শুভ বিজয়া! এবছর বোধকরি প্রত্যেকেরই ঘরে বসে পুজো কেটেছে। আমারও প্রায় তাই - এবছর মোটে একটা ঠাকুর দেখেছি। আগের থেকে অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে সোশ্যাল ডিস্টেন্স মেইনটেন করে মণ্ডপের বাইরে দাঁড়িয়ে দেবী দর্শন - এই বছর এটাই ছিল প্রথা। যাইহোক প্রবাসে বসে এই যে একটা ঠাকুর দেখতে পেলাম এই বাজারে সেটাই ঢের। এই পুজোর আয়োজন করেছিল বেঙ্গালুরুর SORRBA নামক বাঙালি অ্যাসোসিয়েশন। এবছর কড়াকড়ির মাঝে অন্যান্যবার যে মাঠে পুজো হয়ে থাকে সেখানে অনুষ্ঠান আয়োজন করার সুযোগ হয়নি তাই এক ভক্তের প্রাইভেট গ্রাউন্ডে খানিক ছোট করে মণ্ডপ বাঁধা হয়েছিল। গত দু'বছর ধরে আমরা এই গ্রুপের সদস্য তাই অল্পক্ষণের জন্য হলেও সশরীরে উপস্থিত থেকে আমরা এই পুজোর সরিক হওয়ার সুযোগ পাই। সুদূর ইলেক্ট্রনিক সিটি থেকেও দেখি ভক্তরা এসেছে দর্শনার্থে - অন্যান্যবার ওদিকে বেশ কিছু পুজো হয় কিন্তু এবারে নাকি হয়নি। বাকি সব উপাচার আমাদের ইন্টারনেটের আনুকূল্যে অনলাইন পুষ্পাঞ্জলি দিয়েই মেটাতে হয়েছে।
SORRBA সদস্যদের জন্য পুজোর খানিক আনন্দ রক্ষার্থে অনেক রকম ইভেন্ট অর্গানাইজ করেছিল - সপ্তমী আর নবমীতে গান নাচের অনলাইন আসর বসেছিল যেমনি। আমার বেটার হাফ তাতে একটা নৃত্য পরিবেশনা করেছিল কাজী নজরুল ইসলামের "এলো রে এলো ওই রণ রঙ্গিনী" গানটির সাথে - এই প্রসঙ্গে পরে লেখার ইচ্ছে রইলো। তাছাড়া ষষ্ঠীর পুজো থেকে বিসর্জন অবধি সব লাইভ ব্রডকাস্ট করা হয়েছে; মাঝখানে পুষ্পাঞ্জলি, সন্ধ্যা আরতি, ইত্যাদি - এসব তো আছেই। তবে সব অনুষ্ঠান কি আর অনলাইন দেখলে মন ভরে? অন্য সময় "আনন্দমেলা" নামক একটি অনুষ্ঠান হয় ভোজনরসিকদের জন্য যেখানে বিভিন্ন ঘরের সদস্যরা নানারকম খাবারদাবার নিয়ে পসরা সাজিয়ে বসেন। এবার দেখি তার জায়গায় লোকজন অনলাইন রেসিপি পরিবেশন করছেন। চেখে দেখার আনন্দ কি চোখে দেখে আছে? উপরন্তু খাবার দেখলেই খিদেটা বেড়ে যায় আর খাবার সুযোগ না থাকলে আমার আবার মনে মনে খুব রাগ হয়।
তবে এসব আয়োজন ছাড়াও আরেকটা অনুষ্ঠান ছিল SORRBA-র মেম্বারদের জন্য - কার্টুনের উপর কুইজ। অংশগ্রহণের জন্য নিয়ম ছিলো মনের বয়স কম হলেই চলবে। আমি তো আবার জন্ম থেকে এখনো অবধি কমিক্স কার্টুনের ভীষণ ভক্ত। তাই ঠিক করলাম কুইজে পার্টিসিপেট করবো। সময়মতো zoom-এ হাজির। দেখি উদ্যোক্তারা নিজেরাই স্কুলের ছাত্রছাত্রী। তারা আবার অনুরোধ করছে সকল অংশগ্রহণকারীদের এক এক করে ভিডিও অন করে নিজের পরিচয় দেওয়ার জন্য। অনুরোধমাফিক প্রত্যেকে নিজের পরিচয় দেওয়া শুরু করলো - দেখি কি বাকিরা সবাই বাচ্চা - বেশিরভাগ টিন এজেও পৌঁছয়নি। সবাই কোন ক্লাসে পড়ে এই সব বলছে নিজের সম্বন্ধে। যথাসময় আমার পালা এলো - আমি তখনো আমার ভিডিও চালু করিনি কিন্তু এদিকে জুম্-এ আমার প্রোফাইল পিকচারটা দেখা যাচ্ছে। আমি খানিক হতভম্বের মতো ভাবছি আমি কি বলে নিজের পরিচয় দিই। তখন শুনতে পেলাম একজন পরিচালিকা বলছে: "মিঃ কুণাল তো মনে হচ্ছে গার্জেন, বাচ্চার হয়ে উনি লগইন করেছেন।" আমি টুক করে Leave Meeting-এর বোতামটা টিপে দিলাম।
No comments:
Post a Comment