************
ফেসবুকে আমার উপরের লেখাটি পড়ে আমার বন্ধু (এবং প্রাক্তন রুমমেট) মৈনাকের সংযোজন:
প্রখ্যাত ভাষাবিদ সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় সুকুমার রায়ের বন্ধু ছিলেন। একদিন বিকেল বেলা সুকুমার তাঁকে বলেন - আমার সাথে এক জায়গায় যাবে? সুনীতি কুমার "কোথায়" জিজ্ঞেস করায় সুকুমার বলেন তাঁর এক পরিচিত ভদ্রলোক গত হয়েছেন, সেই ভদ্রলোকের শোকসভা হবে ব্রাম্হ সমাজ হলে। সুকুমার যাবেন, যদি সুনীতি কুমারও তার সংগে যান। সুনীতি কুমার বলছেন ইতিপূর্বে তিনি সুকুমারের সংগে কিছু জায়গায় গিয়েছেন এবং তার সেই পূর্ব অভিজ্ঞতা মোটেই সুখকর ছিলো না। সুকুমার তাকে আস্বস্থ করেন তিনি এমন কিছু করবেন না যাতে সুনীতি কুমার বিপদে পড়েন। অতঃপর দুজনে ব্রাম্হ সমাজ হলে গিয়ে উপস্থিত হন।
সেখানে সবাই সেই প্রয়াত মানুষটির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।কেউ কেউ ব্রাম্হ সংগীত পরিবেশন করেন। একেবারে শেষে সুকুমার বলেন যে তিনি একটি গান গাইতে ইচ্ছুক। সবাই একমত হয়ে তাঁকে গান করার অনুমতি দিলে তিনি হারমোনিয়াম সহযোগে গাইতে শুরু করেন "কাঁদো রে মন, কাঁদো রে"। এই একটি লাইন তিনি অন্তত কুড়ি - পঁচিশ বার পুনরাবৃত্তি করেন। বিভিন্ন ভাবে গাইলেন। সকল শ্রোতা আপ্লুত হয়ে পড়েছেন এমন সময় তিনি দ্বিতীয় লাইনটি গান। সেটি ছিল "আমার মন বাগানের সখের তরুর ফল খেয়ে যায় বাঁদরে"।
সুনীতি কুমার বলেছিলেন তার পর যা হয়েছিল তা আর না বলাই ভাল। তবে এর পরে শত অনুরোধেও সুনীতি কুমার আর সুকুমারের সংগে কোথাও যাননি।
No comments:
Post a Comment