এই লেখাটি আমার নয়, আমার বন্ধু নিশানের (যার লেখার টুকটাক নিদর্শন আপনারা পূর্বেও পেয়েছেন)। এই লেখাটির ক্ষেত্রে দ্রষ্টব্য হলো নিশানের "উদার" ভাষার বিপুল ব্যবহার। তবে এই ভাষা আমার ক্ষুদ্র পাঠক মহলের কাছে কতোটা গ্রহণীয় সে বিষয়ে আমার কিঞ্চিত সন্দেহ থাকায় আমি নিজ বিবেচনা অনুযায়ী সামান্য কাঁচি চালিয়েছি। কিন্তু পাঠককে সম্পূর্ণ রূপে এ রস থেকে বঞ্চিত করা উচিৎ হবে না ভেবে, প্রয়োজন বোধে লেখার কিছু অংশ অপরিবর্তিত রেখেছি। (আমি কোন অংশগুলির কথা বলছি তা আশা করি পাঠকরা নিজ গুণে বুঝতে পারবেন।) বোধ করি আমার সম্পাদনায় লেখার মান খুব একটা খর্ব হয়নি।
তরকারী
ইহাও জনশ্রুতি, সত্যাসত্যর দায় নেই!
"অমুক" আংশিক বোর্ডিং স্কুল, যারা হস্টেলে থাকে তাদের রেলা স্বভাবতঃই বাইরের ছেলেপিলের চেয়ে দু কাঠি বেশী। এই সমস্ত হস্টেলেই ওয়ার্ডেনদের আমাদের ছোটবেলায় বাঘ মনে হোতো, পরে বুঝেছি যেসব ছেলে ছোকরা কোথাও কোনকালে কোন কাজ পায় না, তারাই এসব জায়গায় চাকরি নেয়, এবং দুনিয়ার সর্বত্র লাথ খেয়ে তাঁদের রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটে ছাত্রদের উপর!
কিছু হস্টেলে আবার ডাইনিং স্টাফ এবং দারোয়ানদের মধ্যেও এ বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।
খাবার জায়গার ব্যবস্থাটি এইরকম: মাটিতে বাবু হয়ে সারি দিয়ে বসো, দু সারি মুখোমুখি করে, মাঝের জায়গা দিয়ে ভাত তরকারি ঠেলতে ঠেলতে কর্মচারীরা যাবে, দুদিকে খাবার বাড়তে বাড়তে।
এরকম এক ডাইনিং হলে এক কর্মচারী একবার উপস্থিত হোলো, সে এক জিনিস বিশেষ, হাড় হারামি বললে কম বলা হয়। রেলা তার চরম, মুখও চরম। কিছু কথা বলতে গেলেই তেড়ে আসে! ধরা যাক তার নাম নরেশ।
এখানে ছাত্ররা হোলো সবচেয়ে নিচু শ্রেণীর নাগরিক, তাদের কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করারও বিশেষ উপায় নেই, করবেই বা কার কাছে?
এরকম অবস্থা যখন সমাজে নেমে আসে তখন কি হয়? রঞ্জিত মল্লিক বা মিঠুন চক্কোত্তি এসে আইন স্বহস্তে তুলে নেন! আমরা বাঙালী, বাঙলা সিনেমা আমাদের গৌরব, এবং যেখানে কৌরব বংশের মত হাড় হারামিতে ভর্তি সেখানে এক দু পিস রঞ্জিত মল্লিক বেরোবে না তাও কি সম্ভব?
হস্টেলটির হাজার একটা দোষ থাকতে পারে কিন্তু খাবার যাই হোক না কেন, জিনিসটা গরম পাওয়া যেত।
এরকমই এক রাতের বেলা, খাবার দেওয়া হচ্ছে, ভাত পড়ে গেছে, তরকারী হয়েছে আলুপোস্ত, গামলায় তরকারি নিয়ে নরেশ এগিয়ে চলেছে মাঝ বরাবর। পরনে লুঙ্গি, ডোরাকাটা জামা, লুঙ্গী আবার হাফ গুটিয়ে হাঁটুর উপর তোলা।
ভীষণ গরম তরকারী, ধোঁয়া উঠছে রীতিমত!
ঠিক এরকম সময়েই হঠাৎ কারেণ্ট বন্ধ! ঘুটঘুটি অন্ধকার। এবং কোন শালা জেনারেটারও চালাচ্ছে না! কি সর্বনাশ।
হঠাৎ চিল চিৎকার! ত্রিভুবন প্রকম্পিত করা চিৎকার! ঠিক তখনই আলো উঠেছে জ্বলে! সবাই তাকিয়ে দেখে নরেশ তরকারী-টারী ফেলে দৌড়চ্ছে কিচেনের দিকে! যাবার পথে তরকারী সমৃদ্ধ পদচিহ্ন!
প্রথমে কেউ বোঝেনি কি হয়েছে! সবাই একটা হৈ হৈ রৈ রৈ এর মধ্যে দিশে হারিয়ে ফেলেছে! কিছুক্ষণ পরে বোঝা গেলো, কারেণ্ট টারেণ্ট যায়নি, কেউ একটা মেন সুইচ অফ করেছিলো, আর তখনই, ঠিক তখনই, কেউ একহাতা আগুনের মত গরম তরকারী হাতায় তুলে ছুঁড়ে মেরেছে নরেশের দু পায়ের মাঝখান টিপ করে!
আগেই বলেছি নরেশ লুঙ্গী পরে ছিলো!
অতএব অলমতি বিস্তরেণ।
No comments:
Post a Comment