ময়ূরাক্ষী ফাস্ট প্যাসেঞ্জার (আবার নিশান কর্তৃক)
----------------------------
সে আমলে সিউড়ি থেকে কলকাতার একটিই ট্রেন ছিলো, ময়ূরাক্ষী ফাস্ট প্যাসেঞ্জার। সিঙ্গল লাইন, ট্রেন চলতো মন্থর বেগে অণ্ডাল অব্দি, তারপর সাঁ সাঁ করে দৌড়তো। দুর্গাপুর থেকে গুচ্ছের লোক উঠতো কারণ নামমাহাত্ম্যের দরূন লোকালের ভাড়ায় এক্সপ্রেস যাওয়া যেত।
প্রসঙ্গতঃ দুর্গাপুরের যে দলটি উঠতো তাদের মধ্যে অধিকাংশই ছোটলোক, এবং এরকম ভয়াবহ প্যাসেঞ্জার গোটা পশ্চিমবাংলায় আর কোথাও পাওয়া যাবে নাকি আমার সে বিষয়ে সবিশেষ সন্দেহ আছে। এঁরা সকালবেলা ডাউনট্রেনে উঠেই দাবী করতেন তিনজনের সিটে চারজন বসতে দিতে হবে, কারণ "এটাই নিয়ম" এবং "এভাবেই চলে আসছে" এবং উপপাদ্য ট্রেনের বেশ কটি কামরা ও সিট তাঁদের পিতৃদত্ত সম্পত্তি। অতএব আপ ট্রেনে বিকেলবেলা যখন আপনি উঠছেন, ততক্ষণে তারা পিতৃদত্ত সম্পত্তিতে অধিকার স্থাপন করে ফেলেছেন, আর আপনি যদি বলতে গেলেন "এ ট্রেনে তো তিনজনের সিটে...." ব্যস আপনার ঊর্ধ্বতন সপ্তম পুরুষ স্বর্গে বসে ঢোক এবং হেঁচকি তুলতে আরম্ভ করবেন।
এরকমই এক বিকেলে নরেন্দ্রপুর থেকে ফেরার সময়, আমি বাবা ও আমার পাড়ার দাদা, দীপকদা, লটবহর সহ হাওড়া স্টেশনে এসে পৌঁছলাম। দীপকদা তৎপর ছেলে, ট্রেন ঢোকার সময় চলমান অবস্থাতেই টুক করে একটা কামরায় ঢুকে পড়লো, এবং গোটা তিনেক সিট রুমাল ও সিগারেটের প্যাকেট দিয়ে নিশ্চিৎ করে আমাদের ডাকতে নিচে নেমে এলো। আমি দুখানা ব্যাগ নিয়ে ভিড় ঠেলে কোনমতে উঠলাম, বাইরে থেকে হাজার চিৎকারের মাঝে দীপকদার নির্দেশ মত সিটে পৌঁছে দেখি এক স্থুলকায় ভদ্রলোক আমার জায়গায় দিব্যি বসে আছেন।
আমি বললাম, ভদ্রভাবেই, "কাকু, এই জায়গাটা কিন্তু আমার।"
"আপনার মানে?"
"মানে আমার দাদা জায়গাটা আমার জন্য রেখেছে"
"ইয়ার্কি হচ্ছে, অন্য একজন জায়গাটা রেখেছে, আপনার মানে, ডেঁপো ছেলে, ইয়ার্কি হচ্ছে?"
গরমে ঘামে এবং লোকের বগলের গন্ধে আমার ত্রাহি মাম অবস্থা, দাঁড়াতে পারছি না, এদিকে কাঁধে দু পিস ব্যাগ। এই কথোপকথন চলাকালীন দীপকদাও উঠে এসেছে। আমাকে বললো "একি নিশান, বসোনি কেন? জায়গা রেখেছি তো!"
আমি কাকুর দিকে তাকালাম, মাথায় আগুন জ্বলছে, বললাম "দেখলেন তো বলেছিলাম আমার জায়গা, শুনলেন না, এবার হোলো তো? উঠে পড়ুন তো মশাই!"
----------------------------
সে আমলে সিউড়ি থেকে কলকাতার একটিই ট্রেন ছিলো, ময়ূরাক্ষী ফাস্ট প্যাসেঞ্জার। সিঙ্গল লাইন, ট্রেন চলতো মন্থর বেগে অণ্ডাল অব্দি, তারপর সাঁ সাঁ করে দৌড়তো। দুর্গাপুর থেকে গুচ্ছের লোক উঠতো কারণ নামমাহাত্ম্যের দরূন লোকালের ভাড়ায় এক্সপ্রেস যাওয়া যেত।
প্রসঙ্গতঃ দুর্গাপুরের যে দলটি উঠতো তাদের মধ্যে অধিকাংশই ছোটলোক, এবং এরকম ভয়াবহ প্যাসেঞ্জার গোটা পশ্চিমবাংলায় আর কোথাও পাওয়া যাবে নাকি আমার সে বিষয়ে সবিশেষ সন্দেহ আছে। এঁরা সকালবেলা ডাউনট্রেনে উঠেই দাবী করতেন তিনজনের সিটে চারজন বসতে দিতে হবে, কারণ "এটাই নিয়ম" এবং "এভাবেই চলে আসছে" এবং উপপাদ্য ট্রেনের বেশ কটি কামরা ও সিট তাঁদের পিতৃদত্ত সম্পত্তি। অতএব আপ ট্রেনে বিকেলবেলা যখন আপনি উঠছেন, ততক্ষণে তারা পিতৃদত্ত সম্পত্তিতে অধিকার স্থাপন করে ফেলেছেন, আর আপনি যদি বলতে গেলেন "এ ট্রেনে তো তিনজনের সিটে...." ব্যস আপনার ঊর্ধ্বতন সপ্তম পুরুষ স্বর্গে বসে ঢোক এবং হেঁচকি তুলতে আরম্ভ করবেন।
এরকমই এক বিকেলে নরেন্দ্রপুর থেকে ফেরার সময়, আমি বাবা ও আমার পাড়ার দাদা, দীপকদা, লটবহর সহ হাওড়া স্টেশনে এসে পৌঁছলাম। দীপকদা তৎপর ছেলে, ট্রেন ঢোকার সময় চলমান অবস্থাতেই টুক করে একটা কামরায় ঢুকে পড়লো, এবং গোটা তিনেক সিট রুমাল ও সিগারেটের প্যাকেট দিয়ে নিশ্চিৎ করে আমাদের ডাকতে নিচে নেমে এলো। আমি দুখানা ব্যাগ নিয়ে ভিড় ঠেলে কোনমতে উঠলাম, বাইরে থেকে হাজার চিৎকারের মাঝে দীপকদার নির্দেশ মত সিটে পৌঁছে দেখি এক স্থুলকায় ভদ্রলোক আমার জায়গায় দিব্যি বসে আছেন।
আমি বললাম, ভদ্রভাবেই, "কাকু, এই জায়গাটা কিন্তু আমার।"
"আপনার মানে?"
"মানে আমার দাদা জায়গাটা আমার জন্য রেখেছে"
"ইয়ার্কি হচ্ছে, অন্য একজন জায়গাটা রেখেছে, আপনার মানে, ডেঁপো ছেলে, ইয়ার্কি হচ্ছে?"
গরমে ঘামে এবং লোকের বগলের গন্ধে আমার ত্রাহি মাম অবস্থা, দাঁড়াতে পারছি না, এদিকে কাঁধে দু পিস ব্যাগ। এই কথোপকথন চলাকালীন দীপকদাও উঠে এসেছে। আমাকে বললো "একি নিশান, বসোনি কেন? জায়গা রেখেছি তো!"
আমি কাকুর দিকে তাকালাম, মাথায় আগুন জ্বলছে, বললাম "দেখলেন তো বলেছিলাম আমার জায়গা, শুনলেন না, এবার হোলো তো? উঠে পড়ুন তো মশাই!"
মশাই আমার দিকে কটমট করে তাকিয়ে খানিক সরে বসলেন, আমি দীপকদাকে বললাম "তুমি
ওখানে বসো" বলে আমি উল্টোদিকের সিটের তলায় নানা কসরত করে ব্যাগ ঢোকাতে
শুরু করলাম, বাজি রেখে বলতে পারি আর দিন সাতেক করলে আমি অলিম্পিকে কোন না
কো বিভাগে নিশ্চিৎ সোনা বাগিয়ে আনতাম, অতি দুরূহ ও জটিল কাজ। যাই হোক মিনিট
দুয়েক পরে কাকু হঠাৎ জ্বলে ঊঠে বললেন " উঠে পড়ুন মশাই কি ধরনের কথা হে
ছোকরা, সহবৎ শেখোনি?"
আমি তখনো ব্যাগ নিযে ঝামেলায়, মাথা তড়াক করে জ্বলে যাওয়ায়, আমি বললাম "বেশী বকবেন নাতো মশাই চুপ করুন দেখি!"
কাকু আবার দমে গেলেন, ব্যাগ ঢোকাতে আরো মিনিট চারেক লাগলো, আমি উঠে বসে রুমালে মুখ মুছছি, উটকো গরম, হঠাৎ কাকু আবার জ্বলে ঊঠলেন, ওনার এই দোদমা বোমা গোছের খেপে খেপে জ্বলে ওঠাটা আমি ঠিক বুঝে উঠিনি আজও।
এবার বললেন "চুপ করুন তো মানে কি? তুমি ঠিক করে দেবে আমি চুপ করবো না করবো?"
ততক্ষণে আমার তুরীয় অবস্থা চলে এসেছে, আমি রুমাল নামিয়ে নির্বিকার স্বরে বললুম "ও চুপ করবেন না? তা বেশ তো! চেঁচান!"
কাকু তেড়েমেরে কিছু একটা বলার জন্য হাঁ করেছিলেন, কিন্তু আমার কথার সত্যতা প্রমাণের শঙ্কাতেই বোধহয়, দেখলাম কোঁৎ করে আধবেরোন কথা আবার গিলে ফেললেন।
আমি তখনো ব্যাগ নিযে ঝামেলায়, মাথা তড়াক করে জ্বলে যাওয়ায়, আমি বললাম "বেশী বকবেন নাতো মশাই চুপ করুন দেখি!"
কাকু আবার দমে গেলেন, ব্যাগ ঢোকাতে আরো মিনিট চারেক লাগলো, আমি উঠে বসে রুমালে মুখ মুছছি, উটকো গরম, হঠাৎ কাকু আবার জ্বলে ঊঠলেন, ওনার এই দোদমা বোমা গোছের খেপে খেপে জ্বলে ওঠাটা আমি ঠিক বুঝে উঠিনি আজও।
এবার বললেন "চুপ করুন তো মানে কি? তুমি ঠিক করে দেবে আমি চুপ করবো না করবো?"
ততক্ষণে আমার তুরীয় অবস্থা চলে এসেছে, আমি রুমাল নামিয়ে নির্বিকার স্বরে বললুম "ও চুপ করবেন না? তা বেশ তো! চেঁচান!"
কাকু তেড়েমেরে কিছু একটা বলার জন্য হাঁ করেছিলেন, কিন্তু আমার কথার সত্যতা প্রমাণের শঙ্কাতেই বোধহয়, দেখলাম কোঁৎ করে আধবেরোন কথা আবার গিলে ফেললেন।
No comments:
Post a Comment