ছবিদার দোকান
আমাদের হোস্টেলের কাছে সবে ধন নীলমণি একটাই দোকান আছে -- ছবিদার দোকান। তবে হেন কোনো জিনিস নেই যা ছবিদার দোকানে পাওয়া যায় না -- বাচ্চা ছেলের টিফিন বক্স, কিশোর ছেলের ক্রিকেট ব্যাট, দামড়া ছেলের মুখে মাখার ক্রিম, জুতো ঘষার বুরুশ, ধূপদানি, ঝাঁটা, সাটল কক্, আটা, অমৃতাঞ্জন, মশারি টাঙানোর দড়ি -- এককথায় সব। মশারি টাঙানোর দড়ি শুনে অবাক হচ্ছেন? ভাবছেন সেটা আবার কি নতুন বস্তু? অবাক হওয়ার কিছু নেই, মশারি টাঙানোর দড়ি আর পাজামার দড়ি আসলে একই বস্তু। ইলাস্টিক পাজামার যুগে আগেকার ওই দড়ি ইদানিং আমাদের হোস্টেলে মশারি টাঙানোর কাজেই ব্যবহৃত হয়।
আপনি যে জিনিসটা কিনতে চাইছেন সেটা ছবিদার দোকানে পেলেও আপনার পছন্দের ব্র্যান্ডটা পাবেন কিনা তার কিন্তু কোনো গ্যারান্টি নেই। মানে ছবিদার দোকানে গিয়ে টুথপেস্টের খোঁজ করলে হয়তো কোলগেট পাবেন কিন্তু পেপসোডেন্ট পাবেন না, শ্যাম্পু কিনতে গেলে হয়তো অল ক্লিয়ার পাবেন কিন্তু হেড অ্যান্ড সোলডার্স পাবেন না। আপনার পছন্দের ব্র্যান্ডটি না পেলে সে ক্ষেত্রে ছবিদা নিজের পছন্দের ব্র্যান্ডটি আপনাকে গছিয়ে দেওয়ার জন্যে একটা পেটেন্ট করা ডায়লগ বলবে: "আজকাল বাজারে এই ব্র্যান্ডটাই চলছে।" উপায়ন্তর না থাকলে বাধ্য হয়ে আপনাকে সেটাই কিনতে হবে।
সেভাবে কোনো প্রতিযোগিতা না থাকার ফলে ছবিদার আরো অনেক ফ্যাকড়া আছে। যেমন আজ পর্যন্ত কেও ছবিদার কাছে এমআরপির থেকে আট আনাও ছাড় যোগাড় করতে পারেনি। উপরন্তু ছবিদার দোকান থেকে বেরোবার আগে অবশ্যই দেখে নেবেন আপনার ক্রীত বস্তুটির সাথে অন্য কোনো আইটেম ফ্রি আছে কিনা। কারণ নিজে থেকে না চাইলে ছবিদা কাওকে এই ফ্রি বস্তুটি দেয় না, ভবিষ্যতে অন্য কোনো খদ্দেরদেরকে (কিংবা হয়তো আপনাকেই) সেই ফ্রি বস্তুটি আলাদা করে বিক্রি করে দেবে।
ছবিদার অন্যান্য ব্যবসায়িক বুদ্ধিও ভালো -- খাতা কিনলে পেন, ব্যাট কিনলে বল, আয়না কিনলে চিরুনি -- এসব কেনার কথা ঠিক মনে করিয়ে দেয়। কিন্তু একবার ছবিদার এই স্বভাবের জন্যেই গন্ডগোল বেঁধেছিল:
এক প্রফেসর ছবিদার দোকানে কিছু একটা জিনিস কিনতে গেছে। ঠিক সেই সময় তাঁর এক ছাত্র (এবং আমাদের মেসের এক সিনিয়র) সেখানে উপস্থিত। স্যারকে একটি সৌজন্যতামূলক হাসি উপহার দিয়ে ছাত্রটি নিজের জিনিসগুলি নিয়ে দোকান থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে এমন সময় ছবিদা সেই ছাত্রটিকে উদ্দেশ্য করে পেছন থেকে বলে উঠলো: "কি বাবু, চানাচুর কিনলে আর সাথে সোডা লাগবে না?"
এর পরের ঘটনা সংক্ষিপ্ত। সেই ছাত্রটি পিছু ফিরে না তাকিয়েই সেই স্থান তৎক্ষণাত ত্যাগ করে। তারপর মেসে এসে ছবিদার কান্ডজ্ঞান সম্পর্কে যে সকল সাধু বাক্য উচ্চারণ করে তাতে যাকে বলে ছবিদার "চোদ্দ পুরুষ উদ্ধার" হয়ে গেল।
আমাদের হোস্টেলের কাছে সবে ধন নীলমণি একটাই দোকান আছে -- ছবিদার দোকান। তবে হেন কোনো জিনিস নেই যা ছবিদার দোকানে পাওয়া যায় না -- বাচ্চা ছেলের টিফিন বক্স, কিশোর ছেলের ক্রিকেট ব্যাট, দামড়া ছেলের মুখে মাখার ক্রিম, জুতো ঘষার বুরুশ, ধূপদানি, ঝাঁটা, সাটল কক্, আটা, অমৃতাঞ্জন, মশারি টাঙানোর দড়ি -- এককথায় সব। মশারি টাঙানোর দড়ি শুনে অবাক হচ্ছেন? ভাবছেন সেটা আবার কি নতুন বস্তু? অবাক হওয়ার কিছু নেই, মশারি টাঙানোর দড়ি আর পাজামার দড়ি আসলে একই বস্তু। ইলাস্টিক পাজামার যুগে আগেকার ওই দড়ি ইদানিং আমাদের হোস্টেলে মশারি টাঙানোর কাজেই ব্যবহৃত হয়।
আপনি যে জিনিসটা কিনতে চাইছেন সেটা ছবিদার দোকানে পেলেও আপনার পছন্দের ব্র্যান্ডটা পাবেন কিনা তার কিন্তু কোনো গ্যারান্টি নেই। মানে ছবিদার দোকানে গিয়ে টুথপেস্টের খোঁজ করলে হয়তো কোলগেট পাবেন কিন্তু পেপসোডেন্ট পাবেন না, শ্যাম্পু কিনতে গেলে হয়তো অল ক্লিয়ার পাবেন কিন্তু হেড অ্যান্ড সোলডার্স পাবেন না। আপনার পছন্দের ব্র্যান্ডটি না পেলে সে ক্ষেত্রে ছবিদা নিজের পছন্দের ব্র্যান্ডটি আপনাকে গছিয়ে দেওয়ার জন্যে একটা পেটেন্ট করা ডায়লগ বলবে: "আজকাল বাজারে এই ব্র্যান্ডটাই চলছে।" উপায়ন্তর না থাকলে বাধ্য হয়ে আপনাকে সেটাই কিনতে হবে।
সেভাবে কোনো প্রতিযোগিতা না থাকার ফলে ছবিদার আরো অনেক ফ্যাকড়া আছে। যেমন আজ পর্যন্ত কেও ছবিদার কাছে এমআরপির থেকে আট আনাও ছাড় যোগাড় করতে পারেনি। উপরন্তু ছবিদার দোকান থেকে বেরোবার আগে অবশ্যই দেখে নেবেন আপনার ক্রীত বস্তুটির সাথে অন্য কোনো আইটেম ফ্রি আছে কিনা। কারণ নিজে থেকে না চাইলে ছবিদা কাওকে এই ফ্রি বস্তুটি দেয় না, ভবিষ্যতে অন্য কোনো খদ্দেরদেরকে (কিংবা হয়তো আপনাকেই) সেই ফ্রি বস্তুটি আলাদা করে বিক্রি করে দেবে।
ছবিদার অন্যান্য ব্যবসায়িক বুদ্ধিও ভালো -- খাতা কিনলে পেন, ব্যাট কিনলে বল, আয়না কিনলে চিরুনি -- এসব কেনার কথা ঠিক মনে করিয়ে দেয়। কিন্তু একবার ছবিদার এই স্বভাবের জন্যেই গন্ডগোল বেঁধেছিল:
এক প্রফেসর ছবিদার দোকানে কিছু একটা জিনিস কিনতে গেছে। ঠিক সেই সময় তাঁর এক ছাত্র (এবং আমাদের মেসের এক সিনিয়র) সেখানে উপস্থিত। স্যারকে একটি সৌজন্যতামূলক হাসি উপহার দিয়ে ছাত্রটি নিজের জিনিসগুলি নিয়ে দোকান থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে এমন সময় ছবিদা সেই ছাত্রটিকে উদ্দেশ্য করে পেছন থেকে বলে উঠলো: "কি বাবু, চানাচুর কিনলে আর সাথে সোডা লাগবে না?"
এর পরের ঘটনা সংক্ষিপ্ত। সেই ছাত্রটি পিছু ফিরে না তাকিয়েই সেই স্থান তৎক্ষণাত ত্যাগ করে। তারপর মেসে এসে ছবিদার কান্ডজ্ঞান সম্পর্কে যে সকল সাধু বাক্য উচ্চারণ করে তাতে যাকে বলে ছবিদার "চোদ্দ পুরুষ উদ্ধার" হয়ে গেল।
No comments:
Post a Comment