Monday, June 10, 2019

একদিন ছোটবেলায় আমাদের সামনের বাড়িতে গিয়ে বলেছিলাম: "জেঠিমা, একবার তমুক বইটা দেবেন?" "জেঠিমা" তখন ঝাঁঝালো জবাব দিয়েছিলেন: "আমাকে জেঠিমা না, কাকিমা বলবি।" পাঠকরা যাতে আমার সেই জেঠিমা থুড়ি কাকিমার বয়সের একটা আন্দাজ পায় তাই জানিয়ে রাখি যে ওঁনার নাতি আমার সমবয়সী ছিলো। ফলে জনসমক্ষে বয়স কমানোর প্রবণতা যে সর্বজনীন সেটা প্রথম সেদিন অনুভব করেছিলাম। যদিও মহিলাদেরকেই বয়স সম্বন্ধে বেশি সংবেদনশীল আমরা ভেবে থাকি, পুরুষরাও এই বিষয়ে কিছু কম যান না। ওই কাকিমার স্বামী আমাকে পরে বলেছিলেন যে আমি তাঁকে "কাকু"ও ডাকতে পারি কিংবা ইচ্ছা করলে "মামু"ও ডাকতে পারি --  মোদ্দা কথা "জেঠু" ডাক নৈব নৈব চ।
তবে এই বয়স কমানোর প্রথার বিপরীত মনোভাব দেখেছিলাম আইআইটি খড়্গপুরে ভর্তি হয়ে। ওখানে হোস্টেলে আমার পরিচয় হয় রাকেশদার সাথে। সব সময় তার মধ্যে একটা গার্জেন গার্জেন ভাব। দেখলেই মনে হবে কাঁধে করে অ্যাটলাসের মতো গুরুদায়িত্ব বয়ে বেড়াচ্ছে। একবার হোস্টেলে স্পেশ্যাল মিলের দিন আমি খাবার শেষ করতে পারছি না দেখে বলেছিলো: "এই সামান্য খাবার খেতে তুই উল্টে যাচ্ছিস, তোর বয়সে তো আমরা লোহা চিবিয়ে হজম করে নিতাম।" যারা আমাকে দেখেছেন তারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন যে আমি খাবার শেষ করতে পারছি না মানে সেই খাবারের পরিমাণ নেহাৎ কম নয়। উপরন্তু রাকেশদার চেহারা আমার আদ্ধেক। আমি শুরুতে ভাবতাম রাকেশদা না জানি কতো বড়ো কিন্তু পরে জেনেছিলাম রাকেশদা আমার চেয়ে মোটে এক বছরের সিনিয়র। তবে কথায় বলে বাপেরও বাপ থাকে।
রাকেশদার বাপ ছিলো পার্থদা। আগেই জানিয়ে রাখি পার্থদা রাকেশদার চেয়ে মাত্র দুই বছরের বড়ো। একবার কথা কাটাকাটির সময় আমি দেখি পার্থদা রাকেশদাকে বলছে: "আমার সাথে বেশি লাগতে আসিস না। বাবা-মা সঠিক বয়সে বিয়ে দিলে আজকে তোর বয়সী আমার একটা ছেলে থাকতো, বুঝলি?!"

No comments: