Tuesday, March 10, 2015

"কালি, কলম, মন -- লেখে তিনজন।" ছাত্র হয়ে কালি-কলম কম পড়াটা একটু অস্বাভাবিক, ফলে বুঝতেই পারছেন মনের কারণেই অনেকদিন কিছু লেখা হয়নি। নানারকম কর্মব্যস্ততার মধ্যে ঠিক সময় করে উঠতে পারিনি। অনেকদিন পর আজকে কি লিখবো কি লিখবো ভাবছি, হঠাৎ মনে পড়লো ক্লাস টু-তে আমার প্রথম ধূমপানের ঘটনাটা আপনাদেরকে বলা হলেও, ক্লাস সিক্সে আমার প্রথম মদ খাওয়ার ঘটনাটা এখনো জানানো হয়নি। "ছিঃ ছিঃ, এভাবে পাবলিকে নিজের বেলেল্লাপনা প্রচার করার একটা সীমা থাকা উচিৎ" -- এতদূর অবধি আমার লেখা পড়ে যদি আপনাদের কারুর এরকমটা মনে হয়ে থাকে তাহলে তাঁকে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাই যেন উনি পুরো লেখাটা পড়ে তারপর আমার চরিত্রের বিচার করেন।

ঘটনাটা ঘটেছিলো হাসিমারায়। হাসিমারা জলপাইগুড়ি জেলার মধ্যে অবস্থিত একটি ছোট্ট টাউন, গন্ড গ্রামের তুলনায় সামান্য উন্নত। স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ায় কাজ করার সুবাদে আমার বাবাকে এখানে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার হিসেবে বদলি হয়ে আসতে হয়। বাবার বদলির চাকরির সুবাদে CBSE, ICSE এবং West Bengal -- স্কুলজীবনে এই তিনটি বোর্ডেই পড়ার অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে। আমি হাসিমারায় এসে Air Force School (CBSE বোর্ড)-এ ভর্তি হই। ছোটবেলা থেকে কোলকাতায় মানুষ হয়েছি, কাজেই চারদিকের চা বাগান, পাহাড়ি লোকজন, সবুজ পরিবেশ -- প্রথম প্রথম দেখতে ভালো লাগলেও, কাঁহাতক আর সহ্য করা যায় বলুন তো? ফলে অচিরাৎ "হাসিমারা" নামের সার্থকতা উপলব্ধি করতে পারলাম। হাসিমারায় থাকাকালীন হঠাৎ স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার কিছু সিনিয়র অফিসার বাবাকে জানালেন যে তাঁরা কি একটা মিটিং করতে হাসিমারায় আসবেন। কি এমন মিটিং যে হাসিমারা ছাড়া করা যাবে না -- সে আমি বলতে পারবো না; আমার ব্যক্তিগত ধারণা ওসব মিটিং-ফিটিং স্রেফ বাহানা, আসলে ফাঁকতালে জলপাইগুড়ি ঘুরে যাওয়াটাই উদ্দেশ্য। যাই হোক, বাবুরা তো এলেন, এদিকে হাসিমারায় কোনো ভালো হোটেল নেই, তাই ওনাদের থাকার ব্যবস্থা হয় চা বাগানের এক মালিকের বাড়িতে। মালিক নিজে সে বাড়িতে কখনো-সখনো ছুটি কাটাতে আসেন, সাধারণত বাড়িটা ফাঁকাই পড়ে থাকে। সেই সময় বাবুদের দেখভাল করার পুরো দায়িত্ব ছিলো সেখানকার এক খানসামার উপর। বাবুরা ফিরে গেলে, বাবা সেই খানসামাকে কিছু বকশিশ দেওয়ার জন্য আমাকে নিয়ে সেই বাড়িতে যান। খানসামাটি আমাকে জিজ্ঞেস করে আমি কি খাবো, আমি জানাই যে maazaa বা Slice জাতীয় কোল্ড ড্রিঙ্কস আমার পছন্দ। বাবাকে জিজ্ঞেস করলে পর বাবা জানায় "কালো কিছু" থাকলে সেটা দিতে। কিছুক্ষণের মধ্যে আমাকে maaza আর বাবাকে একটি কালো পানীয় দিয়ে যায় সেই লোকটি; দেওয়ার সময় সে আবার বাবাকে চোখ টিপে ইসারাকরে। ইঙ্গিতটা প্রথমে বুঝতে না পারলেও, বাবা সেই কালো পানীয়তে চুমুক দিয়ে বুঝতে পারে যে সেই কালো পানীয়টি ওনার ধারণা মতো কোক বা পেপসি নয়। ছোট ছেলের সামনে "মদ" কথাটা উচ্চারণ করতে লজ্জা পাচ্ছে বলে সাংকেতিক ভাষায় "কালো কিছু" বলে বাবা নিজের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে বলে ধরে নিয়েছে খানসামাটি। এক চুমুক খেয়ে বাবা হাতের গ্লাসটি নিচে নামিয়ে রাখতে না রাখতেই আমি সেই বিস্বাদ পানীয়কে নতুন ধরনের কোল্ড ড্রিঙ্ক ভেবে ততক্ষণে এক চুমুক খেয়ে ফেলেছি।

No comments: