মহর্ষি বাল্মীকির "রামায়ণ" যুগে যুগে বিভিন্ন লেখকের হাত ধরে ইষৎ পরিবর্তিত এবং বহুলাংশে পরিবর্ধিত হয়ে এসেছে; সে তুলসীদাসের "রামচরিতমানস"-ই হোক বা কৃত্তিবাসের "শ্রীরাম পাঁচালি"। এই প্রক্রিয়া কিন্তু আজও অব্যাহত। এই নবযুগের রামায়নের পরিবর্তকদের মধ্যে একজন হলেন আমার মা।
ছোটবেলায় আমাকে দুমুঠো ভাত খাওয়াতে বসে নাকি মায়ের সব গল্প ফুরিয়ে যেত, তবু আমার খাওয়া শেষ হতো না। তাই খানিকটা বাধ্য হয়েই মাকে নতুন নতুন আখ্যান উপাখ্যানের প্রচলন করতে হয় ভারতবর্ষের প্রাচীন মহাকাব্যে। তার মধ্যে থেকে দুটি উপাখ্যান আমার এই মুহুর্তে মনে পড়ছে।
১) কুম্ভকর্ণকে রাবণ যুদ্ধে পাঠিয়েছে রাম-লক্ষ্মণকে ধরে আচ্ছা করে ঠ্যাঙাতে। এদিকে প্রায় ছয়মাস পরে ঘুম থেকে উঠে সঙ্গে সঙ্গেই যুদ্ধের আসরে এসে পড়ায় কুম্ভকর্ণ বাড়ি থেকে ব্রেকফাস্টটা ভালোভাবে করে আসতে পারেনি। তাই যুদ্ধক্ষেত্রে এসে মুখের সামনে লোভনীয় খাবার বানরসেনাদের দেখে, তাদেরকে ধরে জ্যান্ত অবস্থাতেই টপাটপ গিলে নিতে থাকে কুম্ভকর্ণ। বানরসেনারা এদিকে কুম্ভকর্ণের পেটে ঢুকে গদা দিয়ে তার লিভারে, কিডনিতে, স্টোমাকে ক্রমাগত আঘাত করতে থাকে। কুম্ভকর্ণ তখন যুদ্ধ করবে কি -- সে তো পেটের ব্যথায় কাবু। তাই তো তখন শ্রীরাম এক ঝটকায় কুম্ভকর্ণকে পরাস্ত করে ফেললেন। (সেই বয়সে শারীরবিদ্যা কিছু না বুঝলেও এই গল্পটা কিন্তু আমি দারুণ উপভোগ করতাম।)
২) রাম রাবণের যুদ্ধ শেষ। রাম নিজের সৈন্যবাহিনী নিয়ে সম্পূর্ণ লঙ্কা অধিকার করে ফেলেছেন। যুদ্ধে বহু রাক্ষস মারা যাওয়ায় প্রচুর বাচ্চা রাক্ষস সেই মুহুর্তে অনাথ। লঙ্কার অধিপতি হওয়ার সুবাদে লঙ্কার নাগরিক এই সব বাচ্চা রাক্ষসদের দেখভাল করার দায়িত্ব তাই রামের উপরেই বর্তায়। কাজেই রাম লক্ষ্মণ তখন একটি অনাথ আশ্রম খুলে বসেন। বাচ্চা রাক্ষসরা জন্ম থেকেই কাঁচা মাংস খেয়ে এসেছে, তাই তাদের মানুষ করার প্রচেষ্টায় অনাথ আশ্রমে রান্না করা সব্জির প্রচলন করেন শ্রীরাম। সেই সব খাবার খেতে অনভ্যস্ত বাচ্চা রাক্ষসদের ভালো লাগবে কেন? তাই নিয়ে গোটা লঙ্কা হুলুস্থুলু। তখন পরীক্ষামূলক ভাবে তাদেরকে পোস্তর বড়া খাওয়ান রামের পাচক। পোস্তর বড়া প্রথম রিলিজেই হিট। বাচ্চারা বায়না ধরে বসে শুধু পোস্তর বড়া খাবে তারা। তখন আবার কিলো কিলো পোস্তর যোগান দিতে গিয়ে গোটা লঙ্কা হিমসিম। (আমার ধারণা বাঁকুড়ার মেয়ে হওয়ার দরুণ আমার মায়ের এই পোস্তপ্রীতি।)
একটি ছোট্ট তথ্য দিয়ে রাখি, এই লেখাটি আমার ব্লগের ১০০তম পোস্ট !
ছোটবেলায় আমাকে দুমুঠো ভাত খাওয়াতে বসে নাকি মায়ের সব গল্প ফুরিয়ে যেত, তবু আমার খাওয়া শেষ হতো না। তাই খানিকটা বাধ্য হয়েই মাকে নতুন নতুন আখ্যান উপাখ্যানের প্রচলন করতে হয় ভারতবর্ষের প্রাচীন মহাকাব্যে। তার মধ্যে থেকে দুটি উপাখ্যান আমার এই মুহুর্তে মনে পড়ছে।
১) কুম্ভকর্ণকে রাবণ যুদ্ধে পাঠিয়েছে রাম-লক্ষ্মণকে ধরে আচ্ছা করে ঠ্যাঙাতে। এদিকে প্রায় ছয়মাস পরে ঘুম থেকে উঠে সঙ্গে সঙ্গেই যুদ্ধের আসরে এসে পড়ায় কুম্ভকর্ণ বাড়ি থেকে ব্রেকফাস্টটা ভালোভাবে করে আসতে পারেনি। তাই যুদ্ধক্ষেত্রে এসে মুখের সামনে লোভনীয় খাবার বানরসেনাদের দেখে, তাদেরকে ধরে জ্যান্ত অবস্থাতেই টপাটপ গিলে নিতে থাকে কুম্ভকর্ণ। বানরসেনারা এদিকে কুম্ভকর্ণের পেটে ঢুকে গদা দিয়ে তার লিভারে, কিডনিতে, স্টোমাকে ক্রমাগত আঘাত করতে থাকে। কুম্ভকর্ণ তখন যুদ্ধ করবে কি -- সে তো পেটের ব্যথায় কাবু। তাই তো তখন শ্রীরাম এক ঝটকায় কুম্ভকর্ণকে পরাস্ত করে ফেললেন। (সেই বয়সে শারীরবিদ্যা কিছু না বুঝলেও এই গল্পটা কিন্তু আমি দারুণ উপভোগ করতাম।)
২) রাম রাবণের যুদ্ধ শেষ। রাম নিজের সৈন্যবাহিনী নিয়ে সম্পূর্ণ লঙ্কা অধিকার করে ফেলেছেন। যুদ্ধে বহু রাক্ষস মারা যাওয়ায় প্রচুর বাচ্চা রাক্ষস সেই মুহুর্তে অনাথ। লঙ্কার অধিপতি হওয়ার সুবাদে লঙ্কার নাগরিক এই সব বাচ্চা রাক্ষসদের দেখভাল করার দায়িত্ব তাই রামের উপরেই বর্তায়। কাজেই রাম লক্ষ্মণ তখন একটি অনাথ আশ্রম খুলে বসেন। বাচ্চা রাক্ষসরা জন্ম থেকেই কাঁচা মাংস খেয়ে এসেছে, তাই তাদের মানুষ করার প্রচেষ্টায় অনাথ আশ্রমে রান্না করা সব্জির প্রচলন করেন শ্রীরাম। সেই সব খাবার খেতে অনভ্যস্ত বাচ্চা রাক্ষসদের ভালো লাগবে কেন? তাই নিয়ে গোটা লঙ্কা হুলুস্থুলু। তখন পরীক্ষামূলক ভাবে তাদেরকে পোস্তর বড়া খাওয়ান রামের পাচক। পোস্তর বড়া প্রথম রিলিজেই হিট। বাচ্চারা বায়না ধরে বসে শুধু পোস্তর বড়া খাবে তারা। তখন আবার কিলো কিলো পোস্তর যোগান দিতে গিয়ে গোটা লঙ্কা হিমসিম। (আমার ধারণা বাঁকুড়ার মেয়ে হওয়ার দরুণ আমার মায়ের এই পোস্তপ্রীতি।)
একটি ছোট্ট তথ্য দিয়ে রাখি, এই লেখাটি আমার ব্লগের ১০০তম পোস্ট !
No comments:
Post a Comment