Wednesday, May 29, 2019

সতর্কীকরণঃ আগে লেখাটি পড়ুন তারপর বিচার করবেন ভিডিওটি আদৌ দেখবেন কিনা!
শুনেছি ক্রিকেটে নাকি ওয়ান ডাউন পজিশনটা সবচেয়ে ইম্পরট্যান্ট। তো সেরকমই একটা ওয়ান ডাউন গানের পারফরমেন্সের ভিডিও নিচে দেওয়া হলো। এখানে গায়ক আমি আর আমার এক কলিগ অভিষেক। ভাবছেন "ওয়ান ডাউন" পারফরমেন্স ব্যাপারটা ঠিক কি? আচ্ছা তাহলে একটু খুলেই বলি।
আমাদের ল্যাবের বড় বস প্রবাসী ভারতীয়, আমেরিকায় থাকেন। উনি গান বাজনা ভীষণ ভালোবাসেন এবং গান রীতিমতো চর্চা করেন। এই বছর প্রমোশন পাওয়ায় উনি বেঙ্গালুরুতে এসে একটা কারাওকে (karaoke) নাইটের বন্দোবস্ত করেন। ফ্যামিলিসহ সকলের আমন্ত্রণ সেখানে। তবে শুধু খাওয়াদাওয়া নয় সকলকে নিজের পছন্দমতো কারাওকে মিউজিকের সঙ্গে গানও গাইতে হবে - এটা বাধ্যতামূলক। ডিনারের শেষে প্রথমে গান গাইতে ওঠে সঞ্চিৎ নামে আমার এক কলিগ। "রূপ তেরা মাস্তানা" গেয়ে শুরুতেই সে আসর জমিয়ে দেয়। মুশকিল হয় দ্বিতীয় গান কে গাইবে সেই নিয়ে। সবাই একে অপরকে স্টেজের দিকে ঠেলছে। আসলে সঞ্চিতের ওই পারফরমেন্স দেখে সকলেরই মনে হচ্ছে এরপর গাইতে এসে "ভুল কোই হামসে না হো যায়ে"।
হঠাৎ করে কে যেন অভিষেককে খুব করে ধরলো কবিগুরুর "একলা চলো রে" গানটা গাওয়ার জন্য। বোধকরি "কাহানি" সিনেমায় অমিতাভ বচ্চনের গলায় এই গানটা শুনে অবাঙালিরাও এই গানটার সাথে পরিচিত হয়ে গেছে। অভিষেক আবার আমাকে ধরলো ওর সাথে গানটা গাওয়ার জন্য। প্রথমে ভাবলাম "একলা চলো রে" একজনের কণ্ঠেই বেশি মানায় এই বলে ওর প্রস্তাব কাটিয়ে দেবো। তারপর একটা প্রবাদবাক্য মাথায় এলো -- "পড়েছো মোগলের হাতে, খানা খেতে হবে সাথে।" অর্থাৎ ওই দিন গান না গেয়ে নিস্তার নেই। তাই সমবেত সঙ্গীত উপস্থাপন করার সুযোগ হয়তো আমার মতো "অসুর" ব্যক্তির কাছে মেঘ না চাইতেই জল। তাছাড়া ছোটবেলার কিছু স্মৃতিও মনে পড়ে গেলো। আমার স্কুলে কিছু ছেলে মেয়ে ছিলো যাদের সরস্বতী পুজো, স্বাধীনতা দিবস ইত্যাদি অনুষ্ঠানে খুব সেজেগুজে স্টেজে ওঠার ইচ্ছে ছিলো এদিকে ভগবান তাদের কোনো সাংস্কৃতিক গুণ দিয়ে জগতে পাঠাননি -- ফলে তাদের ওই কোরাস গাইতেই আজীবন দেখে গেছি। এই সুযোগে আরেকটা ছোট্ট ঘটনা বলে রাখি। কলেজে আমাদের এক স্যার ছিলো যে সব উৎসবে চোস্ত পাজামা পাঞ্জাবি পরে স্টেজে উঠতো -- কিন্তু দৌড় ওই কোরাস অবধিই। একবার উনি (হয়তো "আজ কুছ তুফানী করতে হ্যায়" এই ভেবে) ছাত্রদের সামনে নিজের দক্ষতা জাহির করার জন্য বলেছিলেন একটু গানটান হলে মন্দ হয় না। এই শুনে শুরুতেই এক ছাত্র এমন ভালো রাগাশ্রয়ী গান গেয়েছিল যে উনি গান শুনে বলেছিলেন: "তোমাদের কারুর খিদে পায়নি? আমার তো খুব খিদে পেয়েছে। যাই একটু দেখে আসি খাবারের কি ব্যবস্থা হলো!"
আবার মূল ঘটনায় ফিরে আসা যাক। অভিষেকের অনুরোধ উপেক্ষা না করে আমরা অবিলম্বে রাজি হয়ে গেলাম। তারপর আর কি -- দুজনে মিলে একটা তাৎক্ষণিক গান নামিয়ে ফেললাম। আমাদের গানের পর দেখি বাকি দর্শকদের মধ্যে সঞ্চিতের গান গাওয়ার পর যে জড়তা ছিলো সেটা আর নেই। এরা যদি এতখানি সাহসিকতা দেখতে পারে তাহলে আমরা পারবো না কেন? এহেন একটা অভিব্যক্তি সকলের মুখেচোখে। তাই বুঝতেই পারছেন আমাদের ওয়ান ডাউন পারফরমেন্স কতোটা গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকরী হয়েছিল। আমাদের দেখেই তো বাকিরা মনোবল পেলো এবং নিজেরা গান গেয়ে অনুষ্ঠানকে আরো সমবৃদ্ধ করলো।
এখনও কি ভিডিওটা দেখার সাহস করবেন? অবশ্য মিউট করে দেখা যেতেই পারে।


No comments: